Friday, 15 May 2020

দাবানল (Wildfire)

দাবানল, দাবাগ্নি বা আগুনঝড় (Wildfire) হচ্ছে বনভূমি বা গ্রামীণ এলাকার বনাঞ্চলে সংঘটিত এক অনিয়ন্ত্রিত আগুন । প্রখর সূর্যের তাপে ও অধিক ঘনত্বের কারণে বনের তাপমাত্রা অত্যাধিক বেড়ে যায় । তখন মরা গাছের ঘর্ষনে আগুনের ফুলকি'র সৃষ্টি হয় । অত্যাধিক গরম, অনাবৃষ্টি এবং উত্তপ্ত আবহাওয়ায় বনাঞ্চলসমৃদ্ধ যে কোনো স্থানেই দাবানল দেখা দিতে পারে ৷ ঘন পাহাড়িয়া অঞ্চলে দাবানল হবার ঘটনা তুলনামূলক বেশি । উষ্ণ তাপক-শিখা ক্রমশ উপরের দিকে উঠতে থাকে আর পোড়াতে থাকে বন । উঁচু গাছের Canopy বা শামিয়ানাগুলির আগুন অনায়াসে উড়তে থাকে যত্রতত্র এবং অগ্নিকাণ্ড সহজে ভয়াবহ রূপ নেয় । এসব আগুন নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে । যতক্ষণ খুশি আপন মনে জ্বলতে থাকে এ আগুন । কিন্তু, কেন এ ধরণের দাবানলের সৃষ্টি হয়? সাধারণত, যখন কোনো আগুনের উৎস প্রচন্ড তাপমাত্রায় এবং যথেষ্ট পরিমাণে অক্সিজেনের উপস্থিতিতে দাহ্য পদার্থের সংস্পর্শে আসে, তখন দাবানলের সুত্রপাত ঘটে বলেই জানা যায় ৷ গাছপালা থেকে থেকে ক্রমাগত পানি বাস্পীভূত হয়ে সৃষ্টি হয় পানির এই ঘাটতি ৷ এই ঘাটতি পূরণ করা হয় মাটি বা বাতাসে বিদ্যমান জলীয় বাষ্প বা বৃষ্টির পানি শোষণ করে ৷ কিন্তু অনেকদিন ধরে উত্তপ্ত ও শুষ্ক আবহাওয়া চলতে থাকলে গাছপালা পানির এই সমতা রক্ষা করতে না পেরে শুষ্ক ও দাহ্য হয়ে ওঠে ৷ যেসব অঞ্চলের আবহাওয়া এতটাই আর্দ্র যে গাছপালা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, আবার দীর্ঘ সময়ের জন্য শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়া বিরাজ করে, সেসব অঞ্চলে দাবানল ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায় ৷ পরিবেশ বিজ্ঞানীরা কিন্তু জানাচ্ছেন ভিন্ন কথা ৷ তাদের মতে, মোটামুটি চক্রাকারে দাবানলের পুনরাবৃত্তি ঘটে ৷ প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে দাবানল বেশ গুরুত্বপূর্ণ ৷ কারণ, দাবানলের মাধ্যমে লেগে যাওয়া আগুনের ধোঁয়া, পোড়া কাঠ ও উত্তাপ কোনো কোনো উদ্ভিদের অঙ্কুরোদ্গম ও বৃদ্ধির জন্য কাজে লাগে ৷ তাই এসব অঞ্চলে নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় দাবানল অনেকটাই গ্রহণযোগ্য ৷ দাবানল পরিবেশে প্রচুর পরিমাণে (Greenhouse gas) গ্রিনহাউস গ্যাস https://bn.wikipedia.org/wiki/গ্রীনহাউজ_গ্যাস https://en.wikipedia.org/wiki/Greenhouse_gas নিঃসরণ ছাড়াও বিভিন্ন দুষণ-পদার্থের পরিমাণ বাড়িয়ে তোলে, যা মানুষসহ সব প্রাণীর জন্য বড় ধরণের হুমকি ৷ প্রাকৃতিক কারণ যেমন দাবদাহ, অনাবৃষ্টি, খরা, বজ্রপাত, আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাত এবং (El Nino) এল নিনো https://en.wikipedia.org/wiki/El_Niño ধরনের আবহাওয়ার চক্রাকার পরিবর্তনকে জঙ্গলে আগুন লাগার প্রাকৃতিক কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় ৷ মানুষের সৃষ্ট কারণ যেমন সিগারেট, ক্যাম্প ফায়ার (Campfire), চাষাবাদযোগ্য জমি বৃদ্ধি বা নগরায়ণের লক্ষ্যে আগুন লাগানোর সময় দুর্ঘটনাবশত অথবা কোনো দুর্বৃত্ত (বনাঞ্চলে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পিছনে থাকতে পারে চোরা কাঠের কারবারিদের চক্রান্ত কিংবা বনকর্মীদের একাংশের সঙ্গে তাদের আঁতাত) বনে আগুন লাগিয়ে দাবানল সৃষ্টি করার ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে । দাবানলের ভয়ঙ্কর অগ্নিশিখা নির্দিষ্ট এলাকায় এমন ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে যে, তার আশেপাশে, অগ্রভাগে, এমনকি আকাশ সীমার অনেক উপর পর্যন্ত চলে যায় । যার ফলে বিমান, হেলিকপ্টার পর্যন্ত এর উপর দিয়ে উড়াল দিতে আতঙ্কিত হয় । অবস্থা এতই শোচনীয় আকার ধারণ করে যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বশক্তি প্রয়োগ করেও দ্রুত বা তাৎক্ষণিক সর্বসংহারি দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ব্যর্থ হয় । এ যেন মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির এক অসম লড়াই এবং মানুষ তখন অসহায় হয়ে পরে প্রকৃতির কাছে । মুহূর্তেই ভয়াবহ দাবানলের তীব্র দাপদাহে দাউ দাউ করে জ্বলে-পুড়ে নিঃশেষ করে বিস্তৃত বনাঞ্চল । শক্তিশালী বাতাস ও শুকনো বনভূমি আগুনের পালে হাওয়া দেয় । ঘন্টায় ৮০ কিঃ মিঃ গতির বাতাসের সাহায্যে আগুন ভয়াল আকার ধারণ করে । প্রচন্ড বাতাসের উস্কানিতে ক্রমেই পরিধি বৃদ্ধি করতে থাকে দাবানলের লেলিহান জিভ । বিপজ্জনকভাবে ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় আশেপাশের এলাকা । অত্যাধিক তাপমাত্রার ফলে গরমের তীব্রতা ও বিপদের মাত্রা থাকে অনেক বেশি । কখনও তাপমাত্রা বেড়ে যায় প্রায় ১০০ ডিগ্রী পর্যন্ত । আগুন উপরের দিকে এতটাই বিস্তৃত হয় যে, আগুন নেভাতে হিমশিম খেতে হয় দমকল বাহিনীকে (অনেকক্ষেত্রে জীবনের ঝুকি থাকে) । প্রকৃতির এ নির্মমতায় মর্মান্তিকভাবে জীবন্ত দগ্ধ হয় মানুষ-পশু-পাখিসহ অসংখ্য প্রাণ । এ দাবানল মানুষ, জীব-জন্তু, গাছ-পালা, ফসলাদি, বনভূমি, লোকালয়, দোকন-পাট, রাস্তা-গাড়ি ইত্যাদি ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও সম্পদের ক্ষতিসাধন করে । লক্ষ লক্ষ একর জমি পুড়ে শুধুমাত্র দাবানলের গ্রাসে । গৃহহীন হয়ে পরে মানুষ, আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় অস্থায়ী শিবিরে । বিদ্যুৎবিহীন থাকে অধিকাংশ এলাকা এবং জরুরি অবস্থা জারি হয় দুর্গত এলাকায় । উদ্ধার- ত্রাণ কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা হেলিকপ্টার, নৌ-যান, যান-বাহন, ভারী যন্ত্রপাতি এবং পানিবাহী বিমানের সাহায্যে প্রাকৃতিক এ বিপর্যয়কে মোকাবেলা ও উদ্ধার কাজে আপ্রাণ চেষ্টায় সহায়তা করে । হয়তো কখনও আন্তর্জাতিক সাহায্যেরও প্রয়োজন হয় । বিধ্বংসী দাবানলে ঝলসে