Sunday, 25 October 2026
ভ্যান গগের বিখ্যাত চিত্রকর্ম 'নক্ষত্রময় রাত্রি'
Wednesday, 14 October 2026
হেমন্তের নিঃসঙ্গতা
হেমন্তের নিঃসঙ্গতা
মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম
হেমন্তের মিষ্টি রোদ,
হিমঝুরির সুবাসে দিশেহারা ভ্রমর,
পাকা ডালিমের চৌচির মুখ,
নীলিমায় মিলিয়ে যায় শুভ্র মেঘমালা,
তবুও মরা কার্তিকের রুদ্রমূর্তি ।
বিস্তীর্ণ প্রান্তর জুড়ে হাহাকার,
খাদ্যসংকট ও মহাজনের চড়া সুদে ঋণ,
ঝরে পড়া ধূসর পাতার মর্মর ধ্বনি,
নিস্তেজ কাশফুলের মর্মব্যথা,
কান পেতে শোনা যায় ।
অগ্রহায়ণের পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধ,
গোধূলি বেলার রক্তিম আভা,
উত্তর-পশ্চিমা শান্ত বাতাস,
শীতকে স্বাগত জানায় ।
খেজুর রসের প্রাচুর্য,
ঘরে ঘরে নবান্ন উৎসবের আমেজ,
পিঠা-পুলি ও পায়েসের বৈচিত্র্য আয়োজন,
অষ্টাদশীর প্রাণ স্পর্শ করে কুয়াশা,
আর জনাকীর্ণ মেলা ঘিরে মানুষের উচ্ছ্বাস ।
কখনো উদাসী মন,
প্রকৃতির এক অদ্ভুত শূন্যতা, বিষণ্ণতা ও নীরবতা,
যেখানে হেমন্তের নিঃসঙ্গতা!
আহ প্রেমের ক্ষুদ্র বিষাদময় উচ্ছ্বাস (কবি: অ্যান কারসন)
O Small Sad Ecstasy of Love
by Anne Carson
I like being with you all night with closed eyes.
What luck—here you are
coming
along the stars!
I did a road trip
all over my mind and heart
and
there you were
kneeling by the roadside
with your little toolkit
fixing something.
Give me a world, you have taken the world I was.
আহ প্রেমের ক্ষুদ্র বিষাদময় উচ্ছ্বাস
কবি: অ্যান কারসন
অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম
আমি চোখ বন্ধ করে সারারাত তোমার সাথে থাকতে পছন্দ করি ।
কি ভাগ্য— তুমি তো নক্ষত্রদের পথ ধরে এখানে চলে এলে!
আমি আমার মন আর হৃদয় জুড়ে এক পথ পাড়ি দিলাম
আর সেখানেই তুমি
রাস্তার ধারে হাঁটু গেড়ে বসেছিলে
তোমার ছোট্ট যন্ত্রপাতির বাক্সটি নিয়ে
কিছু একটা ঠিক করছিলে ।
আমাকে একটি জগৎ দাও,
যে জগতে আমি ছিলাম যা তুমি কেড়ে নিয়েছো ।
উৎস: https://poets.org/poem/o-small-sad-ecstasy-love
ছবি: www.lemonde.fr
Monday, 28 September 2026
শোকের চরম পরিণতি (কবি: চার্লস বুকোস্কি)
Consummation Of Grief
Charles Bukowski
I even hear the mountains
the way they laugh
up and down their blue sides
and down in the water
the fish cry
and the water
is their tears.
I listen to the water
on nights I drink away
and the sadness becomes so great
I hear it in my clock
it becomes knobs upon my dresser
it becomes paper on the floor
it becomes a shoehorn
a laundry ticket
it becomes
cigarette smoke
climbing a chapel of dark vines. . .
it matters little
very little love is not so bad
or very little life
what counts
is waiting on walls
I was born for this
I was born to hustle roses down the avenues of the dead.
শোকের চরম পরিণতি
কবি: চার্লস বুকোস্কি
অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম
এমনকি আমি শুনতে পাই
পাহাড়গুলো যেভাবে তারা প্রাণখুলে হাসে
আর তাদের নীল প্রান্ত বেয়ে নিচে
এবং জলের গভীরে মাছেরা কাঁদে
আর সেই জল হচ্ছে তাদের অশ্রু ।
আমি জলের শব্দ শুনি
যে রাতে মদ্যপানে ডুবে থাকি
এবং বিষাদ এতটাই গভীর হয়ে ওঠে
আমি তা শুনতে পাই আমার ঘড়ির কাঁটায়
এটি আমার পোশাকের আলমারির হাতল হয়ে যায় এটি মেঝেতে পড়ে থাকা কাগজ হয়ে যায়
এটি জুতো পরানোর হাতা হয়ে যায়
ধোলাইখানার টিকিট হয়ে যায়
এটি সিগারেটের ধোঁয়ায় পরিণত হয়
গাঢ় লতাপাতায় ঘেরা একটি ছোট গির্জায় বেয়ে ওঠে... এসবের বিশেষ কিছু যায় আসে না
খুব সামান্য ভালোবাসাও অতটা মন্দ নয়
আর জীবন অতি নগন্য— যা কিছু গুরুত্বপূর্ণ
তা হচ্ছে দেয়ালের দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করা
আমি এই জন্যই জন্মেছি
মৃতদের রাজপথে গোলাপ বিক্রি করার জন্যই আমার জন্ম হয়েছে ।
চার্লস বুকোস্কি (Charles Bukowski) বিংশ শতাব্দীর একজন বিখ্যাত জার্মান-আমেরিকান কবি, ঔপন্যাসিক এবং ছোটগল্পকার । তিনি ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের ১৬ই আগস্ট দক্ষিণ-পশ্চিম জার্মানির Rhineland-Palatinate রাজ্যের রাইন নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক মধ্যযুগীয় আন্ডারনাখ (Andernach) শহরে জন্মগ্রহণ করেন । লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দের ৯ই মার্চ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান পেড্রোতে মৃত্যুবরণ করেন । জগদ্বিখ্যাত এই কবির পুরো নাম Heinrich Karl Bukowski (Junior) । অল্প বয়সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করেন । তার লেখায় আমেরিকার প্রান্তিক মানুষ, নিঃসঙ্গতা, হতাশা, দারিদ্র্য, আধুনিক সমাজের অন্ধকার দিক, মদ আসক্তি, নারীদের সাথে সম্পর্ক, লেখালেখি এবং জীবনের কঠোর বাস্তবতার চিত্র তিনি ফুটিয়ে তোলেন । তার কিছু উপন্যাসে Henry Chinaski নামক এক কাল্পনিক চরিত্রের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যা মূলত তার নিজের জীবনেরই ছায়া । তিনি কয়েক হাজার কবিতা, শতাধিক ছোটগল্প, ৬টি উপন্যাসসহ মোট ৬০টিরও বেশি বই লিখেছেন । তার বিখ্যাত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে Post Office এবং Factotum । গল্প ও অন্যান্য: Notes of a Dirty Old Man; কবিতা সংকলন: Flower, Fist, and Bestial Wail, Poems Written Before Jumping Out of an 8 Story Window, Burning in Water, Drowning in Flame ইত্যাদি ।
* তথ্যসূত্র: গুগল, ছবি: www.coleschafer.com ।
Tuesday, 8 September 2026
আমার প্রণয়িনীর চোখ সূর্যের মত নয়
My mistress’ eyes are nothing like the sun (Sonnet 130)
--------
William Shakespeare , 1564 –1616
My mistress’ eyes are nothing like the sun;
Coral is far more red than her lips’ red;
If snow be white, why then her breasts are dun;
If hairs be wires, black wires grow on her head.
I have seen roses damasked, red and white,
But no such roses see I in her cheeks;
And in some perfumes is there more delight
Than in the breath that from my mistress reeks.
I love to hear her speak, yet well I know
That music hath a far more pleasing sound;
I grant I never saw a goddess go;
My mistress when she walks treads on the ground.
And yet, by heaven, I think my love as rare
As any she belied with false compare.
-----------
আমার প্রণয়িনীর চোখ সূর্যের মত নয়
উইলিয়াম শেক্সপিয়ার
অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম
আমার প্রণয়িনীর চোখ সূর্যের মত নয়;
তার ঠোঁটের লালের চেয়ে প্রবাল অনেক বেশি লাল;
যদি তুষার শুভ্র হয়, তাহলে তার স্তন কেন ধূসর;
যদি চুলগুলো তারের মত হয়, তবে তার মাথায় কালো তার গজায় ।
আমি লাল ও সাদা রঙের দামাস্ক গোলাপ দেখেছি,
কিন্তু তার গালে আমি এমন গোলাপ দেখি না;
আর কিছু সুগন্ধিতে আছে আমার প্রণয়িনীর গন্ধে ভরা
নিঃশ্বাসের চেয়ে আরো বেশি আনন্দ ।
আমি তার কথা শুনতে ভালোবাসি,
তবুও আমি ভালো করেই জানি যে সঙ্গীতের সুর তার চেয়ে অনেক বেশি শ্রুতিমধুর;
আমি স্বীকার করি আমি কখনো কোনো দেবীকে যেতে দেখিনি;
আমার প্রণয়িনী যখন হাঁটে, সে মাটিতেই পা ফেলে ।
তবুও, ঈশ্বরের দিব্যি, আমি মনে করি আমার ভালোবাসা ততটাই দুর্লভ,
যতটা অন্য কোনো নারীকে মিথ্যা তুলনার মাধ্যমে ভুলভাবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে ।
Sunday, 30 August 2026
হিমালয়
হে হিমালয়,
অপার সৌন্দর্যের অধিপতি,
কেন তোমার এই রুদ্ররূপ?
