Sunday, 30 August 2026

হিমালয়



হে হিমালয়, 

অপার সৌন্দর্যের অধিপতি, 

কেন তোমার এই রুদ্ররূপ?

যে এমন নৃশংস মহাপ্রলয় । 

এ কি তোমার নিষ্ঠুর প্রতিশোধ?

তুমিইতো সৃষ্টি করেছো হিমবাহের জলাধার, 

আবার তোমার বুক চিরেই সেখানে হিমবাহ ধস ।

হঠাৎ প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ও কম্পন 

যার পরিণতি—

ভূমিধস, 

কাদা-পাথর-ধুলো-পানির ক্ষিপ্র স্রোত 

দুর্দান্ত প্রতাপে ধেয়ে আসে পাহাড়ী উপত্যকায় । 

যেখানে মৃত্যু, ধ্বংসলীলা, বিভীষিকা, আর্তনাদ 

আর এক অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ । 

তোমার হিংস্রতার কাছে মানুষ নিদারুণ অসহায়! 

হয়তো, তুমি এই তাণ্ডব করে অট্টহাসি হাসছো ।

কারণ তুমি পরাক্রমশালী 

এবং এটিই তোমার অসীম শক্তির বহিঃপ্রকাশ । 

তবুও তুমি শান্ত হও । 

আমাদের ক্ষমা করো ।

নেপালের জন্য প্রার্থনা । 

------------------------------


Himalaya

Muhammad Asraful Alam Sohel 


Oh Himalaya,  

The king of infinite beauty, 

Why do you have this fierce form?

Which is such a brutal catastrophe. 

Is this your cruel revenge?

You yourself created the glacier reservoir, 

Again the glacier collapsed right there by tearing your chest.

Suddenly, huge explosion and tremor 

Which results in—

Landslide, 

Impetuous streams of mud-stone-dust-water 

It comes to the mountain valley in rushing towards with irresistible power. 

Where death, destruction, horror, scream 

And an uncertain future. 

People are utterly helpless to your ferocity!

Maybe, you are laughing out loud by creating this rampage.

Because you are mighty 

And this is the manifestation of your infinite power. 

Still you calm down. 

Forgive us.

Prayer for Nepal.  


[ছবি: Muhammad Abdur Rahaman] 

Saturday, 22 August 2026

কিং লিয়ার (King Lear) পুনরায় পড়ার আগে লেখা [কবি: জন কিটস]

Written Before Re-Reading King Lear

[On Sitting Down to Read King Lear Once Again / কিং লিয়ার আরেকবার পড়তে বসতে] 

by John Keats 


O golden-tongued Romance with serene lute!

Fair plumed Syren! Queen of far away!

Leave melodizing on this wintry day,

Shut up thine olden pages, and be mute.

Adieu! for once again the fierce dispute

Betwixt damnation and impassioned clay

Must I burn through; once more humbly assay

The bitter-sweet of this Shakespearean fruit.

Chief  Poet! and ye clouds of Albion,

Begetters of our deep eternal theme,

When through the old oak Forest I am gone,

Let me not wander in a barren dream,

But when I am consumed in the Fire,

Give me new Phoenix wings to fly at my desire. 

---------------

* On Sitting Down to Read King Lear Once Again হচ্ছে বিখ্যাত রোমান্টিক কবি জন কিটসের লেখা একটি বিখ্যাত সনেট । ১৮১৮ সালের জানুয়ারি মাসে উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের ‘কিং লিয়ার’ নাটকটি পুনরায় পড়ার ঠিক আগে তিনি এই কবিতাটি রচনা করেন । 


কিং লিয়ার পুনরায় পড়ার আগে লেখা 

কবি: জন কিটস 

অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল 

--------------------------- 


হে সুমধুর কল্পকাহিনী, সাথে বীণার শান্ত সুর! 

সুন্দর পালকযুক্ত জলপরী! দূর দেশের রাণী!

