
Cenozoic যুগের কঠিন শিলা ব্যাসাল্ট, ল্যাটেরাইট ও চুনাপাথর দ্বারা গঠিত ভারত উপমহাদেশের সর্বপ্রাচীন ঐতিহাসিক অঞ্চল এবং ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান সহ্যাদ্রি পর্বতমালা বা পশ্চিমঘাট পর্বতমালা হচ্ছে ভারতের পশ্চিমভাগে প্রসারিত একটি পর্বতমালা । প্রকৃতপক্ষে, এটি একটি পার্বত্য উপত্যকা । এ পর্বতমালা দাক্ষিণাত্য মালভূমির পশ্চিমসীমা বরাবর উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রসারিত হয়ে ভারতের পশ্চিমে আরব সাগরের তীরবর্তী সংকীর্ণ উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করেছে । গুজরাটের পশ্চিম তীর (কঙ্কন উপকূল) এবং মহারাষ্ট্রের সীমান্তভাগে তাপ্তি নদীর দক্ষিণে এ পর্বতমালার উৎপত্তিস্থল । মহারাষ্ট্র, গুজরাট, গোয়া, কর্ণাটক, পশ্চিম তামিলনাড়ু এবং কেরল বা কেরালা রাজ্যের মধ্য দিয়ে দৈর্ঘ্যে প্রায় ১৬০০ কিলোমিটার ও প্রস্থে প্রায় ১০০ কিলোমিটার বিস্তৃত এ পর্বতমালা ভারতের মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণতম বিন্দু তামিলনাড়ু রাজ্যের কন্যাকুমারী বা কুমারী আম্মান (Cape Comorin / Kanyakumari) শহরের কাছে এসে মিলিত হয়েছে । অন্যদিকে উড়িষ্যার গজপতি জেলার উত্তর-পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত ১৫০০ মিটার উচ্চতার মহেন্দ্রগিরি পর্বত বা পূর্বঘাট পর্বতমালা হচ্ছে ভারতের পূর্ব উপকূলের একটি বিচ্ছিন্ন বা ক্ষয়জাত বা অবশিষ্ট (Relict বা Erosional বা Residual mountain) পর্বতশ্রেণী । শেভারয় পাহাড়, জাভাদি পাহাড়, আনাইমালাই পাহাড় (হাতি পাহাড়) প্রভৃতি কয়েকটি বিচ্ছিন্ন পর্বতের সমষ্টিই হচ্ছে পূর্বঘাট পর্বতমালা । পূর্বঘাট পর্বতমালা ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক এবং কেরালা রাজ্য হয়ে তেলেঙ্গানা পর্যন্ত বিস্তৃত । বঙ্গোপসাগরের সমান্তরালে প্রসারিত হয়ে দাক্ষিণাত্য মালভূমির পশ্চিমে এবং পূর্ব-পশ্চিমঘাটের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত । কৃষ্ণা নদী, কাবেরী নদী, মহানদী, গোদাবরী নদী ও পেন্নার নদী দ্বারা পূর্বঘাট পর্বতমালা ক্ষয়িত এবং বিচ্ছিন্ন হয়েছে । চর্নাকোট, গ্রানাইট গিনিস, খুন্ডালাইট, মেটামোরফিক গিনিস এবং কোয়ার্টজাইট শিলার সংযোজনে গঠিত হয়েছে এ পূর্বঘাট পর্বতমালা । সহ্যাদ্রি বা পশ্চিমঘাট পর্বতমালার তুলনায় এ মহেন্দ্রগিরি বা পূর্বঘাট পর্বতমালা অধিক প্রাচীন । অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের সর্বোচ্চ শিখর জিন্দাগাদা এর উচ্চতা হচ্ছে ১৬৯০ মিটার বা ৫৫৪৫ ফুট ।