যায় অপরূপ সুন্দর প্রকৃতির চেহারা । অবাধে নষ্ট হয় জীব বৈচিত্র্য । অস্ট্রেলিয়ানরা এ দাবানলকে ‘স্থল সুনামি’ বলে । বীভৎস্য এ দাবানলের ফলে প্রকৃতির উপর কি প্রভাব পড়তে যাচ্ছে, তা নিয়ে বিশ্লেষণে নেমেছে (NASA) নাসা'র https://en.wikipedia.org/wiki/NASA বিজ্ঞানীরা ৷ নাসা'র Armstrong Flight Research Center এর ইআর-২ বিমানটি মাটি থেকে প্রায় ২১ হাজার ৩০০ মিটার উচ্চতায় যেতে সক্ষম । যেটি যাত্রীবাহী বিমানের উড়ান ক্ষমতার দ্বি-গুণ ৷ আধুনিক প্রযুুক্তির এ বিমানে অ্যাভিরিস (Everis Camrea) নামের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা সংযুুক্ত আছে, যেটির সাহায্যে আগুন এবং ধোঁয়ার মধ্যেও পরিবেশ ও জমি'র অবস্থা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া সম্ভব ৷ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, উষ্ণতা বা আগুনের তাপমাত্রা কত, তাও সঠিকভাবে জানাতে সক্ষম এ যন্ত্রটি ৷ এছাড়া, National Center for Atmospheric Research (NCAR) https://en.wikipedia.org/…/National_Center_for_Atmospheric_… এবং University of Maryland এর বিজ্ঞানীরা একটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন যেটি আবহাওয়া ও আগুনের মিথষ্ক্রিয়ায় Cutting Edge Simulations এর সাথে স্যাটেলাইট (Satellite) দ্বারা পর্যবেক্ষণকৃত সক্রিয় দাবানলকে একত্রিত করে । এটিই সর্বপ্রথম কম্পিউটার মডেলিং (Computer modeling) যেটি আমাদের অবিচ্ছিন্ন এবং হালনাগাদকৃত দিনভর ভবিষ্যতবাণীর প্রতিশ্রুতি দেয় । কম্পিউটার মডেল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ যেমন আগুনের ফুলকি'র বিস্তার এবং এর আচরণের পরিবর্তন অনুমান করে প্রতি ১২ ঘণ্টা পর পর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে । National Center for Atmospheric Research এর বিজ্ঞানী (Janice Coen) জেনিস কোয়েন https://staff.ucar.edu/users/janicec https://www.linkedin.com/in/janice-coen-8269b572 https://wildfiretoday.com/tag/janice-coen/ একটা যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন যাকে বলা হয় Coupled Atmosphere-Wildland Fire Environment (CAWFE) কম্পিউটার মডেল, যেটি সংযোগ ঘটায় কিভাবে আবহাওয়া / জলবায়ু আগুনকে পরিচালিত করে এবং এর মাধ্যমে কিভাবে আগুন তাদের নিজস্ব জলবায়ু তৈরি করে এবং বড় ধরণের দাবানল তৈরি হয় । তবে এর জন্য প্রয়োজন সবচেয়ে হালনাগাদ তথ্য । কারণ, অনেকগুলো উপাদান/ ঘটনা দাবানলের আকার এবং এর পথ পরিবর্তন করতে পারে । পরিবেশবিদরা বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন যে, দাবানলের উত্তাপে আরও দ্রুত গলে যেতে পারে (Glacier) হিমবাহগুলি https://bn.wikipedia.org/wiki/হিমবাহ https://en.wikipedia.org/wiki/Glacier । এর ফলে বন্যার পাশাপাশি, নদীর জলে Black carbon