Thursday, 23 December 2021

মহাধোঁয়াটে পর্বতমালা (The Great Smoky Mountains)


Fall in love with fall colors 💚

মহাধোঁয়াটে পর্বতমালা https://www.nps.gov/grsm/index.htm https://web.facebook.com/GreatSmokyMountainsNPS/হচ্ছে একটি পর্বতশ্রেণী । এটি বৃহত্তর অ্যাপালাচিয়ান পর্বতমালার (Appalachian Mountains) একটি উপশ্রেণী বা শৃঙ্খল বিভাগ ৷ Blue Ridge Physiographic Province এর অংশ এবং Ridgeline এ বিস্তৃত । এ পর্বতমালাকে কেন্দ্র করে একটি উদ্যান গড়ে উঠেছে, যা দক্ষিণ-পূর্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি পরিদর্শন করা অসাধারণ সুন্দর মহাধোঁয়াটে পর্বতমালা জাতীয় উদ্যান (Great Smoky Mountains National Park) ৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের Tennessee এবং North Carolina অঙ্গরাজ্যের সীমানা এ উদ্যানটির কেন্দ্রস্থলের মধ্যদিয়ে উত্তর-পূর্ব থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে চলে গেছে । উদ্যানের দু’পাশে মহাধোঁয়াটে পর্বতমালার সেতুবন্ধরেখা । প্রচুর পরিমাণে সুদৃশ্য ঘন বন আড়াআড়ি পরিবেষ্টন করে বিস্তৃত হয়ে আছে । মনোরম বনফুলের প্রাচুর্য যা সারা বছর জুড়ে থাকে । নদী, জলপ্রবাহ, জলপ্রপাত এবং Hiking route গুলি এর মধ্যে উপস্থিত রয়েছে যা অ্যাপাল্যাচিয়ানের পথানুসরণ করা একটি অংশ অন্তর্ভুক্ত করে । The Great Smoky Mountains নামটিকে সাধারণত সংক্ষিপ্তভাবে Smokies বলা হয় । “Smoky” শব্দটি প্রাকৃতিক কুয়াশা থেকে এসেছে, যা প্রায়শই এ অঞ্চলের উপর ঝুলে থাকে এবং দূর থেকে বিশাল ধোঁয়াময় পাখির পালক বা পালকগুচ্ছ বা জয়পতাকার (Large smoke plumes) মতো মনে হয় । সাধারণত শীতকালে তাপমাত্রা কম থাকে এবং মাটির আদ্রতা উপরে উঠে কুয়াশা তৈরি হয় । বাতাসের আদ্রতা এবং তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণেই এটি ঘটে । কুয়াশা হচ্ছে ভূমির সংস্পর্শে থাকা মেঘমালা । বিশেষত শরৎ ও গ্রীষ্মে নিম্নভূমি এবং উপত্যকা অঞ্চলে ঘন কুয়াশা পড়ে । এ কুয়াশা উদ্বায়ী জৈব যৌগ নির্গত গাছপালা দ্বারা সৃষ্টি হয়, যে রাসায়নিক পদার্থগুলিতে উচ্চ বাষ্প চাপ থাকে এবং স্বাভাবিক তাপমাত্রা ও চাপে সহজেই বাষ্প গঠন করে । The Great Smoky গুলি ”মহাধোঁয়াটে পর্বতমালা জাতীয় উদ্যানের” (Great Smoky Mountains National Park) বাড়ি হিসেবে সবচেয়ে বেশি পরিচিত, যা বেশিরভাগ অঞ্চলকে রক্ষা করে । এ পর্বতমালা উত্তর-পূর্বে Pigeon River থেকে দক্ষিণ-পূর্বে Little Tennessee River পর্যন্ত বিস্তৃত । এ অঞ্চলের উত্তর-পশ্চিমের অর্ধেক অংশটি ‘পাদদেশ’ (Foothills) নামে পরিচিত । দীর্ঘ পর্বতমালার মধ্যে সবচেয়ে বাইরের অংশে রয়েছে Chilhowee Mountain এবং English Mountain । মোটামুটিভাবে অঞ্চলটির দক্ষিণে Tuckasegee River, দক্ষিণ-পূর্বে Soco Creek এবং Jonathan Creek দ্বারা আবদ্ধ । The Great Smokies গঠিত হয়েছে Blount County, Sevier County, টেনেসির Cocke County এবং উত্তর ক্যারোলিনার Swain County ও Haywood County এর কিছু অংশ নিয়ে । Little Pigeon River, Oconaluftee River, Little Tennessee River সহ বেশ কয়েকটি নদীর উৎস Smokyতে অবস্থিত ৷ এখানকার স্রোতগুলি Tennessee নদীর জলাশয়ের অংশ ৷ সবচেয়ে বড় স্রোত হচ্ছে Abrams Creek ৷ এ পর্বতমালার সর্বোচ্চ শিখর হচ্ছে Clingmans Dome, যার উচ্চতা ৬৬৪৩ ফুট (২০২৫ মিটার) । পর্বতটি Tennessee রাজ্যের সর্বোচ্চ এবং Appalachian range এর তৃতীয় সর্বোচ্চ চূড়া । বাস্তুতন্ত্র ও বৈচিত্র্যময় জলবায়ুর কারণে Clingmans Dome পর্বতের জলবায়ু Hemiboreal (নাতিশীতোষ্ণ এবং উপ-আর্কটিক বা Boreal অঞ্চলের মধ্যবর্তী অর্ধেক পথ) ৷ Mount Guyot (৬৬২১ ফুট উচ্চতা) হচ্ছে পূর্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ সর্বোচ্চ এবং মহাধোঁয়াটে পর্বতমালা জাতীয় উদ্যানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বত । এছাড়া Mount Le Conte হচ্ছে সম্পূর্ণরূপে Tennessee রাজ্যের (Sevier County) মহাধোঁয়াটে পর্বতমালা জাতীয় উদ্যানের মধ্যে অবস্থিত আরেকটি তৃতীয় সর্বোচ্চ শিখর ৷ এটি Mississippi নদীর পূর্বে সবচেয়ে উঁচু পর্বত । এর উচ্চতা ৬৫৯৩ ফুট, যেটি Clingmans Dome এবং Mount Guyot পর্বতের পিছনে অবস্থান করছে । মহাধোঁয়াটে পর্বতমালা জাতীয় উদ্যানে দুই প্রকার জলবায়ুর ধরন রয়েছে: (ক) আর্দ্র উপক্রান্তীয় বা Humid subtropical (Cfa) (খ) নাতিশীতোষ্ণ মহাসাগরীয় বা Temperate oceanic (Cfb) । বার্ষিক গড়ে চরম সর্বনিম্ন তাপমাত্রা -১৪.৩°F (-২৫.৭°C) । The Smokies এ প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয় । বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৫০ থেকে ৮০ ইঞ্চি (১৩০০ থেকে ২০০০ মিঃ) । শীতকালে উচ্চ ঢালে ভারী তুষারপাত হতে পারে । ভারী বৃষ্টির পর প্রায়শই আকস্মিক বন্যা দেখা দেয় । এখানে পাহাড় ৫০০০ ফুট (১৫০০ মিটার) MSL এবং উপত্যকাগুলির প্রায় ১৬০০ ফুট (৪৯০ মিটার) MSL মধ্যে তাপমাত্রার গড় পার্থক্য হচ্ছে উচ্চতার সাথে ১০°F থেকে ১৩°F (৬°C এবং ৭°C) এবং নিম্নতার সাথে ৩°F থেকে ৬°F (২°C এবং ৩°C) । শরতের সময় ঘন ঘন তাপমাত্রা পরিবর্তন হয় । যখন দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সাধারণ গাছপালা এবং প্রাণীরা উদ্যানের উচ্চতর স্থানে (Higher elevation) উপযুক্ত পরিবেশগত যথাযোগ্য স্থান বা কুলুঙ্গি (Niche) খুঁজে পেয়ে থাকে, তখন দক্ষিণের প্রজাতিগুলি Balmier এর নিম্ন প্রান্তে আবাসস্থল খুঁজে পায় । Smoky পর্বতমালার চারপাশে ক্ষতি করার মতো এক শক্তিশালী বাতাস (৮০ থেকে ১০০ মাইল/ঘন্টা (১৩০ থেকে ১৬০ কিঃ মিঃ/ঘণ্টা) বা কখনো কখনো বেশি) প্রতি বছর কয়েকবার পরিলক্ষিত হয় । এটি পাহাড়ের ঢেউ বা পর্বত তরঙ্গ নামে পরিচিত । The Appalachian Trail বা The Appalachian National Scenic Trail (A.T) টি পূর্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি চিহ্নিত হাইকিং ট্রেইল (Marked hiking trail) । যেটি দক্ষিণ-পূর্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য Georgia এর Springer Mountain এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য Maine এর Mount Katahdin পর্বতের মধ্যে বিস্তৃত । ট্রেইলটি প্রায় ২২০০ মাইল (৩৫০০ কিঃ মিঃ) দীর্ঘ । মহাধোঁয়াটে পর্বতমালা জাতীয় উদ্যানের বেশিরভাগ বন বা বন্য জমি বা সবুজ তৃণভূমির মাঝখান দিয়ে, কিছু অংশ শহর, রাস্তা এবং খামার অতিক্রম করে এ ট্রেইলটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৪টি রাজ্যের মধ্য দিয়ে গিয়েছে । উদ্যানটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের Tennessee রাজ্যের Sevier County তে অবস্থিত এবং এটি ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে । উদ্যানকে কেন্দ্র করে একটি বৃহৎ পর্যটন শিল্প গড়ে উঠেছে । এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি পরিদর্শন করা জাতীয় উদ্যান । এখানে প্রতি বছর প্রায় ১১ মিলিয়নেরও বেশি পর্যটক ভ্রমণ করে । উদ্যানটি ৫২২৪১৯ একর (৮১৬.২৮ বর্গ মাইল; ২১১৪১৫.৪৭ হেক্টর; ২১১৪.১৫ বর্গ কিঃ মিঃ) এলাকা জুড়ে বিস্তৃত, যা পূর্ব-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সংরক্ষিত এলাকাগুলির মধ্যে একটি । এ উদ্যানটি তার নিজস্ব সৌন্দর্য, পাহাড়, জলপ্রপাত, জীববৈচিত্র্য এবং Spruce-fir বনের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত । এ অঞ্চলের Cove hardwood বনগুলি উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় বাস্তুতন্ত্রের মধ্যে রয়েছে । এছাড়াও উদ্যানটি একাধিক ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ করে । যা এখানকার প্রাথমিক ইউরোপীয়-আমেরিকান বসতি স্থাপনকারীদের দ্বারা দখলকৃত আদিবাসী সম্প্রদায়ের অংশ ছিল । The Great Smokies হচ্ছে পূর্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘন কালো ভাল্লুক এবং গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলের বাইরে সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় সালাম্যান্ডার (Salamander) প্রজাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল । এখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কালো ভাল্লুক রয়েছে, যার সংখ্যা প্রায় ১৫০০ । Salamander হচ্ছে একটি উভচর প্রাণী এবং যেটির সাধারণত টিকটিকি-সদৃশ চেহারা, সরু দেহ ও ভোঁতা থুতু রয়েছে । সারাবিশ্বে সালাম্যান্ডারের নয়টি পরিবারের পাঁচটিই এখানে পাওয়া যায় । এরা প্রায় একত্রিশটি প্রজাতি নিয়ে গঠিত । জর্ডানের Redcheeked salamander প্রজাতিটি শুধুমাত্র এ উদ্যানে পাওয়া যায় । এছাড়া Imitator salamander প্রজাতিটি Smokyতে এবং এর কাছাকাছি Plott Balsam ও Great Balsam পর্বতমালায় পাওয়া যায় । অন্য দু’টি প্রজাতি Southern gray-cheeked salamander এবং Southern Appalachian salamander শুধুমাত্র সাধারণ অঞ্চলে দেখা যায় । অন্যান্য প্রজাতির মধ্যে রয়েছে Shovelnose salamander, Blackbelly salamander, Eastern red-spotted newt, Spotted dusky salamander ইত্যাদি । কিংবদন্তি যে, জলজ দৈত্য স্যালামান্ডারের একটি প্রজাতি হচ্ছে Hellbender salamander (Cryptobranchus alleganiensis) । এটি Cryptobranchidae পরিবারের সদস্য এবং Cryptobranchus গণের একমাত্র বর্তমান সদস্য । এটি দ্রুততর স্রোতে বাস করে । এছাড়া এখানে এক প্রকার ফুসফুসবিহীন সালাম্যান্ডার (Lungless salamander) প্রজাতি রয়েছে । উদ্যানটি ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে UNESCO এর বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান (World Heritage Site) এবং ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে আন্তর্জাতিক জীবমণ্ডল রিজার্ভের (International Biosphere Reserve) অংশ হিসেবে মনোনীত হয় । এটি Southern Appalachian Biosphere Reserve এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠে । The Walt Disney Company (Disney) এর ১৯৫০ দশকের Hit TV series- ‘Davy Crockett, King of the Wild Frontier’ এর দৃশ্য ধারণের জন্য উদ্যানটি ব্যবহার করা হয়েছিল । সর্বাধিক দর্শনীয় পর্যটন আকর্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে Dollywood, Ober Gatlinburg এবং Ripley’s Aquarium of the Smokies ৷ সুতরাং এ উদ্যানকে কেন্দ্র করে আকর্ষণীয় পর্যটন শিল্প স্থানীয় অর্থনীতিতে বছরে আনুমানিক ২.৫ বিলিয়ন ডলার অবদান রাখে । তবে বর্ধিত উন্নয়নের (Increased development) কারণে উদ্যানটি বায়ু দূষণ দ্বারা প্রভাবিত হয় । National Parks Conservation Association এর ২০০৪ খ্রিস্টাব্দের এক বিবরণে (Report) মহাধোঁয়াটে পর্বতমালা জাতীয় উদ্যানকে সবচেয়ে দূষিত জাতীয় উদ্যান হিসেবে বিবেচনা করা হয় । তবে ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে Colorado State University বিবৃতি দেয় যে, ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের Clean Air Act পাস হওয়ার কারণে এবং পরবর্তীকালে Acid Rain Program বাস্তবায়নের ফলে এ জাতীয় উদ্যান তথাপি মহাধোঁয়াটে পর্বতমালায় বাতাসের গুণমানের একটি “উল্লেখযোগ্য উন্নতি” হয়েছে ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ২০১০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত । মহাধোঁয়াটে পর্বতমালা জাতীয় উদ্যানের বেশিরভাগ শিলা হচ্ছে বিলম্বিত বা পরবর্তী প্রাক-ক্যামব্রিয়ান (Late Precambrian rocks) শিলা । যেটিকে Ocoee supergroup rocks বলে । যার বেশিরভাগ অংশ খারাপভাবে সাজানো থাকে এবং স্থলজ পরিবেশ থেকে উদ্ভূত পাললিক শিলার অংশ Terrigenous এর বিভিন্ন মোটা টুকরা দ্বারা গঠিত । Ocoee supergroup rocks বা ওকোই উৎকৃষ্ট শিলা গোষ্ঠীতে রয়েছে রূপান্তরিত Sandstones, Phyllites, Schists এবং Slate । প্রারম্ভিক প্রাক-ক্যামব্রিয়ান (Early Precambrian rocks) শিলাগুলি কেবল উদ্যানের প্রাচীনতম শিলাই নয় বরং Raven Fork Valley (Oconaluftee valley), Cherokee এবং Bryson শহরের মধ্যবর্তী Tuckasegee নদীর মতো জায়গায় এ ধরণের আরো প্রভাবশালী শিলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে । এগুলি মূলত প্রাথমিকভাবে রূপান্তরিত Gneiss, Granite, Schist নিয়ে গঠিত । ক্যামব্রিয়ান পাললিক শিলা (Cambrian sedimentary rocks) উত্তর-পশ্চিমে পাদদেশের বাইরের সীমানার মধ্যে (তলদেশে) এবং Cades Cove উপত্যকার মতো চুনাপাথরের খাদে পাওয়া যায় । পাহাড়ের সবচেয়ে দর্শনীয় আকর্ষণগুলির মধ্যে একটি হচ্ছে মহাধোঁয়াটে পর্বতমালার বিচ্ছিন্ন উপত্যকা Cades Cove । এটি একটি জানালা বা এমন একটি এলাকা যেখানে বেলেপাথরের তৈরি পুরোনো শিলাগুলি চুনাপাথরের তৈরি ছোট পাথরের উপত্যকার মেঝেকে ঘিরে থাকে । The Smokies এর প্রাচীনতম শিলাগুলি হচ্ছে The Precambrian Gneiss এবং Schists । যা এক বিলিয়ন বছর আগে এক আদিম মহাসাগরে সামুদ্রিক পলি এবং আগ্নেয় শিলা জমে গঠিত হয়েছিল । প্রি-ক্যামব্রিয়ান যুগের শেষের দিকে (Late Precambrian) আদিম মহাসাগরটি প্রসারিত হয় এবং পরবর্তীতে Ocoee supergroup rocks শিলাগুলি মহাসাগরের মহাদেশীয় তাক বা বালুচর ক্ষয়প্রাপ্ত ভূমি ভরে বা জমা হওয়ার ফলে গঠিত হয়েছিল । প্যালিওজোয়িক যুগের (The Paleozoic Era) শেষের দিকে প্রাচীন মহাসাগরে সামুদ্রিক পলির একটি পুরু স্তর জমা হয়েছিল, যা চুনাপাথরের মতো পাললিক শিলাগুলিকে পিছনে ফেলেছিল । অর্ডোভিসিয়ান সময়কালে (The Ordovician Period) উত্তর আমেরিকা এবং আফ্রিকান টেকটোনিক প্লেটগুলির (Tectonic plates) সংঘর্ষের ফলে প্রাচীন মহাসাগরকে ধ্বংস করে সূচনা করেছিল পর্বত-নির্মাণ যুগ (Alleghenian orogeny), যেটি Appalachian range তৈরি করেছিল । মেসোজোয়িক যুগে (The Mesozoic Era) নতুন পর্বত থেকে নরম পাললিক শিলাগুলির দ্রুত ক্ষয় দেখা যায়, যা পুরোনো Ocoee supergroup rocks এর গঠনকে পুনরায় প্রকাশ করে । প্রায় ২০০০০ বছর আগে উপ-আর্কটিক হিমবাহগুলি (Subarctic glaciers) উত্তর আমেরিকা জুড়ে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়েছিল, যদিও সেগুলি কখনো Smokyতে পৌঁছায়নি । তবে অগ্রসরমান হিমবাহের কারণে বার্ষিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে আবহাওয়া শীতল হতে শুরু করে এবং সমগ্র অঞ্চল জুড়ে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পায় । এতে করে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পর্বত-উচ্চতায় গাছগুলি টিকে থাকতে পারেনি এবং আলপাইন তুন্দ্রা উদ্ভিদ দ্বারা রূপান্তরিত বা প্রতিস্থাপিত হয় । Spruce-fir বনগুলি প্রায় ৪৯৫০ ফুট (১৫১০ মিটার) নীচের উপত্যকা এবং পাহাড়ের ঢালগুলি দখল করে নেয় । এ সময়ের মধ্যে ক্রমাগত জমাট বাঁধা হিমায়িত এবং গলানো কৌণিক শিলা দ্বারা আচ্ছাদিত পাথরের চাঁই (Boulder) আকারের বড় বড় Blockfield তৈরি হয়, যা প্রায়শই বড় পাহাড়ের ঢালের গোড়ায় পাওয়া যেতো । উল্লেখ্য যে, Blockfield / Felsenmeer / Boulder field / Stone field হচ্ছে কৌণিক শিলা দ্বারা আবৃত পাথরের চাঁই (Boulder) ৷ যা সাধারণত Alpine, Subpolar climates এবং Periglaciation এর সাথে যুক্ত । বিশ্বাস করা হয়, ভূ-পৃষ্ঠের নীচে হিম আবহাওয়া দ্বারা এটি গঠিত হয় । এছাড়া একটি বিকল্প তত্ত্ব এটি প্রস্তাব করে যে আধুনিক Blockfield গুলি রাসায়নিক আবহাওয়া (Chemical weathering) থেকে উদ্ভূত হতে পারে, যা ভূতাত্ত্বিক সময়কাল এবং পদ্ধতি Neogene এ ঘটেছিল যখন জলবায়ু তুলনামূলকভাবে উষ্ণ ছিল । ১২৫০০ থেকে ১৬৫০০ বছর আগে উত্তরের হিমবাহগুলি পিছিয়ে যায় এবং বার্ষিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় । আলপাইন তুন্দ্রা গাছপালা অদৃশ্য হয়ে যায় এবং Spruce-fir বনগুলি টিলা বা সর্বোচ্চ স্থানে পশ্চাৎপদ হয় (স্থানান্তরিত হয়) । শক্ত কাঠের গাছগুলি উপকূলীয় সমভূমি থেকে এ অঞ্চলে স্থানান্তরিত হয় নিম্নস্থানের Spruce-fir বনগুলির জায়গা দখল করে । প্রায় ৬০০০ বছর আগে পর্যন্ত উষ্ণ তাপমাত্রা অব্যাহত ছিল, যখন সেটি ধীরে ধীরে শীতল হতে শুরু করে । 

