নোবেল পুরস্কার (The Nobel Prize) হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার । ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে সুইডিশ শিল্পপতি এবং উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেল (Alfred Nobel) নিজের মোট উপার্জনের শতকরা ৯৪ ভাগ ( প্রায় ৩ কোটি সুইডিশ ক্রোনার) অর্থ দিয়ে অছিয়তনামা বা ইচ্ছাপত্রের (Will) মাধ্যমে ছয়টি ক্ষেত্রে যেমন: রসায়ন, পদার্থবিদ্যা, সাহিত্য, শান্তি, চিকিৎসাবিদ্যা এবং অর্থনৈতিক বিজ্ঞানে (The Sveriges Riksbank Prize) নোবেল পুরস্কার প্রবর্তন করেন । আলফ্রেড নোবেল স্মরণে বিভিন্ন গবেষণা, উদ্ভাবন এবং মানবকল্যানমূলক কর্মকান্ডে অসামান্য অবদানের জন্য ব্যক্তি, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয় । আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছা অনুসারে নোবেল পুরস্কারটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নোবেল ফাউন্ডেশন দ্বারা পরিচালিত হয় । ১৯০১ খ্রিস্টাব্দ থেকে প্রবর্তিত হওয়া আন্তর্জাতিক এ পুরস্কারটি প্রতি বছর ১০ ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সুইডিশ একাডেমি, স্টকহোম, সুইডেন (Swedish Academy, Stockholm, Sweden) প্রদান করে থাকে । একমাত্র শান্তিতে নোবেল পুরস্কার নরওয়েজিয়ান জাতীয় সংসদ (Stortinget) দ্বারা নির্বাচিত একটি কমিটির মাধ্যমে নরওয়ের রাজধানী অসলো (Oslo) থেকে প্রদান করা হয় ৷ নোবেল Laureate গণ প্রত্যেকে একটি স্বর্নপদক, সনদ ও নোবেল ফাউন্ডেশন কর্তৃক কিছু পরিমাণ অর্থ পেয়ে থাকেন ৷ অত্যন্ত গৌরবজনক এ পুরস্কারের আর্থিকমূল্য ১১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনার বা প্রায় এক মিলিয়ন মার্কিন ডলার । নোবেল পুরস্কার বিজয়ীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে এবং শৃঙ্খলার প্রতিনিধিত্ব করে । কিন্তু তারা সকলেই মানবজাতির কল্যাণে তাদের অসাধারণ অবদানের জন্য একত্রিত । তাদের কাজগুলো আমাদের চারপাশের বিশ্ব সম্পর্কে বোঝার উপর এবং সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলোর সমাধান করার ক্ষমতার উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে ।
দীর্ঘদিন যাবৎ বিজ্ঞানীরা ন্যানো জগৎ নিয়ে কাজ করছেন । ন্যানো জগতের উদ্ভট ঘটনাগুলো বোঝার ক্ষেত্রে তাদের বিশাল ভূমিকা রয়েছে । এতে করে তাদের সৃষ্টিশীল উদ্ভাবনের সুফল পাচ্ছেন এ গ্রহের কোটি কোটি মানুষ । মৌলিক ন্যানোপ্রযুক্তি (Fundamental nanotechnology) উদ্ভাবনের জন্য ২০২৩ খ্রিস্টাব্দে রসায়নে তিনজন গবেষক: মুঙ্গি জি. বাওয়েন্ডি (Moungi G. Bawendi), লুইস ই. ব্রুস (Louis E. Brus) এবং আলেক্সি আই. একিমভ (Alexei I. Ekimov) নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন । তারা ন্যানো প্রযুক্তির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বীজ রোপণ করেছেন রসায়নে । তারা কলয়েডাল অর্ধপরিবাহী ন্যানোস্ফটিকের {Colloidal semi-conductor nanocrystals (CS-NCs) or Quantum dots} কোয়ান্টাম আচরণ ব্যবহার করেছেন । কল্পনা করুন, একটি ন্যানোস্ফটিক এতোটাই ক্ষুদ্র যে এটি একটি পরমাণুর মতো আচরণ করে । গবেষকরা কোয়ান্টাম (খুদ্রাংশিক) বিন্দু (Quantum dot) নামে পরিচিত এ ধরনের মিনিট বিস্ময়কর বস্তুর (Minute marvel) একটি বিভাগ আবিষ্কার এবং তাদের সংশ্লেষণের একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি বিকাশ করেছেন । মানুষের তৈরি ন্যানোকণা (Nanoparticle) এতোই ছোট যে তাদের আকর্ষণীয় এবং অস্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যগুলো কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান (Quantum mechanics) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় । এ বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে আলোর নির্গমন: তারা নির্গত আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য শুধুমাত্র কণার আকারের উপর নির্ভর করে । বড় কণার ইলেকট্রনের শক্তি কম এবং লাল আলো নির্গত করে । যেখানে ছোট কণার ইলেকট্রনের শক্তি বেশি থাকে এবং নীল আলো নির্গত করে । গবেষকগণ সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে পারেন যে, কোয়ান্টাম বিন্দুগুলো থেকে আলোর কোন রঙ বের হবে কেবল তাদের আকার নিয়ন্ত্রণ করে । এটি অন্যান্য ধরণের প্রতিপ্রভ অণু (Fluorescent molecule) ব্যবহারের উপর একটি বিশাল সুবিধা প্রদান করে, যার জন্য প্রতিটি স্বতন্ত্র রঙের জন্য একটি নতুন ধরণের অণু প্রয়োজন । নিয়ন্ত্রণযোগ্যতার এ সুবিধাটি কোয়ান্টাম বিন্দুর রঙের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় । ন্যানো কণাগুলোর আকার সামঞ্জস্য করে গবেষকরা বৈদ্যুতিক, অপটিক্যাল এবং চৌম্বকীয় প্রভাবগুলোর পাশাপাশি তাদের গলনাঙ্কের মতো ভৌত বৈশিষ্ট্যগুলো বা কিভাবে তারা রাসায়নিক বিক্রিয়াকে প্রভাবিত করে সেটিও সামঞ্জস্য করতে পারেন । বর্তমানে কোয়ান্টাম বিন্দু পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের নানা ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে । এ কণার আকৃতি পরিবর্তন করে রঙ বদলে দেয়া যায় । বিশেষ করে কোয়ান্টাম বিন্দু ইলেকট্রনিক্স (Electronics) এবং বায়োমেডিকেল ইমেজিং ও আলোতে (Biomedical imaging and lighting) যেমন: ঔষধ সরবরাহ (Drug delivery), ইমেজিং (Imaging), চিকিৎসা নির্ণয় (Medical diagnoses) ইত্যাদিতে গুরুত্বপূর্ণভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে । এছাড়া ন্যানো কণাগুলো এলইডি প্রদর্শন (LED display), জৈব রসায়ন (Biochemistry), চিকিৎসাবিদ্যায় ইমেজিং এবং মানবদেহে আব কোষ পর্যবেক্ষণ (Observation of tumor tissue in human body) ইত্যাদি ব্যবহারসহ ভবিষ্যতে এটির আরো আশাব্যঞ্জক বা প্রতিশ্রুতিশীল আবেদন রয়েছে । গবেষকরা এখনো কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও যোগাযোগ (Quantum computing and communications), নমনীয় ইলেকট্রনিক্স (Flexible electronics), সেন্সর (Sensor), দক্ষ সৌর কোষ (Efficient solar cell) এবং সৌর জ্বালানির জন্য অনুঘটক (Catalysis for solar fuel) হিসেবে ন্যানোকণাগুলোর অতিরিক্ত আবেদনগুলো অন্বেষণ করছেন । তাদের অর্জনগুলো ন্যানোপ্রযুক্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করে । কোয়ান্টাম বিন্দুকে কখনো কখনো কৃত্রিম পরমাণু বলা হয় । সিলিকন এবং অন্যান্য অর্ধপরিবাহী পদার্থ দিয়ে তৈরি সুনির্দিষ্ট ন্যানোস্ফটিক যা মাত্র কয়েক ন্যানোমিটার চওড়া । যদিও তারা আকারে একশ থেকে কয়েক হাজার পরমাণু হলেও স্বতন্ত্র বা পৃথক পরমাণুর মতো কোয়ান্টাম বৈশিষ্ট্যগুলো প্রদর্শন করার জন্য যথেষ্ট ছোট । যেহেতু ইলেকট্রনগুলো তাদের মধ্যে নির্দিষ্ট শক্তি স্তরে আটকে থাকতে পারে, তাই ন্যানোস্ফটিকগুলো শুধুমাত্র নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো নির্গত করতে পারে । কণার আকার নিয়ন্ত্রণ করে, উদ্দীপিত হলে কোয়ান্টাম বিন্দুগুলো কি রঙে প্রদীপ্ত হবে বা আকস্মিক ঝাপটা (Flash) দিবে তা গবেষকরা সঠিকভাবে কার্যক্রম করতে পারেন । রসায়নে নোবেল কমিটির সদস্য এবং ন্যানোপদার্থবিদ্যার (Nanophysics) অধ্যাপক হেইনার লিংক (Heiner Linke) ব্যাখ্যা করেন: কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান ভবিষ্যদ্বাণী করে যে, আপনি যদি একটি ইলেকট্রন গ্রহণ করেন এবং এটিকে একটি ছোট জায়গায় চেপে ধরেন তবে ইলেকট্রনের তরঙ্গের নির্দিষ্ট কর্ম (Function) সংকুচিত হয়ে যায় । আপনি স্থান যতো ছোট করবেন, ইলেক্ট্রনের শক্তি ততো বেশি হবে । যার অর্থ এটি একটি মৌলকণা ফোটনকে আরো শক্তি দিতে পারে । সারমর্মে, একটি কোয়ান্টাম বিন্দুর আকার নির্ধারণ করে যে এটি কোন রঙে জ্বলছে । ক্ষুদ্রতম কণাগুলো নীল চকচক করে, যখন বড়গুলো হলুদ এবং লাল চকচক করে । এ পর্যন্ত গবেষকরা কণাগুলোর আকার এবং গুণমানকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সংগ্রাম করে গেছেন । বিজ্ঞানীদের নানা আবিষ্কার কোয়ান্টাম বিন্দুকে বিভিন্ন ধরনের আবেদনে ব্যাপকভাবে উপযোগী করে তুলেছে । যাক সে কথা, আমেরিকান-তিউনিসিয়ান-ফরাসি রসায়নবিদ মুঙ্গি গ্যাব্রিয়েল বাওয়েন্দি ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করেন । বর্তমানে Massachusetts Institute of Technology (MIT), Cambridge, MA, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের Lester Wolfe এর অধ্যাপক । পিএইচডি করেন ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়, আইএল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে । মুঙ্গি গ্যাব্রিয়েল বাওয়েন্দি উচ্চ-মানের কোয়ান্টাম বিন্দুর রাসায়নিক উৎপাদনে বিপ্লব ঘটিয়েছেন, যার ফলে প্রায় নিখুঁত কণা হয় । লুইস ইউজিন ব্রুস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের Columbia University, New York, NY রসায়ন বিভাগের S. L. Mitchell অধ্যাপক । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের Columbia University, New York, NY থেকে ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে পিএইচডি করেন । তিনি কোয়ান্টাম বিন্দু নামে পরিচিত কলয়েডাল অর্ধপরিবাহী ন্যানোস্ফটিকগুলোর সহ-আবিষ্কারক । তিনিই বিশ্বের প্রথম বিজ্ঞানী যিনি তরলে অবাধে ভাসমান কণার আকার-নির্ভর কোয়ান্টাম প্রভাব প্রমাণ করেছেন । লুইস ব্রুস ১০ আগস্ট ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে ক্লিভল্যান্ড, ওহাইও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেন । অ্যালেক্সি ইভানোভিচ একিমভ Ioffe Physical-Technical Institute, Saint Petersburg, Russia থেকে ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে পিএইচডি করেন । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের Nanocrystals Technology Inc., New York, NY এর প্রাক্তন প্রধান বিজ্ঞানী । রাশিয়ার Leningrad State University এর পদার্থবিদ্যা অনুষদ থেকে স্নাতক করেন ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে । তিনি ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে রাশিয়ায় (সাবেক USSR) জন্মগ্রহণ করেন । Vavilov State Optical Institute এ কাজ করার সময় কোয়ান্টাম বিন্দু নামে পরিচিত কলয়েডাল অর্ধপরিবাহী ন্যানোস্ফটিক আবিষ্কার করেন । আলেক্সি একিমভ রঙিন কাঁচে আকার-নির্ভর কোয়ান্টাম প্রভাব তৈরি করতে সফল হন । রঙটি তামা ক্লোরাইডের ন্যানো কণা থেকে এসেছে এবং দেখিয়েছেন যে কণার আকার কোয়ান্টাম প্রভাবের মাধ্যমে কাচের রঙকে প্রভাবিত করে ।
