Sunday, 30 March 2025

ঘু-ঘু পাখি

* ছবি: Mou Zoroz 

ঘু-ঘু বাংলাদেশের অতি পরিচিত পাখি । সাধারণতঃ গ্রামাঞ্চলেই একে বেশি দেখা যায় । ঘু-ঘু পাখি কলাম্বিডি পরিবারের অন্তর্গত । বাংলাদেশ, ভারত ছাড়াও দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এদের আবাসস্থল । এছাড়া পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও ঘু-ঘু পাখি দেখা যায় । পৃথিবীতে প্রায় ৩৬ প্রজাতির ঘু-ঘু পাখি রয়েছে । এদের মধ্যে বাংলাদেশে ৬টি প্রজাতির ঘু-ঘু পাখির দেখা মেলে । বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই ঘু-ঘু পাখির অবাধ বিচরণ রয়েছে । যদিও বর্তমানে এ লাজুক ও চঞ্চল পাখিটির সংখ্যা দ্রুতহারে হ্রাস পাচ্ছে । বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে ঘু-ঘু প্রজাতিটি সংরক্ষিত । ঘু-ঘু পাখির সুমধুর ডাকে প্রাণ জুড়ে যায় । অনিন্দ্য সুন্দর এ পাখিটি দেখতে প্রায় কবুতরের মতোই । বিভিন্ন প্রজাতির ঘু-ঘু পাখি যেমন: তিলা ঘু-ঘু, রাম ঘু-ঘু, সবুজ ঘু-ঘু, রাজ ঘু-ঘু, ছোট ঘু-ঘু এবং লাল ঘু-ঘু ইত্যাদি । তিলা ঘু-ঘু বা তেলিয়া ঘু-ঘু বা ছিটে ঘু-ঘু নামে পরিচিত প্রজাতিটি বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই দেখা যায় । ঘু-ঘু পাখি গাছপালা, জঙ্গল, আার্দ্র পাতাঝরা বন, বাগান, কুঞ্জবন এবং আবাদি জমিতে বিচরণ করে থাকে । শহর অঞ্চলেও ঘু-ঘু পাখি দেখা যায় । এরা সচরাচর জোড়ায় জোড়ায় কিংবা ছোট দলবদ্ধভাবে চলাচল করে । গ্রামের মাঠ-ঘাটে, বন-জঙ্গলে, তৃণভূমি, খামার, আবাদি জমি বা শস্যভিটায় এবং রাস্তাঘাট ইত্যাদি জায়গায় ঘু-ঘু পাখি একাকী বা জোড়ায় জোড়ায় হেঁটে হেঁটে শস্যদানা খায় । অনেক সময় এদেরকে গহীন বনে দেখা যায় । ঘু-ঘু পাখি প্রকৃতির এক অনুপম সৌন্দর্য । পুরুষ ঘু-ঘু পাখি ডাকতে পছন্দ করে । স্ত্রী-পুরুষ ঘু-ঘু দেখতে প্রায় একই রকম । প্রজনন মৌসুম (এপ্রিল-জুলাই মাসে) পুরুষ ঘু-ঘু পাখি তার সঙ্গীকে কাছে পাওয়ার জন্য মাথা নাচিয়ে মায়াবী সুরে অনবরত ডাকতে থাকে । অত্যন্ত সুলভ প্রজাতির এ পাখি সাধারণতঃ ঝোপ-ঝাড় ও গাছপালায় বাসা বানিয়ে ডিম পাড়ে । একটি প্রাপ্ত বয়স্ক সবুজ ঘু-ঘু পাখি দেখতে সবচেয়ে সুন্দর । সবুজ ঘু-ঘু প্রায় ৬-৭ বছর বেঁচে থাকে । শান্তিপ্রিয় এ পাখিটি শহরে লোক সমাগম এবং যানবাহনের বিকট শব্দের কারণে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে । শুধুমাত্র শব্দ দূষণই নয়, চোরা শিকারীরা ফাঁদ পেতে ঘু-ঘু পাখির সংখ্যা ক্রমেই হ্রাস করছে । ঘু-ঘু পাখি বৈচিত্র্যময় প্রকৃতির অমূল্য সম্পদ । এটিকে রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য । 

