Thursday, 25 June 2026

যে চোখগুলো শেষবার আমি অশ্রুসিক্ত দেখেছিলাম কবি: টি.এস. এলিয়ট

আমেরিকার নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সম্পাদক, সাহিত্য সমালোচক এবং বিংশ শতকের অন্যতম প্রতিভাশালী ও ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম কবি হচ্ছেন T.S. Eliot (Thomas Stearns Eliot) । তিনি ইংরেজি ভাষার আধুনিকতাবাদী কবিতার একজন অগ্রণী ব্যক্তিত্ব ছিলেন । যেখানে তিনি তার ভাষা, লেখনী শৈলী এবং শ্লোক বা পদ্য গঠনের কৌশল ব্যবহারের মাধ্যমে এই শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন । সমসাময়িক কবিতায় তার অগ্রণী ভূমিকা ও অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে তাকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয় । কবি টি.এস. এলিয়টের একটি বিখ্যাত কবিতা হচ্ছে "যে চোখগুলো শেষবার আমি অশ্রুসিক্ত দেখেছিলাম" (Eyes That Last I Saw in Tears) । এটি একটি অসামান্য আধুনিক কবিতা । কবিতাটি ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় এবং পরবর্তীতে কবি এটিকে Doris's Dream Songs এর অন্তর্ভুক্ত করেন । কবিতাটি মূলত শোক, স্মৃতি এবং মানসিক দূরত্ব নিয়ে একটি মর্মস্পর্শী রচনা । কবি তার প্রিয়জনের বিদায়ের মুহূর্তের কথা স্মরণ করেছেন, যখন তার চোখে জল ছিল । অশ্রু মুছে গেলেও, তার চোখের সেই স্থির দৃষ্টি বা অভিব্যক্তি কবির মনে গেঁথে আছে । সেই অশ্রুসিক্ত চোখগুলোর সোনালী স্মৃতি বারবার তার মনের মাঝে ফিরে আসে । মানুষ যখন কাঁদে তখন তার চোখের জল দ্রুত মুছে যায়, কিন্তু সেই কান্নারত চোখের স্মৃতি বা চাহনি মনের গভীরে আরো অনেক বেশি সময় টিকে থাকে । এই কবিতাটিতে সময় এবং স্মৃতির স্থায়িত্বকে বোঝানো হয়েছে । কবি পার্থিব জীবনের একঘেয়েমি, আবেগহীনতা, বিচ্ছিন্নতা, নিঃসঙ্গতা এবং বিবর্ণ সময়কে 'মৃত্যুর স্বপ্নের জগৎ' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন । কবির সবচেয়ে বড় কষ্ট হচ্ছে— তিনি স্মৃতিময় সেই চোখগুলো দেখতে পেলেও, চোখের জল আর দেখতে পান না । এখানে তিনি বিচ্ছেদ বা মৃত্যুর পর স্মৃতিতে থেকে যাওয়া প্রিয়জনের চোখের বেদনাবিধুর রূপ তুলে ধরেছেন । সময়ের সাথে সাথে দুঃখ-বেদনা ম্লান হয়ে গেলেও সেই চোখগুলো কবির কাছে এখনো এক গভীর অনুভূতির প্রতীক এবং এটি তাকে নিজের আত্মিক যন্ত্রণা, সিদ্ধান্তহীনতা ও আবেগের কথা মনে করিয়ে দেয় । কবির মনে হয়, একসময় এই চোখগুলোই হয়তো তাদের আবেগকে ছাপিয়ে যাবে এবং তাদের এই দীর্ঘশ্বাস ও কষ্টকে যেন একপ্রকার উপহাস করবে । 

Eyes That Last I Saw In Tears 

by T S Eliot 

Eyes that last I saw in tears
Through division
Here in death's dream kingdom
The golden vision reappears
I see the eyes but not the tears
This is my affliction
This is my affliction
Eyes I shall not see again
Eyes of decision
Eyes I shall not see unless
At the door of death's other kingdom
Where, as in this,
The eyes outlast a little while
A little while outlast the tears
And hold us in derision. 