যে এমন নৃশংস মহাপ্রলয় ।
এ কি তোমার নিষ্ঠুর প্রতিশোধ?
তুমিইতো সৃষ্টি করেছো হিমবাহের জলাধার,
আবার তোমার বুক চিরেই সেখানে হিমবাহ ধস ।
হঠাৎ প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ও কম্পন
যার পরিণতি—
ভূমিধস,
কাদা-পাথর-ধুলো-পানির ক্ষিপ্র স্রোত
দুর্দান্ত প্রতাপে ধেয়ে আসে পাহাড়ী উপত্যকায় ।
যেখানে মৃত্যু, ধ্বংসলীলা, বিভীষিকা, আর্তনাদ
আর এক অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ।
তোমার হিংস্রতার কাছে মানুষ নিদারুণ অসহায়!
হয়তো, তুমি এই তাণ্ডব করে অট্টহাসি হাসছো ।
কারণ তুমি পরাক্রমশালী
এবং এটিই তোমার অসীম শক্তির বহিঃপ্রকাশ ।
তবুও তুমি শান্ত হও ।
আমাদের ক্ষমা করো ।
নেপালের জন্য প্রার্থনা ।
------------------------------
Himalaya
Muhammad Asraful Alam
Oh Himalaya,
The king of infinite beauty,
Why do you have this fierce form?
Which is such a brutal catastrophe.
Is this your cruel revenge?
You yourself created the glacier reservoir,
Again the glacier collapsed right there by tearing your chest.
Suddenly, huge explosion and tremor
Which results in—
Landslide,
Impetuous streams of mud-stone-dust-water
It comes to the mountain valley in rushing towards with irresistible power.
Where death, destruction, horror, scream
And an uncertain future.
People are utterly helpless to your ferocity!
Maybe, you are laughing out loud by creating this rampage.
Because you are mighty
And this is the manifestation of your infinite power.
Still you calm down.
Forgive us.
Prayer for Nepal.
[ছবি: Muhammad Abdur Rahaman]
Saturday, 22 August 2026
কিং লিয়ার (King Lear) পুনরায় পড়ার আগে লেখা [কবি: জন কিটস]
Written Before Re-Reading King Lear
[On Sitting Down to Read King Lear Once Again / কিং লিয়ার আরেকবার পড়তে বসতে]
by John Keats
O golden-tongued Romance with serene lute!
Fair plumed Syren! Queen of far away!
Leave melodizing on this wintry day,
Shut up thine olden pages, and be mute.
Adieu! for once again the fierce dispute
Betwixt damnation and impassioned clay
Must I burn through; once more humbly assay
The bitter-sweet of this Shakespearean fruit.
Chief Poet! and ye clouds of Albion,
Begetters of our deep eternal theme,
When through the old oak Forest I am gone,
Let me not wander in a barren dream,
But when I am consumed in the Fire,
Give me new Phoenix wings to fly at my desire.
---------------
* On Sitting Down to Read King Lear Once Again হচ্ছে বিখ্যাত রোমান্টিক কবি জন কিটসের লেখা একটি বিখ্যাত সনেট । ১৮১৮ সালের জানুয়ারি মাসে উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের ‘কিং লিয়ার’ নাটকটি পুনরায় পড়ার ঠিক আগে তিনি এই কবিতাটি রচনা করেন ।
কিং লিয়ার পুনরায় পড়ার আগে লেখা
কবি: জন কিটস
অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম
---------------------------
হে সুমধুর কল্পকাহিনী, সাথে বীণার শান্ত সুর!
সুন্দর পালকযুক্ত জলপরী! দূর দেশের রাণী!
এই শীতের দিনে সুর তৈরি করা ছেড়ে দাও,
তোমার পুরোনো পৃষ্ঠাগুলো বন্ধ করো এবং নীরব থাকো ।
বিদায়! কারণ অভিশাপ ও উদ্দীপ্ত কাদামাটির মধ্যকার তীব্র দ্বন্দ্বে আমাকে আরো একবার পুড়তে হবে;
আবারো বিনম্রভাবে পরীক্ষা করতে হবে
এই শেক্সপীয়রীয় ফলের তিক্ত-মধুরতা ।
হে শ্রেষ্ঠ কবি! এবং অ্যালবিয়নের মেঘমালা,
আমাদের গভীর শাশ্বত মূলভাবের জন্মদাতাগণ,
যখন আমি প্রাচীন ওক অরণ্যের মধ্য দিয়ে চলে যাবো,
আমাকে যেন এক ঊষর স্বপ্নে ঘুরে বেড়াতে না হয়,
কিন্তু যখন আমি আগুনে দগ্ধ হই,
আমার ইচ্ছেমত উড়ার জন্য আমাকে নতুন ফিনিক্সের ডানা দিও ।
Wednesday, 12 August 2026
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একজন অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্পকার, সঙ্গীতস্রষ্টা, চিত্রকর, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী, সমাজ সংস্কারক এবং দার্শনিক ৷ তিনি বাংলা সাহিত্যে গদ্য ও পদ্যকে নতুন আঙ্গিকে রূপ দিয়েছেন এবং কথ্য ভাষা ব্যবহারে একজন পথপ্রদর্শক ছিলেন । সুপ্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় সংস্কৃতিকে পাশ্চাত্যে পরিচয় করিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতের কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর বাড়ির এক ধনাঢ্য ও সংস্কৃতিবান ব্রাহ্ম পিরালী ব্রাহ্মণ পরিবারে ৭ই মে ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দ (২৫শে বৈশাখ ১২৬৮ বঙ্গাব্দে) জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭ই আগস্ট ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে (২২শে শ্রাবণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে) কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতা হচ্ছেন ব্রাক্ষ্ম আধ্যাত্মিক ধর্মগুরু (মহর্ষি) ও জমিদার দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মা সারদাসুন্দরী দেবী । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন পিতা ও মাতার চতুর্দশ সন্তান । তার স্ত্রীর নাম মৃণালিনী দেবী (ভবতারিণী দেবী) । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শৈশবে কলকাতার ওরিয়েন্টাল সেমিনারি, নর্ম্যাল স্কুল, বেঙ্গল অ্যাকাডেমি এবং সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজিয়েট স্কুলে কিছুদিন পড়াশোনা করেন । তবে, বিদ্যালয়ে প্রথাগত শিক্ষা গ্রহণ না করে বাড়িতেই গৃহশিক্ষকের কাছ থেকে শিক্ষা নেন । তিনি পিতার কাছ থেকে সংস্কৃত ব্যাকরণ, ইংরেজি, জ্যোতির্বিজ্ঞান, সাধারণ বিজ্ঞান ও ইতিহাস বিষয়ে নিয়মিত পাঠ নেন । তার পিতা তাকে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের জীবনী, কালিদাস রচিত ধ্রুপদি সংস্কৃত কাব্য ও নাটক এবং উপনিষদ পাঠেও উৎসাহিত করতেন । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আট বছর বয়সেই কবিতা লেখা শুরু করেন । ১৮৭৪ খ্রিস্টাব্দে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় তার প্রথম কবিতা অভিলাষ প্রকাশিত হয় । পরবর্তীতে তিনি ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে আইনবিদ্যায় পড়াশোনা করেন ৷ যদিও তিনি ইংল্যান্ডে পড়াশোনা অসমাপ্ত করে ১৮৭০ এর দশকের শেষের দিকে ভারতে ফিরে আসেন । ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দশ বছরের জন্য শিলাইদহ ও শাহজাদপুরে তার পারিবারিক জমিদারির দেখাশোনা করতে পূর্ববঙ্গে (বর্তমানে বাংলাদেশ) আসেন । সেখানে তিনি প্রায়শই পদ্মা নদীর (গঙ্গা নদীর মূল শাখা) উপর একটি বাসযোগ্য বজরা বা কিস্তিতে থাকতেন । গ্রাম্য মানুষের দৈনন্দিন জীবন, তাদের সাথে ঘনিষ্ঠতা এবং তাদের প্রতি সহানুভূতিই পরবর্তীকালে তার লেখার মূল সুর হয়ে ওঠে । কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদের জাতীয় কবি । বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক । বাংলা সাহিত্যের ঋষিতুল্য । তিনি বাংলা ভাষা এবং বাঙালি জাতিকে এই গ্রহের মানুষের কাছে প্রথম পরিচিত করে তোলেন । রবি ঠাকুরের অসাধারণ সৃষ্টিকর্মগুলো বাঙালির হৃদয়কে স্পর্শ করে ৷ সারা পৃথিবীর মানুষকে অনুপ্রাণিত করে । বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে তার রচিত গান ও কবিতা বাঙালি জাতিকে সাহস আর অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে ৷ ১৯০১ খ্রিস্টাব্দের ২২শে ডিসেম্বর (৭ই পৌষ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার বোলপুরের শান্তিনিকেতনে (শান্তির আবাস) একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে তিনি ভারতীয় ও পাশ্চাত্য ঐতিহ্যের শ্রেষ্ঠ দিকগুলোর সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করেন । যদিও তার পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে এটিকে একটি আধ্যাত্মিক নিভৃতবাস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন । যা পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত করে এখানেই তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও নিজের কর্ম ও প্রতিভা দ্বারা স্ব-যত্নে গড়েছেন বিশ্ববিখ্যাত বিদ্যাপীঠ শান্তিনিকেতন ৷ যেখানে স্থান পেয়েছে তার অনন্য কীর্তিগুলো । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ২৩শে ডিসেম্বর ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে (৮ই পৌষ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ) এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং তার নাম দেন বিশ্বভারতী, যার অর্থ ভারতের সঙ্গে বিশ্বের মিলনস্থল । যেটি পরবর্তীকালে ১৯২১ খ্রিস্টাব্দের ২৩শে ডিসেম্বর (১৩২৮ বঙ্গাব্দের ৮ই পৌষ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপস্থিতিতে আচার্য ব্রজেন্দ্রনাথ শীল কর্তৃক বিশ্বভারতীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয় । ইউনেস্কো ২০২৩ খ্রিস্টাব্দে এই কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়টিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা করে । উল্লেখ্য যে, কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন স্বর্ণকুমারী দেবী (জন্ম: ১৮৫৫ বা ১৮৫৬ – মৃত্যু: ১৯৩২ খ্রিঃ) একজন স্বনামধন্য লেখক ছিলেন । তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রথম সারির নারী লেখিকা হিসেবে বিবেচিত হন, যিনি ২৫টি বই এবং বেশ কিছু প্রবন্ধ রচনা করেছেন । ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দীর্ঘ সময় ভারতের বাইরে বসবাস করেন । এই সময় বিভিন্ন দেশে তিনি তার সাহিত্য কর্ম নিয়ে কাজ করেন এবং ভারতীয় স্বাধীনতার পক্ষে একজন বাগ্মী মুখপাত্র হয়ে ওঠেন । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে গুরুদেব, কবিগুরু এবং বিশ্বকবি হিসেবে ভূষিত করা হয় । তার রয়েছে অসংখ্য সাহিত্যকর্ম, যা বাঙালি এবং বিশ্ব সংস্কৃতিতে অদম্য প্রভাব ফেলেছে । তার রচিত অসাধারণ শিল্পকর্মগুলো বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উৎকর্ষতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে ৷ তার বৈচিত্র্যময় রচনাবলী সারাবিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে । প্রতিভাময়ী এই কবির সুবিশাল ও বহুল সমাদৃত সৃজনশীল সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে অসংখ্য কবিতা, নাটক, উপন্যাস, প্রবন্ধ, ছোটগল্প, অনুবাদ এবং গান ইত্যাদি । তার প্রায় দুই হাজারেরও বেশি গান রয়েছে, যা বাঙালি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সবচেয়ে বিখ্যাত কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে: কাব্যগ্রন্থ মানসী (১৮৯০ খ্রিঃ), নাটক চিত্রাঙ্গদা (১৮৯২ খ্রিঃ, চিত্র), কাব্যগ্রন্থ সোনার তরী (১৮৯৪ খ্রিঃ), ছোটগল্প নষ্টনীড় (১৯০১ খ্রিঃ), উপন্যাস চোখের বালি (১৯০৩ খ্রিঃ), উপন্যাস নৌকাডুবি (১৯০৬ খ্রিঃ), কাব্যগ্রন্থ গীতাঞ্জলি (১৯১০ খ্রিঃ), উপন্যাস গোরা (১৯১০ খ্রিঃ), উপন্যাস ঘরে-বাইরে (১৯১৬ খ্রিঃ) এবং উপন্যাস শেষের কবিতা (১৯২৯ খ্রিঃ) ইত্যাদি । তিনি একজন গীতিকার ও সুরকার হিসেবে রবীন্দ্রসঙ্গীত নামে গুরুত্বপূর্ণ ধারার গান রচনা করেছেন, যা বাংলার সাংস্কৃতিক জীবনে এক শক্তিশালী প্রভাব বিস্তার করে । এছাড়া, তিনি প্রায় দুই হাজার ছবি এঁকেছেন । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম বিখ্যাত একটি কবিতা যেখানে মন নির্ভয় ১৯০১ খ্রিস্টাব্দে নৈবেদ্য সংকলনে বাংলায় প্রকাশিত হয় । এছাড়া, এটি ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে বিখ্যাত গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রকাশিত এবং ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজি অনুবাদ আকারেও প্রকাশিত হয় । প্রসিদ্ধ এই কবিতাটি (ইংরেজি সংস্করণ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে ভারতের কলকাতায় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে আবৃত্তি করেন । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জগদ্বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ গীতাঞ্জলি রচনা করে ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে প্রথম একজন অ-ইউরোপীয় ও প্রথম এশীয় হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন । সেই নোবেল পুরস্কারের অর্থ দিয়ে তিনি শান্তিনিকেতন এবং বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরের দরিদ্র কৃষকদের ঋণ প্রদানে কৃষি ব্যাংক গড়ে তোলেন । ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ১৩ই এপ্রিল তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগে ইংরেজ শাসকদের অনুমোদিত রাওলাট আইন এর বিরুদ্ধে নিরস্ত্র জনগন প্রতিবাদ করলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজিনাল্ড ডায়ারের অধীনে থাকা ব্রিটিশ সৈন্যরা নিরস্ত্র মানুষের উপর গুলি চালিয়ে ৩৬৯ জনকে নৃশংস হত্যা করে । ফলে, এই ঘটনায় সমগ্র ভারতজুড়ে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয় । ভারতের স্বাধীনতা ইতিহাসে এটি ছিল এক মর্মান্তিক ঘটনা! ব্রিটিশ রাজপরিবার তথাপি ইংরেজ সরকার কর্তৃক (জুন, ১৯১৫ খ্রিঃ প্রদত্ত) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে দেয়া নাইটহুড উপাধিকে তিনি জালিয়ানওয়ালাবাগের ঐ হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদস্বরূপ প্রত্যাখ্যান করেন । পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ৩১শে মে ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতার জোড়াসাঁকোস্থ ৫ নং দ্বারকানাথ ঠাকুর লেন থেকে ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের অফিসকে তারবার্তায় বিষয়টি জানিয়ে দেন । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাইটহুড খেতাব প্রত্যাখ্যানের ফলে সেই সময় প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক সংবাদপত্র দ্য ইংলিশম্যান তাচ্ছিল্যের সুরে লিখে যে বাঙালি কবিটি স্যার খেতাবধারী থাকলেন, না-কি স্রেফ বাবু হয়ে রইলেন, তাতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কিছুই যায় আসে না । তবে, অনেকেই ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছিলেন এবং সেই সময় জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের পর পাঞ্জাবে সামরিক আইন জারির বিরুদ্ধে এটি অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক প্রতিবাদে পরিণত হয়েছিল । নিঃসন্দেহে বাংলার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিকদের মধ্যে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তাধারা গঠনে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রেখেছেন বা রাখছেন । এছাড়া, তিনি ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন বিশিষ্ট নেতা ছিলেন । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হচ্ছেন পৃথিবীর একমাত্র গীতিকবি, যার রচিত ভিন্ন তিনটি ভাষায় তিনটি ভিন্ন সঙ্গীত স্বাধীন-সার্বভৌম তিনটি ভিন্ন দেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গীত হয় । যেমন: (ক) আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি, এটি হচ্ছে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত (খ) জন গণ মন- অধিনায়ক জয় হে, এটি হচ্ছে ভারতের জাতীয় সঙ্গীত (গ) নমো নমো মাতা, এটি হচ্ছে শ্রীলংকার জাতীয় সঙ্গীত, যেগুলো তিনটি দেশেই সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত । বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মহান রচনাবলী চির শাশ্বত । যা মানুষের মনকে নাড়া দেয় । তার এই অমূল্য সাহিত্যকর্মকে যুগে যুগে মানুষ পরম শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং স্ব-যত্নে লালন করবে এবং এটিকে বয়ে নিয়ে যাবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ।। লেখক: ফার্মাসিস্ট; তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা, উইকিপিডিয়া; ছবি: ইউ.এস. অ্যাম্বাসি ঢাকা ।
Monday, 10 August 2026
চাঁদের আলো [কবি: উইলিয়াম শেক্সপিয়ার]
Moonlight
from The Merchant of Venice(1596-1598)by William Shakespeare
How sweet the moonlight sleeps upon this bank!Here we will sit, and let the sounds of musicCreep in our ears: soft stillness, and the night,Become the touches of sweet harmony.Sit, Jessica. Look how the floor of heavenIs thick inlaid with patines of bright gold.There’s not the smallest orb which thou behold’stBut in his motion like an angel sings,Still quiring to the young-eyed cherubins.Such harmony is in immortal souls;But, whilst this muddy vesture of decayDoth grossly close it in, we cannot hear it.
চাঁদের আলো কবি: উইলিয়াম শেক্সপিয়ার অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম [উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের বিখ্যাত নাটক ‘দ্য মার্চেন্ট অফ ভেনিস’ থেকে, ১৫৯৬-১৫৯৮]
কি মধুর চাঁদের আলো এই তীরের উপর ঘুমিয়ে আছে! এখানে আমরা বসব, এবং সঙ্গীতের সুর আমাদের কানে ধীরে প্রবেশ করতে দাও: মৃদু নিস্তব্ধতা আর রাত্রি, হয়ে ওঠে মধুর ঐকতানের স্পর্শ । বসো, জেসিকা । চেয়ে দেখো, স্বর্গের মেঝে কেমন প্রাচুর্যপূর্ণভাবে খচিত যেন এক উজ্জ্বল স্বর্ণ চাকতি । তুমি যে ক্ষুদ্রতম গোলকটিই দেখো না কেন এটি তার গতিতে এক দেবদূতের মত গান গায়, এখনো তরুণ-চোখবিশিষ্ট স্বর্গীয় দূতদের জন্য সুর সৃষ্টি করছে । এমন ঐকতান অমর আত্মাদের মধ্যে থাকে; কিন্তু ক্ষয়শীল এই কর্দমাক্ত আবরণ যখন তাকে একেবারেই রুদ্ধ করে রাখে, আমরা তা শুনতে পাই না ।
উৎস: Moonlight - William Shakespeare - 101 Famous Poems https://sharpgiving.com/Sharp/101famouspoems/poems/original/011Shakespeare.html
Thursday, 6 August 2026
এক গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় লেখা [কবি: জন কিটস]
"Written on a Summer Evening"
(Written in Disgust of Vulgar Superstition)
by John Keats
---------------------
The church bells toll a melancholy round,
Calling the people to some other prayers,
Some other gloominess, more dreadful cares,
More harkening to the sermon's horrid sound.
