Saturday, 27 May 2023

আগ্নেয়গিরি আচ্ছাদিত নতুন গ্রহ LP 791-18 d আবিষ্কার


সম্প্রতি কানাডার মন্ট্রিল ইউনিভার্সিটি (Université de Montréal বা UdeM) এর Trottier Institute for Research on Exoplanets এর জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের একটি আন্তর্জাতিক দল একটি ছোট নক্ষত্রের চারপাশে ঘূর্ণায়মান একটি গ্রহ বা নতুন নাতিশীতোষ্ণ জগত আবিষ্কার করেছেন । Merrin S. Peterson গ্রহটি আবিষ্কারের নেতৃত্ব দেন । আবিষ্কৃত গ্রহটি হচ্ছে একটি বহিঃসৌর মহাপৃথিবী (Super Earth Exoplanet) । আমাদের সৌরজগতের বাইরে অপার মহাবিশ্বে খুঁজে পাওয়া গ্রহগুলোকেই বহিঃসৌর গ্রহ (Exoplanet) বলে । জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে প্রথম বহিঃসৌর গ্রহ শনাক্তের পর থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজার চারশত ঊনিশটি বহিঃসৌর গ্রহ আবিষ্কার করেছেন । এদের মধ্যে Kepler-22 b এর মতো কিছু গ্রহ রয়েছে, যেগুলোতে প্রাণের অস্তিত্ব না থাকলেও প্রাণ বা জীবন ধারণের মতো উপযোগী পরিবেশ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে । যাই হোক, নব্য গ্রহটির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে LP 791-18 d হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে । তবে আইসল্যান্ডের রাজধানীর সম্মানে এর আরেকটি নাম রয়েছে: রেইকজাভিক (Reykjavik) ৷ মহাকাশীয় দেহ এবং এর আগ্নেয়গিরির গঠন সম্পর্কে গবেষণা দলের তত্ত্ব থেকে এর ডাকনামটি এসেছে । এ গ্রহটি আমাদের সৌরজগতের আগ্নেয়গিরির সক্রিয় দেহ বৃহস্পতি গ্রহের চাঁদ আইও (Io) এর মতো প্রায়ই আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে যায় বা অভিজ্ঞতা অনুভব করে । তার মানে, সমস্ত গ্রহ জুড়েই রয়েছে ভয়ঙ্কর আগ্নেয়গিরি । বৃহস্পতি গ্রহের তৃতীয় বৃহত্তম চাঁদ আইও হচ্ছে আগ্নেয়গিরির মহাকাশীয় বস্তু যা আমাদের সৌরজগতে । আইও চাঁদ সৌরজগতে সবচেয়ে আগ্নেয়গিরিগতভাবে সক্রিয় দেহ । এর বায়ুমণ্ডল সালফার ডাই অক্সাইড দ্বারা গঠিত । অন্যান্য বস্তুর তুলনায় এর ঘনত্ব বেশি এবং কম জলের অণু রয়েছে । আইও চাঁদের ব্যাস প্রায় ৩৬৪৩ কিলোমিটার । বিজ্ঞানীরা আইও চাঁদে প্রায় চার শতটিরও বেশি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি আবিষ্কার করেছেন এবং এগুলো গরম সিলিকেট ম্যাগমা দ্বারা চালিত । আগ্নেয়গিরিগুলো যে কোনো মুহূর্তে বিস্ফোরিত হয়ে অগ্নুৎপাত সৃষ্টি করে লাভা ছড়িয়ে দেয় এবং এর পৃষ্ঠটি তাদের উৎস থেকে শত শত কিলোমিটার দূর পর্যন্ত লাভা প্রবাহে আবৃত থাকে । আইও চাঁদ পৃথিবীর চাঁদের চেয়ে সামান্য বড় এবং ধ্রবক যন্ত্রণা একটি জগৎ । বিশাল বৃহস্পতি গ্রহই যে কেবল শুধু মহাকর্ষীয়ভাবে আইও চাঁদকে চিরতরে কাছে টানছে তা কিন্তু নয়, আইও চাঁদের গ্যালিলিয়ান ভাইবোনরাও – ইউরোপা এবং গ্যানিমিড । জ্বলন্ত আইও চাঁদ ক্রমাগত প্রসারিত এবং চেপে যাচ্ছে, লাভা সৃষ্টির সাথে যুক্ত ক্রিয়াগুলো এর অনেকগুলো আগ্নেয়গিরি থেকে বিস্ফোরিত হতে দেখা যায় ৷ আমাদের অন্তর্দৃষ্টির বিপরীতে LP 791-18 d গ্রহের আগ্নেয়গিরিই একমাত্র জিনিস হতে পারে যা সেখানে যে কোনো প্রাণ বা জীবনকে লড়াই করার সুযোগ দেয় । এ আগ্নেয়গিরিময় বহিঃসৌর গ্রহটি সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ‘নেচার’ (Nature) এর একটি গবেষণাপত্রে গত ১৭ই মে ২০২৩ খ্রিস্টাব্দে আবিষ্কারের বর্ণনা প্রকাশিত হয়েছে । আবিষ্কৃত LP 791-18 d গ্রহটি একটি ছোট লাল বামন কেন্দ্রীয় নক্ষত্র LP 791- 18 কে প্রদক্ষিণ করছে প্রায় ৯০ আলোকবর্ষ দূরে Crater এর দক্ষিণ নক্ষত্রমণ্ডলে । যেটি আকাশগঙ্গা ছায়াপথের পাশের একটি ছায়াপথে অবস্থিত । M-type এর এ নক্ষত্রটি TOI-736 বা TIC 181804752 নামেও পরিচিত এবং আমাদের সূর্যের চেয়ে অনেক ছোট ও কম উজ্জ্বল । সদ্য আবিষ্কৃত বহিঃসৌর LP 791-18 d গ্রহটিই একমাত্র গ্রহ নয় যেটি ঐ বামন নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে ৷ এটি ছাড়া আরো দুটি গ্রহও একই নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে পরিভ্রমণ করছে । উল্লেখ্য যে, আমাদের সৌরজগতের বাইরে