The Smokies সাধারণত তিনটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়:

(ক) The cove hardwood forests in the stream valleys, coves and lower mountain slopes : মূলত Cosby Creek বরাবর Cove hardwood forest । যেটি দক্ষিণ অ্যাপালাচিয়ার স্থানীয় এবং উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় বন । এখানে কিছু প্রাচীন এবং লম্বা গাছ রয়েছে । বনের চাঁদোয়া বা ছাউনির (Canopies) মধ্যে বেড়ে উঠা ১৩০টিরও বেশি প্রজাতির গাছ পাওয়া যায় । সে গাছের চাঁদোয়ার ফাঁকে ফাঁকে দেখা যায় সুনীল আকাশের নীলিমায় মিশে যাওয়া সাদা তুলা মেঘ । এ এক অপরূপ সৌন্দর্য! বনের প্রভাবশালী প্রজাতির মধ্যে রয়েছে Yellow birch (Betula alleghaniensis), Asswood (Tilia americana), Yellow buckeye (Aesculus flava), Tulip tree (Liriodendron tulipifera; সাধারণত বলা হয় Tulip poplar), Silverbells (Halesia carolina), Sugar maple (Acer saccharum), Cucumber magnolia (Magnolia acuminata), Shagbark hickory (Carya ovata), Carolina hemlock (Tsuga caroliniana) এবং Eastern hemlock (Tsuga canadensis) ইত্যাদি । The American chestnut (Castanea dentata) গাছটি এখানকার প্রাক-উদ্যানের (Pre-park) বাসিন্দাদের কাছে সবচেয়ে প্রিয় গাছ । যেটি ১৯২০ এর দশকে ধ্বংসাত্মক রোগবিস্তারকারী Ascomycota (Sac fungi) পরিবারের সদস্য Cryphonectria parasitica (Endothia parasitica) নামক পরজীবী ছত্রাক দ্বারা Chestnut blight রোগের কারণে মারা গিয়েছিল । এছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির লতা ও গুল্ম রয়েছে যেমন; Eastern redbud (Cercis canadensis), Flowering dogwood (Cornus florida), Catawba rhododendron (Rhododendron catawbiense), Mountain laurel (Kalmia latifolia) এবং Smooth hydrangea (Hydrangea arborescens) ইত্যাদি ।

(খ) The northern hardwood forests on the higher mountain slopes : এ বনের বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যথেষ্ট শীতল । উত্তরের শক্ত কাঠের বনগুলি পূর্ব-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রশস্ত-পাতার বন (Broad-leaved forest) গঠন করে । যদিও এটি উত্তর-পূর্ব উত্তর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শক্ত কাঠ বনের চাঁদোয়া বা ছাউনির (Canopies) মধ্যে জন্মে থাকা স্থানীয় Birch এর একটি বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ কাঠের প্রজাতি Yellow birch (বৈজ্ঞানিক নাম: Betula alleghaniensis / অন্যান্য নাম: Golden birch, Swamp birch) এবং পূর্ব-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চরম দক্ষিণ-পূর্ব কানাডার স্থানীয় Beech গাছের প্রজাতি American beech (বৈজ্ঞানিক নাম: Fagus grandifolia / অন্য নাম: North American beech) দ্বারা প্রভাবিত হয় । এখানে জন্মে থাকা অন্যান্য প্রজাতির মধ্যে White basswood (Tilia heterophylla), Mountain maple (Acer spicatum), Striped maple (Acer pensylvanicum) এবং Yellow buckeye (Aesculus flava) ইত্যাদি বৃক্ষ উপস্থিত রয়েছে । এছাড়া এ বনটি বিভিন্ন প্রজাতির আবাসস্থল যেমন; Coneflower, Skunk goldenrod, Rugels ragwort, Bloodroot, Hydrangea, Grass এবং Fern ইত্যাদি । এ বনের এক অনন্য সম্প্রদায়ের মধ্যে রয়েছে Beech gap এবং Beech orchard ।

(গ) The spruce-fir or boreal forest at the very highest elevations : এ বনটিকে “Boreal” বা “Canadian” বনও বলা হয় । এটি বরফ যুগের (Ice age) একটি ধ্বংসাবশেষ, যখন এখানকার বার্ষিক গড় তাপমাত্রা এ শক্ত কাঠের বনকে খুবই শীতল করেছিল । যদিও ৬০০০ থেকে ১২৫০০ বছর আগে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে শক্ত কাঠের বনগুলিকে (The hardwoods) পূর্বাবস্থায় ফিরে আসার অনুমতি দিয়েছে প্রকৃতি । Spruce-fir বনটি সাধারণত ৫৫০০ ফুট (১৭০০ মিটার) উপরে ককর্শ বা কঠোর পরিবেশে পর্বতের চূড়ায় টিকে থাকতে পেরেছে ৷ প্রায় ১০৬০০ একর (৪৩ বর্গ কিঃ মিঃ) বন পুরোনো-বৃদ্ধি (Old-growth) হয়েছে । Conifer হচ্ছে শঙ্কু বহনকারী বীজ উদ্ভিদের দল ৷ Gymnosperm এর একটি উপসেট । তারা Pinophyta বিভাগ তৈরি করে, যা Coniferophyta বা Coniferae নামেও পরিচিত । এ বন প্রধানত দু’টি Conifer উদ্ভিদ প্রজাতি নিয়ে গঠিত । প্রথমটি হচ্ছে Fraser fir (Abies fraseri) এবং অন্যটি Red spruce (Picea rubens) । Fraser fir হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপালাচিয়ান পর্বতমালার স্থানীয় Fir উদ্ভিদের একটি প্রজাতি । এরা এক সময় The Great Smokies এর ৬২০০ ফুট (১৯০০ মিটার) উচ্চতায় আধিপত্য বিস্তার করেছিল । ১৯৬০ এর দশকের গোড়ার দিকে এ পর্বতমালায় আসা এক প্রকার ক্ষুদ্র পাখাবিহীন পোকা Balsam wooly adelgid এর আক্রমণে Fraser fir উদ্ভিদ প্রজাতির বেশিরভাগই মারা যায় । Clingmans Dome পর্বতের উপরে এবং Old Black এর উত্তর-পশ্চিম ঢালে মৃত Fraser fir উদ্ভিদ প্রজাতির বড় Stand রয়ে গেছে । Red spruce উদ্ভিদ প্রজাতিটিও এ বনে যথেষ্ট প্রভাবশালী । Red spruce (Picea rubens) হচ্ছে শঙ্কুযুক্ত বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ । এটি পূর্ব-উত্তর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় Spruce উদ্ভিদের একটি প্রজাতি । যেটি Eastern Quebec এবং Nova Scotia থেকে শুরু করে পশ্চিমে Adirondack Mountain এবং দক্ষিণে New England হয়ে অ্যাপালাচিয়ানস (Appalachians) বরাবর পশ্চিম উত্তর ক্যারোলিনা পর্যন্ত বিস্তৃত । Red spruce উদ্ভিদ প্রজাতিটি Yellow spruce, West Virginia spruce, Eastern spruce এবং He-balsam নামেও পরিচিত । যদিও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় এখানে Red spruce stand প্রজাতির বেশিরভাগ অংশই Logged করা হয়েছিল । সাধারণত গাছটি এখনো ৫৫০০ ফুট (১৭০০ মিটার) উপরে এলাকা জুড়ে অবস্থান করে । এখানকার কিছু Red spruce উদ্ভিদ বা গাছকে প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো বলে মনে করা হয় ৷ সবচেয়ে লম্বা গাছটি ১০০ ফুট (৩০ মিটার) পর্যন্ত বেড়েছে । দক্ষিণ অ্যাপালাচিয়ার Spruce-fir বন এবং উত্তর অক্ষাংশের Spruce-fir বনের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হচ্ছে ঘন চওড়া-পাতা । The Great Smokies এর পাহাড় এবং উপত্যকায় অনেক সুন্দর বন্য ফুল জন্মে । যার মধ্যে রয়েছে Bee balm, Solomon’s seal, Dutchman’s breeches, Trilliums, Dragon’s advocate, Hardy orchid ইত্যাদি । দারুণ সুন্দর Catawba rhododendron প্রজাতিটি Catawba নদীর নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছে । এর অন্যান্য নাম: Catawba rosebay, Mountain rosebay, Purple ivy, Purple laurel, Purple rhododendron, Red laurel, Rosebay, Rosebay laurel ইত্যাদি । বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে: Rhododendron catawbiense । এটি মূলত বসন্তের ফুল এবং শোভাময় উদ্ভিদ হিসেবে জন্মে থাকে । মে এবং জুন মাসে মোহনীয় বেগুনি ফুল ফোটে । Rhododendron এর বিভিন্ন প্রজাতি রয়েছে । এর মধ্যে আরো একটি প্রজাতির বর্ণসঙ্কর (Hybrid) জাত হচ্ছে: Purple Elegan, Roseus Elegan এবং Grandiflorum ইত্যাদি পূর্ব-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের Virginia South থেকে Northern Alabama পর্যন্ত দক্ষিণ অ্যাপালাচিয়ান পর্বতমালায় (Southern Appalachian Mountains) জন্মে থাকে । Rhododendron এর একটি স্থানীয় প্রজাতির মধ্যে Great laurel, Great rhododendron, American rhododendron এবং Big rhododendron ইত্যাদি যেগুলি পূর্ব-উত্তর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপালাচিয়ানের Alabama north থেকে উপকূলীয় Nova Scotia পর্যন্ত বিস্তৃত । এ উদ্ভিদের লম্বা পাতা থাকে এবং জুন-জুলাই মাসে সাদা বা হালকা গোলাপী ফুল ফোটে । এছাড়া আরেক প্রজাতির Rosebay rhododendron রয়েছে, যার বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে: Rhododendron maximum । পর্বত ছাই বা Mountain ash হচ্ছে ঝোপঝাড় বা গুল্ম জাতীয় গাছ । এর অন্যান্য নাম: Rowan, Whitty pear বা Pinnate ইত্যাদি ৷ বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে: Sorbus domestica । এটি Rosaceae বা গোলাপ পরিবারের Sorbus গোত্র এর । উত্তর আমেরিকার চেরি জাতের একটি গুল্ম বা ছোট গাছ হচ্ছে Pin cherry । এর অন্যান্য নাম: Bird cherry, Fire cherry এবং Red cherry ইত্যাদি । বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে: Prunus pensylvanica । এটি Prunus প্রজাতির । বন্য ব্ল্যাকবেরির একটি প্রজাতি হচ্ছে Thornless blackberry । এর অন্যান্য নাম: Elmleaf blackberry, Zarzamora ইত্যাদি ৷ বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে: Rubus ulmifolius । শিকড়যুক্ত একটি বহুবর্ষজীবী ঝোপ হচ্ছে Hobblebush । বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে: Viburnum lantanoides । এ বনের ভেষজ ও লিটার স্তরগুলি (Herbaceous and litter layers) সারা বছর ধরে খুব কম আলোকিত হয় এবং এভাবে ছায়া-সহনশীল উদ্ভিদ যেমন Fern, Mountain wood fern, Northern lady fern ও ২৮০টিরও বেশি প্রজাতির শৈবাল বা শ্যাওলা এখানে আধিপত্য বিস্তার করে ।

মহাধোঁয়াটে পর্বতমালা জাতীয় উদ্যানটির প্রায় ৯৫ শতাংশ বনভূমি । এটি উত্তর আমেরিকার পর্ণমোচী, নাতিশীতোষ্ণ, পুরানো-বৃদ্ধি বনের বৃহত্তম ব্লকগুলির মধ্যে একটি । প্রায় ১৯০০০ প্রজাতির জীব এ উদ্যানে বসবাস করে । অনুমান করা হয় যে, এখানে অতিরিক্ত ১০০০০০ অনথিভুক্ত প্রজাতিও উপস্থিত থাকতে পারে ৷ ২৪০ প্রজাতির পাখি, ৬৬ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ৬০ প্রজাতির মাছ, ৪০ প্রজাতির সরীসৃপ এবং ৪৩ প্রজাতির উভচর প্রাণী বাস করে । এ উদ্যানে ১০০ এর অধিক প্রজাতির বৃক্ষ জন্মে । ১৪০০ টিরও বেশি সপুষ্পক (ফুল) উদ্ভিদ এবং ৪০০০ টিরও বেশি অ-পুষ্পক উদ্ভিদ প্রজাতি রয়েছে । এ বনে কালো ভাল্লুকের ঘনবসতি রয়েছে । কালো ভাল্লুক Great Smokies এর বন্যপ্রাণীর প্রতীক এবং এদের সংখ্যা প্রায় ১৫০০ । উত্তর আমেরিকার বড় হরিণ Elk বা Wapiti হচ্ছে হরিণ পরিবারের অন্যতম বৃহত্তম স্থলজ স্তন্যপায়ী প্রজাতি । এ প্রাণীটি মহাধোঁয়াটে পর্বতমালার উপত্যকা Cataloochee তে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে উত্তর ক্যারোলিনার অ্যাপালাচিয়ানদের কাছে পরিচিত হয় । নীলগাই (Nilgai, Blue bull) চরে বেড়ায় বিস্তীর্ণ সবুজ তৃণভূমির বুকে । অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে রয়েছে Raccoon, River otter, Woodchuck, Beaver, Opossum, Coyote, সাদা-লেজযুক্ত হরিণ Chipmunk ইত্যাদি । একমাত্র অবশিষ্ট বন্য বিড়াল Bobcat প্রজাতিটি এখানে বিচরণ করে । বন্য স্থলজ স্তন্যপায়ী প্রাণী Cougar (বড় বিড়াল) যা একসময় এ অঞ্চলে সমৃদ্ধ হয়েছিল । বিনাশ বা সমূলোৎপাটনের কারণে Wolf pack এখানে আর বিচরণ করে না তবে তারা আধুনিকভাবে আলাস্কা, Great Lake অঞ্চলের কিছু অংশ ও সমস্ত উত্তর-পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য এবং কানাডায় বসবাস করে । দুই প্রজাতির লাল শিয়াল এবং ধূসর শিয়াল এখানে পাওয়া যায় । এছাড়া ভাল্লুক থেকে খাদ্য কেড়ে নেয়া, গাছপালা উপড়ে ফেলা এবং ধ্বংস করার প্রবণতার কারণে একটি উপদ্রব হিসেবে বিবেচিত হওয়া ইউরোপীয় শূকর (European boar) প্রজাতির দেখা মিলে । দুই ডজনেরও বেশি তীক্ষ্ণদন্ত ইঁদুর (Rodent) প্রজাতির আবাসস্থল এখানে । যার মধ্যে রয়েছে বিপন্ন উত্তরাঞ্চলীয় উড়ন্ত কাঠবিড়ালি (Flying squirrel) এবং বিপন্ন Indiana bat সহ ১০ প্রজাতির বাদুড় । পায়ূ গ্রন্থি থেকে একটি শক্তিশালী ও অপ্রীতিকর ঘ্রাণসহ একপ্রকার তরল Spray করার ক্ষমতার জন্য পরিচিত দুই প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী Skunk এর বসবাস এখানে । উত্তর আমেরিকা মহাদেশের উভচর ও স্তন্যপায়ী প্রাণী North American river otter বা Northern river otter বা Common otter এ বনে পাওয়া যায় । এক সময় এখানে লাল নেকড়ের বসবাস ছিল । এছাড়া অন্যান্য প্রজাতির নানা প্রকার প্রাণী বসবাস করে এখানে । The Smokies একটি বৈচিত্র্যময় পাখির আবাসস্থল । Red-eyed vireo, Wood thrush, Wild turkey, Northern parula, Ruby-throated hummingbird, Tufted titmouse ইত্যাদি এখানকার নিম্ন উচ্চতায় ও Cove hardwood বনে বেড়ে উঠা প্রজাতিগুলি বন জুড়ে সর্বত্রে পাওয়া যায় । ঠাণ্ডা জলবায়ুর আরো সাধারণ প্রজাতি যেমন Raven, Winter wren, Black-capped chickadee, Yellow-bellied sapsucker, Dark-eyed junco, Blackburnian, Chestnut-sided, Canada warbler ইত্যাদি এখানকার Spruce-fir বন এবং Northern hardwood অঞ্চলে পাওয়া যায় । এছাড়া Ovenbirds, Whip-poor-wills, Downy woodpecker ইত্যাদি প্রজাতি শুষ্ক পাইন-ওক বন এবং ঊষর প্রান্তরে (Heath balds) বসবাস করে । এ উদ্যানের সর্বোচ্চ উচ্চতায় Bald eagle, Golden eagle, Peregrine falcon, দুর্লভভাবে Peregrine falcon eyrie, Red-tailed hawk এবং সবচেয়ে সাধারণ বাজপাখি (Hawk) প্রজাতি দেখা যায় । পেঁচা প্রজাতির মধ্যে রয়েছে Barred owl, Eastern screech-owl, Northern saw-whet owl । এ উদ্যানের মধ্যে বিষাক্ত সাপের দু’টি প্রজাতির একটি হচ্ছে Timber rattlesnake, যেটিকে এ অঞ্চলের সর্বোচ্চ উচ্চতায় পাওয়া যায় । দ্বিতীয় বিষধর সর্পটি (Pit viper) হচ্ছে Copperhead (Eastern copperhead), যেটিকে সাধারণত নিম্নাঞ্চলে পাওয়া যায় । অন্যান্য সরীসৃপ প্রজাতির মধ্যে রয়েছে Eastern box turtle, Eastern fence lizard, Black rat snake এবং Northern water snake ইত্যাদি । মহাধোঁয়াটে পর্বতমালা জাতীয় উদ্যানে বসবাসকারী কিছু উভচর প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে American toad, American bullfrog, Wood frog, Upland chorus frog, Northern green frog এবং Spring peeper ইত্যাদি । The Smokies অঞ্চলের স্রোতে বিচরণকারী শতাধিক প্রজাতির মাছের মধ্যে রয়েছে যেমন: American gizzard shad, Lamoetra appendix, Longnose gar, Mountain brook lamprey, Rainbow trout, Brook trout, Trout, Lamprey, Darter, Shiner, Bass এবং Sucker ইত্যাদি । Brook trout হচ্ছে একমাত্র Trout প্রজাতি, যেটি এখানকার স্থানীয় । যদিও উত্তর-পশ্চিমে Rainbow trout এবং European brown trout বিশ শতকের প্রথমার্ধে প্রবর্তিত হয়েছিল । এ অঞ্চলে সংরক্ষিত মাছের প্রজাতির মধ্যে রয়েছে Yellowfin madtom, Spotfin chub, Duskytail darter ইত্যাদি । টেনেসি রাজ্যের Little River Valleyতে অবস্থিত Elkmont অঞ্চলে এবং স্থানীয় মহাধোঁয়াটে পর্বতমালায় Lightning-bug firefly (বৈজ্ঞানিক নাম: Photinus carolinus) এর চমকপ্রদ Synchronized flashing light display জুনের মাঝামাঝি সময়ে দেখা যায় । পরিবেশগত হুমকি এ অঞ্চলে অনেক সমস্যা এবং উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে । সরকারের পাশাপাশি যদিও কিছু বন্ধুপ্রতিম স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তহবিল সংগ্রহ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলির জন্য স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দিয়ে Great Smoky Mountains National Park এর সংরক্ষণ এবং সুরক্ষার লক্ষ্যে জাতীয় উদ্যান পরিষেবাকে (National Park Service) সহায়তা করে আসছে । উচ্চতর বায়ু দূষণ Red Spruce গাছের মৃত্যুহার বৃদ্ধিতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে এবং Oak গাছের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে । Hemlock হচ্ছে অত্যন্ত বিষাক্ত দ্বিবার্ষিক ভেষজ ফুলের একটি উদ্ভিদ । বৈজ্ঞানিক নাম: Conium maculatum । এ উদ্ভিদের অন্যান্য নাম: Hemlock, Poison hemlock, Wild hemlock ইত্যাদি । এটি গাজর পরিবার Apiaceae এর সদস্য । Hemlock woolly adelgid (HWA) বা Pseudoscymnus tsugae নামক এক প্রকার গুবরে পোকা Hemlock গাছকে আক্রমণ করে এবং গাছ থেকে রস চুষে খায় । Spruce tree গাছেরও কার্যকর শিকারী হচ্ছে Hemlock woolly adelgid গুবরে পোকা । এছাড়া Balsam woolly adelgid হচ্ছে ছোট ডানাবিহীন পোকা (কীট-পতঙ্গ) ৷ যেটি Fraser fir এবং Balsam fir গাছগুলিকে মারাত্মকভাবে আক্রমণ করে ক্ষতিগ্রস্ত ও মেরে ফেলে । নেটিভ আমেরিকানরা সম্ভবত ১৪০০০ বছর ধরে Great Smoky পর্বতমালায় শিকার করছে । জাতীয় উদ্যানের সীমানার মধ্যে অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক যুগের (Numerous Archaic period, আনুমানিক ৮০০০ – ১০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) নিদর্শন পাওয়া গেছে । যার মধ্যে প্রাণীর অভিবাসনের সম্ভাব্য পথ বরাবর উন্মোচিত Projectile point রয়েছে । উদ্যানের মধ্যে পাওয়া কিছু জায়গায় উডল্যান্ড যুগের (Woodland period, আনুমানিক ১০০০ খ্রিস্টপূর্ব – ১০০০ খ্রিস্টাব্দ) ২০০০ এর অধিক বছরের পুরোনো চীনামাটির কাজ সম্পর্কিত Ceramic বা মৃৎশিল্প এবং আদিম কৃষিকার্যের প্রমাণ রয়েছে ।

