Saturday, 20 May 2023

জুনো মহাকাশযান বৃহস্পতির চাঁদ আইও এর কাছাকাছি আসছে

[এ জুনোক্যাম চিত্রটি ০১লা মার্চ ২০২৩ খ্রিস্টাব্দে জোভিয়ান চাঁদ আইও তে NASA এর জুনো মহাকাশযান উড়ান চলাকালীন সময়ে সংগ্রহ করা হয়েছিল । এটি সবচেয়ে কাছাকাছি আসার সময়, জুনো আইও চাঁদ থেকে প্রায় ৩২০০০ মাইল (৫১৫০০ কিলোমিটার) দূরে ছিল । * ছবির তথ্য: NASA/JPL-Caltech/SwRI/MSSS , * ছবি প্রক্রিয়াকরণ: Kevin M. Gill (CC BY)] 


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA) এর জুনো মহাকাশযান (Juno spacecraft) গত ১৬ই মে মঙ্গলবার ২০২৩ খ্রিস্টাব্দে বৃহস্পতি গ্রহের আগ্নেয়গিরিপূর্ণ চাঁদ আইও (Io) এর পাশ দিয়ে উড়ে যাওয়ার কথা এবং তারপর শীঘ্রই এটি বরফময়-গ্যাস দৈত্য বৃহস্পতি গ্রহের পাশ দিয়ে যাবে । বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের লালিত বাসনা যে, সূর্য থেকে প্রায় অর্ধ বিলিয়ন মাইল দূরে থাকা বৃহস্পতি গ্রহ সম্পর্কে এবং তার হীমশীতল চাঁদে নোনা জলের সমুদ্র, জীবন বা প্রাণের অস্তিত্ব ও বাসযোগ্যতার লক্ষণগুলো অন্বেষণ করা ৷ আমাদের সৌরজগতের সর্ববৃহৎ গ্রহ হচ্ছে বৃহস্পতি । গ্যাস দানব বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস এবং নেপচুন গ্রহ ০৪টিকে জোভিয়ান গ্রহ (Jovian planet ) বলে । বৃহস্পতি গ্রহকে প্রদক্ষিণকারী ৯৫টি উপগ্রহ বা চাঁদের মধ্যে ০৪টি হচ্ছে গ্যালিলীয় চাঁদ যেমন: ইউরোপা (Europa), ক্যালিস্টো (Callisto), আইও (Io) এবং গ্যানিমিড (Ganymede) – যেগুলোর কোনোটি বরফ পৃষ্ঠের নীচে গভীর তরল জলের মহাসাগরকে আশ্রয় দেয়, যেখানে সামুদ্রিক প্রাণ বা জীবন থাকতে পারে । ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, গণিতজ্ঞ এবং দার্শনিক গ্যালিলিও গ্যালিলি প্রথম এ ০৪টি উপগ্রহ বা চাঁদকে আবিষ্কার করেন বলে তার নামানুসারে চাঁদগুলোর নামকরণ হয় গ্যালিলীয় চাঁদ । বেশ কিছুদিন যাবৎ বিজ্ঞানীদের গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে চাঁদে প্রাণের অস্তিত্বের পাশাপাশি বাসযোগ্যতার বিষয়টি ৷ ভূগর্ভস্থ টেকটোনিক প্লেট (Plate tectonics) দ্বারা সৃষ্ট জলতাপ নিঃসরণ ছিদ্র বা ফাটল (Hydrothermal vent) – যা সারা পৃথিবীতে সমুদ্রের তলদেশে বিদ্যমান ৷ যেখানে সূর্যালোক নেই, অন্ধকার, বিষাক্ত তেজষ্ক্রিয় রাসায়নিক