
ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক (Friedrich Gottlieb Klopstock) ছিলেন অষ্টাদশ শতাব্দীর একজন বিখ্যাত জার্মান কবি, লেখক, গীতিকার ও ভাষাতাত্ত্বিক । তার আবেগপূর্ণ সাহিত্যকর্ম জার্মান সাহিত্যে যুক্তিবাদের আধিপত্য ভেঙে রোমান্টিক ধারার সূচনা করেছিল । প্রতিভাময়ী এই কবি ২রা জুলাই ১৭২৪ খ্রিস্টাব্দে জার্মানির কুয়েডলিনবার্গে জন্মগ্রহণ এবং ১৪ই মার্চ ১৮০৩ খ্রিস্টাব্দে জার্মানির হামবুর্গে মৃত্যুবরণ করেন । তার সৃজনশীল সাহিত্যকর্ম ফরাসি অনুকরণ থেকে বেরিয়ে এসে জার্মান সাহিত্যকে নব যুগের পথ দেখায় । ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক প্রাচীন গ্রিসের সর্বশ্রেষ্ঠ গীতিকার কবি Pindar (অন্য নাম: Pindaros বা Pindarus) দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে একটি ছন্দ ও সুর ব্যবহার করে জার্মান কবিতাকে কঠোর-ঐতিহ্যবাহী সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করেছিলেন । তার সবচেয়ে জনপ্রিয় কাজগুলোর মধ্যে অগ্রগণ্য হচ্ছে বিখ্যাত মহাকাব্য Der Messias (The Messiah বা মসিহ) এবং Die Auferstehung (The Resurrection বা পুনরুত্থান) স্তবগান বা স্তোত্র বা ছন্দোবদ্ধ আধ্যাত্মিক কবিতা । এদের মধ্যে দ্বিতীয়টি রচিত হয় ঈশ্বর, দেব-দেবী, শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের প্রতি প্রশংসা ও গুণগান করার জন্য, যেটি ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে প্রভাবশালী জার্মান পিয়ানোবাদক, সুরকার ও অর্কেস্ট্রা পরিচালক হান্স ফন বুলোর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় কবি ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টকের গাওয়া Die Auferstehung স্তোত্রটি একজন অস্ট্রো-বোহেমিয়ান কল্পনাবিলাসী সুরকার Gustav Mahler কে অনুপ্রাণিত করে এবং তিনি তার দ্বিতীয় সিম্ফনির (পশ্চিমা শাস্ত্রীয় সঙ্গীত) শেষাংশে সুরারোপিত করে স্তোত্রটিকে অমরত্ব দেন ।
ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক যিনি তার মহাকাব্যিক ধর্মীয় কবিতা Der Messias বা মসিহ এর জন্য সর্বাধিক পরিচিত । মসিহ হচ্ছে খ্রিস্টধর্মের ত্রাণকর্তা যিশু খ্রিস্টের জীবন ও মানবজাতি উদ্ধারের উপর লেখা ২০ খন্ডের একটি বিখ্যাত বাইবেলীয় মহাকাব্য । এটি গ্রিক ও ল্যাটিন ধ্রুপদী মহাকাব্যের অনুকরণে ষড়্মাত্রিক কবিতা বা চরণের ছন্দে (Hexameter verse) রচিত হয় । এর মূলভাব হচ্ছে মানুষের মুক্তি এবং যিশুখ্রিস্টের আত্মত্যাগ ও পুনরুত্থান । ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক তার এই অমর রচনায় স্বর্গের বর্ণনা, শয়তানের পরিষদ, মহাবিশ্বে দেবদূতদের যাত্রা এবং শেষ বিচারের মনোজ্ঞ ইতিহাস বর্ণনা করেছেন । উল্লেখ্য যে, বিখ্যাত ইংরেজ কবি জন মিল্টনের (John Milton) রচিত কালজয়ী মহাকাব্য হচ্ছে Paradise Lost এবং এর পরের পর্ব Paradise Regained । ১৬৬৭ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ১২ খন্ডের প্যারাডাইস লস্ট মহাকাব্যে বাইবেলের আদিপুস্তকের কাহিনী অবলম্বন করে শয়তানের প্ররোচনায় আদম ও হাওয়ার (অ্যাডাম ও ঈভ) স্বর্গ চ্যুত হওয়ার ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে । কবি জন মিল্টনের সেই প্যারাডাইস লস্ট মহাকাব্যের প্রতি ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়ে মসিহ মহাকাব্যটি রচনা করেছেন । এছাড়া, ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক তার প্রথম জীবনে মহাকাব্যিক কবি হওয়ার জন্য মনের মাঝে যে সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতেন, তা থেকেও মসিহ রচনা করতে উৎসাহ পেয়েছেন । তিনি উচ্চমার্গের আখ্যানমূলক এই মহাকাব্যে গির্জার মতবাদের গণ্ডিতে বিষয়বস্তুকে আবদ্ধ করার প্রয়াস নিয়ে খ্রিস্টান সাহিত্যিক ঐতিহ্যের আশ্রয় নিয়েছিলেন । ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টকের মসিহ মহাকাব্যটি লিখতে ২৫ বছর সময় লেগেছিল । এই শ্রেষ্ঠ মহাকাব্যের প্রথম খণ্ড ১৭৪৮ খ্রিস্টাব্দে এবং এর চূড়ান্ত ও সম্পূর্ণ খণ্ড ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় । তার এই বিস্ময়কর ও অসামান্য কাজটি শুরু হওয়ার সময় তীব্র জনউচ্ছ্বাস জাগিয়েছিল । মসিহ মহাকাব্য ১৭টি ভাষায় অনূদিত হওয়ায় অসংখ্য অনুকরণ তৈরি হয়েছে ।
ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক গ্রীক এবং ল্যাটিন ছন্দ রচনায় পারদর্শী ছিলেন । তিনি জার্মান ভাষায় বেশ কিছু প্রশংসনীয় গদ্য বা সংক্ষিপ্ত কবিতা (Idyll বা Idyl) এবং গীতিকাব্য বা গাথা (Ode) রচনা করেন । এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত গীতিকাব্য বা স্তবগান An meine Freunde (আমার বন্ধুদের প্রতি বা To My Friends) ১৭৪৭ খ্রিস্টাব্দে রচিত হয়, যা পরবর্তীতে ১৭৬৭ খ্রিস্টাব্দে তার Wingolf নামক কবিতায় রূপান্তরিত হয়েছিল (প্রাচীন নর্স পৌরাণিক শব্দ Wingolf অর্থ বন্ধুদের হল) । তিনি লিপজিগে ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়নের সময় An meine Freunde স্তবগান রচনা করেন যা গভীর, অন্তরঙ্গ ও আদর্শায়িত বন্ধুত্বের রূপান্তরকারী শক্তিকে মহিমান্বিত করে এক পবিত্র বন্ধনে উন্নীত করে । এটি এমন এক সময়ে লিখেছিলেন যখন তিনি কবিতার প্রচলিত কাব্যশৈলী বা রীতি থেকে সরে এসে তীব্র আবেগ ও ব্যাপক ছন্দের বৈশিষ্ট্যে এক অভিব্যক্তিপূর্ণ পিন্ডারীয় শৈলী গ্রহণ করছিলেন ।
১৭৫০ এর দশকে ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক সুইজারল্যান্ডের জুরিখ হ্রদে ভ্রমণের সময় Au peninsula উপদ্বীপের অনুপম সৌন্দর্য, শান্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ, সূর্যাস্ত ও ইতিহাসের প্রশংসা করে বিখ্যাত Ode an den Zürichsee (Ode to Lake Zurich বা জুরিখ হ্রদের প্রতি স্তবগান) গীতিমূলক সাহিত্যকর্ম বা কবিতাটি উৎসর্গের মাধ্যমে অমর করে রেখেছেন ।
এই গুণী প্রাণপুরুষ অনেক আবেগপূর্ণ স্তোত্র ও দেশাত্মবোধক কবিতা রচনা করেন যা জার্মান ভাষা এবং সংস্কৃতির বিশুদ্ধতা তুলে ধরে । তিনি জার্মান ষড়্মাত্রিক কবিতা বা চরণের ছন্দকে জনপ্রিয় করে তোলেন । তার লেখনীতে আবেগ, মুক্ত ছন্দ এবং জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রকাশ পায়, যা প্রবল আবেগ ও মানসিক অশান্তি হিসেবে পরিচিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক 'ঝড় ও চাপ' (Sturm und Drang বা Storm and Stress) আন্দোলনকে পরবর্তীকালে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল ।
ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক তার গীতিকাব্যগুলোতে স্বতন্ত্র প্রতিভা প্রদর্শনের অনেক সুযোগ পেয়েছিলেন ।এর মধ্যে কয়েকটি নর্ডিক পৌরাণিক অনুপ্রেরণায় রচিত হয়েছে এবং কিছু সংখ্যকে ধর্মীয় বিষয়বস্তুর ওপর জোর দিয়েছেন । তার সবচেয়ে বিখ্যাত এবং অনূদিত গীতিকাব্য বা স্তবগানগুলোর মধ্যে রয়েছে: An Fanny, Der Zürchersee, Die tote Klarissa, An Cidli, Die beiden Musen, Der Rheinwein, Die frühen Gräber, Mein Vaterland ইত্যাদি । তবে ধর্মীয় গীতিকাব্যগুলোর বেশিরভাগই স্তোত্রের আকারে রচিত, যার মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর হচ্ছে Die Frühlingsfeier (The Spring Festival বা বসন্ত উৎসব) । তিনি এই গীতিকাব্য বা কবিতায় ঝড়ের মত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে ঈশ্বরের উপস্থিতি ও মহিমান্বিত রূপ চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন । সাধারণত জার্মানিতে বসন্তকাল উদযাপনের সময় যেকোনো অনুষ্ঠান বা উৎসবে এই Frühlingsfest শব্দটি ব্যবহৃত হয় ।
ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক খ্রিস্টান বাইবেলের প্রথম ও প্রাচীনতম অংশ Old Testament এর ইতিহাস থেকে তার উপাদান গ্রহণ করে কিছু নাটক রচনা করেছেন । এগুলো তার সমগ্র কর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ । যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে রচিত বিখ্যাত ধ্রুপদী বিয়োগান্তক নাটক Der Tod Adams (The death of Adam বা আদমের মৃত্যু) । ভাবাবেগপূর্ণ এই নাটকে বাইবেলীয় চরিত্র প্রথম মানব হযরত আদম (আ.) এর পরিবার, তার সন্তান, সেই সময়ের ধর্মীয় ও নৈতিক দ্বন্দ্ব, আদম (আ.) এর জীবনের শেষ মুহূর্ত এবং তার মৃত্যুর পরের পরিস্থিতি এখানে তিনি চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন । এছাড়া, ১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দে Salomo (সলোমন) নামক ধর্মোপদেশমূলক তার আরেকটি নাটক প্রকাশিত হয় । ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক এই বিষাদময় নাটকে রাজা সলোমনের মনস্তাত্ত্বিক ও আধ্যাত্মিক দ্বিধাদ্বন্দ্বকে তুলে ধরেছেন । বিশেষত ঈশ্বরের প্রতি রাজার ভক্তি, বিশ্বাস, আবেগ, ঐশ্বরিক আইন, আধ্যাত্মিক বিশুদ্ধতা, রাজকীয় ক্ষমতা এবং রাজত্বকালের পার্থিব প্রলোভন ইত্যাদি এক জটিল অভ্যন্তরীণ সংগ্রামকে তিনি উপস্থাপন করেছেন । নাটকটিকে জার্মান Sturm und Drang (Storm and Stress বা ঝড় ও চাপ) যুগের সাহিত্যের একটি প্রধান উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয় ।
১৭৫৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টকের বিখ্যাত জার্মান ভাষার খ্রিষ্টীয় স্তোত্র বা স্তবগান Der am Kreuz ist meine Liebe (ক্রুশের উপর যিনি আছেন তিনিই আমার প্রেম বা He on the Cross is my love) । ছয়টি পদে বিভক্ত এই স্তোত্রটিতে যিশুর করুণ দুঃখভোগের প্রতি এক গভীর ভক্তিভাব তুলে ধরা হয়েছে, যার প্রথম পদটি হচ্ছে 'যিনি ক্রুশের উপর আছেন তিনিই আমার প্রেম' । এই স্তোত্রটি ছাড়াও তার আরো কিছু গীতিকাব্য এবং স্তোত্র প্রকাশিত হয়েছে, যা গত ২০১৩ খ্রিস্টাব্দের ক্যাথলিক স্তোত্রসংগ্রহ Gotteslob এর একটি সংক্ষিপ্ত ও পরিমার্জিত অংশ ।