এদিকে নরওয়েজিয়ান লেখক এবং নাট্যকার জন ওলাভ ফস (Jon Olav Fosse) তার উদ্ভাবনী নাটক এবং গদ্যের জন্য ২০২৩ খ্রিস্টাব্দে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, যা অব্যক্তকে কণ্ঠ দিয়েছে । নরওয়েজিয়ান নাইনর্স্ক (Nynorsk) ভাষায় রচিত এবং বিভিন্ন ধারায় বা শৈলীতে বিস্তৃত তার বিশাল রচনার মধ্যে রয়েছে প্রচুর নাটক, উপন্যাস, কবিতার সংকলন, প্রবন্ধ, শিশুদের বই এবং অনুবাদের ভাণ্ডার । তার প্রথম গদ্য বা উপন্যাস Raudt, Svart (Red, Black), প্রথম নাটক Og aldri skal vi skiljast (And We’ll Never Be Parted) এবং প্রথম কবিতা Engel med vatn i augene । তার সৃষ্টিকর্মগুলো চল্লিশটিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে । তিনি সঙ্গীত তথাপি বাঁশি বাজাতেন । যদিও তিনি আজ বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় নাট্যকারদের একজন, তিনি তার গদ্যের জন্যও ক্রমশ স্বীকৃত হচ্ছেন । জন ওলাভ ফস ২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে নরওয়ের হাউজসুন্ডে (Haugesund) জন্মগ্রহণ করেন এবং স্ট্র্যান্ডেবার্মে (Strandebarm) বেড়ে উঠেন । তার ব্যাপক সাংস্কৃতিক আগ্রহ ছিল । প্রারম্ভিক যৌবনে তিনি লেখনী দ্বারা নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন । তার গ্রন্থাগার বিভিন্ন ভাষায় সাহিত্যের একটি সমৃদ্ধ এবং বিস্তৃত নির্বাচন নিয়ে গঠিত । জীবনের শেষ বছরগুলোতে তিনি একজন লেখক হিসেবে তার হাতের চেষ্টা করেছেন এবং কল্পকাহিনী লিখতে শুরু করেন । আধুনিক নাটকের জনক, নরওয়ের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ লেখক এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাট্যকার হেনরিক ইবসেনের (Henrik Ibsen) পর তিনিই সবচেয়ে বেশি নাট্যকর্ম সম্পাদিত করা নরওয়েজিয়ান নাট্যকার ।
এছাড়া বর্তমানে ইরানে কারাবন্দি মানবাধিকার কর্মী, সমাজ সংস্কারক, পেশাদার প্রকৌশলী এবং বিজ্ঞানী নারগেস মোহাম্মদীকে ২০২৩ খ্রিস্টাব্দে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার (Nobel Peace Prize) প্রদান করা হয় । ইরানে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে এবং সকলের জন্য মানবাধিকার ও স্বাধীনতার জন্য আপোষহীন সংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে সম্মানজনক এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয় । তিনি ২১ এপ্রিল ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে ইরানের জাঞ্জান (Zanjan) প্রদেশের কেন্দ্রীয় জেলার একটি শহরে জন্মগ্রহণ করেন । তিনি সহকর্মী নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী শিরিন এবাদির নেতৃত্বে অলাভজনক সংস্থা Defenders of Human Rights Center (DHRC) এর উপ-প্রধান । নারগেস মোহাম্মদী দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার নিয়ে লড়াই করে চলেছেন । মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষায় সাহসী লড়াইয়ের ফলে ইরানের এ নারীকে ব্যক্তিগতভাবে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে । ইরানের কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন অভিযোগে বেশ কয়েকবার গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যান এবং এখনো কারাবন্দি আছেন । তেহরানে একটি মানবাধিকার আন্দোলন প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করার জন্য ২০১৬ খ্রিস্টাব্দের মে মাসে তাকে ১৬ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়, যেটি নারীর অধিকার এবং মৃত্যুদণ্ড বাতিলের জন্য প্রচারণা চালায় । সব মিলিয়ে তাকে প্রায় ৩১ বছরের কারাদণ্ড এবং ১৫৪টি বেত্রাঘাতের শাস্তি দেয়া হয় ।
তথ্যসূত্র: https://www.quantamagazine.org/ (Staff Writer: Yasemin Saplakoglu), Wikipedia, https://www.nobelprize.org/ ।