পদার্থের সম্ভাবনা, চরম জল চাপ এবং সমুদ্রতলের ভূগর্ভস্থ ম্যাগমা দ্বারা উত্তপ্ত হয়ে ভূত্বক বা পৃথিবী পৃষ্ঠের ফাটল দিয়ে বের হওয়া পানির প্রায় ৭৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বিভিন্ন অণুজীব (Microorgaism), মাছ, Tubeworm, চিংড়ি, Clam, Mussel এবং কাঁকড়া ইত্যাদি প্রাণীর বিস্ময়কর বাসস্থান ৷ এ জলতাপ নিঃসরণ ছিদ্র বা ফাটল এমন ভয়ঙ্কর-রূঢ়-অদ্ভুত পরিবেশে দুর্লভভাবে টিকে থাকা সামুদ্রিক প্রাণ বা জীবনকে সমর্থন করে ৷ যদি তেমন পরিবেশ জোভিয়ান চাঁদে বিদ্যমান থাকে, তবে চাঁদগুলো সেই অন্ধকারের মধ্যেও প্রাণ বা জীবনের উন্নতির জন্য যথেষ্ট উষ্ণতা সরবরাহ করতে পারে । ধারণা করা হয়, জোভিয়ান চাঁদের ইউরোপাতে জীবন আশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে । গ্যালিলীয় চাঁদগুলোর মধ্যে ইউরোপা সবচেয়ে ছোট চাঁদ । এটি সৌরজগতের ষষ্ঠ বৃহত্তম চাঁদ এবং বৃহস্পতির ৯৫টি পরিচিত চাঁদের মধ্যে ষষ্ঠ নিকটতম । ইউরোপা চাঁদ মাত্র ২০০০ মাইল চওড়া এবং পৃথিবীর চাঁদের চেয়ে ছোট । তবে ১০০ মাইল পর্যন্ত গভীর মহাসাগরের সাথে এটি পৃথিবীর সমস্ত মহাসাগরের চেয়ে দ্বিগুণ জল ধরে রাখতে পারে । মনে করা হয়, ইউরোপা চাঁদের মহাসাগর একটি পাথুরে সমুদ্রতলের উপর বসে, যা জীবন্ত প্রাণীদের টিকিয়ে রাখতে পারে এমন জলতাপ নিঃসরণ ছিদ্র বা ফাটল এবং পুষ্টির সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে । ইউরোপা চাঁদটি শিখা (Plume) এবং উষ্ণপ্রস্রবণের (Geyser) মাধ্যমে আগ্নেয়গিরি মুখের জলীয় বাষ্পকে মহাকাশে প্রেরণ বা প্রবাহিত করে । সৌরজগতের বৃহত্তম এবং বৃহস্পতি গ্রহের সর্ববৃহৎ, ভারী ও গর্তযুক্ত চাঁদ গ্যানিমিড হচ্ছে বুধ গ্রহের চেয়েও শতকরা ০৮ ভাগ বড় । এটি পাথুরে পাহাড়ে ভরপুর, ভূ-গর্ভে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি এবং গলিত তপ্ত লৌহ রয়েছে । এ লৌহের কারণে এটিই সৌরজগতের একমাত্র চাঁদ যেটি নিজস্ব চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে ৷ গ্যানিমিড চাঁদের ব্যাস ৫২৬৮ কিলোমিটার এবং একটি কক্ষপথ সম্পূর্ণ করতে ০৭ দিন ০৩ ঘন্টা সময় লাগে । বৃহস্পতি গ্রহ থেকে প্রায় ১০৭০৪০০ কিলোমিটার দূরে গ্যানিমিডের কক্ষপথ অবস্থিত । সৌরজগতের তৃতীয় বৃহত্তম এবং বৃহষ্পতির দ্বিতীয় বৃহত্তম চাঁদ হচ্ছে