Sunday, 25 October 2026

ভ্যান গগের বিখ্যাত চিত্রকর্ম 'নক্ষত্রময় রাত্রি'








ভ্যান গগের বিখ্যাত চিত্রকর্ম 'নক্ষত্রময় রাত্রি'

জগদ্বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গগ (Vincent Van Gogh) নেদারল্যান্ডসের জুন্ডার্টে ৩০শে মার্চ ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন এবং ফ্রান্সের ওভের সুর ওয়াজে ২৯শে জুলাই ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন । গম্ভীর, শান্ত ও চিন্তাশীল শিল্পী ভ্যান গগ ২৭ বছর বয়সে শৈল্পিক জীবনের পথচলা শুরু করেন । যাকে সাধারণত উত্তর-প্রভাববাদীদের (Post-Impressionist) মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ হিসেবে গণ্য করা হয় । তিনি প্রায় ৮৬০টি তৈলচিত্র এবং ১২৪০টি অঙ্কন নিয়ে এক বিস্ময়কর শিল্পকর্মের বিশাল সম্ভার তৈরি করেছেন । স্বতন্ত্র শৈলী, আকর্ষণীয় রঙ, জোরালো তুলির আঁচড় এবং বক্রাকার রূপের নৈপুণ্যময় সৌন্দর্যই তার শিল্প সত্তাকে বিকশিত ও সমৃদ্ধ করেছে । জীবনের কোনো এক সময় তিনি মানসিক বিপর্যয়ের শিকার হন, যেখানে চিত্রশিল্পী পল গগুইন (Paul Gauguin) এর সাথে তর্কের সময় ক্ষুর দিয়ে নিজের বাম কানের একটি অংশ কেটে ফেলেছিলেন । ভ্যান গগ তার জীবদ্দশায় খুব কম শিল্পকর্মই বিক্রি করেছিলেন । আধুনিক শিল্পের অভিব্যক্তিবাদী আন্দোলনের উপর তার শিল্পকর্মের এক শক্তিশালী প্রভাব ছিল, যা তার মৃত্যুর পর আশ্চর্যজনকভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করে । যদিও শিল্পীর মানসিক স্বাস্থ্য ও দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম সম্ভবত একারণেই সাধারণ মানুষের কল্পনায় তিনি এক আদর্শ যন্ত্রণাক্লিষ্ট শিল্পী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন । 
জগদ্বিখ্যাত এই প্রভাবশালী ডাচ চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গগের একটি আইকনিক চিত্রকর্ম হচ্ছে "নক্ষত্রময় রাত্রি" (The Starry Night) । তিনি ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দের জুন মাসে ফ্রান্সের Saint-Rémy-de-Provence এ অবস্থিত Saint-Paul de Mausole পাগলাগারদ বা মানসিক হাসপাতালে থাকাকালীন সময়ে সূর্যোদয়ের ঠিক আগে পূর্বমুখী জানালা থেকে তারাভরা রাতের আকাশের একটি দৃশ্য চিত্রিত করেন, যা 'নক্ষত্রময় রাত্রি' নামে পরিচিত । এটিই সেই জগদ্বিখ্যাত বিস্ময়কর চিত্রকর্ম । যেখানে তিনি সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র অ্যালডেবারান, হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জ এবং বৃষ রাশির অন্যান্য নক্ষত্রের মত মহাজাগতিক বস্তুগুলোকে বিশেষভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন । দুর্দান্ত চিত্রকর্মটিতে নীল ও সাদা রঙের ঘূর্ণিতে পূর্ণ ভোরের আগে রাতের এক উচ্ছল আকাশ, একটি উজ্জ্বল হলুদ অর্ধচন্দ্র এবং আলো বিকিরণকারী নক্ষত্ররাজি রয়েছে । বাম দিকের সম্মুখে সাইপ্রেস গাছ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, যেগুলোকে প্রায়শই অগ্নিশিখার মত বলে বর্ণনা করা হয় । গাছের কালো ডালপালাগুলো আংশিকভাবে আড়াল করে রাখা আকাশের গতির সাথে তাল মিলিয়ে কোঁকড়ে ও দুলে চলেছে । এমন প্রাণবন্ততার মাঝে নিচের ডানদিকে দূরে একটি সুবিন্যস্ত পাহাড়ী গ্রাম দেখা যায় । সরল ও নিয়ন্ত্রিত রেখা দিয়ে ছোট ছোট কুটিরগুলো এবং একটি গির্জার সরু চূড়া তৈরি হয়েছে, যা ঢেউ খেলানো নীল পাহাড়ের পটভূমিতে বাতিঘরের মত মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে । নৈঃশব্দময় ঘরের উজ্জ্বল হলুদ আলো যেন চিত্রকর্মটির অস্থিরতার মাঝে এক শান্ত আবেশ তৈরি করে । যদিও এই চিত্রকর্মটিই ছিল ভ্যান গগের শেষ জীবনের অন্যতম কাজ, কারণ এর পরের বছরই তিনি আত্মহত্যা করেন । 
ভ্যান গগ আকর্ষণীয় চিত্রকর্মটিতে রাতের আকাশের এক আবেগময় ও কাল্পনিক দৃশ্যের মাধ্যমে গভীর নীল আকাশ, আবর্তিত নক্ষত্র, উজ্জ্বল চাঁদ এবং নিচের ছোট্ট গ্রাম মনোমুগ্ধকরভাবে চিত্রিত করেছেন । এই 'নক্ষত্রময় রাত্রি'র দুর্লভ চিত্রটি পশ্চিমা শিল্প এবং ধ্রুপদী সাহিত্যের এক অনন্য শিল্পকর্ম । নান্দনিক সৃষ্টিশীলতার প্রতীক । অনাবিল সৌন্দর্যের প্রাচুর্য । বিখ্যাত চিত্রকর্মটি ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির মিউজিয়াম অফ মডার্ন আর্টের স্থায়ী সংগ্রহে সংরক্ষিত আছে । লিলি পি. ব্লিস উইলের মাধ্যমে এটি অর্জিত । এই অনুপম চিত্রকর্মকে "আধুনিক শিল্পের স্পর্শকাতর" এবং পশ্চিমা নৈতিক আদর্শের (Western Canon) সবচেয়ে স্বীকৃত চিত্রকর্মগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয় । ঘূর্ণায়মান শৈলীতে আঁকা বৈচিত্র্যময় দৃশ্যের অভিজাত শিল্পকর্মটি এই চিত্রকরের মানসিক অবস্থার প্রতিচ্ছবি, যেখানে হয়তো বাস্তবতা ও কল্পনার এক অসাধারণ মিশ্রণ ঘটেছে । তাই, অপার সুন্দর এই চিত্রকর্মটি বিশ্বজুড়ে শিল্পপ্রেমীদের অনুপ্রেরণার উৎস । 