সহ্যাদ্রি বা পশ্চিমঘাট পর্বতমালার ভৌগোলিক অবস্থান হচ্ছে ১০°১০′ উত্তর ৭৭°০৪′ পূর্ব এবং এর আয়তন প্রায় ১৬০০০০ বর্গকিলোমিটার । এটি বিশ্বের ৮টি প্রধান জীব-বৈচিত্র্যের উষ্ণবিন্দু স্থান (Biodiversity hotspot) এবং বাস্তুতান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যের জন্য পশ্চিমঘাট পর্বতমালা হচ্ছে ভারতের অন্যতম সমৃদ্ধ জৈবিক অঞ্চল (Biotic region) যেটি জৈব-ভৌগলিকভাবে অনন্য । পশ্চিমঘাট সুউচ্চ পর্বতমালা দক্ষিণ ভারতের জলবিদ্যুৎ এবং নদী ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ জলবিভাজিকার কার্য সম্পাদন করে থাকে । মহাদীর্ঘকাল পেরিয়ে যাওয়া প্রাচীন এ পর্বতমালার ঘন, আর্দ্র ও অন্ধকারাচ্ছন্ন গভীর অরণ্য হচ্ছে অনেক দুষ্প্রাপ্য প্রাণী, কীট-পতঙ্গ, পাখী, ফুল, ফল এবং উদ্ভিদের প্রাণকেন্দ্র । এটি তৃণভূমি, গুল্মভূমি ও বনভূমির এক নৈসর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং প্রাণ বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এক জনপদ । চির সবুজ অরণ্যের বিশাল প্রাণ-প্রাচুর্য এবং বনজ সম্পদকে কেন্দ্র করে টোডা, কোটা, আলুকুরুম্বা, বাদাগা, ইরুলা, কাণিকরন ও মুথুভান আদিম নৃ-গোষ্ঠী প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই এখানে বসতি স্থাপন করেছে । পাহাড়ের ঢালে এবং গহীন অরণ্যে তারা নিজস্ব সামাজিক রীতি, নীতি ও লোকাচারকে অনুসরণ করে সমাজ-সংস্কৃতি গড়ে তোলে জীবন যাপন করছেন । হাজার হাজার বছর ধরে তারা পূর্বপুরুষদের অনুসরণ করা পথকে লক্ষ্য স্থির করে তাদের ঐতিহ্যকে বহন করে চলছেন । এখানকার নদী, সমুদ্রের শাখা, সাগর, উপত্যকা, কুয়াশা, উন্মুক্ত চারণভূমি, জলপ্রবাহ, সবুজ চা বাগিচা, পাহাড়, হ্রদ, গিরিপথ, জলপ্রপাত এবং ঘন সবুজ বনের সাথে রয়েছে এ অধিবাসীদের আত্মার সম্পর্ক । এক নিবিড় অনুভূতি । আরব সাগর থেকে আগত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে এখানে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয় । বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ প্রায় ৩০০ - ৪০০ সেন্টিমিটার ও গড় উষ্ণতা প্রায় ১৫০ সেন্টিমিটার এবং বাতাসে আর্দ্রতা অত্যন্ত বেশি । বনভূমির উঁচু উঁচু গাছগুলোর মাথায় শামিয়ানা বা চাঁদোয়ার মতো লতা এবং পরজীবী উদ্ভিদের আচ্ছাদনের কারণেই সূর্যের আলো বনভূমিতে সহজে প্রবেশ করতে পারে না । মায়াবী এ চির হরিৎ ঘন অরণ্য পর্যাপ্ত পরিমাণ অক্সিজেন উৎপন্ন করে ভারতের সমগ্র দাক্ষিণাত্যের শহরগুলোকে দূষণমুক্ত করতে ফুসফুসের মতো মুখ্য ভূমিকা পালন করছে ।
ভারতীয় উপ-দ্বীপের সর্বদক্ষিণে পাহাড়-সমুদ্রে ঘেরা রাজ্য তামিলনাড়ুর পশ্চিম সীমায় পশ্চিমঘাট পর্বতমালা (Western Ghat) এবং উত্তর সীমায় পূর্বঘাট পর্বতমালা (Eastern Ghat) অবস্থিত । সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড়ে প্রায় ৯০০ - ১৫০০ মিটার উচ্চতায় সহ্যাদ্রি বা পশ্চিমঘাট পর্বতমালার দক্ষিণাংশটি কেরালা, কর্ণাটক এবং তামিলনাড়ু রাজ্যের অন্তর্গত । মূলত তামিলনাড়ু ও কেরালা রাজ্যেই "নীলগিরি পর্বতমালা" (Nilgiri Mountains / Blue Mountains / Nilagiri / The Nilgiris / Nila Mountain) এর অবস্থান । তামিলনাড়ু্ রাজ্যের একেবারে পশ্চিম সীমান্তে নীলগিরি পর্বত । এ নীলগিরি পর্বতই হচ্ছে পশ্চিমঘাট পর্বতমালা এবং পূর্বঘাট পর্বতমালার মধ্যে পরস্পরের মিলনস্থল । পশ্চিমঘাট