ক্যালিস্টো । এটি ০৪টি গ্যালিলীয় চাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বাইরের দিকে এবং কম ঘন । ফলে বৃহস্পতি গ্রহের চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা এটি কম প্রভাবিত হয় । অক্সিজেন এবং কার্বন ডাই অক্সাইড দ্বারা এর বায়ুমণ্ডল গঠিত । সম্ভবতঃ ক্যালিস্টো চাঁদেও তরল জলের মহাসাগর আছে । এছাড়া বৃহস্পতির তৃতীয় বৃহত্তম চাঁদ আইও সৌরজগতে সবচেয়ে আগ্নেয়গিরিগতভাবে সক্রিয় দেহ । আইও চাঁদের বায়ুমণ্ডল সালফার ডাই অক্সাইড দ্বারা গঠিত । অন্যান্য বস্তুর তুলনায় এর ঘনত্ব বেশি এবং কম জলের অণু রয়েছে । আইও চাঁদের ব্যাস প্রায় ৩৬৪৩ কিলোমিটার । বিজ্ঞানীরা আইও চাঁদে প্রায় ৪০০ টিরও বেশি আগ্নেয়গিরি আবিষ্কার করেছেন এবং এগুলো গরম সিলিকেট ম্যাগমা দ্বারা চালিত । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের San Antonio শহরে অবস্থিত Southwest Research Institute (SwRI) এর জুনো’র প্রধান তদন্তকারী Scott J. Bolton বলেন, “আইও চাঁদ হচ্ছে সবচেয়ে আগ্নেয়গিরির মহাকাশীয় বস্তু যা আমাদের সৌরজগতে । জুনো এটিকে একাধিকবার অতিক্রম ও সময়ের সাথে সাথে পর্যবেক্ষণ করে ৷ আমরা দেখতে পারি যে, আগ্নেয়গিরিগুলো কিভাবে পরিবর্তিত হয়– কতো ঘন ঘন তারা বিস্ফোরিত হয়, তারা কতোটা উজ্জ্বল ও উত্তপ্ত হয়, তারা একটি গোষ্ঠী বা এককভাবে যুক্ত কি-না এবং যদি লাভা প্রবাহের আকার পরিবর্তন হয় ।” আইও চাঁদ পৃথিবীর চাঁদের চেয়ে সামান্য বড় এবং ধ্রবক যন্ত্রণা একটি জগৎ । বিশাল বৃহস্পতি গ্রহই যে কেবল শুধু মহাকর্ষীয়ভাবে আইও চাঁদকে চিরতরে কাছে টানছে তা কিন্তু নয়, আইও চাঁদের গ্যালিলিয়ান ভাইবোনরাও – ইউরোপা এবং গ্যানিমিড । ফলাফল হচ্ছে যে আইও চাঁদ ক্রমাগত প্রসারিত এবং চেপে যাচ্ছে, লাভা সৃষ্টির সাথে যুক্ত ক্রিয়াগুলো এর অনেকগুলো আগ্নেয়গিরি থেকে বিস্ফোরিত হতে দেখা যায় ৷ 
[১৪ই ডিসেম্বর ২০২২ খ্রিস্টাব্দে (বামে) এবং ০১লা মার্চ ২০২৩ খ্রিস্টাব্দে জোভিয়ান চাঁদের উড়ানগুলো চলাকালীন সময়ে NASA এর জুনো মহাকাশযান দ্বারা সংগৃহীত দৃশ্যমান আলো এবং অবলোহিত তথ্য ব্যবহার করে আইও চাঁদে আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপের চিত্রিত এ যৌগিক দৃশ্যগুলো তৈরি করা হয়েছিল । সৌজন্যে: NASA/JPL-Caltech/SwRI/ASI/INAF/JIRAM] 