একটি অতিশীতল লাল বামন (Ultracool Red Dwarf বা M dwarf) TRAPPIST-1 নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে পৃথিবী বা তারচেয়েও বৃহদাকার সাতটি বহিঃসৌর পাথুরে গ্রহ প্রদক্ষিণ করছে । TRAPPIST-1 System বা গ্রহতন্ত্রের অধিকর্তা হচ্ছে TRAPPIST-1 লাল বামন নক্ষত্রটি । সেখানেই তার সৌরজগৎ । সম্ভবত LP 791-18 নক্ষত্রটিরও তেমনই একটি নিজস্ব সৌরজগৎ রয়েছে । জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা নতুন গ্রহটি আবিষ্কারের আগে গত ২০১৯ খ্রিস্টাব্দে Transiting Exoplanet Survey Satellite (TESS) উপগ্রহ দ্বারা LP 791-18 System বা গ্রহতন্ত্রে (বহু গ্রহীয় ব্যবস্থায়) আরো দুটি গ্রহকে সনাক্ত করেন । গ্রহগুলো LP 791-18 b এবং LP 791-18 c নামে পরিচিত । এ গ্রহতন্ত্রে অভ্যন্তরীণ গ্রহ b হচ্ছে পৃথিবীর চেয়ে প্রায় শতকরা ২০ ভাগ বড় এবং নক্ষত্রটিকে একদিনেরও কম সময়ে প্রদক্ষিণ করে । বাইরের গ্রহ c হচ্ছে বৃহত্তম গ্রহ । পৃথিবীর চেয়ে প্রায় ২.৫ গুণ বড় এবং ভর ০৭ গুণেরও বেশি । এর পরিক্রমণ সময়কাল প্রায় পাঁচ দিন এবং বায়ুমণ্ডল থাকতে পারে । এটি সম্ভবত নেপচুনের সংমিশ্রণের মতো উল্লেখযোগ্য পরিমাণে গ্যাস বা হালকা পদার্থ ধরে রেখেছে । এছাড়া আবিষ্কৃত LP 791-18 d গ্রহটি তার পরিবারের মধ্যে সবচেয়ে ছোট (তৃতীয় গ্রহ) । গ্রহটির ১.০৩ পৃথিবীর ব্যাসার্ধ এবং ১.৪৬ পৃথিবীর ভর । এর তাপমাত্রা প্রায় ২৭ থেকে ১২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৮১ – ২৬১ ডিগ্রি ফারেনহাইট), যেখানে স্থায়ী রাতের দিকের তাপমাত্রা সম্ভবত জল ঘনীভবনের জন্য অনুমতি দেয় । গ্রহটি তার কেন্দ্রীয় নক্ষত্রের একটি কক্ষপথ সম্পূর্ণ করতে ২.৮ দিন সময় নেয় এবং নক্ষত্র থেকে এর কাক্ষিক ব্যাসার্ধ ০.০০৯৬৯ AU । গ্রহের তাপমাত্রা পৃথিবীর তুলনায় সামান্য বেশি । নক্ষত্র থেকে মধ্যবর্তী দূরত্বে b এবং c গ্রহের মধ্যে কক্ষপথে ঘুরছে । বিজ্ঞানীরা অনুমান করেন যে পৃথিবী, শুক্র কিংবা শনির চাঁদ টাইটানের মতোই একটি বায়ুমণ্ডল LP 791-18 d গ্রহে থাকতে পারে । কেন্দ্রীয় নক্ষত্রটির বসবাসযোগ্য অঞ্চলের (Habitable Zone) অভ্যন্তরীণ প্রান্তের কাছে এ বহিঃসৌর গ্রহটি প্রদক্ষিণ করার ফলে ধারণা করা হয় যে, এখানকার অনুকূল তাপমাত্রায় গ্রহটির পৃষ্ঠে জল ধরে রাখার সক্ষমতা রয়েছে । এ অঞ্চলটি Goldilocks Zone নামেও পরিচিত । কারণ এ স্থানের গ্রহগুলোতে মাত্রাতিরিক্ত গরম বা ঠাণ্ডা থাকে না । সেজন্য এ স্থানকে সৌরজগতের (বাইরেও) বসবাসযোগ্য অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হয় । তবে এটিও মনে রাখতে হবে যে, কোনো গ্রহ তার কেন্দ্রীয় বা মূল নক্ষত্রের (Host Star) বসবাসযোগ্য অঞ্চলে থাকা মানেই এ নয় যে, ঐ গ্রহটিও প্রাণের বসবাসযোগ্য হবে । কারণ, মঙ্গল গ্রহও কিন্তু নিজের মূল নক্ষত্র সূর্যের বসবাসযোগ্য অঞ্চলে অবস্থান করছে । তবুও মঙ্গলে এখন পর্যন্ত প্রাণের অস্তিত্বের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি । আমাদের এ সবুজ পৃথিবীও সূর্যের বসবাসযোগ্য অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত । কিন্তু আমরা এ সুন্দর পৃথিবীতে প্রাণ খুলে বসবাস করছি ৷ উল্লেখ্য যে, কোনো গ্রহ নিজের মূল নক্ষত্র থেকে যে দূরত্বে থাকে সেখানে প্রাণ বেড়ে উঠার জন্য যে উপযুক্ত তাপমাত্রা বিরাজ করে বা আদর্শ পরিবেশগত অবস্থা বজায় থাকে তাকে বসবাসযোগ্য অঞ্চল (Habitable Zone) বলে । যদি সেখানে কোনো জলের অস্তিত্ব থাকে তাহলে গ্রহটি পৃথিবীর সহযোগী বা সমকক্ষ হতে পারে । এতে করে সেখানে বসবাসের জন্য প্রবল সম্ভাবনা থাকে । তবে, এখনো পর্যন্ত LP 791-18 d গ্রহে প্রাণের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি । এরপরও যদি সেখানে যে কোনো প্রাণ বা জীবন, স্থানীয় পরক (Alien) বা আক্রমণাত্মক মানব অস্তিত্ব বিদ্যমান থাকে তাহলে এর যে কোনোটিকেই মোটামুটি রুক্ষভাবে যেতে হবে । প্রতিটি কক্ষপথের সময় LP 791-18 d এবং c গ্রহ দুটি একে অপরের খুব কাছাকাছি চলে আসে । মূল নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণন অতিক্রম (Pass) করার সময় বিশাল c গ্রহটি দ্বারা LP 