এবং পূর্বঘাট দুই এলাকা বিভক্ত হয়ে জীববৈচিত্র্যের পাশাপাশি নীলগিরির প্রাকৃতিক পার্বত্য চিরহরিৎ তৃণভূমি, গুল্মভূমি এবং বনভূমি অঞ্চলই গঠন করেছে শোলা বাস্তুতন্ত্র (Shola Ecosystem) । Shola নামটি সম্ভবত Chola শব্দ থেকে এসেছে, যার দুইটি অর্থ হচ্ছে: ছায়া এবং বসন্ত । সহ্যাদ্রি বা পশ্চিমঘাট পর্বতমালার সর্বোচ্চ আনামুদি পর্বতটির উচ্চতা প্রায় ২৬৯৫ মিটার বা ৮৮৪২ ফুট যেটি কেরালা রাজ্যে অবস্থিত ইরাভিকুলাম জাতীয় উদ্যানের মাথার মুকুট হিসেবে পরিচিত এবং এ পর্বতটি হিমালয় পর্বতমালার দক্ষিণে সর্বোচ্চ উঁচুতে অবস্থান করছে ।
হোয়সালা সাম্রাজ্য হচ্ছে একটি 'কন্নাদিগা শক্তি' যা ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে উৎপত্তি হয়েছিল ১০ম থেকে ১৪তম শতাব্দীতে । নীলগিরি অঞ্চল এ সাম্রাজ্যের রাজাদের অধীনে ছিল । পরবর্তীতে এ অঞ্চল ব্রিটিশ ভারতের মহীশূর রাজ্যের শাসনকর্তা (মহীশূরের বাঘ), সাহসী বীর যোদ্ধা ও ভারতের স্বাধীনতাকামী বীরপুত্র টিপু সুলতানের হাত হয়ে ইংরেজদের আমলে পাহাড়ী উটি অঞ্চলের একটি অংশ আদিবাসী টোডা জনগোষ্ঠী তামিলনাড়ু রাজ্যের কোয়েম্বাটুর শহরের গভর্নর সুলিভানের নিকট হস্তান্তর করার পর থেকে এখানে চা, কফি, সিনকোনা গাছ এবং টিক গাছ প্রভৃতি চাষাবাদ শুরু হয় । উল্লেখ্য যে, তামিলনাড়ু রাজ্যের নীলগিরি জেলায় সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২২৪০ মিটার উঁচুতে নীলগিরি পর্বতের চূড়ায় অবস্থিত নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের এক শৈল শহরের মহারাণী হচ্ছে উটি / Ooty / উধাগামান্দলাম / উওটোক্যমুন্দ / উটাকামান্দ । ১৭৯২ খ্রিস্টাব্দে ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের মাণ্ড্য জেলার একটি শহর শ্রীরঙ্গপত্তনে টিপু সুলতান এবং লর্ড কর্ণওয়ালিসের সঙ্গে এক সন্ধির (শ্রীরঙ্গপত্তনমের সন্ধি) মাধ্যমে এ এলাকাটি স্থায়িভাবে The British East India Company এর হাতে চলে যায় । ১৮২০ খ্রিস্টাব্দের গোড়ার দিকে এ অঞ্চলের পাহাড়গুলো ব্রিটিশ রাজের অধীনে দ্রুত বিকাশ (রক্ষণাবেক্ষণ) লাভ করে । কারণ, বেশিরভাগ জমিই ইতিমধ্যে ব্রিটিশ নাগরিকদের ব্যক্তিগতভাবে মালিকানাধীন হয়েছিল । ব্রিটিশ সরকার দক্ষিণ ভারতের অধিকাংশ অঞ্চলকেই মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির অধীনে নিয়ে আসে এবং বাকী অঞ্চলগুলোর বেশিরভাগই ব্রিটিশ সরকারের নির্ভরশীল হয়ে বিভক্ত থাকে ৷ পরবর্তীতে ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের পর এক এক অঞ্চলের স্থানীয় ভাষার উপর নির্ভর করে দক্ষিণ ভারত বিভিন্ন রাজ্যে বিভক্ত হয় ।
