Sunday, 31 May 2020

প্রকৃতির শাশ্বত সৌন্দর্য


সুন্দর, শান্ত এবং মনোরম প্রকৃতি ।  
ঐন্দ্রজালিক সংস্পর্শে তার মাঝে কি যেনো খুঁজে পাই । 
এক অজানা আকর্ষণে হারিয়ে যাই দূর- বহুদূর । 
এ বিশুদ্ধ সবুজ প্রকৃতি আশীর্বাদ স্বরূপ । 
তবে, কখনো হয় অভিশপ্ত ।  
কারণ, প্রকৃতির কাছে মানুষ বিষম অসহায় । 
তাই, প্রায়শই এটি নিষ্ঠুর এবং বেদনাদায়ক হয়! 
তবুও, প্রকৃতির বৈশিষ্ট্য ও সৌন্দর্য প্রশান্তি এনে দেয় । 
মানব আত্মাকে শান্ত রাখে । 
সেই অপরূপ প্রকৃতির গহীনে রয়েছে বৈচিত্র্যময় কতো কি... 
বঙ্গোপসাগরের বিস্তৃত জলরাশির হিমশীতল তলদেশে চকচকে রূপালি ইলিশের পদচারণা । 
পরিযায়ী পাখিদের সুদীর্ঘ পথ পেরিয়ে এ নৈসর্গিক ভূমিতে ক্ষণস্থায়ী আগমন । 
সাদা তুলা মেঘগুলো সুনীল আকাশের নীলিমায় মিশে যায় ৷ 
বাবুই পাখি সুনিপুণ কারুকার্যে নির্মাণ করে শান্তির নীড় ।  
প্রবাহিণীর তীরে বেড়ে উঠা কলমি ফুল আগন্তুককে সাদর সম্ভাষণ করে । 
কেটে আসা পরিচয়হীন ঘুড়ি দুর্বার গতিতে হারিয়ে যায় অজানা গন্তব্যে । 
কদম, হিজল, বনতুলসী ও মধুমাধবী লতার মাতাল ঘ্রাণে দিশেহারা ভ্রমর ।
ডুমুর গাছে আড়ালে থাকা ধুরন্ধর মাছরাঙার আচকা শিকার ।
পলাশ, শিমুল, সোনালু এবং মহুয়ার অবারিত রঙের ঝলক ।
রঙিন প্রজাপতি প্রিয়তমার সাথে উড়ে যায় সংকীর্ণ গিরিখাতের উপর দিয়ে । 
তালগাছের ডগায় চিলের বাসার কাছেই আটকে থাকা ঘূর্ণায়মান ঘুড়ির ব্যাকুলতা ৷ 
দুর্গম ঢিবির তে-মাথায় ঘন বেত ঝোপঝাড়ে ঝুলে থাকা রসালো বেত্তুইন ফলের হাতছানি । 
কুণ্ডলী পাঁকানো মৌমাছির ঝাঁকে অশান্ত শিকারী ঈগলের হিংস্র থাবা । 
নীলমনি, রাধাচূড়া, নাগলিঙ্গম, অশোক এবং কিংশুকের দুর্নিবার প্রাণচাঞ্চল্যতা । 
কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম আভা ও নরম স্পর্শে মন ছুঁয়ে যায় ।
কোকিলের সু-মধুর কুহুতানে ভালোবাসার উচ্ছ্বাস ৷ 
বিলের শান্ত জলে মাছ শিকারে মগ্ন চৌকষ পানকৌড়ি ৷ 
বৃদ্ধ গাব গাছের মগডালে ঘুঘু পাখির গোপন অভিসার ৷ 
স্রোতস্বিনী নদীতে অজোপাড়া গাঁয়ের দামাল ছেলেদের দুরন্তপনা ৷  
পাহাড়ী অরণ্য থেকে দারুচিনির সুমিষ্ট গন্ধ ভেসে আসে নির্জন সৈকতে । 
পূবালী বাতাস মনমাতানো ঢেউ খেলে শুভ্র কাশফুল বনে ৷ 
দেবদারু গাছে বাঁধা কানি বকের বাসায় বিষধর শঙ্খিনী সাপের আচমকা হানা ৷ 
ধূর্ত খেঁকশিয়ালের ভয়ে আতঙ্কিত ডাহুক যুগল আত্মগোপন করে নলখাগড়ার বনে ৷ 
সাঁওতাল নারীরা টিলার বন্ধুর পথ ধরে হেঁটে যায় ছোট ছোট মাটির তৈরি ঘর অভিমুখে । 
উচ্চাকাশে ঘুরপাক খাওয়া ক্ষুধার্ত শকুন তীক্ষ্ণ চোখে তন্ন তন্ন করে খোঁজে মৃত জীবদেহ ।
ভূতুরে ছাতিম গাছ তলার আঁকাবাঁকা মেঠো পথে শৈশবের পদাঙ্ক । 
বাদুড় থেকে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের ভয় খেজুরের অমৃত রস পানের ইচ্ছাকে নিবৃত্ত করে । 
সর্ষে ক্ষেতে কাকতাড়ুয়ার মাথায় বসা ফিঙের শাণিত দৃষ্টি ।
সোনালী ফসলী জমির কাঙ্খিত ফলন দেখে উচ্ছ্বসিত রূপসী বধূ । 
শিশির ভেজা ঠোঁটে এক চিলতে সুখের হাসি । 
অপার সৌন্দর্য ও ঐশ্বর্যময় বাংলার অনাবিল সবুজ প্রান্তর ।
অপলক চেয়ে থাকি দিগন্ত জুড়ে । 
পড়ন্ত বিকেল । 
রক্তাভ সূর্যাস্ত ।
এক মায়াবী মুহূর্ত । 
বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় । 

https://www.facebook.com/ashrafulalam715/posts/1346085348838132

Friday, 22 May 2020

বিক্রমপুর (Bikrampur)