এই শীতের দিনে সুর তৈরি করা ছেড়ে দাও, 

তোমার পুরোনো পৃষ্ঠাগুলো বন্ধ করো এবং নীরব থাকো ।

বিদায়! কারণ অভিশাপ ও উদ্দীপ্ত কাদামাটির মধ্যকার তীব্র দ্বন্দ্বে আমাকে আরো একবার পুড়তে হবে; 

আবারো বিনম্রভাবে পরীক্ষা করতে হবে 

এই শেক্সপীয়রীয় ফলের তিক্ত-মধুরতা । 

হে শ্রেষ্ঠ কবি! এবং অ্যালবিয়নের মেঘমালা, 

আমাদের গভীর শাশ্বত মূলভাবের জন্মদাতাগণ, 

যখন আমি প্রাচীন ওক অরণ্যের মধ্য দিয়ে চলে যাবো,

আমাকে যেন এক ঊষর স্বপ্নে ঘুরে বেড়াতে না হয়, 

কিন্তু যখন আমি আগুনে দগ্ধ হই,    

আমার ইচ্ছেমত উড়ার জন্য আমাকে নতুন ফিনিক্সের ডানা দিও । 


Wednesday, 12 August 2026

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একজন অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্পকার, সঙ্গীতস্রষ্টা, চিত্রকর, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী, সমাজ সংস্কারক এবং দার্শনিক ৷ তিনি বাংলা সাহিত্যে গদ্য ও পদ্যকে নতুন আঙ্গিকে রূপ দিয়েছেন এবং কথ্য ভাষা ব্যবহারে একজন পথপ্রদর্শক ছিলেন । সুপ্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় সংস্কৃতিকে পাশ্চাত্যে পরিচয় করিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতের কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর বাড়ির এক ধনাঢ্য ও সংস্কৃতিবান ব্রাহ্ম পিরালী ব্রাহ্মণ পরিবারে ৭ই মে ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দ (২৫শে বৈশাখ ১২৬৮ বঙ্গাব্দে) জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭ই আগস্ট ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে (২২শে শ্রাবণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে) কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতা হচ্ছেন ব্রাক্ষ্ম আধ্যাত্মিক ধর্মগুরু (মহর্ষি) ও জমিদার দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মা সারদাসুন্দরী দেবী । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন পিতা ও মাতার চতুর্দশ সন্তান । তার স্ত্রীর নাম মৃণালিনী দেবী (ভবতারিণী দেবী) । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শৈশবে কলকাতার ওরিয়েন্টাল সেমিনারি, নর্ম্যাল স্কুল, বেঙ্গল অ্যাকাডেমি এবং সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজিয়েট স্কুলে কিছুদিন পড়াশোনা করেন । তবে, বিদ্যালয়ে প্রথাগত শিক্ষা গ্রহণ না করে বাড়িতেই গৃহশিক্ষকের কাছ থেকে শিক্ষা নেন । তিনি পিতার কাছ থেকে সংস্কৃত ব্যাকরণ, ইংরেজি, জ্যোতির্বিজ্ঞান, সাধারণ বিজ্ঞান ও ইতিহাস বিষয়ে নিয়মিত পাঠ নেন । তার পিতা তাকে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের জীবনী, কালিদাস রচিত ধ্রুপদি সংস্কৃত কাব্য ও নাটক এবং উপনিষদ পাঠেও উৎসাহিত করতেন । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আট বছর বয়সেই কবিতা লেখা শুরু করেন । ১৮৭৪ খ্রিস্টাব্দে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় তার প্রথম কবিতা অভিলাষ প্রকাশিত হয় । পরবর্তীতে তিনি ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে আইনবিদ্যায় পড়াশোনা করেন ৷ যদিও তিনি ইংল্যান্ডে পড়াশোনা অসমাপ্ত করে ১৮৭০ এর দশকের শেষের দিকে ভারতে ফিরে আসেন । ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দশ বছরের জন্য শিলাইদহ ও শাহজাদপুরে তার পারিবারিক জমিদারির দেখাশোনা করতে পূর্ববঙ্গে (বর্তমানে বাংলাদেশ) আসেন । সেখানে তিনি প্রায়শই পদ্মা নদীর (গঙ্গা নদীর মূল শাখা) উপর একটি বাসযোগ্য বজরা বা কিস্তিতে থাকতেন । গ্রাম্য মানুষের দৈনন্দিন জীবন, তাদের সাথে ঘনিষ্ঠতা এবং তাদের প্রতি সহানুভূতিই পরবর্তীকালে তার লেখার মূল সুর হয়ে ওঠে । কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদের জাতীয় কবি । বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক । বাংলা সাহিত্যের ঋষিতুল্য । তিনি বাংলা ভাষা এবং বাঙালি জাতিকে এই গ্রহের মানুষের কাছে প্রথম পরিচিত করে তোলেন । রবি ঠাকুরের অসাধারণ সৃষ্টিকর্মগুলো বাঙালির হৃদয়কে স্পর্শ করে ৷ সারা পৃথিবীর মানুষকে অনুপ্রাণিত করে । বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে তার রচিত গান ও কবিতা বাঙালি জাতিকে সাহস আর অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে ৷ ১৯০১ খ্রিস্টাব্দের ২২শে ডিসেম্বর (৭ই পৌষ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার বোলপুরের শান্তিনিকেতনে (শান্তির আবাস) একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে তিনি ভারতীয় ও পাশ্চাত্য ঐতিহ্যের শ্রেষ্ঠ দিকগুলোর সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করেন । যদিও তার পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে এটিকে একটি আধ্যাত্মিক নিভৃতবাস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন । যা পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত করে এখানেই তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও নিজের কর্ম ও প্রতিভা দ্বারা স্ব-যত্নে গড়েছেন বিশ্ববিখ্যাত বিদ্যাপীঠ শান্তিনিকেতন ৷ যেখানে স্থান পেয়েছে তার অনন্য কীর্তিগুলো । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ২৩শে ডিসেম্বর ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে (৮ই পৌষ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ) এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং তার নাম দেন বিশ্বভারতী, যার অর্থ ভারতের সঙ্গে বিশ্বের মিলনস্থল । যেটি পরবর্তীকালে ১৯২১ খ্রিস্টাব্দের ২৩শে ডিসেম্বর (১৩২৮ বঙ্গাব্দের ৮ই পৌষ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপস্থিতিতে আচার্য ব্রজেন্দ্রনাথ শীল কর্তৃক বিশ্বভারতীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয় । ইউনেস্কো ২০২৩ খ্রিস্টাব্দে এই কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়টিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা করে । উল্লেখ্য যে, কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন স্বর্ণকুমারী দেবী (জন্ম: ১৮৫৫ বা ১৮৫৬ – মৃত্যু: ১৯৩২ খ্রিঃ) একজন স্বনামধন্য লেখক ছিলেন । তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রথম সারির নারী লেখিকা হিসেবে বিবেচিত হন, যিনি ২৫টি বই এবং বেশ কিছু প্রবন্ধ রচনা করেছেন । ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দীর্ঘ সময় ভারতের বাইরে বসবাস করেন । এই সময় বিভিন্ন দেশে তিনি তার সাহিত্য কর্ম নিয়ে কাজ করেন এবং ভারতীয় স্বাধীনতার পক্ষে একজন বাগ্মী মুখপাত্র হয়ে ওঠেন । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে গুরুদেব, কবিগুরু এবং বিশ্বকবি হিসেবে ভূষিত করা হয় । তার রয়েছে অসংখ্য সাহিত্যকর্ম, যা বাঙালি এবং বিশ্ব সংস্কৃতিতে অদম্য প্রভাব ফেলেছে । তার রচিত অসাধারণ শিল্পকর্মগুলো বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উৎকর্ষতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে ৷ তার বৈচিত্র্যময় রচনাবলী সারাবিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে । প্রতিভাময়ী এই কবির সুবিশাল ও বহুল সমাদৃত সৃজনশীল সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে অসংখ্য কবিতা, নাটক, উপন্যাস, প্রবন্ধ, ছোটগল্প, অনুবাদ এবং গান ইত্যাদি । তার প্রায় দুই হাজারেরও বেশি গান রয়েছে, যা বাঙালি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সবচেয়ে বিখ্যাত কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে: কাব্যগ্রন্থ মানসী (১৮৯০ খ্রিঃ), নাটক চিত্রাঙ্গদা (১৮৯২ খ্রিঃ, চিত্র), কাব্যগ্রন্থ সোনার তরী (১৮৯৪ খ্রিঃ), ছোটগল্প নষ্টনীড় (১৯০১ খ্রিঃ), উপন্যাস চোখের বালি (১৯০৩ খ্রিঃ), উপন্যাস নৌকাডুবি (১৯০৬ খ্রিঃ), কাব্যগ্রন্থ গীতাঞ্জলি (১৯১০ খ্রিঃ), উপন্যাস গোরা (১৯১০ খ্রিঃ), উপন্যাস ঘরে-বাইরে (১৯১৬ খ্রিঃ) এবং উপন্যাস শেষের কবিতা (১৯২৯ খ্রিঃ) ইত্যাদি । তিনি একজন গীতিকার ও সুরকার হিসেবে রবীন্দ্রসঙ্গীত নামে গুরুত্বপূর্ণ ধারার গান রচনা করেছেন, যা বাংলার সাংস্কৃতিক জীবনে এক শক্তিশালী প্রভাব বিস্তার করে । এছাড়া, তিনি প্রায় দুই হাজার ছবি এঁকেছেন । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম বিখ্যাত একটি কবিতা যেখানে মন নির্ভয় ১৯০১ খ্রিস্টাব্দে নৈবেদ্য সংকলনে বাংলায় প্রকাশিত হয় । এছাড়া, এটি ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে বিখ্যাত গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রকাশিত এবং ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজি অনুবাদ আকারেও প্রকাশিত হয় । প্রসিদ্ধ এই কবিতাটি (ইংরেজি সংস্করণ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে ভারতের কলকাতায় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে আবৃত্তি করেন । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জগদ্বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ গীতাঞ্জলি রচনা করে ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে প্রথম একজন অ-ইউরোপীয় ও প্রথম এশীয় হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন । সেই নোবেল পুরস্কারের অর্থ দিয়ে তিনি শান্তিনিকেতন এবং বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরের দরিদ্র কৃষকদের ঋণ প্রদানে কৃষি ব্যাংক গড়ে তোলেন । ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ১৩ই এপ্রিল তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগে ইংরেজ শাসকদের অনুমোদিত রাওলাট আইন এর বিরুদ্ধে নিরস্ত্র জনগন প্রতিবাদ করলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজিনাল্ড ডায়ারের অধীনে থাকা ব্রিটিশ সৈন্যরা নিরস্ত্র মানুষের উপর গুলি চালিয়ে ৩৬৯ জনকে নৃশংস হত্যা করে । ফলে, এই ঘটনায় সমগ্র ভারতজুড়ে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয় । ভারতের স্বাধীনতা ইতিহাসে এটি ছিল এক মর্মান্তিক ঘটনা! ব্রিটিশ রাজপরিবার তথাপি ইংরেজ সরকার কর্তৃক (জুন, ১৯১৫ খ্রিঃ প্রদত্ত) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে দেয়া নাইটহুড উপাধিকে তিনি জালিয়ানওয়ালাবাগের ঐ হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদস্বরূপ প্রত্যাখ্যান করেন । পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ৩১শে মে ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতার জোড়াসাঁকোস্থ ৫ নং দ্বারকানাথ ঠাকুর লেন থেকে ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের অফিসকে তারবার্তায় বিষয়টি জানিয়ে দেন । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাইটহুড খেতাব প্রত্যাখ্যানের ফলে সেই সময় প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক সংবাদপত্র দ্য ইংলিশম্যান তাচ্ছিল্যের সুরে লিখে যে বাঙালি কবিটি স্যার খেতাবধারী থাকলেন, না-কি স্রেফ বাবু হয়ে রইলেন, তাতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কিছুই যায় আসে না । তবে, অনেকেই ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছিলেন এবং সেই সময় জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের পর পাঞ্জাবে সামরিক আইন জারির বিরুদ্ধে এটি অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক প্রতিবাদে পরিণত হয়েছিল । নিঃসন্দেহে বাংলার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিকদের মধ্যে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তাধারা গঠনে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রেখেছেন বা রাখছেন । এছাড়া, তিনি ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন বিশিষ্ট নেতা ছিলেন । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হচ্ছেন পৃথিবীর একমাত্র গীতিকবি, যার রচিত ভিন্ন তিনটি ভাষায় তিনটি ভিন্ন সঙ্গীত স্বাধীন-সার্বভৌম তিনটি ভিন্ন দেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গীত হয় । যেমন: (ক) আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি, এটি হচ্ছে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত (খ) জন গণ মন- অধিনায়ক জয় হে, এটি হচ্ছে ভারতের জাতীয় সঙ্গীত (গ) নমো নমো মাতা, এটি হচ্ছে শ্রীলংকার জাতীয় সঙ্গীত, যেগুলো তিনটি দেশেই সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত । বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মহান রচনাবলী চির শাশ্বত । যা মানুষের মনকে নাড়া দেয় । তার এই অমূল্য সাহিত্যকর্মকে যুগে যুগে মানুষ পরম শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং স্ব-যত্নে লালন করবে এবং এটিকে বয়ে নিয়ে যাবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ।। লেখক: ফার্মাসিস্ট; তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা, উইকিপিডিয়া; ছবি: ইউ.এস. অ্যাম্বাসি ঢাকা ।

