Tuesday, 24 June 2025

ভেরা সি. রুবিন মানমন্দির

চিলির আন্দিজ পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত একটি বিপ্লবী নতুন মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্র ভেরা সি. রুবিন এক নতুন, চমৎকার ও বিস্তৃত মহাবিশ্বের প্রথম ছবি তুলেছে । যেখানে এ যুগান্তকারী যন্ত্রটি দূরবর্তী লক্ষ লক্ষ নক্ষত্র ও ছায়াপথের আলো ধারণ করেছে । আশা করা যাচ্ছে যে, পূর্বে অদেখা হাজার হাজার গ্রহাণু উন্মোচিত হবে । ছবিতে অবিশ্বাস্যভাবে নক্ষত্রীয় বস্তুগুলোকে দেখায় যা জ্যোতির্বিদদের মহাবিশ্বের এক রূপান্তরমূলক আভাস দিচ্ছে । সত্যিই, আমরা একটি নতুন যুগে প্রবেশ করছি । জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা উত্তেজিত কারণ মহাবিশ্বকে অভূতপূর্ব বিশদভাবে দেখায়, যেখানে হিংস্র মহাজাগতিক সংঘর্ষ থেকে শুরু করে দূরবর্তী নীহারিকা পর্যন্ত । এ দূরবীক্ষণ যন্ত্রটি একটি দুর্দান্ত যন্ত্র, যার গভীরতা এবং বৃহৎ দৃশ্যের ক্ষেত্রে যেখানে নক্ষত্র থেকে প্রায় সবকিছুই বিশেষ করে ক্ষীণ নক্ষত্রের বেলায় অসাধারণ সুন্দর ছবি তুলতে সাহায্য করবে । রুবিন মানমন্দির বা দূরবীক্ষণ যন্ত্র থেকে ছবি তোলা অবিশ্বাস্যরকম রোমাঞ্চকর । মহাজাগতিক নানা বস্তু, বৈচিত্র্যময় ছায়াপথ, আকাশগঙ্গা ছায়াপথের নক্ষত্র ও সৌরজগতের বস্তুগুলো সমস্তকিছুই নতুন উপায়ে অন্বেষণ করা যাবে । বিশেষ করে রাতের আকাশে লক্ষ লক্ষ পরিবর্তনশীল বস্তু আক্ষরিক অর্থেই সনাক্ত করা যাবে । এছাড়া অবিশ্বাস্যভাবে ম্লান ছায়াপথ এবং নান্দনিক সকল নক্ষত্রই দেখতে সক্ষম হবে, যার মধ্যে কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরে থাকা ছায়াপথও রয়েছে । গবেষকরা প্রায় সাত ঘন্টার পর্যবেক্ষণকে একত্রিত করে একটি একক ছবিতে তুলে ধরেছেন যা লেগুন নীহারিকা এবং ট্রাইফিড নীহারিকা দ্বারা নির্গত প্রাচীন আলোকে ধারণ করে । আন্তঃনাক্ষত্রিক গ্যাস এবং ধূলিকণার এ বিশাল মেঘগুলো পৃথিবী থেকে যথাক্রমে ৪৩৫০ আলোকবর্ষ এবং ৪০০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত । এ ছবিতে কন্যা রাশি ছায়াপথ স্তবকের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, যা প্রায় ২০০০ উপবৃত্তাকার এবং সর্পিল ছায়াপথের মিশ্রণ । আমাদের নিজস্ব মহাজাগতিক প্রতিবেশী থেকে উজ্জ্বল নক্ষত্রগুলো মহাকর্ষ দ্বারা একত্রিত হয়ে নক্ষত্র, গ্যাস এবং ধূলিকণার বিস্তৃত পদ্ধতির মধ্যে জ্বলজ্বল করছে । পটভূমিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পিনের খোঁচা প্রতিটি বিন্দু (Pin-prick dot) এক একটি দূরবর্তী ছায়াপথকে প্রতিনিধিত্ব করে । এখানে ছায়াপথগুলোকে একত্রিতকরণের বিশৃঙ্খল জটলা দেখায়— এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যা ছায়াপথের বিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । বৃহৎ আকারের একত্রিত ছায়াপথ থেকে শুরু করে পৃথক ছায়াপথের সর্পিল কাঠামোর বিশদ বিবরণ, পটভূমিতে আরো দূরবর্তী ছায়াপথ এবং অগ্রভাগে আকাশগঙ্গা ছায়াপথের নক্ষত্র সবই এক ছবিতে, রূপান্তরকারী! ধারণা করা হয় যে, আগামী দশকে রুবিন দূরবীক্ষণ যন্ত্রটি প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ জ্যোতির্বিদ্যা সংক্রান্ত বিভিন্ন বস্তুকে পর্যবেক্ষণ বা ধারণ করবে অথবা প্রতি সেকেন্ডে ১০০টিরও বেশি । পরিশেষে বলা যায়, এটি প্রায় ১৭ বিলিয়ন নক্ষত্র এবং ২০ বিলিয়ন ছায়াপথ আবিষ্কার করবে বলে আশা করা হচ্ছে যা আমরা আগে কখনো দেখিনি । 

