Sunday, 29 March 2020

ইউরেনিয়াম (Uranium)

ইউরেনিয়াম (Uranium)
পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক ধাতু । এর দু'টি রূপ । একটি হচ্ছে মানুষের কল্যাণকারী ও জীবনদায়ী । অপরটি হচ্ছে মহা বিধ্বংসকারী দানবিক মহাশক্তি । আর মজার ব্যাপার হচ্ছে, এ দু'টি রূপই ইউরেনিয়াম থেকে উদ্ভূত তেজস্ক্রিয় বিচ্ছুরণ । কৃষ্ণবর্ণ উজ্জ্বল পদার্থবিশেষ Pitchblende https://bn.wikipedia.org/wiki/ইউরেনাইট https://en.wikipedia.org/wiki/Uraninite হচ্ছে মূল আকর, যা থেকে পাওয়া যায় রেডিয়াম এবং ইউরেনিয়াম । ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে জার্মান রসায়নবিদ ও বিজ্ঞানী Martin Heinrich Klaproth 
https://en.wikipedia.org/wiki/Martin_Heinrich_Klaproth https://www.britannica.com/biograp…/Martin-Heinrich-Klaproth https://www.encyclopedia.com/…/che…/martin-heinrich-klaproth ইউরেনিয়াম আবিস্কার করেন (Bituminous Uranium Ore থেকে) । তিনি এর নাম দেন ইউরেনিনাইট (Uraninite) । কিন্তু Uranus গ্রহের নাম অনুসারে এক বছর পর তিনি এটির নাম পাল্টে রাখেন ইউরেনিয়াম । ১৮৪১ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী Eugene-Melchior Peliqot https://en.wikipedia.org/wiki/Eugène-Melchior_Péligot ইউরেনিয়াম টেট্রাক্লোরাইড (UCl4) থেকে প্রথম ইউরেনিয়াম (U) সংশ্লেষ করেন । ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে পদার্থবিদ অঁতোয়ান অঁরি বেক্যরেল (
Antoine Henri Becquerel) https://bn.wikipedia.org/wiki/অঁতোয়ান_অঁরি_বেক্যরেল https://en.wikipedia.org/wiki/Henri_Becquerel ইউরিয়ামের তেজস্ক্রিয়তা আবিস্কার করেন । অঁরি বেক্যরেল দেখেন যে, কোনো বাইরের শক্তির উৎস ছাড়াই ইউরেনিয়াম ধাতুর Nucleus থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত বিশেষ ভেদন শক্তি সম্পন্ন এমন এক ধরনের রশ্মি বা বিকিরণ উৎপন্ন বা নির্গত হয়, যা Photographic plate কে কালো (অথবা কুয়াশাচ্ছন্ন) করে দিতে পারে । অঁতোয়ান অঁরি বেক্যরেলের নামানুসারে এ রশ্মির নাম দেয়া হয় 'বেক্যরেল রশ্মি' । উল্লেখ্য, যে সকল ভারী মৌল (Uranium, Radium, Polonium, Californium, Thorium, Actinium প্রভৃতি) থেকে তেজষ্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয় তাদেরকে তেজষ্ক্রিয় মৌল বলে । যে সমস্ত মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৮৩ এর বেশি, তাদের নিউক্লিয়াসকে দ্রুত গতির নিউটন দ্বারা আঘাত করলে ঐ নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে উচ্চভেদন Alpha (ধনাত্মক চার্জযুক্ত), Beta (ঋণাত্মক চার্জযুক্ত) এবং Gamma (চার্জ নিরপেক্ষ) তেজষ্ক্রিয় রশ্মির বিকিরণ নির্গত হওয়ার ঘটনাকে তেজষ্ক্রিয়তা (Radioactivity) বলে । এছাড়া Positron, Neutron, Neutrino ইত্যাদি তেজষ্ক্রিয় রশ্মিও নির্গত হতে পারে । তেজস্ক্রিয়তা হচ্ছে দীপ্তিহীন ও দ্যুতিহীন এক ধরনের বিকিরণ যা স্বাস্থ্য, খাদ্যপণ্য এবং মানুষের জীবনযাপন প্রণালির উপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করে জীবনহানি ঘটায় । যেহেতু ইউরেনিয়াম একটি তেজস্ক্রিয় মৌল তাই এর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বারবার বিক্রিয়া করে বিভিন্ন উপজাত পদার্থ এবং গ্যাস তৈরি করা ।ইউরেনিয়াম এক প্রকার খনিজ পদার্থ এবং এটি 
