Sunday, 30 October 2022

দাম্পত্য জীবন

স্বামী-স্ত্রী’র সম্পর্ক পবিত্র । একে অপরের পরিপূরক । এক সুতোয় গাঁথা । দু’টি হৃদয়ের প্রতিশ্রুতি । দু’জনের দেহ দু’টি হলেও তাদের আত্মিক সম্পর্ক অভিন্ন । যদিও দু’জন জিনগতভাবে (Genetically) আলাদা ৷ বিপরীত দুই প্রান্তের । ভিন্ন সত্তা ৷ তবুও, দু’জনের মধ্যেই ভালোবাসার শাশ্বত দৃঢ় বন্ধন ৷ এক অদৃশ্য শক্তি ৷ এক ঐশ্বরিক সম্পর্ক ৷ এই বৈবাহিক সম্পর্কের মাঝেই বসবাস । নারী-পুরুষ দু’জনই এর অংশীদার । আস্থা, ভালোবাসা, বিনয়, সততা এবং কর্মের মাধ্যমে সুখী ও শান্তিময় মধুর সম্পর্কের দাম্পত্য জীবন গড়ে উঠে । একটি সুন্দর পরিবার গঠিত হয় । উত্তম আদর্শে জীবন রচিত হয় । মান-অভিমান, সুখ-দুঃখ এবং হাসি-কান্না নিয়েই পথচলা । বিবাহিত দম্পতিকে নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করেই চলতে হয় । রীতিনীতি, অধিকার ও বাধ্যবাধকতার নিয়ম মেনেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হয় । কখনও, দু’জনের মতের ভিন্নতা পারস্পরিক সম্পর্কে তিক্ততা সৃষ্টি করে । ধীরে ধীরে এর অবনতি ঘটে । বৈবাহিক সম্পর্কের স্থায়িত্ব হুমকির সম্মুখীন হয় । এক সময় দু’জনের মতানৈক্যের চূড়ান্ত পরিণতি বিবাহ বিচ্ছেদ! একক বা উভয়ের সিদ্ধান্তেই এটি হতে পারে । পক্ষ-বিপক্ষের মাঝে তৈরি হয় এক বিশাল মহাপ্রাচীর । অনাকাঙ্খিত, জটিল ও দুঃখজনক এই সমস্যার সমাধান করে মহামান্য আদালত । জয়-পরাজয় থেকে কোন এক পক্ষ সন্তুষ্ট হলেও প্রত্যক্ষভাবে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক এমনকি রাষ্ট্রের উপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে । সুস্থ, সুন্দর, সুখী, পরিশীলিত, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ জীবনের জন্য অতিগুরুত্বপূর্ণ বৈবাহিক ব্যবস্থা বা কাঠামো দুর্বল হয়ে যায় । পরোক্ষভাবে উভয়েরই ক্ষতি হয় । সর্বোপরি ভালোবাসা পরাজিত হয় । রচিত হয় জীবনের এক ভিন্ন অধ্যায় । দু’জনের দুই দিক । একান্ত কাছের আপনজন অন্তড়ালে চলে যায় । দৃষ্টিসীমা থেকে দূর, বহুদূরে… । হয়তো, সে কখনও ফিরে আসবে না । বিরহের বীভৎস দাবানল হৃদয়কে দগ্ধ করে । না পাওয়ার এক তীব্র বেদনা মনের উপর একচ্ছত্রভাবে প্রভাব বিস্তার করে । নিদারুণ মর্মব্যথা! অন্তর গহীনে দীর্ঘকাল ধরে সুপ্ত স্মৃতিগুলি পুনর্জাগরিত হয় । তরতাজা বিচিত্র ভাবনাগুলি আলোর গতির চেয়েও দুর্দান্ত গতিতে বিচরণ করে এই অপার বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে । আত্মপোলব্ধিকে শাণিত করে । শুরু হয় হিসাব-নিকাশ । এতে করে মানুষ আবেগপ্রবণ, হতাশাগ্রস্ত, বিপর্যস্ত, দায়িত্বজ্ঞানহীন বা অপরিনামদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উদার মন কিংবা মহান ব্যক্তিত্বের অধিকারী হয় । তবুও, সেই প্রিয়জনের দূরত্ব বা অপ্রাপ্তির মাঝে থাকে প্রগাঢ় আকর্ষণ । স্পর্শকাতর অনুভূতি । শাশ্বত ভালোবাসা । অন্তহীন প্রেরণার উৎস । তাই, তাকে কাছে পাওয়ার অদম্য বাসনা জাগে । আর সেই পাওয়ার মাঝেইতো রয়েছে আত্মতৃপ্তি, শান্তি এবং মাহাত্ম্য । এক স্বর্গীয় সুখ । কিন্তু, সেই অভিলাষ কখনও পূরণ হয় না । তবে কি- অপ্রাপ্তি বা ব্যর্থতার মাঝেও রয়েছে আলাদা এক পরম সুখ, কে জানে?