আজ থেকে প্রায় নয় হাজার বছর পূর্বে নব্যপ্রস্তর যুগে ধাদার, বেলুচিস্তান, পাকিস্তান অঞ্চলে সৃষ্টি হয় বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতা 'মেহেরগড় সভ্যতা' এবং এটি ৭০০০ খ্রিষ্টপূর্ব থেকে ৩২০০ খ্রিষ্টপূর্বে আবিস্কৃত হয় । মহাদীর্ঘকালের ধারাবাহিকতায় এবং বিভিন্ন পট- পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে পরবর্তীকালে সিন্ধু সভ্যতার (বা হড়প্পা সভ্যতা) সূচনা, বিকাশ, বিস্তৃতি, ধ্বংস বা বিলুপ্তি ঘটে । আর্য সভ্যতা, ঋক্‌বৈদিক কিংবা পরবর্তী-বৈদিক সভ্যতার (Vedic Civilization) গোড়াপত্তনের সময়কালীন প্রাচীন ভারতে এক ঐতিহাসিক যুগের সূচনা হয় । শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় জীবন ও সাহিত্যে উৎকর্ষতার সুদৃঢ় ভিত সৃষ্টি করে এখানে এক অতি উন্নত মানের সভ্যতা এবং সংস্কৃতি গড়ে উঠে । যেখান থেকে পূর্ব- পুরুষদের অনুপ্রেরণা নিয়ে উত্তরাধিকার সূত্রে আজ অবধি আমরা আমাদের অস্তিত্ব, সে ইতিহাস এবং ঐতিহ্যকে বহন করে চলেছি । 
 রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী জেলা মুন্সীগঞ্জের অন্তর্গত 'বিক্রমপুর' । বাংলার একটি ঐতিহাসিক অঞ্চল । ধারণা করা হয়, বৈদিক যুগ (ছয় হাজার বছরেরও বেশি পূর্বেকার বেদবর্ণিত সময়কাল) থেকে ভাওয়াল এবং সোনারগাঁও (সুবর্ণ গ্রাম) রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পূর্বে এটিই ছিল বাংলার প্রাচীনতম রাজধানী । উল্লেখ্য যে, ভাওয়াল জমিদার বংশের পূর্বপুরুষগণ মুন্সীগঞ্জের অন্তর্গত বজ্রযোগিনী গ্রামের বিখ্যাত পুশিলাল শোত্রীয় ব্রাহ্মণগোত্রের বাসিন্দা ছিলেন । বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তর তীর থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকা পার হয়ে সুসং পাহাড় পর্যন্ত বিস্তীর্ণ ভূ-ভাগের মধ্যে জয়ানশাহি গহীন অরণ্য অঞ্চলের উত্তরাংশকে মধুুপুর অরণ্য অঞ্চল এবং দক্ষিণাংশকে ভাওয়াল অরণ্য অঞ্চল বলা হয় । প্রাচীন ভাওয়াল পরগনা তথা বর্তমান বাংলাদেশের গাজীপুর জেলা যেটি সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (২৭৩-২৩২ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ) মৌর্য সম্রাজ্যের অধিকারে ছিল । প্রাচীন কাল থেকেই বৌদ্ধ জ্ঞান চর্চা এবং পরবর্তীতে সাংস্কৃতিক প্রভাবের জন্য বিক্রমপুর বেশ সুপরিচিত । বিক্রমপুর ছিল প্রাচীন বঙ্গের (বঙ্গ জনপদের) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র । বিক্রমপুর নামের ‘বিক্রম’ অর্থ সাহস বা বীরত্ব এবং ‘পুর’ অর্থ নগর বা এলাকা । বিক্রমপুর নামটির উৎপত্তি বিক্রমাদিত্য থেকে । প্রাচীন ভারতীয় সাম্রাজ্য ছিল গুপ্ত সাম্রাজ্য (Gupta Empire)। মহারাজ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্য [যিনি গ্রিকদের নিকট সান্দ্রোকোত্তোস বা আন্দ্রাকোত্তাস নামে পরিচিত (৩৪০ খ্রিস্টপূর্ব- ২৯৮ খ্রিষ্টপূর্ব)] মৌর্য্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা । ভারতবর্ষের ইতিহাসে শ্রীগুপ্ত ছিলেন প্রথম সম্রাট যিনি ভারত উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ অংশকে এক শাসনের অধীনে নিয়ে এসে শাসনকার্য পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছিলেন । পরবর্তীকালে তারই বংশধরগণ ভারতীয় উপমহাদেশে সাম্রাজ্য স্থাপন ও বিস্তার প্রসারিত করেন । জ্ঞান- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, আবিষ্কার, বাস্তুবিদ্যা, শিল্প, ন্যায়শাস্ত্র, সাহিত্য, গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা, ধর্ম ও দর্শন শাস্ত্রে উৎকর্ষতার ফলে গুপ্তযুগকে বলা হয় ভারতের স্বর্ণযুগ । বর্তমান হিন্দু সংস্কৃতি মূলত গুপ্তযুগেরই প্রতিনিধিত্ব করছে । মহারাজ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্যের উত্তরসূরী দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত বা চন্দ্রগুপ্ত বিক্রমাদিত্য (রাজত্বকাল: ৩৭৫ খ্রিষ্টাব্দ- ৪১৫ খ্রিষ্টাব্দ) একজন রাজা ছিলেন যা হিন্দু পুরানে বর্ণিত আছে । বিক্রমপুর ছিল রাজা বিক্রমাদিত্যের রাজধানী । বিক্রমাদিত্য এর অর্থ হলো সূর্যের প্রতাপ । বিক্রমাদিত্য প্রাচীন উত্তর ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজা ও শক্তিশালী শাসক ছিলেন । হিন্দু পঞ্জিকা ‘বিক্রম সম্বৎ’ এর রচয়িতা তিনি । প্রাচীন ভারতবর্ষের সম্রাটদের কাছে 'বিক্রমাদিত্য' অত্যন্ত গর্ব, বীরত্ব, আভিজাত্য ও জনপ্রিয় উপাধি । শৌর্য- বীর্যের এ উপাধির ধারক ছিলেন প্রাচীন গুপ্ত, চালুক্য, চোল, একাধিক হিন্দু সাম্রাজ্যের সম্রাটগণ ও কাশ্মীরি রাজারা । মধ্যযুগ এবং তারও পরবর্তীকালীন সময়ে অনেক শাসকগণ এ উপাধি বা পদবি গ্রহণ করেছিলেন । চন্দ্রগুপ্ত বিক্রমাদিত্য 'বিক্রম' ও 'মহাকালদেব' নামে ভারতের প্রাচীন রাজাদের মধ্যে একজন আদর্শবান, সৎ, ন্যায়পরায়ণ, বুদ্ধিমান এবং সাহসী শাসক হিসেবে পরিচিত ছিলেন । মহারাজ শ্রীগুপ্তের পৌত্র, মৌর্য সাম্রাজ্যের তৃতীয়, ভারতবর্ষের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্রাট অশোক (৩০৪ খ্রিস্টপূর্ব- ২৩২ খ্রিস্টপূর্ব) দাক্ষিণাত্যের কিছু অংশ বাদ দিয়ে ভারতবর্ষের অধিকাংশ অঞ্চল শাসন করেন । সম্রাট অশোকের জন্ম হয় খ্রিষ্টপূর্ব ৩০৪ সালে । ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাম্রাজ্য ছিল অশোকের । গৌতম বুদ্ধের অনুসারি হিসেবে তিনি তার সাম্রাজ্য জুড়ে বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার করেছিলেন, যার মধ্যে তার সাম্রাজ্যের পূর্বে অবস্থিত এ বিক্রমপুরও ছিল । পরবর্তীকালে পাল, সেন, বর্মণ, চন্দ্র, দেব, বারোভুঁইয়া এবং মুঘল'রা বিক্রমপুরে এসে এ অঞ্চল শাসন করেন । 
প্রাচীন বঙ্গদেশের প্রথম সার্বভৌম বাঙালি নৃপতি (রাজত্বকাল: ৫৯০ থেকে ৬২৫ খ্রিষ্টাব্দ) ও শৈব ধর্মের উপাসক শ্রী মহাসামন্ত শশাঙ্ক (Shashanka) এর রাজ্য পতনের পর বাংলা অঞ্চলে নৈরাজ্য দেখা দিলে পাল রাজা গোপাল ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে গৌড়ের সম্রাট পদে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পাল শাসনের ভিত্তি স্থাপন করেন (রাজত্বকাল: ৭৫০ থেকে ৭৮১ কিংবা ৭৯৫ খ্রিস্টাব্দ) এবং পাল সাম্রাজ্য (Pala Empire) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নিজের আধিপত্য বিস্তার করেন । পাল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা রাজা গোপালের পিতৃভূমি (জনকভূ) বরেন্দ্র (উত্তরবঙ্গ) অঞ্চলে । (প্রাচীন) প্রাকৃত ভাষায় 'পাল' শব্দের অর্থ ‘রক্ষাকর্তা’ । পাল সাম্রাজ্যের প্রধান কেন্দ্র ছিল বাংলা ও বিহার ভূখণ্ড এবং প্রধান শহরগুলো ছিল পাটলীপুত্র, বিক্রমপুর, রামাবতী (বরেন্দ্র), মুঙ্গের, তাম্রলিপ্ত এবং জগদ্দল । পাল সম্রাটরা প্রাজ্ঞ কূটনৈতিক, যুদ্ধজয়ী এবং বৌদ্ধধর্মের মহাযান ও তান্ত্রিক সম্প্রদায়ের অনুগামী ছিলেন । তারা সাহিত্য, চিত্রকলা, ধ্রুপদি ভারতীয় দর্শন এবং ভাস্কর্যশিল্পের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন । তাদের শাসনামলে প্রোটো- বাংলা ভাষা, গাণিতিক, জ্যোতির্বিজ্ঞান, শিল্পকলা ও স্থাপত্য শিল্পের বিকাশ এবং বাংলা অঞ্চলে প্রথম ইসলাম ধর্মের আবির্ভাব ঘটে । বাংলা ভাষার ভিত রচনা ও বাংলায় প্রথম সাহিত্যকীর্তি 'চর্যাপদ' পাল শাসনামলেই রচিত হয়েছিল । রাজ্য প্রতিষ্ঠা, প্রভাব- প্রতিপত্তি, পাল বংশের গৌরব ধরে রাখা ইত্যাদির মাধ্যমে প্রায় চার শত বৎসর ছিল পাল রাজ বংশের রাজত্বকাল । পৃথিবীর ইতিহাসে খুব কম রাজবংশই এতটা সময় ধরে একচ্ছত্রাধিপত্যের মাধ্যমে রাজত্ব ধরে রাখতে পেরেছিল । রাজা গোপাল রাজ্য প্রতিষ্ঠার সূচনা করলেও পাল সাম্রাজ্যকে আরও সুসংহত করতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন তার পুত্র ধর্মপাল । তবে, পঞ্চদশ পাল সম্রাট রামপাল ছিলেন অতি শক্তিশালী পাল সম্রাট । ১১৬১ খ্রিস্টাব্দে সর্বশেষ পাল রাজা মদনপালের রাজত্বকালের সময়ে দীর্ঘকাল যাবৎ পালদের তিলে তিলে গড়ে তোলা সাম্রাজ্যর চূড়ান্ত পতন ঘটে । সে সঙ্গে ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বশেষ প্রধান বৌদ্ধ সাম্রাজ্যের অবসান হয় । বাংলার ইতিহাসে পাল যুগকে অন্যতম 'সুবর্ণযুগ' মনে করা হয় । বাংলার ইতিহাসে সৃষ্ট রাজনৈতিক পালা বদলে শক্তিশালী রাজবংশ হিসেবে পাল রাজবংশের পরই উল্লেখ করা যায় সেন রাজবংশের কথা । প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে একাদশ শতাব্দীর অন্তিম লগ্নে পাল সাম্রাজ্যের পতন ঘটিয়ে হিন্দু সেন রাজবংশের (Sena dynasty) উত্থান এবং সেন রাজবংশ পরাক্রমশালীভাবে বাংলা শাসন করতে শুরু করে । বাংলায় সেন রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা সামন্ত সেন এবং তার আদি নিবাস বর্ধমান অঞ্চলে । বসতি স্থাপন করেন রাঢ় অঞ্চলে গঙ্গা নদীর তীরে । সেন বংশের রাজারা সমগ্র বাংলার উপর তাদের নিরঙ্কুশ শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিলেন । ভারতবর্ষে বাংলার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসে সেন বংশীয় রাজাদের মধ্যে বিজয় সেন, বল্লাল সেন এবং লক্ষ্মণ সেন বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছেন । সেন রাজারা প্রায় একশ বছরেরও অধিক সময়কাল ধরে (রাজত্বকাল: ১০৯৭- ১২২৫ খ্রিঃ) বাংলা অঞ্চলকে শাসন করেন । সেনদের আদিনিবাস ছিল দাক্ষিণাত্যের কর্ণাট অঞ্চলে (বর্তমান ভারতের মহীশূর, কর্ণাটক এবং অন্ধ্র প্রদেশের কানাড়ী ভাষাভাষি অঞ্চল) । চন্দ্রবংশীয় বীরসেন এবং অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ কর্ণাট অঞ্চলে শাসন করতেন । চন্দ্র বংশোদ্ভূত সামন্ত সেনের বংশধরগণই বাংলা শাসন করেন । সেন বংশের লোকেরা কর্ণাট থেকে বাংলায় আসেন এবং পাল বংশীয় রাজাদের অধীনে উচ্চ রাজকার্যে নিয়োজিত হন । কিন্তু ইতিহাসের নির্মম পরিহাস! পাল বংশ দুর্বল হয়ে পড়লে সেন'রা বাংলার শাসন ক্ষমতা করায়ত্ত করেন । দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে বিজয়সেন (রাজত্বকাল: ১০৯৫- ১১৫৮ খ্রিস্টাব্দ) পাল ও বর্মনদের পরাভূত করে সমগ্র বাংলায় নিজ বংশের শাসন প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হন । সেন রাজারা ছিলেন গোঁড়া হিন্দু এবং চন্দ্রবংশীয় ‘ব্রহ্মক্ষত্রিয়’ । তারা ব্রাহ্মণ্য আচার, রাজ্যশাসন, শাস্ত্র বিদ্যা ও অস্ত্রবিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন । বিক্রমপুরের রামপাল নগরে ১০৬০ খ্রিস্টাব্দে বিজয় সেনের ঘরে জন্ম নেয় বল্লাল সেন । বিজয়সেন গৌড়াধিপতি চন্দ্রসেনের কন্যাকে বিয়ে করেছিলেন । শৈব বরে বল্লাল সেনের জন্ম হওয়ায় বিজয়সেন পুত্রের নাম রাখেন 'বরলাল', পরবর্তীতে 'বল্লাল' শব্দটি তারই অপভ্রংশ হয়ে দাঁড়ায় । বিজয় সেনের পুত্র এবং উত্তরসূরি বল্লাল সেন চৌদ্দ বছর বয়সেই অস্ত্রবিদ্যায় ও শাস্ত্রবিদ্যায় পারদর্শী হয়ে উঠেন । তিনি দক্ষিণ ভারতের পশ্চিম চালুক্য সাম্রাজ্যের চালুক্যরাজ ২য় জগদেবমল্লের কন্যা রামদেবীকে বিয়ে করেন । বল্লাল সেন ছিলেন বঙ্গের সেন রাজবংশের দ্বিতীয় রাজা । ১১৬০ থেকে ১১৭৯ খ্রিঃ পর্যন্ত তিনি সেন বংশের রাজত্ব করেন । রামপালে (ঢাকায় বিক্রমপুর) তিনি তার নতুন রাজধানী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন । রামপালে একটি দীঘি আছে, যা বল্লাল সেনের নির্দেশে খনন করা হয় । বর্তমানে দীঘিটির অস্তিত্ব বিলীনপ্রায়, গ্রীস্মকালে পানি শুকিয়ে দীঘির কিছু অংশ ছাড়া প্রায় সবটাই ফসলের চাষ হয়ে থাকে । তবে বর্ষার পানিতে সে দীঘি কিছুটা প্রাণ ফিরে পায় । ঢাকায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্দির ঢাকেশ্বরী মন্দির তার আদেশে নির্মাণ করা হয় । বিক্রমপুর কৃষ্ণনগরের মায়াপুরে বল্লাল ঢিবি নামে একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের অস্তিত্ব ছিল ব্রিটিশ শাসনামলেও । পিতার মতো তিনিও শিবের উপাসক ছিলেন । শাসক হিসেবে অন্যান্য রাজকীয় উপাধির সঙ্গে তিনি 'অরিরাজ নিঃশঙ্ক শঙ্কর' ও 'গৌড়েশ্বর' উপাধি গ্রহণ করেছিলেন । সেন রাজাদের শাসন শেষ হলে বাংলায় তুর্কি শাসন শুরু হয় । একপর্যায় বর্মণদের রাজত্বকাল । বর্মণ বংশ দক্ষিণ- পূর্ব বাংলা শাসনকারী রাজবংশ । কামরূপ রাজ্যের প্রথম রাজা পুষ্যবর্মণ ঐতিহাসিক বর্মণ রাজবংশের (Varman dynasty) প্রতিষ্ঠাতা (৩৫০- ৩৭৪ খ্রিস্টাব্দ) । এ রাজবংশের শাসকরা গুপ্ত সাম্রাজ্যের সামন্ত ছিলেন । বর্মণ রাজারা ছিলেন বৈষ্ণব, কিন্তু তারা বৌদ্ধধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করেন । ০৭ শতকের মধ্যভাগে শালস্তম্ভ নামক এক আদিবাসী নেতা বর্মণ রাজবংশের রাজা অবন্তীবর্মণকে (৬৫০- ৬৫৫ খ্রিস্টাব্দ) সিংহাসনচ্যুত করে ম্লেচ্ছদের অধিকার (মুসলমানদের ম্লেচ্ছ বলা হতো, যে মুসলমানদের অস্পৃশ্য- অভিশপ্ত- পাপী বলতো হিন্দুরা) প্রতিষ্ঠিত হয় । কিছুকাল অতিবাহিত হওয়ার পর পুনরায় বাংলার শাসন ক্ষমতায় রদ-বদল । পাল রাজশক্তি দুর্বল হয়ে পড়লে একাদশ শতাব্দীর শেষ এবং দ্বাদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে বর্মণরাজগণ বাংলার শাসনভার গ্রহণ করেন । বর্মদের রাজধানী ছিল বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুর । বর্ম্ম রাজন্যে এবং তাম্র শাসনে (একমাত্র প্রাথমিক সূত্র হিসেবে তামার পাতে প্রাচীনতম লিখিত দলিল বা তাম্রপত্র) বিক্রমপুর রাজধানীর কথা উল্লেখ আছে । শ্রীচন্দ্রের তাম্র শাসন থেকে রাজধানী হিসেবে যে বিক্রমপুর পাওয়া যায় সে বিক্রমপুর নামটি আজও পর্যন্ত চলমান রয়েছে । দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার সবচেয়ে শক্তিশালী স্বাধীন রাজবংশ ছিল