Surely the mind of man is closely bound
In some blind spell: seeing that each one tears
Himself from fireside joys and Lydian airs,
And converse high of those with glory crowned.
Still, still they toll, and I should feel a damp,
A chill as from a tomb, did I not know
That they are dying like an outburnt lamp, -
That 'tis their sighing, wailing, ere they go
Into oblivion -that fresh flowers will grow,
And many glories of immortal stamp.
----------------
এক গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় লেখা
(কুরুচিপূর্ণ কুসংস্কারের প্রতি বিতৃষ্ণা থেকে লেখা)
কবি: জন কিটস
অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম
গির্জার ঘণ্টাগুলো এক বিষাদময় সুরে বেজে ওঠে,
মানুষকে ডাকছে অন্য কোনো প্রার্থনার দিকে,
অন্য কোনো বিষণ্ণতা, আরো ভয়ঙ্কর দুশ্চিন্তা,
ধর্মোপদেশের বিকট ধ্বনি আরো বেশি মনোযোগ দিয়ে শুনতে ।
নিশ্চয়ই মানুষের মন ঘনিষ্ঠভাবে আবদ্ধ
কোনো এক অন্ধ জাদুমন্ত্রে: যখন দেখি প্রত্যেকের চোখে জল
নিজেকে বাসগৃহের আনন্দ, লিডিয়ান সুর
এবং গৌরবের মুকুটধারীদের সাথে উচ্চমার্গীয় আলাপ থেকে দূরে সরিয়ে নেয় ।
তবুও, তবুও তারা বেজেই চলেছে,
আর আমার এক আর্দ্রতা অনুভব করা উচিৎ,
কবরের মত শীতলতা,
আমি জানতাম না কি যে তারা নিভে যাওয়া প্রদীপের মত মরে যাচ্ছে,
সেটিই তাদের দীর্ঘশ্বাস, বিলাপ,
তারা বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাওয়ার পূর্বে— তাজা ফুল জন্ম নিবে
এবং অবিনাশী চিহ্নের অনেক মহিমা ।
Thursday, 30 July 2026
উজ্জ্বল নক্ষত্র [কবি: জন কিটস]
Bright Star
by John Keats
----------------------
Bright star, would I were steadfast as thou art--
Not in lone splendour hung aloft the night
And watching, with eternal lids apart,
Like nature's patient, sleepless Eremite,
The moving waters at their priest like task
Of pure ablution round earth's human shores,
Or gazing on the new soft-fallen mask
Of snow upon the mountains and the moors--
No--yet still steadfast, still unchangeable,
Pillow'd upon my fair love's ripening breast,
To feel for ever its soft fall and swell,
Awake for ever in a sweet unrest,
Still, still to hear her tender-taken breath,
And so live ever--or else swoon to death.
উজ্জ্বল নক্ষত্র
কবি: জন কিটস
অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম
উজ্জ্বল নক্ষত্র, আমি যদি তোমার মত অবিচল হতাম—
নিঃসঙ্গ দ্যুতি ছড়িয়ে রাতের আকাশে না ঝুলে থেকে
এবং অনন্তকাল চেয়ে না থেকে,
প্রকৃতির ধৈর্যশীল, নিদ্রাহীন সন্ন্যাসীর মত,
প্রবহমান জলরাশি পুরোহিতের মত পবিত্র পুণ্যস্নানের কাজ করে চলেছে পৃথিবীর মানব উপকূলজুড়ে,
কিংবা পাহাড় ও বিস্তীর্ণ প্রান্তরের উপর সদ্য ঝরে পড়া বরফের নরম আবরণের দিকে তাকিয়ে থেকে—
না— তবুও অবিচল, এখনো অপরিবর্তনীয়,
আমার প্রিয়তমার পরিণত বুকের উপর বালিশের মত মাথা রেখে,
চিরকাল এর মৃদু ওঠা-নামা অনুভব করা,
এক মধুর অস্থিরতায় সর্বদা জেগে থেকে,
অবিরাম তার কোমল নিঃশ্বাস শুনে যাওয়া,
আর এভাবেই চিরকাল বেঁচে থাকা—
নয়তো বিমুগ্ধ হয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা ।
Saturday, 25 July 2026
আইলসা শিলার প্রতি [কবি: জন কিটস]
To Ailsa Rock
by John Keats
---------------------
Hearken, thou craggy ocean-pyramid,
Give answer by thy voice—the sea-fowls' screams!
When were thy shoulders mantled in huge streams?
When from the sun was thy broad forehead hid?
How long is't since the mighty Power bid
Thee heave to airy sleep from fathom dreams—
Sleep in the lap of thunder or sunbeams—
Or when grey clouds are thy cold coverlid!
Thou answer'st not; for thou art dead asleep.
Thy life is but two dead eternities
The last in air, the former in the deep!
First with the whales, last with the eagle-skies!
Drowned wast thou till an earthquake made thee steep,
Another cannot wake thy giant-size.
আইলসা শিলার প্রতি
কবি: জন কিটস
অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম
----------------------------
আইলসা শিলার প্রতি
কবি: জন কিটস
অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম
---------------------------
শোনো, হে পাথুরে মহাসমুদ্র পিরামিড!
তোমার কণ্ঠস্বরে উত্তর দাও,
সামুদ্রিক পাখির তীক্ষ্ণ চিৎকারে!
কখন তোমার কাঁধ বিশাল জলপ্রবাহে আবৃত ছিল?
কবে তোমার প্রশস্ত কপাল সূর্য থেকে আড়াল হয়েছিল?
কত দিন হয়ে গেছে সেই পরাক্রমশালী শক্তি
তোমাকে অতল স্বপ্ন থেকে জেগে ওঠে মুক্ত বাতাসে ঘুমাতে আদেশ করেছিলেন?
বজ্রপাত বা সূর্যরশ্মির কোলে ঘুমিয়ে পড়ো,
কিংবা যখন ধূসর মেঘই তোমার শীতল শয্যাবরণী ।
তুমি উত্তর দিচ্ছ না; কারণ তুমি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ।
তোমার জীবনতো কেবল দুটি মৃত অনন্তকাল—
শেষটি বাতাসে, আগেরটি গভীরে;
প্রথমে তিমিদের সাথে, অবশেষে ঈগলের আকাশে!
তুমি ডুবে ছিলে যতক্ষণ না এক ভূমিকম্প তোমাকে খাড়া করে তুলেছে,
অন্য কেউ তোমার এই দৈত্য আকারকে জাগরণ করতে পারবে না ।
Thursday, 23 July 2026
নিঃসঙ্গতার প্রতি [কবি: জন কিটস]
To Solitude
by John Keats
-----------------------
O Solitude! if I must with thee dwell,
Let it not be among the jumbled heap
Of murky buildings; , -- climb with me the steep,--
Nature's observatory -- whence the dell,
Its flowery slopes, its river's crystal swell,
May seem a span; let me thy vigils keep
'Mongst boughs pavilion'd, where the deer's swift leap
Startles the wild bee from the foxglove bell.
But though I'll gladly trace these scenes with thee,
Yet the sweet converse of an innocent mind,
Whose words are images of thoughts refin'd,
Is my soul's pleasure; and it sure must be
Almost the highest bliss of human-kind,
When to thy haunts two kindred spirits flee.
ইংরেজ গীতিকবি জন কিটস ৩১শে অক্টোবর ১৭৯৫ খ্রিস্টাব্দে লন্ডনের মুরফিল্ডসের একটি ভাড়াটে ঘোড়ার আস্তাবলে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৩শে ফেব্রুয়ারি ১৮২১ খ্রিস্টাব্দে ইতালির রোমে মারা যান । তিনি ইংরেজি সাহিত্যের একজন রোম্যান্টিক কবি । চিরসুন্দরের কবি জন কিটস এর কাব্যশৈলী ছিল কামনাপ্রবণতায় ভরপুর, বিশেষত তার গীতিকাব্য বা স্তবগানগুলোতে (Odes) । আজো তার কবিতা ও চিঠিপত্র ইংরেজি সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় সৃষ্টিকর্ম । পরবর্তী ভিক্টোরীয় যুগে জন কিটস এর The Eve of St Agnes এবং La Belle Dame Sans Merci কবিতাদ্বয় Pre-Raphaelite movement আন্দোলনকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছিল এবং অ্যালগারন চার্লস সুইনবার্ন, দান্তে গ্যাব্রিয়েল রসেটি ও উইলিয়াম মরিসের মত কবিদের অনুপ্রাণিত করেছিল । কল্পনাশক্তি, মনন ও সৌন্দর্যের প্রতি এক তীব্র আকর্ষণে জীবন গড়া এই প্রতিভাময়ী কবির ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে ৩০টি কবিতা ও সনেটের সমন্বয়ে Poems শিরোনামে বই প্রকাশিত হয় । জন কিটস এর বিখ্যাত কবিতাগুলোর মধ্যে রয়েছে: The Eve of St Agnes, La Belle Dame Sans Merci, Endymion, Hyperion, Ode to a Nightingale, To Autumn, Ode On A Gracian Urn ইত্যাদি । ইংরেজি ভাষায় পাঁচটি বিখ্যাত স্তবগানগুলোর মধ্যে Ode to a Nightingale অন্যতম । প্রশান্তি, সৌন্দর্য ও তারুণ্যের প্রতীক জন কিটস এর এক অমর রচনা Ode On A Gracian Urn গীতিকাব্যে তার একটি বিখ্যাত উক্তি হচ্ছে: "Beauty is truth, truth beauty that is all Ye know on earth, and all ye need to know".
