Sunday, 29 March 2020

অপলক চাহনি (Steadfast glance)

                                                                      Photo by : Mama Africa


তীব্র খরার নির্মমতা!
তবে কি, পরম সৃষ্টিকর্তার অসন্তুষ্টি?
অনাথ কিশোরীর সুখের হাসিটুকু বন্ধকী রয়েছে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের কাছে ।
হতাশার মেঘে ঢাকা মুখ ।
জন্মভিটের মতোই চৌচির প্রত্যাশার স্বপ্নগুলো ।
প্রকৃতির কাছে সে নিদারুণ অসহায় ।
হতে পারে, হালচাষের গরুটি তার শেষ সম্বল ।
তবুও, নিঃস্ব জীবনে বেঁচে থাকার তীব্র লড়াই ।
এ জন্ম যে- অভিশাপ ।
অনিশ্চিতভাবে চেয়ে থাকে দিগন্ত জুড়ে ।
নিষ্পাপ চোখে সীমাহীন হাহাকার!
কি যেনো, শত জিজ্ঞাসা—
বিধাতার কাছে, না কি তার সৃষ্টির কাছে?
না কি, নিয়তির কাছে পরাজয়?

The ruthlessness of the intense drought!
But what, the great creator’s dissatisfaction?
The orphan girl's happy smile is mortgaged to hunger and poverty.
A face covered with a cloud of despair.
Dreams of expectation have shattered like the birthplace.
She desperately helpless to nature.
Can be, ploughing cow is her last asset.
Nevertheless, intense fighting to survive in a poor life.
As if, her birth is like a curse.
Looking uncertainly across the horizon.
Infinite wailing in innocent eyes!
What as if, hundred asked—
To the creator, or to his creation?
Or what, defeat to the destiny?


©  https://web.facebook.com/muhammadashraful.alam/posts/1333538076759526

একাকী সৈকতে

নিরব– মানবহীন সৈকত ।
আমি একাকী ।
মৃদু বাতাসের স্পর্শে শিহরিত ।
পরিশুদ্ধ মন আগামীর স্বপ্ন আঁকে ।
অপ্রত্যাশিত পদার্পণ ভীত শামুককে থমকে দেয় ।
এ যেনো তার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ ।
নিজেকে আত্মরক্ষা করতে বাধ্য হয় খোলসের ভিতর ।
প্রকৃতপক্ষে, এ অনৈতিক কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনার দাবী রাখে ।
রোদের আলোয় তপ্ত বালুকণাতে মুক্তা জ্বলে ।
লাল কাঁকড়ার দিক বিদিক পথচলা ।
হতে পারে, ওর জীবন সংগ্রাম ।
না হয়, কোনো উৎসব । 
কিংবা স্বজন হারানো আর্তনাদ ।
অথবা, প্রেয়সীর প্রতীক্ষা ।
কে জানে? 
না কি, শিকারী চিল থেকে বেঁচে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা ।
সুনীল আকাশের ধবধবে সাদা মেঘ হারিয়ে যায় অজানা গন্তব্যে ।
যাওয়ার সময় অন্তহীন সমুদ্রকে ছায়া দেয় ।
হয়তো, লাজুক হাসে সমুদ্র ।
রঙধনুর রঙে দিগন্ত সেজেছে নববধূ ।
হঠাৎ দমকা হাওয়ায় ধনুক বাঁকে ঝাউগাছ ।
দুর্বার গতিতে উড়ে যায় দিকভ্রান্ত শঙ্খচিল ।
উদ্দাম বালুঝড় মুছে দেয় মানব পদচিহ্ন ।
পুব আকাশের কপালে কৃষ্ণবর্ণ তিলক ।
ধেয়ে আসা উত্তাল ঢেউগুলো তটভূমিতে বিধ্বস্ত হয় ।
যেনো অবিরাম মাতাল নৃত্য করছে তীরের বুকে ।
বাস্তুচ্যুত লতা, গুল্ম, বালুকণা ও তীরের আর্তনাদ কানপেঁতে শুনি ।
কিন্তু জানিনা, এটি কি প্রকৃতির বিচার– না অবিচার ।
সমুদ্রের গর্জন আমাকে কাঁপিয়ে তোলে ।
তার অপরিমেয় ক্ষমতা দেখে আমি স্তম্ভিত, ভয়ার্ত । 
বিষন্ন মনে দাঁড়িয়ে থাকি ।
দীর্ঘশ্বাস নেই!
এক সময় ফিরে আসি ।
অজনা রহস্যেঘেরা প্রকৃতির এ অপরূপ সৌন্দর্য এখনো কাছে টানে । 

অমর একুশে

একুশ মানে—
মাথা নত না করা ।
শোষণ, বঞ্চনা, নিপীড়ন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা ।
মায়ের ভাষা বাংলায় কথা বলা ।
রফিক, সালাম, শফিউর, বরকত, জব্বার, রামেশ্বর, অহিউল্লাহ, সিরাজুদ্দিন এবং আবদুল আউয়ালসহ অন্যরা ।
অমর এক শোকগাথা ।
স্বজন হারানো বেদনা!
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি ।
অ, আ, ই, ক, খ, গ ইত্যাদি বর্ণমালা ।
তাজা রক্তে রাঙানো ৫২'র এক অবিস্মরণীয় দিন ।
রাষ্ট্রভাষা বাংলার অধিকার প্রতিষ্ঠা ।
আত্মোৎসর্গকারীদের রক্তে গড়া শহীদ মিনার ।
ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা এবং বিনম্র শ্রদ্ধাবনত শির । 
নগ্ন পদে শহীদ বেদীতে ভাষা বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ ।
স্বাধিকার জাগ্রত করা ।
রৌদ্রদগ্ধ চেতনাকে শাণিত করা ।
জেগে ওঠার প্রেরণা ।
স্বাধীনতার বীজ বপন করা ।
বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে হাজার বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিন্ন করা ।
বাঙালির কপাল জুড়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের রক্ত-জয়টিকা ।
পরম আত্মত্যাগে অর্জিত ভাষাভিত্তিক স্বাধীন-সার্বভৌম জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশের অভ্যুদয় ।
অর্ধনমিত জাতীয় পতাকা ।
ভাষা বীর শহীদদের স্মরণে অমর একুশে বইমেলা ।
ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে উন্মুক্ত মঞ্চ ।
আলপণা অঙ্কন, কালো ব্যাজ ধারণ, প্রদীপ প্রজ্বলন, পুষ্পাঞ্জলি, প্রভাতফেরি, স্মৃতিচারণ, স্বরচিত কবিতা পাঠ, আলোচনাসভা, ক্রোড়পত্র প্রকাশ, সঙ্গীত, নৃত্য, নাটক, চলচ্চিত্র ইত্যাদি পরিবেশন ।    
বাংলা ভাষার গৌরবগাথা । 
চেতনার প্রতীক, অনুপ্রেরণা এবং স্পর্ধিত অহংকার ।
আমাদের প্রাণের স্পন্দন । 
অমর একুশে । 
জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বিসর্জনে অর্জিত মাতৃভাষা দিবস সার্বজনীন ।
সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও নম্রতা । 
একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখা । 

©   https://web.facebook.com/muhammadashraful.alam/posts/2128702543909738 

এবং তোমাকে


(কল্পনাপ্রসূত, বিস্ময়কর রূপকথা, প্রেয়সী, আবেগজড়িত প্রেম) | [গদ্য কবিতা] 
—————————————————– 