চন্দ্র বংশ (Lunar dynasty) । চন্দ্রবংশের প্রথম নৃপতি পূর্ণচন্দ্র ও তার পুত্র সুবর্ণচন্দ্র রোহিতগিরির ভূ- স্বামী ছিলেন । সুবর্ণচন্দ্রের পুত্র ত্রৈলোক্যচন্দ্র হরিকেল, চন্দ্রদ্বীপ (বরিশাল ও পার্শ্ববর্তী এলাকা), বঙ্গ এবং সমতট (সমগ্র পূর্ব ও দক্ষিণ- পূর্ব বাংলায়) নিজ বংশের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন (৯০০- ৯৩০ খ্রিঃ) । লালমাই পাহাড় ছিল চন্দ্র বংশীয় রাজাদের মূল কেন্দ্র এবং প্রাচীনকালে এ পাহাড় 'রোহিতগিরি' নামে পরিচিত ছিল । ত্রৈলোক্যচন্দ্রের পুত্র শ্রীচন্দ্র চন্দ্র রাজবংশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজা ও সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক (চন্দ্র শাসনের দ্বিতীয় শাসক, ৯৩০- ৯৭৫ খ্রিস্টাব্দ) ছিলেন এবং ‘পরমেশ্বর পরম ভট্টারক মহারাজাধিরাজ’ উপাধি ধারণ করেছিলেন । তার রাজ্য দক্ষিণ- পূর্ব বাংলা ছাড়াও উত্তর- পূর্ব কামরূপ ও উত্তরে গৌড় পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল । বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরে তিনি তার রাজধানী প্রতিষ্ঠা করেন । শ্রীচন্দ্রের পুত্র কল্যাণচন্দ্র (৯৭৫- ১০০০ খ্রিঃ) এবং পৌত্র লডহ চন্দ্র (১০০০- ১০২০ খ্রিঃ) চন্দ্র বংশের মান- মর্যাদা, গৌরব বংশানুক্রমে অক্ষুণ্ণ রাখেন । লডহ চন্দ্রের পুত্র গোবিন্দচন্দ্র ছিলেন সর্বশেষ চন্দ্র রাজা । দশম শতাব্দীর শুরু থেকে একাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত প্রায় দেড়শত বৎসর এ বংশের রাজারা শাসন করেন । খড়গ বংশের শাসনের পর এ অঞ্চলে দেব বংশের (Deva dynasty ) উত্থান ঘটে । খ্রিস্টীয় ৮ম- ৯ম শতাব্দীতে সমতট অঞ্চলে রাজত্বকারী হিন্দু 'দেব রাজবংশ' এর রাজধানী ছিল দেবপর্বত এবং মধ্যযুগে (খ্রিস্টীয় ১২শ- ১৩শ শতাব্দীতে) বঙ্গে হিন্দু 'দেব রাজবংশ' (হিন্দু- বৈষ্ণব দেব রাজবংশ) এর রাজধানী ছিল বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জ জেলার বিক্রমপুর । সেন, বর্মণ, চন্দ্র রাজাদের (খ্রিস্টীয় ১০০০- ১৩০০ প্রথম পর্যন্ত) এবং বারোভুঁইয়াদের অন্যতম কেদার রায় ও তার ভাই চাঁদ রায়ের রাজধানী ছিল তৎকালীন ঢাকার শ্রীপুর বা বিক্রমপুর । মুঘল বা মোগল আমলে বিক্রমপুর সোনার গাঁয়ের অন্তর্গত একটি পরগনা ছিল (ব্রিটিশ East India Company এর পঞ্চম রিপোর্টে বিক্রমপুর পরগনার বিষয় উল্লেখ আছে) । মুঘল সাম্রাজ্যের তৃতীয় সম্রাট, ভারতবর্ষের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক, জালালুদ্দিন মুহাম্মদ আকবর (মহামতি আকবর) এর সময়ে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে বারো জন শাসনকারী জমিদার বা ভূস্বামী ও শাসক ছিলেন তাদেরকে 'বারো ভূঁইয়া' বলে (কিংবা অনুমিত হয় যে, অতি প্রাচীনকালে বাংলায় বারো জন শক্তিশালী সামন্তরাজা হয়তো ছিলেন যে কারণে ‘বারোভুঁইয়া’ শব্দটি জনশ্রুতিতে পরিণত হয়) । ১৫৭৫ খ্রিস্টাব্দে মোগল সম্রাট আকবর বাংলা দখল করার পর এ সকল জমিদার ঐক্যবদ্ধ হয়ে মোগল সৈন্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন । এদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ভূঁইয়া কেদার রায় শক্তিশালী বীর ও চরিত্রবান । তিনি ছিলেন বিক্রমপুরের জমিদার । শাসন ও বীরত্বে তার খ্যাতি ছিল । কেদার রায় ও তার ভাই চাঁদ রায় এর রাজধানী ছিল তৎকালীন ঢাকার শ্রীপুর বা বিক্রমপুর । বর্তমানে দক্ষিণ বিক্রমপুর তথা শরীয়তপুর জেলা (যা ছিল কালীগঙ্গা নদীর তীরবর্তী অঞ্চল যেটি মুন্সিগঞ্জ টঙ্গিবাড়ী উপজেলার দীঘিরপাড় ইউনিয়নের দক্ষিণে নদীতে বিলীন) । পদ্মার দুইপারের বিস্তীর্ণ জনপদ এ ভ্রাতৃদ্বয় শাসন করতেন । বিক্রমপুর, ইদ্রাকপুর, ইদিলপুর, কেদারপুর, চাঁদপুরের বৃহৎ অংশ জুড়ে ছিল তাদের রাজত্ব । কালের পরিক্রমায় বিক্রমপুরের অনেক পরিবর্তন ঘটে । ঢাকায় মুঘল শাসন দৃঢ় হলে মুন্সীগঞ্জে ফৌজদারী আদালত সৃষ্টি হয় । মুঘলদের সময়ে এ স্থানে মুন্সী হায়াদার হোসেন নামে একজন ফৌজদার থাকতেন, তারই নামানুসারে মুন্সীগঞ্জ নামকরণ হয় । বৌদ্ধ, হিন্দু, পাঠান আর মুঘল শাসনামলের সমাপ্তি টেনে বিক্রমপুর অবশেষে ব্রিটিশ দুঃশাসনের কবলে চলে যায় । ১৮৪৫ খ্রিষ্টাব্দে বিক্রমপুর 'মুন্সীগঞ্জ মহকুমায়' স্থাপিত হয় । তখন জন ফ্রেঞ্চ (John French) নামের একজন ইংরেজ ব্যক্তি মহকুমার সর্বপ্রথম বিচারক নিযুক্ত হন । হিন্দু ও মুসলমান দুই সম্প্রদায়ের ধর্মীয় দর্শন, সামাজিক আচার আচরণ, মূল্যবোধ, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সভ্যতার মতাদর্শ ও ধ্যানধারণার ভিন্নতার কারণে ভারতীয় মুসলমান এবং হিন্দু দুটি স্বতন্ত্র জাতীয়তার উপর নির্ভর করে (দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে বা ধর্মীয় ভিত্তিতে) ভারতীয় উপমহাদেশ তথাপি ব্রিটিশ ভারতীয় সাম্রাজ্যকে দুটি স্বাধীন অধিরাজ্য ভারত ও পাকিস্তানে (ভারত বিভাজন বা দেশভাগ) বিভক্ত করা হয় ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে প্রায় দুইশত বছরের ইতি টেনে । এর ফলে ভারতে ব্রিটিশ রাজ বা Crown শাসনের অবসান ঘটে । দু'টি স্ব-শাসিত দেশ পাকিস্তান এবং ভারত আইনত ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৪ই ও ১৫ই আগস্ট অস্তিত্ব লাভ করে । ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানাধীন 'মুন্সীগঞ্জ' মহকুমা থেকে জেলায় উন্নীত হয় এবং মুন্সীগঞ্জের প্রথম মহকুমা প্রশাসক ছিলেন গঙ্গাচরণ চট্টোপাধ্যায় । পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার ২৪ বছরের মধ্যে পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকগণ বাংলা ভাষার অধিকার হরণ, আঞ্চলিক বৈষম্য ও শোষণের কারণে পূর্ব বাংলার জনগণ মহান স্বাধীনতার জন্যে বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র লড়াই করে দুই লক্ষ ষাট হাজার মা- বোনের সম্ভ্রমহানি আর ত্রিশ লক্ষ শহীদের মহা আত্মত্যাগের বিনিময়ে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ সৃষ্টি করেন । বর্তমানে মুন্সীগঞ্জের ছয়টি উপজেলা । ঢাকা জেলার অধিকাংশ, ফরিদপুর জেলার কিছু অংশ বিক্রমপুরের অংশ ছিল । পূর্বে বিক্রমপুরের আয়তন ছিল প্রায় ৯০০ বর্গমাইল । ঐতিহাসিক বিক্রমপুরের পশ্চিমে পদ্মানদী, উত্তর ও পূর্বে ধলেশ্বরী নদী, দক্ষিণে আড়িয়াল খাঁ ও মেঘনা নদীর সংযোগস্থল এবং এর মধ্যখানে প্রবাহিত কালিগঙ্গা নদী বিক্রমপুরকে উত্তর- দক্ষিণে দু'ভাগ করেছে । মুন্সীগঞ্জ তথাপি বিক্রমপুর এক অতি প্রাচীনতম জনপদ । নবদ্বীপ, গৌড়, সোনার গাঁ, সপ্তগ্রাম, ঢাকা প্রভৃতি স্থানসমূহ পরিচিত ও খ্যাতি লাভ করার অনেক আগে থেকেই বিক্রমপুর শিক্ষা, সাহিত্য, বিজ্ঞান, ধর্ম, শিল্প, বাণিজ্য, সংস্কৃতি, সভ্যতা, ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এক ঐতিহাসিক প্রত্নতত্ত্ব নগরী । এক সুদীর্ঘ ইতিহাসের কারণে এর রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি ও সুনাম । মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান প্রভৃতি স্থানসমূহ বিক্রমপুরের অনেক পরে খ্যাতি অর্জন করে । প্রাচীনকাল থেকেই কালের পরিক্রমায় বিভিন্ন শাসকগণ শাসন করেছেন এ জনপদ বা অঞ্চলকে । যার পিছনে রয়েছে হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ আর হৃদয় বিদারক এক মর্মান্তিক রক্তপাতের ইতিহাস! নানা ধর্মের মানুষের বসতি এবং অনেক কীর্তিমান ও সু-মহান গুণীজনের নাড়ির শিকড় এ মুন্সীগঞ্জে । বৌদ্ধ বাঙালি পন্ডিত ও বৌদ্ধধর্মপ্রচারক মহাতান্ত্রিক জ্ঞানতাপস শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্কর, উদ্ভিদের প্রাণ আছে ও রেডিওর আবিষ্কারক জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু, প্রগতিশীল লেখক ও শিল্পীদের সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী'র প্রতিষ্ঠাতা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কিংবদন্তি বিপ্লবী-সাহিত্যিক ও শ্রমিক সংগঠক সত্যেন সেন, বাঙালি আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন ব্যক্তিত্ব ও অগ্নিযুগের শহীদ বিপ্লবী সন্তোষচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়, প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি ঔপন্যাসিক সমরেশ বসু, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সক্রিয় যোদ্ধা-বিশিষ্ট বাগ্মী-Indo Anglian যশস্বী কবি-The Nightingale of India সরোজিনী নাইড়ু, ইংলিশ চ্যানেল সাঁতরিয়ে অতিক্রমের গৌরবের অধিকারী দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম সাঁতারু ব্রজেন দাস, ব্রিটিশ বিরোধী বাঙালি বিপ্লবী বিনয় কৃষ্ণ বসু, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধান্ত শংকর রায়, ভারতীয় বাঙালি ঔপন্যাসিক-ছোটোগল্পকার ও প্রাবন্ধিক প্রতিভা বসু, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার গণকপাড়া গ্রামের শীলভদ্র সহ আরও অনেক স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব এ মাটিতে জন্ম নিয়েছেন । যারা শিক্ষা- জ্ঞান- গুণ- মেধা- শ্রমে সমস্ত পৃথিবীর মানুষের কল্যাণকর কাজের মধ্য দিয়ে মানব সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়েছেন । মুন্সীগঞ্জের অনেক প্রাচীন অমূল্য সম্পদ ও অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহাসিক নিদর্শনসমূহ বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘর এবং বরেন্দ্র জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে । যা আমাদের জাতীয় সম্পদ, বাংলাদেশ তথাপি সারাবিশ্বের মানুষ এ নিয়ে গর্ব করতে পারে । এছাড়া, টঙ্গিবাড়ী উপজেলার চুরাইন থেকে প্রাপ্ত একটি রূপা'র বিষ্ণুমূর্তি বর্তমানে ভারতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে । প্রাচীন ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ শাসকগণ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি শাসনকার্য, রাজ্যবিস্তার, শিল্প-সাহিত্য ও হিন্দু ধর্মসহ বিভিন্ন ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছিলেন । মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে তৎকালীন শাসকদের স্মৃতিচিহ্ন এবং অনেক ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থাপনা বা নিদর্শন আজও বহন করে চলছে সে মহাকালের ইতিহাসকে । যদিও ক্রমাগত নদী ভাঙ্গনের ফলে প্রাচীন বিক্রমপুর শহর এবং এর প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ প্রায় পুরোটাই কালের আবর্তে বিলীন হয়ে গেছে! এ অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংস সাধন করার পাশাপাশি অমূল্য এবং মহৎ পুরাকীর্তিগুলিকে গ্রাস করে কীর্তিনাশা পদ্মা নদী । ঐতিহাসিক প্রাচীন নিদর্শনসমূহ, লোককাহিনী এবং প্রাচীন বিক্রমপুরের অতীতের গৌরবের কথা আজও আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় । বর্তমান মুন্সীগঞ্জের সদর উপজেলাধীন রামপালের বল্লাল বাড়িতে তৎকালীন সেন রাজবংশের রাজপ্রাসাদ অনুসন্ধান করার জন্য বাংলাদেশ ও চীনের প্রত্নতাত্ত্বিকদের যৌথ উদ্যোগে গত সোমবার ২১/০১/২০১৯ খ্রিস্টাব্দে খনন কাজ শুরু হয় । তবে কালের বিবর্তনে এটি ইতিহাসে অংশ নিলেও রাজা বল্লাল সেনের প্রাসাদ বা দুর্গ হাড়িয়ে গিয়েছিল বহুকাল আগেই । এখন এ প্রত্ন খননে সেখান থেকে বেরিয়ে আসছে হাজার বছরের পুরনো ঐতিহাসিক রাজা বল্লাল সেনের দুর্গের প্রাচীর বা দেওয়ালসহ প্রাচীন ইট, ইটের টুকরো, মৃৎ পাথরের টুকরো ও কাঠকয়লা ইত্যাদি । ধারণা করা হচ্ছে, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রামপালের বল্লাল বাড়িখ্যাত এ এলাকাটিই ছিল সেন বংশের রাজা বল্লাল সেনের রাজপ্রাসাদ । রামপালের বল্লাল বাড়ি এলাকার স্থানীয় নুরুল ইসলাম শেখের কাঠবাগানে চলছে এ খনন কাজ । 
সত্যিই মহাবিস্ময়কর ঘটনা! এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে, অনেক অজানা রহস্য উন্মোচিত হবে । আরেক নতুন ইতিহাসের সম্মুখীন হবো আমরা । প্রাগৈতিহাসিক অনেক অজানা প্রশ্ন হাতছানি দিবে আমাদের । অনুপ্রাণিত হবে পরবর্তী প্রজন্ম । উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ঐতিহ্য অন্বেষণের নির্বাহী পরিচালক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান ও চীনের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. চাই হুয়ান বো এর নেতৃত্বে এবং অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষামূলকভাবে বড় একটি অনুসন্ধানী দল এ খনন কাজে অংশ নিয়েছেন । 
সত্যিই আমি আশ্চর্য, আনন্দিত এবং কালের প্রত্যক্ষ সাক্ষী পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের একজন অধিবাসী হিসেবে । তবে উদ্বিগ্ন যে, এ অমূল্য সম্পদের পরিবেশগত দিক, তত্ত্বাবধান ও যথোপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারবে কি না? এ কর্মসূচীকে সফল করতে সরকারের পাশাপাশি সকলের সর্বাত্মক সাহায্য- সহযোগীতা একান্ত প্রয়োজন । এর যাবতীয় তথ্য, উৎস, উপাত্ত, নথিপত্র এবং পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস বিজ্ঞানসম্মত সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যাতে বিলুপ্ত বা ধ্বংসপ্রাপ্ত না হয় । আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য এগুলি অবশ্যই রক্ষা করতে হবে । এর গবেষণা, জরিপ, অনুসন্ধান, পরিবেশগত তথ্যের মনোস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, প্রত্নস্থান চিহ্নিতকরণ, উৎখনন, সংগ্রহ, নথিভুক্তকরণ, বিজ্ঞানভিত্তিক পর্যালোচনা করে তা জনসাধারণ্যে উপস্থাপন ও বিকাশ করতে হবে । আমি এ কর্মসূচীর সাফল্য কামনা করছি ।