-------------------------------------

যে চোখগুলো শেষবার আমি অশ্রুসিক্ত দেখেছিলাম 
কবি: টি.এস. এলিয়ট 
অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল 

যে চোখগুলো শেষবার আমি অশ্রুসিক্ত দেখেছিলাম 
বিভাজনের মধ্য দিয়ে
এখানে মৃত্যুর স্বপ্নরাজ্যে 
স্বর্ণালী সুন্দর দৃশ্য পুনরায় আবির্ভূত হয় 
আমি চোখগুলো দেখি কিন্তু অশ্রু দেখি না 
এটিই আমার যন্ত্রণা 
এটিই আমার পরিতাপ 
যে চোখগুলো আমি আর কখনো দেখবো না 
সিদ্ধান্তের চোখ 
যে চোখগুলো আমি দেখবো না 
তা না হলে মৃত্যুর অন্য রাজ্যের দ্বারপ্রান্তে  
যেখানে, এই রাজ্যের মতই, 
চোখগুলো আরো কিছুটা সময় টিকে থাকে 
কিছুক্ষণের জন্য অশ্রুকেও ছাড়িয়ে যায় 
আর আমাদের উপহাস করে । 


তথ্যসূত্র: গুগল, উইকিপিডিয়া, অলপোয়েট্রি.কম 

কবিতার লিঙ্ক: https://allpoetry.com/Eyes-That-Last-I-Saw-In-Tears 

কবির ছবি: www.ndbooks.com । 


Wednesday, 3 June 2026

প্রত্যাখ্যান (কবি: মায়া অ্যাঞ্জেলো)



প্রত্যাখ্যান
কবি: মায়া অ্যাঞ্জেলো
অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল

প্রিয়তম,
অন্য কোনো জীবনে বা দেশে
আমি কি তোমার অধরের স্পর্শ অনুভব করেছি
তোমার হাত
তোমার নির্ভীক হাসি
বিদ্রূপাত্মক ।
সেই সব মধুর বাড়াবাড়ি
যা আমি খুব পছন্দ করি ।
কি নিশ্চয়তা আছে
যে আমাদের আবার দেখা হবে,
অন্য কোনো জগতে
ভবিষ্যতের কোনো অনির্ধারিত সময়ে ।
আমি আমার দেহের তাড়নাকে উপেক্ষা করি ।
আরো একটি মধুর সাক্ষাতের
প্রতিশ্রুতি ছাড়া
আমি মরতে রাজি নই ।