উচ্চ ঘনত্বের 
তেজষ্ক্রিয় 
মৌল । সীসা থেকে এর ঘনত্ব ৭০ শতাংশ বেশি । 
এটি Halogen, Sulfur এবং Nitrogen এর সাথে সরাসরি মিশ্রিত হয় । অ্যাসিড ও ক্ষারের মধ্যে দ্রবণীয় । 
ইউরেনিয়াম 
নীলাভ ও রূপালী-সাদা বর্ণের খুবই মহামূল্যবান তেজস্ক্রিয় ধাতু । এটি নমনীয়, সামান্য উপচুম্বকীয় (Paramagnetic) এবং অত্যন্ত ক্ষতিকারক । শ্রেণী: ইউরেনিয়াম, মৌল: ইংরেজি বর্ণ U, পারমানবিক ভর: ২৩৮.০২৮৯১ g/mol, ঘনত্ব: ১৯.১ g/cm³, প্রতীক: ৯২, গলনাঙ্ক: ১৪০৫.৩ K (১১৩২.২ °C, ২০৭০ °F),  স্ফুটনাঙ্ক: ৪৪০৪ K (৪১৩১ °C, ৭৪৬৮ °F)  ইউরেনিয়ামের কালো স্তর Oxide এর মাধ্যমে বাতাসকে দূষিত করে । ইউরেনিয়াম অত্যন্ত প্রতিক্রিয়াশীল ধাতু । প্রায় সমস্ত ধাতব পদার্থবিহীন উপাদান (Non metallic material) এবং অনেকগুলি যৌগের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করে । ইউরেনিয়াম হচ্ছে সকল প্রকার ধাতুর মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি ভারী ধাতু, যা ৭৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঘনীভূত শক্তির প্রাচুর্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে । পৃথিবীর ভূ-ত্বকে Tin, Tungsten এবং Molybdenum এর মতোই সাধারণ একটি খনিজ হচ্ছে ইউরেনিয়াম । সাধারণত ০২ থেকে ০৪ PPM (Part(s) per million বা ১০ লক্ষ ভাগের এক ভাগ) ঘনত্বের পাথরেই ইউরেনিয়াম দেখা যায় । মিশ্রিত অবস্থায় ইউরেনিয়াম পাহাড়েও পাওয়া যায় । 
Uraninite বা Pitchblende থেকে শোধন করার পর যে ইউরেনিয়াম পাওয়া যায় তার রং উজ্জ্বল সাদা । কিন্তু বায়ুমণ্ডলের সংস্পর্শে এলেই তৎক্ষণাৎ কালো বর্ণ ধারণ করে (
রংহীন) । ইউরেনিয়ামের তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কারের পূর্ব পর্যন্ত এটি রেশম ও চীনামাটির তৈরি জিনিসপত্র রং করার কাজে ব্যবহার হতো । পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পারমাণবিক গবেষণা, পারমাণবিক ডুবো জাহাজ (Submarine), পারমাণবিক যুদ্ধজাহাজ, কিছু কৃত্রিম উপগ্রহ (SNAP-10A, RORSAT) এবং স্পর্শকাতর পারমাণবিক কর্মসূচী বা ভয়ঙ্কর মারণাস্ত্র পারমাণবিক বোমা, হাইড্রোজেন বোমা ও অন্যান্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরীর ক্ষেত্রে ইউরেনিয়াম হচ্ছে একটি অপরিহার্য উপাদান । সে কারণেই এর ব্যবহার, বহন এবং ব্যবসা বাণিজ্য সর্বসাধারণের জন্য নিষিদ্ধ । এ ধাতু গোলাবারুদের ভেদনক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে, যার ফলে প্রচুর পরিমাণে শক্তি উৎপাদিত হয়ে পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ এবং পারমাণবিক অস্ত্রের ধ্বংসক্ষমতা তীব্রভাবে সৃষ্টি করে । ফলে ইউরেনিয়াম তার শক্তির এক ভয়ানক ও নৃশংস তাণ্ডব তৈরি করে ধ্বংসলীলা চালায় । সারাবিশ্বে ভিন্ন মাত্রার ইউরেনিয়াম বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত হয় । বিশেষভাবে সামরিক ক্ষেত্রে ইউরেনিয়ামের ব্যবহার সর্বাধিক । সামরিক ক্ষেত্রে ইউরেনিয়াম ব্যবহারের ফলে তেজস্ক্রিয়ার