Wednesday, 20 May 2020

And you

About 13.8 billion years ago.
A powerful explosion of an ancient atom.
The origin of the universe.
The advent of life on this earth through change and evolution over a long period of time.
Transformation from inanimate matter to living organism.
The result of the spontaneous union of a few atoms is the birth of mankind.
In the continuity of the evolution of human civilization over time, derived and evolved from the ‘common ancestor’, I was born at a distinct pace and rule.
I realize own entity.
Imagine a lot…
And you.
Those words that are accumulate in the depths of the mind I heard in my ears on the new moon night.
I feel your thoughts.
I see colorful and golden dreams with two eyes.
Your heart beats vibrate me.
I see your lively smiley face in the Niagara falls.
I search desperately the jewel of the nose flower at the bottom of the Pacific Ocean.
The petals of the eyes are beautifully artistic design in the colors of the rainbow.
I see unruly hair flying in the gusty wind of the Cox’s Bazar sea beach.
Magma's crimson glow in the lips couple.
The luster of silver hilsa fish of the Bay of Bengal at the combed texture of tar black long hair.
The expression of the primitive ethnic groups of the Amazon forest is hidden in the gaze.
Olivine and Zircon’s sapphire in the anklet of two feet.
A glimmer of dazzling light on white teeth in the flashing of a violent thunderbolt.
Lovely Neelakurinji, Edelweiss Fluffy Alpine, Desert rose and Jade flower wearing in coiffure.
Find obscure footprint in the Grand Canyon Ravine, in the Pripet Marshes Forest, in the Namib Desert, on the shore of Lake Diamante or Lake Baikal, in the Oymyakon Countryside, in the Denisova Cave and in the long Savannah Grassland.
The tip of the forehead is a crimson sunset.
The dewdrop of the Himalaya and Alps peak fall unsteady at the tip of the nose.
Opal stone brought with dug out of the soil of the rainbow hill in the ring finger of the left hand.
The striped black fur of the Sundarbans tigress’s body has settled permanently on two eyebrows.
The toll fall on shy cheek in the meteorite of Chelyabinsk.
The immaculately beautiful Blue Topaz and Diamond Drop Earrings in white gold on both ears.
A nectar flavor in a soup of reindeer and seaweed in the Inuit’s ice-making restaurant at below freezing temperatures.
Your greatness is in the scattering of a wonderful blue light between the clouds and in the fog’s gap floating on the highest peak of the smoky and snowy Great Smoky Mountains.
The oldest bright pink color in the world is reflected from smooth nails.
The early and late time's civilization developed in consciousness and mind.
I get the sweet smell of saffron, sandalwood, cedar fruit, aloe vera, olive, musk, lily of the valley and autumn rose in your breath.
Morning sunrise in a shy smile.
Lamp-black melts in the corners of the eyes like an iceberg floating in a cold ocean current.
The nor'-wester (Kalbaisakhi) ramble in the blue sky in depression.
The independent-mysterious mind is surrounded by like mysteries as the Bermuda Triangle.
Strange behavior is like a theater of underground geologic process.
A terrible Tsunami of the Atlantic Ocean erupted in anger.
Vivacity in the wend of the butterfly.
A tough attitude is as hard as a precious Kohinoor diamond.
The rebellion took the form of the terrible crater of Mount Nyiragongo, Mauna Loa and Fagradalsofjal volcanoes.
The white cotton clouds mixed with bluey is inspired in ideal.
You are not any empress, any queen or a British royal bride Kate Middleton in blue saree, yet you are a proud Bengali woman.
I find the bracelet and necklace in the sinking continent of the earth Zeelandia.
Arrogance causes an explosion of radioactive Californium and Anti-particle.
Seldom my freedom is mortgaged to your will.
I have to stay under the rule because of a little failure and stupidity.
Your contempt, narrowness, audacity and undesired suspicion create the great wall of China.
Separation is a wildfire.
The tide-ebb comes in the attraction of the moon, there is the real beauty of your personality.
Is your love less than Shirin, Laila and Juliet?
One day in the sandstorm of the vast Sahara desert two disoriented!
Momentary relief.
I feel the primitive frenzy with the elegant-gentle touch.
The sense of guilt of my helplessness in expectation, justification and imperfection.
I think in confused mind, the tragic consequences of natural disasters!
Our legitimate and fertile successor will be able to adapt in the future?
I get your dependence, assure me that; we will build a peaceful green earth for the next generation.
The call of love, peace, unity, progress, equality, security and humanity in the touch of a loving hand.
Faithfulness calm and purifies the soul.
My wish-
Take your hand and walk along the shores of the Caspian Lake and the Panama Canal in the starry night sky,
On the bank of Na Pali,
In the natural mirror Salar de Uyuni,
Rows upon rows- in the cool shade under the high colored rainbow Eucalyptus tree,
In top of the ancient volcanic Diamond Head,

In the Pléneau Island reckless snowstorm,
On the shores of Dusty Rose of a natural lake of colorful pink water created by glaciers at the top of high mountain,
In Bouvet Island and Tristan da Cunha of inaccessible, uninhabited and remote island in the South Atlantic Ocean,
In the midst of the unknown, unseen, rugged, solitary, inaccessible and diverse nature in search of a unique and beautiful pure white 'Snow Petrel' bird of the icy white continent of Antarctica,
Standing on Andes mountains and Mount Roraima full of natural beauty to see the touch of clouds,
Else, hold your hand see a rare species of mammal white whale Son of Migaloo’s blustery wend on Cook Strait and the golden coast of Queensland.
Sometimes active volcanic eruptions under the vast ocean frozen bottom, the Mid-Pacific Ridge located on the oldest part of the Pacific Plate, the strong Agulhas Current in the western boundary of the southwestern Indian Ocean, the deepest point Challenger Deep at the southern edge of the semi-lunar Mariana Trench formed by the process of tectonic subduction in the western Pacific Ocean, Northward warm oceanic Kuroshio Current in the North Pacific Basin and enjoy with enchanted eyes the unparalleled natural beauty of the Mid-Ocean Ridges created by tectonic plate.
Otherwise, not for the creation of cosmic colony- In the urge to protect themselves existence Cloud computing services, Nanotechnology, Artificial intelligence technology, Albedo feature, Teleportation technology, Kirkwood gap, Quantum mechanics, String theory, Exotic matter, Imaginary universe structure or connecting two distant points in space, White hole and through ideas about the Multiverse to intent the revolutionary change for a vibrant globalization.
My wish-
Look back at the Ancient Indian, Mesopotamian (Akkadian, Sumerian, Babylonian, Assyrian, Chaldean), Mehrgarh, Aegean, Egyptian, Caral–Supe (Norte Chico), Indus, Hebrew, Greek, Persian, Roman, Chinese, Olmec, Hellenistic, Maya, Aztec and look back at the beginning-development-expansion-ruins of the Inca civilization. Although, see there: Ethnic-groups, language, way of life, family, happiness, sorrow, laughter, wail, society, civilization, education, culture, literature, arts, science, law, philosophy, architecture, art, commerce, reform, superstition, creation, welfare, politics, power, sex, rivalry, revenge, rebellion, conspiracy, strength, aggression, adultery, war, genocide, civil war, bloodshed, destruction, famine, political up-down, friendship, dissent, love, extramarital affair, separation, mythology, religion belief, heresy, disease, humanity, climate change and natural disaster.
My wish-
I represent humanity by building a permanent bridge between primitive man, prehistoric era, ancient era, medieval or post-classical era, modern era and and contemporary eras.
It is in this world—
My wish-
I go to the heart of the fiery sun, in the Mercury's most hottest place semi-solar point and the Caloris Montes linear mountain range, during the transit of Venus- in the Venusian volcano and the Maxwell Montes mountain range, in the largest volcano Olympus Mons on red Mars- on the Planum Australe ice cap of the south polar flatland- in Valles Marinaris canyon and in the Cirrus Cloud made of ice crystal, in ocean of liquid Hydrogen of the largest gas giant Jupiter of the solar system and in the Great Red Spot wondrous cyclone, in the Cassini Division of the empty dark space inside giant Saturn's rolling diverse big ring and in the giant Hexagonal Storm of the north pole, in the Diamond Rain of ice giant Uranus and at the flowing strong wind of the coldest place of Dark Pole, in the cloud garland of the blue planet Neptune and in the great Dark Point, in the icy mountains of dwarf Pluto- in the largest bright surface of the heart-shaped Tombaugh Regio- in the elongated dark region of the Belton Regio along the equator and in the Sputnik Planitia basin submerged in abundantly bright glaciers of nitrogen ice, in each Satellite, in Asteroids, in the Meteorite, in the Comet, in the Kuiper Belt, in the Heliosphere, in the Heliopause, in the Hydrogen Wall, in the Interstellar Medium, in the Interstellar Space outside the solar system, in the Exoplanet, in the spherical Oort Cloud of water vapor, in the Constellation, in the Molecular Cloud, in the Supernova explosion, in the Nebula, in the Galaxy, in the Quasar, in the consuming Black Hole, in Floating Reservoir of space, in the Bootes Void, in the Laniakea Galaxy Supercluster, in the giant Galactic Structure, in the giant Quasar group, in the ring of giant Gamma Ray Bursts, in the massive cosmic web structure Hercules-Corona Borealis Great Wall and at the edge of the 93 billion light-years away observable Universe, Or in the eternal Multiverse.
An unknown mysterious silence world of unmanned, cold, heated, gassy and the dark infinite space.
Away, far away…
This long journey may welcomed by any unfamiliar newcomer or intelligent creature Alien who is a pioneer in civilization.
You and me—
Only two people.
Though, we are genetically different.
At opposite two edge, different entity.
Nevertheless, the two people have an eternal bond of love.
An invisible power.
Divine relationship.
I do not know, the terrible end of the universe!
This dying universe will one day disappear in a slow process and be lost in the abyss of emptiness.
Maybe, expansion of universe at accelerated speed due to dark energy or contraction of universe size due to gravitational attraction resulting in a brutal (a) The Big Crunch (b) The Big Freeze (c) The Big Rip.
The result:
The planets and stars will move away from each other and will be shattered, the formation of new galaxies and stars in the universe will stop, the galaxies will gradually move away from each other and changing from reddish to bluish, all the constellations in the universe will be extinguished when the light source stars run out of energy or burn out and plunge into darkness, black hole will dominate the universe and evaporate spontaneously, gravitational collapse will cause the current universe to move beyond the event horizon and visible spaces will no longer be visible, at infinite temperature the universe would contain a large fireball and generate tremendous thermal radiation through nuclear reactions in the superheated condensed phase causing proton particles will destabilize and hydrogen disappear only radiation will remain, the thermal death of the universe causing a great freezing that could have turned it into a dark-cold-lifeless state, at one time the entire universe including galaxy-galaxy cluster-planet-star-molecule-atom-subatomic particles even place-time will be crushed and will a fiery death.
That is, doomsday.
May be, from there a new big bang will be born, from which new universe will be reconstructed.
Where inflation will create innumerable universes like the universe from the expanded bubble and will remain in a state of non-contact away from each other.
If that is the case, then the structure of the universe will be periodic.
In the cycle of natural evolution that will continue uninterrupted.
A new cycle will be created continuously, which has no beginning and no end.
But will we be reborn in any one of these countless universes?
If so what, then be a partner with me hold tightly with both hands.
I know, at one time death will be inevitable!
Maybe, we will burn together in the hell fire.
Otherwise, with permission to the creator I will walk forever holding your hand in the eight gates of heaven. ©

https://web.facebook.com/ashrafulalam715/posts/3503907229722589?_rdc=1&_rdr 

Friday, 15 May 2020

Passionflower (ঝুমকোলতা ফুল)