791-18 d গ্রহের উপর একটি মহাকর্ষীয় জোর টান বা হেঁচকা (Tug) সৃষ্টি করে । ফলে একটি উপবৃত্তাকার কক্ষপথ তৈরি হয় এবং সেখানেই আসল জাদু শুরু করে । এ উপবৃত্তাকার পথে LP 791-18 d গ্রহটি প্রতিবার নক্ষত্রের চারপাশে পরিভ্রমণ করার সময় কিছুটা বিকৃত হয় । গ্রহটিকে নক্ষত্র থেকে মাঝে মাঝে কাছাকাছি এবং দূরে নিয়ে আসে । নক্ষত্র এবং c গ্রহ থেকে ক্রমাগত পরিবর্তনশীল ধাক্কা এবং টানের কারণে গ্রহের অভ্যন্তরে ঘর্ষণ তৈরি হয় । গ্রহে জোয়ারের উত্তাপ দ্বারা উৎপন্ন ঘর্ষণটি এর অভ্যন্তরকে যথেষ্ট পরিমাণে উত্তপ্ত করে ৷ ফলে শেষ পর্যন্ত উপতলে ম্যাগমা মহাসাগরের অস্তিত্বকে সক্ষম করে এবং গ্রহের পৃষ্ঠে আগ্নেয়গিরির ভয়ঙ্কর কার্যকলাপ তৈরি করতে পারে । আমাদের সৌরজগতের সর্ববৃহৎ গ্রহ বৃহস্পতি এবং এর কয়েকটি চাঁদ একইভাবে আইও (Io) চাঁদকে প্রভাবিত করে । জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলেন যে, বৃহস্পতির চাঁদে অগ্ন্যুৎপাতের কম্পাঙ্কের কারণে বৃহস্পতি গ্রহেও অগ্ন্যুৎপাত ঘটে । নতুন আবিষ্কৃত গ্রহটির এক দিক সর্বদা নক্ষত্রের মুখোমুখি হওয়ার কারণে পরিবেশ খুবই উত্তপ্ত । এতে করে সেখানে জলের সম্ভাবনা কম । Université de Montréal (UdeM) এর পদার্থবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক Björn Benneke বলেন, “এটি একটি অসাধারণ আবিষ্কার এবং পৃথিবীর বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে এর সাদৃশ্য রয়েছে । সম্ভবত একটি বহুগ্রহীয় ব্যবস্থায় গ্রহটি আগ্নেয়গিরিতে আচ্ছাদিত ৷ এটি শুধুমাত্র জ্যোতির্বিদ্যাই নয়- বিজ্ঞানের অন্যান্য অনেক ক্ষেত্র বিশেষ করে ভূতত্ত্ব, গ্রহ বিজ্ঞান, বায়ুমণ্ডলীয় বিজ্ঞান এবং সম্ভবত জ্যোতির্বিজ্ঞানের অগ্রগতির অভূতপূর্ব সুযোগ প্রদান করে । সেই সাথে এটিতে সনাক্তযোগ্য ভূতাত্ত্বিক কার্যকলাপ এবং আগ্নেয়গিরির সম্ভাবনা যা স্থলজগতগুলো কিভাবে উৎপত্তি, গঠন ও বিকশিত হয় তা আরো ভালোভাবে বোঝার জন্য একটি মূল বিষয় করে তোলে । LP 791-18 d গ্রহটি সম্ভবত জোয়ারের সাথে তালাবদ্ধ (Tidally locked) থাকে । যার মানে একই দিক ক্রমাগত তার নক্ষত্রের মুখোমুখি হয় । গ্রহ পৃষ্ঠে তরল জলের অস্তিত্বের জন্য দিনের দিকটি সম্ভবত খুব গরম হবে । কিন্তু আমরা যে পরিমাণ আগ্নেয়গিরির ক্রিয়াকলাপ সন্দেহ করি সমগ্র গ্রহ জুড়ে ঘটে তা একটি বায়ুমণ্ডল বজায় রাখতে পারে, যা রাতের দিকে তাপমাত্রা গ্রহ পৃষ্ঠের জলকে ঘনীভূত করার জন্য যথেষ্ট ঠান্ডা হতে পারে ।” বহিঃসৌর এ মহাপৃথিবীটি নিজ অবস্থানে পরিভ্রমণ করে না । অর্থাৎ এক স্থানে সর্বদা দিন এবং অপর স্থানে সর্বদা রাত থাকে, যেখানে আইও চাঁদেরও এমন অবস্থান । জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা নাসা (NASA) এর Transiting Exoplanet Survey Satellite (TESS) উপগ্রহ ও স্পিটজার মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্র (Spitzer Space Telescope) থেকে বিভিন্ন তথ্যাবলী এবং স্থল-ভিত্তিক মানমন্দিরগুলোর অনুচরবৃন্দ ব্যবহার করে LP 791-18 d গ্রহটি আবিষ্কার করেন । স্পিটজার মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্র নক্ষত্রের অবলোহিত আলোকে কিছুটা ম্লান দেখেছিল যখন গ্রহটি তার চাকতির সামনে দিয়ে যায়, এ ঘটনাটিকে ট্রানজিট (Transit) বলা হয় । ইউনিভার্সিটি ডি মন্ট্রিল (Université de Montréal) এবং নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি (New York University) আবুধাবি এর একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী Dr. Mohamad Ali-Dib বলেন, “বাসযোগ্য অঞ্চলে একটি পৃথিবী আকারের গ্রহের আবিষ্কার যেটি সম্ভাব্য আগ্নেয়গিরিগতভাবে সক্রিয় তা সৌরজগতের বাইরে প্রাণের সন্ধানে একটি বিশাল পদক্ষেপ । পরবর্তী ধাপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীন সংস্থা ”জাতীয় বিমানচালনা ও মহাকাশ প্রশাসন” (NASA) এর জেমস ওয়েব মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্র [James Webb Space Telescope (JWST)] ব্যবহার করে গ্রহতন্ত্র বা বহুগ্রহীয় ব্যবস্থায় নানা পর্যবেক্ষণ এবং এর বায়ুমণ্ডল সনাক্ত করা সম্ভব হবে ।”