https://en.wikipedia.org/wiki/Black_carbon মিশে গিয়ে ব্যাপক দুষণের সম্ভাবনা দেখা দিবে । পৃথিবী'র অন্যান্য অঞ্চলেই যে শুধু দাবানলের আগ্রাসন তা কিন্তু নয়, গ্রিনল্যান্ডের (Greenland) https://en.wikipedia.org/wiki/Greenland বরফাচ্ছাদিত শীতপ্রধান দেশেও দাবানল আঘাত হানে । যেখানে তাপমাত্রা বছরের বেশিরভাগ সময়েই মাইনাস জিরো ডিগ্রী সেলসিয়াসের নিচে থাকে । এমনকি মাইনাস ২০ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা তারও বেশি নিচে নেমে যায় । এ রকম প্রতিকূল আবহাওয়ায় সাধারণভাবে মানুষ বসবাসের উপযোগী নয় । ফলে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলেই মূলত জনবসতি গড়ে উঠেছে । সে অংশে তাপমাত্রা সাধারণত মাইনাস ৭ ডিগ্রী থেকে ১০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যেই থাকে । এমন একটি শীতপ্রধান দেশে দাবানল হতে পারে সেটি বিজ্ঞানীদের কল্পনাতেই আসেনি । গত ৩১ জুলাই Kangerlussuaq শহরের কাছে এ দাবানলের সূত্রপাত হয় এবং তা ধরা পড়ে ঐ এলাকার কাছাকাছি স্থাপিত Base camp এ বরফের চাঁই (Iceberg) নিয়ে গবেষণারত বিজ্ঞানীদের কম্পিউটারে । স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ছবিতে দেখা যায় তাদের কাছাকাছি একটি এলাকা থেকে ধোঁয়া উড়ছে । বিজ্ঞানীরা প্রথমে একে স্যাটেলাইট ছবির ত্রুটি মনে করলেও পড়ে দেখা যায় সত্যিসত্যিই সেখানে আগুন লেগেছে । অদ্ভুত ব্যাপার হলো ঐ এলাকায় গাছপালা একেবারেই নেই, আছে শুধু ঘাস আর পাথর । তাহলে আগুন লাগলো কিভাবে? গবেষকরা মনে করছেন, সেখানকার পিট (প্রাচীন কার্বন) সমৃদ্ধ কালো মাটিতেই প্রথমে আগুন লাগে । হয়তো কারো সিগারেটের আগুন বা ক্যাম্প ফায়ার (Campfire) থেকে অথবা বজ্রপাত থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে । তবে এক্ষেত্রে বজ্রপাতকেই সম্ভাব্য কারণ বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা । তাদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে গ্রিনল্যান্ডের জলবায়ু পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে । সেখানকার তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর ফলে গ্রিনল্যান্ডের বরফজমাট মাটি গলে গিয়ে ধীরে ধীরে শুকিয়ে আসছে, সে সঙ্গে শুকোচ্ছে ঘাস । আর পরিবর্তিত আবহাওয়ায় বৃষ্টিপাত এবং সে সঙ্গে বজ্রপাতের পরিমাণও বাড়ছে । আর ঘন ঘন বজ্রপাতের ফলে শুকনো পিটমিশ্রিত মাটিতে আগুন ধরে গিয়ে শুকনো ঘাসের মাধ্যমে তা ছড়াচ্ছে । ক্রমান্বয়ে এ দাবানল ছড়িয়ে পড়ে বর্তমানে সেটি আরও বিস্তৃত হচ্ছে । জলবায়ু পরিবর্তন যে এ অঞ্চলে বজ্রপাত বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ সে সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা এখন অনেকটাই নিশ্চিত । কারণ, গত কয়েক বছরে কানাডা এবং আলাস্কাতেও বজ্রপাতের পরিমাণ আগের চেয়ে অনেক বেশি বেড়ে গেছে । আর এরই ধারাবাহিকতায় ঐ অঞ্চলগুলোর চেয়েও উত্তরে অবস্থিত গ্রিনল্যান্ডেও বেড়েছে বজ্রপাত । যদিও কানাডা এবং আলাস্কা'তে প্রচুর গাছপালা থাকার কারণে সেখানে বজ্রপাত বেশি হচ্ছে, তবে গ্রিনল্যান্ডের মত (Tundra) তুন্দ্রা অঞ্চল https://en.wikipedia.org/wiki/Tundra https://www.encyclopedia.com/…/biology-and-genetics/…/tundra https://www.thecanadianencyclopedia.ca/en/article/tundra এখন আর বজ্রপাত থেকে মুক্ত নয় এবং বিজ্ঞানীদের ধারণা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ অঞ্চলে বজ্রপাতের পরিমাণ ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে । সেই সঙ্গে বাড়বে দাবানলের মত ঘটনাও । তবে দুঃশ্চিন্তার বিষয় হচ্ছে, ঘন ঘন দাবানল হলে গ্রিনল্যান্ডের মাটি অতিমাত্রায় উত্তপ্ত হওয়ার কারণে এর গুণগত বৈশিষ্ট্যও পাল্টে যাওয়ার আশংকা রয়েছে । (Permafrost) https://en.wikipedia.org/wiki/Permafrost পারমা ফ্রস্ট (ভূ-গর্ভের মাটির চির বরফ শীতল অংশ) গলে গিয়ে গ্রিনল্যান্ডের ভূ-প্রাকৃতিক পরিবর্তন ঘটে যেতে পারে । এছাড়া দাবানলের কারণে সৃষ্ট কালো ঝুল বরফে ছড়িয়ে পড়ার কারণে সূর্যের তাপ অধিকমাত্রায় শোষিত হবে এবং এর ফলে ঐ অঞ্চলে তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে । ঘন ঘন দাবানলের কারণে পারমা ফ্রস্ট (Permafrost) গলে গিয়ে বায়ুমন্ডলে (Methane gas) মিথেন গ্যাস https://bn.wikipedia.org/wiki/মিথেন https://en.wikipedia.org/wiki/Methane অতিমাত্রায় নিঃসৃত হবে এবং এর ফলে (Global warming) বৈশ্বিক উষ্ণায়নের https://bn.wikipedia.org/wiki/ভূমণ্ডলীয়_উষ্ণতা_বৃদ্ধি http://bn.banglapedia.org/index.php?title=বিশ্ব_উষ্ণায়ন https://en.wikipedia.org/wiki/Global_warming গতিও ত্বরান্বিত হবে । আর গ্রিনল্যান্ডের পশ্চিমাংশের এ ভূ-প্রাকৃতিক ও জলবায়ুগত পরিবর্তন যে দেশটির বরফাচ্ছাদিত অন্যান্য অংশেও বিস্তৃত হবে না, তা-ই বা কে হলফ করে বলতে পারে । আর সেটি হলে সমূহ বিপদ । কারণ মনে রাখতে হবে, গ্রিনল্যান্ডের বরফের বিশাল চাঁই (Iceberg) গলে গেলে পৃথিবীর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৭ মিটার (২৩ ফুট) পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে । আর সেটি হলে আমাদের দেশের মত বিশ্বের অনেক নিম্নাঞ্চলের দেশ তলিয়ে বা ডুবে গিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে গৃহহীন ও স্থানচ্যুত করে সৃষ্টি করবে এক প্রাকৃতিক মহাবিপর্যয় এবং এর প্রভাব বিস্তার ঘটবে সর্বত্র । 

https://web.facebook.com/muhammadashraful.alam/posts/1973955476051113  

No comments:

Post a Comment

প্রত্যাখ্যান (কবি: মায়া অ্যাঞ্জেলো)

প্রত্যাখ্যান কবি: মায়া অ্যাঞ্জেলো অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল প্রিয়তম, অন্য কোনো জীবনে বা দেশে আমি কি তোমার অধরের স্পর্শ অনুভব করে...