কিন্তু, সম্প্রতি একদল জ্যোতির্বিজ্ঞানী বিশ্ববিখ্যাত চিত্রকর ভিনসেন্ট ভ্যান গগের "নক্ষত্রময় রাত্রি" (The Starry Night) চিত্রকর্মটি ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দের বাস্তব আকাশের দৃশ্যের সঙ্গে মিলে যেতে পারে বলে দাবি করেছেন । তারা এই চিত্রকর্মটির উৎস এক মহাজাগতিক দৃশ্যে খুঁজে পেয়েছেন, যা বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত এই চিত্রকর্মটির একটি নতুন তারিখ নির্দেশ করে । মানে, এই চিত্রকর্মটির অঙ্কনের তারিখ সম্পর্কে মানুষ এ যাবৎ যা জেনে এসেছে, তা থেকে এটি এক মাস পরে অঙ্কিত হয়েছে বলে তারা দাবী করেছেন । দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলের একটি টেলিস্কোপ প্রস্তুতকারক সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সিউলের কিয়ং হী বিশ্ববিদ্যালয়ের (Kyung Hee University) পিএইচডি গবেষক এলাইজা জিয়ং-হিউন কিম (Elijah Jeong-hyun Kim) এর নেতৃত্বে এক দল গবেষক The Journal Scientific Reports নামক বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণার মাধ্যমে সেই তারিখ বা সময়কে চ্যালেঞ্জ করেছে । তাদের গবেষণালব্ধ ফলাফল ইঙ্গিত দেয় যে, ‘নক্ষত্রময় রাত্রি’ চিত্রকর্মটি ভ্যান গগের কল্পনাপ্রসূত কোনো শিল্পকর্ম নয়, বরং ১৩৭ বছর আগে ফ্রান্সের মানসিক হাসপাতালে এক বছর অবস্থানকালীন সময়ে তিনি আকাশের দিকে তাকিয়ে যা দেখেছিলেন, তা থেকেই হয়তো অনুপ্রাণিত হয়ে ক্যানভাসের উপর তেলরঙে ছবিটি এঁকেছিলেন । তবে, ভ্যান গগ বাস্তব দৃশ্যকে নিজের কল্পনা ও শিল্পীসত্তার সঙ্গে মিলিয়ে উপস্থাপন করেছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয় । যদিও ছবিটি ঠিক কবে আঁকা হয়েছিল, তা নিয়ে বিতর্ক রয়ে গিয়েছে । প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, ভ্যান গগ ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দের জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে ছবিটি এঁকেছিলেন । এদিকে, নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে অবস্থিত ভ্যান গগ মিউজিয়ামও (Van Gogh Museum) নতুন গবেষণার ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নয় । দক্ষিণ কোরিয়ার মহাকাশ বিজ্ঞান সংস্থা এসএলএলএবি এবং সিউলের কিয়ং হি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা চিত্রশিল্পী ভ্যান গগের উপর বছরের পর বছর ধরে ফরেনসিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ও গবেষণার পর, তারা এই শিল্পীর শ্রেষ্ঠ শিল্পকর্মটিকে  ফ্রান্সের সাঁ-রেমি দে প্রোভঁসের (France’s Saint-Remy de Provence) ভোররাতের আকাশের সাথে মিলিয়ে দেখেছে, যেখানে গবেষকরা জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণ করে ছবির নক্ষত্রের বিন্যাস, শুক্র গ্রহ এবং চাঁদের অবস্থানের সঙ্গে ১৮৮৯ সালের ২২শে জুলাই ভোরের আকাশের মিল খুঁজে পেয়েছেন । যেখানে চাঁদ উপরের ডান কোণায় ও শুক্র গ্রহটি নিচের বাম কোণায় রয়েছে এবং তাদের উভয়ের মাঝখানে অবস্থিত হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জ (The Hyades star cluster), যা বৃষ রাশিতে শত শত নক্ষত্র নিয়ে গঠিত । এই নক্ষত্রপুঞ্জের পাঁচটি উজ্জ্বল তারাকে দূরবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়াই খালি চোখে দেখা যায় বলে জানা যায় এবং হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জটি একটি উজ্জ্বল ভি (V) আকৃতি গঠন করে । 