তথ্যসূত্র:  https://euro.eseuro.com/ , https://www.sci.news/ , https://astrobiology.com/ , আন্তর্জাল (The Internet) ।

ছবি: https://www.sci.news/ (NASA’s Goddard Space Flight Center / Chris Smith, KRBwyle) ।

Saturday, 20 May 2023

জুনো মহাকাশযান বৃহস্পতির চাঁদ আইও এর কাছাকাছি আসছে

[এ জুনোক্যাম চিত্রটি ০১লা মার্চ ২০২৩ খ্রিস্টাব্দে জোভিয়ান চাঁদ আইও তে NASA এর জুনো মহাকাশযান উড়ান চলাকালীন সময়ে সংগ্রহ করা হয়েছিল । এটি সবচেয়ে কাছাকাছি আসার সময়, জুনো আইও চাঁদ থেকে প্রায় ৩২০০০ মাইল (৫১৫০০ কিলোমিটার) দূরে ছিল । * ছবির তথ্য: NASA/JPL-Caltech/SwRI/MSSS , * ছবি প্রক্রিয়াকরণ: Kevin M. Gill (CC BY)] 


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA) এর জুনো মহাকাশযান (Juno spacecraft) গত ১৬ই মে মঙ্গলবার ২০২৩ খ্রিস্টাব্দে বৃহস্পতি গ্রহের আগ্নেয়গিরিপূর্ণ চাঁদ আইও (Io) এর পাশ দিয়ে উড়ে যাওয়ার কথা এবং তারপর শীঘ্রই এটি বরফময়-গ্যাস দৈত্য বৃহস্পতি গ্রহের পাশ দিয়ে যাবে । বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের লালিত বাসনা যে, সূর্য থেকে প্রায় অর্ধ বিলিয়ন মাইল দূরে থাকা বৃহস্পতি গ্রহ সম্পর্কে এবং তার হীমশীতল চাঁদে নোনা জলের সমুদ্র, জীবন বা প্রাণের অস্তিত্ব ও বাসযোগ্যতার লক্ষণগুলো অন্বেষণ করা ৷ আমাদের সৌরজগতের সর্ববৃহৎ গ্রহ হচ্ছে বৃহস্পতি । গ্যাস দানব বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস এবং নেপচুন গ্রহ ০৪টিকে জোভিয়ান গ্রহ (Jovian planet ) বলে । বৃহস্পতি গ্রহকে প্রদক্ষিণকারী ৯৫টি উপগ্রহ বা চাঁদের মধ্যে ০৪টি হচ্ছে গ্যালিলীয় চাঁদ যেমন: ইউরোপা (Europa), ক্যালিস্টো (Callisto), আইও (Io) এবং গ্যানিমিড (Ganymede) – যেগুলোর কোনোটি বরফ পৃষ্ঠের নীচে গভীর তরল জলের মহাসাগরকে আশ্রয় দেয়, যেখানে সামুদ্রিক প্রাণ বা জীবন থাকতে পারে । ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, গণিতজ্ঞ এবং দার্শনিক গ্যালিলিও গ্যালিলি প্রথম এ ০৪টি উপগ্রহ বা চাঁদকে আবিষ্কার করেন বলে তার নামানুসারে চাঁদগুলোর নামকরণ হয় গ্যালিলীয় চাঁদ । বেশ কিছুদিন যাবৎ বিজ্ঞানীদের গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে চাঁদে প্রাণের অস্তিত্বের পাশাপাশি বাসযোগ্যতার বিষয়টি ৷ ভূগর্ভস্থ টেকটোনিক প্লেট (Plate tectonics) দ্বারা সৃষ্ট জলতাপ নিঃসরণ ছিদ্র বা ফাটল (Hydrothermal vent) – যা সারা পৃথিবীতে সমুদ্রের তলদেশে বিদ্যমান ৷ যেখানে সূর্যালোক নেই, অন্ধকার, বিষাক্ত তেজষ্ক্রিয় রাসায়নিক পদার্থের সম্ভাবনা, চরম জল চাপ এবং সমুদ্রতলের ভূগর্ভস্থ ম্যাগমা দ্বারা উত্তপ্ত হয়ে ভূত্বক বা পৃথিবী পৃষ্ঠের ফাটল দিয়ে বের হওয়া পানির প্রায় ৭৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বিভিন্ন অণুজীব (Microorgaism), মাছ, Tubeworm, চিংড়ি, Clam, Mussel এবং কাঁকড়া ইত্যাদি প্রাণীর বিস্ময়কর বাসস্থান ৷ এ জলতাপ নিঃসরণ ছিদ্র বা ফাটল এমন ভয়ঙ্কর-রূঢ়-অদ্ভুত পরিবেশে দুর্লভভাবে টিকে থাকা সামুদ্রিক প্রাণ বা জীবনকে সমর্থন করে ৷ যদি তেমন পরিবেশ জোভিয়ান চাঁদে বিদ্যমান থাকে, তবে চাঁদগুলো সেই অন্ধকারের মধ্যেও প্রাণ বা জীবনের উন্নতির জন্য যথেষ্ট উষ্ণতা সরবরাহ করতে পারে । ধারণা করা হয়, জোভিয়ান চাঁদের ইউরোপাতে জীবন আশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে । গ্যালিলীয় চাঁদগুলোর মধ্যে ইউরোপা সবচেয়ে ছোট চাঁদ । এটি সৌরজগতের ষষ্ঠ বৃহত্তম চাঁদ এবং বৃহস্পতির ৯৫টি পরিচিত চাঁদের মধ্যে ষষ্ঠ নিকটতম । ইউরোপা চাঁদ মাত্র ২০০০ মাইল চওড়া এবং পৃথিবীর চাঁদের চেয়ে ছোট । তবে ১০০ মাইল পর্যন্ত গভীর মহাসাগরের সাথে এটি পৃথিবীর সমস্ত মহাসাগরের চেয়ে দ্বিগুণ জল ধরে রাখতে পারে । মনে করা হয়, ইউরোপা চাঁদের মহাসাগর একটি পাথুরে সমুদ্রতলের উপর বসে, যা জীবন্ত প্রাণীদের টিকিয়ে রাখতে পারে এমন জলতাপ নিঃসরণ ছিদ্র বা ফাটল এবং পুষ্টির সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে । ইউরোপা চাঁদটি শিখা (Plume) এবং উষ্ণপ্রস্রবণের (Geyser) মাধ্যমে আগ্নেয়গিরি মুখের জলীয় বাষ্পকে মহাকাশে প্রেরণ বা প্রবাহিত করে । সৌরজগতের বৃহত্তম এবং বৃহস্পতি গ্রহের সর্ববৃহৎ, ভারী ও গর্তযুক্ত চাঁদ গ্যানিমিড হচ্ছে বুধ গ্রহের চেয়েও শতকরা ০৮ ভাগ বড় । এটি পাথুরে পাহাড়ে ভরপুর, ভূ-গর্ভে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি এবং গলিত তপ্ত লৌহ রয়েছে । এ লৌহের কারণে এটিই সৌরজগতের একমাত্র চাঁদ যেটি নিজস্ব চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে ৷ গ্যানিমিড চাঁদের ব্যাস ৫২৬৮ কিলোমিটার এবং একটি কক্ষপথ সম্পূর্ণ করতে ০৭ দিন ০৩ ঘন্টা সময় লাগে । বৃহস্পতি গ্রহ থেকে প্রায় ১০৭০৪০০ কিলোমিটার দূরে গ্যানিমিডের কক্ষপথ অবস্থিত । সৌরজগতের তৃতীয় বৃহত্তম এবং বৃহষ্পতির দ্বিতীয় বৃহত্তম চাঁদ হচ্ছে ক্যালিস্টো । এটি ০৪টি গ্যালিলীয় চাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বাইরের দিকে এবং কম ঘন । ফলে বৃহস্পতি গ্রহের চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা এটি কম প্রভাবিত হয় । অক্সিজেন এবং কার্বন ডাই অক্সাইড দ্বারা এর বায়ুমণ্ডল গঠিত । সম্ভবতঃ ক্যালিস্টো চাঁদেও তরল জলের মহাসাগর আছে । এছাড়া বৃহস্পতির তৃতীয় বৃহত্তম চাঁদ আইও সৌরজগতে সবচেয়ে আগ্নেয়গিরিগতভাবে সক্রিয় দেহ । আইও চাঁদের বায়ুমণ্ডল সালফার ডাই অক্সাইড দ্বারা গঠিত । অন্যান্য বস্তুর তুলনায় এর ঘনত্ব বেশি এবং কম জলের অণু রয়েছে । আইও চাঁদের ব্যাস প্রায় ৩৬৪৩ কিলোমিটার । বিজ্ঞানীরা আইও চাঁদে প্রায় ৪০০ টিরও বেশি আগ্নেয়গিরি আবিষ্কার করেছেন এবং এগুলো গরম সিলিকেট ম্যাগমা দ্বারা চালিত । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের San Antonio শহরে অবস্থিত Southwest Research Institute (SwRI) এর জুনো’র প্রধান তদন্তকারী Scott J. Bolton বলেন, “আইও চাঁদ হচ্ছে সবচেয়ে আগ্নেয়গিরির মহাকাশীয় বস্তু যা আমাদের সৌরজগতে । জুনো এটিকে একাধিকবার অতিক্রম ও সময়ের সাথে সাথে পর্যবেক্ষণ করে ৷ আমরা দেখতে পারি যে, আগ্নেয়গিরিগুলো কিভাবে পরিবর্তিত হয়– কতো ঘন ঘন তারা বিস্ফোরিত হয়, তারা কতোটা উজ্জ্বল ও উত্তপ্ত হয়, তারা একটি গোষ্ঠী বা এককভাবে যুক্ত কি-না এবং যদি লাভা প্রবাহের আকার পরিবর্তন হয় ।” আইও চাঁদ পৃথিবীর চাঁদের চেয়ে সামান্য বড় এবং ধ্রবক যন্ত্রণা একটি জগৎ । বিশাল বৃহস্পতি গ্রহই যে কেবল শুধু মহাকর্ষীয়ভাবে আইও চাঁদকে চিরতরে কাছে টানছে তা কিন্তু নয়, আইও চাঁদের গ্যালিলিয়ান ভাইবোনরাও – ইউরোপা এবং গ্যানিমিড । ফলাফল হচ্ছে যে আইও চাঁদ ক্রমাগত প্রসারিত এবং চেপে যাচ্ছে, লাভা সৃষ্টির সাথে যুক্ত ক্রিয়াগুলো এর অনেকগুলো আগ্নেয়গিরি থেকে বিস্ফোরিত হতে দেখা যায় ৷ 
[১৪ই ডিসেম্বর ২০২২ খ্রিস্টাব্দে (বামে) এবং ০১লা মার্চ ২০২৩ খ্রিস্টাব্দে জোভিয়ান চাঁদের উড়ানগুলো চলাকালীন সময়ে NASA এর জুনো মহাকাশযান দ্বারা সংগৃহীত দৃশ্যমান আলো এবং অবলোহিত তথ্য ব্যবহার করে আইও চাঁদে আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপের চিত্রিত এ যৌগিক দৃশ্যগুলো তৈরি করা হয়েছিল । সৌজন্যে: NASA/JPL-Caltech/SwRI/ASI/INAF/JIRAM] 