''প্রত্যাখ্যান'' কবিতাটি কবি মায়া অ্যাঞ্জেলোর অন্যতম জনপ্রিয় কবিতা । প্রতিভাময়ী এই আমেরিকান কবি, স্মৃতিকথা লেখক, প্রাবন্ধিক, নাগরিক অধিকার কর্মী, ইতিহাসবিদ, অভিনেত্রী, নাট্যকার, প্রযোজক এবং পরিচালক মায়া অ্যাঞ্জেলো (মার্গারিট জনসন) (জন্ম: ৪ এপ্রিল, ১৯২৮ – মৃত্যু: ২৮ মে, ২০১৪) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশৌরি রাজ্যের সেন্ট লুইস শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং বর্ণবৈষম্যপূর্ণ গ্রামীণ আরকানসাস রাজ্যে বেড়ে ওঠেন । তিনি নর্থ ক্যারোলাইনার ওয়েক ফরেস্ট ইউনিভার্সিটিতে আমেরিকান স্টাডিজের রেনল্ডস অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন । মায়া অ্যাঞ্জেলো আমেরিকার আফ্রিকান-আমেরিকান নাগরিক অধিকার আন্দোলনের অগ্রণী নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র এবং আমেরিকান নাগরিক অধিকার কর্মী ম্যালকম এক্সের সাথে কাজ করেছিলেন । তিনি দশটি সর্বাধিক বিক্রিত বই এবং অসংখ্য ম্যাগাজিনে প্রবন্ধ প্রকাশ করেন, যার জন্য পুলিৎজার পুরস্কার ও ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন লাভ করেন । আমেরিকার সাবেক রাষ্ট্রপতি বিল ক্লিনটনের অনুরোধে, তিনি ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে তার রাষ্ট্রপতি অভিষেক অনুষ্ঠানে "অন দ্য পালস অফ মর্নিং'' কবিতাটি আবৃত্তি করেন । মায়া অ্যাঞ্জেলো আফ্রিকান-আমেরিকান এবং নারীদের মুখপাত্র হিসেবে সম্মানিত ছিলেন । তার কাজগুলোকে আফ্রিকান-আমেরিকান সংস্কৃতির একটি প্রতিরক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হয় । বিশ্বজুড়ে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তার অনন্য রচনাগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় । যদিও, কিছু মার্কিন গ্রন্থাগার থেকে তার বই নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে । মায়া অ্যাঞ্জেলোর সবচেয়ে প্রশংসিত কাজগুলোকে আত্মজীবনীমূলক কল্পকাহিনী হিসেবে আখ্যায়িত করা হলেও, অনেক সমালোচক সেগুলোকে আত্মজীবনী হিসেবেই গণ্য করেন । তিনি এই ধারাটিকে সমালোচনা, পরিবর্তন এবং প্রসারিত করার মাধ্যমে আত্মজীবনীর প্রচলিত কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করার একটি সচেতন প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন । তার বইগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বর্ণবাদ, পরিচয়, পরিবার এবং ভ্রমণের মত বিষয়বস্তু । তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া ।
----------------------------------------


Refusal 

by Maya Angelou 

Translation: Muhammad Asraful Alam Sohel


Beloved,

In what other lives or lands

Have I known your lips

Your Hands

Your Laughter brave

Irreverent.

Those sweet excesses that

I do adore.

What surety is there

That we will meet again,

On other worlds some

Future time undated.

I defy my body's haste.

Without the promise 

Of one more sweet encounter

I will not deign to die. 

-------------------------------------

https://new.allpoetry.com/Refusal

https://www.poetryfoundation.org/poets/maya-angelou 

ছবি: https://britishonlinearchives.com/



Tuesday, 2 June 2026

ওর্ট মেঘ (The Oort Cloud)