ছবি: ব্রিটানিকা (Joseph Severn আঁকা ছবি, ঊনবিংশ শতাব্দী) । * তথ্যসূত্র: গুগল, উইকিপিডিয়া ।
নিঃসঙ্গতার প্রতি
কবি: জন কিটস
অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম
-------------------------------------
হে নিঃসঙ্গতা!
যদি আমাকে তোমার সাথেই বাস করতে হয়,
তা যেন ঝাপসা দালানকোঠার জটলাপূর্ণ স্তূপের মধ্যে না থাকে;
আমার সাথে চড়ো সেই খাড়া পথে,
প্রকৃতির মানমন্দিরে— যেখান থেকে উপত্যকা,
এর পুষ্পময় ঢাল, এর নদীর স্বচ্ছ ঢেউ,
মনে হতে পারে এক বিঘত;
আমি তোমার প্রহরা পালন করি
বৃক্ষশাখায় ঘেরা চাঁদোয়ার মধ্যে,
যেখানে হরিণের ক্ষিপ্র লাফে
শেয়াল মোজা ঘণ্টা ফুল থেকে বুনো মৌমাছি চমকে ওঠে ।
কিন্তু যাই হোক আমি সানন্দে তোমার সাথে এই দৃশ্যগুলো খুঁজে বের করব,
তবুও এক নিষ্পাপ মনের মিষ্টি আলাপ,
যার কথাগুলো পরিশীলিত চিন্তার প্রতিচ্ছবি,
এটিই আমার আত্মার তৃপ্তি;
আর নিশ্চয়ই তা হবে মানবজাতির প্রায় সর্বোৎকৃষ্ট পরমানন্দ,
যখন দুটি সমমনা আত্মা তোমার সান্নিধ্যে চলে যায় ।
Monday, 20 July 2026
প্রণয়াভিলাষী কথোপকথন [কবি: টি.এস. এলিয়ট]
CONVERSATION GALANTE
By T. S Eliot
----------------
I observe: "Our sentimental friend the moon!
Or possibly (fantastic, I confess)
It may be Prester John's balloon
Or an old battered lantern hung aloft
To light poor travellers to their distress."
She then: "How you digress!"
And I then: "Some one frames upon the keys
That exquisite nocturne, with which we explain
The night and moonshine; music which we seize
To body forth our vacuity."
She then: "Does this refer to me?"
"Oh no, it is I who am inane."
"You, madam, are the eternal humorist,
The eternal enemy of the absolute,
Giving our vagrant moods the slightest twist!
With your aid indifferent and imperious
At a stroke our mad poetics to confute—"
And—"Are we then so serious?"
----------------
প্রণয়াভিলাষী কথোপকথন
কবি: টি.এস. এলিয়ট
অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম
আমি লক্ষ্য করি: “আমাদের আবেগপ্রবণ বন্ধু চাঁদ!
অথবা সম্ভবত (চমৎকার, আমি স্বীকার করছি)ওটা হতে পারে প্রেস্টার জন এর বেলুন
কিংবা শূন্যে ঝুলে থাকা একটি পুরোনো জীর্ণ লণ্ঠন
নিঃস্ব পথিকদের দুর্দশায় আলোকিত করে।"
Sunday, 19 July 2026
পৃথিবীর গান [কবি: ল্যাংস্টন হিউজ]
An Earth Song
by Langston Hughes
(1901-1967)
---------------------
It’s an earth song,—
And I’ve been waiting long for an earth song.
It’s a spring song,—
And I’ve been waiting long for a spring song.
Strong as the shoots of a new plant
Strong as the bursting of new buds
Strong as the coming of the first child from its mother’s womb.
It’s an earth song,
A body song,
A spring song,
I have been waiting long for this spring song.
----------
পৃথিবীর গান
কবি: ল্যাংস্টন হিউজ
অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম
-----------------------------------
এটি পৃথিবীর গান,—
আর আমি বহুদিন ধরে পৃথিবীর একটি গানের জন্য অপেক্ষা করছি ।
এটি বসন্তের গান,—
আর আমি বহুদিন ধরে বসন্তের একটি গানের জন্য অপেক্ষা করছি ।
নতুন গাছের কচি ডগার মত বলিষ্ঠ
নতুন কুঁড়ি ফোটার মতই বলিষ্ঠ
মায়ের গর্ভ থেকে প্রথম সন্তানের ভূমিষ্ঠ হওয়ার মতই বলিষ্ঠ ।
এটি পৃথিবীর গান,
দেহের গান,
এক বসন্তের গান,
আমি বহুদিন ধরে এই বসন্তের গানের জন্য অপেক্ষা করছি ।
আবাবিল [কবি: আব্রাহাম কাউলি]
The Swallow
By Abraham Cowley
---------------------------
FOOLISH prater, what dost thou
So early at my window do?
Cruel bird, thou’st ta’en away
A dream out of my arms to-day;
A dream that ne’er must equall’d be
By all that waking eyes may see.
Thou this damage to repair
Nothing half so sweet and fair,
Nothing half so good, canst bring,
Tho’ men say thou bring’st the Spring.
---------
আবাবিল
কবি: আব্রাহাম কাউলি
অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম
----------------------
মূর্খ বাচাল, কি করছো তুমি
এত সকালে আমার জানালায়?
নিষ্ঠুর পাখি, তুমি কেড়ে নিয়েছো
আজ আমার কোল থেকে একটি স্বপ্ন;
এমন এক স্বপ্ন যার তুলনা কোনো কিছুই হবে না
জাগ্রত চোখে যা কিছু দেখা যায় তার কোনোটি দিয়েই ।
তোমার এই ক্ষতি পূরণ করতে
কোনো কিছুই এর অর্ধেকটা এত মিষ্টি ও সুন্দর নয়,
অর্ধেকও খুব ভালো কিছু আনতে পারে না,
যদিও লোকেরা বলে তুমিই বসন্ত নিয়ে আসো ।
Friday, 17 July 2026
William Shakespeare (1564-1616)
Love’s Labour’s Lost, Act V, Scene 2 [Winter] --------------------------
When icicles hang by the wall
And Dick the shepherd blows his nail
And Tom bears logs into the hall
And milk comes frozen home in pail,
When blood is nipp’d and ways be foul,
Then nightly sings the staring owl,
Tu-whit;
Tu-who, a merry note,
While greasy Joan doth keel the pot.
When all aloud the wind doth blow
And coughing drowns the parson’s saw
And birds sit brooding in the snow
And Marian’s nose looks red and raw,
When roasted crabs hiss in the bowl,
Then nightly sings the staring owl,
Tu-whit;
Tu-who, a merry note,
While greasy Joan doth keel the pot.
----
উইলিয়াম শেক্সপিয়ার একজন ইংরেজ নাট্যকার, কবি এবং অভিনেতা । জন্ম ১৫৬৪ খ্রিঃ এবং মৃত্যু ১৬১৬ খ্রিঃ । তিনি ব্যাপকভাবে ইংরেজি ভাষা এবং বিশ্ব সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ লেখক ও নাট্যকার হিসেবে বিবেচিত । তিনি ইংল্যান্ডের জাতীয় কবি এবং তাকে Bard of Avon নামে ডাকা হয় । * ছবি: ব্রিটানিকা
প্রেমের শ্রম হারিয়ে গেছে
উইলিয়াম শেক্সপিয়ার (১৫৬৪-১৬১৬)
অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম
[নাটকের পঞ্চম অঙ্গ, দ্বিতীয় দৃশ্য, শীতকাল]
যখন দেয়ালের গায়ে বরফখণ্ড ঝুলে থাকে
আর মেষপালক ডিক তার নখে ফুঁ দেয়
এবং টম হলঘরে কাঠের গুঁড়ি বয়ে আনে
আর বালতিতে করে হিমায়িত দুধ বাড়িতে আসে,
যখন রক্ত জমে যায় ও পথঘাট নোংরা হয়ে ওঠে,
তখন প্রতি রাতে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকা পেঁচা গান গায়,
টু-হুইট;
টু-হু, এক আনন্দময় সুর,
যেই মুহূর্তে তেলচিটে জোন হাঁড়ির গরম খাবার ঠাণ্ডা করছে ।
যখন সশব্দে বাতাস বইতে থাকে
আর কাশির শব্দে ডুবে যায় যাজকের প্রবচন
এবং পাখিরা বরফের মধ্যে বিষন্ন মনে বসে থাকে
আর মেরিয়ানের নাকটা লালচে ও ছাল ওঠা দেখায়,
যখন বাটিতে ভাজা কাঁকড়াগুলো হিসহিস শব্দ করে,
তখন প্রতি রাতে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকা পেঁচা গান গায়,
টু-হুইট;
টু-হু, এক আনন্দময় সুর,
যেই মুহূর্তে তেলচিটে জোন হাঁড়ির গরম খাবার ঠাণ্ডা করছে ।
Tuesday, 14 July 2026
কবি ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক ও তার কবিতা
ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক (Friedrich Gottlieb Klopstock) ছিলেন অষ্টাদশ শতাব্দীর একজন বিখ্যাত জার্মান কবি, লেখক, গীতিকার ও ভাষাতাত্ত্বিক । তার আবেগপূর্ণ সাহিত্যকর্ম জার্মান সাহিত্যে যুক্তিবাদের আধিপত্য ভেঙে রোমান্টিক ধারার সূচনা করেছিল । প্রতিভাময়ী এই কবি ২রা জুলাই ১৭২৪ খ্রিস্টাব্দে জার্মানির কুয়েডলিনবার্গে জন্মগ্রহণ এবং ১৪ই মার্চ ১৮০৩ খ্রিস্টাব্দে জার্মানির হামবুর্গে মৃত্যুবরণ করেন । তার সৃজনশীল সাহিত্যকর্ম ফরাসি অনুকরণ থেকে বেরিয়ে এসে জার্মান সাহিত্যকে নব যুগের পথ দেখায় । ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক প্রাচীন গ্রিসের সর্বশ্রেষ্ঠ গীতিকার কবি Pindar (অন্য নাম: Pindaros বা Pindarus) দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে একটি ছন্দ ও সুর ব্যবহার করে জার্মান কবিতাকে কঠোর-ঐতিহ্যবাহী সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করেছিলেন । তার সবচেয়ে জনপ্রিয় কাজগুলোর মধ্যে অগ্রগণ্য হচ্ছে বিখ্যাত মহাকাব্য Der Messias (The Messiah বা মসিহ) এবং Die Auferstehung (The Resurrection বা পুনরুত্থান) স্তবগান বা স্তোত্র বা ছন্দোবদ্ধ আধ্যাত্মিক কবিতা । এদের মধ্যে দ্বিতীয়টি রচিত হয় ঈশ্বর, দেব-দেবী, শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের প্রতি প্রশংসা ও গুণগান করার জন্য, যেটি ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে প্রভাবশালী জার্মান পিয়ানোবাদক, সুরকার ও অর্কেস্ট্রা পরিচালক হান্স ফন বুলোর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় কবি ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টকের গাওয়া Die Auferstehung স্তোত্রটি একজন অস্ট্রো-বোহেমিয়ান কল্পনাবিলাসী সুরকার Gustav Mahler কে অনুপ্রাণিত করে এবং তিনি তার দ্বিতীয় সিম্ফনির (পশ্চিমা শাস্ত্রীয় সঙ্গীত) শেষাংশে সুরারোপিত করে স্তোত্রটিকে অমরত্ব দেন ।
ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক যিনি তার মহাকাব্যিক ধর্মীয় কবিতা Der Messias বা মসিহ এর জন্য সর্বাধিক পরিচিত । মসিহ হচ্ছে খ্রিস্টধর্মের ত্রাণকর্তা যিশু খ্রিস্টের জীবন ও মানবজাতি উদ্ধারের উপর লেখা ২০ খন্ডের একটি বিখ্যাত বাইবেলীয় মহাকাব্য । এটি গ্রিক ও ল্যাটিন ধ্রুপদী মহাকাব্যের অনুকরণে ষড়্মাত্রিক কবিতা বা চরণের ছন্দে (Hexameter verse) রচিত হয় । এর মূলভাব হচ্ছে মানুষের মুক্তি এবং যিশুখ্রিস্টের আত্মত্যাগ ও পুনরুত্থান । ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক তার এই অমর রচনায় স্বর্গের বর্ণনা, শয়তানের পরিষদ, মহাবিশ্বে দেবদূতদের যাত্রা এবং শেষ বিচারের মনোজ্ঞ ইতিহাস বর্ণনা করেছেন । উল্লেখ্য যে, বিখ্যাত ইংরেজ কবি জন মিল্টনের (John Milton) রচিত কালজয়ী মহাকাব্য হচ্ছে Paradise Lost এবং এর পরের পর্ব Paradise Regained । ১৬৬৭ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ১২ খন্ডের প্যারাডাইস লস্ট মহাকাব্যে বাইবেলের আদিপুস্তকের কাহিনী অবলম্বন করে শয়তানের প্ররোচনায় আদম ও হাওয়ার (অ্যাডাম ও ঈভ) স্বর্গ চ্যুত হওয়ার ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে । কবি জন মিল্টনের সেই প্যারাডাইস লস্ট মহাকাব্যের প্রতি ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়ে মসিহ মহাকাব্যটি রচনা করেছেন । এছাড়া, ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক তার প্রথম জীবনে মহাকাব্যিক কবি হওয়ার জন্য মনের মাঝে যে সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতেন, তা থেকেও মসিহ রচনা করতে উৎসাহ পেয়েছেন । তিনি উচ্চমার্গের আখ্যানমূলক এই মহাকাব্যে গির্জার মতবাদের গণ্ডিতে বিষয়বস্তুকে আবদ্ধ করার প্রয়াস নিয়ে খ্রিস্টান সাহিত্যিক ঐতিহ্যের আশ্রয় নিয়েছিলেন । ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টকের মসিহ মহাকাব্যটি লিখতে ২৫ বছর সময় লেগেছিল । এই শ্রেষ্ঠ মহাকাব্যের প্রথম খণ্ড ১৭৪৮ খ্রিস্টাব্দে এবং এর চূড়ান্ত ও সম্পূর্ণ খণ্ড ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় । তার এই বিস্ময়কর ও অসামান্য কাজটি শুরু হওয়ার সময় তীব্র জনউচ্ছ্বাস জাগিয়েছিল । মসিহ মহাকাব্য ১৭টি ভাষায় অনূদিত হওয়ায় অসংখ্য অনুকরণ তৈরি হয়েছে ।
ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক গ্রীক এবং ল্যাটিন ছন্দ রচনায় পারদর্শী ছিলেন । তিনি জার্মান ভাষায় বেশ কিছু প্রশংসনীয় গদ্য বা সংক্ষিপ্ত কবিতা (Idyll বা Idyl) এবং গীতিকাব্য বা গাথা (Ode) রচনা করেন । এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত গীতিকাব্য বা স্তবগান An meine Freunde (আমার বন্ধুদের প্রতি বা To My Friends) ১৭৪৭ খ্রিস্টাব্দে রচিত হয়, যা পরবর্তীতে ১৭৬৭ খ্রিস্টাব্দে তার Wingolf নামক কবিতায় রূপান্তরিত হয়েছিল (প্রাচীন নর্স পৌরাণিক শব্দ Wingolf অর্থ বন্ধুদের হল) । তিনি লিপজিগে ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়নের সময় An meine Freunde স্তবগান রচনা করেন যা গভীর, অন্তরঙ্গ ও আদর্শায়িত বন্ধুত্বের রূপান্তরকারী শক্তিকে মহিমান্বিত করে এক পবিত্র বন্ধনে উন্নীত করে । এটি এমন এক সময়ে লিখেছিলেন যখন তিনি কবিতার প্রচলিত কাব্যশৈলী বা রীতি থেকে সরে এসে তীব্র আবেগ ও ব্যাপক ছন্দের বৈশিষ্ট্যে এক অভিব্যক্তিপূর্ণ পিন্ডারীয় শৈলী গ্রহণ করছিলেন ।
১৭৫০ এর দশকে ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক সুইজারল্যান্ডের জুরিখ হ্রদে ভ্রমণের সময় Au peninsula উপদ্বীপের অনুপম সৌন্দর্য, শান্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ, সূর্যাস্ত ও ইতিহাসের প্রশংসা করে বিখ্যাত Ode an den Zürichsee (Ode to Lake Zurich বা জুরিখ হ্রদের প্রতি স্তবগান) গীতিমূলক সাহিত্যকর্ম বা কবিতাটি উৎসর্গের মাধ্যমে অমর করে রেখেছেন ।
এই গুণী প্রাণপুরুষ অনেক আবেগপূর্ণ স্তোত্র ও দেশাত্মবোধক কবিতা রচনা করেন যা জার্মান ভাষা এবং সংস্কৃতির বিশুদ্ধতা তুলে ধরে । তিনি জার্মান ষড়্মাত্রিক কবিতা বা চরণের ছন্দকে জনপ্রিয় করে তোলেন । তার লেখনীতে আবেগ, মুক্ত ছন্দ এবং জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রকাশ পায়, যা প্রবল আবেগ ও মানসিক অশান্তি হিসেবে পরিচিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক 'ঝড় ও চাপ' (Sturm und Drang বা Storm and Stress) আন্দোলনকে পরবর্তীকালে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল ।
ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক তার গীতিকাব্যগুলোতে স্বতন্ত্র প্রতিভা প্রদর্শনের অনেক সুযোগ পেয়েছিলেন ।এর মধ্যে কয়েকটি নর্ডিক পৌরাণিক অনুপ্রেরণায় রচিত হয়েছে এবং কিছু সংখ্যকে ধর্মীয় বিষয়বস্তুর ওপর জোর দিয়েছেন । তার সবচেয়ে বিখ্যাত এবং অনূদিত গীতিকাব্য বা স্তবগানগুলোর মধ্যে রয়েছে: An Fanny, Der Zürchersee, Die tote Klarissa, An Cidli, Die beiden Musen, Der Rheinwein, Die frühen Gräber, Mein Vaterland ইত্যাদি । তবে ধর্মীয় গীতিকাব্যগুলোর বেশিরভাগই স্তোত্রের আকারে রচিত, যার মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর হচ্ছে Die Frühlingsfeier (The Spring Festival বা বসন্ত উৎসব) । তিনি এই গীতিকাব্য বা কবিতায় ঝড়ের মত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে ঈশ্বরের উপস্থিতি ও মহিমান্বিত রূপ চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন । সাধারণত জার্মানিতে বসন্তকাল উদযাপনের সময় যেকোনো অনুষ্ঠান বা উৎসবে এই Frühlingsfest শব্দটি ব্যবহৃত হয় ।
ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক খ্রিস্টান বাইবেলের প্রথম ও প্রাচীনতম অংশ Old Testament এর ইতিহাস থেকে তার উপাদান গ্রহণ করে কিছু নাটক রচনা করেছেন । এগুলো তার সমগ্র কর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ । যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে রচিত বিখ্যাত ধ্রুপদী বিয়োগান্তক নাটক Der Tod Adams (The death of Adam বা আদমের মৃত্যু) । ভাবাবেগপূর্ণ এই নাটকে বাইবেলীয় চরিত্র প্রথম মানব হযরত আদম (আ.) এর পরিবার, তার সন্তান, সেই সময়ের ধর্মীয় ও নৈতিক দ্বন্দ্ব, আদম (আ.) এর জীবনের শেষ মুহূর্ত এবং তার মৃত্যুর পরের পরিস্থিতি এখানে তিনি চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন । এছাড়া, ১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দে Salomo (সলোমন) নামক ধর্মোপদেশমূলক তার আরেকটি নাটক প্রকাশিত হয় । ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক এই বিষাদময় নাটকে রাজা সলোমনের মনস্তাত্ত্বিক ও আধ্যাত্মিক দ্বিধাদ্বন্দ্বকে তুলে ধরেছেন । বিশেষত ঈশ্বরের প্রতি রাজার ভক্তি, বিশ্বাস, আবেগ, ঐশ্বরিক আইন, আধ্যাত্মিক বিশুদ্ধতা, রাজকীয় ক্ষমতা এবং রাজত্বকালের পার্থিব প্রলোভন ইত্যাদি এক জটিল অভ্যন্তরীণ সংগ্রামকে তিনি উপস্থাপন করেছেন । নাটকটিকে জার্মান Sturm und Drang (Storm and Stress বা ঝড় ও চাপ) যুগের সাহিত্যের একটি প্রধান উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয় ।