জোভিয়ান চাঁদে মহাকাশযানটির উড়ান (Flyby) এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কাছের হবে, যা প্রায় ২২০৬০ মাইল (৩৫৫০০ কিলোমিটার) উচ্চতায় । বৃহস্পতি গ্রহের অভ্যন্তরীণ তদন্ত বা অনুসন্ধানের জন্য এখন তার বর্ধিত মিশনের তৃতীয় বর্ষ । সৌর-চালিত মহাকাশযানটি গ্যাস দানব বৃহস্পতির বলয় তন্ত্রেও অন্বেষণ করবে, যেখানে এর আরো কিছু অভ্যন্তরীণ চাঁদ থাকে । আজ অবধি, জুনো মহাকাশযান বৃহস্পতি গ্রহে ৫০টি উড়ান সম্পাদিত করেছে । গ্যালিলীয় ০৪টি চাঁদের মধ্যে ০৩টি যেমন: বরফময় জগৎ ইউরোপা, বৃহৎ গ্যানিমিড এবং জ্বলন্ত আইও চাঁদের সাথে ঘনিষ্ঠ সাক্ষাতের সময় এটি নানা তথ্য সংগ্রহ করেছে । বৃহস্পতি গ্রহকে পর্যবেক্ষণ বা গবেষণার জন্য যখন জুনো মহাকাশযানের নকশা তৈরি করা হয়েছিল, সেখানে এর অনেকগুলো সুবেদী গ্রাহক (Sensor) ছিল যা অতিরিক্তভাবে বৃহস্পতি গ্রহের চাঁদের তথ্য সরবরাহ করেছে । মহাকাশযানটির দৃশ্যমান আলোক চিত্রক জুনোক্যাম (JunoCam), JIRAM (Jovian InfraRed Auroral Mapper), SRU (Stellar Reference Unit) ও MWR (Microwave Radiometer) ইত্যাদি যন্ত্রপাতি বৃহস্পতির আইও চাঁদের আগ্নেয়গিরি ও কিভাবে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বৃহস্পতি গ্রহের শক্তিশালী চুম্বকমণ্ডল এবং মেরুজ্যোতি বা মেরুপ্রভার (Aurora) সাথে যোগাযোগ সৃষ্টি করে তা অধ্যয়ন বা পর্যবেক্ষণ করবে । Scott J. Bolton আরো বলেন, “আমরা জুনো’র মিশনের আরেকটি আশ্চর্যজনক অংশে প্রবেশ করছি কারণ আমরা ক্রমাগত কক্ষপথে আইও চাঁদের আরো কাছাকাছি চলে যাচ্ছি । ৫১তম কক্ষপথটি এখন আমাদের এ অসহ্য যন্ত্রণাদায়ক চাঁদের নিকটতম চেহারা প্রদান করবে । জুলাই এবং অক্টোবরে আসন্ন উড়ানগুলো আমাদের আরো কাছে নিয়ে আসবে যা এ বছরের ডিসেম্বরে এবং পরের বছরের ফেব্রুয়ারিতে আইও চাঁদের সাথে আমাদের যমজ উড়ান (Twin flyby) মুখোমুখি হবে, যখন আমরা এর পৃষ্ঠের ১৫০০ কিলোমিটারের মধ্যে উড়ে যাবো ৷ এ সমস্ত উড়ানগুলো পরম বিস্ময়কর আইও চাঁদের আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপের দর্শনীয় দৃশ্য প্রদান করছে বা করবে ৷ তথ্যটি আশ্চর্যজনক হওয়া উচিত ।” বৃহস্পতির উড়ানগুলো চলাকালীন সময় জুনো মহাকাশযান গ্রহটির মেঘের শীর্ষে বা চূড়ার উপর নিচু হয়ে সাঁইসাঁই করে চলে গেছে– প্রায় ২১০০ মাইল (৩৪০০ কিলোমিটার) কাছাকাছি । এ উড়ানগুলোর সময় উত্তর মেরু থেকে গ্রহের কাছাকাছি যায় এবং দক্ষিণের উপর দিয়ে প্রস্থান করে । মহাকাশযানটি তার যন্ত্র ব্যবহার করে অস্পষ্ট মেঘের আবরণের নীচে অনুসন্ধান করে । এটি দৈত্যাকার গ্রহটির উৎপত্তি, গঠন, বায়ুমণ্ডল এবং চুম্বকমণ্ডল সম্পর্কে আরো বিশদ জানতে বৃহস্পতির অভ্যন্তর এবং মেরুপ্রভা গবেষণা করে । জুনো মহাকাশযান ২৫০৫ পৃথিবী দিনেরও বেশি সময় ধরে বৃহস্পতিকে প্রদক্ষিণ করছে এবং ৫১০ মিলিয়ন মাইল (৮২০ মিলিয়ন কিলোমিটার) পথ উড়েছে । মহাকাশযানটি ০৪ঠা জুলাই ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে বৃহস্পতি গ্রহের বৈজ্ঞানিক তদন্ত শুরু করতে বৃহস্পতিতে পৌঁছেছিল । প্রথম উড়ান ৫৩ দিন পরে ঘটেছিল এবং মহাকাশযানটি ০৭ই জুন ২০২১ খ্রিস্টাব্দে গ্যানিমিড চাঁদের উড়ান পর্যন্ত সেই কক্ষপথের সময়কালের সাথে চলতে থাকে, যা এর কক্ষপথের সময়কালকে ৪৩ দিনে কমিয়ে দেয় । ২৯শে সেপ্টেম্বর ২০২২ খ্রিস্টাব্দে ইউরোপা চাঁদের উড়ান কক্ষপথের সময়কাল ৩৮ দিনে কমিয়ে এনেছে । গত ১৬ই মে ২০২৩ খ্রিস্টাব্দে এবং আগামী ৩১শে জুলাই ২০২৩ খ্রিস্টাব্দে পরবর্তী আইও চাঁদের দু’টি উড়ানের পরে জুনোর কক্ষপথের সময়কাল ৩২ দিনে স্থির থাকবে ।  
[বৃহস্পতির চাঁদ আইও এর আগ্নেয়গিরির ক্রিয়াকলাপের এ অবলোহিত দৃশ্যগুলো ১৬ই অক্টোবর ২০২১ খ্রিস্টাব্দে চাঁদে উড়ান চলাকালীন সময়ে NASA এর জুনো মহাকাশযানে থাকা JIRAM (Jovian Infrared Auroral Mapper) যন্ত্র দ্বারা সংগ্রহ করা হয়েছিল ।
সৌজন্যে: NASA/JPL-Caltech/SwRI/ASI/INAF/JIRAM]  