মুন্নার (Munnar) হচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিম ভারতের কেরালা রাজ্যের ইদুক্কি জেলায় অবস্থিত প্রস্তরময় গিরিচূড়ায় একটি সুন্দর শহর ও পার্বত্য কেন্দ্র । 'Moonu' অর্থ 'তিন' এবং 'Aru' অর্থ 'নদী' । মুন্নার শহরটি পশ্চিমাঞ্চল ঘাট পর্বতমালায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৬০০ মিটার (৫২০০ ফুট) উচ্চতায় যেটি মাদুপেট্টি ও পেরিয়াভারু নদীর তীরে অবস্থিত । মুন্নার শহরকে দক্ষিণ ভারতের 'কাশ্মীর' বলা হয় । পর্যটক বা ভ্রমণকারীদের জন্য শহরটি মধুচন্দ্রিমা বা মধুযামিনীর (Honeymoon) উদ্দেশ্যে এক মনোমুগ্ধকর অন্যতম গন্তব্যস্থল এবং প্রশান্তির আশ্রয়স্থল । সবুজ অরণ্যেঘেরা মুন্নার শহরই পশ্চিমঘাট পর্বতমালার মুদ্রাপুজহা, নল্লাথান্নি ও কুন্ডালা পার্বত্য নদীর সঙ্গমস্থল । আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যময় এ শহরটি একসময় ব্রিটিশ সরকারের গ্রীষ্মকালীন অধিষ্ঠান বা প্রায়ই যাত্তয়া হয় এমন স্থান (Resort) ছিল এটি । নীলগিরি পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম দোদ্দাবেত্তা বা রাঙ্গস্বামী শিখর যার উচ্চতা প্রায় ২৬৩৭ মিটার বা ৮৬৫২ ফুট । নীলগিরিকে নীলাকাশের মতোই নীল মনে হয়, যেখানে সাদা মেঘগুলো নীলিমায় মিলিয়ে যায় । কিংবা অবারিত নীলের রাজ্য । আসলে, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি পাহাড়ে ছড়িয়ে পড়ার কারণেই যে কোনো পাহাড়কে দেখতে নীলাভ মনে হয় । নীলগিরি পর্বতের ঢালে বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে তৃণভূমি ও বনাঞ্চল যেখানে জন্ম নেয় এক দুষ্প্রাপ্য প্রজাতির অসাধারণ সুন্দর সপুষ্পক উদ্ভিদ নীলাকুরিঞ্জি বা কুরিঞ্জি বা নীলকুরিঞ্জি (Neelakurinji / Kurinji / Kurunji / Neel Kurinji) https://www.keralatourism.org/neelakurinji/ । উল্লেখ্য যে, মুন্নার শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে সংরক্ষিত এলাকা কুরিঞ্জিমালা অভয়ারণ্য বা ইরাভিকুলাম জাতীয় উদ্যান হচ্ছে এমন একটি জায়গা যেখানে দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের তিরুপপুর জেলার সীমান্তবর্তী কেরালা রাজ্যের দেবীকুলম তালুকের ইদুক্কি জেলার কোট্টাকাম্বুর এবং ভাট্টাভাডা গ্রামে বিপন্ন বা বিপদগ্রস্ত প্রজাতি নীলাকুরিঞ্জি উদ্ভিদের জন্য ৩২ হেক্টর জমিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রস্থল বা মূল আবাস হিসেবে সুরক্ষিত করা হয়েছে । ভারতের পশ্চিমঘাট ব্যতীত পৃথিবীর অন্য কোথাও নীলাকুরিঞ্জি ফুল এখন আর দেখা যায় না । নীলগিরি পাহাড়ের গায়ে নীল রঙের অগণিত নীলাকুরিঞ্জি ফুল ফোটে বলেই এ অঞ্চলের নামকরণ হয়েছে 'নীলগিরি' । সর্বাধিক প্রশংসিত এবং বিশেষ মর্যাদার এ দৃষ্টিনন্দন নীলাকুরিঞ্জি ফুলের প্রধান আবাসস্থল হচ্ছে মুন্নার শহর থেকে পার্শ্ববর্তী নির্জন পাহাড়ি এলাকা পশ্চিমঘাটের শোলা বনে ও তৃণভূমিতে । সারাদেশের মধ্যে মুন্নার শহর হচ্ছে নীলাকুরিঞ্জি উদ্ভিদের সর্বাধিক ঘনত্বের উৎসবিন্দু, যা প্রায় ৩০০০ হেক্টর ঘূর্ণায়মান পাহাড়ের মধ্যে বিস্তৃতভাবে ফুলগুলো প্রস্ফুটিত হয়ে শহরটিকে নীল রঙে রাঙিয়ে তোলে । রূপবতী নীলাকুরিঞ্জি ফুল কুয়াশাচ্ছন্ন নীলগিরি পাহাড়ের পুরো তৃণভূমিকে নীল সমুদ্রে পরিণত করে । বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে এ এক শিহরণ জাগানিয়া ঐন্দ্রজালিক দৃশ্য । অনাবিল সৌন্দর্যের অধিকারী নীলাকুরিঞ্জি ফুল পশ্চিমঘাটের জৈব-বৈচিত্র্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে । এ স্থানীয় প্রজাতিটি বাস্তুতন্ত্র স্বাস্থ্যেরও একটি সূচক । দক্ষিণী ভাষায় (তামিল বা মালয়ালাম) এ ফুলকে নীলাকুরিঞ্জি বা নীল ফুল বলে । নীলাকুরিঞ্জি ফুল কয়েকটি শাখা বিশিষ্ট অতি সাধারণ একটি গুল্ম বা ঝোপঝাড় । এর নীলচে বেগুনি রঙের ছোট ছোট ফুলগুলো থোকায় থোকায় দলবদ্ধভাবে ফোটে । নীলাকুরিঞ্জি ফুল দেখতে অনেকটা কলস বা ঘণ্টার মতো । বৈচিত্র্যময় ফুলের আকর্ষণীয় উজ্জ্বল রঙ, মিষ্টি ঘ্রাণ ও অমৃতের লোভে মৌমাছি, ভ্রমর, কীট-পতঙ্গ এবং প্রজাপতি প্রচণ্ডভাবে আকৃষ্ট হয় । বেগুনি ফুলগুলো প্রচুর পরিমাণে অমৃত ধারণ করার ফলে পুবাল মৌমাছি Apis cerana কে বেশি আকর্ষণ করে । নীলাকুরিঞ্জি ফুল থেকে সংগৃহীত মধু স্বাদযুক্ত, স্বাস্থ্যকর এবং সর্বোচ্চ পুষ্টি মানের হয় । এ মধু'র বিশেষত্ব হচ্ছে যে, এটি প্রায় ১৫ বছর পর্যন্ত বিনষ্ট হয় না এবং ঔষধিগুণ সম্পন্ন । নীলাকুরিঞ্জি উদ্ভিদের উচ্চতা প্রায় ৩০ - ৬০ সেন্টিমিটার এবং সর্বোত্তম অবস্থায় ১৮০ সেন্টিমিটার অবধি বৃদ্ধি পায় । নীলাকুরিঞ্জি ফুলের মন মাতানো সুগন্ধ বা তীব্র ঘ্রাণ তেমন নেই । তবুও কেন, এর এতো কদর? কারণ, নীলাকুরিঞ্জি অতি দুর্লভ । তাই, সে অনিন্দ্য সুন্দর এবং মনোহারিণী । এ ফুল প্রতি ১২ বছরে একবার পার্বত্য ভূমিকে এক অপরূপ রূপে সাজিয়ে তোলে । ঐশ্বরিকভাবেই ফুলের রঙ বদলে গিয়ে নীল থেকে নীলচে-বেগুনি এবং পরবর্তীতে ফিকে বেগুনি রঙ ধারণ করে । ফুল ফোটার পর গাছ মরে যায় এবং মৃত গাছের বীজ থেকে পুনরায় গাছের জন্ম হলেও ফুলের দেখা মেলে না । কারণ, ফুল দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ ১২ বছর । তাই, প্রতি ১২ বছরে একবার এ ফুল ফোটে বলেই একে 'Super bloom' বলা হয় । যে সকল উদ্ভিদ দীর্ঘ বিরতিতে এরূপভাবে প্রস্ফুটিত হয় তাকে Plietesial বলে এবং উদ্ভিদবিদ্যায় এটিকে উদ্ভিদের ''বেঁচে থাকার ব্যবস্থা'' হিসেবে উল্লেখ করা হয় । এছাড়া, Strobilanthes cuspidatus প্রজাতির উদ্ভিদে প্রতি ৭ বছরে একবার ফুল ফোটে থাকে । নীলাকুরিঞ্জি উদ্ভিদ পর্বতাঞ্চলে নিজের মতো করেই বেড়ে উঠে এবং প্রকৃতির নিয়মে এভাবেই তার জীবন-মৃত্যু চক্র ঘটে থাকে । সাধারণত জুলাই থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত এ ফুল ফোটে । তবে, সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাস হচ্ছে ফুল ফোটার আদর্শ সময় । যখন নীলাকুরিঞ্জি ফুল ফুটতে শুরু করে তখন সমগ্র পার্বত্য অঞ্চল জুড়ে এক অদ্ভুত সুন্দর বেগুনি রঙে ছেয়ে যায় এবং এর আভা ছড়িয়ে দেয় । মনে হয়, এ যেনো পৃথিবীর স্বর্গ । এক সময় মনোরম ফুলগুলো নিজের অতি মহিমান্বিত রঙ পাল্টে নীলরঙা রাজকীয় শাড়ির আঁচলে ঢেকে দেয় গোটা পর্বতকে । ভোরের সূর্যের উজ্জ্বল আলোয় পাহাড়ের বুকে জন্ম নেয়া ফুলগুলোর