🌿 ঝুমকোলতা
—————————————————————————-

প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্য ঝুমকোলতা/রাধিকা নাচন/পঞ্চ পাণ্ডব/কৃষ্ণ কমল ।
বৈজ্ঞানিক নাম: Passiflora Incarnata ।
সাধারণভাবে পরিচিত ইংরেজি নামগুলো হচ্ছে: Passionflower, Passionfruit, Granadilla, Christ’s crown, Maypop, Purple passionflower, True passionflower, Wild apricot, Wild water lemon, Wild passion vine, Apricot vine, Wild passionflower, Clock flower, Jamaican honeysuckle, Herba passiflorae (Brazil), Maracuva (Peru) ।
কানের ঝুমকা’র মতো বলেই এর নাম ঝুমকোলতা । ‘রাধিকা নাচোন’ নামেও এর পরিচিতি আছে । চিরসবুজ এ গাছ দ্রুত বর্ধনশীল দ্রাক্ষালতা প্রকৃতির বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ । এর পাতা ত্রি বা পঞ্চকোণাকৃতির এবং এ পাতা একটি তীব্র গন্ধ দেয় যে, কিছু মানুষের কাছে অপ্রীতিকর । পাতায় খাঁজ কাটা এবং অগ্রভাগ সুচালো । ফুল একক এবং সুগন্ধযুক্ত । দৃষ্টিনন্দন ফুলটির মঞ্জরিপত্র বা পুষ্পধরমঞ্জরী থেকে এক প্রকার আঠালো পদার্থ নিঃসৃত হয় (পাচক উৎসেচক আঠালো পদার্থকে সূক্ষ্ম করে তোলে) যা পোকামাকড়কে ফাঁদে ফেলতে সক্ষম । বিভিন্ন রঙের ফুল হয়, আমাদের দেশে ফুল ফোটে গ্রীষ্মের শেষভাগে, থাকে বর্ষাকালজুড়ে । এর প্রায় ৫৫০টি প্রজাতি রয়েছে ।
এটি Passifloraceae পরিবারের ।
শ্রেণী Plantae, মহাজাতি Passiflora ।
গ্রীষ্মপ্রধান এবং প্রায় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে এ উদ্ভিদ জন্মে । মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা (ভার্জিনিয়া থেকে ফ্লোরিডা, পশ্চিম মিসৌরি, টেক্সাস), মেক্সিকোতে এটি বন্য ফুল হিসেবে পাওয়া যায় । এছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া, ওশেনিয়া, স্পেন (Blue passion flower), ব্রাজিল, হাওয়াই’তে (Banana passion) জন্মে । বিভিন্ন প্রজাতির Passion flower অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশে সহজে চাষাবাদ করে নানা রকম ও আকর্ষণীয় নীল-বেগুনি পুষ্প এবং ফল পাওয়া যায় । গাছটি পূর্ণ সূর্যের মধ্যে বৃদ্ধি পায় । এটি সর্বোত্তম মাটি, মাঝে মাঝে ভিজা এবং অম্লীয় মাটি সহ্য করে । গাছটির এক উচ্চ খরা সহনশীলতা আছে । ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ ফ্লোরিডা, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি দেশে চাষাবাদ করে মূলত ফলের জন্য- যা থেকে পরবর্তীতে জুস তৈরি হয় । মিশ্র বা সংকরজাতীয় (Hybrid) শতাধিক প্রজাতি রয়েছে (Winged stempassion flower, Blue passion flower) । ভূমধ্য আবহাওয়ায় (Monterey Bay), ক্যালিফোর্নিয়া, কানাডা, ভেনিজুয়েলা এবং চিলিতে খুবই দুর্লভ Chilean passion flower আন্দিজ পর্বতমালায় প্রায় ২৫০০ – ৩৮০০ মিটার উচ্চতায় এটিকে পাওয়া যায় । উদ্ভিদটি শোভাবর্ধন (Ornamentat tree) জাতীয় গাছ হিসেবে পরিচিত । পোকা-মাকড়, ভ্রমর বা বোলতা, বাদুর, সুতা মৌমাছি, বিভিন্ন জাতের প্রজাপতি (Mimic buttterfly, Long wing butterfly, Postman butterfly, Julia butterfly, Zebra longwing butterfly) দ্বারা এর পরাগায়ন ঘটে ।
Maypop বা ঝুমকোলতার আদিনিবাস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর পেনসিলভানিয়ায় । সবচেয়ে বেশি চাষ হয় বোস্টন ও শিকাগো’তে । সাধারণত জুলাই মাসে ফুল ফোটা শুরু হয় । হালকা বেগুনি রঙের পাপড়ি বাইরের দিকে সজ্জিত থাকে এবং অসাধারণ সুন্দর বেগুনি রঙের বর্ণচ্ছটায় পরিপূর্ণ আত্মপ্রকাশ করে ফুলটি । এ ফুলের মাহাত্ম, ঐশ্বর্য ও আভিজাত্য সত্যিকারভাবেই প্রকৃতির এক স্বর্গীয় সৌন্দর্য । ফুলে পাঁচটি নীল-সাদা পাপড়ি, বৃত্যংশ, পুংকেশর বা পরাগকেশর এবং ৩টি পাংশু আছে । এটি একটি সাদা কিংবা রক্তবর্ণ পাপড়ির মধ্যে সূক্ষ্মভাবে সংযুক্ত হয়ে একটি ঝুলন্ত গোলাকার পুষ্পমুকুট গঠন করে । গ্রীষ্মে উদ্ভিদটি মৌমাছি এবং পদ্মরাগমণি গলার Hummingbirdকে আকৃষ্ট করে, ফলে এরা উদারভাবে বা সাগ্রহে ফুলের অমৃত রস পান করে । প্রতিটি ফুলের খুব সংক্ষিপ্ত জীবন (প্রায় এক দিন) । তারপর ফল দুই থেকে তিন মাসে বিকশিত হয় । আকার এবং উদ্ভিদের বয়সের উপর নির্ভর করে প্রতিটি গাছ ১০ – ২০টি ফল দিয়ে থাকে । ফল খাওয়া যায় । এর ফল মিষ্টি, মাংসল এবং শাঁসাল । মুরগির ডিমের মতো এবং এর মধ্যে ছোট ছোট অনেক বীজ থাকে । ফলটি প্রথমে সবুজ এবং পরবর্তীতে হলুদ হয়ে পরিপক্কতা পায় । এটি যখন সম্পূর্ণরূপে পাকে সামান্য মিষ্টি স্বাদযুক্ত এবং সুগন্ধি আছে । Cajuns বা Acadians জাতিগোষ্ঠী এর নাম দিয়েছেন liane de grenade বা “Pomegranate vine” । Cajun হচ্ছে বিশেষ একটি রন্ধন শৈলী বা প্রণালী যা Cajun-Acadians দ্বারা বিকশিত হয়েছিল, যারা ১৮ শতকে উত্তর-পূর্ব উত্তর আমেরিকার New France এর উপনিবেশ Acadia থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের Louisianaতে নির্বাসিত হয়েছিল এবং যারা পশ্চিম আফ্রিকান, ফ্রেঞ্চ ও স্প্যানিশ রান্নার কৌশলগুলোকে তাদের আসল রান্নায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল ।গোলাকার এ ফলটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২ – ৮ ইঞ্চি, প্রস্থ ১ – ২ ইঞ্চি । ফল কুঁকড়ে বা কুঁচকে যাওয়া শুরু হওয়ার পরে বীজ সংগ্রহ করা যেতে পারে । পাখি দ্বারা বীজ থেকে বংশবিস্তার হয় । কয়েক প্রজাতি প্রজাপতির (শূক-সংক্রান্ত) খাদ্য এবং অনেক ক্ষেত্রে বন্যপ্রাণীর জন্য এ ফলটি খুবই প্রিয় । শীতকালীন সময়ে ভূগর্ভে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর শিকড় সুপ্তাবস্থায় থাকতে পারে এবং তখন বিশ্রামের পর উদ্ভিদটি বরফ দ্বারা কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়ে মে মাসে ভূপৃষ্ঠে পটাস্ করে ভের হয়ে আসে । এ উদ্ভিদটি সূর্যালোক এলাকায় প্রচুর সতেজ হয়ে উঠে । ঘন বনজঙ্গল, ঝোপ ঝাড়, নদীর তীর সংলগ্ন, পথপার্শ্বে, চারণভূমি বা তৃণক্ষেত্রের কাছে, রেলপথে এটিকে চোখে পড়ে । এ উদ্ভিদটি বনের মধ্যে গাছের চাঁদোয়ার নিচে ছায়াময় এলাকায় পাওয়া যায় না । যুক্তরাষ্ট্রের Tennessee রাজ্যের Ocoee নদী এবং উপত্যকা এ উদ্ভিদের নামানুসারে নামকরণ করা হয়, যাকে Tennessee রাজ্যের জঙ্গলের রানী বা বনফুল বলে । হাজারো বছর ধরে Maypop ফুল একটি প্রধানতম খাদ্য হিসেবে Cherokeeদের কাছে খুবই প্রিয় । এটি ছিল Cherokeeদের জন্য ঔষধি উদ্ভিদ এবং আজ পর্যন্ত এটিকে তাদের ঐতিহ্যের একটি অংশ হিসেবে সন্মান করে । ঐতিহাসিকভাবে এর ব্যবহার, লোক ঔষধ এবং ভেষজ ঔষধ হিসেবে উদ্ভিদটিকে ব্যবহার করা হয় । গাছটির সতেজ ও শুকনো পাতা চা হিসেবে ব্যবহৃত হয় । এ উদ্ভিদকে দক্ষিণ আমেরিকার Native American (যারা ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকদের দ্বারা বসতি গড়েন) দের ব্যবহারের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে । এটি ফুটন্ত জলে সিদ্ধ করে ক্ষত বা আঘাতে, কর্ণশূল বা কানের ব্যথায় এবং যকৃৎ এর সমস্যায় ব্যবহার করে । উদ্ভিদটির ফল এবং সামান্য কয়েক প্রজাতির শুকনো পাতা ধূমপান হিসেবে মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায় এর ব্যবহার হয় । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার কিছু অঞ্চলে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আগাছা হিসেবে পরিগণিত হয় । তাই Maypopকে নিয়মিত যান্ত্রিকভাবে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অপসারণ বা নিষ্কাশন করে প্রতিরোধ করার পরামর্শ দেয়া হয় । এর আরেকটি পরিবারের Passiflora foetida (Agraulis vanillae) দৃষ্টিনন্দন ফুলটির মঞ্জরিপত্র থেকে এক প্রকার আঠালো পদার্থ নিঃসৃত হয়, যা পোকামাকড়কে ফাঁদে ফেলতে সক্ষম । Passiflora foetida তার শিকার থেকে পুষ্টি লাভ করে কি- করে না, তা প্রায় অনিশ্চিত । এটি বর্তমানে একটি Protocarnivorous উদ্ভিদ হিসেবে বিবেচিত হয় । ফলগুলো প্রায়শই Ping pong ball অথবা Kumquat আকারের হয় । একটি নীল-সাদা কোমল পিণ্ডের মতো, যা হালকা মিষ্টি এবং সু-স্বাদযুক্ত থাকে । ফিলিপাইনে ফলটি Marya-Marya (Little Mary), ‘Kurombot’ এবং Santo papa (পোপের মুকুটের প্রতিচ্ছায়া) হিসেবে পরিচিত । এর কচি পাতা এবং গাছ খাওয়া যায় । ভিয়েতনামে ঔষধ হিসেবে এটির শুকনো পাতা ঘুমের সমস্যা, চুলকনি ও কাশি চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয় । যদিও এটি উত্তর-পূর্ব ব্রাজিলের কৃষকদের দ্বারা একটি বিষাক্ত উদ্ভিদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে । ছাগলের উপর সম্পন্ন একটি পরীক্ষায় আবিষ্কৃত হয় যে, Passiflora foetida এর মধ্যে উচ্চ মাত্রায় সায়ানাইডের (Cyanide) কারণে শুকনো মৌসুমের সময়, তাজা পাতাগুলো গ্রহণের পরে বিষাক্ততা সৃষ্টি করে । Passiflora গুলো উপ-সাগরীয় শূক-সংক্রান্ত (সুরক্ষিত প্রজাপতি প্রজাতির প্রজনন এলাকা) এলাকার জন্য একচেটিয়াভাবে অতিথিসেবক উদ্ভিদ এবং বৈচিত্র্যময় প্রজাপতির জন্য সুরক্ষিত প্রজনন এলাকায় খাপ খাত্তয়ানোর জন্য একটি অমৃত উৎস ।
Passiflora মহাজাতের কয়েক প্রজাতিকে বৈজ্ঞানিকভাবে গবেষণা করা হয়েছে । মৌখিকভাবে ও স্বল্প মেয়াদে সঠিক প্রয়োগে এটি কার্যকর ও নিরাপদ । এটি রান্না করে, Jams, Jellies, Desserts (মিষ্টান্ন) জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে এবং এর রস একটি প্রিয় পানীয় । খাদ্য উৎপাদনে এর গন্ধ বা স্বাদ (Flavor) ব্যবহার সাধারণভাবে নিরাপদ হিসেবে স্বীকৃত । এটি USA food and drug administration (FDA) কর্তৃক খাদ্যে ব্যবহারের জন্যে Generally recognized a safe (GRAS) হিসেবে স্বীকৃতি দেয় । বিভিন্ন দেশের ভেষজ (Herbal), সদৃশবিধানানুযায়ী (Homoeopathic), অ্যালোপ্যাথি (Allopathy) ঔষধ প্রস্তুত করার প্রণালীসম্বন্ধীয় নির্দেশসংবলিত পুস্তক বা তালিকায় (Pharmacopoeia) এর সারসংক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে । এটি Anxiety (উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তা), Insomnia (অনিদ্রা), Hysteria/ Epilepsy (মৃগীরোগ), Analgesic (বেদনানাশক), Stomach problem (পাকস্থলির সমস্যা), Restlessness (অস্থিরতা), Pain (ব্যথা), Sleeplessness (অনিদ্রা), GABA (মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতায়), Hemorrhoids (অর্শ্বরোগ), Menopause (রজোবন্ধ), Childhood attention disorders (শৈশব মনোযোগ ব্যাধি), Burn (পোড়া), Hypertension (উচ্চ রক্তচাপ) রোগ নিরাময় করে থাকে । গাছটির শিকড় (Tonic) শক্তিদায়ক ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয় । তবে, গর্ভাবস্থায় এটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে । মৌখিক ব্যবহারের জন্য, বুকের দুধ খাওয়ানো মহিলা, নবজাতক শিশুর ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিৎ । এ উদ্ভিদজাত ঔষধ মৌখিকভাবে ব্যবহার করে গাড়ি চালনা এবং যন্ত্রপাতি ব্যবহার করার সময় সতর্কতা অবলম্বন অতিব জরুরী । মিথষ্ক্রিয়া ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে তন্দ্রাচ্ছন্নতা (Drowsiness), বমি বমি ভাব (Nausea), বমি (Vomiting), হৃদপিন্ডের কার্যক্রমে অনিয়ম (Heart irregularities), নাকে প্রদাহ (Inflamation of nose), Hypersensitivity, Anticoagulations, Monoamine oxidase inhibitors (MAOI) পরিলক্ষিত হয় । তবে এর কিছু বিষাক্ত উপাদান বংশাণু বা জীন-সংক্রান্ত (Genetic), যকৃৎ (Liver), পিত্তকোষ (Gallbladder), অগ্ন্যাশয়ের (Pancreas) ক্ষতি করতে পারে ।
“Passion” (প্রচণ্ড আবেগ, গভীর আসক্তি বা কামোচ্ছ্বাস), আবেগ বা গভীর আসক্তি’র ফুলের মধ্যে খ্রিস্টীয় ধর্মতত্ত্ব বা ধর্মবিশ্বাসে যিশু’র আবেগ বা গভীর আসক্তিকে বোঝায় । ফুলটিকে খ্রীষ্টের আবেগের প্রতীক হিসেবে দেখা হয় । ১৫ এবং ১৬তম শতাব্দীতে, স্প্যানিশ খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারকগণ এ উদ্ভিদের অনন্য শারীরিক গঠন, বিশেষ করে ফুলের বিভিন্ন অংশগুলোকে অবলম্বন করে এটিকে গ্রহণ করেছিলেন যিশুর শেষ দিনগুলোর প্রতীক এবং বিশেষত তার ক্রুশবিদ্ধকরণের প্রতীক হিসেবে । পাতার সূচ্যগ্র ডগাটি বল্লম বা বর্শা’র প্রতিনিধিত্ব করে । লতাপ্রতান বা আকর্ষটি খ্রীষ্টের বেত্রাঘাতকরণের ব্যবহৃত চাবুক হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করে । দশটি পাপড়ি এবং বৃত্যংশগুলো দশজন বিশ্বস্ত দূত হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করে (বিশ্বাসঘাতক St. Peter Denier এবং Judas Iscariot ছাড়া) । এ ফুলের অংশুর বিকিরণ যা শত থেকে অধিক বেশি এবং ফুল থেকে ফুলের মধ্যে পরিবর্তিত হতে পারে, কাঁটার মুকুটকে প্রতিনিধিত্ব করে । মদের পেয়ালা আকৃতির ডিম্বাশয়টি তার পাত্রের সাথে একটি হাতুড়ি বা পবিত্র আধার হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করে । ৩টি পাংশু বা গর্ভমুণ্ড ৩টি নখ এবং তাদের ৫টি পরাগধানীর নিচে ৫টি ক্ষতকে প্রতিনিধিত্ব করে (নখের দ্বারা চারটি এবং বল্লম বা বর্শা দ্বারা একটি) । অনেক প্রজাতির নীল এবং সাদা ফুলের রং ‘স্বর্গ এবং বিশুদ্ধতা’ প্রতিনিধিত্ব করে । এ ফুলটি তিন দিন খোলা অবস্থায় থাকে, তাই এটি তিন বছরের মন্ত্রণালয়ের প্রতীক । এছাড়া, ফুলটিকে সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর নানা রকম প্রতীকী (Symbolic) নাম দেয়া হয়েছে । স্পেনে Espina de cristo (Thorn of Christ), প্রাচীনকালে জার্মানিতে Christus-krone (Christ’s crown), Christus- strauss (Christ’s bouquet), Dorn-krone (Crown of thorns), Jesus-Lijden (Jesus passion), Master (Passion), Muttergottes-stern (Mother of God’s star) । এটিকে রোমান ক্যাথলিকরা তাদের হৃদয়ে ও মুখে পবিত্র ফুলের ছায়া ঘড়ি হিসেবে দেখে থাকে । ইসরাইলে এটি Clock-flower হিসেবে পরিচিত । গ্রীসে ও জাপানে Clock plant হিসেবে পরিচিত । Hawaiiতে Liliko এবং ভারতে Krishnakamala (কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র) ও Panch pandav (উত্তর প্রদেশ) হিসেবে পরিচিত । উত্তর পেরু ও বলিভিয়ায় এটি Tumbos (Banana passionflower) । তুর্কীতে Rota fortunae প্রতীকী হিসেবে পালন করে । ফ্রান্সের লেখক Genevieve Huriet ফরাসি ভাষায় La Famille Passiflore নামে শিশুদের জন্য জনপ্রিয় (সিরিজ) বই লিখেছেন ।