তথ্যসূত্র: www.nationalgeographic.com 

ছবি: CNN International । 


Tuesday, 10 June 2025

প্রজাপতি

প্রজাপতি 
মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল 

রঙধনুর রঙে রঙিন প্রজাপতি ।
রূপ, লাবণ্য, গুণ আর গরিমায় অদ্বিতীয়া ।
শীতল রক্তের কারণেই তুমি অনন্যা । 
এক ক্ষণস্থায়ী জীবনের অধিকারিণী ।
তোমার মায়াবী চোখে অনাবিল মুগ্ধতা ।
দুর্দান্ত চপলতায় ডানা মেলে উড়ে যাও ।     
অমৃত পানের সময় অজান্তেই ফুলের পরাগায়ন করো ।
তুমিইতো এই বৈচিত্র্যময় প্রকৃতির অগ্রদূত ।
তোমার অনুরাগে হারিয়ে যাই দূর নীলিমায় ।
এক অজানা নৈঃশব্দের জগতে ।
কোথায় তুমি? 
তন্ন তন্ন করে খুঁজি তোমাকে অনন্ত মহাবিশ্বের প্রান্তে ।
সেখানেও নেই ।
তবে কি, কল্পনায়?
প্রিয় প্রজাপতি, তুমি নিঃসন্দেহে হৃদয়স্পর্শী ।
তোমার ঐন্দ্রজালিক অনুভূতি আমার সত্তাকে নাড়া দেয় ।
হয়তো, ভালোবাসার নান্দনিক সৌন্দর্যেরই বহিঃপ্রকাশ ।
ও প্রজাপতি, তোমার হৃদয়ের গহীনে আমাকে ঠাঁই দেবে? 

Monday, 9 June 2025

ভয় - কাহলিল জিবরান (অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল)

কথিত আছে যে সমুদ্রে প্রবেশের আগে 

একটি নদী ভয়ে কাঁপে । 

সে তার ভ্রমণ করা পথের দিকে ফিরে তাকায় 

পাহাড়ের চূড়া থেকে 

বন এবং গ্রাম পেরিয়ে দীর্ঘ আঁকাবাঁকা রাস্তার দিকে । 

আর তার সামনে, 

সে এতো বিশাল একটি সমুদ্র দেখতে পায়, 

যেখানে প্রবেশ করা 

চিরকালের জন্য অদৃশ্য হয়ে যাওয়া ছাড়া আর কিছুই মনে হয় না । 

কিন্তু অন্য কোনো উপায় নেই । 

নদী ফিরে যেতে পারে না । 

কেউ ফিরে যেতে পারে না । 

অস্তিত্বে বা জীবনের ধারায় ফিরে যাওয়া অসম্ভব । 

নদীকে সমুদ্রে প্রবেশের ঝুঁকি নিতে হবে 

কারণ তখনই ভয় অদৃশ্য হয়ে যাবে, 

কারণ নদী সেখানেই জানতে পারবে

সে সমুদ্রে বিলীন হওয়ার কথা নয়, 

বরং নিজেই সমুদ্র হয়ে উঠা । 


************************** 


Fear

--- Kahlil Gibran

It is said that before entering the sea 

a river trembles with fear. 

She looks back at the path she has traveled, 

from the peaks of the mountains, 

the long winding road crossing forests and villages. 

And in front of her, 

she sees an ocean so vast, 

that to enter 

there seems nothing more than to disappear forever. 

But there is no other way. 

The river can not go back. 

Nobody can go back. 