Cherokee হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের Yolo County এর শহর দক্ষিণ-পূর্ব Woodland এর এক আদিবাসী (নৃ-তাত্ত্বিক) জনগোষ্ঠী । অষ্টদশ শতকের আগে থেকেই তারা তাদের জন্মভূমিতে তথাপি বর্তমান দক্ষিণ-পশ্চিম উত্তর ক্যারোলিনা, দক্ষিণ-পূর্ব টেনেসি, পশ্চিম দক্ষিণ ক্যারোলিনার প্রান্ত, উত্তর জর্জিয়া এবং উত্তর-পূর্ব আলাবামা নদী উপত্যকার শহরগুলিই ছিল তাদের আবাসস্থল । ঐতিহাসিক ভাবেই চেরোকিদের জন্মভূমি ছিল এখানে । এরা প্রাচীনকালে উত্তর আমেরিকার মিঠা পানির হ্রদ Great Lake বা Laurentian Great Lake অঞ্চল থেকে দক্ষিণে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন, যেখানে অন্যান্য ইরোকুয়িয়ান-ভাষী মানুষদের বসতি ছিল । উত্তর আমেরিকার নৃ-তাত্তিক গোষ্ঠী বা আদিবাসীদের (Tobacco nation) ভাষা হচ্ছে Iroquoian ভাষা ৷ প্রাচীন এ ভাষাটি বর্তমানে বিলুপ্ত বা বিপন্ন প্রায় । শুধুমাত্র কয়েকজন প্রবীণ ভাষাভাষী মানুষ এ ভাষায় কথা বলে ৷ প্রাচীনকালে এ জনগোষ্ঠী Petun ও Tionontati পর্বত, Georgian Bay এবং Huron Lake এলাকায় বসবাস করতো ৷ আনুমানিক ১৬১০ এর দশকে এদের ক্ষুদ্র একটি অংশ ইউরোপীয়দের কাছে পরিচিত হয়ে উঠে ৷ চেরোকি ভাষা ইরোকোয়িয়ান ভাষা গোষ্ঠীর অংশ । Proto-Iroquoian ভাষার উৎপত্তি সম্ভবত অ্যাপালাচিয়ান অঞ্চলে । Proto-Iroquoian হচ্ছে ইরোকোয়িয়ান ভাষার তাত্ত্বিক প্রোটো-ভাষা । উত্তর ও দক্ষিণ ইরোকোয়িয়ান ভাষার মধ্যে বিভাজন প্রায় ৩৫০০ থেকে ৩৮০০ বছর আগে শুরু হয়েছিল । ইরোকুয়িয়ান ভাষার দক্ষিণী ভাষাভাষীরা মহাধোঁয়াটে পর্বতমালার চেরোকি থেকে আধুনিক ভার্জিনিয়া/উত্তর ক্যারোলিনা সীমান্তের কাছে অভ্যন্তরীণ অংশে Tuscarora এবং Nottoway পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের New York রাজ্যে সবচেয়ে বেশি ভাষাভাষী দু’টি ভাষা হচ্ছে মোহাক (Mohawk) এবং চেরোকি ৷ মোহাক জাতির প্রায় ৩৫০০ জন লোক এ ভাষায় কথা বলে । প্রাথমিকভাবে বর্তমান বা প্রাক্তন উত্তর-পূর্ব উত্তর আমেরিকার একটি আদিবাসী (Confederacy) সঙ্ঘ মৈত্রী Iroquois বা Haudenosaunee অঞ্চলে প্রধানত কানাডায় এবং অল্প পরিমাণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এদের অবস্থান ছিল । চেরোকি জাতি বা জনগোষ্ঠীর প্রায় তিন লক্ষেরও বেশি সদস্য রয়েছে ৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি অনুযায়ী প্রায় ৮১৯০০০ এরও বেশি লোকসংখ্যা চেরোকি বংশধর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে । কেন্দ্রীয় সরকারের (Federally) স্বীকৃত চেরোকি উপজাতির মধ্যে Cherokee nation এবং The United Keetoowah Band of Cherokee Indian (UKB) এর সদর দপ্তর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের Okalahoma রাজ্যের Tahlequa তে রয়েছে এবং তাদের বেশিরভাগ সদস্যই এ রাজ্যে বসবাস করে । The United Keetoowah Band of Cherokee Indian (UKB) এর অধিকাংশরাই ‘Old Settler’ দের বংশধর, যাদেরকে Western Cherokee বলা হয় ৷ যারা ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দের দিকে ভারতীয় অপসারণের আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্ব অংশ থেকে দক্ষিণ-মধ্য অঞ্চলের রাজ্য Arkansas এবং Oklahomaতে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন । তারা চেরোকিদের সাথে সম্পর্কযুক্ত এবং পরবর্তীতে ভারতীয় অপসারণ আইনের অধীনে ১৮৩০ এর দশকে জোরপূর্বক সেখানে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন ৷ এক সময় কেন্দ্রীয় সরকারের স্বীকৃত উপজাতি হিসেবে পুনর্গঠিত হন । চেরোকি ইন্ডিয়ানদের The Eastern Band ভূমিতে অবস্থিত Qualla Boundary । এখানে তারা বেশিরভাগই ঐ সকল পূর্বপুরুষদের বংশধর, যারা প্রতিরোধ করেছিলেন বা স্থানান্তর এড়িয়ে গিয়েছিলেন এবং এক সময় এ এলাকায় অবশিষ্ট থাকেন ৷ কারণ তারা তখন উপজাতীয় সদস্যপদ ছেড়ে দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হয়ে গিয়েছিলেন । সপ্তদশ শতকের শেষ সময়ে যখন প্রথম ইংরেজ অভিযাত্রীগণ Southern Appalachia তে আসেন সে সময় চেরোকিরা এ অঞ্চলের বেশিরভাগ নিয়ন্ত্রণ করে এবং Great Smoky পর্বতমালা তাদের অঞ্চলের কেন্দ্রে অবস্থিত ছিল । চেরোকিরা পর্বতমালার কিছু স্থানকে Great Rabbit এর এলাকা বা শাসনক্ষেত্র (Domain) বলে বিশ্বাস করেন । এ সকল স্থানগুলিকে খরগোশের জায়গা বা Gregory Bald Tsitsuyi বা Rabbit place বলে ডাকা হতো । এছাড়া তারা দক্ষিণ-পূর্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি এবং উত্তর ক্যারোলিনার মহাধোঁয়াটে পর্বতমালার অন্যান্য স্থানগুলির মধ্যে Duniskwalgunyi বা Forked antlers (কাঁটাযুক্ত শিং), Chimney tops, Kuwahi (তুঁতের জায়গা) এবং Mulberry place কে বিশেষভাবে চিহ্নিত করতেন । বেশিরভাগ চেরোকি বসতি মহাধোঁয়াটে পর্বতমালার বাইরের প্রান্তে নদী উপত্যকায় অবস্থিত ছিল । জাতীয় উদ্যানের সীমানার মধ্যে Oconaluftee হচ্ছে একমাত্র পরিচিত স্থায়ী চেরোকি গ্রাম । বিক্ষিপ্ত বা মৌসুমী (ঋতুভিত্তিক) বসতিগুলির Cades Cove এবং Hazel Creek উপত্যকায় অবস্থান ছিল । ১৭৭৬ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকা বিপ্লবের প্রাদুর্ভাব (Outbreak) বা আরম্ভের সময় চেরোকিরা ব্রিটিশদের সাথে নিজেদের একত্রিত করলে আমেরিকান বাহিনী চেরোকি অঞ্চলে আক্রমণ শুরু করে ৷ Kittuwa, মধ্য শহর এবং পাহাড়ের উপর শহরগুলিকে পুড়িয়ে দেয়া হয় । ১৭৮০ এর দশকে Smokies এর উপকণ্ঠে বেশ কয়েকটি সীমান্ত অঞ্চল (Outskirt) স্থাপিত হয় । এর মধ্যে একটি হচ্ছে Whitson’s Fort, যেটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি রাজ্যের Cocke County তে আদমশুমারি-নির্ধারিত একটি স্থান এবং অসংগঠিত সম্প্রদায়ের (Unincorporated community) বসবাসকারী এলাকাটি বর্তমানে Cosby হিসেবে পরিচিত । অপরটি হচ্ছে Wear’s Fort, যেটি বর্তমানে পূর্ব টেনেসির একটি পাহাড়ী শহর এবং অবকাশ যাপনের এলাকা Pigeon Forge হিসেবে পরিচিত ৷ ইউরোপীয় অভিযাত্রী এবং বসতি স্থাপনকারীরা ১৭৯০ এর দশকে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপনের জন্য পশ্চিম-উত্তর ক্যারোলিনা এবং পূর্ব টেনেসিতে আসতে শুরু করেন । ইউরোপীয়দের সাথে চেরোকিদের প্রথম সাক্ষাৎ হয় ব্যবসায়িক সূত্র ধরে ৷ যাদের বেশিরভাগ ঔপনিবেশিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের Virginia এবং Carolina রাজ্য থেকে এখানে এসেছিলেন, যারা ব্যবসার মাধ্যমে ক্ষমতা বিস্তারের প্রভাব সৃষ্টি করেন ৷ ফরাসি ও ভারতীয় যুদ্ধ শেষে বসতি স্থাপনকারীদের আগমন চেরোকিদের সাথে দ্বন্দ্ব নিয়ে আসে, যারা এখনো অনেক জমিতে আইনি শিরোনাম ধরে রেখেছেন । ১৭৯৫ খ্রিস্টাব্দে Ralph Hughe দক্ষিণ-পূর্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যারোলিনা রাজ্যের মহাধোঁয়াটে পর্বতমালার Eponymous নদী উপত্যকায় অবস্থিত প্রত্নতাত্তিক জেলা Oconaluftee তে বসতি স্থাপন করেন । ১৮০১ খ্রিস্টাব্দে Whaley brothers, William এবং John উত্তর ক্যারোলিনা থেকে স্থানান্তরিত হয়ে বর্তমান উদ্যানের Greenbrier অংশে বসতি স্থাপন করেন । Greenbrier হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত টেনেসি রাজ্যের Northern Great Smoky Mountains এর একটি উপত্যকা । যেটি এখন একটি বিনোদনমূলক এলাকা । Greenbrier এক সময় অ্যাপালাচিয়ান সম্প্রদায়ের String এর বাড়ি ছিল । ১৮০২ খ্রিস্টাব্দে William Ogle (জন্ম ১৭৫১ খ্রিঃ – মৃত্যু ১৮০৩ খ্রিঃ) যিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যারোলিনা রাজ্যের Edgefield County এর শহর Edgefield এর White Oak Flat এ আসেন । যেখানে তিনি কুঁড়েঘর বা কুটির (Cabin) নির্মাণের জন্য গাছের গুঁড়িগুলি (Logs) কেটে প্রস্তুত করেন । যদিও William Ogle মৃত্যুবরণ করেন Edgefield ফিরে আসার পরপরই । অবশেষে তার স্ত্রী Martha Jane Huskey ও তার পরিবার এবং অন্যান্য পরিবারের সাথে White Oak Flat এ ফিরে আসেন, যা শেষ পর্যন্ত পূর্ব টেনেসির পাহাড়ী শহর Gatlinburg স্থায়ী বসতি স্থাপনকারী হিসেবে পরিণত হয় । তাদের সন্তান এবং নাতি-নাতনিরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের Texas রাজ্যের মহানগর Houston এর দক্ষিণ-পশ্চিমের শহর Sugar Land এবং দক্ষিণ-পূর্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি রাজ্যের Great Smoky Mountains এর একটি স্রোত এলাকা Roaring Fork এ ছড়িয়ে পড়েন । ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ চেরোকিরা মহাধোঁয়াটে পর্বতমালা জাতীয় উদ্যানের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিয়ে মার্কিন সরকারের কাছে হস্তান্তর করেন । Great Smoky Mountains এর একটি বিচ্ছিন্ন উপত্যকা Cades Cove মূলত ঐ পরিবারগুলি দ্বারা বসতি স্থাপিত হয়েছিল, যারা জমি ফটকাবাজ William “Fighting Billy” Tipton এর কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণে জমি কিনেছিলেন । ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে এ বসতি স্থাপনকারীদের মধ্যে Lucretia Oliver এবং John Oliver ও তার পরিবার Cades Cove এ বসতি স্থাপন করেন । ১৮২১ খ্রিস্টাব্দের পর Jobes, Gregorys, Sparkes, Cable সহ আরো কিছু পরিবার Cades Cove এ বসতি স্থাপন করেন । ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে Cades Cove এ প্রতিষ্ঠিত হয় খ্রিস্টধর্ম বিশ্বাসীদের Baptist Church । ইউরোপীয়-আমেরিকানরা এখানে বসতি স্থাপনের জন্য বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের Deep South অঞ্চলে জমি অধিগ্রহণের জন্য তাদের চাপের কারণে ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে রাষ্ট্রপতি Andrew Jackson ভারতীয় অপসারণ আইনে স্বাক্ষর করেন । পরবর্তীতে প্রক্রিয়াটি শুরু করার ফলে শেষ পর্যন্ত মিসিসিপি নদীর পূর্বে বসবাসকারী সমস্ত ভারতীয় উপজাতিকে ভারতীয় অঞ্চলে (Indian Territory) তথাপি বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের Oklahoma রাজ্যে জোরপূর্বক অপসারণ করা হয় । সে সময় ভারতীয় উপজাতির সাথে বেশিরভাগ চেরোকিদেরকেও সরানো হয়েছিল । যদিও তাদের বংশধররা পরবর্তীতে এখানে জমি অর্জন করে রয়ে যায় । Cataloochee হচ্ছে উত্তর ক্যারোলিনা রাজ্যের Great Smoky পর্বতমালার একটি উপত্যকা, যেটি একসময় অ্যাপালাচিয়ান এবং চেরোকি সম্প্রদায়ের শিকারের জায়গা ছিল ৷ যেখানে Caldwell Family এর সদস্যগণ ১৮৩৪ খ্রিস্টাব্দে স্থানান্তরিত হয়ে বসতি স্থাপন করেন । পরবর্তীতে Moses এবং Patience Proctor ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে উত্তর ক্যারোলিনার দক্ষিণ-পশ্চিম Great Smoky পর্বতমালার Little Tennessee নদীর একটি উপনদীর স্রোত বা প্রবাহ এলাকা Hazel Creek এ ইউরো-আমেরিকান বসতি স্থাপন করেন । যদিও ১৮৩৮ খ্রিস্টাব্দে উপজাতি সম্প্রদায়ের বেশিরভাগ অংশই কান্নার পথ ধরে (Trail of Tears) পশ্চিমে সরে যেতে বাধ্য হয়েছিল । সামান্য কয়েকজন মূলত William Holland Thomas এর প্রচেষ্টার মাধ্যমে Qualla Boundary বা কোয়াল্লা সীমানায় তাদের জমি ধরে রাখতে সক্ষম হন এবং চেরোকি ভারতীয়দের (Cherokee Indians) পূর্ব ব্যান্ড (Eastern Band) গঠিত হয় । ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকায় গৃহযুদ্ধ শুরু হলে টেনেসি এবং উত্তর ক্যারোলিনা উভয় রাজ্যই সঙ্ঘ মৈত্রীতে (Confederacy) যোগদান করে । Great Smoky পর্বতমালায় ইউনিয়নের (Union) অনুভূতি এ দু’টি রাজ্যের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল । সাধারণত Smokies এর টেনেসি প্রান্তের সম্প্রদায়গুলি Unionকে সমর্থন করে এবং উত্তর ক্যারোলিনার সম্প্রদায়গুলি Confederateদের সমর্থন করে । টেনেসি রাজ্যের ৭৪ ভাগ Cocke Countian, ৮০ ভাগ Blount Countian এবং ৯৬ ভাগ Sevier Countian বিচ্ছিন্নতার বিরুদ্ধে ভোট দেন । উত্তর ক্যারোলিনা রাজ্যের Smoky পর্বতমালার Cherokee, Haywood, Jackson এবং Macon county গুলিতে বসবাসকারী প্রায় ৪৬ ভাগ জনগন বিচ্ছিন্নতার পক্ষে ছিলেন ।