Ambergris

গভীর সমুদ্রে বাস করা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাণী হচ্ছে তিমি মাছ । বিপন্ন প্রায় শুক্রাণু তিমির (Sperm whale) অন্যতম প্রধান খাদ্য হচ্ছে Squid । স্কুইডের চঁচু বা ঠোঁট (Beak) খুব শক্ত যা শুক্রাণু তিমির পাকস্থলীতে হজম হয় না বরং হজম প্রক্রিয়ায় বাধা বা প্রতিবন্ধক সৃষ্টি করে । পরবর্তীতে এটি জটিল শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বমি আকারে বের হয় এবং সাগরে ভাসতে থাকে । এর নাম অ্যাম্বারগ্রিস (Ambergris) । অ্যাম্বারগ্রিস শব্দটি Latin: Ambra grisea, প্রাচীন ফরাসি Ambre gris (Ambergrease) বা “ধূসর আম্বর” (Grey amber) থেকে এসেছে এবং Amber (Ambre) একই উৎস থেকেই আসে । কিন্তু ইউরোপে ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষের দিকে এটি বাল্টিক অঞ্চল থেকে প্রায় একচেটিয়াভাবে জীবাশ্মযুক্ত গাছের শালীনীর্যাসে প্রয়োগ করা হয়েছে । Ambergris হলো তিমি মাছের বমি বা উদগীরণ (Whale vomit) । এটি শুক্রাণু তিমির অন্ত্রের দেওয়ালে সংযুক্ত এক জাতীয় মোমের মতো পদার্থের আবরণ । যা শুক্রাণু তিমির (Sperm whale) অন্ত্র থেকে নির্গত হয় । এটি ধূসর বা কালো রংয়ের কঠিন, মোমের মতো, জ্বলন্ত পদার্থ । গাদ এর মতো গন্ধ । অ্যাম্বারগ্রিস যেমন Squid beaks বা বিরক্তিকর বস্তুকে ঘিরে রাখার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং হজম সহজ করে । এছাড়া তিমির মৃতদেহ থেকেও এটি ডাঙায় ধুয়ে নিষ্কাশিত করা হয় । অনুমান করা হয় যে, শুধুমাত্র এক শতাংশ শুক্রাণু তিমি টেকসই বা কার্যকরী Ambergris উৎপাদন করে থাকে । এটি খুব দূর্লভ বস্তু । Christopher Kamp তার বইয়ে এটিকে “White gold” বলে আখ্যায়িত করেছেন । White Ambergrisকে বিভিন্ন ফুলের নির্যাস এবং এর সাথে আরও কিছু উপাদান মিশিয়ে সুগন্ধি বা আতর তৈরি করা হয় । সাধারণত ক্রান্তীয় সমুদ্রে (Tropical seas) বিরল এই পদার্থটি ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়, পরবর্তীকালে উপকূলের দিকে । অ্যাম্বারগ্রিসের গন্ধে কুকুর আকৃষ্ট হয় এবং কুকুরের কাছে এটি পরিচিত । ”সুগন্ধি এবং সুবাস উপকরণ” এর প্রাকৃতিক উৎস Ambergris এবং সুগন্ধি উৎপাদনে (Perfume manufacture) ব্যবহৃত হয়ে থাকে । Ambergris অ্যালকোহল, ক্লোরোফর্ম, ইথার এবং উদ্বায়ী (Volatile) বা কিছু নির্দিষ্ট তেলে দ্রবণীয় একটি পদার্থ । অতীতে Ambergris ঐতিহাসিকভাবে খাদ্য ও পানীয় হিসেবে ব্যবহৃত হয় । ইংরেজ এবং অস্ট্রেলিয়ান প্রিয় খাবারের বইয়ে সুগন্ধি বা সুবাসের জন্য রুম, বাদাম, ক্লোভ, ক্যাসিয়া এবং কমলা ছিলে এর সাথে Ambergris যুক্ত করে ককটেল তৈরির কথা উল্লেখ রয়েছে । এটি তুর্কি কফি এবং গরম চকোলেটের সুবাসিত স্বাদযুক্ত উপাদান হিসেবে ব্যবহার হতো । প্রাচীন মিশরীয়রা সুবাসের জন্য Ambergrisকে ধূপ হিসেবে জ্বালাতো, অথচ আধুনিক মিশরীয়রা সিগারেটের সুবাসের জন্য এটি ব্যবহার করে । প্রাচীন চীনারা পদার্থটিকে “ড্রাগনের থুথু বা লালা’র সুবাস” (Dragon’s spittle fragrance) হিসেবে অভিহিত করতো । মধ্যযুগে ইউরোপের ‘কালো মৃত্যুর’ সময় লোকেরা বিশ্বাস করতো যে, Ambergris এর একটি বল বহন করলে এটি তাদেরকে প্লেগ (Plague) রোগ থেকে মুক্তি দিবে । কারণ, এর সুবাস আকাশকে সুগন্ধে আচ্ছাদিত করে রাখতো বলে মনে করা হতো এবং মৃত্যুর গন্ধ ঢেকে যাওয়ার উপায় হিসেবে এটি একটি সুবাস হিসেবে ব্যবহার করা হতো । ইউরোপীয়রা Ambergrisকে মাথাব্যাথা, ঠান্ডা, মৃগীরোগ এবং অন্যান্য অসুস্থতার জন্য ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করতো । শুক্রাণু তিমি ভারতীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের অধীনে (Wildlife Protection Act) একটি বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী । এটি শিকার নিষিদ্ধ এবং এর Ambergris নিষিদ্ধ বস্তু । প্রতি বছর সারাবিশ্বে প্রায় ৫০০০০ শুক্রাণু তিমি নিহত হয় । গবেষণায় দেখা গেছে যে, এ প্রজাতির তিমি হুমকির মুখে পড়ছে । ১৯৮২ সালে The International Whaling Commission তিমি শিকার ও অবৈধ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বা বাণিজ্যিকভাবে এর উপর স্থগিতাদেশ প্রতিষ্ঠা করে । তবে, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সে বাণিজ্যটি এখনও বৈধ । তবে মূত্র, মল এবং Ambergris (যা প্রাকৃতিকভাবে Sperm তিমি থেকে নির্গত হয়) বর্জ্য দ্রব্যগুলি কোনও সিদ্ধান্তমুলক বা ব্যুৎপন্ন CITES প্রজাতির অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না এবং তাই Convention এর বিধানে এটি যুক্ত নয় । 

https://web.facebook.com/Ashraful715/posts/858672837822942?__tn__=K-R 

Yellow trumpet (সরলপাতি চন্দ্রপ্রভা / সোনাপাতি ফুল)


🌿 সরলপাতি চন্দ্রপ্রভা ।
হলুদ রঙের অসম্ভব সুন্দর এ ফুলটির নাম সরলপাতি চন্দ্রপ্রভা । লম্বা মাইকের মতো বা ঘণ্টা আকৃতির স্বর্ণাভ হলুদ রঙা গন্ধহীন এ ফুলকে 'সোনাপাতি' নামেও ডাকে (সাইদুর রহমান স্বপন এ ফুলটিকে সোনাপাতি ফুল / Shonapati Ful নাম দেন) ।
উদ্ভিদ্বিদ্যাসংক্রান্ত নাম : "Tecoma castanifolia" বা Tecoma stans । Bignoniaceae (big-no-nih-AY-see-ay) [jacaranda] পরিবারের অন্তর্ভূক্ত একটি সপুষ্পক উদ্ভিদ (Abbe Jean Paul Bignon এর নামকরণ করেছেন Bignoniaceae) । এ উদ্ভিদের আদি (tek-OH-muh) নাম থেকে tecomaxochitl রূপান্তর হয়ে কাস্টেনিফোলিয়া (kas-tan-ih-FOH-lee-uh) [পাতাগুলি হচ্ছে Castanea এর মতো, chestnut জন্য ল্যাটিন (Latin) নাম] ।
সাধারণ নাম : Trumpet Flower ।
এর বিভিন্ন নাম রয়েছে Tecoma stans, Tecoma gaudichaudi , Yellow bells (for bell shape), Yellow trumpet, Yellow elder, Hardy yellow trumpet, Yellow trumpetbush, Ginger thomas ।
এ প্রজাতিটির আদিনিবাস কেন্দ্রীয় ও দক্ষিণ আমেরিকা- উত্তর আর্জেন্টিনা থেকে ক্যারিবীয় এবং মধ্য আমেরিকা থেকে দক্ষিণ- উত্তর আমেরিকা পর্যন্ত এর পরিসর । এটি চিরসবুজ ছোট দ্রুত বর্ধনশীল গুল্ম জাতীয় ফুল গাছ । গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, বসন্তে গাছে ডালের আগায় বড় থোকায় থোকায় সংঘবদ্ধভাবে ফোটে আকর্ষণীয় হলুদ এ ফুল । শুষ্ক এবং উষ্ণ জলবায়ুর রৌদ্রোজ্জ্বল পরিবেশে এ গাছ ভালো হয় । নিয়মিত পানি দিলে উর্বর মাটিতে জোরালো বৃদ্ধি পায় । শীতপ্রধান অঞ্চলে এ গাছ প্রায় ২৮° ডিগ্রী ফারেনহাইট কঠিন তুষারপাতে সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে বসন্তে ফুলের ঋতুতে এ গাছের হারানো রূপ দ্রুত পুনরুদ্ধার হয় । আর্দ্রতা আরো শক্তসমর্থ ফুল দিতে সাহায্য করে এবং অসংখ্য ফুল ধরে । এর বড় পাতার সাথে ''সোনার তারা'' (Gold Star) হলুদ ফুলগুলি অসাধারণ সুন্দর, মসৃণ, খুব সুদৃশ্য এবং রঙিন দেখায় । চমৎকার উজ্জ্বল ফুলগুলি সুন্দরভাবে ঝুলন্ত থাকে । আমাদের এখানে এ ফুল সারা বছর ধরে বেশ কয়েকবার ফোটে এবং ঝরে পড়ে । এ ফুলের মৌমাছি ও কীটপতঙ্গ আকর্ষণ করার ক্ষমতা প্রচুর । ফুলের কোনো গন্ধ নেই কিন্তু এটি সহজেই মৌমাছি, প্রজাপতি, পিঁপড়া, পাখি এবং কীটপতঙ্গকে আকর্ষণ করতে পারে ফুলের মধু বা অমৃতরস এবং অতি উজ্জ্বল রংয়ের কারণে । ফুল শেষে গাছটিকে ছাঁটাই দিলে এর ঘন চরিত্র এবং ভালো আকার বজায় থাকে । অন্যান্য প্রজাতির সাথে এর পার্থক্য হচ্ছে এরা সরলপত্রী । উজ্জ্বল সবুজ পাতা যৌগিক, ভল্লাকার এবং কিনারা খাঁজকাটা । দল Funnel বা চুঙ্গি বা ঘন্টা আকৃতির, চওড়া এবং বিদারী লম্বা । এটি একটি আলংকারিক বা শোভাময় (Ornamental garden and street tree) গাছ হিসেবে বেশ পরিচিত । কখনো সোনাপাতি গাছ বেশ বড় হয়ে ছায়া প্রদান করে এবং ঔষধি গুণাবলীর জন্য এর চাষ করা হয় । এ গাছের পাতার রস মৌখিকভাবে গ্রহণ করে বহুমূত্র ও পেট ব্যাথা রোগ দূর হয় । এ গাছের পাতা ও মূল সিফিলিস (Syphilis), অন্ত্রের কীট বা কৃমি (Intestinal worms), মূত্রবর্ধক (Diuretic) চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় । এটিকে ক্ষুদ্র বৃক্ষ বেড়াগাছ বা প্রতিবন্ধক হিসেবে লাগানো যায় । এ গাছের হালকা বাদামী কাঠ খুব শক্ত বা কঠিন ও টেকসই- যা কুঁদকারের কাজে (Turnery), মন্ত্রিসভা তৈরি কাজে (Cabinet making) সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহৃত হয় । এছাড়া এ গাছ থেকে আমরা জ্বালানি এবং কাঠকয়লা পেয়ে থাকি । এ গাছের ফল দীর্ঘ এবং মটরশুটি আকৃতির । বীজ আদর্শ অবস্থার অধীনে দীর্ঘ সময়ের জন্য সংরক্ষণ করা যেতে পারে । নার্সারিতে তিন-চার মাস চারা করে তারপর সরাসরি সেগুলি লাগানো যায় । বীজ এবং ডাল কেটে কলম (cuttings) দ্বারা এর পুনর্জন্ম করা সম্ভব । মাঝে মাঝে এটি আক্রমণকারী আগাছা হয়ে উঠে । এটি বাহামা দ্বীপপুঞ্জের জাতীয় ফুল । যুক্তরাষ্ট্রের ভারজিন আইল্যান্ডের সরকারী ফুল । টব, ছাদ, বাগান বা উদ্যান, বাড়ীর প্রবেশদ্বার বা আশেপাশে, রাস্তার ধার, বিদ্যালয়, কার্যালয় ইত্যাদি জায়গায় লাগিয়ে শোভাবর্ধন করা যায় ।

© https://www.facebook.com/Ashraful.Lika/posts/848638682159691
https://www.facebook.com/ashrafulalam715

https://bn.wikipedia.org/wiki/চন্দ্রপ্রভা





কৃষ্ণচূড়া (Royal poinciana / Peacock flower)