জোভিয়ান চাঁদে মহাকাশযানটির উড়ান (Flyby) এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কাছের হবে, যা প্রায় ২২০৬০ মাইল (৩৫৫০০ কিলোমিটার) উচ্চতায় । বৃহস্পতি গ্রহের অভ্যন্তরীণ তদন্ত বা অনুসন্ধানের জন্য এখন তার বর্ধিত মিশনের তৃতীয় বর্ষ । সৌর-চালিত মহাকাশযানটি গ্যাস দানব বৃহস্পতির বলয় তন্ত্রেও অন্বেষণ করবে, যেখানে এর আরো কিছু অভ্যন্তরীণ চাঁদ থাকে । আজ অবধি, জুনো মহাকাশযান বৃহস্পতি গ্রহে ৫০টি উড়ান সম্পাদিত করেছে । গ্যালিলীয় ০৪টি চাঁদের মধ্যে ০৩টি যেমন: বরফময় জগৎ ইউরোপা, বৃহৎ গ্যানিমিড এবং জ্বলন্ত আইও চাঁদের সাথে ঘনিষ্ঠ সাক্ষাতের সময় এটি নানা তথ্য সংগ্রহ করেছে । বৃহস্পতি গ্রহকে পর্যবেক্ষণ বা গবেষণার জন্য যখন জুনো মহাকাশযানের নকশা তৈরি করা হয়েছিল, সেখানে এর অনেকগুলো সুবেদী গ্রাহক (Sensor) ছিল যা অতিরিক্তভাবে বৃহস্পতি গ্রহের চাঁদের তথ্য সরবরাহ করেছে । মহাকাশযানটির দৃশ্যমান আলোক চিত্রক জুনোক্যাম (JunoCam), JIRAM (Jovian InfraRed Auroral Mapper), SRU (Stellar Reference Unit) ও MWR (Microwave Radiometer) ইত্যাদি যন্ত্রপাতি বৃহস্পতির আইও চাঁদের আগ্নেয়গিরি ও কিভাবে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বৃহস্পতি গ্রহের শক্তিশালী চুম্বকমণ্ডল এবং মেরুজ্যোতি বা মেরুপ্রভার (Aurora) সাথে যোগাযোগ সৃষ্টি করে তা অধ্যয়ন বা পর্যবেক্ষণ করবে । Scott J. Bolton আরো বলেন, “আমরা জুনো’র মিশনের আরেকটি আশ্চর্যজনক অংশে প্রবেশ করছি কারণ আমরা ক্রমাগত কক্ষপথে আইও চাঁদের আরো কাছাকাছি চলে যাচ্ছি । ৫১তম কক্ষপথটি এখন আমাদের এ অসহ্য যন্ত্রণাদায়ক চাঁদের নিকটতম চেহারা প্রদান করবে । জুলাই এবং অক্টোবরে আসন্ন উড়ানগুলো আমাদের আরো কাছে নিয়ে আসবে যা এ বছরের ডিসেম্বরে এবং পরের বছরের ফেব্রুয়ারিতে আইও চাঁদের সাথে আমাদের যমজ উড়ান (Twin flyby) মুখোমুখি হবে, যখন আমরা এর পৃষ্ঠের ১৫০০ কিলোমিটারের মধ্যে উড়ে যাবো ৷ এ সমস্ত উড়ানগুলো পরম বিস্ময়কর আইও চাঁদের আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপের দর্শনীয় দৃশ্য প্রদান করছে বা করবে ৷ তথ্যটি আশ্চর্যজনক হওয়া উচিত ।” বৃহস্পতির উড়ানগুলো চলাকালীন সময় জুনো মহাকাশযান গ্রহটির মেঘের শীর্ষে বা চূড়ার উপর নিচু হয়ে সাঁইসাঁই করে চলে গেছে– প্রায় ২১০০ মাইল (৩৪০০ কিলোমিটার) কাছাকাছি । এ উড়ানগুলোর সময় উত্তর মেরু থেকে গ্রহের কাছাকাছি যায় এবং দক্ষিণের উপর দিয়ে প্রস্থান করে । মহাকাশযানটি তার যন্ত্র ব্যবহার করে অস্পষ্ট মেঘের আবরণের নীচে অনুসন্ধান করে । এটি দৈত্যাকার গ্রহটির উৎপত্তি, গঠন, বায়ুমণ্ডল এবং চুম্বকমণ্ডল সম্পর্কে আরো বিশদ জানতে বৃহস্পতির অভ্যন্তর এবং মেরুপ্রভা গবেষণা করে । জুনো মহাকাশযান ২৫০৫ পৃথিবী দিনেরও বেশি সময় ধরে বৃহস্পতিকে প্রদক্ষিণ করছে এবং ৫১০ মিলিয়ন মাইল (৮২০ মিলিয়ন কিলোমিটার) পথ উড়েছে । মহাকাশযানটি ০৪ঠা জুলাই ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে বৃহস্পতি গ্রহের বৈজ্ঞানিক তদন্ত শুরু করতে বৃহস্পতিতে পৌঁছেছিল । প্রথম উড়ান ৫৩ দিন পরে ঘটেছিল এবং মহাকাশযানটি ০৭ই জুন ২০২১ খ্রিস্টাব্দে গ্যানিমিড চাঁদের উড়ান পর্যন্ত সেই কক্ষপথের সময়কালের সাথে চলতে থাকে, যা এর কক্ষপথের সময়কালকে ৪৩ দিনে কমিয়ে দেয় । ২৯শে সেপ্টেম্বর ২০২২ খ্রিস্টাব্দে ইউরোপা চাঁদের উড়ান কক্ষপথের সময়কাল ৩৮ দিনে কমিয়ে এনেছে । গত ১৬ই মে ২০২৩ খ্রিস্টাব্দে এবং আগামী ৩১শে জুলাই ২০২৩ খ্রিস্টাব্দে পরবর্তী আইও চাঁদের দু’টি উড়ানের পরে জুনোর কক্ষপথের সময়কাল ৩২ দিনে স্থির থাকবে ।  
[বৃহস্পতির চাঁদ আইও এর আগ্নেয়গিরির ক্রিয়াকলাপের এ অবলোহিত দৃশ্যগুলো ১৬ই অক্টোবর ২০২১ খ্রিস্টাব্দে চাঁদে উড়ান চলাকালীন সময়ে NASA এর জুনো মহাকাশযানে থাকা JIRAM (Jovian Infrared Auroral Mapper) যন্ত্র দ্বারা সংগ্রহ করা হয়েছিল ।
সৌজন্যে: NASA/JPL-Caltech/SwRI/ASI/INAF/JIRAM]  