চেয়েও বেশি ভয়ের কারণ হচ্ছে রাসায়নিক বিষক্রিয়া । এছাড়া তেজস্ক্রিয় অন্যান্য পদার্থ যেমন Radium এর ধারক (Container) থেকে তেজস্ক্রিয়তা বের হওয়া রোধ করতেও ইউরেনিয়াম ব্যবহৃত হয় । অবশ্য ইউরেনিয়াম নিজেও একটি তেজস্ক্রিয় পদার্থ । ইউরেনিয়াম তেজস্ক্রিয় বিচ্ছুরণের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি বেসামরিকভাবে (অনুমতিক্রমে) ব্যবহার হচ্ছে কৃষি, শিল্প, চিকিৎসা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে । এক্ষেত্রে ইউরেনিয়াম মানুষের জন্য কল্যাণকারী এবং জীবনদায়ী । সর্বপ্রথম পারমাণবিক চুল্লী তৈরি করেন ইতালীয় পদার্থবিদ, Chicago Pile-1 এর স্রষ্টা, বিজ্ঞানী Enrico Fermi । বেসামরিকভাবে ব্যবহৃত পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধানতম জ্বালানি হচ্ছে ইউরেনিয়াম । পারমাণবিক চুল্লিতে (Nuclear reactor) সমৃদ্ধ বা অত্যধিক পরিশোধিত ভয়ঙ্কর শক্তিধর এ ইউরেনিয়াম-২৩৫ (ইউরেনিয়ামের একটি আইসোটোপ) কে Neutron দ্বারা আঘাত করলে তখন সেটি উত্তেজিত হয়ে তেজস্ক্রিয় পদার্থে পারমাণবিক শৃংখল বিক্রিয়া (Nuclear chain reaction) শুরু হয় । যে সকল তেজস্ক্রিয় পদার্থ এ Fission বিক্রিয়ায় অংশ নেয় তাদেরকে পারমাণবিক জ্বালানী (Fissile material) এবং এ প্রক্রিয়াকে বলে (Nuclear fission) পারমাণবিক বিদারণ বা বিভাজন । Nuclear fission একটি পারমাণবিক বিক্রিয়া বা পারমাণবিক প্রতিক্রিয়া (Nuclear reaction) । যেখানে পারমাণবিক Nucleus এর ভাঙন ঘটে এবং তা অতি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত হয় । এক্ষেত্রে নিউক্লিয়াস Neutron এবং অপেক্ষাকৃত কম ভরবিশিষ্ট Nucleus এ পরিণত হয় । এ পারমাণবিক বিক্রিয়ার ফলে গামা রশ্মি আকারে আলোককণা (Photon) নির্গত হয় । ভারী পদার্থের ক্ষেত্রে Nuclear fission একটি তাপ উৎপাদী বিক্রিয়া, যা প্রচুর পরিমাণে শক্তি নির্গত হয়ে পানিকে ফুটিয়ে বাস্প উৎপন্ন করে । তড়িৎ-চুম্বকীয় বিকিরণ (Electromagnetic radiation) বা গতিশক্তিরূপে নির্গত হয়ে উদ্ভূত বাস্প বাষ্পীয় Turbine (জল, বায়ু বা বাষ্পে চালিত চাকা) কে চালাতে সাহায্য করে এবং বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করে । শক্তি উৎপাদনের জন্য বিভাজন বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থের মোট বন্ধন শক্তি অবশ্যই প্রাথমিক পদার্থের বন্ধন শক্তির তুলনায় বেশি হতে হবে । পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনের জন্য বা পারমাণবিক মারণাস্ত্রের বিস্ফোরণ সরিয়ে নেয়ার জন্যও এ বিক্রিয়া ব্যবহৃত হয় । দেড় হাজার টন কয়লা থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব তার সমপরিমাণ বিদুৎ উৎপাদনের জন্য মাত্র ০১ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়ামই যথেষ্ট । ইউরেনিয়াম থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ শক্তিকে কলকারখানা, কৃষি, চিকিৎসা, অফিস-আদালত, নগর-বন্দর এবং দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করা হয় । রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জাপান, যুক্তরাজ্য, বাংলাদেশ প্রভৃতি দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে । প্রকৃতিতে পাওয়া ইউরেনিয়ামকে ০.