অধিকাংশ Southern Appalachian এর মতে এ অঞ্চলের অর্থনীতি কৃষির উপর নির্ভরশীল ছিল । এছাড়া কিছু পরিশ্রমী কৃষক Gristmill, General store এবং Sorghum press চালাতেন ৷ Smokies এর আদি বাসিন্দাদের জীবনে ধর্ম ছিল একটি কেন্দ্রীয় বিষয় । বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জীবন সাধারণত গীর্জা কেন্দ্রিক ছিল । Christian Protestantism- বিশেষ করে Primitive Baptist, Missionary Baptist, Methodist এবং Presbyterians এ অঞ্চলের ধর্মীয় সংস্কৃতিতে প্রাধান্য পেয়েছে । ১৮৮০ এর দশকে Great Smokyতে প্রথম Logging operation শুরু হয় । Splash dam বা Boom ব্যবহার করে নদীতে ভাসমান Log গুলিকে আশেপাশের শহরগুলির কাঠের কলগুলিতে ভাসিয়ে পাঠিয়ে দেয়া হতো । যদিও বনের দুর্গমতা বড় ধরনের Logging কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করে । করাত কল বা কাঠের সংস্থাগুলি (Firm) উত্তর-পূর্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিম্নভূমির বনাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বে মিসিসিপি ব-দ্বীপের (Mississippi Delta) উপর নির্ভরশীল হয়ে পরে । যেহেতু এ অঞ্চলের বনজ সম্পদ প্রায় নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল এবং আমেরিকা গৃহযুদ্ধের পর লাভজনক কাঠের ব্যবসা ও কাঠের চাহিদা আকাশচুম্বী হওয়ার ফলে উদ্যোক্তারা দক্ষিণ অ্যাপালাচিয়ার কুমারী বনে (Virgin forest) পৌঁছানোর উপায় খুঁজতে শুরু করেন ৷ শেতাঙ্গ বসতি স্থাপনকারীরা এখানে আসার সাথে সাথে উদ্যোক্তারা পাহাড়ে একটি প্রধান শিল্প হিসেবে Logging গড়ে তুলেছিলেন । Smokies এর সবচেয়ে বড় Logging operation টি ছিল Little River Lumber Company এর, যেটি ১৯০১ খ্রিস্টাব্দ এবং ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে Little River Watershed টি Logged করেছিল ৷ Little River Lumber Company এর প্রধান মালিক এবং ব্যবস্থাপক Wilson B. Townsend এর নামানুসারে কোম্পানির নামকরণ করা হয়েছে । Townsend Elkmont কোম্পানিটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের Ohio রাজ্যের Cleveland অঞ্চলের পশ্চিম পাশের Tremont এলাকায় কোম্পানি শহরও প্রতিষ্ঠা করেছে ৷ Wilson B. Townsend একটি রেলপথ নির্মাণ করেছিলেন । দ্বিতীয় বৃহত্তম Logging operation টি ছিল Ritter Lumber Company এর, যেটি ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দ এবং ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে Hazel Creek Watershed টি Logged করেছিল । ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ Logging কার্যক্রম এক চেটিয়াভাবে শীর্ষে ছিল । Wilson B. Townsend একই বছর ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে Elkmont অঞ্চলকে একটি পর্যটন গন্তব্য হিসেবে বিজ্ঞাপন দেয়া শুরু করেন । Wonderland Hotel এবং Appalachian Club প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল অভিজাত Knoxvillian দের গ্রীষ্মকালীন পর্বত পথের সন্ধান করা বা পর্বত ভ্রমণের জন্য । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যারোলিনা রাজ্যের Haywood County এর দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর Canton এর The Champion Fibre Company Plant এর মাধ্যমে ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ থেকে শুরু করে প্রায় ঊনিশ শতক জুড়ে Great Smoky পর্বতমালায় বাছাইকৃত Logging ঘটেছে । ঊনিশ শতকের শেষদিকে রেলপথ (Railroad) এবং Band saw technology উদ্ভাবনের ফলে দক্ষিণ অ্যাপালাচিয়ার পার্বত্য অঞ্চলে বড় আকারের Logging সম্ভব করে তুলেছিল । অন্যান্য কাঠ সংক্রান্ত কাজের (Lumbering operations) মধ্যে Three M Lumber এবং Champion Fibre Company Plant অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার উভয়ই Oconaluftee Watershed কে Logged করেছিল । Champion Fibre Company Plant প্রায় ৯২০০০ একর জমি কিনে নেয়, যার মধ্যে Greenbrier Cove এলাকা এবং Clingman’s Dome থেকে Mount Kephart এলাকা পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল । সুতরাং Heavy logging মহাধোঁয়াটে পর্বতমালা জাতীয় উদ্যানের অনেকটাই ধ্বংস করে দেয় (১৮৭০০০ একর বা ৭৬০ বর্গ কিঃমিঃ) । ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে এর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা Logged করা হয়েছিল, যার ফলে Logging operation থেকে আগুন দ্বারা উদ্যানটি পুড়ে যায় । কারণ তৎকালীন সময়ে Cut-and-run-style clearcutting এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে মারাত্মকভাবে ধ্বংস করে দেয় । ১৯২০ এর দশকের গোড়ার দিকে Appalachian Club এর বেশ কয়েকজন সদস্যের মধ্যে পূর্ব টেনেসি রাজ্যের টেনেসি নদীর তীরে অবস্থিত শহর Knoxville এর ব্যবসায়ী Colonel David Chapman মহাধোঁয়াটে পর্বতমালায় (The Great Smoky Mountains) একটি জাতীয় উদ্যান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা শুরু করেন । Great Smoky Mountains Park Commission এর প্রধান হিসেবে Colonel David Chapman মূলত জমি ক্রয়ের জন্য তহবিল সংগ্রহ, স্থানীয়, রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সত্তার অধীনে (Federal entities) উদ্যান প্রচেষ্টার সমন্বয় সাধনের জন্য দায়িত্বপূর্ণ বা দায়িক (Responsible) ছিলেন । ১৯৩০ এর দশকে Logging সংক্রান্ত এ ধরণের সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় । বলতে গেলে লগিং সংস্থাগুলি (Logging firms) মহাধোঁয়াটে পর্বতমালার কুমারী বনের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বনজ সম্পদ হ্রাস বা অপসারণ করেছিল । যদিও Civilian Conservation Corps, Works Progress Administration ও কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যান্য সংস্থাগুলি জাতীয় উদ্যান তথাপি মহাধোঁয়াটে পর্বতমালায় Trails, Fire watchtower এ অবকাঠামোগত উন্নতির জন্য শ্রমিকদের নিয়োগ প্রদান করে অবস্থার উন্নতি সাধন করে । দুঃখের বিষয় যে, ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে নভেম্বরের শেষে এবং ডিসেম্বরের শুরুতে একটি সিরিজ দাবানল (Wildfire) জাতীয় উদ্যান এবং আশেপাশের প্রায় ১৭৯০০ একর (৭২ বর্গ কিঃ মিঃ ) এলাকাজুড়ে গ্রাস করে । ঐ দাবানলে অন্তত ১৪ জন লোক মর্মান্তিকভাবে নিহত হন ৷ স্থানীয় পরিবেশসহ বিভিন্ন স্থাপনা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত এবং ধ্বংস করে । অস্বাভাবিক খরা, প্রচণ্ড তাপদাহ কিংবা অগ্নিসংযোগের কারণে এটি ঘটেছিল বলে সন্দেহ করা হয় । সে সময় বয়ে যাওয়া দুর্বার বাতাস, যা আগুনকে আরো ব্যাপকভাবে ত্বরান্বিত করেছিল । ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের The Great Fire এর পর থেকে দাবানলগুলি পূর্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ ছিল এবং টেনেসি রাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলির মধ্যে এটি ছিল একটি । মহাধোঁয়াটে পর্বতমালা জাতীয় উদ্যানটি ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেয়া হয় এবং উদ্যানের কেন্দ্রের কাছে অবস্থিত একটি পর্বত (Pass) পাস Newfound Gap এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে President Franklin D. Roosevelt সভাপতিত্ব করেন । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের University of Chicago, Illinois বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অবস্থিত (Gothic Revival Chapel) গথ ভাষা বা গথ জাতি বা গথিক পুনরুজ্জীবন প্রার্থনাগৃহের Rockefeller Memorial Chapel থেকে President Franklin Delano Roosevelt জাতীয় উদ্যানটি উৎসর্গ করেন । উদ্যানের বেশ কিছু আকর্ষণীয় স্থান যেমন: Cades Cove, Log cabin, উপত্যকা, Roaring Fork, Cataloochee, Alum Cave Bluffs গুহা, Arch Rock, শস্যাগার, Elkmont, Laurel Falls Trail জলপ্রপাত, Mountain Farm Museum ভবন, Oconaluftee নদীর উপর Mingus Mill এবং গীর্জাসহ অনেকগুলি সংরক্ষিত ঐতিহাসিক ভবন রয়েছে । উদ্যানে Hiking এর জন্য ৮৫০ মাইল (১৩৭০ কিঃমিঃ) পথ এবং কাঁচা রাস্তা রয়েছে, যার মধ্যে Appalachian Trail এর ৭০ মাইল (১১০ কিঃমিঃ) পথ রয়েছে । দিনের বেলা Hiking ছাড়াও জাতীয় উদ্যানে Backpacking এবং Camping করার সুযোগ আছে । অনেকগুলি Base camp, আশ্রয়কেন্দ্র, Picnic Area গুলি উদ্যান জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে । উদ্যানের Backcountry site এলাকায় বা স্থানে Campfire এর উপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা রয়েছে । দক্ষিণ অ্যাপালাচিয়া এবং পূর্বে Cherokee জনগণের নিজস্ব সংস্কৃতি রয়েছে । এ পর্যটন এলাকাটি হচ্ছে অর্থনীতির চাবিকাঠি । বিশেষ করে Pigeon Forge, Gatlinburg, Cherokee এবং North Carolina ইত্যাদি । জাতীয় উদ্যানের প্রবেশপথে Tucklaleechee Cove এ অবস্থিত Townsend (TN) এবং টেনেসি রাজ্যে ২০০৬ খ্রিস্টাব্দে Great Smoky Mountains Heritage Center খোলা হয় এ অঞ্চলের সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক সংরক্ষণের লক্ষ্যে । Tennessee Smokies Baseball Team টি পূর্ব টেনেসির শহর Sevierville খেলে থাকে, যেটির নামকরণ করা হয়েছে Tennessee রাজ্য এবং এ মহাধোঁয়াটে পর্বতশ্রেণীর জন্য । The Great Smokies হচ্ছে Gatlinburg SkyLift এবং Gatlinburg SkyBridge এর আবাসস্থল । কখনো Great Smoky তে শরতের রঙ । সত্যিই অপূর্ব ।

* তথ্যসূত্র: অন্তর্জাল (The Internet)



Wednesday, 25 August 2021

অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান (Atish Dipankar Shrigyan)



অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান (Atish Dipankar Shrigyan) 
-----------------------------------------------------

বাঙালি জাতিসত্তার রয়েছে হাজার বছরেরও বেশি সুপ্রাচীন ইতিহাস । পৃথক জাতি হিসেবে পথচলা থেকে শুরু করে আজ অবধি ধর্ম, দর্শন, জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তিসহ নানাবিদ কর্মকাণ্ড এবং প্রাত্যহিক জীবনাচারে বাঙালির রয়েছে এক স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য । শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় জীবন ও সাহিত্যে উৎকর্ষতার সুদৃঢ় ভিত সৃষ্টি করে প্রাচীন বাংলায় এক অতি উন্নত মানের সভ্যতা এবং সংস্কৃতি গড়ে উঠে । যেখান থেকে পূর্ব-পুরুষদের অনুপ্রেরণা নিয়ে উত্তরাধিকার সূত্রে এখনো আমরা আমাদের অস্তিত্ব, সে ইতিহাস এবং ঐতিহ্যকে বহন করে চলছি । ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে রয়েছে আমাদের আত্ম-পরিচয়, মাতৃভাষা, স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ, জাতীয়তা, নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ঐতিহাসিক ঘটনাবলী, ত্যাগ, মূল্যবোধ, সুখ্যাতি, সমৃদ্ধি এবং বিভিন্ন দিক থেকে অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত । যা আমাদের গৌরবের বিষয় । নানা জাতি-ধর্মের মানুষের বসতি এখানে এবং অনেক কীর্তিমান, স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব এবং সু-মহান গুণীজনের নাড়ির শিকড় এ বাংলায় । তেমনি একজন অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান জন্ম নিয়েছেন বাংলার মাটিতে ।

অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান প্রাচীন বাংলার একজন শ্রেষ্ঠ বাঙালি বৌদ্ধ দার্শনিক, প্রখ্যাত মহাপণ্ডিত, শিক্ষাবিদ এবং সমাজ সংস্কারক । যিনি পাল শাসনামলে একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং বৌদ্ধধর্মপ্রচারক ছিলেন । প্রাচীন ভারতে ১৬টি মহাজনপদ বা অঞ্চলের মধ্যে একটি শক্তিশালী জনপদ হচ্ছে মগধ । বর্তমান ভারতের বিহারের পাটনা, গয়া এবং বাংলার কিছু অংশ নিয়ে তৎকালীন সময়ে এ রাজ্য গঠিত হয়েছিল । সে সময় মগধ এর রাজধানী ছিল রাজগৃহ এবং পরবর্তীতে পাটলিপুত্র । মগধের প্রথম রাজা ছিলেন হর্য্যঙ্ক রাজবংশের রাজা ভট্টিয় বা মহাপদ্ম । অঙ্গরাজ্যের অধিপতি অঙ্গরাজ রাজা ভট্টিয়কে যুদ্ধে পরাজিত করে মগধকে অঙ্গের করদ রাজ্যে পরিণত করেন । পরবর্তীতে রাজা ভট্টিয় বা মহাপদ্মের পুত্র ১৫ বছর বয়সী বিম্বিসার (সেনিয়) অঙ্গরাজ্যের সে সময়কার রাজা উদয়িনকে যুদ্ধে পরাজিত করে মগধের ঐতিহাসিক রাজা হিসেবে অধিষ্ঠিত হন, যিনি ৫৪২ খ্রিস্টপূর্ব থেকে ৪৯২ খ্রিস্টপূর্ব পর্যন্ত মগধ রাজ্য শাসন করেন । ভারতবর্ষে পালযুগে মগধের পূর্ব সীমান্তবর্তী প্রদেশ অঙ্গদেশের পূর্ব প্রান্তের সামন্তরাজ্য সাহোর এর ভাগলপুরের রাজ্যকেন্দ্র বা রাজধানী বিক্রমপুরীতে তথাপি বর্তমান বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জ জেলার অন্তর্গত বিক্রমপুর পরগনার বজ্রযোগিনী গ্রামের কাঞ্চনধ্বজ রাজপ্রাসাদে বঙ্গাধিপতি পাল রাজাদের অধীনস্ত গৌড়ীয় সামন্ত রাজা (চন্দ্রবংশীয় রাজা) কল্যাণশ্রী এর ঔরসে রাণী প্রভাবতী দেবীর গর্ভে অতীশ দীপঙ্কর ৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন । উল্লেখ্য: ভাগলপুরী বা ভাগলপুর (Bhagalpur) হচ্ছে বর্তমান ভারতের বিহার রাজ্যের ভাগলপুর জেলার একটি শহর এবং পৌর কর্পোরেশনাধীন এলাকা । যদিও তৎকালীন সময়ে সাহোর, সমস্ত বিহার ও বঙ্গদেশ পাল বংশীয় রাজাদের অধীন ছিল । সাহোর এর অধীনে ছিল বিক্রমপুর নগর । দশম-একাদশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্করের পারিবারিক নাম হচ্ছে  আদিনাথ চন্দ্রগর্ভ । তিন ভাইয়ের মধ্যে বড় ভাই পদ্মগর্ভ, অতীশ দীপঙ্কর হচ্ছেন দ্বিতীয় এবং ছোট ভাই শ্রীগর্ভ । কথিত আছে, অতীশ দীপঙ্কর খুব অল্প বয়সে বিয়ে করেন এবং তার পাঁচজন স্ত্রীর গর্ভে মোট ৯ জন পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করে । এদের মধ্য থেকে পুন্যশ্রী নামে একজন পুত্রের নামই শুধু জানা যায় ।

