Sunday, 21 April 2024

Triangulum Galaxy




ট্রায়াঙ্গুলাম হচ্ছে একটি সর্পিল ছায়াপথ, যেটি পৃথিবী থেকে প্রায় ২.৭৩ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে Triangulam নক্ষত্রমণ্ডলে অবস্থিত । এটিকে Messier 33 (M33) বা NGC (New General Catalouge) 598 লক্ষিত বস্তু হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে । এ ছায়াপথে একটি H II নিউক্লিয়াস রয়েছে । যদিও ছায়াপথের নিউক্লিয়াসে একটি অতিভারবিশিষ্ট কৃষ্ণ গহ্বর আছে বলে মনে হয় না । কারণ একটি ছায়াপথের কেন্দ্রীয় বৃহদায়তন কৃষ্ণ গহ্বরের ভর ছায়াপথের কেন্দ্রীয় স্ফীতির আকারের সাথে সম্পর্কযুক্ত । M33 বা ট্রায়াঙ্গুলাম ছায়াপথটি অ্যান্ড্রোমিডা ছায়াপথ (Andromeda Galaxy) এবং আমাদের নিজস্ব আকাশগঙ্গা ছায়াপথ (Milky Way Galaxy) থেকে ভিন্ন একটি ছায়াপথ । ট্রায়াঙ্গুলাম ছায়াপথ হচ্ছে একটি বিশুদ্ধ চাকতি ছায়াপথ যার কোনো স্ফীতি নেই । তবে, ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা Chandra X-ray Observatory থেকে তথ্য ব্যবহার করে এ ছায়াপথের মধ্যে সূর্যের ভরের প্রায় ১৫.৭ গুণ একটি কৃষ্ণ গহ্বর সনাক্ত করেন । M33 X-7 নামক ঐ কৃষ্ণ গহ্বরটি একটি সহচর নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করে যেটি প্রতি ৩.৫ দিনে গ্রহন (Eclipse) করে । জানা যায়, এটি সবচেয়ে বড় নাক্ষত্রিক ভরের একটি কৃষ্ণ গহ্বর । ট্রায়াঙ্গুলাম ছায়াপথ হচ্ছে অ্যান্ড্রোমিডা ছায়াপথ এবং আকাশগঙ্গা ছায়াপথের পিছনে অবস্থিত ছায়াপথগুলোর স্থানীয় গোষ্ঠীর তৃতীয় বৃহত্তম সদস্য (যদিও ছোট-বড় এবং ছোট Magellanic মেঘগুলো আকাশগঙ্গা ছায়াপথের সাথে মুখোমুখি হওয়ার আগে সর্পিল হয়ে থাকতে পারে) এবং রাতের আকাশে তাদের মিথস্ক্রিয়া, বেগ ও একে অপরের নৈকট্যের কারণে এন্ড্রোমিডা ছায়াপথের একটি উপগ্রহ বা পরবর্তীতে এটির প্রত্যাবর্তন বলে মনে করা হয় । ট্রায়াঙ্গুলাম ছায়াপথ প্রায় ৪০ বিলিয়ন নক্ষত্রের আবাসস্থল, যেখানে আকাশগঙ্গা ছায়াপথে ৪০০ বিলিয়ন এবং অ্যান্ড্রোমিডা ছায়াপথে ১ ট্রিলিয়ন নক্ষত্র রয়েছে । স্কটল্যান্ডের ঔপন্যাসিক ও এডিনবার্গ সংবাদপত্রের প্রাক্তন সাহিত্য সম্পাদক Andrew Crumey দেখিয়েছেন যে, এ ছায়াপথের মোট প্রতীয়মান বা দৃশ্যমান উজ্জ্বলতার মাত্রা ৫.৭২ এবং কার্যকর দৃশ্যমান মাত্রা প্রায় ৬.৬ । ক্ষীণ আলো বা খুব অন্ধকার স্থান থেকেও এটিকে দেখা যায় । ট্রায়াঙ্গুলাম ছায়াপথকে কখনো কখনো অনানুষ্ঠানিকভাবে Pinwheel Galaxy বলা হয় । ট্রায়াঙ্গুলাম ছায়াপথটি সম্ভবত ১৬৫৪ খ্রিস্টাব্দের আগে ইতালীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী Giovanni Battista Hodierna আবিষ্কার করেন । ১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দের ২৫-২৬ আগস্ট রাতে ফরাসি জ্যোতির্বিজ্ঞানী Charles Messier ছায়াপথটি স্বাধীনভাবে আবিষ্কার করেন এবং এটি তার Catalog of Nebulae and Star