৭% থেকে ৩.৭ পর্যন্ত এবং ৩.৭ থেকে ৫% মাত্রায় সমৃদ্ধ করা হয়ে থাকে । তবে ২০% পর্যন্ত অত্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে বলা হয় উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম (High Rich Uranium) (HEU) । ইউরেনিয়াম ধাতুকে Hexafluoride Gas Centrifuge এ ঢুকিয়ে নিউক্লীয় বিদারণের (Nuclear fission) জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত আইসোটপটি আলাদা করে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন করা হয় । এটি ইউরেনিয়াম-২৩৫ (U-235) নামে পরিচিত এবং এর ঘনত্ব শতকরা ৩ থেকে ৫ ভাগ । পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের প্রয়োজন । তবে পারমাণবিক মারণাস্ত্রের জন্য শতকরা ৮৫ ভাগেরও বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের (Weapons Grade Uranium) প্রয়োজন হয় । আকরিক থেকে পরিশোধন করে ইউরেনিয়াম আইসোটোপ পাওয়া যায় । ইউরেনিয়ামের প্রধান তিনটি আইসোটোপ রয়েছে যেগুলি প্রকৃতিতে পাওয়া যায় । ইউরেনিয়াম-২৩৫, ইউরেনিয়াম-২৩৮ এবং ইউরেনিয়াম-২৩৪  এদের সবগুলিই তেজস্ক্রিয়, রেডিওআইসোটোপ তৈরি করে  প্রথমটি হচ্ছে ইউরেনিয়াম-২৩৫, প্রকৃতিতে এ আইসোটোপের পরিমাণ অতি নগণ্য । শতকরা মাত্র ০.৭% ভাগ । এর নিউক্লিয়াসে আছে ৯২টি প্রোটন ও ১৪৩টি নিউট্রন । এটি বিভাজনের যোগ্য (Fissile material) উপাদান । দ্বিতীয়টি হচ্ছে ইউরেনিয়াম-২৩৮, প্রকৃতিতে এ আইসোটোপই বেশিমাত্রায় পাওয়া যায় । শতকরা ৯৯.৩% ভাগ । এর নিউক্লিয়াসে আছে ৯২টি প্রোটন ও ১৪৬টি নিউট্রন । এটি বিভাজনের অযোগ্য (Non Fissile material) উপাদান । ইউরেনিয়াম-২৩৫ এবং ইউরেনিয়াম-২৩৮ উভয়ই হচ্ছে Primordial nuclide (আদিম নিউক্লাইড বা আদিম আইসোটোপ যেমন Bismuth, Thorium, Uranium, Plutonium) । তৃতীয়টি হচ্ছে ক্ষয়কারী পণ্য ইউরেনিয়াম-২৩৪ । শতকরা ০.০০৫৯%  ভাগ । প্রকৃতি ছাড়াও  Breeder reactor (পারমাণবিক চুল্লিতে) ইউরেনিয়াম-২৩২ এর মতো আরো কিছু আইসোটোপ উৎপাদিত বা তৈরি করা হয়েছে । 
বাংলাদেশে ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে মৌলভীবাজার জেলার জুড়ি উপজেলার ফুলতলা ও সাগরনাল ইউনিয়নের মধ্যবর্তী হারাগাছা (ষাঁড়েরগজ) পাহাড়ে সন্ধান মিলে প্রথম ইউরেনিয়ামের খনি । সম্প্রতি বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের Environmental Science and Engineering (E S E) বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও গবেষক অধ্যাপক ড. আশরাফ আলির নেতৃত্বে কক্সবাজারের ভূ-গর্ভস্থ মাটিতে থাকা জিরকন (Zircon) ও মোনাজাইটে (Monazite) ৮৫০.৭ PPM থেকে ৯৯০.৬ PPM মাত্রারও বেশি ইউরেনিয়াম পাওয়া গেছে । https://www.sciencedirect.com/science/article/abs/pii/S2352801X1930195X?fbclid=IwAR0AT3IOL0PynhpWACWJ-tKLWJFMI01Pm83cyjy2GmqBxsF2uVejh_BB2nk 