প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর পূর্বে ।
অতিপ্রাচীন এক পরমাণুর শক্তিশালী মহাবিস্ফোরণ ৷
মহাবিশ্বের উৎপত্তি ৷
দীর্ঘকালের পরিবর্তন ও বিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রাণের আবির্ভাব এই ধরণীতে ৷
নির্জীব পদার্থ থেকে জীবন্ত প্রাণে রূপান্তর ৷
কয়েকটি পরমাণুর স্বতঃস্ফূর্ত মিলনের পরিণতিই মানবজাতির জন্ম ৷
সময়ের ব্যবধানে মানবসভ্যতার ক্রমবিকাশে সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে উদ্ভূত ও বিবর্তিত হয়ে স্বতন্ত্র গতিতে এবং নিয়মে জন্ম নিয়েছি আমি ।
উপলব্ধি করি নিজের অস্তিত্ব ৷
কল্পনা করি কত কি…
এবং তোমাকে ৷
তোমার মনের গহিনে জমে থাকা যে কথাগুলো কানপেতে শুনেছি কোনো এক অমাবস্যা রাতে ৷
অনুভব করি তোমার ভাবনাগুলো ৷
রঙিন-সুবর্ণ স্বপ্ন দেখি দুই চোখে ৷
তোমার হৃদ স্পন্দন আন্দোলিত করে আমাকে ৷
প্রাণখোলা হাসিমাখা মুখচ্ছবি দেখি নায়াগ্রা জলপ্রপাতে ৷
নাকফুলের মণিরত্ন তন্ন তন্ন করে খুঁজি প্রশান্ত মহাসাগর তলদেশে ৷
চোখের পাপড়িগুলো অপরূপ কারুকার্য করা রঙধনুর রঙে ৷
এলোমেলো চুল উড়তে দেখি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দমকা বাতাসে ৷
ঠোঁট যুগলে ম্যাগমার রক্তিম আভা ৷
আলকাতরা কালো দীঘল চুলের সিঁথি কাটা জমিনে বঙ্গোপসাগরের রূপালী ইলিশের চাকচিক্যময়তা ৷
চাহনিতে লুকিয়ে আছে আমাজন অরণ্যের আদিম নৃ-গোষ্ঠীর অভিব্যক্তি ৷
দুই পায়ের নূপুরে অলিভাইন ও জিরকনের নীলকান্তমণি ।
সফেদ দাঁতে বর্ণিল আলোকচ্ছটা হিংস্র বজ্রপাতের বিদ্যুৎ চমকানিতে ।
খোঁপায় পরা অপূর্ব নীলাকুরিঞ্জি, এডেলউইস ফ্লফি আলপাইন, মরুভূমির গোলাপ এবং জেড ফুল ৷
অস্পষ্ট পদচিহ্ন খুঁজি গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন গিরিখাতে, প্রিপেট মার্শেস বনাঞ্চলে, মোজাভে-নামিব মরুভূমিতে, লেক ডায়মন্তে-বৈকাল হ্রদের তীরে, ওয়ম্যাকন গ্রামীণ এলাকায়, ডেনিসোভা গুহায় এবং সুদীর্ঘ সাভানা তৃণভূমিতে ৷
ললাটের টিপ আরক্তিম সূর্যাস্ত ৷
নাকের ডগায় অসামাল হয়ে পড়ে হিমালয় এবং আল্পস পর্বত চূড়ার শিশিরকণা ৷
বাম হাতের অনামিকায় রঙধনু পাহাড়ের মাটি খুঁড়ে তুলে আনা ওপাল রত্ন পাথর ।
দুই ভ্রুতে চিরস্থায়ী বসতি গেড়েছে সুন্দরবনের বাঘিনীর শরীরের ডোরাকাটা কালো পশম ৷
লাজুক গালে টোল পড়ে চেলিয়াবিনস্কের উল্কাপাতে ৷
দুই কানে সাদা স্বর্ণের তৈরি অনিন্দ্য সুন্দর নীল পোখরাজ এবং হীরা ঝরা কানের দুল ।
হিমাঙ্কের নিচ তাপমাত্রায় ইনুইটদের বরফের তৈরি রেস্তোরাঁয় বল্গা হরিণ ও সামুদ্রিক উদ্ভিদের সুরুয়া এক অমৃত স্বাদ ৷
মহাধোঁয়াটে ও বরফাচ্ছন্ন গ্রেট স্মোকি পর্বতমালার সর্বোচ্চ শিখরে ভেসে থাকা মেঘ আর কুয়াশার ফাঁকে অপরূপ নীলাভ আলোর বিচ্ছুরণেই তোমার মাহাত্ম্য ৷
মসৃণ নখ থেকে প্রতিফলন ঘটে পৃথিবীর প্রাচীনতম উজ্জ্বল গোলাপি রঙ ৷
চেতনায় ও মননে আদি-অন্ত কালের সভ্যতা গড়ে ৷
নিঃশ্বাসে সুমিষ্ট গন্ধ পাই জাফরান, চন্দন, দেবদারু, ঘৃতকুমারী, দারুচিনি, জলপাই, কস্তুরী, উপত্যকার কমল এবং শরৎ গোলাপের ৷
লজ্জাপরায়ণ হাসিতে প্রভাতের সূর্যোদয় ৷
চোখের কোণে কাজল গলে শীতল সমুদ্র স্রোতে ভেসে আসা হিমশৈলের মতো ৷
বিষণ্নতায় নীলাকাশে কালবৈশাখীর ঘনঘটা ৷
স্বাধীনচেতা রহস্যময়ী মন বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের মতোই রহস্যে ঘেরা ৷
অদ্ভুত আচরণ যেন ভূগর্ভস্থ ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া অঞ্চলের এক নাট্যশালা ৷
ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে আটলান্টিক মহাসাগরের ভয়ঙ্কর সুনামি ।
পথচলায় প্রজাপতির চপলতা ৷
কঠোর মনোভাব মহামূল্যবান কোহিনূর হীরকের মতোই কঠিন ৷
বিদ্রোহ রূপ নেয় মাউন্ট নাইরাগোঙ্গো, মাউনা লোয়া এবং ফাগ্রাডালসফজাল আগ্নেয়গিরির ভয়ানক জ্বালামুখ ৷
আদর্শে অনুপ্রাণিত হয় নীলিমায় মিশে যাওয়া সাদা তুলা মেঘ ৷
নীল শাড়িতে নও তুমি কোনো এক সম্রাজ্ঞী, কোনো রানী কিংবা ব্রিটিশ রাজবধূ কেট মিডলটন, তবুও তুমি এক গরবিনি বাঙালি নারী ৷
হাতের কঙ্কণ ও কণ্ঠহার খুঁজে পাই পৃথিবীর ডুবন্ত মহাদেশ জিল্যান্ডিয়াতে ।
দাম্ভিকতায় তেজস্ক্রিয় ক্যালিফোর্নিয়াম এবং প্রতিকণার বিস্ফোরণ ঘটে ৷
কদাচিৎ তোমার ইচ্ছার কাছে বন্ধকী থাকে আমার স্বাধীনতা ৷
একটু ব্যর্থতা এবং নির্বুদ্ধিতার কারণে আমাকে অনুশাসনে থাকতে হয় ৷
তোমার সংকীর্ণতা, অবজ্ঞা, দুঃসাহসিকতা এবং অনাকাঙ্খিত সন্দেহপ্রবণতা সৃষ্টি করে চীনের মহাপ্রাচীর ৷
বিরহ এক বীভৎস দাবানল ।
চাঁদের আকর্ষণে জোয়ার-ভাটা হয়, সেখানেই তোমার ব্যক্তিত্বের প্রকৃত সৌন্দর্য ৷
শিরীন, লায়লা এবং জুলিয়েটের চেয়েও কি কম তোমার ভালোবাসা?
বিস্তীর্ণ সাহারা মরুপ্রান্তরের বালু ঝড়ে একদিন দিশাহারা দুই জন!
ক্ষণিকের স্বস্তি ৷
মার্জিত-নম্র স্পর্শে অনুভব করি আদিম উন্মত্ততা ।
প্রত্যাশা, ন্যায্যতা এবং অপূর্ণতায় আমার অসহায়ত্বের অপরাধবোধ ৷
উদভ্রান্ত মনে ভাবি, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের করুণ পরিণতির কথা!
আমাদের বৈধ এবং উর্বর উত্তরসূরী অনাগত দিনে অভিযোজন করতে সক্ষম হবে কি?