Saturday, 1 October 2022

অন্তর্যামী

অন্তর্যামী 

-----------------

রোদেলা মিষ্টি সকাল ।

প্রজাপতি রঙিন ডানা মেলে উড়ে যায় ।

দোয়েল পাখির সুললিত কলকাকলি ।

নীল অপরাজিতার অপলক চাহনি ।

বন্য শ্বেত চন্দনের মাতাল ঘ্রাণ ।

কাশফুলের আলতো স্পর্শে অষ্টাদশীর প্রাণের উচ্ছ্বাস ।

স্বচ্ছ জলের সরোবরে রাজহংস যুগলের নিবিড় আলাপন ।

জীবন্ত ঘৃতকুমারীর মোহনীয় সতেজতা ।

নীলিমায় মিশে যায় শুভ্র তুলা মেঘ ।

বেত্তুন ফলের রসালো শাঁসের অমিয় তৃপ্তি । 

শরতের রোমাঞ্চকর জ্যোৎস্না রাত ।

প্রকৃতির এক অনুপম সৌন্দর্যের মুগ্ধতা ।

কার না ভালো লাগে? 

তবে, কখনো প্রকৃতি হয় বেপরোয়া বা উদাসীন ।

ক্ষণিকেই ঝড়ের ঘনঘটা ।

এক অশনি সংকেত!

নিকষ কালো অন্ধকারে চারিদিক আচ্ছন্ন ।

ধূলিময়, ঝড়ো শীতল হাওয়া ।

কালবৈশাখী ঝড়ের নৃশংস তাণ্ডব ।

হিংস্র বজ্রপাতের দুর্দান্ত প্রতাপ ।

চমকে উঠে প্লীহা ।

মৃত্যু ভয় তাড়িত করে ।

জীবনের প্রতি অসীম মায়া ।

তবুও প্রকৃতির কাছে মানুষ অসহায় ।

বেঁচে থাকার তীব্র আকুতি ।

নত মস্তিষ্কে স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা ।

ক্ষমা কর, রক্ষা কর ।

হে মহান প্রভু— শান্তি দাও ।

একমাত্র তুমিই আমাদের রক্ষাকর্তা ।

এ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের নিয়ন্ত্রক ।

শান্ত হয় প্রকৃতি ।

মহান সৃষ্টিকর্তার অপরিমেয় শক্তির এ এক শাশ্বত দৃষ্টান্ত ।

বহমান জীবনকালে মানুষ যে যার মতোই ব্যস্ত ।

কখন যে আকাশের রঙ বদলায়— কেউ জানে না ।

তেমনি, মানুষের মনে কখন যে পরিবর্তন ঘটে— সে নিজেও জানে না ।

প্রত্যাখ্যান (কবি: মায়া অ্যাঞ্জেলো)

প্রত্যাখ্যান কবি: মায়া অ্যাঞ্জেলো অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল প্রিয়তম, অন্য কোনো জীবনে বা দেশে আমি কি তোমার অধরের স্পর্শ অনুভব করে...