ওর্ট মেঘ হচ্ছে আমাদের সৌরজগতের একেবারে বাইরের প্রান্তে অবস্থিত এক বিশাল, অদৃশ্য এবং গোলাকার মেঘ, যা কোটি কোটি বরফময় বস্তু বা ধ্বংসাবশেষ এবং ধুমকেতু দিয়ে তৈরি । এটি মূলত সৌরজগতের দূরবর্তী সীমানা হিসেবে চিহ্নিত হয় । ওর্ট ক্লাউড মেঘ সূর্য থেকে প্রায় ২০০০-১০০০০০ AU (Astronomical unit) (প্রায় ১-২ আলোকবর্ষ) দূরে অবস্থান করছে । ধারণা করা হয়, সৌরজগত সৃষ্টির শুরুর দিকে (প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন বছর আগে) বৃহস্পতি ও অন্যান্য গ্রহের মহাকর্ষীয় টানে এই বরফখণ্ড বা বস্তগুলো সৌরজগতের ভেতরের অংশ থেকে বাইরের দিকে নিক্ষিপ্ত হয়েছিল । যেসব ধূমকেতু সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে ২০০ বছরেরও বেশি সময় লাগে (যেমন: হ্যালির ধূমকেতু) তাদের বেশিরভাগই এই ওর্ট মেঘ থেকে আসে । এটি এখনো সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যায়নি । কারণ, ওর্ট মেঘ অত্যন্ত দূরে অন্ধকারময় অঞ্চলে অবস্থিত এবং ঠান্ডা বস্তুগুলো অনেক ছোট । ডাচ জ্যোতির্বিজ্ঞানী Jan Oort ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে প্রথম এই মেঘের অস্তিত্বের তাত্ত্বিক ধারণা দেন । ওর্ট মেঘ আমাদের সৌরজগতের প্রকৃত সীমানার প্রতিনিধিত্ব করে । সৌরজগতের ভেতরের অংশটি পরিচিত মনে হলেও— যেখানে নেপচুন গ্রহ গড়ে প‍্রায় ৩০ AU এবং বামন গ্রহ প্লুটো প্রায় ৪০ AU দূরে অবস্থিত । ওর্ট মেঘ কয়েক হাজার AU দূর থেকে শুরু হয়ে ১০০০০০ AU বা তারও বেশি দূরত্ব পর্যন্ত বিস্তৃত । ১ AU হচ্ছে পৃথিবী থেকে সূর্যের গড় দূরত্ব, যা প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটারের সমান । প্রতি সেকেন্ডে আলো ৩০০০০০ কিলোমিটার বেগে ছুটে চলে এবং প্রায় আট মিনিটে ১ AU দূরত্ব অতিক্রম করে । কিন্তু এই আলো ওর্ট মেঘের ভেতরের প্রান্তে পৌঁছাতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগে এবং এর বাইরের প্রান্ত ১ আলোকবর্ষেরও বেশি দূরে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে আলো পৌঁছাতে এক বছরেরও বেশি সময় প্রয়োজন হয় । এই বিশালতা আমাদের দৈনন্দিন ধারণাকে ম্লান করে দেয় । ভয়েজার-১ হচ্ছে পৃথিবী থেকে পাঠানো মানবসৃষ্ট রোবোটিক মহাকাশযান বা বিস্ময়কর বস্তু, যেটি ৬৪০০০ কিঃমিঃ/ঘন্টা বা ৪০০০০ মাইল/ঘন্টা গতিতে ভ্রমণরত সবচেয়ে দূরবর্তী আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাশূন্যে তার অনন্য কার্যক্রম পরিচালনা করছে । পৃথিবী থেকে এটি প্রায় ২৫.৪ বিলিয়ন কিলোমিটার (১৫.৮ বিলিয়ন মাইল) বা ১৭০ AU দূরে অবস্থান করছে । ভয়েজার-১ এমন গতিতে চললে ওর্ট ক্লাউডে প্রবেশ করতে এর ৩০০ বছর এবং এটি অতিক্রম করতে ৩০০০০ বছর সময় লাগবে । এখানে সূর্যের মহাকর্ষীয় প্রভাব নাটকীয়ভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে, যা এই হিমায়িত বস্তুগুলোকে চলমান নক্ষত্র এবং ছায়াপথীয় জোয়ারের বিপরীতে কোনোমতে বেঁধে রেখেছে । আমরা আকাশে যে ধূমকেতুগুলোকে ছুটে যেতে দেখি, সেগুলো প্রায়শই এই দূরবর্তী আধার থেকেই উৎপন্ন হয়, যা লক্ষ লক্ষ বছর ধরে আলোড়িত হয়ে ভেতরের দিকে ধাবিত হয়েছে । সুতরাং, ওর্ট মেঘ কেবল দূরত্বই নয়, বরং একটি ধারণাগত সীমানাও চিহ্নিত করে । এটি আমাদের সৌরজগতের প্রান্ত গ্রহগুলোকে ছাড়িয়ে আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাশূন্যে বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত, যা প্রকাশ করে যে আকাশগঙ্গা ছায়াপথের মধ্যে আমরা কতটা বিচ্ছিন্ন অথচ সংযুক্ত । ওর্ট মেঘের চরম দূরবর্তীতা সৌরজগতের শ্বাসরুদ্ধকর, প্রায় অকল্পনীয় বিশালতাকেই তুলে ধরে । 

তথ্যসূত্র: Google, Science Acumen 

ছবি: Science Acumen । 

এক গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় লেখা [কবি: জন কিটস]

"Written on a Summer Evening"  (Written in Disgust of Vulgar Superstition) by John Keats  --------------------- The church bells t...