১৭৫৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টকের বিখ্যাত জার্মান ভাষার খ্রিষ্টীয় স্তোত্র বা স্তবগান Der am Kreuz ist meine Liebe (ক্রুশের উপর যিনি আছেন তিনিই আমার প্রেম বা He on the Cross is my love) । ছয়টি পদে বিভক্ত এই স্তোত্রটিতে যিশুর করুণ দুঃখভোগের প্রতি এক গভীর ভক্তিভাব তুলে ধরা হয়েছে, যার প্রথম পদটি হচ্ছে 'যিনি ক্রুশের উপর আছেন তিনিই আমার প্রেম' । এই স্তোত্রটি ছাড়াও তার আরো কিছু গীতিকাব্য এবং স্তোত্র প্রকাশিত হয়েছে, যা গত ২০১৩ খ্রিস্টাব্দের ক্যাথলিক স্তোত্রসংগ্রহ Gotteslob এর একটি সংক্ষিপ্ত ও পরিমার্জিত অংশ ।
টিউটোবার্গ বনের যুদ্ধকে (Battle of the Teutoburg Forest) কেন্দ্র করে ১৭৬৯ খ্রিস্টাব্দে ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টকের রচিত Hermanns Schlacht (হারম্যানের যুদ্ধ) হচ্ছে একটি ঐতিহাসিক জার্মান নাটক । ৯ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত এই যুদ্ধে জার্মানির চেরাস্কি (Cherusci) উপজাতির নেতা Arminius (যিনি হারম্যান নামেও পরিচিত) এর নেতৃত্বে শক্তিধর রোমান জেনারেল ভ্যারাসের (Varus) নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনীকে শোচনীয়ভাবে পরাস্ত করে প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের পতন ঘটে ।
১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত Die deutsche Gelehrtenrepublik (জার্মান পণ্ডিতদের প্রজাতন্ত্র) হচ্ছে ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টকের একটি যুগান্তকারী রচনা । এটি একটি কাল্পনিক-ব্যঙ্গাত্মক প্রবন্ধ, যেখানে তিনি জার্মান সাহিত্যের পুনরুজ্জীবন এবং স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক আদর্শ রাষ্ট্রব্যবস্থা তৈরিতে তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পায় । এই প্রবন্ধে ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক সাহিত্যের শৈল্পিক মানোন্নয়ন, সাহিত্যিক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা এবং লেখকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পণ্ডিত, বুদ্ধিজীবী, বিজ্ঞানী ও কবিদের নিয়ে একটি স্বাধীন প্রজাতন্ত্রের কথা প্রস্তাব করেছিলেন ।
ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক তার কয়েকটি অনন্য সৃষ্টিকর্মের জন্য ভাষাতত্ত্ব এবং জার্মান কবিতার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত আছেন । যেমন, ১৭৭৯ খ্রিস্টাব্দে Fragmente über Sprache und Dichtkunst (ভাষা এবং কবিতার খণ্ডাংশ) নামে তার একটি প্রবন্ধ ও চিন্তাসমগ্র প্রকাশিত হয় । জার্মান ভাষার বানান পদ্ধতি ও শব্দগঠন কিভাবে আরো নিখুঁত ও পরিমার্জিত করা যায় এবং কবিতা রচনার ক্ষেত্রে ভাষা ব্যবহার, ছন্দ ও ভাব প্রকাশ কতটা শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন তা এই প্রবন্ধে তুলে ধরা হয়েছে । এছাড়া, ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দে জার্মান ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে তার একটি কার্যকরী পদ্ধতি বা অনুশীলনমূলক বই Grammatische Gespräche (ব্যাকরণগত কথোপকথন) প্রকাশিত হয় । ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে রচিত হয় বিখ্যাত জার্মান ঐতিহাসিক দেশাত্মবোধক নাটক Hermann und die Fürsten (হারম্যান ও রাজপুত্ররা বা রাজন্যবর্গ) । এই নাটকে প্রাচীন জার্মানির চেরুস্কি উপজাতির একজন মহান বীর ও নেতা Hermann (যিনি Arminius নামেও পরিচিত) এর বীরত্বপূর্ণ কীর্তিগাথা রচিত হয়েছে, যিনি রোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে জার্মান উপজাতিদের একত্রিত করে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন । এটি রোমানদের বিরুদ্ধে জার্মান জাতির ঐক্যের প্রতীক হিসেবে 'হারম্যান' ও অন্যান্য জার্মান রাজাদের সংগ্রাম নিয়ে রচিত একটি পদ্য নাটক । নাটকটি জার্মান জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেম জাগিয়ে তুলতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে ।
ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টকের কাব্যিক শব্দভাণ্ডারের সমৃদ্ধি এবং ছন্দশাস্ত্রের প্রতি মনোযোগ তার পরবর্তী কবিদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হয়েছিল । ধ্রুপদী ফরাসি আলেকজান্দ্রিন থেকে উদ্ভূত স্বতন্ত্র ধরণের পদ্যের পংক্তি আলেকজান্দ্রীয় ছন্দের প্রতি একচেটিয়া আগ্রহ থেকে জার্মান কবিতাকে মুক্ত করার মাধ্যমে তিনি জার্মান সাহিত্যে একটি নতুন যুগের প্রতিষ্ঠাতা হয়েছিলেন- যার ফলে জার্মান নাট্যকার, কবি, দার্শনিক ও ঐতিহাসিক Johann Christoph Friedrich von Schiller (Friedrich Schiller) এবং আরেকজন জার্মান লেখক, কবি, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, বিজ্ঞানী, রাষ্ট্রনায়ক, নাট্য-পরিচালক ও সমালোচক Johann Wolfgang von Goethe শৈল্পিকভাবে তার কাছে ঋণী ছিলেন । এছাড়া, নরওয়েজীয়-ড্যানিশ সুরকার Sigrid Ingeborg Henriette Wienecke ইতিহাসের এই কীর্তিমান লেখক ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টকের রচনা থেকে তার সঙ্গীতধর্মী জনপ্রিয় স্তোত্র বা নাটক Fader Vor (প্রভু যিশুর প্রার্থনা বা Lord's Prayer) এর জন্য মূল পাঠ্য গ্রহণ করেছিলেন ।
কবি ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক ওক গাছকে জার্মানির প্রতীক হিসেবে জনপ্রিয় করে তোলেন এবং এটিকে প্রাচীন জার্মানিক জাতিগোষ্ঠী বা উপজাতিদের সাথে সংযুক্ত করে এক দৃঢ় সেতুবন্ধন তৈরি করেন । তার সম্মানে বেশ কয়েকটি প্রাচীন ওক গাছের নামকরণ 'Klopstock Oaks' করা হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনের ঐতিহাসিক Kongens Lyngby শহরে অবস্থিত হাঁটা ও সাইকেল চলাচলের জন্য Prinsessestien পথের উপর একটি ৮০০ বছরের পুরোনো গাছ, যেখানে তিনি সময় কাটিয়েছিলেন ।
কবিতা: তোমার নিদ্রা
কবি: ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক
অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম
সে ঘুমিয়ে আছে ।
ওহ তার কোমল হৃদয়ে ঢেলে দাও সুবাসিত জীবনের পক্ষল ঘুম!
স্বর্গের আদি উৎস থেকে
স্বচ্ছ স্ফটিকের মত ফোঁটাটি তুলে নাও!
এবং তাকে যেতে দাও, যেখানে গালের লালচে ভাব পালিয়ে গিয়েছে,
সেখানে সুগন্ধে গলে যাক! আর তুমি,
ওহ শ্রেষ্ঠ পুণ্য ও ভালোবাসা শান্তিতে থাকুক,
হে অলিম্পাস, তোমার লাবণ্যের ডানা দিয়ে সিডলিকে ঢেকে দাও ।
কি গভীর ঘুমে সে মগ্ন, কি নিস্তব্ধ!
ওহ বীণা'র নরম সুর, তুমিও নীরব হও!
তোমার লরেল চারাটি নেতিয়ে পড়ে,
যখন তুমি ঘুম থেকে তোতলিয়ে ওঠো, সিডলি!
* তথসূত্র: গুগল, উইকিপিডিয়া
ছবি: www.nzz.ch (Jens Juel এর আঁকা ছবি) ।
Monday, 13 July 2026
তোমার নিদ্রা [কবি: ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক]
Your slumber
by Friedrich Gottlieb Klopstock
She sleeps. O pour her, slumber, winged
Balsamic life over her gentle heart!