এ মোনাজাইটের মধ্যে অত্যন্ত উচ্চ মাত্রার (১৬%) ইউরেনিয়ামের অস্তিত্ব রয়েছে এবং এটি বেশ সমৃদ্ধ । স্বাস্থ্যঝুঁকি, ত্রুটিমুক্ত অবকাঠামো তৈরি, সম্পূর্ণ ভাবে দূষণ রোধ, জ্বালানি ও তেজস্ক্রিয় বর্জ্য পরিবহন-ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম নিখুঁতভাবে পরিচালনা, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং পরিবেশগত ক্ষতির বিষয়টি নজরে রেখেই এটি কম গভীরতায় থাকার কারণে এর উত্তোলন (আহরণ) ব্যয় হবে খুবই কম এবং লাভজনক ।
বাংলাদেশে বেসামরিক কর্মসূচীতে ইউরেনিয়ামের সরাসরি ব্যবহারের সুযোগ আন্তর্জাতিক আণবিক সংস্থা (International Atomic Energy Agency (IAEA) কর্তৃক অনুমোদিত বিধায় এর উত্তোলন এবং পরিশোধন করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে (Rooppur Nuclear Power Plant) https://bn.wikipedia.org/w…/রূপপুর_পারমাণবিক_বিদ্যুৎ_কেন্দ্র https://en.wikipedia.org/wiki/Rooppur_Nuclear_Power_Plant ব্যবহারের জন্য সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরবরাহ করার পাশাপাশি এর টেকসই মজুত এবং দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিশ্ববাজারে (শর্তসাপেক্ষ) শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে 
রপ্তানি করা যেতে পারে ।
সাধারণত পৃথিবীর যে সকল উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশগুলির খনিতে যে ইউরেনিয়াম পাওয়া যায় তার অধিকাংশতেই এর ঘনত্ব ৩০০-১০০০ PPM (Part(s) per million বা ১০ লক্ষ ভাগের এক ভাগ) । বিশ্বে প্রায় ১৭টিরও বেশি দেশ ইউরেনিয়াম উৎপাদন করে থাকে । প্রতি বছর প্রায় ৫০ হাজার টনের মতো অশোধিত ইউরেনিয়াম উৎপাদন করা হয় । ২০১০ খ্রিস্টাব্দেই ৫৩ হাজার ৬৬৩ টন ইউরেনিয়াম উৎপাদন করা হয়েছিল বিশ্বব্যাপী । কাজাখস্থান
 (সর্ববৃহৎ রপ্তানিকারক ২৭%)
, কানাডা (রপ্তানিকারক ২০%), অস্ট্রেলিয়া (রপ্তানিকারক ১৬%), নামিবিয়া 
(
রপ্তানিকারক ৬%)
নাইজার 
(
রপ্তানিকারক ৫%)
, দক্ষিণ আফ্রিকা
রাশিয়াসহ
 আরো কয়েকটি দেশের খনি থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ইউরেনিয়াম উত্তোলন করা হয় । এছাড়া
 কঙ্গো, মেক্সিকো, কলোরাডে, আলাস্কা, ফ্রান্স, সুইডেন, চীন, 
জার্মানি, ব্রাজিল, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, 
বাংলাদেশ, 
চিলি ইত্যাদি দেশে 
ইউরেনিয়ামের খনি রয়েছে ।
 ইউরেনিয়াম যৌগ হিসেবে ভূ-পৃষ্ঠের
 
নিচে বা পানিতে, 
শিলা, সমুদ্রের জলে,
 উত্তোলন ও প্রস্তুতকরণের মাধ্যমে 
ইউরেনিয়াম
 পাওয়া যায় । 
এছাড়া সূর্য-পৃথিবীসহ অন্যান্য গ্রহগুলি যে সকল নিহারিকা বা গ্যাসের মেঘ থেকে সৃষ্টি হয়েছে সে মেঘে ইউরেনিয়ামের উপস্থিতি ছিল এবং মহাকাশে আশেপাশের কোনো অতিনবতারার (Supernova) বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে এ তেজষ্ক্রিয় ইউরেনিয়াম উৎপন্ন হয় । অতএব যেখানেই ইউরেনিয়াম থাকুক না কেন সেখান থেকে এর তেজস্ক্রিয়তা বের হয়ে বিপজ্জনকভাবে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ সৃষ্টি করে । পারমাণবিক বিস্ফোরণ বা মারণাস্ত্রের কারণে সরাসরি ভয়ঙ্করভাবে মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটে । ভয়াবহ তেজস্ক্রিয়তার তীব্রতা ছড়িয়ে পড়ে । অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং অবকাঠামোকে ধ্বংস করে দিয়ে পৃথিবীর জীবজগতের উপর বিধ্বংসী প্রভাব ফেলে । চরম ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় পরিবেশ, প্রাকৃতিক সম্পদ, নগর-সভ্যতা, বৈশ্বিক জলবায়ু এবং জীববৈচিত্র্য । মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হয় বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem) । সম্ভাব্যভাবে মানব জাতির বিলুপ্তি ঘটতে পারে । হয়তো প্রত্যন্ত অঞ্চলে খুব অল্প সংখ্যক মানুষ বেঁচে গেলেও এর ভয়াবহতা জটিল করে তোলে মানুষের জীবন । হ্রাস পায় জীবনমান, মর্মযন্ত্রণা ও অসুস্থতা নিয়ে বেঁচে থাকে । কখনো কখনো তেজস্ক্রিয়তার স্পষ্ট পদচিহ্ন থাকে দীর্ঘকাল ।
পারমাণবিক মারণাস্ত্র পরীক্ষা-নিরিক্ষা ছাড়াও পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন দূর্ঘটনার কারণে, চিকিৎসা ক্ষেত্রে রঞ্জন রশ্মি (X-ray ) বা গামা রশ্মির (Gamma-rays) ব্যবহার ও অন্যান্য (Radiation therapy machine / Device) বিকিরণ থেরাপির যন্ত্র থেকে, শিল্প ক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধি ও দ্রব্যের মান যাচাই করতে বিভিন্ন উপাদান (Component) ব্যবহার করার ফলে, কার্যকরী ইউরেনিয়ামের খনি ও কারখানায় কাজ করার মাধ্যমে এবং মহাজাগতিক রশ্মির (Cosmic rays) মাধ্যমে বায়ুমন্ডল থেকে যে কেউ ইউরেনিয়ামের তেজস্ক্রিয়তার সংস্পর্শে আসতে পারে । ফলশ্রুতিতে মানুষের শরীরের জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করে ফেলে । কিডনি, মস্তিষ্ক, যকৃত, হৃদপিণ্ডসহ শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ইউরেনিয়ামের তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় । দীর্ঘস্থায়ী সময় ইউরেনিয়ামের তেজস্ক্রিয়তার কারণে পঙ্গুত্ব, মানসিক সমস্যা, Leukemia, কর্কট রোগে (Cancer
) আক্রান্ত হয় (খনিতে ইউরেনিয়াম উত্তোলন শ্রমিক, কারখানার শ্রমিক এবং আকরিক পরিবহনকারীদের মধ্যে Small cell carcinoma, Thyroid cancer) । আক্রান্ত ব্যক্তির লক্ষণ হিসেবে চর্মরোগ, বমি, ক্ষুধামন্দা, ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে । গর্ভবতী, নবজাতক কিংবা শিশুদের উপর এর মারাত্মক প্রভাব পড়ে । কখনো বিকলাঙ্গতা নিয়ে শিশু জন্মগ্রহণ করে । এছাড়া ইউরেনিয়াম উত্তোলনের সময় খনি থেকে Radon gas নির্গত হওয়ার ফলে খনিতে কর্মরত শ্রমিক এবং Navajo, Laguna, Canyoncito, Acoma, Juni Pueblo আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য অনেক বেশি বিপজ্জনক হতে পারে । 
সারাবিশ্বে বৃহৎ আকারে ইউরেনিয়াম উত্তোলন করার কারণে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনাচার, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলে এদের স্বাস্থ্য, পরিবেশ বিপর্যয় এবং অর্থনৈতিক বিকাশকে হুমকির সম্মুখীন করছে । 
https://web.facebook.com/muhammadashraful.alam/posts/2774407436005909 
Image : https://www.nuclear-power.net/
                           
                       
                               

No comments:

Post a Comment

প্রত্যাখ্যান (কবি: মায়া অ্যাঞ্জেলো)

প্রত্যাখ্যান কবি: মায়া অ্যাঞ্জেলো অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল প্রিয়তম, অন্য কোনো জীবনে বা দেশে আমি কি তোমার অধরের স্পর্শ অনুভব করে...