কৃষ্ণচূড়া ৷
বৈজ্ঞানিক নাম: Delonix regia ।
প্রচলিত ইংরেজি নাম গুলো: Royal poinciana, Peacock flower, Gold mohair, Royal flame tree, Arbol de Fuego, Gulmohar, Flamboyant tree, Flame tree ।
এটি Fabaceae পরিবারের অন্তর্গত ৷ বৃক্ষ জাতীয় পর্ণমোচী উদ্ভিদ ৷ অগ্নিবর্ণ এ গাছ রক্তচূড়া কিংবা গুলমোহর নামেও পরিচিত ৷ আগুনলাল ফুলের জন্যেও প্রসিদ্ধ । অপূর্ব এ ফুলের রঙ টকটকে লাল, কমলা, সাদা, বেগুনী ও হলুদ এবং পাতা উজ্জল সবুজ ৷ বাংলাদেশে বসন্ত কালে এ ফুল ফোটে ৷ প্রখর রৌদ্রে ফিরে পায় প্রাণের উচ্ছ্বাস । চমৎকার রঙে প্রকৃতিতে আগুন ঝরে ৷ ঋতুরাজ বসন্তের প্রতীক ৷ রাজকীয় গাছ ৷
দৃষ্টিনন্দন এ কৃষ্ণচূড়াকে নিয়ে বিশ্বকবি রবি ঠাকুর কবিতা রচনা করেছেন—
''গন্ধে উদাস হাওয়ার মত উড়ে তোমার উত্তরী-
কর্ণে তোমার কৃষ্ণচূড়ার মঞ্জরি'' ...
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম কৃষ্ণচূড়ার মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যকে রচনা করেছেন—
''কৃষ্ণচূড়ার রাঙা মঞ্জরি কর্ণে-
আমি ভুবন ভোলাতে আসি গন্ধে ও বর্ণে'' ...
কিংবা, কবি শামসুর রাহমান লিখেছেন—
''আবার ফুটেছে দ্যাখো কৃষ্ণচূড়া থরে থরে শহরের পথে কেমন নিবিড় হয়ে,
কখনো মিছিলে কখনো-বা একা হেঁটে যেতে যেতে মনে হয়- ফুল নয়,
ওরা শহীদের ঝলকিত রক্তের বুদ্বুদ, স্মৃতিগন্ধে ভরপুর ।''
কৃষ্ণচূড়া প্রকৃতির মাঝে নিজেকে মেলে ধরে আপন মহিমা, সৌন্দর্য, মাহাত্ম্য আর আভিজাত্যে । এর রঙ এতই তীব্র যে অনেক দূর থেকে চোখে পড়ে মনকে আকর্ষিত ও উদ্বেলিত করে । গ্রীষ্মের রুক্ষ- শুষ্ক প্রকৃতিতে বিশেষ করে বৈশাখের কাঠফাটা রোদ্দুরে কৃষ্ণচূড়া দেয় এক অনাবিল শীতল পরশ, ক্লান্তি দূর করে নিবিড় প্রশান্তিময় প্রাণে জাগিয়ে তোলে নব উদ্দীপনা । রক্তিম কৃষ্ণচূড়ার রঙে কখনও কখনও প্রকৃতি প্রেমী কবি তার আবেগ, ভালোবাসা আর প্রেমে রাঙিয়ে তোলে হৃদয়ের নীল আকাশের ক্যানভাস ।
''চৈত্রে হয়তো ফোটেনি কৃষ্ণচুড়া, তাতে ক্ষতি নেই;
তোমার ঠোঁটেই দেখি এসেছে আবার কৃষ্ণচুড়ার ঋতু,
তুমি আছো তাই অভাব বুঝিনি তার;
না হলে চৈত্রে কোথায়ইবা পাবো বলো, কৃষ্ণচুড়ার অযাচিত উপহার ।''
বাংলা সাহিত্যে, বাঙালি সংস্কৃতিতে এবং কতিপয় আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে কৃষ্ণচুড়া গাছের নিবিড় সম্পৃক্ততা রয়েছে ।
অতিদ্রুত বর্ধনশীল, চির সবুজ ও সৌন্দর্য বর্ধনের অধিকারী এ কৃষ্ণচূড়া গাছের আদি নিবাস পূর্ব আফ্রিকার দেশ (Madagascar) মাদাগাস্কারে ৷ গ্রীষ্মপ্রধান বনাঞ্চলীয় ও প্রায় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে উষ্ণ, আর্দ্র পরিবেশে এটি খুব ভাল জন্মে এবং গ্রীষ্মকালে দ্বিখণ্ডিতভাবে যৌগিক পাতাগুলি হলদে রূপ ধারণ করে ঝরে যায় ৷ তবে, নাতিষীতোষ্ণ অঞ্চলে এটি থাকে চিরসবুজ ৷ ৪৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটের নিচে তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে না । শুষ্ক ও লবণাক্ততা সহ্য করার ক্ষমতা বেশি ৷ শুকনো মাটি বিশেষ করে দো-আঁশ, বেলে বা কঙ্করযুক্ত মাটি এর জন্য উপযুক্ত এবং বীজের অঙ্কুরোদগম ও গুটি কলম পদ্ধতিতে বংশবিস্তার করা যায় । কোনও বড় কীট বা রোগের সমস্যা নেই, তবে Phellinus noxious নামক এক জাতীয় ছত্রাক যার কারণে গাছের শিকড় পচে যেতে পারে । একটি পরিপক্ক গাছের আকার প্রায় ২০ থেকে ৪০ ফুট হয় । নতুনভাবে লাগানো একটি গাছ প্রথমবারের মতো ফুল ফোটতে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে । যদিও কিছু গাছ বারো বছর বা তারও বেশি সময় নেয় বলে জানা গেছে । লাল রঙের আকর্ষণীয়, দৃষ্টিনন্দন ও বিস্ময়কর সুন্দর ফুলগুলো মে থেকে জুলাই মাসে থোকায় থোকায় বা গুচ্ছবদ্ধ ভাবে প্রদর্শিত হয় এবং এক মাস বা আরও বেশি সময় ধরে গাছে দীর্ঘস্থায়ী হয় । এটি লম্বা'র চেয়ে আরও প্রশস্ত বা বিস্তীর্ণ চাঁদোয়া'র (Canopy) মতো একটি পরিণত কৃষ্ণচূড়া গাছ একটি ছাতার মতো মনে হতে পারে । সূক্ষ্ম, ফার্ন-জাতীয় কচিপাতা গুলো হালকা শীতল ছায়া দেয় এবং উজ্জ্বল রক্তবর্ণ ফুলগুলো ঝলমলে হয়ে উঠে । এ গাছের বাকল মসৃণ এবং ধূসর । যদিও গাছটি ঝড়ের মধ্যে দৃঢ় বা বলিষ্ঠভাবে টিকে থাকতে পারে না, প্রায়শই ডালপালা ভেঙ্গে যাওয়ার পরে দ্রুত নিজেকে পুনরুদ্ধার করে তোলে । সুগন্ধহীন কৃষ্ণচূড়া ফুলের পাঁচটি থেকে আটটি পাপড়ির প্রতিটি লালচে কমলা বা টকটকে লাল বর্ণের । একটি পাপড়ি অন্যের চেয়ে বড় এবং এর মাঝে হলুদ ও সাদা চিহ্ন রয়েছে । আগস্ট থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি ফল ধরে । শিমের মতো ফল একটি বীজের শুঁটি, যা দীর্ঘ এক ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে । অসাধারণ সুন্দর আর দুর্দান্ত রঙের কারণে সারাবিশ্বেই এর কদর রয়েছে ।
West Indies (ক্যারিবীয় অববাহিকা ও উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরীয় অঞ্চল), আফ্রিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, আরব- আমিরাত, হংকং, তাইওয়ান, দক্ষিণ চীন, বাংলাদেশ, ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশেই কৃষ্ণচূড়া গাছ জন্মে ৷ যুক্তরাষ্ট্রে শুধুমাত্র দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিম Florida, Texas এর Rio Grande Valleyতে এবং Hawaii এ কৃষ্ণচূড়া গাছ দেখা যায় ৷ তবে, শীতপ্রধান রাজ্যে এ গাছ Greenhouse (সবুজঘর/উষ্ণগৃহ), সংরক্ষণাগার কিংবা একটি বন্ধ বারান্দায় রাখতে হয় । ফলে, পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় কৃষ্ণচূড়া ফুল ফোটার সময়কালও ভিন্ন ৷ অনেকে এটিকে বিশ্বের অন্যতম সুন্দর গাছ বলে মনে করে থাকেন ।
এ গাছে প্রচুর পরিমাণ ঔষধি গুণাগুণ রয়েছে । কৃষ্ণচূড়ার পাতা পানিতে ফুটিয়ে সে পানি পান করলে সন্ধিবাত ভালো হয়, পাতা চিবিয়ে খেলে গলায় স্বরভঙ্গের স্বাস্থ্যকর অবস্থা ফিরে আসে, পাতা পিষে রস করে এর সাথে মধু মিশ্রিত করে প্রতিদিন ভোরে পান করলে জ্বর থেকে মুক্তিলাভ করা যায় এবং পিত্ত রস বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে । এর মূল, ছাল গুঁড়ো করে সাথে পানি মিশ্রিত করে পান করলে শ্লেষ্মা তরল করে বের করে দেয় । কৃষ্ণচূড়ার ফুল রোদে শুকিয়ে চূর্ণ করে বা রস করে গোসলের পূর্বে মাথায় ব্যবহার করলে খুশকি (Dandruff) দূর হয় এবং চুল ভাল থাকে ।
কৃষ্ণচূড়া নামের সাথে আংশিক মিল পাওয়া যায় এমন আরো দুটি সুন্দর ফুল রয়েছে- রাধাচূড়া, কনকচূড়া ৷ রাধাচূড়া (Caesalpinia pulcherrima) ফুলের রঙ হয় গাঢ় লাল ও হলুদ, এর আদি নিবাস West Indies এ ৷ কনকচূড়া ( Peltophorum roxburghii ) ফুলের রঙ হলুদ ৷ এটির নিবাস শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়ায় ৷ সুতরাং তিনটি ফুলই ভিনদেশী ৷
নজরকাড়া এত সুন্দর ফুল কৃষ্ণচূড়ার নাম কেন যে হল 'কৃষ্ণচূড়া'? সত্যিই, রহস্যময়!
তবে, কেউ কেউ মনে করেন মহাভারতের যুগে রাধাকৃষ্ণের (মহাভারত পুরাণে বর্ণিত রাধা ও কৃষ্ণ) নামানুসারে ফুল দুটির নামকরণ হয় ৷ কৃষ্ণ হচ্ছে- কালো এবং চূড়া হচ্ছে- উপরে, আগায়, মাথায় বা শীর্ষে ৷ বলা যায়, কালোর মাথায় ৷
তবে কি, সে অর্থে- কৃষ্ণের মাথায় চুলে চূড়া বাঁধার ধরণ থেকে এর নাম হতে পারে ৷ রাধাচূড়ার ক্ষেত্রেও মনে করা হয়, রাধাকৃষ্ণের অমর প্রেমকে মহীয়ান করে শ্রীমতি রাধাকে অমর করে রাখতে রাধাচূড়া নাম দেওয়া হয় ৷ তবে, সেটি প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি পুরনো ইতিহাস ৷ কিন্তু, ভিনদেশী এ বৃক্ষগুলো ভারত উপমহাদেশে এসেছে প্রায় তিন থেকে চারশ বছর আগে ৷ সে হিসেবে ফুলগুলোর নামকরণ অনেক পরের ঘটনা ৷ এছাড়া, এ ফুলের নামগুলো কোন কবি, প্রকৃতি প্রেমী কিংবা উদ্ভিদ বিজ্ঞানীও দিয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হয় ৷
প্রকৃতপক্ষে কে, কখন, কোথায়, কিভাবে এ ফুলগুলোর নামকরণ করেন তার সঠিক তথ্য এবং পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না । 

দাবানল (Wildfire)