নীলাভ বর্ণচ্ছটায় এক নৈসর্গিক রূপ আবির্ভূত হয় । চমৎকার সুন্দর নীলাকুরিঞ্জি ফুল প্রকৃতির এক রহস্যময় এবং বিস্ময়কর সৌন্দর্য । এ ফুলের সংস্পর্শে মন ছুঁয়ে যায় । সত্যিই মনোমুগ্ধকর, পরিশুদ্ধ এবং এক স্বর্গীয় অনুভূতি । পাহাড়ী অঞ্চলের অসিতবর্ণ আকাশে সাদা মেঘ ভেসে বেড়ানো, দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ চা বাগান, নীলগিরির শিখরে দাঁড়িয়ে মেঘের স্পর্শ অনুভব, প্রাণের উচ্ছ্বাসে বৃষ্টিস্নাত গঙ্গাফড়িংয়ের প্রান্তরে উড়ে যাওয়া, গহীন অরণ্য থেকে মৃদু শীতল বাতাসে ভেসে আসা বনজ মসলার মন মাতানো সুবাসিত ঘ্রাণ, অদূর উপত্যকার জাদুকরী সৌন্দর্য, রোদের আলোয় শুভ্র বরফাচ্ছন্ন পর্বতমালার সর্বোচ্চ শিখরে ভেসে থাকা মেঘ ও কুয়াশার ফাঁকে এক অপরূপ নীলাভ আলোর বিচ্ছুরণ, অশান্ত জলপ্রপাতের স্বচ্ছ জলধারা এবং নিস্তব্ধতার মাঝে নীলগিরির আকাশ ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলিয়ে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির আলতো স্পর্শনে এক প্রশান্তি এনে দেয় । সবুজে ঘেরা পাহাড়ের কিনারা গড়িয়ে সূর্যাস্ত, জ্যোৎস্নাভরা মায়াবী-শান্ত রাতের আকাশ এবং কুয়াশাপূর্ণ শীতের সকাল এ আরেক অনন্য রূপ । সারাবিশ্বে প্রায় ২৫০ এর অধিক নীলাকুরিঞ্জি উদ্ভিদের (Strobilanthes) প্রজাতি রয়েছে । ৪৬টি প্রজাতির এ উদ্ভিদের মধ্যে বেশিরভাগ প্রজাতিই ভারতীয় উপদ্বীপ এলাকায় বা নীলগিরির বিভিন্ন উপত্যকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এবং স্থানভেদে ফুল ফোটার ভিন্নতাও রয়েছে । নীলাকুরিঞ্জি ফুলের স্ট্রোবিলান্থেস কুন্থিয়ানাস প্রজাতিটি কুন্থি নদী থেকে উদ্ভূত হয়েছে । অপূর্ব সুন্দর নীলাকুরিঞ্জির বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে Strobilanthes kunthianus (Acanthaceae) । এটি একটি Semelparous প্রজাতি । উদ্ভিদবিদরা ১৮৩৮ খ্রিস্টিব্দের প্রথম দিকে শনাক্ত করেছিলেন যে, নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর এ গাছের ফুল ফোটে (Periodic flowering) । ১৯ শতকে Christian Gottfried Daniel Nees von Esenbeck বৈজ্ঞানিকভাবে প্রথম বর্ণনা করেন যে নীলাকুরিঞ্জি উদ্ভিদ Strobilanthes গোত্রের অন্তর্গত । এটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় উদ্ভিদ প্রজাতি, যা এশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ায় পাওয়া যায় । নীলাকুরিঞ্জির সর্বশেষ প্রজাতির নামকরণ করা হয়েছে 'Kannan' নামে (যেটির বৈজ্ঞানিক নাম: Strobilanthes kannani) । এ পর্বতমালায় বা বনে বসবাসকারী মাদুরাই রাজবংশের অনুগত প্রাচীন মুথুভান নৃ-গোষ্ঠীর অধিবাসীরা বিশ্বাস করেন যে, নীলাকুরিঞ্জি হচ্ছে ভালোবাসার ফুল এবং শুভ বার্তার প্রতীক । দক্ষিণ ভারতের (তামিলনাড়ু, কেরালা) পলিয়ান বা পালাইয়ার বা পাঝাইয়ারারে আদিবাসীরা তাদের বয়স নির্নয় করেন নীলাকুরিঞ্জি ফুল ফোটার সময়কালের উপর নির্ভর করে । তামিলনাড়ু রাজ্যের পাহাড়ী