Clusters (1771) এ লক্ষিত বস্তু নম্বর ৩৩ হিসেবে প্রকাশিত হয় । তাই ট্রায়াঙ্গুলাম ছায়াপথটির নাম Messier 33 (M33) । জার্মান-ব্রিটিশ জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং সুরকার Frederick William Herschel ১১ই সেপ্টেম্বর ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে এ মহাজাগতিক বস্তুটিকে H V-17 হিসেবে তালিকাভুক্ত করেন । ১৮৫০ খ্রিস্টাব্দে আইরিশ জ্যোতির্বিজ্ঞানী, প্রকৃতিবিদ এবং প্রকৌশলী Lord Rosse একটি সর্পিল নীহারিকার (Spiral nebulae) মধ্যে ছায়াপথটি ছিল এটিকে তিনি প্রথম চিহ্নিত করেন । ১৯২২-২৩ খ্রিস্টাব্দে মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী John Charles Duncan এবং জার্মান জ্যোতির্বিজ্ঞানী Maximilian Franz Joseph Cornelius Wolf (Max Wolf) নীহারিকাতে পরিবর্তনশীল নক্ষত্র আবিষ্কার করেন । মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী Edwin Powell Hubble ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে দেখিয়েছিলেন যে, ঐ নক্ষত্রগুলোর মধ্যে ৩৫টি হচ্ছে Classical Cepheid । ট্রায়াঙ্গুলাম ছায়াপথের ডি২৫ আইসোফোটাল ব্যাস হচ্ছে ১৮.৭৪ কিলোপারসেক (৬১১০০ আলোকবর্ষ), যেখানে ছায়াপথ পৃষ্ঠের উজ্জ্বলতা ২৫ম্যাগ/আর্কসেক২ এ পৌঁছায় এবং এটি শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ আকাশগঙ্গা ছায়াপথের আকারে পরিণত করে । ট্রায়াঙ্গুলাম ছায়াপথটি অ্যান্ড্রোমিডা ছায়াপথের মহাকর্ষীয়ভাবে আবদ্ধ সঙ্গী হতে পারে ।
ট্রায়াঙ্গুলাম ছায়াপথ চাকতির আনুমানিক ভর হচ্ছে (৩–৬)×১০০০০০০০০০ সৌর ভর, যেখানে গ্যাসের উপাদান প্রায় ৩২০০০০০০০০ সৌর ভর । সুতরাং, ছায়াপথের সমস্ত Baryonic পদার্থের মিলিত ভর ১০০০০০০০০০০ সৌর ভর হতে পারে । ৫৫০০০ আলোকবর্ষ (১৭ কিলোপারসেক) ব্যাসার্ধে অন্ধকার পদার্থের (Dark matter) উপাদানের অবদান প্রায় ৫০০০০০০০০০০ সৌর ভরের সমতুল্য । ট্রায়াঙ্গুলাম ছায়াপথ হচ্ছে H2O Maser (Astrophysical Maser) নিঃসরণের উৎস । অনুমান করা হয়, ছায়াপথটি অ্যান্ড্রোমিডা ছায়াপথের দিকে অগ্রসর হচ্ছে । ২০০৪ খ্রিস্টাব্দে হাইড্রোজেন গ্যাসের একটি অগোছালো স্রোত (Clumpy stream of hydrogen gas) ট্রায়াঙ্গুলাম ছায়াপথের সাথে অ্যান্ড্রোমিডা ছায়াপথকে যুক্ত করার প্রমাণ পাওয়া যায় । মীন বামন (The Pisces Dwarf বা মীন l বা LGS 3 হচ্ছে ছোট একটি স্থানীয় গোষ্ঠীর সদস্য ছায়াপথগুলোর মধ্যে একটি এবং সূর্য থেকে ২০২২৩০০০ আলোকবর্ষ (৬২০ কিলোপারসেক) দূরে অবস্থিত । মীন রাশি নক্ষত্রমণ্ডলের নামানুসারেই এর নামকরণ করা হয়েছে । এ অনিয়মিত মীন বামন ছায়াপথটি অ্যান্ড্রোমিডা ছায়াপথ থেকে ২০° এবং ট্রায়াঙ্গুলাম ছায়াপথ থেকে ১১° দূরে অবস্থিত । যেহেতু, মীন বামন LGS 3 ছায়াপথ ঐ ছায়াপথ দুটি থেকে ৯১৩০০০ আলোকবর্ষ (২৮০ কিলোপারসেক) দূরত্বে অবস্থিত, হয়তো এটি অ্যান্ড্রোমিডা ছায়াপথ কিংবা ট্রায়াঙ্গুলাম ছায়াপথের একটি উপগ্রহ ছায়াপথ হতে পারে । মীন বামন LGS 3 ছায়াপথের মূল ব্যাসার্ধ ৪৮৩ আলোকবর্ষ (১৪৮ কিলোপারসেক) এবং এর সৌর ভর হচ্ছে ২৬০০০০০০ । মীন VII / Triangulum (Tri) III ট্রায়াঙ্গুলাম ছায়াপথের আরেকটি উপগ্রহ হতে পারে ।