From Eden's pristine source
Scoop the clear, crystalline drop!
And let him, where the redness of the cheek escaped,
There fragrantly thaw! And you, oh better
virtue and love rest,
Grace of thy Olympus, cover
With your Fittig Cidli. how she slumbers
How silent! Be silent, O softer string itself!
Your laurel sprout wilts,
When you lisp out of slumber, Cidli!
তোমার নিদ্রা
কবি: ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক
অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম
সে ঘুমিয়ে আছে ।
ওহ তার কোমল হৃদয়ে ঢেলে দাও সুবাসিত জীবনের পক্ষল ঘুম!
স্বর্গের আদি উৎস থেকে
স্বচ্ছ স্ফটিকের মত ফোঁটাটি তুলে নাও!
এবং তাকে যেতে দাও, যেখানে গালের লালচে ভাব পালিয়ে গিয়েছে,
হে অলিম্পাস, তোমার লাবণ্যের ডানা দিয়ে সিডলিকে ঢেকে দাও ।
কি গভীর ঘুমে সে মগ্ন, কি নিস্তব্ধ!
ওহ বীণা'র নরম সুর, তুমিও নীরব হও!
তোমার লরেল চারাটি নেতিয়ে পড়ে,
যখন তুমি ঘুম থেকে তোতলিয়ে ওঠো, সিডলি!
Wednesday, 8 July 2026
অনুপস্থিতি, কবি: পাবলো নেরুদা
Absence
by Pablo Neruda
I have scarcely left you
When you go in me, crystalline,
Or trembling,
Or uneasy, wounded by me
Or overwhelmed with love, as
when your eyes
Close upon the gift of life
That without cease I give you.
My love,
We have found each other
Thirsty and we have
Drunk up all the water and the Blood,
We found each other
Hungry
And we bit each other
As fire bites,
Leaving wounds in us.
But wait for me,
Keep for me your sweetness.
I will give you too
A rose.
--------
প্রেম ও বিপ্লবের কবিতার জন্য বিশ্বখ্যাত এবং চিলির কূটনীতিক, রাজনীতিক ও নোবেলজয়ী জনপ্রিয় কবি পাবলো নেরুদার (রিকার্দো এলিসের নেফতালি রেইয়েস বাসোয়ালতো) একটি কবিতা:
অনুপস্থিতি
পাবলো নেরুদা
অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম
----------------------------------------
আমি সবেমাত্র তোমাকে ছেড়ে এসেছি
তুমি যখন আমার ভিতরে প্রবেশ করো,
স্ফটিকের মত,
না হয় কম্পিত হয়ে,
কিংবা অস্বস্তিতে, আমার দ্বারা আহত হয়ে
নয়তো প্রেমে অভিভূত হয়ে,
ঠিক যখন তোমার চোখ বন্ধ হয়
জীবনের সেই উপহারের উপর
যা আমি তোমাকে নিরন্তর দিয়ে যাই ।
আমার ভালোবাসা,
আমরা একে অপরকে খুঁজে পেয়েছি
তৃষ্ণার্ত হয়ে আমরা
সমস্ত জল আর রক্ত পান করেছি,
আমরা পরস্পরের দেখা পেয়েছি
ক্ষুধার্ত হয়ে আমরা
একে অপরকে দংশন করেছি
আগুনের দংশনের মত,
আমাদের মাঝে ক্ষত রেখে যাচ্ছে ।
কিন্তু আমার জন্য অপেক্ষা করো,
তোমার মাধুর্য আমার জন্য রেখে দিও ।
আমিও তোমাকে দেবো
একটি গোলাপ ।
Thursday, 25 June 2026
যে চোখগুলো শেষবার আমি অশ্রুসিক্ত দেখেছিলাম কবি: টি.এস. এলিয়ট
আমেরিকার নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সম্পাদক, সাহিত্য সমালোচক এবং বিংশ শতকের অন্যতম প্রতিভাশালী ও ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম কবি হচ্ছেন T.S. Eliot (Thomas Stearns Eliot) । তিনি ইংরেজি ভাষার আধুনিকতাবাদী কবিতার একজন অগ্রণী ব্যক্তিত্ব ছিলেন । যেখানে তিনি তার ভাষা, লেখনী শৈলী এবং শ্লোক বা পদ্য গঠনের কৌশল ব্যবহারের মাধ্যমে এই শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন । সমসাময়িক কবিতায় তার অগ্রণী ভূমিকা ও অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে তাকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয় । কবি টি.এস. এলিয়টের একটি বিখ্যাত কবিতা হচ্ছে "যে চোখগুলো শেষবার আমি অশ্রুসিক্ত দেখেছিলাম" (Eyes That Last I Saw in Tears) । এটি একটি অসামান্য আধুনিক কবিতা । কবিতাটি ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় এবং পরবর্তীতে কবি এটিকে Doris's Dream Songs এর অন্তর্ভুক্ত করেন । কবিতাটি মূলত শোক, স্মৃতি এবং মানসিক দূরত্ব নিয়ে একটি মর্মস্পর্শী রচনা । কবি তার প্রিয়জনের বিদায়ের মুহূর্তের কথা স্মরণ করেছেন, যখন তার চোখে জল ছিল । অশ্রু মুছে গেলেও, তার চোখের সেই স্থির দৃষ্টি বা অভিব্যক্তি কবির মনে গেঁথে আছে । সেই অশ্রুসিক্ত চোখগুলোর সোনালী স্মৃতি বারবার তার মনের মাঝে ফিরে আসে । মানুষ যখন কাঁদে তখন তার চোখের জল দ্রুত মুছে যায়, কিন্তু সেই কান্নারত চোখের স্মৃতি বা চাহনি মনের গভীরে আরো অনেক বেশি সময় টিকে থাকে । এই কবিতাটিতে সময় এবং স্মৃতির স্থায়িত্বকে বোঝানো হয়েছে । কবি পার্থিব জীবনের একঘেয়েমি, আবেগহীনতা, বিচ্ছিন্নতা, নিঃসঙ্গতা এবং বিবর্ণ সময়কে 'মৃত্যুর স্বপ্নের জগৎ' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন । কবির সবচেয়ে বড় কষ্ট হচ্ছে— তিনি স্মৃতিময় সেই চোখগুলো দেখতে পেলেও, চোখের জল আর দেখতে পান না । এখানে তিনি বিচ্ছেদ বা মৃত্যুর পর স্মৃতিতে থেকে যাওয়া প্রিয়জনের চোখের বেদনাবিধুর রূপ তুলে ধরেছেন । সময়ের সাথে সাথে দুঃখ-বেদনা ম্লান হয়ে গেলেও সেই চোখগুলো কবির কাছে এখনো এক গভীর অনুভূতির প্রতীক এবং এটি তাকে নিজের আত্মিক যন্ত্রণা, সিদ্ধান্তহীনতা ও আবেগের কথা মনে করিয়ে দেয় । কবির মনে হয়, একসময় এই চোখগুলোই হয়তো তাদের আবেগকে ছাপিয়ে যাবে এবং তাদের এই দীর্ঘশ্বাস ও কষ্টকে যেন একপ্রকার উপহাস করবে ।
Eyes That Last I Saw In Tears
by T S Eliot
Through division
Here in death's dream kingdom
The golden vision reappears
I see the eyes but not the tears
This is my affliction
This is my affliction
Eyes I shall not see again
Eyes of decision
Eyes I shall not see unless
At the door of death's other kingdom
Where, as in this,
The eyes outlast a little while
A little while outlast the tears
And hold us in derision.
তথ্যসূত্র: গুগল, উইকিপিডিয়া, অলপোয়েট্রি.কম
কবিতার লিঙ্ক: https://allpoetry.com/Eyes-That-Last-I-Saw-In-Tears
কবির ছবি: www.ndbooks.com ।
Wednesday, 3 June 2026
প্রত্যাখ্যান (কবি: মায়া অ্যাঞ্জেলো)
Refusal
by Maya Angelou
Translation: Muhammad Asraful Alam Sohel
Beloved,
In what other lives or lands
Have I known your lips
Your Hands
Your Laughter brave
Irreverent.
Those sweet excesses that
I do adore.
What surety is there
That we will meet again,
On other worlds some
Future time undated.
I defy my body's haste.
Without the promise
Of one more sweet encounter
I will not deign to die.
-------------------------------------
https://new.allpoetry.com/Refusal
https://www.poetryfoundation.org/poets/maya-angelou
ছবি: https://britishonlinearchives.com/
ভ্যান গগের বিখ্যাত চিত্রকর্ম 'নক্ষত্রময় রাত্রি'
ভ্যান গগের বিখ্যাত চিত্রকর্ম 'নক্ষত্রময় রাত্রি' জগদ্বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গগ (Vincent Van Gogh) নেদারল্যান্ডসের জুন্ডার...
-
মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী উপজেলার সোনারং ইউনিয়নের সোনারং গ্রামে অবস্থিত এই জোড়া মন্দিরটি অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রাচীন বাংলার এক অপূর্ব প্রত্নতা...
-
জংলি ঢেঁড়স হচ্ছে গুল্মজাতীয় বুনো ভেষজ উদ্ভিদ । এর বৈজ্ঞানিক নাম: Abelmoschus moschatus এবং সমনাম Hibiscus abelmoschus । এটি Malvaceae পর...
-
এ বিশাল মহাবিশ্ব অনেক গোপনীয়তা ধারণ করে । উপবৃত্তাকার বা বৃত্তাকার দানবীয় ছায়াপথগুলো সময়ের সাথে সাথে তাদের রূপ পরিবর্তন করে । এরা কখনো বেশ...