শহর কোদাইকানালে অবস্থিত হিন্দু দেবতা কার্তিক ও গণেশের পবিত্র 'Kurinji Andavar Temple' কে নীলগিরির দুর্লভ ফুল নীলাকুরিঞ্জির নাম থেকেই 'কুরিঞ্জি মন্দির' নামকরণ করা হয়েছে । এ মন্দিরের দেবতাদের উদ্দেশ্যে নীলাকুরিঞ্জি ফুল উৎসর্গ করা হয় । সর্বোৎকৃষ্ট তামিল সাহিত্যে নীলাকুরিঞ্জিকে 'শতবর্ষীয় ফুল' কিংবা 'কুরাঙ্গল কুরিঞ্জি' হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং এটি নিয়ে বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে "Red earth and pouring rain" । এ ফুলকে কেন্দ্র করে জনপ্রিয় সাহিত্যিক Clare Flynn বিখ্যাত প্রেমের উপন্যাস 'Kurinji flowers' রচনা করেছেন । এছাড়া, আরেক লেখক Roy Mathew লিখেছেন 'Kurinji the flower of the blue mountains' । অনন্য বৈশিষ্ট্য এবং অনুপম সৌন্দর্যের কারণেই নীলাকুরিঞ্জিকে পশ্চিমঘাটের রাণী বলা হয় । অপার সৌন্দর্য, বৈচিত্র্যময়তা এবং নীলাকুরিঞ্জি ফুলের জন্য এ পর্বতমালাকে নীলাকুরিঞ্জি ফুলের রাজ্যও বলা যেতে পারে । নীলাকুরিঞ্জি উদ্ভিদ আগুন প্রতিরোধ করার ক্ষমতা রাখে । এ উদ্ভিদ বনের আগুন থেকে তৃণভূমির প্রাকৃতিক সুরক্ষক হিসেবে কাজ করে এবং মাটির ক্ষয়সাধনে বাধা দেয় । নীলাকুরিঞ্জি উদ্ভিদ দক্ষিণ ভারতের পশ্চিমঘাট পর্বতমালা (নীলগিরি, আন্নামালাই পাহাড়, এলাচ পাহাড়, পালানি পাহাড়, আগালি পাহাড়, সান্দুরু পাহাড়, বাবাবুডাঙ্গিরি পাহাড় বা দত্ত পিটা পাহাড়) জুড়ে, পূর্বঘাট পর্বতমালার শেভরয়সহ অন্যান্য পাহাড়গুলোতে, কেরালা রাজ্যের ইরাভিকুলাম জাতীয় উদ্যানে, টপ স্টেশন, সাইলেন্ট ভ্যালি এবং ভিথিরি ইত্যাদি জায়গায় দেখা যায় । এছাড়া এটি মুন্নার শহড়ের নিকটবর্তী অঞ্চল রাজামালা, কোভিলুর, কান্থাল্লুর, ভাট্টাভাডা, কোট্টাকাম্বুর ও কাডাভারি প্রভৃতি গ্রামে এবং তামিলনাড়ু রাজ্যের কোদাইকানাল, পালানি পর্বতগুলোতেও নীলাকুরিঞ্জির অনুকূল জলবায়ু রয়েছে ।
যদিও ভারতে এ উদ্ভিদের আবাসস্থল ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে বা পাচ্ছে । পশ্চিমঘাট পর্বতশ্রেণীতে ৫০০০ - ৮৫০০ ফুট পর্যন্ত উঁচুতে দক্ষিণ-পশ্চিম জৈব বৈচিত্র্যের উষ্ণ বিন্দুতে (Hotspot) প্রচুর পরিমাণে নীলাকুরিঞ্জি জন্মে থাকে । সময়ের পরিবর্তনে নীলাকুরিঞ্জি উদ্ভিদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইউক্যালিপটাস গাছ, বাবলা গাছ, কৃষিকাজ (চা, এলাচ, কফি ও মসলা ইত্যাদি), পাখি এবং ঘাস খায় এমন স্তন্যপায়ী প্রাণী দ্বারা । অতি সম্প্রতি পর্যটন, দখল, অবৈধভাবে জমি গ্রহণ, খামার ও আবাসিক উন্নয়ন ইত্যাদি কাজের প্রত্যক্ষ প্রভাবে এবং জলবায়ুর ব্যাপক পরিবর্তনের ফলে যেখানে নীলাকুরিঞ্জি উদ্ভিদ জন্মে থাকে এমন তৃণভূমিকে ছিনিয়ে নিয়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বা করছে । এছাড়া, নীলাকুরিঞ্জি উদ্ভিদের আদিম আবাসস্থলের বেশিরভাগ এলাকা বিস্ময়করভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে এবং পাহাড়ী আবাসে নীলাকুরিঞ্জির