ফরাসি জ্যোতির্বিজ্ঞানী Gérard de Vaucouleur ট্রায়াঙ্গুলাম ছায়াপথকে SA(s)cd নমুনা হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করেন । ট্রায়াঙ্গুলাম একটি চাকতি আকৃতির ছায়াপথ যার বিশিষ্ট বাহুগুলো গ্যাস এবং ধূলিকণা নিউক্লিয়াস থেকে সর্পিলাকার হয়— যে কারণে এটি সর্পিল ছায়াপথ নামে পরিচিত । ট্রায়াঙ্গুলাম ছায়াপথের ভিতরের অংশে দুটি আলোকিত সর্পিল বাহু রয়েছে এবং সাথে একাধিক স্ফটিক বা শক্ত খুঁটি (Spar) রয়েছে যা ভিতরের অংশকে বাইরের সর্পিল বৈশিষ্ট্যের সাথে সংযুক্ত করে । তাই, এখানে গ্যাস ও ধূলিকণা থাকার কারণে খুব দ্রুত নক্ষত্র গঠন করে ।
ট্রায়াঙ্গুলাম ছায়াপথের চারপাশে একটি বর্ণবলয় (Halo) থাকতে পারে, কিন্তু নিউক্লিয়াসে কোনো স্ফীতি নেই । ট্রায়াঙ্গুলাম একটি বিচ্ছিন্ন ছায়াপথ এবং অন্যান্য ছায়াপথগুলোর সাথে সাম্প্রতিক একত্রিতকরণ বা মিথস্ক্রিয়ার কোনো ইঙ্গিত নেই । এ ছায়াপথের কেন্দ্রীয় ৪′ অঞ্চলে পারমাণবিক গ্যাস দক্ষতার সাথে আণবিক গ্যাসে রূপান্তরিত হচ্ছে, যার ফলে কার্বন মনোস্কাইডের একটি শক্তিশালী বর্ণালী নির্গমন ঘটে । আশেপাশের আন্তঃনাক্ষত্রিক মাধ্যম থেকে বিশাল আণবিক মেঘ ঘনীভূত হওয়ার কারণে এ প্রভাবটি ঘটে থাকে । কেন্দ্রীয় ৪′ এর বাইরে অনুরূপ প্রক্রিয়া চলছে, তবে কম কার্যকর গতিতে । এ ছায়াপথে শতকরা প্রায় ১০ ভাগ গ্যাসের উপাদান আণবিক আকারে রয়েছে । নক্ষত্র গঠন এমন একটি হারে ঘটছে যা স্থানীয় গ্যাসের ঘনত্বের সাথে দৃঢ়ভাবে সম্পর্কযুক্ত এবং প্রতি একক অঞ্চলের হার প্রতিবেশী অ্যান্ড্রোমিডা ছায়াপথের চেয়ে বেশি । ট্রায়াঙ্গুলাম ছায়াপথে নক্ষত্র গঠনের হার প্রায় ৩.৪ Gyr−১ pc−২, যা অ্যান্ড্রোমিডা ছায়াপথে ০.৭৪ এর তুলনায় । ট্রায়াঙ্গুলাম ছায়াপথে নক্ষত্র গঠনের মোট সমন্বিত হার প্রতি বছর প্রায় ০.৪৫ ± ০.১ সৌর ভর । তবে এটি অনিশ্চিত যে, এ নেট হার বর্তমানে কমছে না-কি স্থির আছে । ২০০৬ খ্রিস্টাব্দে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের একটি দল ট্রায়াঙ্গুলাম ছায়াপথে একটি গ্রহনকারী বাইনারি নক্ষত্র (Eclipsing Binary Star) আবিষ্কার করেন ।
স্পিটজার স্পেস টেলিস্কোপ থেকে অবলোহিত পর্যবেক্ষণ ব্যবহার করে ২০০৭ খ্রিস্টাব্দের হিসেব অনুযায়ী ট্রায়াঙ্গুলাম ছায়াপথের মধ্যে ২৪ μm নির্গমনের মোট ৫১৫টি পৃথক প্রার্থী উৎস তালিকাভুক্ত করা হয়েছে ৷ উজ্জ্বল উৎসগুলো ট্রায়াঙ্গুলাম ছায়াপথের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে এবং সর্পিল বাহু বরাবর রয়েছে ৷ নির্গমনের অনেক উৎসই নক্ষত্র গঠনের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও বৃহত্তম H II অঞ্চলের সাথে যুক্ত । চারটি উজ্জ্বল HII অঞ্চলকে NGC 588, NGC 592, NGC 595 এবং NGC 604 হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে । এ অঞ্চলগুলো (১.