অতীশ দীপঙ্করের মা প্রভাবতী দেবী ছিলেন একজন ব্রাহ্মণকন্যা । শৈশবে মায়ের কাছ থেকেই হিন্দুদের প্রাচীনতম ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ বেদ এর প্রথম পাঠ নেন । বাবার কাছ থেকে শিক্ষা নেন তন্ত্রোপসনা ও চিকিৎসাবিদ্যা । মা-বাবার পাশাপাশি স্থানীয় বজ্রাসন বিহারে অতীশ দীপঙ্কর প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন । হস্তশিল্প, ব্যাকরণ এবং গণিতশাস্ত্রে বিস্ময়কর দক্ষতা অর্জন করেন প্রতিভাময়ী এ মহান ব্যক্তি । পরবর্তীকালে মহাবৈয়াকরণ বৌদ্ধ পণ্ডিত জেত্রির পরামর্শ অনুযায়ী ভারতের মগধের নালন্দায় শাস্ত্র শিক্ষা গ্রহণ করে অল্পদিনের মধ্যেই বিরল প্রতিভা প্রদর্শন করে তিনি ত্রিপিটক ভৈবাষিক দর্শন ও তান্ত্রিক শাস্ত্রে অসাধারণ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন । আচার্য বোধিভদ্র তাকে ১২ বছর বয়সে শ্রমণ রূপে দীক্ষা দেন এবং পণ্ডিত বিহারের মহাধ্যক্ষ আচার্য্য তিলোপাহ প্রজ্ঞাভদ্রের সান্নিধ্য লাভ করেন । আচার্য বোধিভদ্রের গুরুদেব অবধূতিপাদের নিকট থেকে সর্ব শাস্ত্রে পাণ্ডিত্য অর্জন (মহাযান বৌদ্ধ মতবাদে সমৃদ্ধ হন) করেন এবং বিক্রমশীলা বিহারের উত্তর দ্বারের দ্বারপণ্ডিত নাঙপাদের নিকটে তন্ত্র শিক্ষা গ্রহণ করেন । মগধ রাজ্যের ওদন্তপুরী বিহারে মহাসাঙ্ঘিকাচার্য শীলরক্ষিতের কাছে উপসম্পদা (সন্ন্যাসব্রত) দীক্ষা গ্রহণ করেন এবং এ সময়ে তিনি ‘দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান’ নামে আখ্যায়িত হন । আচার্য বিদ্যাকোকিলের কাছ থেকে শূন্যবাদের শিক্ষা নিয়ে ‘শূন্য থেকে জগতের উৎপত্তি’ এ তত্ত্ব (শূন্যবাদ) প্রচার করেন । এক পর্যায় তিনি সংসারের প্রতি বিরাগভাজন হয়ে দৈনন্দিন জীবন ত্যাগ করে আধ্যাত্মিক চর্চা, যোগ, ভাষা, দৈব তত্ত্ব এবং ধর্মীয় জ্ঞানার্জনের জন্য পশ্চিম ভারতের কৃষ্ণগিরি বিহারে গমন করে জ্ঞানী ভিক্ষু রাহুলগুপ্তের নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন । তার কাছ থেকে রপ্ত করেন হীনযানী ত্রিপিটক, বৈশেষিক দর্শন, মহাযানী ত্রিপিটক, মাধ্যমিক ও যোগাচারীদের অধিবিদ্যা, বৌদ্ধধর্মের অনুধ্যানিক বিজ্ঞান এবং গুঢ়তত্ত্ব । সে কারণে অতীশ দীপঙ্কর ‘গুহ্যজ্ঞানবজ্র’ উপাধিতে ভূষিত হন । এছাড়া চর্যাপদের পদকর্তা শান্তিপা এর কাছ থেকে শিক্ষাগ্রহণ করেন এবং আচার্য ধর্মরক্ষিত কর্তৃক সর্বশ্রেষ্ঠ ভিক্ষুদের শ্রেণিভুক্ত হয়ে একজন অপ্রতিদ্বন্দ্বী পণ্ডিতের স্বীকৃতি লাভ করেন । ১০১১ খ্রিষ্টাব্দে মালয়দেশের (বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপ) অন্তর্গত সুবর্ণদ্বীপে এসে আচার্য চন্দ্রকীর্তির নিকটে বৌদ্ধ দর্শনশাস্ত্রের বিভিন্ন বিষয় এবং কল্যানমিত্র আচার্য ধর্মপাল বা ধর্মকীর্তির নিকট বোধিচিত্ত বা বোধিচিত্যোৎপাদ গবেষণা ও সাধনা (মহাযানী প্রশিক্ষণ লাভ) করে শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন । এখানে তিনি বৌদ্ধ ত্রিপিটক, প্রজ্ঞাপারমিতা, ন্যায়-দর্শনাদি, গুহ্য বিদ্যা এবং সিদ্ধাচার্যদের যোগ তন্ত্র ইত্যাদি সাধনা ও আত্মস্থ করেন । এছাড়া অন্যান্য পণ্ডিতগণ যেমন; সুখগতি, ধর্মমিত্র, কসলসম্ভব, সুরবজ, দেবমতী, রবিগুপ্ত, প্রজাভদ্র এবং গুপ্তসারের সাথে তিনি প্রায়ই মতবিনিময় করতেন । সেখানে প্রায় ১২ বছর শিক্ষাগ্রহণের পর ৪৩ বছর বয়সে মগধে ফিরে তিনি পালরাজ প্রথম মহীপালের অনুরোধে বিক্রমশিলা (ভাগলপুর, বিহার) মহাবিহারের আচার্যপদে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন । পশ্চিমবঙ্গের বিহার প্রদেশে অবস্থিত বৌদ্ধ বিহার ওদন্তপুরী এবং সোমপুর বিহারেও তিনি প্রায় ১৫ বছর শিক্ষকতা করেন । সোমপুর বিহারে অবস্থানকালেই তিনি মধ্যমকরত্নপ্রদীপ গ্রন্থের অনুবাদ করেন । তিব্বতের বৌদ্ধ রাজা লাঃ লামা ইয়োসি হোড্ (লাহ্লামা-যে-শেস্) তিব্বতে বৌদ্ধধর্মের উন্নতি বা আদর্শকে সমুন্নত করার লক্ষ্যে অতীশ দীপঙ্করকে তিব্বতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে স্বর্ণোপহার এবং পত্রসহ বিক্রমশীলা মহাবিহারে দূত প্রেরণ করেন । অতীশ দীপঙ্করকে বার্তা দেন যে, তিনি তিব্বতে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করলে তাকে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদান করা হবে । যদিও, নির্লোভ-নিরহঙ্কার অতীশ দীপঙ্কর বিনয়ের সাথে বৌদ্ধ রাজার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন । বৌদ্ধ রাজা লাঃ লামা ইয়োসি হোড্ এর মৃত্যুর পর তারই ভ্রাতুষ্পুত্র লহা-লামা-চং-ছুপ জ্ঞানপ্রভ (৯৮৪ – ১০৭৮) তিব্বতের রাজা হন এবং তার একান্ত অনুরোধে ১০৪১ খ্রিষ্টাব্দে অতীশ দীপঙ্কর নেপাল হয়ে তিব্বত যাওয়ার পথে নেপালের রাজা অনন্তকীর্তি তাকে সংবর্ধনা প্রদান করেন ও সেখানে ‘খান বিহার’ নামক একটি বৌদ্ধবিহার স্থাপন করেন । নেপালের রাজপুত্র পদ্মপ্রভ অতীশ দীপঙ্করের কাছে বৌদ্ধধর্মে দীক্ষিত হন । ১০৪২ খ্রিষ্টাব্দে তিব্বতের গুজে নামক স্থানে তিব্বতরাজ লহা-লামা-চং-ছুপ অতীশ দীপঙ্করকে রাজকীয় অভ্যর্থনার মাধ্যমে থো লিং বিহারে নিয়ে যান । তাকে ‘রাগদুন’ নামক এক বিশেষ ধরনের বাদ্যযন্ত্রের সুরের মূর্ছনার পাশাপাশি রাজ প্রতিনিধির হাতে চীনা ড্রাগনের ছবি আঁকা পাত্রে চা পান করান । পরবর্তীতে রাজপ্রাসাদে এক মহানুষ্ঠানের মাধ্যমে পাণ্ডিত্যের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে হো-বো-জে (স্বামী ভট্টারক বা সর্বোচ্চ গুরু) উপাধিতে ভূষিত করেন । শ্রেষ্ঠ চিন্তানায়ক অতীশ দীপঙ্করের মূল কর্ম কেন্দ্রস্থল ছিল তিব্বতের গুরুত্বপূর্ণ থো-লিং বিহার । তিব্বতের সমাজ, সংস্কৃতি, ধর্ম এবং সাহিত্যে পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের এক উজ্জ্বল ও গৌরবময় অবদান রয়েছে । তিনি তিব্বতে থাকাবস্থায় সর্বত্র ঘুরে ঘুরে বৌদ্ধধর্ম প্রচার, বৌদ্ধ ধর্মের ব্যাপক সংস্কার, তিব্বতী বৌদ্ধধর্মে প্রবিষ্ট তান্ত্রিক পন্থার অপসারণের চেষ্টা করে বিশুদ্ধ মহাযান মতবাদের প্রচার (যার মূলমন্ত্র ছিল মানুষের কল্যাণ ও মুক্তিসাধন), বৌদ্ধ ক-দম্-পা (গে-লুক) নামের লামা সম্প্রদায়ের (তিব্বতের বৌদ্ধ ভিক্ষু) উদ্ভব, বৌদ্ধবিহার প্রতিষ্ঠা এবং স্থানীয় পোন ধর্মের প্রভাব থেকে মুক্ত করে শৃঙ্খলা ও তন্ত্রচর্চার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন । তিব্বতে বহু প্রাচীন সংস্কৃত পুঁথি আবিষ্কার করেন এবং নিজ হাতে সেগুলোর প্রতিলিপি তৈরি করে বঙ্গদেশে প্রেরণ করেন । কিন্তু তার মূল সংস্কৃত ও বাংলা রচনার প্রায় সবগুলোই বর্তমানে বিলুপ্ত, যদিও তিব্বতী ভাষার অনুবাদগুলো সংরক্ষিত আছে । বৌদ্ধশাস্ত্র, চিকিৎসা এবং কারিগরিবিদ্যা সম্পর্কে তিব্বতী ভাষায় বেশকিছু গ্রন্থ রচনা করেন । সংস্কৃত এবং পালি গ্রন্থাবলী তিব্বতী ভাষায় অনুবাদ করেন । এছাড়া অসংখ্য গ্রন্থ রচনা, অনুবাদ এবং সম্পাদনা করেন । তিব্বতের ধর্ম, রাজনীতি, জীবনীগ্রন্থ এবং স্তোত্রনামাসহ তিব্বতী মহাগ্রন্থ ‘তাঞ্জুর’ সংকলন করেন । তিনি বিখ্যাত গ্রন্থ ‘বোধিপথপ্রদীপ’ রচনা করেন । অতীশ দীপঙ্কর রচিত গ্রন্থাবলীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে: চর্যা-সংগ্রহপ্রদীপ, সত্যদ্বয়াবতার, মধ্যমোপদেশ, সংগ্রহগর্ভ, হৃদয়-নিশ্চিন্ত, বোধিসত্ত্ব-মণ্যাবলি, বোধিসত্ত্ব-কর্মাদিমার্গাবতার, শরণাগতাদেশ, মহযান-পথ-সাধন-বর্ণ-সংগ্রহ, শুভার্থ-সমুচ্চয়োপদেশ, দশ-কুশল-কর্মোপদেশ, কর্ম-বিভঙ্গ, সমাধি-সম্ভব-পরিবর্ত, লোকোত্তর-সপ্তকবিধি, গুহ্য-ক্রিয়া-কর্ম, চিত্তোৎপাদ-সম্বর-বিধি-কর্ম, শিক্ষাসমুচ্চয়-অভিসাম্য, মধ্যমকরত্নপ্রদীপ, প্রজ্ঞাপারমিতাপিন্ডার্থপ্রদীপ, একবীরসাধন এবং বিমল-রত্ন-লেখনা ইত্যাদি । বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাগীতি বা চর্যাপদের আবিষ্কর্তা, বাঙালি ভারততত্ত্ববিদ, সংস্কৃত বিশারদ, সংরক্ষণবিদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা ও রামচরিতম্ বা রামচরিতমানস পুঁথির সংগ্রাহক বিখ্যাত পণ্ডিত মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এবং ইতালির খ্যাতনামা প্রাচ্যবিদ, ইন্দোলজিস্ট, পূর্ব এশীয় গবেষণা পণ্ডিত ও তিব্বতী সংস্কৃতি-বৌদ্ধ ধর্মের ইতিহাস বিশেষজ্ঞ গ্যুসেপ তুচ্চি (Giuseppe Tucci) অতীশ দীপঙ্করের অনেকগুলো বই আবিষ্কার করেন । জ্ঞান, প্রজ্ঞা, বাগ্মিতা, যুক্তি, অগাধ পাণ্ডিত্য এবং তিব্বতী ভাষায় নানাবিদ গ্রন্থাবলী রচনা করার কারণে তিব্বতীরা অতীশ দীপঙ্করকে ‘অতীশ’ উপাধীতে ভূষিত করেন । যার অর্থ সর্বশ্রেষ্ঠ বা মহামানব বা শান্তি । তিব্বতবাসী সনাতন (হিন্দু) ধর্মের নবম অবতার ও বৌদ্ধধর্মের প্রবর্তক মহামতী গৌতম বুদ্ধের (সিদ্ধার্থ) পরই অতীশ দীপঙ্করকে শ্রেষ্ঠ গুরু হিসেবে সম্মান করেন । তারা তাকে পরম পূজনীয় এবং সর্বপবিত্র মহাপ্রভু (জোবো ছেনপো) হিসেবে মান্য করেন । তারা মনে করেন, অতীশ দীপঙ্কর তিব্বতের জনগণের প্রার্থনার জবাব দিতে দেবতার প্রতিমূর্তি হয়ে এসেছেন এবং তাদের মঙ্গল, কল্যাণ আর প্রশান্তির জন্য । তিনিই হচ্ছেন গৌতম বুদ্ধের প্রতিনিধি এবং সুদূর হিমালয় পর্বত চূড়ার ঊর্ধ্ব আকাশে দ্যুতিমান একটি শুকতারা । ১০৫৪ খ্রিষ্টাব্দে তিব্বতের লাসা নগরীর অদূরে চে-থঙের দ্রোলমা লাখাং তারা মন্দিরে (বিহারে) শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্কর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন । অতীশ দীপঙ্করের আধ্যাত্মিক পুত্র দ্রোমতন তার শিষ্যদেরকে সাথে নিয়ে তিব্বতে অতীশ দীপঙ্করের শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন এবং ১০৫৫ খ্রিষ্টাব্দে সেখানে একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন । ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৮শে জুন বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সঙ্ঘ এর সভাপতি শ্রীমৎ বিশুদ্ধানন্দ মহাথের গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ সহযোগিতায় সহস্রাধিক বছরের বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান, বাঙালি, মহাজ্ঞানী অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের পবিত্র চিতাভস্ম বা দেহভস্মকে স্মৃতিস্বরূপ হিসেবে চীন থেকে ঢাকায় ধর্মরাজিক বৌদ্ধবিহারে এনে সেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেন ।

রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী জেলা মুন্সীগঞ্জের অন্তর্গত ‘বিক্রমপুর’ । প্রাচীন বাংলার একটি ঐতিহাসিক অঞ্চল । ধারণা করা হয়, বৈদিক যুগ (ছয় হাজার বছরেরও বেশি পূর্বেকার বেদবর্ণিত সময়কাল) থেকে ভাওয়াল এবং সোনারগাঁও (সুবর্ণ গ্রাম) রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পূর্বে এটিই ছিল বাংলার প্রাচীনতম রাজধানী । উল্লেখ্য যে, ভাওয়াল জমিদার বংশের পূর্বপুরুষগণ মুন্সীগঞ্জের অন্তর্গত বজ্রযোগিনী গ্রামের বিখ্যাত পুশিলাল শোত্রীয় ব্রাহ্মণগোত্রের বাসিন্দা ছিলেন । বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তর তীর থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকা পার হয়ে সুসং পাহাড় পর্যন্ত বিস্তীর্ণ ভূ-ভাগের মধ্যে জয়ানশাহি গহীন অরণ্য অঞ্চলের উত্তরাংশকে মধুুপুর অরণ্য অঞ্চল এবং দক্ষিণাংশকে ভাওয়াল অরণ্য অঞ্চল বলা হয় । দ্বাদশ শতাব্দীর পরবর্তীকালে প্রায় ছয় শত বছর পাঠান এবং মুঘল শাসকরা ভাওয়াল অঞ্চল শাসন করেন এবং এ আরণ্যকের মাঝখানে গড়ে উঠে এক প্রশাসনিক অঞ্চল, যেটি ‘ভাওয়াল পরগণা’ নামে পরিচিত । উত্তরে আটিয়া ও আলেপসিং পরগণা, দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা, পূর্বে লক্ষ্যানদী ও মহেশ্বরদি পরগণা এবং পশ্চিমে কাশিমপুর ও দুর্গাপুর পরগণা । বর্তমান গাজীপুর, টাঙ্গাইল এবং ঢাকা জেলার কিছু অংশ ছিল ভাওয়াল পরগণার অন্তর্গত । প্রাচীন ভাওয়াল পরগনা যেটি সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (২৭৩-২৩২ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ) মৌর্য সাম্রাজ্যের অধিকারে ছিল । যাই হোক, সে প্রাচীন কাল থেকেই বৌদ্ধ জ্ঞান চর্চা এবং পরবর্তীতে সাংস্কৃতিক প্রভাবের জন্য বিক্রমপুর বেশ সুপরিচিত । প্রাচীন বঙ্গের (বঙ্গ জনপদের) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছিল বিক্রমপুর । বিক্রমপুর নামের ‘বিক্রম’ অর্থ হচ্ছে সাহস বা বীরত্ব এবং ‘পুর’ অর্থ হচ্ছে নগর বা এলাকা । ধারণা করা হয়, বিক্রমপুর নামটির উৎপত্তি বিক্রমাদিত্য থেকে । বিক্রমাদিত্য এর অর্থ হচ্ছে সূর্যের প্রতাপ । মুন্সীগঞ্জ তথাপি বিক্রমপুর এক অতি প্রাচীনতম জনপদ । নবদ্বীপ, গৌড়, সোনার গাঁ, সপ্তগ্রাম এবং ঢাকা প্রভৃতি স্থানসমূহ পরিচিত ও খ্যাতি লাভ করার অনেক আগে থেকেই বিক্রমপুর শিক্ষা, সাহিত্য, বিজ্ঞান, ধর্ম, শিল্প, বাণিজ্য, সংস্কৃতি, সভ্যতা এবং ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এক ঐতিহাসিক প্রত্নতত্ত্ব নগরী হিসেবে এর সুদীর্ঘ ইতিহাসের কারণে ব্যাপক পরিচিতি ও সুনাম রয়েছে । মুর্শিদাবাদ ও বর্ধমান প্রভৃতি স্থানসমূহ বিক্রমপুরের অনেক পরে খ্যাতি অর্জন করে । প্রাচীন কাল থেকেই কালের পথ পরিক্রমায় বিভিন্ন শাসকগণ শাসন করেছেন এ জনপদ বা অঞ্চলকে । যার পিছনে রয়েছে হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ আর হৃদয় বিদারক এক মর্মান্তিক রক্তপাতের ইতিহাস! নানা জাতি-ধর্মের মানুষের বসতি এখানে । অনেক জ্ঞানী, গুণী এবং বিশিষ্ট জনের জন্ম মুন্সীগঞ্জে । মুন্সীগঞ্জের রয়েছে হাজার বছরের অর্জিত এক ঐতিহাসিক গৌরব । আর এ মুন্সীগঞ্জের সদর উপজেলার বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের বজ্রযোগিনী গ্রামে রয়েছে বৌদ্ধ বাঙালি পণ্ডিত, বৌদ্ধধর্মপ্রচারক, মহাতান্ত্রিক এবং জ্ঞানতাপস অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের বাস্তুভিটা বা ভিটেমাটি । যেটি ‘পণ্ডিত ভিটা’ নামে পরিচিত । তবে, অতীতে কেউ কেউ এটিকে ‘নাস্তিক পণ্ডিতের ভিটা’ নামে বিবেচনা করতেন । কারণ, অতীশ দীপঙ্কর সন্ন্যাস গ্রহণের ফলে তৎকালীন বিভিন্ন সমাজের অনেকে তাকে নাস্তিক হিসেবে অভিহিত করতেন । তারা মনে করতেন বৌদ্ধরা ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তা বিশ্বাস করেন না । অতীশ দীপঙ্করের জন্মসহস্রবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তার জন্মস্থান ‘পণ্ডিত ভিটায়’ বৌদ্ধরীতিতে একটি পবিত্র স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে । যেটি সাদা রঙের চতুর্মুখী গোলাকার মঠ । এটিকে অতীশ দীপঙ্কর স্মৃতি চৈত্য বা অতীশ দীপঙ্কর শান্তি স্তূপা বলা হয় । পাথর দ্বারা এর কারুকার্য করা হয়েছে । প্রায় ৬০ ফুট গভীরে পাইলিং বা স্তূপাকার করা চারতলা বিশিষ্ট কাঠামোয় তৈরি মঠের নিচে (স্মৃতি চৈত্যে) সংরক্ষিত আছে চীন থেকে নিয়ে আসা অতীশ দীপঙ্করের চিতাভস্ম বা দেহভস্ম । এটিকে ঘিরেই অবস্থিত পবিত্র উপাসনালয় বা পীঠস্থান । পবিত্র স্মৃতিস্তম্ভের চত্বরে রয়েছে বৌদ্ধ ধর্মের চিরায়ত প্রতীক ২টি সিংহ মূর্তি । ছোট ছোট কয়েকটি চীনা বাঁশ গাছ । চীনা স্থাপত্যরীতি অনুসরণ করে নির্মিত হয়েছে ছোট একটি মন্দির (তিব্বতীয় ড্রাগন খচিত), প্রেক্ষাগৃহ, গ্রন্থাগার এবং দক্ষিণ দিকের শেষপ্রান্তে একটি একতলা ভবন । কখনো ঘ্রাণ পাওয়া যায় ধূপ-কর্পূরের সু-গন্ধ । অনাবিল সুন্দর ও নিভৃত পল্লীর চমৎকার মনোমুগ্ধকর পরিবেশ । বিভিন্ন জাতের ফুল গাছের সমারোহ । সত্যিই এক নান্দনিক দৃশ্য । আশেপাশে ফলকের মধ্যে লেখা আছে অতীশ দীপঙ্করের জীবনী ও বাণী । বিশিষ্ট জনের উক্তি বা বাণী । পবিত্র ধর্মগ্রন্থ ত্রিপিটক, বাইবেল, আল-কোরআন এবং গীতা থেকে নেয়া বিভিন্ন বাণী লিপিবদ্ধ করা হয়েছে । আঙ্গিনার চারপাশে সবুজ বৃক্ষরাজি, বেশ কয়েকটি উঁচু তালগাছ, পাশেই সড়ক, কচুরিপানা ভর্তি খাল, পুষ্করিণী, অদূরে চাষযোগ্য কৃষিজমি এবং কয়েকটি বসত বাড়ি । বৌদ্ধ মহাচার্য অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের সম্মানার্থে ২০০৪ খ্রিস্টাব্দে চীন সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় তিব্বতের নকশা (Model) অনুকরণে স্মৃতি স্তম্ভটি নির্মাণ করা হয় । অতীশ দীপঙ্কর শান্তি স্তূপা বা অতীশ দীপঙ্কর স্মৃতি চৈত্যের মূল স্থপতি হচ্ছেন সংস্কৃতিকর্মী, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণকারী, শিল্প-সমালোচক, প্রাবন্ধিক, কবি এবং স্থপতি রবিউল হোসাইন । পরবর্তীতে এটির স্থাপত্যে কিছু পরিবর্তন এনে এর নকশা তৈরি করেন স্থাপত্য অধিদপ্তরের সহকারী প্রধান স্থপতি বিশ্বজিৎ বড়ুয়া । অতীশ দীপঙ্করের ভিটেমাটি বা পবিত্র শান্তি স্তূপাটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান হিসেবে পরিণত হয়েছে । বৌদ্ধমত প্রচার ও সংস্কারের জন্য বিখ্যাত পণ্ডিত এবং বৌদ্ধ ধর্মপ্রচারক অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের অবদানকে স্মরণ করা হয় কৃতজ্ঞচিত্তে । অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের চির ভাস্বর অবদান এবং অমর মহাত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধার নিদর্শন স্বরূপ তার স্মৃতিকে চির অম্লান ও জাগরিত রাখার জন্য এখানে একটি বিদ্যাপীঠ ‘অতীশ দীপঙ্কর আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়’ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে । এছাড়া মুন্সীগঞ্জে একটি অতীশ দীপঙ্কর গণ পাঠাগার ও মিলনায়তন রয়েছে । বাংলাদেশে ঢাকা মহানগরীর বনানীতে পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের নামানুসারে অতীশ দীপংকর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (Atish Dipankar University of Science and Technology) নামে একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে । ঢাকায় অতীশ দীপঙ্কর গবেষণা পরিষদ কার্যালয় (Atish Dipankar Research Council Office), রাজধানীর উপকন্ঠে অতীশ দীপঙ্কর মহাসড়ক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হল এবং কানাডাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তিব্বতীদের অতীশ দীপঙ্কর বৌদ্ধ ধ্যান কেন্দ্র (Atish Dipankar Buddhist Meditation Center) রয়েছে । ব্যক্তিগত ও সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা প্রতিবছর নানাবিদ অনুষ্ঠানাদিসহ বিভিন্ন শাখায় ‘অতীশ দিপঙ্কর শ্রীজ্ঞান’ নামে স্বর্ণপদক বা পুরস্কার প্রদান করে থাকে । অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত হয়েছে তথ্যচিত্র ‘শ্রীজ্ঞান’ । ইংরেজী নাম Atish: The Eye Of Asia । প্রযোজক: শহীদ-ই-হাসান তুহিন । পরিচালক: নিতেশ সি দত্ত ।

অতীশ দীপঙ্কর তার শিক্ষকদের সরাসরি সান্নিধ্য পেয়ে ও জ্ঞানার্জনের মধ্য দিয়ে মৈত্রেয়নাথ, নাগার্জুন, বোধিভদ্র, আর্যদেব, শান্তিদেব, শান্তরক্ষিতের মতো অনেক প্রতিথযশা দার্শনিকের চিন্তাধারার ভেতর থেকে নিজের পথ খুঁজেছেন । বিক্রমশীলা মহাবিহারে সদর দরজার ডানপাশে প্রভাবশালী বৌদ্ধ শিক্ষক-দার্শনিক, সাতবাহন রাজবংশের রাজা ইয়াযনা শ্রী সাতাকর্ণী (Yajna Sri Satakarni) এর উপদেষ্টা ও ‘মহাযান’ বৌদ্ধধর্মের মাধ্যমিক শাখার প্রতিষ্ঠাতা নাগার্জুনের (আনুমানিক ১৫০ – ২৫০ খ্রিঃ) ছবি অঙ্কিত রয়েছে এবং বামপাশে অঙ্কিত রয়েছে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের ছবি । ২০০৪ খ্রিস্টাব্দের ২৬শে মার্চ থেকে ১৫ই এপ্রিল পর্যন্ত চলা বিবিসি এর একটি জরিপ প্রতিবেদনে সর্বকালের সেরা বাঙালির তালিকায় তাকে ১৮তম ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে । অসামান্য জ্ঞানের অধিকারী কীর্তিমান এ মহৎপুরুষ আমাদের গর্ব । জ্ঞান তাপস অতীশ দিপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের কর্ম, গুণ ও চিরভাস্বর অবদানের জন্য মানুষ তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে । তিনি মুন্সীগঞ্জ তথাপি বিক্রমপুর, বাংলাদেশ, বাঙালি এবং সারাবিশ্বের মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস । অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান নামের অর্থ হচ্ছে ‘যার জ্ঞান আলোর ন্যায় জ্বলে’ । মহাকালের স্রোতধারায় শত শত বছর কেটে গেলেও এখনো মহাপুরুষ অতীশ দীপঙ্করের জ্ঞানের দীপ শিখা প্রজ্জ্বলিত এবং চির শাশ্বত । বাংলার মাটিতে জন্ম নেয়া এ সূর্য সন্তান জ্ঞানচর্চাকারী অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান এমনই এক প্রদীপ; যিনি জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করে প্রেম, ভালোবাসা, সর্বজীবে দয়া, অহিংসা, অসাম্প্রদায়িকতা, বিনম্রতা, ত্যাগ, শান্তি এবং মানবতাই একমাত্র মুক্তির পথ-  যা আমাদেরকে শৈশব থেকে মৃত্যু অবধি এ শিক্ষাই দেন । তার সৃষ্টিশীল প্রতিভা, বৈচিত্র্যময় কর্ম এবং বিশিষ্ট গুণাবলী দ্বারা জ্ঞানের আলোর মহিমায় মহিমান্বিত করেছে এ জগৎকে । শান্তি, সুন্দর, কল্যাণ এবং মানবতার জন্য তিনি একজন পথপ্রদর্শক । তিনি অমর । এটিই সত্য । চিরসত্য তার অমিয় বাণী: —  ''সার্থক অর্জন হচ্ছে স্বার্থহীনতা এবং শ্রেষ্ঠ যোগ্যতা আত্মনিয়ন্ত্রণ । মহানতম গুণ হচ্ছে অন্যের সেবা আর সর্বোত্তম ধর্মীয় অনুশাসনের নাম নিরবচ্ছিন্ন বৌদ্ধিক জাগরণ । সফল ঔষধ নিজেকে সবকিছু থেকে মুক্ত রাখা এবং শ্রেষ্ঠ কর্ম হচ্ছে পার্থিব পথের অনুসরণ না করা । শ্রেষ্ঠ মঙ্গল হচ্ছে প্রশান্ত হৃদয় এবং সর্বোত্তম প্রচেষ্টা হচ্ছে ফলাফল সম্পর্কে চিন্তা না করা । শ্রেষ্ঠতম ধ্যান হচ্ছে কিছু আকড়ে না ধরে যেতে দেয়া আর দৃশ্যমানের মধ্য দিয়ে সত্যকে দেখতে পারাই শ্রেষ্ঠ প্রজ্ঞা ।''

* তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া, অন্তর্জাল (The Internet) । *ছবি: নিজ ।

#Bikrampur #Munshiganj #Bangladesh #AtishDipankar #Buddhisttemple #culture #archaeologicalsites
https://www.atishdipankar.com/home
https://web.facebook.com/muhammadashraful.alam/posts/pfbid0JHdF9sCW5v5yoBzvXP1jW7P43Gjp9BU2xbJCDEuV3jMnH1GdVDRuwQwFSvv93KQ5l

Tuesday, 27 April 2021

মোরগ ফুল (Cockscomb flower)

 


মোরগ ফুল ।

এশিয়ার নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল (দক্ষিণ, পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া) এবং ক্রান্তীয় বা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আফ্রিকায় এর আদি নিবাস । ওয়েস্ট ইন্ডিজ, উত্তর এবং দক্ষিণ আমেরিকাতেও পাওয়া যায় । এ ফুলগাছটি স্থানীয় পর্যায়ে প্রাকৃতিকভাবেই বন্যফুল হিসেবে জন্মে । এছাড়া এটিকে পুষ্টিকর সবুজ শাকসব্জী হিসেবে চাষ করা হয় । মোরগ ফুলগাছ মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলিতে ঐতিহ্যবাহী খাদ্য (বা শস্য) হিসেবে গ্রহণ করে এবং নাইজেরিয়ার অন্যতম প্রধান পাতাযুক্ত সবুজ শাকসব্জি, যেখানে এটি ‘Soko yokoto’ নামে পরিচিত, যার অর্থ “স্বামীদের স্বাস্থ্যবান এবং সুখী করুন” । এটি পালং শাকের মতো এমন স্বাদ নয় । আর্দ্র অঞ্চলে ভালো কাজ করে ৷ স্পেনে এটি “Rooster comb” নামে পরিচিত ৷ ভারত, বেনিন, কঙ্গো এবং ইন্দোনেশিয়ায় আহার্য সামগ্রী হিসেবে পরিচিত ও ব্যবহৃত হয় । সম্ভবত এটি মূলত ভারতবর্ষে জন্মগ্রহণ করেছিল ৷ প্রাচীনকাল থেকেই যেখানে ভারতীয়, বার্মিজ এবং চীনা উদ্যানরক্ষক বা মালী এ গাছটিকে মন্দিরগুলির নিকটে রোপণ বা চাষ করেছিলেন, যা দ্বারা বিভিন্ন ধরণের ধর্মীয় তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় যুক্ত ছিল এবং এটি রোপণ বা চাষের ফলে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল । দারুণ আকর্ষণীয়, মনোমুগ্ধকর এবং মখমলের মতো মোলায়েম এ রক্তবর্ণ ফুলের জনপ্রিয়তা বাংলাদেশেও রয়েছে ।
এর ইরেজি নাম: Cock’s comb flower, Red Fox, Feather Cockscomb, Red Spinach, Plumed Cockscomb, Feathery Amaranth, Woolflower, Cockscomb ‘Century Rose’, Wild Cockscomb, বাংলা নাম: মোরগ ফুল / লালমুর্গা / মোরগঝুঁটি, হিন্দি নাম: Lalmurga, মনিপুরী নাম: Haolei, তামিল নাম: Kozhi poo ।
বৈজ্ঞানিক নাম: Celosia argentea var. cristata ।
এটি বিভিন্ন Celosia argentea প্রজাতির Cristate বা Crested প্রজাতি । Celosia genus এর মধ্যে প্রায় ৫০ টিরও বেশি প্রজাতি রয়েছে । এর মধ্যে C. argentea var. argentea বা Lagos spinach (A.K.A. quail grass, Soko, Celosia, Feather cockscomb, Silver cockscomb), Celosia argentea var. cristata, C. argentea var. plumosa Voss (Feathery amaranth, Plume Cockscomb, Plumed Celosia) ইত্যাদি নানা বৈচিত্র্যের প্রজাতি । পূর্ব আফ্রিকার উচ্চভূমিতে এ উদ্ভিদগুলি Swahili নামে সুপরিচিত । এছাড়া Celosia spicata, যেটি গম সেলোসিয়া (Wheat celosia) নামেও পরিচিত । এ প্রজাতিটির ফুলের মাথাগুলি গমের মাথা বা বোতল ব্রাশের (Bottle brush) সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ । তবে Celosia plumosa প্রজাতিটি Prince of Wales feather হিসেবে পরিচিত এবং ভারত ও জাপানে আগাছা হিসেবে বিবেচিত হয় । গাছটি প্রায়শই হরিণ দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হয় ।
Amaranthaceae পরিবারভুক্ত একটি উদ্ভিদ ।
গণ: Celosia (Celosia নামটি এসেছে প্রাচীন গ্রীক শব্দ κήλεος (কেলিয়স) বা Kelos থেকে, যার অর্থ হচ্ছে ‘জ্বলন্ত’ বা ‘Burned’)
প্রজাতি: C. argentea ।
কান্ডের ঠিক অগ্রভাগে মোরগের মাথা’র লাল ঝুঁটির মতো আকৃতির কারণেই এর নাম মোরগ ফুল । তবে বাংলাদেশে অঞ্চল ভেদে মোরগঝুঁটি ও লালমুর্গা নামেও পরিচিতি রয়েছে । প্রায় সর্বত্রই এটির দেখা মেলে । মোরগ ফুল বর্ষজীবি গুল্ম জাতীয় ভেষজ উদ্ভিদ । এ গাছটি উষ্ণতা প্রিয় এবং কিছুটা খরা সহনশীল, তাই শুকনো পরিস্থিতিতে সর্বোত্তম উপায়ে বৃদ্ধি পায় । ঠান্ডার প্রতি খুব সংবেদনশীল হওয়ার কারণে হিমশীতল আবহাওয়ায় বাঁচতে পারে না । এ বর্ণময়-রঙিন-প্রাণবন্ত মোরগফুল গ্রীষ্ম, হেমন্ত, শীত ঋতুর ফুল । চাষ করার দুই-তিন মাসের মধ্যেই গাছে মোহনীয় ফুল ধরে এবং গাছটি কয়েক মাসের মধ্যে প্রকৃতির নিয়মেই মৃত্যু ঘটে । ফুলগুলি প্রায় ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে । পরিপক্ক ফুলের মাঝে ডাঁটা বীজের মতো বীজ হয় । প্রতিটি ফুল থেকে একটি উচ্চ সংখ্যক বীজ উৎপাদিত হতে পারে, প্রতি গ্রামে ১৫০০ বা প্রতি আউন্সে ৪৩০০০ পর্যন্ত মসৃণ-চকচকে বীজ থাকে । বিভিন্ন ধরণের আকর্ষণীয় সুন্দর ফুলগুলি হচ্ছে Gypsy Queen, Red Velvet, Fan Dance Scarlet, King Coral, Crested Armor, Forest Fire, Flamingo Series (Flamingo Feathers), Arrabona Red, Fresh Look Red, Fresh Look’ Mix, Plumed Castle ইত্যাদি । এটি একটি শোভাময় পল্লবগুচ্ছ ও ফুল, সর্বোপরি সৌন্দর্যবর্ধক গাছ । গাছের কান্ড পুরু ও নরম, দেখতে লালচে বা সাদা । শাখা-প্রশাখা বের হয় । এর গায়ে অসংখ্য গিঁঠ থাকে । পাতা লম্বা, এর শিরা-মধ্য শিরা সুস্পষ্ট এবং পাতার অগ্রভাগ বর্শার ফলা আকৃতির । চটকদার, স্বতন্ত্র এবং সূক্ষ্মতাপূর্ণ বিভিন্ন দুর্দান্ত রঙের ফুলগুলি পালকগুচ্ছ মোমবাতির শিখা, প্রবাল ও মস্তিষ্কের অনুরূপ কিছু মনে হয় । অপরূপ সুন্দর উজ্জ্বল রঙের মোলায়েম পালকের মতো ফুলগুলি অনেকগুলি ছোট ছোট ফুলের সমন্বয়ে গঠিত । বলতে গেলে, ছোট ছোট ফুলে ঠাসা মঞ্জরি । পুষ্পমঞ্জরির ধরণ হচ্ছে Spike । মোরগ ফুল ফোটে থোকায় থোকায়, উজ্জ্বল রঙের কারণে পোকামাকড় ও মানুষকে আকৃষ্ট করে তীব্রভাবে । বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের রঙ ভিন্ন হয় । লাল, কমলা, ক্রিমযুক্ত হলুদ, হালকা বেগুনি থেকে গোলাপী, সাদা, রূপালি, সোনালী, Magenta, Apricot, Grey এবং কিছু ক্ষেত্রে দোআঁশলা বা সংকর বা মিশ্ররঙেও (Hybrid) প্রস্ফুটিত হয় । বিবাহের জন্য অপূর্ব ফুলের তোড়া, টেবিল বিন্যাস এবং বহিরঙ্গনে তাজা এবং শুকনো উভয় ফুল দুর্দান্তভাবে প্রদর্শন করে তোলে । মোরগ ফুল তিন ভাগে বিভক্ত হতে পারে; তাদের Spikes, Plumes এবং Crestsগুলি একে অপরের থেকে পৃথক হলেও বৈশিষ্ট্যে অভিন্নতা রয়েছে । ডাঁটা গাছের মতো দেখতে মোরগ ফুল গাছের এ সুন্দর রেশমী ফুলটি গন্ধহীন এবং এ ফুল শুকিয়ে গেলেও দীর্ঘদিন যাবৎ এর উজ্জ্বলতা নষ্ট হয় না । ফুলগুলি উভলিঙ্গ (Hermaphrodite) এবং উদ্ভিদটি Dodecaploidy প্রদর্শন করে । আদর্শ বীজতলায় বা এ ফুলের বীজ বপন করে মোরগ ফুলগাছের বংশ বিস্তার করা যায় । পরবর্তী মৌসুমে চাষ করার জন্য এ ফুলের বীজকে সংরক্ষণ করা যায় । এ গাছে ফুলের পাপড়ি হয় না, তবে কিছু প্রজাতিতে Capsule আকৃতির বা ফাটিয়া যায় এমন শুকনো ফল দেখা যায় । মোরগ ফুলগাছ পর্যাপ্ত পরিমাণ ভেষজ গুণ সমৃদ্ধ । এ গাছের উপাদানগুলির মধ্যে রয়েছে Water, Vitamin C, Minerals, Carotenoids, Protein, Nitrate এবং Oxalate । বিশেষ করে শিকড় এবং বীজের মধ্যে Triterpene saponins সনাক্ত হয়েছে । এছাড়া শিকড়ের মধ্যে Sugar এবং পাতা ও কান্ডে Flavonoid রয়েছে । চুলকানি, মুখের ঘা, অতিরিক্ত প্রস্রাব, চোখ দিয়ে পানি পড়া এবং রক্ত আমাশয় চিকিৎসায় এ ফুলগাছ ব্যবহৃত হয় । কোরিয়ায় প্রথাগতভাবে মিষ্টান্ন, চালের পিঠা এবং মদ্যপযুক্ত পানীয় হিসেবে ফুলগুলিকে চারিত ও সুশোভিত করে ব্যবহৃত হয় । প্রায় সকল প্রকার সমৃদ্ধ মাটিতেই মোরগ ফুলগাছ জন্মে ৷ বিশেষত সূর্য আলোকিত উর্বর দো-আঁশ মাটিতে বেশ ভালো হয় । গাছটি ৬.০ থেকে ৭.০ এর pH মাত্রায় মাটি পছন্দ করে । প্রায় ৬০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (60 °F) বা ১৬ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড (16 °C) মাটির তাপমাত্রা গাছটি বৃদ্ধির জন্য আদর্শ । এ উদ্ভিদ বা গাছের জন্য ক্ষতিকর কয়েকটি ছত্রাকজনিত রোগ (Powdery mildew, Edema, Fungal leaf spot) এবং পোকামাকড় বা কীটপতঙ্গ রয়েছে । যদিও কিছু Aphids, Spider mites, White filies গাছটিকে খেয়ে ফেলার জন্য বেশ পরিচিত । এ গাছটি প্রায়শই উচ্চতা ৩০ সেন্টিমিটার (০১ ফুট) পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় । এছাড়া এ জাতীয় কিছু কিছু বামন ধরণের উদ্ভিদ যেমন Jewel Box Mixture, Toreador কেবলমাত্র ০৬ থেকে ০৮ ইঞ্চি (লম্বা) পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় । গাছটিকে জোরে আঘাত করা এবং শামুক থেকে রক্ষা করাও জরুরি । বর্তমানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এ ফুলের চাষ করা হয় । 