তোমার নির্ভরতা পাই, আশ্বস্ত করো যে; আমরাই গড়বো একটি শান্তিময় সবুজ বসুন্ধরা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য ৷
স্নেহপূর্ণ হাতের সংস্পর্শে ভালোবাসা, শান্তি, ঐক্য, প্রগতি, সমতা, নিরাপত্তা এবং মানবতার আহ্বান ৷
বিশ্বস্ততা আত্মাকে শান্ত ও পরিশুদ্ধ করে ৷
ইচ্ছে করে-
তোমার হাত ধরে হেঁটে যাই কাস্পিয়ান হ্রদ এবং পানামা খালের তীর ধরে নক্ষত্রময় রাতের আকাশে,
না পালি তটভূমিতে,
প্রাকৃতিক দর্পণ সালার দে উয়ুনিতে,
ভেইওয়াভটন আগ্নেয়গিরি বিস্ফোরণের ফলে অগ্নিমুখে উৎপন্ন অবিশ্বাস্য সুন্দর নীল রঙের গভীর লজোটিপোল্লুর হ্রদের পাশে,
সারি সারি সুউচ্চ-বর্ণময় রামধনু ইউক্যালিপটাস গাছের নিচে শীতল ছায়ায়,
প্রাচীন আগ্নেয়িরি ডায়মন্ড হেডের উপরিভাগে,
প্লেনিউ আইল্যান্ডের উদ্দাম তুষার ঝড়ে,
উঁচু পর্বতপৃষ্ঠের হিমবাহ থেকে সৃষ্ট প্রকৃতির নিরুপম সৌন্দর্যের গোলাপি রঙা সুপেয় পানির হ্রদ ডাস্টি রোজ এর কিনারায়,
দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের দুর্গম, জনবিচ্ছিন্ন ও দূরবর্তী দ্বীপ বুভেট আইল্যান্ড এবং ত্রিস্তান দা কুনহাতে,
হিমশীতল শ্বেত মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকার অজানা, অদেখা, রূঢ়, নির্জন, দুরারোহ এবং বৈচিত্র্যময় প্রকৃতির মাঝে ধবধবে সাদা এক অনন্য সুন্দর 'তুষার পেট্রেল’ পাখির খোঁজে,
নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরা আন্দিজ পর্বতমালা এবং মাউন্ট রোরাইমাতে দাঁড়িয়ে মেঘ ছুঁয়ে দেখতে,
অশ্বীর দুধের চা পান এবং তাদের পশম দিয়ে তৈরি তারের বীণার ঐন্দ্রজালিক সুরের মূর্ছনার কাছে ।
নয়তো, তোমার হাত ধরে কুক প্রণালী এবং কুইন্সল্যান্ডের স্বর্ণ উপকূলে বিরল প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী সাদা তিমি মিগালু পুত্রের দুরন্ত পথচলা দেখি ৷
কখনো মহাসাগরের বিস্তৃত জলরাশির হিমশীতল তলদেশে সক্রিয় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেটের প্রাচীনতম অংশে অবস্থিত মধ্য-প্রশান্ত মহাসাগরীয় পর্বতমালা, দক্ষিণ-পশ্চিম ভারত মহাসাগরের পশ্চিম সীমানার ক্ষিপ্রগতির এক শক্তিশালী আগুলহাস স্রোত, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে ভৌগোলিক অধোগমন প্রক্রিয়ায় গঠিত অর্ধচন্দ্রাকার মারিয়ানা ট্রেঞ্চ খাদের দক্ষিণ প্রান্তের সবচেয়ে গভীরতম বিন্দু চ্যালেঞ্জার ডিপ, ডেনমার্ক প্রণালীতে সমুদ্রতলের জলপ্রপাত, উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর অববাহিকায় উত্তরমুখী উষ্ণ মহাসাগরীয় কুরোশিও স্রোত এবং টেকটোনিক প্লেটের কারণে সৃষ্ট মধ্য-মহাসাগরীয় শৈলশিরার অনুপম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বিমুগ্ধ নয়নে উপভোগ করি ৷
অথবা মহাজাগতিক উপনিবেশ সৃষ্টির জন্য নয়- নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদেই ক্লাউড কম্পিউটিং পরিসেবা, ন্যানো প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি, অ্যালবেডো বৈশিষ্ট্য, টেলিপোর্টেশন প্রযুক্তি, কার্কউড শূন্যস্থান, কোয়ান্টম বলবিজ্ঞান, স্ট্রিং তত্ত্ব, অদ্ভুত বৈশিষ্ট্যের বহিরাগত পদার্থ, কাল্পনিক মহাজাগতিক গঠন বা মহাকাশের দুইটি দূরবর্তী বিন্দুকে সংযুক্ত করা, শ্বেত গহ্বর এবং অনন্ত মহাবিশ্ব নিয়ে ভাবনাগুলোর মধ্য দিয়ে এক প্রাণবন্ত বিশ্বায়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সংকল্প করি ।
ইচ্ছে করে-
প্রাচীন ভারতীয়, মেসোপটেমিয় (আক্কাদীয়, সুমেরীয়, ব্যাবিলনীয়, অ্যাসেরীয়, ক্যালডীয়), মেহেরগড়, এজিয়ান, মিশরীয়, কারাল-সুপে (নর্তে চিকো), সিন্ধু, হিব্রু, গ্রীক, পারস্য, রোমান, চৈনিক, ওলমেক, হেলেনিস্টিক, মায়া, অ্যাজটেক এবং ইনকা সভ্যতার সূচনা-বিকাশ-বিস্তৃতি-ধ্বংসাবশেষকে ফিরে দেখি ।
যদিও সেখানে প্রত্যক্ষ করি: জাতি-গোষ্ঠী, ভাষা, জীবনযাত্রা, পরিবার, সুখ, দুঃখ, হাসি, আর্তনাদ, সমাজ, সভ্যতা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, শিল্পকলা, বিজ্ঞান, আইন, দর্শন, স্থাপত্য, শিল্প, বাণিজ্য, সংস্কার, কুসংস্কার, সৃষ্টি, কল্যাণ, রাজনীতি, ক্ষমতা, যৌনতা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা, প্রতিহিংসা, বিদ্রোহ, ষড়যন্ত্র, শক্তিমত্তা, আগ্রাসন, ব্যভিচার, যুদ্ধ, গণহত্যা, গহযুদ্ধ, রক্তপাত, ধ্বংস, দুর্ভিক্ষ, রাজনৈতিক উত্থান-পতন, মিত্রতা, ভিন্নমত, ভালোবাসা, পরকীয়া, বিচ্ছেদ, পৌরাণিক কাহিনী, ধর্মবিশ্বাস, ধর্মদ্রোহিতা, রোগব্যাধি, মানবতা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগকে ।
ইচ্ছে করে-
আদিম মানব, প্রাগৈতিহাসিক যুগ, প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ বা ধ্রুপদী-উত্তর যুগ, আধুনিক যুগ এবং সমসাময়িক যুগগুলোর মধ্যে এক চিরস্থায়ী সেতুবন্ধন গড়ে তুলে মনুষ্যত্ববোধের প্রতিনিধিত্ব করি ।
এটি তো এই পৃথিবী—
ইচ্ছে করে-