২-৪) ×১০০০০০ সৌর ভরযুক্ত আণবিক মেঘের সাথে যুক্ত । এ সকল অঞ্চলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল হচ্ছে NGC 604, যা প্রায় তিন মিলিয়ন বছর আগে একটি বিচ্ছিন্ন বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে নক্ষত্র গঠন হয়ে থাকতে পারে । এ নীহারিকা হচ্ছে স্থানীয় গোষ্ঠীর ছায়াপথের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বাধিক আলোকিত HII অঞ্চল, সূর্যের আলোর (৪.৫ ± ১.৫)×১০০০০০০০ গুণ বেশি । ট্রায়াঙ্গুলাম ছায়াপথের অন্যান্য বিশিষ্ট HII অঞ্চলগুলোর মধ্যে রয়েছে IC 132, IC 133 এবং IK 53 । ছায়াপথের উত্তর অংশের প্রধান সর্পিল বাহুতে চারটি বৃহৎ HII অঞ্চলের অবস্থান, যেখানে দক্ষিণ বাহুতে তরুণ ও উষ্ণ নক্ষত্রের ঘনত্ব বেশি । ট্রায়াঙ্গুলাম ছায়াপথে অতিনবতারা (Supernova) বিস্ফোরণের আনুমানিক হার হচ্ছে ০.০৬ নমুনার Ia এবং ০.৬২ নমুনার Ib / নমুনা II প্রতি শতকে । এটি গড়ে প্রতি ১৪৭ বছরে একটি অতিনবতারা বিস্ফোরণের সমতুল্য । ২০০৮ খ্রিস্টাব্দের হিসেব অনুযায়ী, ট্রায়াঙ্গুলাম ছায়াপথে মোট ১০০টি অতিনবতারার অবশিষ্টাংশ সনাক্ত করা হয়েছে, যার বেশিরভাগই সর্পিল ছায়াপথের দক্ষিণ অংশের অর্ধেকের মধ্যে অবস্থিত । H I ও H II অঞ্চলগুলোর জন্য অনুরূপ অসামঞ্জস্য এবং বিশাল O (O V) নমুনার প্রধান নক্ষত্রগুলোর উচ্চ আলোকিত ঘনত্ব রয়েছে । এ বৈশিষ্ট্যগুলোর বিতরণ কেন্দ্রটি দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় দুই আর্ক মিনিট Offset হয় । ট্রায়াঙ্গুলাম ছায়াপথ একটি স্থানীয় ছায়াপথ হওয়ায় Central Bureau for Astronomical Telegrams (CBAT) মহাবিশ্বের বিস্ময়কর M31 এবং M81 ছায়াপথে নোভা (Novae) চিহ্নিত করে । ট্রায়াঙ্গুলাম ছায়াপথে প্রায় ৫৪টি Globular cluster সনাক্ত করা হয়েছে । তবে, স্তবকের প্রকৃত সংখ্যা ১২২ বা তারও বেশি হতে পারে । নিশ্চিত হওয়া স্তবকগুলো আকাশগঙ্গা ছায়াপথের Globular cluster এর চেয়ে কয়েক বিলিয়ন বছর তরুণ বা ছোট হতে পারে এবং স্তবক গঠন গত ১০০ মিলিয়ন বছরে বেড়েছে বলে মনে হচ্ছে । এ বৃদ্ধি ছায়াপথের কেন্দ্রে গ্যাস প্রবাহের সাথে সম্পর্কযুক্ত । ট্রায়াঙ্গুলাম ছায়াপথে বিশাল নক্ষত্রের অতিবেগুনী নিঃসরণ বা নির্গমন Large Magellanic Cloud এর অনুরূপ নক্ষত্রের স্তরের সাথে মিলিত । ধারণা করা হয়, ট্রায়াঙ্গুলাম ছায়াপথটি নিরপেক্ষ হাইড্রোজেন এবং নক্ষত্রের বিভিন্ন প্রবাহ দ্বারা M31 ছায়াপথের সাথে যুক্ত, যা পরামর্শ দেয় যে এ দুটি ছায়াপথের মধ্যে একটি অতীত মিথস্ক্রিয়া ২ থেকে ৮ বিলিয়ন বছর আগে ঘটেছিল এবং ভবিষ্যতে ২.৫ বিলিয়ন বছর আরো সহিংস সংঘর্ষ ঘটবে । 
_____
_____
ছবি: @astrobackyard, Beyond The World
উৎস: উইকিপিডিয়া, Albert Einstein: Science & Astronomy ।