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় নাসা’র Jet Propulsion Laboratory এর জুনো’র ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প ব্যবস্থাপক Matthew Johnson বলেন, “আইও চাঁদ হচ্ছে শুধুমাত্র একটি মহাকাশীয় বস্তু যা এ বর্ধিত মিশনের সময় জুনো’র অণুবীক্ষণযন্ত্রের অধীনে আসতে থাকে । সেই সাথে ক্রমাগত আমাদের কক্ষপথ পরিবর্তন করে বৃহস্পতি গ্রহের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং গ্রহের রাতের দিকে নীচে উড়ে যাওয়ার অনুমতি দেয় । মহাকাশযানটি বৃহস্পতির কিছু বলয়ের মধ্যে সুই-সুতার যোগসূত্র (Threading the needle) করবে তাদের উৎপত্তি এবং গঠন সম্পর্কে আরো জানতে ।” নাসা’র Jet Propulsion Laboratory, ক্যালিফোর্নিয়ার পাসাডেনায় ক্যালটেকের (Caltech) একটি বিভাগ এবং টেক্সাসের San Antonio শহরে অবস্থিত Southwest Research Institute (SwRI) এর প্রধান তদন্তকারী Scott J. Bolton জুনো মিশন পরিচালনা করেন । জুনো মিশন হচ্ছে নাসা’র একটি মহাকাশ অনুসন্ধান, যা বৃহস্পতি গ্রহকে প্রদক্ষিণ করছে । এটির উদ্দেশ্য হচ্ছে বৃহস্পতি গ্রহের উৎপত্তি ও গঠন, গ্রহে পাথুরে কেন্দ্রস্থল আছে কি-না, গ্রহের বায়ুমণ্ডলে জলের পরিমাণ, ভর বিতরণ, মহা লাল বিন্দু, গভীর বাতাস, মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র এবং মেরু চুম্বকমণ্ডল ইত্যাদি পরিমাপ করা । জুনো মিশনটি নাসা’র New Frontiers Program এর অংশ, যেটি ওয়াশিংটনে এজেন্সির বিজ্ঞান মিশন অধিদপ্তরের (Science Mission Directorate) জন্য আলাবামার হান্টসভিলে নাসা’র Marshall Space Flight Center এ পরিচালিত হয় ৷ যুক্তরাষ্ট্রের (ডেনভার) মহাকাশ, প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তা বিষয়ক কোম্পানি লকহিড মার্টিন স্পেস (Lockheed Martin Space) মহাকাশযান তৈরি এবং পরিচালনা করে ।

তথ্যসূত্র: https://www.nasa.gov/ ,  আন্তর্জাল (The Internet) ।






Tuesday, 16 May 2023

সূর্যের মতোই এক দৈত্যাকার নক্ষত্র আস্ত একটি গ্রহকে গিলে ফেলেছে!