তথ্যসূত্র ও চিত্র: www.ebay.ca / Infinity Cosmic /
https://www.britannica.com/topic/The-Starry-Night 

Wednesday, 14 October 2026

হেমন্তের নিঃসঙ্গতা

হেমন্তের নিঃসঙ্গতা

মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম 


হেমন্তের মিষ্টি রোদ, 

হিমঝুরির সুবাসে দিশেহারা ভ্রমর, 

পাকা ডালিমের চৌচির মুখ, 

নীলিমায় মিলিয়ে যায় শুভ্র মেঘমালা, 

তবুও মরা কার্তিকের রুদ্রমূর্তি । 

বিস্তীর্ণ প্রান্তর জুড়ে হাহাকার, 

খাদ্যসংকট ও মহাজনের চড়া সুদে ঋণ, 

ঝরে পড়া ধূসর পাতার মর্মর ধ্বনি, 

নিস্তেজ কাশফুলের মর্মব্যথা, 

কান পেতে শোনা যায় । 

অগ্রহায়ণের পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধ, 

গোধূলি বেলার রক্তিম আভা, 

উত্তর-পশ্চিমা শান্ত বাতাস, 

শীতকে স্বাগত জানায় । 

খেজুর রসের প্রাচুর্য, 

ঘরে ঘরে নবান্ন উৎসবের আমেজ, 

পিঠা-পুলি ও পায়েসের বৈচিত্র্য আয়োজন, 

অষ্টাদশীর প্রাণ স্পর্শ করে কুয়াশা, 

আর জনাকীর্ণ মেলা ঘিরে মানুষের উচ্ছ্বাস । 

কখনো উদাসী মন, 

প্রকৃতির এক অদ্ভুত শূন্যতা, বিষণ্ণতা ও নীরবতা, 

যেখানে হেমন্তের নিঃসঙ্গতা! 

আহ প্রেমের ক্ষুদ্র বিষাদময় উচ্ছ্বাস (কবি: অ্যান কারসন)


O Small Sad Ecstasy of Love 

by Anne Carson 


I like being with you all night with closed eyes.
What luck—here you are
coming
along the stars!
I did a road trip
all over my mind and heart
and
there you were
kneeling by the roadside
with your little toolkit
fixing something.

Give me a world, you have taken the world I was. 


আহ প্রেমের ক্ষুদ্র বিষাদময় উচ্ছ্বাস 

কবি: অ্যান কারসন

অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম 


আমি চোখ বন্ধ করে সারারাত তোমার সাথে থাকতে পছন্দ করি । 

কি ভাগ্য— তুমি তো নক্ষত্রদের পথ ধরে এখানে চলে এলে! 

আমি আমার মন আর হৃদয় জুড়ে এক পথ পাড়ি দিলাম

আর সেখানেই তুমি

রাস্তার ধারে হাঁটু গেড়ে বসেছিলে

তোমার ছোট্ট যন্ত্রপাতির বাক্সটি নিয়ে 

কিছু একটা ঠিক করছিলে ।

আমাকে একটি জগৎ দাও, 

যে জগতে আমি ছিলাম যা তুমি কেড়ে নিয়েছো । 


উৎস: https://poets.org/poem/o-small-sad-ecstasy-love 

ছবি: www.lemonde.fr 

Monday, 28 September 2026

শোকের চরম পরিণতি (কবি: চার্লস বুকোস্কি)


Consummation Of Grief             

Charles Bukowski   


I even hear the mountains

the way they laugh

up and down their blue sides

and down in the water

the fish cry

and the water

is their tears.

I listen to the water

on nights I drink away

and the sadness becomes so great

I hear it in my clock

it becomes knobs upon my dresser

it becomes paper on the floor

it becomes a shoehorn

a laundry ticket

it becomes

cigarette smoke

climbing a chapel of dark vines. . .

it matters little

very little love is not so bad

or very little life

what counts

is waiting on walls

I was born for this

I was born to hustle roses down the avenues of the dead.  

শোকের চরম পরিণতি 

কবি: চার্লস বুকোস্কি 

অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম 


এমনকি আমি শুনতে পাই 

পাহাড়গুলো যেভাবে তারা প্রাণখুলে হাসে 

আর তাদের নীল প্রান্ত বেয়ে নিচে 

এবং জলের গভীরে মাছেরা কাঁদে 

আর সেই জল হচ্ছে তাদের অশ্রু । 

আমি জলের শব্দ শুনি 

যে রাতে মদ্যপানে ডুবে থাকি 

এবং বিষাদ এতটাই গভীর হয়ে ওঠে 

আমি তা শুনতে পাই আমার ঘড়ির কাঁটায় 

এটি আমার পোশাকের আলমারির হাতল হয়ে যায় এটি মেঝেতে পড়ে থাকা কাগজ হয়ে যায় 

এটি জুতো পরানোর হাতা হয়ে যায় 

ধোলাইখানার টিকিট হয়ে যায় 

এটি সিগারেটের ধোঁয়ায় পরিণত হয় 

গাঢ় লতাপাতায় ঘেরা একটি ছোট গির্জায় বেয়ে ওঠে...   এসবের বিশেষ কিছু যায় আসে না 