https://muhammadashrafulalam.wordpress.com/2021/04/27/%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a6%97-%e0%a6%ab%e0%a7%81%e0%a6%b2-cockscomb-flower/

Monday, 19 April 2021

Lake Natron

 🌿 ———————————————————————————————————————------------ 


🌿আফ্রিকা মহাদেশের পূর্ব আফ্রিকার দেশ তাঞ্জানিয়ার উত্তর প্রান্তে ২৯৬০ মিটার উচ্চতার ঈশ্বরের পর্বত নামে পরিচিত ওল ডোইনিও লেংগাই (Ol Doinyo Lengai) আগ্নেয় পর্বত অবস্থিত । পর্বতটি মূলত তাঞ্জানিয়ার বিগত কয়েক হাজার বছরের সর্বাধিক সক্রিয় একটি আগ্নেয়গিরি । এটি পৃথিবীর আগ্নেয়গিরিগুলোর মধ্যে অনন্য এবং ভয়ানক । এই আগ্নেয়গিরির অনেক পৌরাণিক কাহিনী রয়েছে । অদ্ভুত আগ্নেয়গিরিটি নাইট্রোকার্বোনেট এবং পটাশিয়াম লাভার উদগীরণ ঘটায় । এটিই হচ্ছে বিশ্বের একমাত্র সক্রিয় কার্বোনেটাইট আগ্নেয়গিরি যার আয়তন প্রায় ১০৪০ বর্গকিলোমিটার । এই আগ্নেয় পর্বতের পাদদেশেই ৩.৬৬ মিলিয়ন বছর পূর্বেকার মানব পদচিহ্নগুলো (The hominid footprints) আবিষ্কৃত হয়েছে । ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে তাঞ্জানিয়ার আরুশা অঞ্চলের এনগোরোঙ্গোরো জেলার পিনয়িনি ওয়ার্ডে অবস্থিত প্রাক-ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান পেনিঞ্জে Australopithecus boisei মানবজাতির ১.৭৫ মিলিয়ন বছরের পুরোনো জীবাশ্মযুক্ত চোয়াল ও দাঁতের সন্ধান পাওয়া যায় । এই ওল ডোইনিও লেংগাই আগ্নেয়গিরির ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে প্রত্যন্ত অঞ্চলে দিগন্ত বিস্তৃত এক সুবিশাল লবণাক্ত, সাবান বা সোডা এবং ক্ষারীয় পানির ন্যাট্রন হ্রদ (Lake Natron) অবস্থিত । আর ভয়ঙ্কর আগ্নেয়গিরি থেকেই সোডিয়াম কার্বোনেট এবং ক্যালসিয়াম কার্বোনেট লবণের গলিত মিশ্রণ ন্যাট্রন হ্রদের জলে মিশে । ফলে, এই হ্রদে উচ্চ লবণ, ম্যাগনেসাইট, ক্লোরিন এবং ঘন সোডিয়াম কার্বোনেট (ধৌতকরণ সাবান বা সোডা, সাবান ছাই, সাবান স্ফটিক নামেও পরিচিত) জমা হয় । কেনিয়া সীমান্তের কাছে ও সমুদ্রতল থেকে প্রায় ৬১০ মিটার উচ্চতায় অগভীর প্রশান্ত জলাধার এই ন্যাট্রন হ্রদের দৈর্ঘ্য ৫৭ কিঃ মিঃ (৩৫ মাইল), প্রশস্ত ২২ কিঃ মিঃ (১৪ মাইল) এবং জলের গভীরতা ৩ মিটার (৯.৮ ফুট) এরও কম । নয়নাভিরাম হ্রদটি আফ্রিকার মহাফাটল উপত্যকার (The Great Rift Valley) গ্রেগরি ফাটলে (Gregory Rift) অবস্থিত, যা পূর্ব আফ্রিকার ফাটল (East African Rift) উপত্যকার একটি অংশ । বিচিত্র এই হ্রদটি এনগোরোঙ্গোরো অগ্নিমুখের উত্তরে সেরেঙ্গেটি জাতীয় উদ্যান এবং এনগোরোঙ্গোরো সংরক্ষিত অঞ্চলের নিকটে । ন্যাট্রন হ্রদের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে বিলুপ্তপ্রায় অতি উচ্চ গেলাই আগ্নেয়গিরি (উচ্চতা: ৯৬৫২ ফুট বা ২৯৪২ মিটার) অবস্থিত । হ্রদের নিকটে অগভীর অংশে অসংখ্য কঠিন সাদা লবণাক্ত ভেলা (White salt-crust rafts) রয়েছে । এই হ্রদের পানির সাধারণ তাপমাত্রা হচ্ছে ৪০ °C (১০৪ °F) । তবে, প্রায়শই এখানে ৬০ °C (১৪০ °F) নরকীয় তাপমাত্রায় পৌঁছে । আর এই উচ্চ তাপমাত্রার কারণেই হ্রদের অধিকাংশ পানি বাষ্প হয়ে উড়ে যাওয়ার ফলে পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে যায় । তাই, বেশিরভাগ প্রাণীর জন্যই হ্রদটি আশ্রয়যোগ্য নয় । ন্যাট্রন হ্রদের এই বিস্ময়কর উচ্চমাত্রার বাষ্পীভবনের পেছনে রয়েছে এক জটিল Natron (Sodium carbonate decahydrate, Na2CO3·10H2O) এবং Trona (Trisodium hydrogendicarbonate dihydrate বা Sodium sesquicarbonate dihydrate, Na2CO3·NaHCO3·2H2O) । এই হ্রদের জলীয় দ্রবণের অম্লতা বা ক্ষারত্ব ১২ থেকেও বেশি pH মাত্রায় পৌঁছতে পারে (এই ক্ষারত্ব নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেনের সমন্বয়ে গঠিত দুর্গন্ধযুক্ত বর্ণহীন গ্যাস অ্যামোনিয়ার মতোই প্রায় মৌলিক) । ফলে এটি কোনো প্রাণীর ত্বক এবং চোখ পুড়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখে, যা পশু-পাখির পক্ষে অসহনীয় । মূলত, হ্রদের জলের ক্ষারধর্ম বা ক্ষারীয় প্রকৃতির কারণেই এমন ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে থাকে ।