ছুটে যাই অগ্নিময় সূর্যের হৃদপিণ্ডে, বুধ গ্রহের সবচেয়ে উত্তপ্ত স্থান অর্ধসৌর বিন্দুতে এবং ক্যালোরিস মন্টেস রৈখিক পর্বতমালায়, শুক্র গ্রহের অতিক্রমণের সময়ে- ভেনুসিয়ান আগ্নেয়গিরিতে এবং ম্যাক্সওয়েল মন্টেস পর্বতশ্রেণীতে, লোহিত মঙ্গল গ্রহের বৃহত্তম অলিম্পাস মন্স আগ্নেয়গিরিতে- দক্ষিণ মেরু সমভূমির প্ল্যানাম অস্ট্রেল বরফটুপিতে- ভ্যালেস ম্যারিনারিস গিরিখাতে এবং বরফ স্ফটিকের তৈরি সাইরাস মেঘে, সৌরজগতের সর্ববৃহৎ গ্যাসীয় দৈত্য বৃহস্পতি গ্রহের তরল হাইড্রোজেনের মহাসাগরে এবং বিস্ময়কর প্রতীপ ঘূর্ণিঝড় মহা লাল বিন্দুতে, মস্ত শনি গ্রহের চারপাশে ঘূর্ণায়মান বৈচিত্র্যময় প্রকাণ্ড বলয়রাশির ভিতর অন্ধকার ফাঁকা জায়গা ক্যাসিনি বিভাজনে এবং উত্তর মেরুর দৈত্যাকার ষড়ভুজ ঝড়ে, বরফ দানব ইউরেনাস গ্রহের হীরা বৃষ্টিতে এবং অন্ধকার মেরুর শীতলতম স্থানে প্রবাহিত তীব্র বাতাসে, নীলাভ নেপচুন গ্রহের মেঘমালায় এবং দুর্দান্ত মহা অন্ধকার বিন্দুতে, বামন প্লুটো গ্রহের বরফ পাহাড়ে- হৃদয় আকৃতির টমবাঘ রেজিওর বৃহত্তম উজ্জ্বল পৃষ্ঠে- বিষুব রেখা বরাবর বেল্টন রেজিওর দীর্ঘায়িত অন্ধকার অঞ্চলে এবং নাইট্রোজেন বরফের প্রচুর উজ্জ্বল হিমবাহে নিমজ্জিত স্পুটনিক প্ল্যানিটিয়া অববাহিকায়, এছাড়া প্রতিটি উপগ্রহে, গ্রহাণুপুঞ্জে, উল্কায়, ধূমকেতুতে, কুইপার বেষ্টনীতে, সৌরমণ্ডলে, সৌর নিবৃত্তিতে, উষ্ণ উদজান প্রাচীরে, আন্তঃনাক্ষত্রিক মাধ্যমে, সৌরজগতের বাইরে আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাশূন্যে, বহিঃসৌর গ্রহে, জলীয় বাষ্পের গোলাকৃতি উর্ট মেঘে, নক্ষত্রমণ্ডলে, আণবিক মেঘে, অতিনবতারা বিস্ফোরণে, নীহারিকায়, ছায়াপথে, আপাত-নক্ষত্রে, গ্রাসকারী কৃষ্ণগহ্বরে, মহাকাশে ভাসমান জলাধারে, বুটেস ভয়েডে, লানিয়াকেয়া ছায়াপথ মহাস্তবকে, দানবীয় গ্যালাকটিক কাঠামোয়, রাক্ষুসে বড় আপাত-নক্ষত্রের দলে, অসুর গামা রশ্মি বিস্ফোরণের বলয়ে, বিশাল মহাজাগতিক জাল কাঠামো হারকিউলিস-করোনা বোরিয়ালিস গ্রেট ওয়ালে এবং ৯৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্বের প্রান্তে কিংবা অনন্ত মহাবিশ্বে ।
মানবহীন, ঠাণ্ডা, উত্তপ্ত, গ্যাসীয় এবং অন্ধকারময় অপার মহাকাশের এক অজানা রহস্যেঘেরা নৈঃশব্দের জগতে ৷
দূরে, বহুদূরে…
এই দীর্ঘ যাত্রাপথে স্বাগত জানাতে পারে ভিনগ্রহের কোনো অপরিচিত আগন্তুক বা সভ্যতায় অগ্রগামী বুদ্ধিমান প্রাণী পরক ৷
তুমি আর আমি—
শুধুই দুই জনে ৷
যদিও আমরা জিনগতভাবে আলাদা ৷
বিপরীত দুই প্রান্তের, ভিন্ন সত্তা ৷
তবুও, দুই জনের মধ্যেই ভালোবাসার শাশ্বত দৃঢ় বন্ধন ৷
এক অদৃশ্য শক্তি ৷
ঐশ্বরিক সম্পর্ক ৷
জানিনা, মহাবিশ্বের ভয়াবহ অন্তিম পরিণতি!
এই মৃত্যুন্মুখ মহাবিশ্ব এক সময় ধীর প্রক্রিয়ায় বিলীন হয়ে হারিয়ে যাবে শূন্যতার গহীন গহ্বরে ।
হতে পারে, কৃষ্ণ বা অন্ধকার শক্তির কারণে তরাণ্বিত গতিতে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ অথবা মহাকর্ষীয় আকর্ষণে মহাবিশ্বের আকার ক্রমাগত মহাসংকোচনের ফলে এক নৃশংস (ক) মহাশাব্দিক সঙ্কোচন বা মহাসঙ্কোচন বা মহাকড়কড় (খ) মহাশৈত্য বা মহাহিমায়ন (গ) মহাচ্ছেদন ।
যার পরিণাম: গ্রহ-নক্ষত্রগুলো একে অন্যের কাছ থেকে দূরে সরে গিয়ে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যাবে, মহাবিশ্বে নতুন ছায়াপথ ও নক্ষত্র তৈরি প্রক্রিয়া থেমে যাবে, ছায়াপথগুলো রক্তিম থেকে নীলাভে রূপান্তরিত হয়ে পরস্পর থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাবে, আলোর উৎস নক্ষত্রের জ্বালানি ফুরিয়ে বা পুড়ে অন্ধকারে ডুবে গিয়ে মহাবিশ্বের সমস্ত নক্ষত্ররাজি নিঃশেষ হয়ে যাবে, কৃষ্ণগহ্বর মহাবিশ্বের উপর আধিপত্য বিস্তার করে স্বতঃবাষ্পীভূত হবে, মহাকর্ষীয় পতনের ফলে বর্তমান মহাবিশ্ব ঘটনা দিগন্তের বাইরে চলে যাবে ও দৃশ্যমান স্থানগুলোকেও আর দেখা যাবে না, অসীম তাপমাত্রায় মহাবিশ্ব এক বৃহৎ অগ্নিগোলক ধারণ করে অতি উত্তপ্ত ঘনীভূত পর্যায়ে নিউক্লীয় বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রচণ্ড তাপীয় বিকিরণের সৃষ্টি করবে ফলে সেখানে প্রোটন কণিকাগুলো অস্থিতিশীল হয়ে হাইড্রোজেনকে অদৃশ্য করে রয়ে যাবে বিকিরণ, মহাবিশ্বের তাপীয় মৃত্যু হয়ে মহাহিমায়ন সৃষ্টি করে এটি অন্ধকার-শৈত্যময়-নির্জীব অবস্থায় পরিণত হতে পারে এবং এক সময় ছায়াপথ-ছায়পথ মহাস্তবক-গ্রহ-নক্ষত্র-অনু-পরমাণু-অতিপারমাণবিক কণা এমনকি স্থান-কালসহ সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ড চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে অগ্নিময় মৃত্যু ঘটবে ।
অর্থাৎ কেয়ামত ।
হয়তো সেখান থেকে নতুন করে জন্ম নিবে একটি মহাবিস্ফোরণ, যার থেকে পুনর্গঠিত হবে নতুন মহাবিশ্ব ৷
যেখানে স্ফীতি সৃষ্টি করে সম্প্রসারিত বুদ্বুদের বলয় থেকে মহাবিশ্বের মতোই অসংখ্য মহাবিশ্ব তৈরি হয়ে একটি অপরটির কাছ থেকে দূরে সংস্পর্শহীন অবস্থায় থাকবে ।
যদি তাই হয়, মহাবিশ্বের গঠন হবে পর্যায়ক্রমিক ।
প্রাকৃতিক বিবর্তন চক্রে যা নিরবচ্ছিন্নভাবে চলমান থাকবে ।
তৈরি হবে একটি নতুন চক্র, যার শুরু বা শেষ নেই ৷
তবে কি, এই ধরণের অসংখ্য মহাবিশ্বের কোনো একটিতে আমাদের পুনর্জন্ম হবে?
যদি হয়, তাহলে শক্ত করে দুই হাত ধরে অংশীদার হয়ে থেকো ।
জানি, কোনো এক কালে মৃত্যু হবে অনিবার্য!
হয়, নরকের আগুনে দগ্ধ হব আমরা একসাথে ৷
না হয়, স্রষ্টার অনুমতি নিয়ে অনন্তকাল তোমার হাত ধরে হাঁটব স্বর্গের আট দুয়ারে ৷৷ ©

[তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, আন্তর্জাল] 



https://web.facebook.com/muhammadashraful.alam/posts/pfbid0yw5YMQpC7jEqEkJYoAXRr14QmmGY8KhCpcF8U8gMsBiFbZiYTRhGmxB4viHWe9Pbl 

Image :  https://www.flickr.com/photos/mashrafulalam/49547862246/in/dateposted-public/


ইউরেনিয়াম (Uranium)

ইউরেনিয়াম (Uranium)
পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক ধাতু । এর দু'টি রূপ । একটি হচ্ছে মানুষের কল্যাণকারী ও জীবনদায়ী । অপরটি হচ্ছে মহা বিধ্বংসকারী দানবিক মহাশক্তি । আর মজার ব্যাপার হচ্ছে, এ দু'টি রূপই ইউরেনিয়াম থেকে উদ্ভূত তেজস্ক্রিয় বিচ্ছুরণ । কৃষ্ণবর্ণ উজ্জ্বল পদার্থবিশেষ Pitchblende https://bn.wikipedia.org/wiki/ইউরেনাইট https://en.wikipedia.org/wiki/Uraninite হচ্ছে মূল আকর, যা থেকে পাওয়া যায় রেডিয়াম এবং ইউরেনিয়াম । ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে জার্মান রসায়নবিদ ও বিজ্ঞানী Martin Heinrich Klaproth 
https://en.wikipedia.org/wiki/Martin_Heinrich_Klaproth https://www.britannica.com/biograp…/Martin-Heinrich-Klaproth https://www.encyclopedia.com/…/che…/martin-heinrich-klaproth ইউরেনিয়াম আবিস্কার করেন (Bituminous Uranium Ore থেকে) । তিনি এর নাম দেন ইউরেনিনাইট (Uraninite) । কিন্তু Uranus গ্রহের নাম অনুসারে এক বছর পর তিনি এটির নাম পাল্টে রাখেন ইউরেনিয়াম । ১৮৪১ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী Eugene-Melchior Peliqot https://en.wikipedia.org/wiki/Eugène-Melchior_Péligot ইউরেনিয়াম টেট্রাক্লোরাইড (UCl4) থেকে প্রথম ইউরেনিয়াম (U) সংশ্লেষ করেন । ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে পদার্থবিদ অঁতোয়ান অঁরি বেক্যরেল (
Antoine Henri Becquerel) https://bn.wikipedia.org/wiki/অঁতোয়ান_অঁরি_বেক্যরেল https://en.wikipedia.org/wiki/Henri_Becquerel ইউরিয়ামের তেজস্ক্রিয়তা আবিস্কার করেন । অঁরি বেক্যরেল দেখেন যে, কোনো বাইরের শক্তির উৎস ছাড়াই ইউরেনিয়াম ধাতুর Nucleus থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত বিশেষ ভেদন শক্তি সম্পন্ন এমন এক ধরনের রশ্মি বা বিকিরণ উৎপন্ন বা নির্গত হয়, যা Photographic plate কে কালো (অথবা কুয়াশাচ্ছন্ন) করে দিতে পারে । অঁতোয়ান অঁরি বেক্যরেলের নামানুসারে এ রশ্মির নাম দেয়া হয় 'বেক্যরেল রশ্মি' । উল্লেখ্য, যে সকল ভারী মৌল (Uranium, Radium, Polonium, Californium, Thorium, Actinium প্রভৃতি) থেকে তেজষ্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয় তাদেরকে তেজষ্ক্রিয় মৌল বলে । যে সমস্ত মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৮৩ এর বেশি, তাদের নিউক্লিয়াসকে দ্রুত গতির নিউটন দ্বারা আঘাত করলে ঐ নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে উচ্চভেদন Alpha (ধনাত্মক চার্জযুক্ত), Beta (ঋণাত্মক চার্জযুক্ত) এবং Gamma (চার্জ নিরপেক্ষ) তেজষ্ক্রিয় রশ্মির বিকিরণ নির্গত হওয়ার ঘটনাকে তেজষ্ক্রিয়তা (Radioactivity) বলে । এছাড়া Positron, Neutron, Neutrino ইত্যাদি তেজষ্ক্রিয় রশ্মিও নির্গত হতে পারে । তেজস্ক্রিয়তা হচ্ছে দীপ্তিহীন ও দ্যুতিহীন এক ধরনের বিকিরণ যা স্বাস্থ্য, খাদ্যপণ্য এবং মানুষের জীবনযাপন প্রণালির উপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করে জীবনহানি ঘটায় । যেহেতু ইউরেনিয়াম একটি তেজস্ক্রিয় মৌল তাই এর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বারবার বিক্রিয়া করে বিভিন্ন উপজাত পদার্থ এবং গ্যাস তৈরি করা ।ইউরেনিয়াম এক প্রকার খনিজ পদার্থ এবং এটি 
উচ্চ ঘনত্বের 
তেজষ্ক্রিয় 
মৌল । সীসা থেকে এর ঘনত্ব ৭০ শতাংশ বেশি । 
এটি Halogen, Sulfur এবং Nitrogen এর সাথে সরাসরি মিশ্রিত হয় । অ্যাসিড ও ক্ষারের মধ্যে দ্রবণীয় । 
ইউরেনিয়াম 
নীলাভ ও রূপালী-সাদা বর্ণের খুবই মহামূল্যবান তেজস্ক্রিয় ধাতু । এটি নমনীয়, সামান্য উপচুম্বকীয় (Paramagnetic) এবং অত্যন্ত ক্ষতিকারক । শ্রেণী: ইউরেনিয়াম, মৌল: ইংরেজি বর্ণ U, পারমানবিক ভর: ২৩৮.০২৮৯১ g/mol, ঘনত্ব: ১৯.১ g/cm³, প্রতীক: ৯২, গলনাঙ্ক: ১৪০৫.৩ K (১১৩২.২ °C, ২০৭০ °F),  স্ফুটনাঙ্ক: ৪৪০৪ K (৪১৩১ °C, ৭৪৬৮ °F)  ইউরেনিয়ামের কালো স্তর Oxide এর মাধ্যমে বাতাসকে দূষিত করে । ইউরেনিয়াম অত্যন্ত প্রতিক্রিয়াশীল ধাতু । প্রায় সমস্ত ধাতব পদার্থবিহীন উপাদান (Non metallic material) এবং অনেকগুলি যৌগের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করে । ইউরেনিয়াম হচ্ছে সকল প্রকার ধাতুর মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি ভারী ধাতু, যা ৭৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঘনীভূত শক্তির প্রাচুর্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে । পৃথিবীর ভূ-ত্বকে Tin, Tungsten এবং Molybdenum এর মতোই সাধারণ একটি খনিজ হচ্ছে ইউরেনিয়াম । সাধারণত ০২ থেকে ০৪ PPM (Part(s) per million বা ১০ লক্ষ ভাগের এক ভাগ) ঘনত্বের পাথরেই ইউরেনিয়াম দেখা যায় । মিশ্রিত অবস্থায় ইউরেনিয়াম পাহাড়েও পাওয়া যায় । 