খুব সামান্য ভালোবাসাও অতটা মন্দ নয় 

আর জীবন অতি নগন্য—  যা কিছু গুরুত্বপূর্ণ 

তা হচ্ছে দেয়ালের দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করা 

আমি এই জন্যই জন্মেছি 

মৃতদের রাজপথে গোলাপ বিক্রি করার জন্যই আমার জন্ম হয়েছে । 

চার্লস বুকোস্কি (Charles Bukowski) বিংশ শতাব্দীর একজন বিখ্যাত জার্মান-আমেরিকান কবি, ঔপন্যাসিক এবং ছোটগল্পকার । তিনি ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের ১৬ই আগস্ট দক্ষিণ-পশ্চিম জার্মানির Rhineland-Palatinate রাজ্যের রাইন নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক মধ্যযুগীয় আন্ডারনাখ (Andernach) শহরে জন্মগ্রহণ করেন । লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দের ৯ই মার্চ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান পেড্রোতে মৃত্যুবরণ করেন । জগদ্বিখ্যাত এই কবির পুরো নাম Heinrich Karl Bukowski (Junior) । অল্প বয়সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করেন । তার লেখায় আমেরিকার প্রান্তিক মানুষ, নিঃসঙ্গতা, হতাশা, দারিদ্র্য, আধুনিক সমাজের অন্ধকার দিক, মদ আসক্তি, নারীদের সাথে সম্পর্ক, লেখালেখি এবং জীবনের কঠোর বাস্তবতার চিত্র তিনি ফুটিয়ে তোলেন । তার কিছু উপন্যাসে Henry Chinaski নামক এক কাল্পনিক চরিত্রের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যা মূলত তার নিজের জীবনেরই ছায়া । তিনি কয়েক হাজার কবিতা, শতাধিক ছোটগল্প, ৬টি উপন্যাসসহ মোট ৬০টিরও বেশি বই লিখেছেন । তার বিখ্যাত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে Post Office এবং Factotum । গল্প ও অন্যান্য: Notes of a Dirty Old Man; কবিতা সংকলন: Flower, Fist, and Bestial Wail, Poems Written Before Jumping Out of an 8 Story Window, Burning in Water, Drowning in Flame ইত্যাদি । 

* তথ্যসূত্র: গুগল, ছবি: www.coleschafer.com । 



Tuesday, 8 September 2026

আমার প্রণয়িনীর চোখ সূর্যের মত নয়

 My mistress’ eyes are nothing like the sun (Sonnet 130) 

-------- 

William Shakespeare , 1564 –1616


My mistress’ eyes are nothing like the sun; 

Coral is far more red than her lips’ red; 

If snow be white, why then her breasts are dun; 

If hairs be wires, black wires grow on her head. 

I have seen roses damasked, red and white, 

But no such roses see I in her cheeks; 

And in some perfumes is there more delight 

Than in the breath that from my mistress reeks. 

I love to hear her speak, yet well I know 

That music hath a far more pleasing sound; 

I grant I never saw a goddess go; 

My mistress when she walks treads on the ground. 

And yet, by heaven, I think my love as rare 

As any she belied with false compare. 

----------- 

আমার প্রণয়িনীর চোখ সূর্যের মত নয়

উইলিয়াম শেক্সপিয়ার 

অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম 


আমার প্রণয়িনীর চোখ সূর্যের মত নয়; 

তার ঠোঁটের লালের চেয়ে প্রবাল অনেক বেশি লাল; 

যদি তুষার শুভ্র হয়, তাহলে তার স্তন কেন ধূসর;

যদি চুলগুলো তারের মত হয়, তবে তার মাথায় কালো তার গজায় ।

আমি লাল ও সাদা রঙের দামাস্ক গোলাপ দেখেছি,

কিন্তু তার গালে আমি এমন গোলাপ দেখি না;         

আর কিছু সুগন্ধিতে আছে আমার প্রণয়িনীর গন্ধে ভরা 

নিঃশ্বাসের চেয়ে আরো বেশি আনন্দ । 

আমি তার কথা শুনতে ভালোবাসি, 

তবুও আমি ভালো করেই জানি যে সঙ্গীতের সুর তার চেয়ে অনেক বেশি শ্রুতিমধুর;

আমি স্বীকার করি আমি কখনো কোনো দেবীকে যেতে দেখিনি;

আমার প্রণয়িনী যখন হাঁটে, সে মাটিতেই পা ফেলে ।

তবুও, ঈশ্বরের দিব্যি, আমি মনে করি আমার ভালোবাসা ততটাই দুর্লভ, 

যতটা অন্য কোনো নারীকে মিথ্যা তুলনার মাধ্যমে ভুলভাবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে । 

Sunday, 30 August 2026

হিমালয়



হে হিমালয়, 

অপার সৌন্দর্যের অধিপতি, 

কেন তোমার এই রুদ্ররূপ?

যে এমন নৃশংস মহাপ্রলয় । 

এ কি তোমার নিষ্ঠুর প্রতিশোধ?

তুমিইতো সৃষ্টি করেছো হিমবাহের জলাধার, 

আবার তোমার বুক চিরেই সেখানে হিমবাহ ধস ।

হঠাৎ প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ও কম্পন 

যার পরিণতি—

ভূমিধস, 

কাদা-পাথর-ধুলো-পানির ক্ষিপ্র স্রোত 

দুর্দান্ত প্রতাপে ধেয়ে আসে পাহাড়ী উপত্যকায় । 

যেখানে মৃত্যু, ধ্বংসলীলা, বিভীষিকা, আর্তনাদ 

আর এক অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ । 

তোমার হিংস্রতার কাছে মানুষ নিদারুণ অসহায়! 

