পৃথিবী তার অক্ষের উপর ঘূর্ণায়মান । প্রায় প্রতি ২৪ ঘন্টায় একটি ঘূর্ণন সম্পন্ন করে । বিষুবরেখার একটি বিন্দু প্রতি ঘন্টায় প্রায় ১৬৭০ কিলোমিটার (০.৪৬ কিঃমিঃ/সেকেন্ড) বেগে চলে, যা পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে পৃষ্ঠের দ্রুততম গতি ।নিরক্ষরেখা থেকে দূরে মেরুর দিকে যাওয়ার সাথে সাথে ঘূর্ণনের গতি হ্রাস পায় । এর কারণ পৃথিবীর পরিধি বা বৃত্ত ছোট হয়ে যায় । নিরক্ষরেখা ব্যতীত অন্য কোনো অক্ষাংশের বেগকে অক্ষাংশের Cosine দ্বারা নিরক্ষীয় বেগকে গুণ করে হিসেব করা যায় । পৃথিবীও সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে ঘণ্টায় ১০৭২০০ কিলোমিটার (২৯.৮ কিঃমিঃ/সেকেন্ড) বেগে । এ গতি সারা বছর জুড়ে সামান্য পরিবর্তিত হয় কারণ পৃথিবীর কক্ষপথ উপবৃত্তাকার, পুরোপুরি বৃত্তাকার নয় ।পৃথিবীর কক্ষপথে ০.০২ এরও কম একটি বিকেন্দ্রতা বা উদ্ভটতা রয়েছে, যার মানে এটি প্রায় বৃত্তাকার কিন্তু এখনো কিছুটা ডিম্বাকৃতির । সূর্য থেকে দূরত্ব বছরে পরিবর্তিত হয়, যা কক্ষপথের গতিকে প্রভাবিত করে । পৃথিবী দ্রুত গতিতে চলে যখন এটি পেরিহিলিয়নে (Perihelion) (৩রা জানুয়ারির কাছাকাছি) সূর্যের কাছাকাছি থাকে এবং ধীর গতিতে চলে যখন এটি অ্যাফিলিয়নে (৪ঠা জুলাইয়ের কাছাকাছি) দূরে থাকে । সূর্যের চারপাশে একটি কক্ষপথ সম্পূর্ণ করতে পৃথিবীকে প্রায় ৩৬৫.২৪২১৯৯ সৌর দিন লাগে । একটি নিখুঁত ৩৬৫ দিনের এ সামান্য পার্থক্যের কারণেই প্রতি চার বছরে আমাদের অধিবর্ষ (Leap year) হয় । সূর্য প্রতি ঘন্টায় ৮২৮০০০ কিলোমিটার (২৩০ কিঃমিঃ/সেকেন্ড) গড় গতিতে আকাশগঙ্গা ছায়াপথের (Milky Way Galaxy) কেন্দ্রকে প্রদক্ষিণ করে । ছায়াপথের বিশাল মাপনী এবং খেলার মধ্যে মহাকর্ষীয় শক্তির কারণে এ গতিটি বেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ । এ উচ্চ গতি সত্ত্বেও, আকাশগঙ্গা ছায়াপথের চারপাশে একটি কক্ষপথ (প্রদক্ষিণ) সম্পূর্ণ করতে সূর্যের প্রায় ২৩০ মিলিয়ন বছর সময় লাগে । এ দীর্ঘ সময়টিকে "Galactic year" বা "Cosmic year" বা "মহাজাগতিক বছর" বলা হয় । পৃথিবীসহ আমাদের সমগ্র সৌরজগত এ বিশাল আকাশগঙ্গা ছায়াপথের কেন্দ্রের চারপাশে ঘুরছে এবং ছায়াপথটি নিজেই মহাকাশের মধ্য দিয়ে চলছে, পৃথিবীর আপেক্ষিক গতিতে আরো স্তর যুক্ত করছে । আকাশগঙ্গা ছায়াপথ মহাজাগতিক অণুতরঙ্গ পটভূমিকে Cosmic Microwave Background (CMB) প্রদক্ষিণ করে না বরং, এটি মহাজাগতিক অণুতরঙ্গ পটভূমির সাথে সম্পর্কিত বা আপেক্ষিকভাবে চলে । আপেক্ষিক বেগ ২১৬০০০০ কিঃমিঃ/ঘন্টা বা ৬০০ কিঃমিঃ/সেকেন্ড । মহাজাগতিক অণুতরঙ্গ পটভূমি একটি সার্বজনীন পটভূমি হিসেবে কাজ করে, যা মহাবিশ্বের বস্তুর গতির জন্য একটি উল্লেখিত কাঠামো (Reference frame) প্রদান করে । মহাজাগতিক অণুতরঙ্গ পটভূমির সাথে আকাশগঙ্গা ছায়াপথের আপেক্ষিক বেগ বা গতি হচ্ছে মহাবিশ্বের মধ্য দিয়ে আমাদের ছায়াপথের গতির একটি পরিমাপ । মহাজাগতিক অণুতরঙ্গ পটভূমি এ গতির জন্য একটি উল্লেখিত কাঠামো হিসেবে কাজ করে কারণ এটি মহাবিস্ফোরণের (Big bang) পরবর্তী চমক এবং সব দিকেই প্রায় অভিন্ন । গতিবেগ তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এটি শুধুমাত্র স্থানীয় মহাকর্ষীয় বা মাধ্যাকর্ষণ প্রভাবগুলোই প্রতিফলিত করে না, যেমন নিকটবর্তী ছায়াপথ থেকে টান বরং মহাবিশ্বের সামগ্রিক বিস্তার এবং মহাবিস্ফোরণের প্রাথমিক অবস্থাও প্রতিফলিত করে ।
তথ্যসূত্র: Geology Notes
Credit: Dr James O'Donoghue via Unilad Tech
No comments:
Post a Comment