Saturday, 13 April 2024

আপেক্ষিক বেগ

পৃথিবী তার অক্ষের উপর ঘূর্ণায়মান । প্রায় প্রতি ২৪ ঘন্টায় একটি ঘূর্ণন সম্পন্ন করে । বিষুবরেখার একটি বিন্দু প্রতি ঘন্টায় প্রায় ১৬৭০ কিলোমিটার (০.৪৬ কিঃমিঃ/সেকেন্ড) বেগে চলে, যা পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে পৃষ্ঠের দ্রুততম গতি ।নিরক্ষরেখা থেকে দূরে মেরুর দিকে যাওয়ার সাথে সাথে ঘূর্ণনের গতি হ্রাস পায় । এর কারণ পৃথিবীর পরিধি বা বৃত্ত ছোট হয়ে যায় । নিরক্ষরেখা ব্যতীত অন্য কোনো অক্ষাংশের বেগকে অক্ষাংশের Cosine দ্বারা নিরক্ষীয় বেগকে গুণ করে হিসেব করা যায় । পৃথিবীও সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে ঘণ্টায় ১০৭২০০ কিলোমিটার (২৯.৮ কিঃমিঃ/সেকেন্ড) বেগে । এ গতি সারা বছর জুড়ে সামান্য পরিবর্তিত হয় কারণ পৃথিবীর কক্ষপথ উপবৃত্তাকার, পুরোপুরি বৃত্তাকার নয় ।পৃথিবীর কক্ষপথে ০.০২ এরও কম একটি বিকেন্দ্রতা বা উদ্ভটতা রয়েছে, যার মানে এটি প্রায় বৃত্তাকার কিন্তু এখনো কিছুটা ডিম্বাকৃতির । সূর্য থেকে দূরত্ব বছরে পরিবর্তিত হয়, যা কক্ষপথের গতিকে প্রভাবিত করে । পৃথিবী দ্রুত গতিতে চলে যখন এটি পেরিহিলিয়নে (Perihelion) (৩রা জানুয়ারির কাছাকাছি) সূর্যের কাছাকাছি থাকে এবং ধীর গতিতে চলে যখন এটি অ্যাফিলিয়নে (৪ঠা জুলাইয়ের কাছাকাছি) দূরে থাকে । সূর্যের চারপাশে একটি কক্ষপথ সম্পূর্ণ করতে পৃথিবীকে প্রায় ৩৬৫.২৪২১৯৯ সৌর দিন লাগে । একটি নিখুঁত ৩৬৫ দিনের এ সামান্য পার্থক্যের কারণেই প্রতি চার বছরে আমাদের অধিবর্ষ (Leap year) হয় । সূর্য প্রতি ঘন্টায় ৮২৮০০০ কিলোমিটার (২৩০ কিঃমিঃ/সেকেন্ড) গড় গতিতে আকাশগঙ্গা ছায়াপথের (Milky Way Galaxy) কেন্দ্রকে প্রদক্ষিণ করে । ছায়াপথের বিশাল মাপনী এবং খেলার মধ্যে মহাকর্ষীয় শক্তির কারণে এ গতিটি বেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ । এ উচ্চ গতি সত্ত্বেও, আকাশগঙ্গা ছায়াপথের চারপাশে একটি কক্ষপথ (প্রদক্ষিণ) সম্পূর্ণ করতে সূর্যের প্রায় ২৩০ মিলিয়ন বছর সময় লাগে । এ দীর্ঘ সময়টিকে "Galactic year" বা "Cosmic year" বা "মহাজাগতিক বছর" বলা হয় । পৃথিবীসহ আমাদের সমগ্র সৌরজগত এ বিশাল আকাশগঙ্গা ছায়াপথের কেন্দ্রের চারপাশে ঘুরছে এবং ছায়াপথটি নিজেই মহাকাশের মধ্য দিয়ে চলছে, পৃথিবীর আপেক্ষিক গতিতে আরো স্তর যুক্ত করছে । আকাশগঙ্গা ছায়াপথ মহাজাগতিক অণুতরঙ্গ পটভূমিকে Cosmic Microwave Background (CMB) প্রদক্ষিণ করে না বরং, এটি মহাজাগতিক অণুতরঙ্গ পটভূমির সাথে সম্পর্কিত বা আপেক্ষিকভাবে চলে । আপেক্ষিক বেগ ২১৬০০০০ কিঃমিঃ/ঘন্টা বা ৬০০ কিঃমিঃ/সেকেন্ড । মহাজাগতিক অণুতরঙ্গ পটভূমি একটি সার্বজনীন পটভূমি হিসেবে কাজ করে, যা মহাবিশ্বের বস্তুর গতির জন্য একটি উল্লেখিত কাঠামো (Reference frame) প্রদান করে । মহাজাগতিক অণুতরঙ্গ পটভূমির সাথে আকাশগঙ্গা ছায়াপথের আপেক্ষিক বেগ বা গতি হচ্ছে মহাবিশ্বের মধ্য দিয়ে আমাদের ছায়াপথের গতির একটি পরিমাপ । মহাজাগতিক অণুতরঙ্গ পটভূমি এ গতির জন্য একটি উল্লেখিত কাঠামো হিসেবে কাজ করে কারণ এটি মহাবিস্ফোরণের (Big bang) পরবর্তী চমক এবং সব দিকেই প্রায় অভিন্ন । গতিবেগ তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এটি শুধুমাত্র স্থানীয় মহাকর্ষীয় বা মাধ্যাকর্ষণ প্রভাবগুলোই প্রতিফলিত করে না, যেমন নিকটবর্তী ছায়াপথ থেকে টান বরং মহাবিশ্বের সামগ্রিক বিস্তার এবং মহাবিস্ফোরণের প্রাথমিক অবস্থাও প্রতিফলিত করে । 