Uraninite বা Pitchblende থেকে শোধন করার পর যে ইউরেনিয়াম পাওয়া যায় তার রং উজ্জ্বল সাদা । কিন্তু বায়ুমণ্ডলের সংস্পর্শে এলেই তৎক্ষণাৎ কালো বর্ণ ধারণ করে (
রংহীন) । ইউরেনিয়ামের তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কারের পূর্ব পর্যন্ত এটি রেশম ও চীনামাটির তৈরি জিনিসপত্র রং করার কাজে ব্যবহার হতো । পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পারমাণবিক গবেষণা, পারমাণবিক ডুবো জাহাজ (Submarine), পারমাণবিক যুদ্ধজাহাজ, কিছু কৃত্রিম উপগ্রহ (SNAP-10A, RORSAT) এবং স্পর্শকাতর পারমাণবিক কর্মসূচী বা ভয়ঙ্কর মারণাস্ত্র পারমাণবিক বোমা, হাইড্রোজেন বোমা ও অন্যান্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরীর ক্ষেত্রে ইউরেনিয়াম হচ্ছে একটি অপরিহার্য উপাদান । সে কারণেই এর ব্যবহার, বহন এবং ব্যবসা বাণিজ্য সর্বসাধারণের জন্য নিষিদ্ধ । এ ধাতু গোলাবারুদের ভেদনক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে, যার ফলে প্রচুর পরিমাণে শক্তি উৎপাদিত হয়ে পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ এবং পারমাণবিক অস্ত্রের ধ্বংসক্ষমতা তীব্রভাবে সৃষ্টি করে । ফলে ইউরেনিয়াম তার শক্তির এক ভয়ানক ও নৃশংস তাণ্ডব তৈরি করে ধ্বংসলীলা চালায় । সারাবিশ্বে ভিন্ন মাত্রার ইউরেনিয়াম বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত হয় । বিশেষভাবে সামরিক ক্ষেত্রে ইউরেনিয়ামের ব্যবহার সর্বাধিক । সামরিক ক্ষেত্রে ইউরেনিয়াম ব্যবহারের ফলে তেজস্ক্রিয়ার চেয়েও বেশি ভয়ের কারণ হচ্ছে রাসায়নিক বিষক্রিয়া । এছাড়া তেজস্ক্রিয় অন্যান্য পদার্থ যেমন Radium এর ধারক (Container) থেকে তেজস্ক্রিয়তা বের হওয়া রোধ করতেও ইউরেনিয়াম ব্যবহৃত হয় । অবশ্য ইউরেনিয়াম নিজেও একটি তেজস্ক্রিয় পদার্থ । ইউরেনিয়াম তেজস্ক্রিয় বিচ্ছুরণের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি বেসামরিকভাবে (অনুমতিক্রমে) ব্যবহার হচ্ছে কৃষি, শিল্প, চিকিৎসা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে । এক্ষেত্রে ইউরেনিয়াম মানুষের জন্য কল্যাণকারী এবং জীবনদায়ী । সর্বপ্রথম পারমাণবিক চুল্লী তৈরি করেন ইতালীয় পদার্থবিদ, Chicago Pile-1 এর স্রষ্টা, বিজ্ঞানী Enrico Fermi । বেসামরিকভাবে ব্যবহৃত পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধানতম জ্বালানি হচ্ছে ইউরেনিয়াম । পারমাণবিক চুল্লিতে (Nuclear reactor) সমৃদ্ধ বা অত্যধিক পরিশোধিত ভয়ঙ্কর শক্তিধর এ ইউরেনিয়াম-২৩৫ (ইউরেনিয়ামের একটি আইসোটোপ) কে Neutron দ্বারা আঘাত করলে তখন সেটি উত্তেজিত হয়ে তেজস্ক্রিয় পদার্থে পারমাণবিক শৃংখল বিক্রিয়া (Nuclear chain reaction) শুরু হয় । যে সকল তেজস্ক্রিয় পদার্থ এ Fission বিক্রিয়ায় অংশ নেয় তাদেরকে পারমাণবিক জ্বালানী (Fissile material) এবং এ প্রক্রিয়াকে বলে (Nuclear fission) পারমাণবিক বিদারণ বা বিভাজন । Nuclear fission একটি পারমাণবিক বিক্রিয়া বা পারমাণবিক প্রতিক্রিয়া (Nuclear reaction) । যেখানে পারমাণবিক Nucleus এর ভাঙন ঘটে এবং তা অতি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত হয় । এক্ষেত্রে নিউক্লিয়াস Neutron এবং অপেক্ষাকৃত কম ভরবিশিষ্ট Nucleus এ পরিণত হয় । এ পারমাণবিক বিক্রিয়ার ফলে গামা রশ্মি আকারে আলোককণা (Photon) নির্গত হয় । ভারী পদার্থের ক্ষেত্রে Nuclear fission একটি তাপ উৎপাদী বিক্রিয়া, যা প্রচুর পরিমাণে শক্তি নির্গত হয়ে পানিকে ফুটিয়ে বাস্প উৎপন্ন করে । তড়িৎ-চুম্বকীয় বিকিরণ (Electromagnetic radiation) বা গতিশক্তিরূপে নির্গত হয়ে উদ্ভূত বাস্প বাষ্পীয় Turbine (জল, বায়ু বা বাষ্পে চালিত চাকা) কে চালাতে সাহায্য করে এবং বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করে । শক্তি উৎপাদনের জন্য বিভাজন বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থের মোট বন্ধন শক্তি অবশ্যই প্রাথমিক পদার্থের বন্ধন শক্তির তুলনায় বেশি হতে হবে । পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনের জন্য বা পারমাণবিক মারণাস্ত্রের বিস্ফোরণ সরিয়ে নেয়ার জন্যও এ বিক্রিয়া ব্যবহৃত হয় । দেড় হাজার টন কয়লা থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব তার সমপরিমাণ বিদুৎ উৎপাদনের জন্য মাত্র ০১ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়ামই যথেষ্ট । ইউরেনিয়াম থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ শক্তিকে কলকারখানা, কৃষি, চিকিৎসা, অফিস-আদালত, নগর-বন্দর এবং দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করা হয় । রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জাপান, যুক্তরাজ্য, বাংলাদেশ প্রভৃতি দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে । প্রকৃতিতে পাওয়া ইউরেনিয়ামকে ০.৭% থেকে ৩.৭ পর্যন্ত এবং ৩.