টিউটোবার্গ বনের যুদ্ধকে (Battle of the Teutoburg Forest) কেন্দ্র করে ১৭৬৯ খ্রিস্টাব্দে ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টকের রচিত Hermanns Schlacht (হারম্যানের যুদ্ধ) হচ্ছে একটি ঐতিহাসিক জার্মান নাটক । ৯ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত এই যুদ্ধে জার্মানির চেরাস্কি (Cherusci) উপজাতির নেতা Arminius (যিনি হারম্যান নামেও পরিচিত) এর নেতৃত্বে শক্তিধর রোমান জেনারেল ভ্যারাসের (Varus) নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনীকে শোচনীয়ভাবে পরাস্ত করে প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের পতন ঘটে ।
১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত Die deutsche Gelehrtenrepublik (জার্মান পণ্ডিতদের প্রজাতন্ত্র) হচ্ছে ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টকের একটি যুগান্তকারী রচনা । এটি একটি কাল্পনিক-ব্যঙ্গাত্মক প্রবন্ধ, যেখানে তিনি জার্মান সাহিত্যের পুনরুজ্জীবন এবং স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক আদর্শ রাষ্ট্রব্যবস্থা তৈরিতে তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পায় । এই প্রবন্ধে ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক সাহিত্যের শৈল্পিক মানোন্নয়ন, সাহিত্যিক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা এবং লেখকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পণ্ডিত, বুদ্ধিজীবী, বিজ্ঞানী ও কবিদের নিয়ে একটি স্বাধীন প্রজাতন্ত্রের কথা প্রস্তাব করেছিলেন ।
ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক তার কয়েকটি অনন্য সৃষ্টিকর্মের জন্য ভাষাতত্ত্ব এবং জার্মান কবিতার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত আছেন । যেমন, ১৭৭৯ খ্রিস্টাব্দে Fragmente über Sprache und Dichtkunst (ভাষা এবং কবিতার খণ্ডাংশ) নামে তার একটি প্রবন্ধ ও চিন্তাসমগ্র প্রকাশিত হয় । জার্মান ভাষার বানান পদ্ধতি ও শব্দগঠন কিভাবে আরো নিখুঁত ও পরিমার্জিত করা যায় এবং কবিতা রচনার ক্ষেত্রে ভাষা ব্যবহার, ছন্দ ও ভাব প্রকাশ কতটা শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন তা এই প্রবন্ধে তুলে ধরা হয়েছে । এছাড়া, ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দে জার্মান ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে তার একটি কার্যকরী পদ্ধতি বা অনুশীলনমূলক বই Grammatische Gespräche (ব্যাকরণগত কথোপকথন) প্রকাশিত হয় । ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে রচিত হয় বিখ্যাত জার্মান ঐতিহাসিক দেশাত্মবোধক নাটক Hermann und die Fürsten (হারম্যান ও রাজপুত্ররা বা রাজন্যবর্গ) । এই নাটকে প্রাচীন জার্মানির চেরুস্কি উপজাতির একজন মহান বীর ও নেতা Hermann (যিনি Arminius নামেও পরিচিত) এর বীরত্বপূর্ণ কীর্তিগাথা রচিত হয়েছে, যিনি রোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে জার্মান উপজাতিদের একত্রিত করে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন । এটি রোমানদের বিরুদ্ধে জার্মান জাতির ঐক্যের প্রতীক হিসেবে 'হারম্যান' ও অন্যান্য জার্মান রাজাদের সংগ্রাম নিয়ে রচিত একটি পদ্য নাটক । নাটকটি জার্মান জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেম জাগিয়ে তুলতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে ।
ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টকের কাব্যিক শব্দভাণ্ডারের সমৃদ্ধি এবং ছন্দশাস্ত্রের প্রতি মনোযোগ তার পরবর্তী কবিদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হয়েছিল । ধ্রুপদী ফরাসি আলেকজান্দ্রিন থেকে উদ্ভূত স্বতন্ত্র ধরণের পদ্যের পংক্তি আলেকজান্দ্রীয় ছন্দের প্রতি একচেটিয়া আগ্রহ থেকে জার্মান কবিতাকে মুক্ত করার মাধ্যমে তিনি জার্মান সাহিত্যে একটি নতুন যুগের প্রতিষ্ঠাতা হয়েছিলেন- যার ফলে জার্মান নাট্যকার, কবি, দার্শনিক ও ঐতিহাসিক Johann Christoph Friedrich von Schiller (Friedrich Schiller) এবং আরেকজন জার্মান লেখক, কবি, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, বিজ্ঞানী, রাষ্ট্রনায়ক, নাট্য-পরিচালক ও সমালোচক Johann Wolfgang von Goethe শৈল্পিকভাবে তার কাছে ঋণী ছিলেন । এছাড়া, নরওয়েজীয়-ড্যানিশ সুরকার Sigrid Ingeborg Henriette Wienecke ইতিহাসের এই কীর্তিমান লেখক ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টকের রচনা থেকে তার সঙ্গীতধর্মী জনপ্রিয় স্তোত্র বা নাটক Fader Vor (প্রভু যিশুর প্রার্থনা বা Lord's Prayer) এর জন্য মূল পাঠ্য গ্রহণ করেছিলেন ।
কবি ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক ওক গাছকে জার্মানির প্রতীক হিসেবে জনপ্রিয় করে তোলেন এবং এটিকে প্রাচীন জার্মানিক জাতিগোষ্ঠী বা উপজাতিদের সাথে সংযুক্ত করে এক দৃঢ় সেতুবন্ধন তৈরি করেন । তার সম্মানে বেশ কয়েকটি প্রাচীন ওক গাছের নামকরণ 'Klopstock Oaks' করা হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনের ঐতিহাসিক Kongens Lyngby শহরে অবস্থিত হাঁটা ও সাইকেল চলাচলের জন্য Prinsessestien পথের উপর একটি ৮০০ বছরের পুরোনো গাছ, যেখানে তিনি সময় কাটিয়েছিলেন ।
কবিতা: তোমার নিদ্রা
কবি: ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক
অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল
সে ঘুমিয়ে আছে ।
ওহ তার কোমল হৃদয়ে ঢেলে দাও সুবাসিত জীবনের পক্ষল ঘুম!
স্বর্গের আদি উৎস থেকে
স্বচ্ছ স্ফটিকের মত ফোঁটাটি তুলে নাও!
এবং তাকে যেতে দাও, যেখানে গালের লালচে ভাব পালিয়ে গিয়েছে,
সেখানে সুগন্ধে গলে যাক! আর তুমি,
ওহ শ্রেষ্ঠ পুণ্য ও ভালোবাসা শান্তিতে থাকুক,
হে অলিম্পাস, তোমার লাবণ্যের ডানা দিয়ে সিডলিকে ঢেকে দাও ।
কি গভীর ঘুমে সে মগ্ন, কি নিস্তব্ধ!
ওহ বীণা'র নরম সুর, তুমিও নীরব হও!
তোমার লরেল চারাটি নেতিয়ে পড়ে,
যখন তুমি ঘুম থেকে তোতলিয়ে ওঠো, সিডলি!
* তথসূত্র: গুগল, উইকিপিডিয়া
ছবি: www.nzz.ch (Jens Juel এর আঁকা ছবি) ।