দাবানল, দাবাগ্নি বা আগুনঝড় (Wildfire) হচ্ছে বনভূমি বা গ্রামীণ এলাকার বনাঞ্চলে সংঘটিত এক অনিয়ন্ত্রিত আগুন । প্রখর সূর্যের তাপে ও অধিক ঘনত্বের কারণে বনের তাপমাত্রা অত্যাধিক বেড়ে যায় । তখন মরা গাছের ঘর্ষনে আগুনের ফুলকি'র সৃষ্টি হয় । অত্যাধিক গরম, অনাবৃষ্টি এবং উত্তপ্ত আবহাওয়ায় বনাঞ্চলসমৃদ্ধ যে কোনো স্থানেই দাবানল দেখা দিতে পারে ৷ ঘন পাহাড়িয়া অঞ্চলে দাবানল হবার ঘটনা তুলনামূলক বেশি । উষ্ণ তাপক-শিখা ক্রমশ উপরের দিকে উঠতে থাকে আর পোড়াতে থাকে বন । উঁচু গাছের Canopy বা শামিয়ানাগুলির আগুন অনায়াসে উড়তে থাকে যত্রতত্র এবং অগ্নিকাণ্ড সহজে ভয়াবহ রূপ নেয় । এসব আগুন নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে । যতক্ষণ খুশি আপন মনে জ্বলতে থাকে এ আগুন । কিন্তু, কেন এ ধরণের দাবানলের সৃষ্টি হয়? সাধারণত, যখন কোনো আগুনের উৎস প্রচন্ড তাপমাত্রায় এবং যথেষ্ট পরিমাণে অক্সিজেনের উপস্থিতিতে দাহ্য পদার্থের সংস্পর্শে আসে, তখন দাবানলের সুত্রপাত ঘটে বলেই জানা যায় ৷ গাছপালা থেকে থেকে ক্রমাগত পানি বাস্পীভূত হয়ে সৃষ্টি হয় পানির এই ঘাটতি ৷ এই ঘাটতি পূরণ করা হয় মাটি বা বাতাসে বিদ্যমান জলীয় বাষ্প বা বৃষ্টির পানি শোষণ করে ৷ কিন্তু অনেকদিন ধরে উত্তপ্ত ও শুষ্ক আবহাওয়া চলতে থাকলে গাছপালা পানির এই সমতা রক্ষা করতে না পেরে শুষ্ক ও দাহ্য হয়ে ওঠে ৷ যেসব অঞ্চলের আবহাওয়া এতটাই আর্দ্র যে গাছপালা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, আবার দীর্ঘ সময়ের জন্য শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়া বিরাজ করে, সেসব অঞ্চলে দাবানল ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায় ৷ পরিবেশ বিজ্ঞানীরা কিন্তু জানাচ্ছেন ভিন্ন কথা ৷ তাদের মতে, মোটামুটি চক্রাকারে দাবানলের পুনরাবৃত্তি ঘটে ৷ প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে দাবানল বেশ গুরুত্বপূর্ণ ৷ কারণ, দাবানলের মাধ্যমে লেগে যাওয়া আগুনের ধোঁয়া, পোড়া কাঠ ও উত্তাপ কোনো কোনো উদ্ভিদের অঙ্কুরোদ্গম ও বৃদ্ধির জন্য কাজে লাগে ৷ তাই এসব অঞ্চলে নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় দাবানল অনেকটাই গ্রহণযোগ্য ৷ দাবানল পরিবেশে প্রচুর পরিমাণে (Greenhouse gas) গ্রিনহাউস গ্যাস https://bn.wikipedia.org/wiki/গ্রীনহাউজ_গ্যাস https://en.wikipedia.org/wiki/Greenhouse_gas নিঃসরণ ছাড়াও বিভিন্ন দুষণ-পদার্থের পরিমাণ বাড়িয়ে তোলে, যা মানুষসহ সব প্রাণীর জন্য বড় ধরণের হুমকি ৷ প্রাকৃতিক কারণ যেমন দাবদাহ, অনাবৃষ্টি, খরা, বজ্রপাত, আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাত এবং (El Nino) এল নিনো https://en.wikipedia.org/wiki/El_Niño ধরনের আবহাওয়ার চক্রাকার পরিবর্তনকে জঙ্গলে আগুন লাগার প্রাকৃতিক কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় ৷ মানুষের সৃষ্ট কারণ যেমন সিগারেট, ক্যাম্প ফায়ার (Campfire), চাষাবাদযোগ্য জমি বৃদ্ধি বা নগরায়ণের লক্ষ্যে আগুন লাগানোর সময় দুর্ঘটনাবশত অথবা কোনো দুর্বৃত্ত (বনাঞ্চলে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পিছনে থাকতে পারে চোরা কাঠের কারবারিদের চক্রান্ত কিংবা বনকর্মীদের একাংশের সঙ্গে তাদের আঁতাত) বনে আগুন লাগিয়ে দাবানল সৃষ্টি করার ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে । দাবানলের ভয়ঙ্কর অগ্নিশিখা নির্দিষ্ট এলাকায় এমন ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে যে, তার আশেপাশে, অগ্রভাগে, এমনকি আকাশ সীমার অনেক উপর পর্যন্ত চলে যায় । যার ফলে বিমান, হেলিকপ্টার পর্যন্ত এর উপর দিয়ে উড়াল দিতে আতঙ্কিত হয় । অবস্থা এতই শোচনীয় আকার ধারণ করে যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বশক্তি প্রয়োগ করেও দ্রুত বা তাৎক্ষণিক সর্বসংহারি দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ব্যর্থ হয় । এ যেন মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির এক অসম লড়াই এবং মানুষ তখন অসহায় হয়ে পরে প্রকৃতির কাছে । মুহূর্তেই ভয়াবহ দাবানলের তীব্র দাপদাহে দাউ দাউ করে জ্বলে-পুড়ে নিঃশেষ করে বিস্তৃত বনাঞ্চল । শক্তিশালী বাতাস ও শুকনো বনভূমি আগুনের পালে হাওয়া দেয় । ঘন্টায় ৮০ কিঃ মিঃ গতির বাতাসের সাহায্যে আগুন ভয়াল আকার ধারণ করে । প্রচন্ড বাতাসের উস্কানিতে ক্রমেই পরিধি বৃদ্ধি করতে থাকে দাবানলের লেলিহান জিভ । বিপজ্জনকভাবে ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় আশেপাশের এলাকা । অত্যাধিক তাপমাত্রার ফলে গরমের তীব্রতা ও বিপদের মাত্রা থাকে অনেক বেশি । কখনও তাপমাত্রা বেড়ে যায় প্রায় ১০০ ডিগ্রী পর্যন্ত । আগুন উপরের দিকে এতটাই বিস্তৃত হয় যে, আগুন নেভাতে হিমশিম খেতে হয় দমকল বাহিনীকে (অনেকক্ষেত্রে জীবনের ঝুকি থাকে) । প্রকৃতির এ নির্মমতায় মর্মান্তিকভাবে জীবন্ত দগ্ধ হয় মানুষ-পশু-পাখিসহ অসংখ্য প্রাণ । এ দাবানল মানুষ, জীব-জন্তু, গাছ-পালা, ফসলাদি, বনভূমি, লোকালয়, দোকন-পাট, রাস্তা-গাড়ি ইত্যাদি ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও সম্পদের ক্ষতিসাধন করে । লক্ষ লক্ষ একর জমি পুড়ে শুধুমাত্র দাবানলের গ্রাসে । গৃহহীন হয়ে পরে মানুষ, আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় অস্থায়ী শিবিরে । বিদ্যুৎবিহীন থাকে অধিকাংশ এলাকা এবং জরুরি অবস্থা জারি হয় দুর্গত এলাকায় । উদ্ধার- ত্রাণ কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা হেলিকপ্টার, নৌ-যান, যান-বাহন, ভারী যন্ত্রপাতি এবং পানিবাহী বিমানের সাহায্যে প্রাকৃতিক এ বিপর্যয়কে মোকাবেলা ও উদ্ধার কাজে আপ্রাণ চেষ্টায় সহায়তা করে । হয়তো কখনও আন্তর্জাতিক সাহায্যেরও প্রয়োজন হয় । বিধ্বংসী দাবানলে ঝলসে যায় অপরূপ সুন্দর প্রকৃতির চেহারা । অবাধে নষ্ট হয় জীব বৈচিত্র্য । অস্ট্রেলিয়ানরা এ দাবানলকে ‘স্থল সুনামি’ বলে । বীভৎস্য এ দাবানলের ফলে প্রকৃতির উপর কি প্রভাব পড়তে যাচ্ছে, তা নিয়ে বিশ্লেষণে নেমেছে (NASA) নাসা'র https://en.wikipedia.org/wiki/NASA বিজ্ঞানীরা ৷ নাসা'র Armstrong Flight Research Center এর ইআর-২ বিমানটি মাটি থেকে প্রায় ২১ হাজার ৩০০ মিটার উচ্চতায় যেতে সক্ষম । যেটি যাত্রীবাহী বিমানের উড়ান ক্ষমতার দ্বি-গুণ ৷ আধুনিক প্রযুুক্তির এ বিমানে অ্যাভিরিস (Everis Camrea) নামের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা সংযুুক্ত আছে, যেটির সাহায্যে আগুন এবং ধোঁয়ার মধ্যেও পরিবেশ ও জমি'র অবস্থা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া সম্ভব ৷ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, উষ্ণতা বা আগুনের তাপমাত্রা কত, তাও সঠিকভাবে জানাতে সক্ষম এ যন্ত্রটি ৷ এছাড়া, National Center for Atmospheric Research (NCAR) https://en.wikipedia.org/…/National_Center_for_Atmospheric_… এবং University of Maryland এর বিজ্ঞানীরা একটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন যেটি আবহাওয়া ও আগুনের মিথষ্ক্রিয়ায় Cutting Edge Simulations এর সাথে স্যাটেলাইট (Satellite) দ্বারা পর্যবেক্ষণকৃত সক্রিয় দাবানলকে একত্রিত করে । এটিই সর্বপ্রথম কম্পিউটার মডেলিং (Computer modeling) যেটি আমাদের অবিচ্ছিন্ন এবং হালনাগাদকৃত দিনভর ভবিষ্যতবাণীর প্রতিশ্রুতি দেয় । কম্পিউটার মডেল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ যেমন আগুনের ফুলকি'র বিস্তার এবং এর আচরণের পরিবর্তন অনুমান করে প্রতি ১২ ঘণ্টা পর পর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে । National Center for Atmospheric Research এর বিজ্ঞানী (Janice Coen) জেনিস কোয়েন https://staff.ucar.edu/users/janicec https://www.linkedin.com/in/janice-coen-8269b572 https://wildfiretoday.com/tag/janice-coen/ একটা যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন যাকে বলা হয় Coupled Atmosphere-Wildland Fire Environment (CAWFE) কম্পিউটার মডেল, যেটি সংযোগ ঘটায় কিভাবে আবহাওয়া / জলবায়ু আগুনকে পরিচালিত করে এবং এর মাধ্যমে কিভাবে আগুন তাদের নিজস্ব জলবায়ু তৈরি করে এবং বড় ধরণের দাবানল তৈরি হয় । তবে এর জন্য প্রয়োজন সবচেয়ে হালনাগাদ তথ্য । কারণ, অনেকগুলো উপাদান/ ঘটনা দাবানলের আকার এবং এর পথ পরিবর্তন করতে পারে । পরিবেশবিদরা বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন যে, দাবানলের উত্তাপে আরও দ্রুত গলে যেতে পারে (Glacier) হিমবাহগুলি https://bn.wikipedia.org/wiki/হিমবাহ https://en.wikipedia.org/wiki/Glacier । এর ফলে বন্যার পাশাপাশি, নদীর জলে Black carbon https://en.wikipedia.org/wiki/Black_carbon মিশে গিয়ে ব্যাপক দুষণের সম্ভাবনা দেখা দিবে । পৃথিবী'র অন্যান্য অঞ্চলেই যে শুধু দাবানলের আগ্রাসন তা কিন্তু নয়, গ্রিনল্যান্ডের (Greenland) https://en.wikipedia.org/wiki/Greenland বরফাচ্ছাদিত শীতপ্রধান দেশেও দাবানল আঘাত হানে । যেখানে তাপমাত্রা বছরের বেশিরভাগ সময়েই মাইনাস জিরো ডিগ্রী সেলসিয়াসের নিচে থাকে । এমনকি মাইনাস ২০ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা তারও বেশি নিচে নেমে যায় । এ রকম প্রতিকূল আবহাওয়ায় সাধারণভাবে মানুষ বসবাসের উপযোগী নয় । ফলে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলেই মূলত জনবসতি গড়ে উঠেছে । সে অংশে তাপমাত্রা সাধারণত মাইনাস ৭ ডিগ্রী থেকে ১০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যেই থাকে । এমন একটি শীতপ্রধান দেশে দাবানল হতে পারে সেটি বিজ্ঞানীদের কল্পনাতেই আসেনি । গত ৩১ জুলাই Kangerlussuaq শহরের কাছে এ দাবানলের সূত্রপাত হয় এবং তা ধরা পড়ে ঐ এলাকার কাছাকাছি স্থাপিত Base camp এ বরফের চাঁই (Iceberg) নিয়ে গবেষণারত বিজ্ঞানীদের কম্পিউটারে । স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ছবিতে দেখা যায় তাদের কাছাকাছি একটি এলাকা থেকে ধোঁয়া উড়ছে । বিজ্ঞানীরা প্রথমে একে স্যাটেলাইট ছবির ত্রুটি মনে করলেও পড়ে দেখা যায় সত্যিসত্যিই সেখানে আগুন লেগেছে । অদ্ভুত ব্যাপার হলো ঐ এলাকায় গাছপালা একেবারেই নেই, আছে শুধু ঘাস আর পাথর । তাহলে আগুন লাগলো কিভাবে? গবেষকরা মনে করছেন, সেখানকার পিট (প্রাচীন কার্বন) সমৃদ্ধ কালো মাটিতেই প্রথমে আগুন লাগে । হয়তো কারো সিগারেটের আগুন বা ক্যাম্প ফায়ার (Campfire) থেকে অথবা বজ্রপাত থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে । তবে এক্ষেত্রে বজ্রপাতকেই সম্ভাব্য কারণ বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা । তাদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে গ্রিনল্যান্ডের জলবায়ু পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে । সেখানকার তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর ফলে গ্রিনল্যান্ডের বরফজমাট মাটি গলে গিয়ে ধীরে ধীরে শুকিয়ে আসছে, সে সঙ্গে শুকোচ্ছে ঘাস । আর পরিবর্তিত আবহাওয়ায় বৃষ্টিপাত এবং সে সঙ্গে বজ্রপাতের পরিমাণও বাড়ছে । আর ঘন ঘন বজ্রপাতের ফলে শুকনো পিটমিশ্রিত মাটিতে আগুন ধরে গিয়ে শুকনো ঘাসের মাধ্যমে তা ছড়াচ্ছে । ক্রমান্বয়ে এ দাবানল ছড়িয়ে পড়ে বর্তমানে সেটি আরও বিস্তৃত হচ্ছে । জলবায়ু পরিবর্তন যে এ অঞ্চলে বজ্রপাত বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ সে সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা এখন অনেকটাই নিশ্চিত । কারণ, গত কয়েক বছরে কানাডা এবং আলাস্কাতেও বজ্রপাতের পরিমাণ আগের চেয়ে অনেক বেশি বেড়ে গেছে । আর এরই ধারাবাহিকতায় ঐ অঞ্চলগুলোর চেয়েও উত্তরে অবস্থিত গ্রিনল্যান্ডেও বেড়েছে বজ্রপাত । যদিও কানাডা এবং আলাস্কা'তে প্রচুর গাছপালা থাকার কারণে সেখানে বজ্রপাত বেশি হচ্ছে, তবে গ্রিনল্যান্ডের মত (Tundra) তুন্দ্রা অঞ্চল https://en.wikipedia.org/wiki/Tundra https://www.encyclopedia.com/…/biology-and-genetics/…/tundra https://www.thecanadianencyclopedia.ca/en/article/tundra এখন আর বজ্রপাত থেকে মুক্ত নয় এবং বিজ্ঞানীদের ধারণা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ অঞ্চলে বজ্রপাতের পরিমাণ ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে । সেই সঙ্গে বাড়বে দাবানলের মত ঘটনাও । তবে দুঃশ্চিন্তার বিষয় হচ্ছে, ঘন ঘন দাবানল হলে গ্রিনল্যান্ডের মাটি অতিমাত্রায় উত্তপ্ত হওয়ার কারণে এর গুণগত বৈশিষ্ট্যও পাল্টে যাওয়ার আশংকা রয়েছে । (Permafrost) https://en.wikipedia.org/wiki/Permafrost পারমা ফ্রস্ট (ভূ-গর্ভের মাটির চির বরফ শীতল অংশ) গলে গিয়ে গ্রিনল্যান্ডের ভূ-প্রাকৃতিক পরিবর্তন ঘটে যেতে পারে । এছাড়া দাবানলের কারণে সৃষ্ট কালো ঝুল বরফে ছড়িয়ে পড়ার কারণে সূর্যের তাপ অধিকমাত্রায় শোষিত হবে এবং এর ফলে ঐ অঞ্চলে তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে । ঘন ঘন দাবানলের কারণে পারমা ফ্রস্ট (Permafrost) গলে গিয়ে বায়ুমন্ডলে (Methane gas) মিথেন গ্যাস https://bn.wikipedia.org/wiki/মিথেন https://en.wikipedia.org/wiki/Methane অতিমাত্রায় নিঃসৃত হবে এবং এর ফলে (Global warming) বৈশ্বিক উষ্ণায়নের https://bn.wikipedia.org/wiki/ভূমণ্ডলীয়_উষ্ণতা_বৃদ্ধি http://bn.banglapedia.org/index.php?title=বিশ্ব_উষ্ণায়ন https://en.wikipedia.org/wiki/Global_warming গতিও ত্বরান্বিত হবে । আর গ্রিনল্যান্ডের পশ্চিমাংশের এ ভূ-প্রাকৃতিক ও জলবায়ুগত পরিবর্তন যে দেশটির বরফাচ্ছাদিত অন্যান্য অংশেও বিস্তৃত হবে না, তা-ই বা কে হলফ করে বলতে পারে । আর সেটি হলে সমূহ বিপদ । কারণ মনে রাখতে হবে, গ্রিনল্যান্ডের বরফের বিশাল চাঁই (Iceberg) গলে গেলে পৃথিবীর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৭ মিটার (২৩ ফুট) পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে । আর সেটি হলে আমাদের দেশের মত বিশ্বের অনেক নিম্নাঞ্চলের দেশ তলিয়ে বা ডুবে গিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে গৃহহীন ও স্থানচ্যুত করে সৃষ্টি করবে এক প্রাকৃতিক মহাবিপর্যয় এবং এর প্রভাব বিস্তার ঘটবে সর্বত্র । 

https://web.facebook.com/muhammadashraful.alam/posts/1973955476051113  

প্রত্যাখ্যান (কবি: মায়া অ্যাঞ্জেলো)

প্রত্যাখ্যান কবি: মায়া অ্যাঞ্জেলো অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল প্রিয়তম, অন্য কোনো জীবনে বা দেশে আমি কি তোমার অধরের স্পর্শ অনুভব করে...