বিবর্তন ও বেঁচে থাকা জটিলভাবে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে । তাই, এভাবে চলতে থাকলে একেবারেই চূড়ান্তভাবে এটি ধ্বংসের সম্মুখীন হবে । কয়েক বছর পূর্বে পশ্চিমঘাট অঞ্চলের এক অংশে উপগ্রহ চিত্র থেকে দেখা গেছে যে, গত ৪০ বছর থেকে প্রায় ৬৬ শতাংশ তৃণভূমি সঙ্কুচিত হয়েছে এবং একই সাথে ১২ গুণ কাঠ বাগান বৃদ্ধি পেয়েছে । আসলেই, এ বৃহত্তম পরিবর্তনটি আশঙ্কাজনক! সড়ক প্রশস্তকরণ, ক্রমবর্ধমান নির্মাণ কাজ, এক শ্রেণীর পর্যটকের ফুল বা গাছের অংশ ছিঁড়ে ছবি তোলা, অগোচরে ফুল বাড়িতে নিয়ে সাজিয়ে রাখার প্রবণতা এবং ফুলসহ গাছ উপড়ে ফেলা ইত্যাদি কারণে নীলাকুরিঞ্জির স্বাভাবিক জীবন প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করে এটিকে হ্রাস বা ধ্বংস করছে । এ ধরণের দায়িত্বজ্ঞানশূন্য আচরণের জন্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নীলাকুরিঞ্জি উদ্ভিদ । এছাড়া, বনমোরগ এবং অন্যান্য ক্ষুদে স্তন্যপায়ী প্রাণীরা (Predator saturation বা খাদক-আধিক্য) এ ফুলের সুস্বাদু বীজ খেয়ে এটিকে নিঃশেষ করে ফেলছে । নীলাকুরিঞ্জি উদ্ভিদ বিপন্ন প্রজাতি এবং এর ক্ষতিসাধনের ফলে পরিবেশগত বিপর্যয় বা ভারসাম্যকে ব্যাহত করতে পারে । নীলাকুরিঞ্জি উদ্ভিদ এবং এর আবাসস্থল সম্পর্কে ক্ষতিকারক দিকগুলো নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, এ অঞ্চলে নীলাকুরিঞ্জি উদ্ভিদের জন্য যা মারাত্মক ক্ষতিকর সেই সকল বাণিজ্যিক ক্রিয়াকলাপ বন্ধ করার পদক্ষেপ নেয়া, অধিক পরিমাণে জাতীয় উদ্যান সৃষ্টি ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং এ উদ্ভিদের ক্ষতিগ্রস্ত আবাসকে পুনরায় জীবন্ত রূপ দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে । তবেই, প্রকৃতি আরো স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রাণ ফিরে পাবে, সজীবতায় ভরে উঠবে এবং নীলাকুরিঞ্জির আবাসস্থল পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হবে ।
নীলাকুরিঞ্জি ফুল ভালোবাসার তীব্র আকাঙ্ক্ষার প্রতীক । সুখ, আনন্দ এবং অনুপ্রেরণার উৎস । এ ফুল একটি মেয়ের আত্মজাগরণের প্রতিনিধিত্ব করে । উল্লেখ্য যে, তামিল ঐতিহ্য অনুসারে কন্যা সন্তানের ১২ বছর বয়সে যৌন পরিপক্কতা অর্জন হিসেবে এ ফুলকে বিবেচনা করা হয় এবং নারীত্বের মধ্যে পুষ্পিত ফুলের সাথে এক নিবিড় সম্পর্ক হিসেবে গন্য করা হয় । গত ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে পাহাড়গুলোতে নীলাকুরিঞ্জি ফুল প্রস্ফুটিত হয়েছিল । এবার ফুল ফোটার পরবর্তী মৌসুম শুরু হবে ২০৩০ খ্রিস্টাব্দে যা এক দীর্ঘ প্রতীক্ষা । সুতরাং, আপনি হয়তো বিরল নীলাকুরিঞ্জির অপূর্ব নীল সৌন্দর্যের রোমাঞ্চকর এক দুর্দান্ত অভিজ্ঞতার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হতে পারেন ।
ছবি: https://www.ekeralatourism.net/
* তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, আন্তর্জাল (The Internet) ।