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় নাসা’র Jet Propulsion Laboratory এর জুনো’র ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প ব্যবস্থাপক Matthew Johnson বলেন, “আইও চাঁদ হচ্ছে শুধুমাত্র একটি মহাকাশীয় বস্তু যা এ বর্ধিত মিশনের সময় জুনো’র অণুবীক্ষণযন্ত্রের অধীনে আসতে থাকে । সেই সাথে ক্রমাগত আমাদের কক্ষপথ পরিবর্তন করে বৃহস্পতি গ্রহের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং গ্রহের রাতের দিকে নীচে উড়ে যাওয়ার অনুমতি দেয় । মহাকাশযানটি বৃহস্পতির কিছু বলয়ের মধ্যে সুই-সুতার যোগসূত্র (Threading the needle) করবে তাদের উৎপত্তি এবং গঠন সম্পর্কে আরো জানতে ।” নাসা’র Jet Propulsion Laboratory, ক্যালিফোর্নিয়ার পাসাডেনায় ক্যালটেকের (Caltech) একটি বিভাগ এবং টেক্সাসের San Antonio শহরে অবস্থিত Southwest Research Institute (SwRI) এর প্রধান তদন্তকারী Scott J. Bolton জুনো মিশন পরিচালনা করেন । জুনো মিশন হচ্ছে নাসা’র একটি মহাকাশ অনুসন্ধান, যা বৃহস্পতি গ্রহকে প্রদক্ষিণ করছে । এটির উদ্দেশ্য হচ্ছে বৃহস্পতি গ্রহের উৎপত্তি ও গঠন, গ্রহে পাথুরে কেন্দ্রস্থল আছে কি-না, গ্রহের বায়ুমণ্ডলে জলের পরিমাণ, ভর বিতরণ, মহা লাল বিন্দু, গভীর বাতাস, মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র এবং মেরু চুম্বকমণ্ডল ইত্যাদি পরিমাপ করা । জুনো মিশনটি নাসা’র New Frontiers Program এর অংশ, যেটি ওয়াশিংটনে এজেন্সির বিজ্ঞান মিশন অধিদপ্তরের (Science Mission Directorate) জন্য আলাবামার হান্টসভিলে নাসা’র Marshall Space Flight Center এ পরিচালিত হয় ৷ যুক্তরাষ্ট্রের (ডেনভার) মহাকাশ, প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তা বিষয়ক কোম্পানি লকহিড মার্টিন স্পেস (Lockheed Martin Space) মহাকাশযান তৈরি এবং পরিচালনা করে ।

তথ্যসূত্র: https://www.nasa.gov/ ,  আন্তর্জাল (The Internet) ।






No comments:

Post a Comment

প্রত্যাখ্যান (কবি: মায়া অ্যাঞ্জেলো)

প্রত্যাখ্যান কবি: মায়া অ্যাঞ্জেলো অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল প্রিয়তম, অন্য কোনো জীবনে বা দেশে আমি কি তোমার অধরের স্পর্শ অনুভব করে...