To go back is impossible in existence. 

The river needs to take the risk 

of entering the ocean 

because only then will fear disappear, 

because that's where the river will know 

it's not about disappearing into the ocean, 

but of becoming the ocean.

Tuesday, 3 June 2025

ছায়াপথ NGC 1385


NGC 1385 হচ্ছে ফরনাক্স নক্ষত্রমণ্ডলের একটি অসাধারণ সুন্দর বাধাযুক্ত সর্পিল ছায়াপথ যেটি প্রায় ৩০ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত । যেখানে নক্ষত্র এবং ধুলোর একটি আলোকিত জট রয়েছে । জার্মান-ব্রিটিশ জ্যোতির্বিদ উইলিয়াম হার্শেল ১৭ই নভেম্বর ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে ছায়াপথটি আবিষ্কার করেন । অন্য কোনো ছায়াপথের সাথে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ফলে এ ছায়াপথটি যথেষ্ট বিকৃত হয়েছে, যদিও কোনটি তা অজানা এবং প্রায়শই এমন মুখোমুখি ছায়াপথগুলোর ক্ষেত্রে যেমনটি ঘটে থাকে । ছায়াপথটি নক্ষত্র তৈরির অঞ্চলে উষ্ণ, তরুণ এবং উজ্জ্বল তারকা দ্বারা পরিপূর্ণ যা তাদের কাছাকাছি যেকোনো জায়গায় আন্তঃনাক্ষত্রিক গ্যাসগুলোকে উত্তপ্ত এবং আয়নিত করছে । যদিও এ ছায়াপথে এখনো কোনো অতিনবতারা (Supernova) দেখা যায়নি । তবুও ১৮ই জুন ২০২০ খ্রিস্টাব্দে Gaia Photometric Science Alerts দ্বারা এ ছায়াপথে জ্যোতির্বিদ্যাগত একটি ক্ষণস্থায়ী ঘটনা AT 2020pju (Gaia20dgj, ATLAS20uwn) আবিষ্কৃত হয় । বর্ণালী বিশ্লেষণে দেখা যায় যে নক্ষত্রটি একটি উজ্জ্বল নীল পরিবর্তনশীল । ২০২৪ খ্রিস্টাব্দে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ দ্বারা NGC 1385 ছায়াপথের ছবি তোলা হয়েছিল Physics at High Angular Project resolution in Nearby Galaxies (PHANGS) প্রকল্পের অংশ হিসেবে, যেখানে নক্ষত্র গঠনের পর্যায়গুলো অধ্যয়ন করা হয় । এ ছায়াপথের বৃহত্তম ব্যাস প্রায় ৭২০০০ আলোকবর্ষ এবং সবচেয়ে ছোট ব্যাস প্রায় ৪৪০০০ আলোকবর্ষ । এটি খুব বড় ছায়াপথ নয় । দুর্দান্ত এ ছায়াপথের মধ্য দিয়ে একটি শক্ত দণ্ড বয়ে গেছে । ছায়াপথের ভেতরের চাকতিতে বিভিন্ন স্থান থেকে বেরিয়ে আসা তুলোর মতো সর্পিল বাহু ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে । ছায়াপথটিতে নক্ষত্র তৈরির গিঁট রয়েছে, এর ভেতরের বাহু দুইটি সরল খণ্ড দ্বারা গঠিত যা দণ্ড অঞ্চল থেকে উত্তর দিকে প্রসারিত । NGC 1385 ছায়াপথের একটি অসমমিত বহির্ভাগ রয়েছে যার উত্তর-পশ্চিমে নির্গমন খুব কম । NGC 1385 ছায়াপথ হচ্ছে এক বিস্ময়কর NGC 1395 ছায়াপথ (যা LGG 97 নামেও পরিচিত) দলের অংশ, যার মধ্যে কমপক্ষে ৩১টি সদস্য রয়েছে এবং এ দলটি এরিডানাস স্তবকেরও অংশ । 

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, www.universomagico.net 

ছবি: https://science.nasa.gov/ 

প্রত্যাখ্যান (কবি: মায়া অ্যাঞ্জেলো)

প্রত্যাখ্যান কবি: মায়া অ্যাঞ্জেলো অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল প্রিয়তম, অন্য কোনো জীবনে বা দেশে আমি কি তোমার অধরের স্পর্শ অনুভব করে...