* তথ্যসূত্র: আন্তর্জাল, উইকিপিডিয়া । ছবি: Mou Zoroz । 

Wednesday, 19 March 2025

ছায়াপথ NGC 1398




অনিন্দ্য সুন্দর ও বৈচিত্র্যময় NGC 1398 ছায়াপথ পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৫ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে ফরনাক্স নক্ষত্রমণ্ডলে অবস্থিত । যার মানে আজ আমরা যে আলো দেখতে পাচ্ছি তা এ ছায়াপথ ছেড়ে চলে গেছে যখন ডাইনোসর পৃথিবী গ্রহ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল । ছায়াপথটি মহাকাশীয় বিষুবরেখার দক্ষিণে অবস্থিত এবং দক্ষিণ গোলার্ধ থেকে এটি আরো সহজে দৃশ্যমান । NGC 1398 হচ্ছে একটি বিচ্ছিন্ন বাধাযুক্ত সর্পিল ছায়াপথ যা একটি দ্বৈত চক্র কাঠামো প্রদর্শন করে । ছায়াপথের স্বতন্ত্র সর্পিল বাহু এবং উজ্জ্বল কেন্দ্রস্থল এটিকে রাতের আকাশে এক দুর্দান্ত দৃশ্য করে তোলে এবং এটির ধুলোর গলি ও তারকা গঠনের অঞ্চলগুলোর জটিল নিদর্শনগুলো প্রকাশ করে । মহাজাগতিক অপরূপ সৌন্দর্যের অধিকারী এ ছায়াপথের কেন্দ্রের চারপাশে শুধুমাত্র মুক্তা নক্ষত্র, গ্যাস এবং ধূলিকণার বলয় নয়- ছায়াপথের কেন্দ্র জুড়ে নক্ষত্র ও গ্যাসীয় দণ্ড এবং সর্পিল বাহুগুলো যা ফিতার মতো আরো দূরে দেখা যায় । ছায়াপথ কেন্দ্রের নিকটবর্তী বলয়টি সম্ভবত নক্ষত্র গঠনের একটি বর্ধিত ঘনত্বের তরঙ্গ, যা অন্য ছায়াপথের সাথে মহাকর্ষীয় সংঘর্ষ হওয়ার কারণে অথবা ছায়াপথের নিজস্ব মহাকর্ষীয় অসামঞ্জস্যের কারণে । নক্ষত্রের দণ্ড আকৃতির বন্ধনী এবং ধূলিকণা এ ছায়াপথের তীব্র আলোকিত কেন্দ্রীয় অঞ্চল অতিক্রম করার জন্য এটিকে একটি বাধা সর্পিল ছায়াপথ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে । বিচিত্র নক্ষত্র দিয়ে গঠিত ছায়াপথের মনোমুগ্ধকর সর্পিল বাহুগুলোর কাণ্ড ছায়াপথের একেবারে মাঝখান থেকে শুরু করে বাইরের দিকে ঘোরাফেরা করার পরিবর্তে একটি সরল দণ্ড থেকে উদ্ভূত হয়, যা এ ছায়াপথের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের মধ্য দিয়ে কেটে যায় । বেশিরভাগ সর্পিল ছায়াপথের প্রায় দুই তৃতীয়াংশে এ বৈশিষ্ট্যটি পরিলক্ষিত হয়, তবে এ দণ্ডগুলো একটি ছায়াপথের আচরণ এবং বিকাশকে প্রভাবিত করে কি-না বা কিভাবে তা এখনো স্পষ্ট নয় । আমাদের নিজস্ব আকাশগঙ্গা ছায়াপথের চেয়েও NGC 1398 ছায়াপথ বৃহৎ, যার ব্যাস প্রায় ২৯২০০০ আলোকবর্ষ । NGC 1398 ছায়াপথে প্রায় ১০০ বিলিয়ন নক্ষত্র রয়েছে । ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দের ১৭ই ডিসেম্বর জার্মানির কার্লসরুহে শহরে জার্মান জ্যোতির্বিজ্ঞানী Friedrich August Theodor Winnecke একটি ধূমকেতু সন্ধান করার সময় ছায়াপথটি প্রথম আবিষ্কার করেন । এ ছায়াপথের লাল স্থানান্তর হচ্ছে ০.০০৪৬৫৭ । গত ১২ই মার্চ ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে পার্থ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল রিসার্চ গ্রুপ দ্বারা এক বিস্ময়কর অতিনবতারা বিস্ফোরণ SN 1996N (টাইপ Ib/c, mag. 16) এবং ২১শে জানুয়ারি ২০২৫ খ্রিস্টাব্দে BlackGEM দ্বারা অতিনবতারা বিস্ফোরণ SN 2025zi (টাইপ Iax [02cx-like], mag. 20.07) পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে । এ চমৎকার ছায়াপথটি NGC 1398, ESO 482-22, LEDA 13434 এবং IRAS 03367-2629 নামেও পরিচিত । 

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, https://www.sci.news/ , https://apod.nasa.gov/apod/ap180123.html 

📸 : https://apod.nasa.gov/apod/ap180123.html 

প্রত্যাখ্যান (কবি: মায়া অ্যাঞ্জেলো)

প্রত্যাখ্যান কবি: মায়া অ্যাঞ্জেলো অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল প্রিয়তম, অন্য কোনো জীবনে বা দেশে আমি কি তোমার অধরের স্পর্শ অনুভব করে...