পৃথিবীতে একজন সবল ব্যক্তি প্রায়শঃ তার চেয়ে দুর্বলের প্রতি আধিপত্য বিস্তার করে নিজেকে পরাক্রমশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে ৷ প্রকৃতির বাস্তুতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটি সবল প্রাণী অপর একটি দুর্বল প্রাণীকে শিকার করে বেঁচে থাকে । এটি দুর্বলের প্রতি সবলের আগ্রাসন ৷ প্রকৃতিতে এক চিরাচরিত নিয়ম । ঠিক তেমনি মহাজাগতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও যে এমনটি ঘটে থাকে, এ বার হাতেনাতে তার প্রমাণ মিলেছে । জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এক যুগান্তকারী আবিষ্কার করেছেন ৷ বৃহস্পতি গ্রহের চেয়েও বড় একটি উত্তপ্ত ও গ্যাসীয় গ্রহকে গ্রাস করেছে এমন একটি দৈত্যাকার বৃদ্ধ নক্ষত্রকে তারা সনাক্ত করেছেন । সৌরজগতের বাইরে মহাশূন্যে গ্রহটিকে সূর্যের মতোই এক বিশালাকার নক্ষত্র তাকে একেবারে আস্ত গিলে খেয়েছে । এ ঘটনা দেখে বিজ্ঞানীরা স্তম্ভিত । একাধিক স্থল-ভিত্তিক মানমন্দিরে অবস্থিত অতি শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্র এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা 'নাসা' (NASA) কর্তৃক ২০০৯ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বরে চালু করা NEOWISE (Near-Earth Object Wide Field Infrared Survey Explorer) Infrared Astronomy Space দূরবীক্ষণ যন্ত্র থেকে চাঞ্চল্যকর এ বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যটি ধরা পড়েছে । ফলে আমাদের সবুজ গ্রহ পৃথিবীর ভবিষ্যৎ নিয়ে এক অশনি সংকেত! গ্রহটি ২০২০ খ্রিস্টাব্দের মে মাসে প্রথম আবিষ্কৃত হয় ৷ উল্লেখ্য যে: WISE নামে পরিচিত দূরবীক্ষণ যন্ত্রটি সমস্ত আকাশের মানচিত্র তৈরি করে যা জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের দেখতে সক্ষম করে যে, কিভাবে মহাজাগতিক বস্তুগুলো সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয় এবং এটি দূরবর্তী মহাকাশের কিছু অস্পষ্ট ছায়াপথ, নক্ষত্র, গ্রহ, ধূমকেতু, গ্রহাণু ও বিভিন্ন বস্তুর চিত্রধারণসহ অবলোহিত আলোতে  মহাকাশকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে । যাই হোক, মহাকাশ বিজ্ঞানীরা চাক্ষুস এমন প্রমাণ পেয়ে উচ্ছ্বসিত হলেও পাশাপাশি তাদের কপালে দুঃশ্চিন্তারও ভাঁজ পড়েছে । কারণ বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন যে, আগামী ৫০০ কোটি বছরের মধ্যে সূর্যের জ্বালানি বা আয়ু শেষ হয়ে যাবে । ফলে তখন বুধ, শুক্র এবং পৃথিবীরও একই পরিণতি ঘটবে ৷ সৌরজগতের কেন্দ্রের খুব কাছের নক্ষত্রটি হচ্ছে সূর্য । মহাবিশ্বের সমস্ত নক্ষত্রের মতো সূর্যও একটি বিশাল পারমাণবিক চুল্লি, যা হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম গ্যাস দ্বারা গঠিত (প্লাজমা তথাপি আয়নিত পদার্থ) ৷ এছাড়া এর অন্যান্য গাঠনিক উপাদান হচ্ছে অক্সিজেন, কার্বন, নিয়ন এবং লৌহ ইত্যাদি ৷ নক্ষত্রের জ্বালানি হচ্ছে উদজান (Hydrogen) । সূর্যের কেন্দ্রে নিউক্লীয় সংযোজন বিক্রিয়ার মাধ্যমে অনবরত হাইড্রোজেন পুড়ে হিলিয়াম গ্যাস উৎপন্ন হচ্ছে ৷ পৃথিবী থেকে সূর্যের গড় দূরত্ব প্রায় ১৫২১০০০০০ কিলোমিটার বা ৯৪৫০০০০০ মাইল (আলোর গতিতে) । সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ০৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড । ফলে সূর্যালোকশক্তি পৃথিবীর জলবায়ু এবং আবহাওয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে প্রায় সকল জীবকে বাঁচিয়ে রাখে । সূর্যের কেন্দ্রভাগের (Core) ঘনত্ব ১৫০ গ্রাম / ঘনসেন্টিমিটার এবং তাপমাত্রা প্রায় ০১ কোটি ৩৬ লক্ষ Kelvin (~১৩.৬ MK ) ৷ যদিও ছটামণ্ডল বা সৌর করোনায় (Corona) তাপমাত্রা ০৫ MK এবং সূর্যপৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রায় ৫৭৮৫ Kelvin (৫৫০৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস) । সূর্য কেন্দ্রিক এ সৌরজগতের সবচেয়ে বৃহৎ গ্রহ বৃহস্পতির তুলনায় পৃথিবী আয়তনে অনেক ছোট ৷ তবে এক সময় সূর্য নামক নক্ষত্রটি রক্তলাল দানবে পরিণত হয়ে এর প্রভাব পৃথিবীর কক্ষপথ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে এবং ভয়ঙ্করভাবে নিমেষেই পৃথিবীকে গিলে ফেলবে! এমনকি পুরো সৌরজগৎকেও ছিন্নভিন্ন করে ফেলতে পারে ৷ তখন সূর্যের উজ্জ্বলতা বহুগুণ বেড়ে যাবে এবং প্রচণ্ড ভয়াবহ উত্তাপে পৃথিবীতে আর কোনো প্রাণের অস্তিত্বই থাকবে না । চারপাশের সব কিছুই ছাই হয়ে যাবে । অর্থাৎ সমাপ্তি (The End) ৷ জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে অনেক লাল দৈত্য নক্ষত্রকে শনাক্ত করেছেন ৷ তারা সন্দেহ করছেন যে, এ বিশাল মহাবিশ্বে সূর্যের মতো যতোগুলো নক্ষত্র আছে তাদের এক-তৃতীয়াংশ নক্ষত্রই সম্ভবত তাদের কাছাকাছি ঘিরে থাকা এক বা একাধিক গ্রহকে ‘গিলে খেয়েছে’ । কিন্তু ঘটনাটি আগে কখনো সরাসরি দেখা যায়নি । এবারই প্রথম সম্ভবপর হয়েছে ৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেট্‌স অঙ্গরাজ্যের কেমব্রিজে অবস্থিত Massachusetts Institute of Technology (MIT) এর একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং এ গবেষণার প্রধান লেখক কিশালয় দে বলেন, "এ ধরণের ঘটনা কয়েক দশক ধরে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা কখনোই এ প্রক্রিয়াটি কিভাবে কার্যকর হয় তা পর্যবেক্ষণ করিনি ।" তবে প্রথমবারের মতো এমন একটি বিরল ও বিস্ময়কর ঘটনা খুঁজে পাওয়া সত্যিই উত্তেজনাপূর্ণ । জলন্ত অগ্নিপিণ্ড সূর্যকে কেন্দ্র করে আমাদের এ সৌরজগৎ গড়ে উঠেছে । অপার মহাশূন্যে এমন একাধিক সৌরজগতের অস্তিত্ব রয়েছে । পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ হাজার আলোকবর্ষ দূরে আকাশগঙ্গা ছায়াপথের (Milky Way Galaxy) চাকতিতে ঈগল-সদৃশ নক্ষত্রমণ্ডল অ্যাকিলার (Aquila) কাছে অবস্থিত ZTF SLRN-2020 নামক সূর্যের মতো নক্ষত্রটি এ তুলকালাম কাণ্ডটি ঘটিয়েছে । গ্রহখেকো এ নক্ষত্রটি আয়তনে প্রায় বৃহস্পতি গ্রহের চেয়েও বড় একটি উষ্ণ গ্যাসপূর্ণ গ্রহকে গিলে ফেলেছে (শুষে নিয়েছে)  ৷ সূর্য