তাঞ্জানিয়ার অতি লোনা (Hypersaline) হ্রদটিতে খুব কম সংখ্যক প্রাণীই বেঁচে থাকার সাফল্য অর্জন করতে পারে কারণ, এটি অত্যাধিক পরিমাণ লবণ ধারণকারী । কিন্ত, আগুনে পাখি ফ্ল্যামিঙ্গোর (Flamingo) ক্ষেত্রে সম্পূর্ণই ব্যতিক্রম । তাই ন্যাট্রন হ্রদের উষ্ণ জল, সংলগ্ন এলাকা ও বিচ্ছিন্ন দ্বীপগুলোই হচ্ছে বিলুপ্তপ্রায় Lesser Flamingo (Phoeniconaias minor) দের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং নিরাপদ একটি আদর্শ প্রজনন ক্ষেত্র ৷ পূর্ব আফ্রিকায় প্রায় ১.৫ - ২.৫ মিলিয়ন লেসার ফ্ল্যামিঙ্গো রয়েছে, যা বিশ্বের জনসংখ্যার তিন-চতুর্থাংশই প্রতিনিধিত্ব করে । তাদের বেশিরভাগই প্রকৃতির এই নির্ভেজাল স্বর্গ ন্যাট্রন হ্রদে নিরাপদ বসবাস এবং বংশবৃদ্ধি করার জন্য এক বৃহৎ পাল নিয়ে দল বেঁধে নেমে পড়ে । এছাড়া, পৃথিবীর অনান্য জায়গায় বিপন্ন হয়ে পড়া লেসার ফ্ল্যামিঙ্গোরা তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এই হ্রদকে বেছে নিয়েছে । কারণ, এখানে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে লাল-নীল-সবুজ বর্ণের Arthrospira fusiformis বা Spirulina নামক শেওলা জাতীয় খাদ্য (যার মধ্যে আছে ক্যারোটিনয়েড বা সালোকসংশ্লেষক রঙ্গক পদার্থ), পর্যাপ্ত বাসা বাঁধার স্থান এবং সর্বোপরি বিচ্ছিন্ন-নির্বিঘ্নিত-অব্যবহৃত এই হ্রদটি । ফ্ল্যামিঙ্গোরা সাধারণত এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকে এবং অন্য পা শরীরের নিচে থাকে । তাদের এই অদ্ভুত আচরণটি অজানা । হতে পারে, শরীরের তাপ সংরক্ষণ ও ভারসাম্য বজায় রাখে । এরা খুবই সামাজিক এবং কোলাহলপূর্ণ পাখি । ব্রাইন চিংড়ি, শৈবাল, পোকা-মাকড়, ছোট পোকা-মাকড়ের লার্ভা, মলাস্ক ও ক্রাস্টেসিয়ানকে পরিস্রুত করার মাধ্যমে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি বজায় রাখতে তাদের চঞ্চুর মধ্য দিয়ে জলশোধন ব্যবস্থা করতে পারে । সর্বভুক ফ্ল্যামিঙ্গোরা প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি বা মার্চের কাছাকাছি সময়ে লবন হ্রদে একত্রিত হয় । গোলাপী পাখায় ঢেউ তোলে আসার সাথে সাথে কখনো হঠাৎ তারা অদৃশ্য হয়ে যায় । আবার নিরিবিলি ফিরে আসে । বিশেষত জুলাই থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যে প্রায় ২ মিলিয়ন লেসার ফ্ল্যামিঙ্গো প্রজনন ও বাসা বাঁধার জন্য হ্রদের তীর বা সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছে যায় ৷ গ্রেটার ফ্ল্যামিঙ্গোরা কাদামাটির সমতল ভূমি ও ছাই রঙের মাটির ঢিবিতে বাসা বাঁধে এবং বংশবৃদ্ধি করে । বিটা-ক্যারোটিনের কারণে ফ্ল্যামিঙ্গো পাখি গোলাপী থেকে উজ্জ্বল লাল রঙের হয় । স্বাস্থ্যকর খাদ্য বা পুষ্টির কারণেই এরা প্রাণবন্ত রঙের অধিকারী । গোলাপী দেহ এবং শুভ্রতার মাঝে রক্তবর্ণ পাখার বিশাল ফ্ল্যামিঙ্গো গোষ্ঠী যখন হ্রদের চারদিকে ঘুরে বেড়ায় কিংবা অসীম নীলাকাশে উড়ে যায় প্রকৃতির এই এক অপার সৌন্দর্য ৷ মনোমুগ্ধকর অনুপম দৃশ্য ৷ স্বর্গীয় সুখের হাতছানি । এক দারুণ অনুভূতি । কখনো মনে হয়, এটি যেন ”গোলাপী কুচকাওয়াজ” ।
এখানে অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও লবণাক্ততা ভয়াবহ রূপ নিলেও বেশিরভাগ উদ্ভিদ এবং প্রাণীজ প্রাণীদের জন্য এই হ্রদকে অতিথিপরায়ণ করে তোলে । ন্যাট্রন হ্রদ হচ্ছে লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র অমেরুদণ্ডী প্রাণী ক্রাস্টেসিয়ানদের বাসস্থান । এখানে যথেষ্ট অভিযোজিত বেশ কয়েকটি ক্ষুদ্র বা আণুবীক্ষণিক জলজ জীব প্লাঙ্কটন (ব্যাকটেরিয়া, আর্কিয়া, ডায়াটমস ও সবুজ শৈবাল ইত্যাদি) জৈবিকভাবে অত্যন্ত উৎপাদনশীল । এই হ্রদটি আরো প্রায় ১০০০০০ অন্যান্য জলচর পাখিদের (ফিশার'স লাভবার্ড, মাছরাঙা, ভন ডার ডেকেন'স হর্নবিল, লাল ও হলুদ বারবেট, কর্ডনব্লু, লিলাক রোলার ব্রেস্ট, প্যারাডাইস হোয়াইডাহ, হিলডেব্রান্ট'স স্টারলিং, আর্নড'স বারবেট, রুপেল'স গ্রিফন) জন্য আশ্রয় ও সহায়তা প্রদান করে থাকে, যার মধ্যে অনেকগুলোই হচ্ছে প্যালিআর্কটিক অভিবাসী । উল্লেখ্য যে, প্যালিআর্কটিক হচ্ছে পৃথিবীর একটি জৈব-ভৌগলিক অঞ্চল, যা হিমালয় এবং উত্তর আফ্রিকার উত্তরে ইউরেশিয়া জুড়ে রয়েছে । পৃথিবীর ৮টি জৈব-ভৌগলিক অঞ্চলের মধ্যে এটিই বৃহত্তম এবং প্রায় সম্পূর্ণরূপে পূর্ব গোলার্ধে অবস্থিত । এই হ্রদ অঞ্চলে ব্রাজিলিয়ান সালমন গোলাপী পাখি মাটির ঢিবিতে বাসা বাঁধে ও বংশবৃদ্ধি করে । ন্যাট্রন লবণ হ্রদের আশেপাশের উপকূল অঞ্চল খবুই নির্জন । এখানে শুষ্ক মৌসুমে চন্দ্রের এক অনাবিল সুন্দর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পরিণত হয়, যেখানে মরুভূমির শুষ্কতার বিপরীতে উজ্জ্বল গোলাপী ক্যাকটাস ফুল ফোটে । ধুলাবালিময় পাথরসহ কদাচিৎ শীতের মরুভূমিতে তুষারপাত ঘটে । ডিসেম্বর মাস থেকে মে মাসের মধ্যে প্রতিবছর মোট ৮০০ মিলিমিটার (৩১ ইঞ্চি) অনিয়মিত মৌসুমী বৃষ্টিপাত হয় । তবে, তৃণভূমিতে কিছু পশুপালন ও মৌসুমী চাষ হয় ৷ ন্যাট্রন হ্রদ থেকে নিকটতম শহরগুলো হচ্ছে তাঞ্জানিয়ার আরুশা এবং কেনিয়ার মাগাদি । এই হ্রদের চারপাশে ও কাছাকাছি খাড়া-উঁচু পাহাড় বরাবর দ্রুতগামী স্রোত, বিপুল সংখ্যক আগ্নেয়গিরির হিংস্র জ্বালামুখ, গিরিখাত, রুপেল'স গ্রিফন শকুনের বাসা বাঁধার নিরাপদ জায়গা এবং উচ্ছ্বল জলপ্রপাতগুলো এক চমৎকার দুঃসাহসিক হয়ে ওঠে ৷ এছাড়া হ্রদ থেকে দূরে অরণ্যময় প্রাকৃতিক দৃশ্য, সু-দূর প্রান্ত, শুকনো আগ্নেয়গিরির শিলা, মরুভূমির গোলাপ, অ্যাডেনিয়াম, ওবেসাম, রসালো উদ্ভিদ, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় সরস খেজুর এবং মাসাই সম্প্রদায়ের সাথে খানিকটা সময় কাটানো এক অনন্য মিশ্রণ । হ্রদের অ-দূরে তাবু খাটানো বা শিবির করার জন্য অসংখ্য সুন্দর স্থান রয়েছে, যেগুলো ওল ডোইনিও লেংগাই পর্বত আরোহণেরও ঘাঁটি হিসেবে পরিণত হয় । এছাড়া, আরো কিছু ছোট ছোট শিবির এলাকা রয়েছে যেমন: মাসাই জিরাফ ইকো ক্যাম্প এবং ওয়ার্ল্ড ভিউ ইত‍্যাদি । পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করে এই হ্রদে পর্যটনের ক্ষেত্রে এক আকর্ষণীয় সম্ভাবনা রয়েছে, যা ইকোট্যুরিজম বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । তাঞ্জানিয়ার লেক ন্যাট্রন বেসিন ২০০১ খ্রিস্টাব্দের ৪ঠা জুলাই হ্রদটির অনন্য জীববৈচিত্র্যের কারণে আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমির রামসার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে । এই হ্রদটি আন্তর্জাতিক বন্যজীবন তহবিলের পূর্ব আফ্রিকার 'হ্যালোফাইটিক্স ইকোরিজিয়ন’ । তবে, এই প্রজনন ভূমিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সুরক্ষা বা সংরক্ষণ করা না হলে এটি পর্যায়ক্রমে হুমকির সম্মুখীন হতে পারে । এই অঞ্চলের আশেপাশে মাউ ফরেস্ট, তারাঙ্গীরে ন্যাশনাল পার্ক এবং মানিয়ারা লেক ন্যাশনাল পার্কের মত এখানেও একটি সুন্দর বন্যজীবন রয়েছে- যেখানে বসবাসকারী প্রাণী হচ্ছে: জেব্রা, উটপাখি, ওরিক্স, গেজেল, গেরেনুক, জিরাফ, ওয়াইল্ডেবিস্ট, মহিষ, উট, বেবুন, হাতি, সিংহ, লেসার কুডু, সোনালি শেয়াল, হায়েনা, চিতাবাঘ, বুশবাক, ওয়াটারবাক ও বানর ইত্যাদি । ন্যাট্রন হ্রদের অত্যন্ত শুষ্ক, গরম, কঠোর ও বৈচিত্র্যময় পরিবেশে কতিপয় স্থানীয় শৈবাল, অমেরুদণ্ডী প্রাণী, পাখি এবং এর প্রান্তের চারপাশে অতি কম নোনতা জলে কিছু মাছ বাঁচতে পারে । স্থানীয় দুইটি মৎস্য প্রজাতি হচ্ছে: অ্যালকালিন তেলাপিয়াস অ্যালকোলাপিয়া লাটিলাব্রিস এবং অ্যালকোলাপিয়া এনডালালানি । এই মাছগুলো গরম বসন্তে বৃহৎ জলাশয় থেকে নির্গত জলধারায় কিংবা পাথর খাঁজের কিনারাতে বেঁচে থাকার সাফল্য অর্জন করেছে, অর্থাৎ এরা এই হ্রদে অভিযোজিত হয়েছে । এছাড়া, বিপন্ন প্রজাতির অ্যালকোলাপিয়া অ্যালকালিকা মাছের উপস্থিতি রয়েছে এই হ্রদে, যদিও এটি এ স্থানীয় প্রজাতি নয় । হ্রদের উত্তর প্রান্তের অঞ্চলটি প্রস্তাবিত উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মিঠা জল ধারণের জন্য একটি বাঁধ বা পরিখা নির্মাণের কথা রয়েছে । এছাড়া ন্যাট্রন হ্রদের জন্য একটি নতুন হুমকি হচ্ছে যে, হ্রদের তীরে কয়লা চালিত শক্তি কেন্দ্র 'সোডা অ্যাশ প্লান্ট’ নির্মাণ করা, যেখানে প্রকল্পটি দমকলের সাহায্যে হ্রদের জল থেকে সোডিয়াম কার্বোনেট আহরণ করে নিষ্কাশনের মাধ্যমে রূপান্তর ঘটিয়ে ওয়াশিং পাউডার রপ্তানি করবে । সম্ভাবনা রয়েছে যে, উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠান উক্ত প্রকল্পের নিষ্কাশন দক্ষতা বা ক্ষমতা বাড়াতে একটি হাইব্রিড ব্রাইন শ্রিম্প প্রবর্তন করতে পারে । যদিও সচেতন নাগরিক, পরিবেশবাদী ও পরিবেশ রক্ষাকারী বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদের মুখে তানজানিয়ার ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন এবং টাটা কেমিক্যালস লিঃ এই প্রকল্প থেকে সরে আসে । এছাড়া, মধ্য কেনিয়া থেকে বয়ে আসা ইওয়াসো এনগিরো নদীর জল তাঞ্জানিয়ার ন্যাট্রন হ্রদে এসে মিশে থাকে । কিন্তু, এই নদীতে প্রস্তাবিত একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হলে হ্রদের স্বকীয়তা এবং এর উপর নির্ভরশীল বিশাল ফ্ল্যামিঙ্গো প্রজাতি ও অন্যান্য প্রাণী অনিবার্যভাবে হুমকির সম্মুখীন হবে । প্রত্যক্ষভাবে লেসার ফ্ল্যামিঙ্গোদেরকে বিলুপ্তির দিকে ধাবিত করবে । এদিকে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি মনুষ্য সৃষ্ট নানাবিধ কর্মকাণ্ড দ্বারা ফ্ল্যামিঙ্গো পাখিসহ এই অঞ্চলের জীব-বৈচিত্র্যকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে । ফলে, এই গ্রহের এক সুন্দর এবং নোনতা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আশ্চর্য সম্পদটি হারিয়ে যেতে পারে । সুতরাং যে-ই হোক না কেন, এই কাজ থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে ৷ তা না হলে, হ্রদের পরিবেশের ভারসাম্য এবং শান্তিভঙ্গের জন্য এমন নির্মম ব্যবস্থার মুখে লেসার ফ্ল্যামিঙ্গোদের বংশবৃদ্ধি অব্যাহত করার সম্ভাবনা খুবই নগন্য হবে । যার পরিণতিতে হ্রদের প্রজনন স্থানটি সম্ভাব্যভাবে ধ্বংস হয়ে এদের জীবন-জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে ভয়ঙ্কর ক্ষতি করবে । বিশ্বের ৭৫ শতাংশ লেসার ফ্ল্যামিঙ্গো পাখি এই হ্রদে জন্মগ্রহণ করে । তাই, এই ধরণের অদূরদর্শী ও পরিবেশ প্রতিবন্ধক উন্নয়নের ফলস্বরূপ পূর্ব আফ্রিকায় লেসার ফ্ল্যামিঙ্গোরা বিলুপ্তির মুখোমুখি হবে । এই কারণেই 'আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা' প্রজাতিটিকে “হুমকির কাছাকাছি” ঘোষণা করেছে । অতএব, হুমকির মুখে পড়া এই অভিবাসী প্রজাতিটির খাদ্য নিরাপত্তা, নিরাপদ আবাস, বংশবৃদ্ধি এবং সংরক্ষণ অতিজরুরি । পাশাপাশি “Think Pink" এর মাধ্যমে আফ্রিকার ফ্লেমিঙ্গোকে বাঁচাতে হবে এবং এদের রক্ষার জন্য প্রচার ও সচেতনা বৃদ্ধি করতে হবে www.birdlife.org । ন্যাট্রন হ্রদ এবং এর বাস্তুতন্ত্র স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য জীবন-জীবিকার একটি উৎস নির্বাহ করে ৷ মাসাই উপজাতি সদস্যরা এই হ্রদের 'রামসার জলাভূমি স্থানে' বিস্তৃত অর্ধ-যাযাবর যাজকবাদের (Semi-nomadic pastoralism) অনুশীলন করে থাকেন । হ্রদটির জলের সংস্পর্শে আসা বিপজ্জনক বিধায় এখানে সাঁতার কাঁটা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ । বিভিন্ন উৎস থেকে পানি এই হ্রদের ভিতরে প্রবেশ করতে পারে, কিন্তু কোনো নদী বা সমুদ্রের দিকে এখানকার পানি প্রবাহিত হয় না । ফলে, প্রকৃতিগতভাবেই নানা খনিজ পদার্থে সমৃদ্ধ হয়েছে ঐশ্বর্যময় এই হ্রদটি । হ্রদের চারপাশে শিলা বিছানার ভিত দিয়ে গঠিত । প্রচুর পরিমাণ সোডিয়াম এবং উচ্চ মাত্রার কার্বোনেটের আধিপত্যের কারণে ট্র্যাকাইট লাভা দ্বারা প্রায় ২৬ লক্ষ বছর আগে (Pleistocene period) ন্যাট্রন হ্রদের তলদেশ তৈরি হয়েছিল । যদিও উক্ত লাভায় ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা ছিল খুবই কম । হ্রদটি এক দগ্ধকারক ক্ষারীয় নোনা জলের ঘনত্বের স্পষ্টতা দিয়েছে । যার ফলে হ্রদের জলে ক্ষারের পরিমাণ অস্বাভাবিক মাত্রায় থাকে ৷ মূলত সোডিয়াম কার্বোনেট এবং অন্যান্য খনিজ পদার্থ থেকে এই হ্রদে একটি শক্ত ক্ষারযুক্ত পদার্থ উৎপন্ন হয়- যা আসে হ্রদটির চারদিকে ঘেরাও করা পাহাড়-পর্বত, আগ্নেয়গিরির ছাই, নদী, উষ্ণ প্রস্রবণ, হ্রদের পৃষ্ঠের উপর সরাসরি বৃষ্টিপাত এবং প্রচুর সংখ্যক হাইড্রোথার্মাল ঝরনা থেকে । হ্রদে নেমে আসা জল অতিরিক্ত গরম ও তাপদগ্ধ জলবায়ুর কারণে দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে উচ্চ ঘনত্বের লবণ, অন্যান্য খনিজ পদার্থ, রাসায়নিক যৌগ ন্যাট্রন, দ্রবণীয় খনিজ ট্রোনা (ট্রোনা কাঁচ উৎপাদন, বস্ত্র রঞ্জন ও কাগজ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়) এবং জলের মত তরল লাভা হ্রদের তলায় জমা হয়ে থাকে । ইংরেজি এবং জার্মান শব্দ 'ন্যাট্রন’ হচ্ছে ফরাসি সগোত্রীয় শব্দের ব্যুৎপত্তিগতভাবে প্রাপ্ত যা ল্যাটিন শব্দ ন্যাট্রিয়াম ও গ্রিক শব্দ নাইট্রন থেকে স্প্যানিশ ন্যাট্রনের মাধ্যমে উদ্ভূত হয়েছে এবং এটি প্রাচীন মিশরীয় শব্দ nṯrj থেকে এসেছে । ন্যাট্রন হচ্ছে একটি খনিজ লবণ এবং পানিতে দ্রবীভূত হয় । প্রাচীন মিশরীয়রা মমিকরণ প্রক্রিয়ায় ন্যাট্রন ব্যবহার করতেন । এছাড়া, ন্যাট্রনের অনেক ব্যবহারিক প্রয়োগ রয়েছে । এই রাসায়নিক পদার্থ ন্যাট্রন থেকেই হ্রদটির নামকরণ করা হয়েছে । জমাকৃত ন্যাট্রন কখনো কখনো লবণাক্ত হ্রদের বিছানায় পাওয়া যায় যেটি শুষ্ক পরিবেশে উদ্ভূত হয় ।
তাছাড়া, এই হ্রদের ভূপৃষ্ঠ থেকে নির্গত হয় শক্তিশালী বিষাক্ত গ্যাস হাইড্রোজেন সালফাইড । হ্রদের জলে মাত্রাতিরিক্ত ক্ষারের পরিমাণ থাকার কারণে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য অর্জনকারী ও লবণগ্রাহী সায়ানোব্যাকটেরিয়া ও হ্যালোফিলিক অণুজীব এখানে জন্ম নেয় । এমন লবণাক্ত জলের পরিবেশে রাসায়ণিক বিক্রিয়ায় জন্ম নেয়া অণুজীবের পুষ্টির প্রধান উৎসই হচ্ছে লবণ । এই সকল সায়ানোব্যাকটেরিয়ার শরীরে থাকে এক প্রকার লাল রঞ্জক পদার্থ । ফলে, দূর থেকে হ্রদের জল রঙিন মনে হয় । তবে, হ্রদের কিনারায় জল হালকা গোলাপি ও পোড়া কমলা রঙ ধারণ করে । হ্রদের এই লাল রঙই তীব্রভাবে আকৃষ্ট করে পশুপাখিদেরকে এবং তারা মুগ্ধ হয়ে অবচেতন মনে নেমে পড়ে হ্রদের জলে । কিন্তু জলের অতিরিক্ত ক্ষারীয় বৈশিষ্ট্যই এদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায় । রহস্যে ঘেরা বিপজ্জনক এই হ্রদটি রূপকথার গল্পের মতই সুন্দর আর ভয়ঙ্কর । যেখানে ওৎ পেতে আছে নীরব মৃত্যুফাঁদ! কথিত আছে, এই হ্রদের উপর দিয়ে কোনো পাখি বা প্রাণী উড়ে গেলে সে আর বেঁচে ফিরে আসে না । অনাকাঙ্খিতভাবে অধিকাংশ প্রাণীরই তৎক্ষণাৎ করুণ মৃত্যু হয় কিংবা জীবন্ত প্রাণীকে পাথরের মত মূর্তিতে পরিণত করে ।
কিন্তু, কিভাবে?
বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন যে, সূর্য রশ্মি হ্রদের গাঢ় জলে পতিত হয়ে তা আয়নার মত প্রতিফলিত হয় । হ্রদের তলদেশ যেহেতু লাভা দ্বারা গঠিত, তাই সূর্যরশ্মি অধিক পরিমাণে প্রতিফলিত হয় । হ্রদ থেকে প্রতিফলিত হওয়া সূর্যরশ্মি হ্রদের উপর দিয়ে উড়ে যাওয়া পাখির চোখে পড়ার কারণে তীক্ষ্ণ আলোর ঝলকানিতে চোখ ধাঁধিয়ে বা বিভ্রান্ত হয়ে পাখিটি হ্রদের জলে আছড়ে পড়ে । ফলে, হ্রদের জলে থাকা ঘন সোডা ও খনিজ লবণ পাখি বা প্রাণীটির দেহে লেগে গিয়ে (পানির অতিরিক্ত তাপমাত্রা, উচ্চমাত্রার ক্ষার ও ক্যালসিয়ামের রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণে) অধিকাংশ পাখিই দুর্ভাগ্যবশত, অসহায় ও মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করে । ২০১১ খ্রিস্টাব্দে Nick Brandt নামে একজন ইংরেজ বন্যপ্রাণী চিত্রগ্রাহক এই হ্রদ সম্পর্কে তার ‘Across the Ravaged Land’ বইয়ে বিস্তারিত লিখেছেন । যাই হোক, ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক! কদাচিৎ কোনো পাখি বা বাদুড় জীবন সংগ্রাম করে মৃত্যুহ্রদের জল থেকে কোনোভাবে তীরে এসে পড়লেও ভিজে যাওয়া শরীর বাতাসে শুকানোর সাথে সাথে সোডা ও লবণ তাদের শরীরকে কামড়ে ধরে জীবন্ত অবস্থাতেই একসময় মূর্তি বানিয়ে ফেলে [প্রাণীর দেহে ক্যালসিয়াম জমা হয়ে কোষগুলোকে জমাটকরণ বা প্রস্তরীভবনের মাধ্যমে (Calcification)] । হ্রদের পাশে পড়ে থাকা অসংখ্য বাদুড়, মাছরাঙা, রাজহাঁস, মেছো ঈগল, দুর্লভ ভাবে ফ্ল্যামিঙ্গো, স্টার্লিং, ধনেশ, চড়ুই এবং ঘুঘু ইত্যাদি প্রাণীকে প্রকৃতি তার বিস্ময়কর কর্মশালায় এমন নির্মম ও নান্দনিকভাবে মূর্তি বা ভাস্কর্য তৈরি করে যে- মনে হয়, কোনো ভাস্করের নিখুঁত ভাস্কর্য । কখনো মনে হয়, যেন জীবন্ত জীবাশ্ম । তবে অনেকেই দ্বি-মত করেন যে, এটি অবশ্যই সত্য নয় । কারণ, হ্রদে একটি সমৃদ্ধ বাস্তুসংস্থান রয়েছে । যদিও চিত্রগ্রাহক নিক ব্র্যান্ডট সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন যে, প্রাণীগুলো কিভাবে মারা গেল সেই সম্পর্কে তার কোনো ধারণা ছিল না ।
কিন্তু, লেসার ফ্ল্যামিঙ্গোরা ন্যাট্রন হ্রদের এমন খুনি চরিত্র এবং চরম আবহাওয়া সম্পর্কে দারুণভাবে ওয়াকিবহাল । নইলে, কিভাবে এরা লম্বা লম্বা পা ফেলে হ্রদের অগভীর জলে নির্বিঘ্নে-নির্ভয়ে ঘুরে বেড়ায়?
তবে কি, লম্বা পায়ের কারণেই হ্রদের জল থেকে এদের দেহ অনেক উপরে থাকে বলেই জল স্পর্শ করতে পারে না । অবশ্য, এরাতো নিজেদের বাঁচার তাগিদেই লম্বা গলা, মাথা এবং শাণিত ঠোঁটকে হ্রদের জলে ডুবিয়ে খাদ্য খুঁজে বেড়ায়, স্নান করে ও জলকেলিতে কতই না মত্ত থাকে ।
না কি, ফ্ল্যামিঙ্গোদের পায়ের ত্বক খুব শক্ত হওয়ার কারণে হ্রদের লবণাক্ততাকে সহ্য করার ক্ষমতা রাখে ।
পরম সৃষ্টিকর্তাই জানেন- ন্যাট্রন হ্রদের এমন রহস্যময়, চরম বৈরী পরিবেশ এবং আফ্রিকা মহাদেশের বেশিরভাগ প্রাণীকুলের জন্য সর্বাধিক অস্বাস্থ্যকর বা দূষিত স্থানে এক সংগ্রামী জীবন ও বংশবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে রক্তাভ পাখার ফ্ল্যামিঙ্গোরা কিভাবে নিজেদেরকে খাপ খাইয়ে নিয়েছে?
কিভাবেই তারা বেঁচে থাকে এই মৃত্যু উপত্যকায়?
সত্যিই, বিস্ময়কর! 

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, আন্তর্জাল । 

Satellite image: Lake Natron (Tanzania) 

Source: https://commons.wikimedia.org/wiki/File:Lake_Natron_(Tanzania)_%E2%80%93_2017-03-06_(very_early_in_rainy_season)_%E2%80%93_satellite_image_(cropped).jpg 


Satellite map of Lake Natron in Google Maps:   https://www.expertafrica.com/tanzania/lake-natron/google-map

Lake Natron : https://www.brilliant-africa.com/tanzania/lake-natron 

Satellite map of Lake Natron in Google Maps  




























































































































প্রত্যাখ্যান (কবি: মায়া অ্যাঞ্জেলো)

প্রত্যাখ্যান কবি: মায়া অ্যাঞ্জেলো অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল প্রিয়তম, অন্য কোনো জীবনে বা দেশে আমি কি তোমার অধরের স্পর্শ অনুভব করে...