তথ্যসূত্র: Geology Notes 

Credit: Dr James O'Donoghue via Unilad Tech


Wednesday, 3 April 2024

পহেলা বৈশাখ

চৈত্রের সমাপ্তি ।
বর্ষ বিদায় ।
সকল গ্লানি মিলিয়ে যাক দূর নীলিমায় ।
রুদ্র বৈশাখের আগমনী বার্তা ।
প্রত্যুষের সূর্যোদয় ।
শুভ বাংলা নববর্ষ!
পহেলা বৈশাখে আনন্দময় বর্ষ বরণ ।
হালখাতা, মঙ্গল শোভাযাাত্রা, পান্তাভাত-ইলিশ, রমনা বটমূলের অনুষ্ঠান, বৈশাখী মেলা ইত্যাদি ।
এ দিনটি বাঙালি জাতির প্রাণের উৎসব ।
বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক ।
অসাম্প্রদায়িক চেতনার বহ্নিশিখা ।
অনুপ্রেরণার অপার উৎস ।
বিশাখা নক্ষত্র থেকে বৈশাখ শব্দের উৎপত্তি ।
বৈশাখ মাসে প্রকৃতি বৈচিত্র্যময় রূপ ধারণ করে ।
কালবৈশাখীর হিংস্র তাণ্ডব ।
আমি শঙ্কিত ।
ঝরে পড়া কৃষ্ণচূড়ার নিদারুণ আর্তনাদ!
কানপেতে শুনি ।
কখনো কোকিলের মধুর কুহুতানে ভালোবাসার উচ্ছ্বাস ।
বৈশাখের পথ ধরে আগামীর স্বপ্ন দেখি । 

প্রত্যাখ্যান (কবি: মায়া অ্যাঞ্জেলো)

প্রত্যাখ্যান কবি: মায়া অ্যাঞ্জেলো অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল প্রিয়তম, অন্য কোনো জীবনে বা দেশে আমি কি তোমার অধরের স্পর্শ অনুভব করে...