থেকে বুধ গ্রহের মধ্যে যে দূরত্ব তার চেয়েও কম দূরত্বে এ বহিঃসৌর গ্রহটি (Exoplanet) তার ঐ কেন্দ্রীয় নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছিল । কিন্তু সময়ের সাথে ক্রমেই নক্ষত্রটি তার দৈহিক রূপ পরিবর্তন করে ফুলে-ফেঁপে রক্তবর্ণ হয়ে উঠে এবং নাক্ষত্রীয় বায়ুমণ্ডলে নানা উপাদানকে উত্তপ্ত করে । চক্কর কাটতে থাকা গ্রহটির সাথে ধীরে ধীরে এর দূরত্ব কমতে থাকে ৷ নক্ষত্রের তীব্র মাধ্যাকর্ষণের কারণে এক সময় গ্রহটি একেবারেই নক্ষত্রটির সংস্পর্শে আসে ৷ মহাকাশে গ্রহের গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে ৷ হঠাৎ ঘূর্ণায়মান গ্রহটি বিস্ময়করভাবে নক্ষত্রটির তীব্র তাপে বাষ্পে পরিণত হয়ে অতল গহীনে হারিয়ে যায় । অবশেষে সেখানে অবশিষ্ট গ্যাস ঠান্ডা হয়ে ধুলোয় পরিণত হয়, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে দৃশ্যমান । এ অবস্থাকে বলা হয় নক্ষত্রের মধ্যে গ্রহের বিলীন হয়ে যাওয়া । প্রথমে বিজ্ঞানীরা অনুমান করেছিলেন যে, বিষয়টি মহাশূন্যে নাক্ষত্রিক সংঘর্ষ কিংবা দুটি নক্ষত্র পরস্পরের সাথে মিশে যাওয়ার ঘটনা । হয়তোবা কোনো রাক্ষুসে হিংস্র কৃষ্ণহ্বরের আগ্রাসনে নক্ষত্রকে কামড়ে ছিঁড়ে খাওয়ার কোনো ঘটনা । যদিও এ ধরণের ঘটনায় মহাকাশে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার ঘটে থাকে । কিন্তু সেখানে শুধুমাত্র ধুলো অবশিষ্ট থাকার কারণে বিজ্ঞানীদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয় । তারা বিভিন্ন স্থানের কয়েকটি দূরবীক্ষণ যন্ত্র এবং কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এ সিদ্ধান্তে উপণীত হন যে, আসলেই এটি ছিল একটি গ্রহকে গিলে খাওয়ার ঘটনা ৷ বর্ণালীবীক্ষণ পরীক্ষা দ্বারা মনে হয়, এমন অনেক মৌল আছে যা কেবল ঠান্ডা তাপমাত্রায় থাকতে পারে । নক্ষত্রটিতে প্রচুর পরিমাণে লিথিয়াম ধাতু রয়েছে ৷ লিথিয়াম হচ্ছে আদি ধাতু বা প্রাথমিক মৌল ৷ প্রায় পৌনে চৌদ্দশত কোটি বছর পূর্বে ভয়ঙ্কর মহাবিস্ফোরণের (Big Bank) সময় এ বিরল ধাতুর উৎপত্তি হয়েছে ৷ লিথিয়াম খুব সহজেই নক্ষত্রের মধ্যে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় ৷ কিন্তু এ বয়স্ক নক্ষত্রে অস্বাভাবিক পরিমাণে লিথিয়ামের উপস্থিতি বিজ্ঞানীদেরকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে ৷ ধারণা করা হয়, সম্ভবত ঐ বিশাল ভরের গ্রহটিকে গিলে ফেলার সময় নক্ষত্রটির অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে নতুন করে প্রচুর পরিমাণে লিথিয়াম উৎপাদন করেছে ৷ অর্থাৎ ঐ গ্রহ থেকেই মৌলটি নক্ষত্রে এসেছে ৷ সবচেয়ে উত্তপ্ত নক্ষত্রগুলোতে প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন প্রকার রাসায়নিক উপাদান থাকে । সূর্যের মতো নক্ষত্রগুলোতেও জন্মের সময়ই প্রচুর পরিমাণ লিথিয়ামের উপস্থিতি ছিল ৷ কিন্তু ধারণা করা হয় মহাবিস্ফোরণের পর প্রথম ১০ কোটি বছরেই তা পুড়ে শেষ হয়েছে । মহাবিশ্বে প্রতিনিয়তই এমন কিছু ঘটনা ঘটে থাকে যা মানুষের পক্ষে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয় । জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলেন যে, রাক্ষুসে নক্ষত্রটি বার্ধক্যে পৌঁছে গিয়েছে । নক্ষত্রটি সূর্যের ভরের প্রায় ০.৮ থেকে ১.৫ গুণের মধ্যে এবং এটি তার জীবনের শেষ পর্যায়ের শুরুতে রয়েছে–  এর লাল দৈত্য পর্যায়, যা ১০০০০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলতে পারে । এর আভ্যন্তরীণ জ্বালানি শেষ হওয়ার কারণে এটি ফুলে-ফেঁপে দৈহিক রূপ পরিবর্তন করে উজ্জ্বল থেকে আরো উজ্জ্বলতর হয়ে উঠেছে ৷ স্বাভাবিক আকৃতির চেয়ে প্রায় ১০ লক্ষ গুণ বেশি বড় হয়ে মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই কয়েকশ গুণ বেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠে । প্রবল বিচ্ছুরণ শুরু হয় । নক্ষত্রের তীব্র মাধ্যাকর্ষণের টানে গ্রহটি কাছাকাছি এসে পড়ায় দুর্ভাগ্যজনকভাবে নক্ষত্রটির গর্ভে চলে গিয়ে এর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে ৷ এ ঘটনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে 'জেডটিএফ এসএলআরএন-২০২০' নামে পরিচিত ৷ সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণগুলোতে দেখা যায় যে, নক্ষত্রটি গ্রহের সাথে একত্রিত হওয়ার আগে এর আকার এবং উজ্জ্বলতায় ফিরে (পরিবর্তন) এসেছে । যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের পাসাডেনায় অবস্থিত একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় California Institute of Technology (CIT / Caltech) নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশবিষয়ক জরিপ সংস্থা Zwicky Transient Facility (ZTF) এর দ্বারা পর্যবেক্ষণে গ্রহটির মৃত্যুর পর আলোকিক আলোর ঝলকানি (মানুষের চোখে দৃশ্যমান) দেখা গেছে ৷ ভারতীয় তরুণ বাঙালি বিজ্ঞানী, জ্যোতির্পদার্থবিদ, পোস্ট ডক্টরাল গবেষক এবং এ গবেষণার প্রধান লেখক কিশলয় দে এর নেতৃত্বে গবেষণাটিতে রয়েছেন Massachusetts Institute of Technology (MIT), Harvard University, California Institute of Technology (CIT / Caltech) সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিশিষ্ট বিজ্ঞানীরা ৷ কিশলয় দে 'নাসা' এর আইনস্টাইন পোস্টডক্টরাল ফেলো এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বনামধন্য ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে জ্যোতির্পদার্থবিদ্যা নিয়ে গবেষণা করছেন । গত ০৩রা মে ২০২৩ খ্রিস্টাব্দে জ্যোতির্পদার্থবিদ্যা বিষয়ক সাময়িকী নেচার ও লেটারস অনলাইনে এর তথ্য-প্রমাণ প্রকাশিত হয়েছে ।

*তথ্যসূত্র: https://www.nasa.gov/ , আন্তর্জাল (The Internet) । 

* ছবি: https://www.nasa.gov/ [Credits: R. Hurt & K. Miller (Caltech/IPAC)] । 


প্রত্যাখ্যান (কবি: মায়া অ্যাঞ্জেলো)

প্রত্যাখ্যান কবি: মায়া অ্যাঞ্জেলো অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল প্রিয়তম, অন্য কোনো জীবনে বা দেশে আমি কি তোমার অধরের স্পর্শ অনুভব করে...