Monday, 10 August 2026

চাঁদের আলো [কবি: উইলিয়াম শেক্সপিয়ার]

 

Moonlight

from The Merchant of Venice(1596-1598)by William Shakespeare

How sweet the moonlight sleeps upon this bank!Here we will sit, and let the sounds of musicCreep in our ears: soft stillness, and the night,Become the touches of sweet harmony.Sit, Jessica. Look how the floor of heavenIs thick inlaid with patines of bright gold.There’s not the smallest orb which thou behold’stBut in his motion like an angel sings,Still quiring to the young-eyed cherubins.Such harmony is in immortal souls;But, whilst this muddy vesture of decayDoth grossly close it in, we cannot hear it.  
চাঁদের আলো কবি: উইলিয়াম শেক্সপিয়ার অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল [উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের বিখ্যাত নাটক ‘দ্য মার্চেন্ট অফ ভেনিস’ থেকে, ১৫৯৬-১৫৯৮] 
কি মধুর চাঁদের আলো এই তীরের উপর ঘুমিয়ে আছে! এখানে আমরা বসব, এবং সঙ্গীতের সুর আমাদের কানে ধীরে প্রবেশ করতে দাও: মৃদু নিস্তব্ধতা আর রাত্রি, হয়ে ওঠে মধুর ঐকতানের স্পর্শ । বসো, জেসিকা । চেয়ে দেখো, স্বর্গের মেঝে কেমন প্রাচুর্যপূর্ণভাবে খচিত যেন এক উজ্জ্বল স্বর্ণ চাকতি । তুমি যে ক্ষুদ্রতম গোলকটিই দেখো না কেন এটি তার গতিতে এক দেবদূতের মত গান গায়, এখনো তরুণ-চোখবিশিষ্ট স্বর্গীয় দূতদের জন্য সুর সৃষ্টি করছে । এমন ঐকতান অমর আত্মাদের মধ্যে থাকে; কিন্তু ক্ষয়শীল এই কর্দমাক্ত আবরণ যখন তাকে একেবারেই রুদ্ধ করে রাখে, আমরা তা শুনতে পাই না । 

উৎস: Moonlight - William Shakespeare - 101 Famous Poems https://sharpgiving.com/Sharp/101famouspoems/poems/original/011Shakespeare.html

Thursday, 6 August 2026

এক গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় লেখা [কবি: জন কিটস]

"Written on a Summer Evening" 

(Written in Disgust of Vulgar Superstition)

by John Keats 

---------------------

The church bells toll a melancholy round,

Calling the people to some other prayers,

Some other gloominess, more dreadful cares,

More harkening to the sermon's horrid sound.

Surely the mind of man is closely bound

In some blind spell: seeing that each one tears

Himself from fireside joys and Lydian airs,

And converse high of those with glory crowned.

Still, still they toll, and I should feel a damp,

A chill as from a tomb, did I not know

That they are dying like an outburnt lamp, -

That 'tis their sighing, wailing, ere they go

Into oblivion -that fresh flowers will grow,

And many glories of immortal stamp.  

----------------

এক গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় লেখা 

(কুরুচিপূর্ণ কুসংস্কারের প্রতি বিতৃষ্ণা থেকে লেখা)

কবি: জন কিটস 

অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল 


গির্জার ঘণ্টাগুলো এক বিষাদময় সুরে বেজে ওঠে, 

মানুষকে ডাকছে অন্য কোনো প্রার্থনার দিকে,   

অন্য কোনো বিষণ্ণতা, আরো ভয়ঙ্কর দুশ্চিন্তা,  

ধর্মোপদেশের বিকট ধ্বনি আরো বেশি মনোযোগ দিয়ে শুনতে । 

নিশ্চয়ই মানুষের মন ঘনিষ্ঠভাবে আবদ্ধ 

কোনো এক অন্ধ জাদুমন্ত্রে: যখন দেখি প্রত্যেকের চোখে জল

নিজেকে বাসগৃহের আনন্দ, লিডিয়ান সুর 

এবং গৌরবের মুকুটধারীদের সাথে উচ্চমার্গীয় আলাপ থেকে দূরে সরিয়ে নেয় । 

তবুও, তবুও তারা বেজেই চলেছে, 

আর আমার এক আর্দ্রতা অনুভব করা উচিৎ, 

কবরের মত শীতলতা, 

আমি জানতাম না কি যে তারা নিভে যাওয়া প্রদীপের মত মরে যাচ্ছে,

সেটিই তাদের দীর্ঘশ্বাস, বিলাপ, 

তারা বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাওয়ার পূর্বে— তাজা ফুল জন্ম নিবে

এবং অবিনাশী চিহ্নের অনেক মহিমা ।

আমার প্রণয়িনীর চোখ সূর্যের মত নয়

 My mistress’ eyes are nothing like the sun (Sonnet 130)  --------  William Shakespeare , 1564 –1616 My mistress’ eyes are nothing like the ...