হয়তো, তুমি এই তাণ্ডব করে অট্টহাসি হাসছো ।

কারণ তুমি পরাক্রমশালী 

এবং এটিই তোমার অসীম শক্তির বহিঃপ্রকাশ । 

তবুও তুমি শান্ত হও । 

আমাদের ক্ষমা করো ।

নেপালের জন্য প্রার্থনা । 

------------------------------


Himalaya

Muhammad Asraful Alam  


Oh Himalaya,  

The king of infinite beauty, 

Why do you have this fierce form?

Which is such a brutal catastrophe. 

Is this your cruel revenge?

You yourself created the glacier reservoir, 

Again the glacier collapsed right there by tearing your chest.

Suddenly, huge explosion and tremor 

Which results in—

Landslide, 

Impetuous streams of mud-stone-dust-water 

It comes to the mountain valley in rushing towards with irresistible power. 

Where death, destruction, horror, scream 

And an uncertain future. 

People are utterly helpless to your ferocity!

Maybe, you are laughing out loud by creating this rampage.

Because you are mighty 

And this is the manifestation of your infinite power. 

Still you calm down. 

Forgive us.

Prayer for Nepal.  


[ছবি: Muhammad Abdur Rahaman] 

Saturday, 22 August 2026

কিং লিয়ার (King Lear) পুনরায় পড়ার আগে লেখা [কবি: জন কিটস]

Written Before Re-Reading King Lear

[On Sitting Down to Read King Lear Once Again / কিং লিয়ার আরেকবার পড়তে বসতে] 

by John Keats 


O golden-tongued Romance with serene lute!

Fair plumed Syren! Queen of far away!

Leave melodizing on this wintry day,

Shut up thine olden pages, and be mute.

Adieu! for once again the fierce dispute

Betwixt damnation and impassioned clay

Must I burn through; once more humbly assay

The bitter-sweet of this Shakespearean fruit.

Chief  Poet! and ye clouds of Albion,

Begetters of our deep eternal theme,

When through the old oak Forest I am gone,

Let me not wander in a barren dream,

But when I am consumed in the Fire,

Give me new Phoenix wings to fly at my desire. 

---------------

* On Sitting Down to Read King Lear Once Again হচ্ছে বিখ্যাত রোমান্টিক কবি জন কিটসের লেখা একটি বিখ্যাত সনেট । ১৮১৮ সালের জানুয়ারি মাসে উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের ‘কিং লিয়ার’ নাটকটি পুনরায় পড়ার ঠিক আগে তিনি এই কবিতাটি রচনা করেন । 


কিং লিয়ার পুনরায় পড়ার আগে লেখা 

কবি: জন কিটস 

অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম  

--------------------------- 


হে সুমধুর কল্পকাহিনী, সাথে বীণার শান্ত সুর! 

সুন্দর পালকযুক্ত জলপরী! দূর দেশের রাণী!

এই শীতের দিনে সুর তৈরি করা ছেড়ে দাও, 

তোমার পুরোনো পৃষ্ঠাগুলো বন্ধ করো এবং নীরব থাকো ।

বিদায়! কারণ অভিশাপ ও উদ্দীপ্ত কাদামাটির মধ্যকার তীব্র দ্বন্দ্বে আমাকে আরো একবার পুড়তে হবে; 