৭ থেকে ৫% মাত্রায় সমৃদ্ধ করা হয়ে থাকে । তবে ২০% পর্যন্ত অত্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে বলা হয় উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম (High Rich Uranium) (HEU) । ইউরেনিয়াম ধাতুকে Hexafluoride Gas Centrifuge এ ঢুকিয়ে নিউক্লীয় বিদারণের (Nuclear fission) জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত আইসোটপটি আলাদা করে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন করা হয় । এটি ইউরেনিয়াম-২৩৫ (U-235) নামে পরিচিত এবং এর ঘনত্ব শতকরা ৩ থেকে ৫ ভাগ । পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের প্রয়োজন । তবে পারমাণবিক মারণাস্ত্রের জন্য শতকরা ৮৫ ভাগেরও বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের (Weapons Grade Uranium) প্রয়োজন হয় । আকরিক থেকে পরিশোধন করে ইউরেনিয়াম আইসোটোপ পাওয়া যায় । ইউরেনিয়ামের প্রধান তিনটি আইসোটোপ রয়েছে যেগুলি প্রকৃতিতে পাওয়া যায় । ইউরেনিয়াম-২৩৫, ইউরেনিয়াম-২৩৮ এবং ইউরেনিয়াম-২৩৪  এদের সবগুলিই তেজস্ক্রিয়, রেডিওআইসোটোপ তৈরি করে  প্রথমটি হচ্ছে ইউরেনিয়াম-২৩৫, প্রকৃতিতে এ আইসোটোপের পরিমাণ অতি নগণ্য । শতকরা মাত্র ০.৭% ভাগ । এর নিউক্লিয়াসে আছে ৯২টি প্রোটন ও ১৪৩টি নিউট্রন । এটি বিভাজনের যোগ্য (Fissile material) উপাদান । দ্বিতীয়টি হচ্ছে ইউরেনিয়াম-২৩৮, প্রকৃতিতে এ আইসোটোপই বেশিমাত্রায় পাওয়া যায় । শতকরা ৯৯.৩% ভাগ । এর নিউক্লিয়াসে আছে ৯২টি প্রোটন ও ১৪৬টি নিউট্রন । এটি বিভাজনের অযোগ্য (Non Fissile material) উপাদান । ইউরেনিয়াম-২৩৫ এবং ইউরেনিয়াম-২৩৮ উভয়ই হচ্ছে Primordial nuclide (আদিম নিউক্লাইড বা আদিম আইসোটোপ যেমন Bismuth, Thorium, Uranium, Plutonium) । তৃতীয়টি হচ্ছে ক্ষয়কারী পণ্য ইউরেনিয়াম-২৩৪ । শতকরা ০.০০৫৯%  ভাগ । প্রকৃতি ছাড়াও  Breeder reactor (পারমাণবিক চুল্লিতে) ইউরেনিয়াম-২৩২ এর মতো আরো কিছু আইসোটোপ উৎপাদিত বা তৈরি করা হয়েছে । 
বাংলাদেশে ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে মৌলভীবাজার জেলার জুড়ি উপজেলার ফুলতলা ও সাগরনাল ইউনিয়নের মধ্যবর্তী হারাগাছা (ষাঁড়েরগজ) পাহাড়ে সন্ধান মিলে প্রথম ইউরেনিয়ামের খনি । সম্প্রতি বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের Environmental Science and Engineering (E S E) বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও গবেষক অধ্যাপক ড. আশরাফ আলির নেতৃত্বে কক্সবাজারের ভূ-গর্ভস্থ মাটিতে থাকা জিরকন (Zircon) ও মোনাজাইটে (Monazite) ৮৫০.৭ PPM থেকে ৯৯০.৬ PPM মাত্রারও বেশি ইউরেনিয়াম পাওয়া গেছে । https://www.sciencedirect.com/science/article/abs/pii/S2352801X1930195X?fbclid=IwAR0AT3IOL0PynhpWACWJ-tKLWJFMI01Pm83cyjy2GmqBxsF2uVejh_BB2nk 
এ মোনাজাইটের মধ্যে অত্যন্ত উচ্চ মাত্রার (১৬%) ইউরেনিয়ামের অস্তিত্ব রয়েছে এবং এটি বেশ সমৃদ্ধ । স্বাস্থ্যঝুঁকি, ত্রুটিমুক্ত অবকাঠামো তৈরি, সম্পূর্ণ ভাবে দূষণ রোধ, জ্বালানি ও তেজস্ক্রিয় বর্জ্য পরিবহন-ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম নিখুঁতভাবে পরিচালনা, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং পরিবেশগত ক্ষতির বিষয়টি নজরে রেখেই এটি কম গভীরতায় থাকার কারণে এর উত্তোলন (আহরণ) ব্যয় হবে খুবই কম এবং লাভজনক ।
বাংলাদেশে বেসামরিক কর্মসূচীতে ইউরেনিয়ামের সরাসরি ব্যবহারের সুযোগ আন্তর্জাতিক আণবিক সংস্থা (International Atomic Energy Agency (IAEA) কর্তৃক অনুমোদিত বিধায় এর উত্তোলন এবং পরিশোধন করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে (Rooppur Nuclear Power Plant) https://bn.wikipedia.org/w…/রূপপুর_পারমাণবিক_বিদ্যুৎ_কেন্দ্র https://en.wikipedia.org/wiki/Rooppur_Nuclear_Power_Plant ব্যবহারের জন্য সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরবরাহ করার পাশাপাশি এর টেকসই মজুত এবং দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিশ্ববাজারে (শর্তসাপেক্ষ) শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে 
রপ্তানি করা যেতে পারে ।
সাধারণত পৃথিবীর যে সকল উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশগুলির খনিতে যে ইউরেনিয়াম পাওয়া যায় তার অধিকাংশতেই এর ঘনত্ব ৩০০-১০০০ PPM (Part(s) per million বা ১০ লক্ষ ভাগের এক ভাগ) । বিশ্বে প্রায় ১৭টিরও বেশি দেশ ইউরেনিয়াম উৎপাদন করে থাকে । প্রতি বছর প্রায় ৫০ হাজার টনের মতো অশোধিত ইউরেনিয়াম উৎপাদন করা হয় । ২০১০ খ্রিস্টাব্দেই ৫৩ হাজার ৬৬৩ টন ইউরেনিয়াম উৎপাদন করা হয়েছিল বিশ্বব্যাপী । কাজাখস্থান
 (সর্ববৃহৎ রপ্তানিকারক ২৭%)
, কানাডা (রপ্তানিকারক ২০%), অস্ট্রেলিয়া (রপ্তানিকারক ১৬%), নামিবিয়া 
(
রপ্তানিকারক ৬%)
নাইজার 
(
রপ্তানিকারক ৫%)
, দক্ষিণ আফ্রিকা
রাশিয়াসহ
 আরো কয়েকটি দেশের খনি থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ইউরেনিয়াম উত্তোলন করা হয় । এছাড়া
 কঙ্গো, মেক্সিকো, কলোরাডে, আলাস্কা, ফ্রান্স, সুইডেন, চীন, 
জার্মানি, ব্রাজিল, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, 
বাংলাদেশ, 
চিলি ইত্যাদি দেশে 
ইউরেনিয়ামের খনি রয়েছে ।
 ইউরেনিয়াম যৌগ হিসেবে ভূ-পৃষ্ঠের
 