আবারো বিনম্রভাবে পরীক্ষা করতে হবে 

এই শেক্সপীয়রীয় ফলের তিক্ত-মধুরতা । 

হে শ্রেষ্ঠ কবি! এবং অ্যালবিয়নের মেঘমালা, 

আমাদের গভীর শাশ্বত মূলভাবের জন্মদাতাগণ, 

যখন আমি প্রাচীন ওক অরণ্যের মধ্য দিয়ে চলে যাবো,

আমাকে যেন এক ঊষর স্বপ্নে ঘুরে বেড়াতে না হয়, 

কিন্তু যখন আমি আগুনে দগ্ধ হই,    

আমার ইচ্ছেমত উড়ার জন্য আমাকে নতুন ফিনিক্সের ডানা দিও । 


Wednesday, 12 August 2026

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একজন অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্পকার, সঙ্গীতস্রষ্টা, চিত্রকর, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী, সমাজ সংস্কারক এবং দার্শনিক ৷ তিনি বাংলা সাহিত্যে গদ্য ও পদ্যকে নতুন আঙ্গিকে রূপ দিয়েছেন এবং কথ্য ভাষা ব্যবহারে একজন পথপ্রদর্শক ছিলেন । সুপ্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় সংস্কৃতিকে পাশ্চাত্যে পরিচয় করিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতের কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর বাড়ির এক ধনাঢ্য ও সংস্কৃতিবান ব্রাহ্ম পিরালী ব্রাহ্মণ পরিবারে ৭ই মে ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দ (২৫শে বৈশাখ ১২৬৮ বঙ্গাব্দে) জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭ই আগস্ট ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে (২২শে শ্রাবণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে) কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতা হচ্ছেন ব্রাক্ষ্ম আধ্যাত্মিক ধর্মগুরু (মহর্ষি) ও জমিদার দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মা সারদাসুন্দরী দেবী । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন পিতা ও মাতার চতুর্দশ সন্তান । তার স্ত্রীর নাম মৃণালিনী দেবী (ভবতারিণী দেবী) । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শৈশবে কলকাতার ওরিয়েন্টাল সেমিনারি, নর্ম্যাল স্কুল, বেঙ্গল অ্যাকাডেমি এবং সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজিয়েট স্কুলে কিছুদিন পড়াশোনা করেন । তবে, বিদ্যালয়ে প্রথাগত শিক্ষা গ্রহণ না করে বাড়িতেই গৃহশিক্ষকের কাছ থেকে শিক্ষা নেন । তিনি পিতার কাছ থেকে সংস্কৃত ব্যাকরণ, ইংরেজি, জ্যোতির্বিজ্ঞান, সাধারণ বিজ্ঞান ও ইতিহাস বিষয়ে নিয়মিত পাঠ নেন । তার পিতা তাকে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের জীবনী, কালিদাস রচিত ধ্রুপদি সংস্কৃত কাব্য ও নাটক এবং উপনিষদ পাঠেও উৎসাহিত করতেন । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আট বছর বয়সেই কবিতা লেখা শুরু করেন । ১৮৭৪ খ্রিস্টাব্দে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় তার প্রথম কবিতা অভিলাষ প্রকাশিত হয় । পরবর্তীতে তিনি ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে আইনবিদ্যায় পড়াশোনা করেন ৷ যদিও তিনি ইংল্যান্ডে পড়াশোনা অসমাপ্ত করে ১৮৭০ এর দশকের শেষের দিকে ভারতে ফিরে আসেন । ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দশ বছরের জন্য শিলাইদহ ও শাহজাদপুরে তার পারিবারিক জমিদারির দেখাশোনা করতে পূর্ববঙ্গে (বর্তমানে বাংলাদেশ) আসেন । সেখানে তিনি প্রায়শই পদ্মা নদীর (গঙ্গা নদীর মূল শাখা) উপর একটি বাসযোগ্য বজরা বা কিস্তিতে থাকতেন । গ্রাম্য মানুষের দৈনন্দিন জীবন, তাদের সাথে ঘনিষ্ঠতা এবং তাদের প্রতি সহানুভূতিই পরবর্তীকালে তার লেখার মূল সুর হয়ে ওঠে । কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদের জাতীয় কবি । বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক । বাংলা সাহিত্যের ঋষিতুল্য । তিনি বাংলা ভাষা এবং বাঙালি জাতিকে এই গ্রহের মানুষের কাছে প্রথম পরিচিত করে তোলেন । রবি ঠাকুরের অসাধারণ সৃষ্টিকর্মগুলো বাঙালির হৃদয়কে স্পর্শ করে ৷ সারা পৃথিবীর মানুষকে অনুপ্রাণিত করে । বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে তার রচিত গান ও কবিতা বাঙালি জাতিকে সাহস আর অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে ৷ ১৯০১ খ্রিস্টাব্দের ২২শে ডিসেম্বর (৭ই পৌষ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার বোলপুরের শান্তিনিকেতনে (শান্তির আবাস) একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে তিনি ভারতীয় ও পাশ্চাত্য ঐতিহ্যের শ্রেষ্ঠ দিকগুলোর সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করেন । যদিও তার পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে এটিকে একটি আধ্যাত্মিক নিভৃতবাস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন । যা পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত করে এখানেই তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও নিজের কর্ম ও প্রতিভা দ্বারা স্ব-যত্নে গড়েছেন বিশ্ববিখ্যাত বিদ্যাপীঠ শান্তিনিকেতন ৷ যেখানে স্থান পেয়েছে তার অনন্য কীর্তিগুলো । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ২৩শে ডিসেম্বর ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে (৮ই পৌষ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ) এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং তার নাম দেন বিশ্বভারতী, যার অর্থ ভারতের সঙ্গে বিশ্বের মিলনস্থল । যেটি পরবর্তীকালে ১৯২১ খ্রিস্টাব্দের ২৩শে ডিসেম্বর (১৩২৮ বঙ্গাব্দের ৮ই পৌষ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপস্থিতিতে আচার্য ব্রজেন্দ্রনাথ শীল কর্তৃক বিশ্বভারতীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয় । ইউনেস্কো ২০২৩ খ্রিস্টাব্দে এই কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়টিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা করে । উল্লেখ্য যে, কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন স্বর্ণকুমারী দেবী (জন্ম: ১৮৫৫ বা ১৮৫৬ – মৃত্যু: ১৯৩২ খ্রিঃ) একজন স্বনামধন্য লেখক ছিলেন । তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রথম সারির নারী লেখিকা হিসেবে বিবেচিত হন, যিনি ২৫টি বই এবং বেশ কিছু প্রবন্ধ রচনা করেছেন । ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দীর্ঘ সময় ভারতের বাইরে বসবাস করেন । এই সময় বিভিন্ন দেশে তিনি তার সাহিত্য কর্ম নিয়ে কাজ করেন এবং ভারতীয় স্বাধীনতার পক্ষে একজন বাগ্মী মুখপাত্র হয়ে ওঠেন । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে গুরুদেব, কবিগুরু এবং বিশ্বকবি হিসেবে ভূষিত করা হয় । তার রয়েছে অসংখ্য সাহিত্যকর্ম, যা বাঙালি এবং বিশ্ব সংস্কৃতিতে অদম্য প্রভাব ফেলেছে । তার রচিত অসাধারণ শিল্পকর্মগুলো বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উৎকর্ষতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে ৷ তার বৈচিত্র্যময় রচনাবলী সারাবিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে । প্রতিভাময়ী এই কবির সুবিশাল ও বহুল সমাদৃত সৃজনশীল সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে অসংখ্য কবিতা, নাটক, উপন্যাস, প্রবন্ধ, ছোটগল্প, অনুবাদ এবং গান ইত্যাদি । তার প্রায় দুই হাজারেরও বেশি গান রয়েছে, যা বাঙালি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সবচেয়ে বিখ্যাত কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে: কাব্যগ্রন্থ মানসী (১৮৯০ খ্রিঃ), নাটক চিত্রাঙ্গদা (১৮৯২ খ্রিঃ, চিত্র), কাব্যগ্রন্থ সোনার তরী (১৮৯৪ খ্রিঃ), ছোটগল্প নষ্টনীড় (১৯০১ খ্রিঃ), উপন্যাস চোখের বালি (১৯০৩ খ্রিঃ), উপন্যাস নৌকাডুবি (১৯০৬ খ্রিঃ), কাব্যগ্রন্থ গীতাঞ্জলি (১৯১০ খ্রিঃ), উপন্যাস গোরা (১৯১০ খ্রিঃ), উপন্যাস ঘরে-বাইরে (১৯১৬ খ্রিঃ) এবং উপন্যাস শেষের কবিতা (১৯২৯ খ্রিঃ) ইত্যাদি । তিনি একজন গীতিকার ও সুরকার হিসেবে রবীন্দ্রসঙ্গীত নামে গুরুত্বপূর্ণ ধারার গান রচনা করেছেন, যা বাংলার সাংস্কৃতিক জীবনে এক শক্তিশালী প্রভাব বিস্তার করে । এছাড়া, তিনি প্রায় দুই হাজার ছবি এঁকেছেন । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম বিখ্যাত একটি কবিতা যেখানে মন নির্ভয় ১৯০১ খ্রিস্টাব্দে নৈবেদ্য সংকলনে বাংলায় প্রকাশিত হয় । এছাড়া, এটি ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে বিখ্যাত গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রকাশিত এবং ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজি অনুবাদ আকারেও প্রকাশিত হয় । প্রসিদ্ধ এই কবিতাটি (ইংরেজি সংস্করণ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে ভারতের কলকাতায় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে আবৃত্তি করেন । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জগদ্বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ গীতাঞ্জলি রচনা করে ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে প্রথম একজন অ-ইউরোপীয় ও প্রথম এশীয় হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন । সেই নোবেল পুরস্কারের অর্থ দিয়ে তিনি শান্তিনিকেতন এবং বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরের দরিদ্র কৃষকদের ঋণ প্রদানে কৃষি ব্যাংক গড়ে তোলেন । ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ১৩ই এপ্রিল তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগে ইংরেজ শাসকদের অনুমোদিত রাওলাট আইন এর বিরুদ্ধে নিরস্ত্র জনগন প্রতিবাদ করলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজিনাল্ড ডায়ারের অধীনে থাকা ব্রিটিশ সৈন্যরা নিরস্ত্র মানুষের উপর গুলি চালিয়ে ৩৬৯ জনকে নৃশংস হত্যা করে । ফলে, এই ঘটনায় সমগ্র ভারতজুড়ে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয় । ভারতের স্বাধীনতা ইতিহাসে এটি ছিল এক মর্মান্তিক ঘটনা! ব্রিটিশ রাজপরিবার তথাপি ইংরেজ সরকার কর্তৃক (জুন, ১৯১৫ খ্রিঃ প্রদত্ত) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে দেয়া নাইটহুড উপাধিকে তিনি জালিয়ানওয়ালাবাগের ঐ হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদস্বরূপ প্রত্যাখ্যান করেন । পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ৩১শে মে ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতার জোড়াসাঁকোস্থ ৫ নং দ্বারকানাথ ঠাকুর লেন থেকে ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের অফিসকে তারবার্তায় বিষয়টি জানিয়ে দেন । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাইটহুড খেতাব প্রত্যাখ্যানের ফলে সেই সময় প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক সংবাদপত্র দ্য ইংলিশম্যান তাচ্ছিল্যের সুরে লিখে যে বাঙালি কবিটি স্যার খেতাবধারী থাকলেন, না-কি স্রেফ বাবু হয়ে রইলেন, তাতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কিছুই যায় আসে না । তবে, অনেকেই ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছিলেন এবং সেই সময় জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের পর পাঞ্জাবে সামরিক আইন জারির বিরুদ্ধে এটি অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক প্রতিবাদে পরিণত হয়েছিল । নিঃসন্দেহে বাংলার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিকদের মধ্যে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তাধারা গঠনে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রেখেছেন বা রাখছেন । এছাড়া, তিনি ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন বিশিষ্ট নেতা ছিলেন । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হচ্ছেন পৃথিবীর একমাত্র গীতিকবি, যার রচিত ভিন্ন তিনটি ভাষায় তিনটি ভিন্ন সঙ্গীত স্বাধীন-সার্বভৌম তিনটি ভিন্ন দেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গীত হয় । যেমন: (ক) আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি, এটি হচ্ছে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত (খ) জন গণ মন- অধিনায়ক জয় হে, এটি হচ্ছে ভারতের জাতীয় সঙ্গীত (গ) নমো নমো মাতা, এটি হচ্ছে শ্রীলংকার জাতীয় সঙ্গীত, যেগুলো তিনটি দেশেই সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত । বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মহান রচনাবলী চির শাশ্বত । যা মানুষের মনকে নাড়া দেয় । তার এই অমূল্য সাহিত্যকর্মকে যুগে যুগে মানুষ পরম শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং স্ব-যত্নে লালন করবে এবং এটিকে বয়ে নিয়ে যাবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ।। লেখক: ফার্মাসিস্ট; তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা, উইকিপিডিয়া; ছবি: ইউ.এস. অ্যাম্বাসি ঢাকা ।

Monday, 10 August 2026

চাঁদের আলো [কবি: উইলিয়াম শেক্সপিয়ার]

 

Moonlight

from The Merchant of Venice(1596-1598)by William Shakespeare

How sweet the moonlight sleeps upon this bank!Here we will sit, and let the sounds of musicCreep in our ears: soft stillness, and the night,Become the touches of sweet harmony.Sit, Jessica. Look how the floor of heavenIs thick inlaid with patines of bright gold.There’s not the smallest orb which thou behold’stBut in his motion like an angel sings,Still quiring to the young-eyed cherubins.Such harmony is in immortal souls;But, whilst this muddy vesture of decayDoth grossly close it in, we cannot hear it.  
চাঁদের আলো কবি: উইলিয়াম শেক্সপিয়ার অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম  [উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের বিখ্যাত নাটক ‘দ্য মার্চেন্ট অফ ভেনিস’ থেকে, ১৫৯৬-১৫৯৮] 
কি মধুর চাঁদের আলো এই তীরের উপর ঘুমিয়ে আছে! এখানে আমরা বসব, এবং সঙ্গীতের সুর আমাদের কানে ধীরে প্রবেশ করতে দাও: মৃদু নিস্তব্ধতা আর রাত্রি, হয়ে ওঠে মধুর ঐকতানের স্পর্শ । বসো, জেসিকা । চেয়ে দেখো, স্বর্গের মেঝে কেমন প্রাচুর্যপূর্ণভাবে খচিত যেন এক উজ্জ্বল স্বর্ণ চাকতি । তুমি যে ক্ষুদ্রতম গোলকটিই দেখো না কেন এটি তার গতিতে এক দেবদূতের মত গান গায়, এখনো তরুণ-চোখবিশিষ্ট স্বর্গীয় দূতদের জন্য সুর সৃষ্টি করছে । এমন ঐকতান অমর আত্মাদের মধ্যে থাকে; কিন্তু ক্ষয়শীল এই কর্দমাক্ত আবরণ যখন তাকে একেবারেই রুদ্ধ করে রাখে, আমরা তা শুনতে পাই না । 

উৎস: Moonlight - William Shakespeare - 101 Famous Poems https://sharpgiving.com/Sharp/101famouspoems/poems/original/011Shakespeare.html

Thursday, 6 August 2026

এক গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় লেখা [কবি: জন কিটস]

"Written on a Summer Evening" 

(Written in Disgust of Vulgar Superstition)

by John Keats 

---------------------

The church bells toll a melancholy round,

Calling the people to some other prayers,

Some other gloominess, more dreadful cares,

More harkening to the sermon's horrid sound.

Surely the mind of man is closely bound

In some blind spell: seeing that each one tears

Himself from fireside joys and Lydian airs,

And converse high of those with glory crowned.

Still, still they toll, and I should feel a damp,

A chill as from a tomb, did I not know

That they are dying like an outburnt lamp, -

That 'tis their sighing, wailing, ere they go

Into oblivion -that fresh flowers will grow,

And many glories of immortal stamp.  

----------------

এক গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় লেখা 

(কুরুচিপূর্ণ কুসংস্কারের প্রতি বিতৃষ্ণা থেকে লেখা)

কবি: জন কিটস 

অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম 


গির্জার ঘণ্টাগুলো এক বিষাদময় সুরে বেজে ওঠে, 

মানুষকে ডাকছে অন্য কোনো প্রার্থনার দিকে,   

অন্য কোনো বিষণ্ণতা, আরো ভয়ঙ্কর দুশ্চিন্তা,  

ধর্মোপদেশের বিকট ধ্বনি আরো বেশি মনোযোগ দিয়ে শুনতে । 

নিশ্চয়ই মানুষের মন ঘনিষ্ঠভাবে আবদ্ধ 

কোনো এক অন্ধ জাদুমন্ত্রে: যখন দেখি প্রত্যেকের চোখে জল

নিজেকে বাসগৃহের আনন্দ, লিডিয়ান সুর 

এবং গৌরবের মুকুটধারীদের সাথে উচ্চমার্গীয় আলাপ থেকে দূরে সরিয়ে নেয় । 

তবুও, তবুও তারা বেজেই চলেছে, 

আর আমার এক আর্দ্রতা অনুভব করা উচিৎ, 

কবরের মত শীতলতা, 

আমি জানতাম না কি যে তারা নিভে যাওয়া প্রদীপের মত মরে যাচ্ছে,

সেটিই তাদের দীর্ঘশ্বাস, বিলাপ, 

তারা বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাওয়ার পূর্বে— তাজা ফুল জন্ম নিবে

এবং অবিনাশী চিহ্নের অনেক মহিমা ।

ভ্যান গগের বিখ্যাত চিত্রকর্ম 'নক্ষত্রময় রাত্রি'

ভ্যান গগের বিখ্যাত চিত্রকর্ম 'নক্ষত্রময় রাত্রি' জগদ্বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গগ (Vincent Van Gogh) নেদারল্যান্ডসের জুন্ডার...