নিচে বা পানিতে, 
শিলা, সমুদ্রের জলে,
 উত্তোলন ও প্রস্তুতকরণের মাধ্যমে 
ইউরেনিয়াম
 পাওয়া যায় । 
এছাড়া সূর্য-পৃথিবীসহ অন্যান্য গ্রহগুলি যে সকল নিহারিকা বা গ্যাসের মেঘ থেকে সৃষ্টি হয়েছে সে মেঘে ইউরেনিয়ামের উপস্থিতি ছিল এবং মহাকাশে আশেপাশের কোনো অতিনবতারার (Supernova) বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে এ তেজষ্ক্রিয় ইউরেনিয়াম উৎপন্ন হয় । অতএব যেখানেই ইউরেনিয়াম থাকুক না কেন সেখান থেকে এর তেজস্ক্রিয়তা বের হয়ে বিপজ্জনকভাবে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ সৃষ্টি করে । পারমাণবিক বিস্ফোরণ বা মারণাস্ত্রের কারণে সরাসরি ভয়ঙ্করভাবে মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটে । ভয়াবহ তেজস্ক্রিয়তার তীব্রতা ছড়িয়ে পড়ে । অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং অবকাঠামোকে ধ্বংস করে দিয়ে পৃথিবীর জীবজগতের উপর বিধ্বংসী প্রভাব ফেলে । চরম ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় পরিবেশ, প্রাকৃতিক সম্পদ, নগর-সভ্যতা, বৈশ্বিক জলবায়ু এবং জীববৈচিত্র্য । মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হয় বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem) । সম্ভাব্যভাবে মানব জাতির বিলুপ্তি ঘটতে পারে । হয়তো প্রত্যন্ত অঞ্চলে খুব অল্প সংখ্যক মানুষ বেঁচে গেলেও এর ভয়াবহতা জটিল করে তোলে মানুষের জীবন । হ্রাস পায় জীবনমান, মর্মযন্ত্রণা ও অসুস্থতা নিয়ে বেঁচে থাকে । কখনো কখনো তেজস্ক্রিয়তার স্পষ্ট পদচিহ্ন থাকে দীর্ঘকাল ।
পারমাণবিক মারণাস্ত্র পরীক্ষা-নিরিক্ষা ছাড়াও পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন দূর্ঘটনার কারণে, চিকিৎসা ক্ষেত্রে রঞ্জন রশ্মি (X-ray ) বা গামা রশ্মির (Gamma-rays) ব্যবহার ও অন্যান্য (Radiation therapy machine / Device) বিকিরণ থেরাপির যন্ত্র থেকে, শিল্প ক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধি ও দ্রব্যের মান যাচাই করতে বিভিন্ন উপাদান (Component) ব্যবহার করার ফলে, কার্যকরী ইউরেনিয়ামের খনি ও কারখানায় কাজ করার মাধ্যমে এবং মহাজাগতিক রশ্মির (Cosmic rays) মাধ্যমে বায়ুমন্ডল থেকে যে কেউ ইউরেনিয়ামের তেজস্ক্রিয়তার সংস্পর্শে আসতে পারে । ফলশ্রুতিতে মানুষের শরীরের জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করে ফেলে । কিডনি, মস্তিষ্ক, যকৃত, হৃদপিণ্ডসহ শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ইউরেনিয়ামের তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় । দীর্ঘস্থায়ী সময় ইউরেনিয়ামের তেজস্ক্রিয়তার কারণে পঙ্গুত্ব, মানসিক সমস্যা, Leukemia, কর্কট রোগে (Cancer
) আক্রান্ত হয় (খনিতে ইউরেনিয়াম উত্তোলন শ্রমিক, কারখানার শ্রমিক এবং আকরিক পরিবহনকারীদের মধ্যে Small cell carcinoma, Thyroid cancer) । আক্রান্ত ব্যক্তির লক্ষণ হিসেবে চর্মরোগ, বমি, ক্ষুধামন্দা, ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে । গর্ভবতী, নবজাতক কিংবা শিশুদের উপর এর মারাত্মক প্রভাব পড়ে । কখনো বিকলাঙ্গতা নিয়ে শিশু জন্মগ্রহণ করে । এছাড়া ইউরেনিয়াম উত্তোলনের সময় খনি থেকে Radon gas নির্গত হওয়ার ফলে খনিতে কর্মরত শ্রমিক এবং Navajo, Laguna, Canyoncito, Acoma, Juni Pueblo আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য অনেক বেশি বিপজ্জনক হতে পারে । 
সারাবিশ্বে বৃহৎ আকারে ইউরেনিয়াম উত্তোলন করার কারণে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনাচার, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলে এদের স্বাস্থ্য, পরিবেশ বিপর্যয় এবং অর্থনৈতিক বিকাশকে হুমকির সম্মুখীন করছে । 
https://web.facebook.com/muhammadashraful.alam/posts/2774407436005909 
Image : https://www.nuclear-power.net/
                           
                       
                               

প্রত্যাখ্যান (কবি: মায়া অ্যাঞ্জেলো)

প্রত্যাখ্যান কবি: মায়া অ্যাঞ্জেলো অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল প্রিয়তম, অন্য কোনো জীবনে বা দেশে আমি কি তোমার অধরের স্পর্শ অনুভব করে...