প্রায় দুই হাজার বছর আগে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট পাহাড় চূড়ায় স্বচ্ছ জলের সরোবর 'বগাকাইন হ্রদ বা বগাহ্রদ' (Bogalake, The Lake of Mystery, Dragon Lake) সৃষ্টি নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড় ও ঘন অরণ্যে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বম, মারমা, মুরং বা ম্রো, তঞ্চংগ্যা, খুমি ও ত্রিপুরাদের পৌরাণিক কাহিনি বা কিংবদন্তী প্রচলিত আছে ।
অনেক কাল আগে বগাহ্রদের পাশে চোঙা আকৃতি পাহাড়ের কাছে বম পাড়া (বগামুখপাড়া) এবং মুরং পাড়া থেকে প্রায়ই গবাদিপশু ও ছোট শিশুরা হারিয়ে যেতো! অতিষ্ঠ ও বিপদগ্রস্ত গ্রামগুলোর অধিবাসীরা এর কারণ অনুসন্ধান করে দেখে, সে পাহাড়ের চূড়ায় এক ভয়ঙ্কর ড্রাগন বাস করে । বম ভাষায় ড্রাগনকে ''বগা'' বলে । ড্রাগন-দেবতাকে সন্তুষ্ট করতে আদিম আদিবাসীরা গবাদী পশু উৎসর্গ করতেন । কিন্তু একবার কয়েকজন মিলে এ ড্রাগন দেবতাকে হত্যা করার ফলে চূড়াটি জলমগ্ন হ্রদে পরিণত হয় এবং গ্রামগুলো ধ্বংস হয়ে যায় । অপর এক পৌরাণিক কাহিনী মতে বগাহ্রদ ছিল একটি সমৃদ্ধ ম্রো আদিবাসী গ্রাম । গ্রামের পাশে একটি সুড়ঙ্গে এক বৃহদাকার সাপের বসবাস ছিল । এক দিন ঐ সাপ গ্রামবাসী ধরে খেয়ে ফেলে । সাপ খাওয়ার ফলে নাগ রাজার প্রতিশোধের কারণে গ্রামবাসীসহ সম্পূর্ণ গ্রামটি দেবে গিয়ে বগাহ্রদের সৃষ্টি হয় । এখনো অনেক বম, ম্রো'দের দৃঢ় বিশ্বাস হ্রদের গভীরে থাকা নাগরাজ লেজ নাড়ালে হ্রদের পানি ঘোলাটে হয়ে যায় । মারমা জনগোষ্ঠীরা বগাহ্রদকে পবিত্র হিসেবে মনে করেন ।
মায়াবী প্রকৃতির এক অনন্য সৃষ্টি বগাহ্রদ বাংলাদেশের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি বান্দরবান জেলাধীন রুমা উপজেলায় কেওক্রাডং পর্বতের গা ঘেষে নাইতং মৌজায় পলিতাই পর্বতশ্রেণীর অন্তর্গত আরেকটি ছোট পাহাড়ের চুড়ায় অবস্থিত মালভূমিতে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,২৪৬ ফুট (৩৮০ মিটার) উচ্চতায় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্বাদু পানির হ্রদ । আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখের মতো দেখতে এবং ভুবন স্তরসমষ্টির (Bhuban Foundation) নরম শিলায় গঠিত এ হ্রদ পাহাড়ের উপরে প্রায় ১৫ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত । ভূতাত্ত্বিকগণের মতে বগাহ্রদ মৃত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ, মহাশূন্য থেকে উল্কাপিণ্ড পতনের ফলে কিংবা ভূমিধ্বসের কারণে সৃষ্টি হয়েছে । এ হ্রদের পানি পান করা যায় এবং হ্রদের জলে মাছ, শ্যাওলা, শাপলা, শালুক ও অন্যান্য জলজ উদ্ভিদ প্রচুর পরিমাণে রয়েছে ।
অদ্ভুত সুন্দর নীল বর্ণের পানির এ হ্রদটি তিনদিক থেকে পর্বতশৃঙ্গ দ্বারা পরিবেষ্টিত । বগাহ্রদের গভীরতা ৩৮ মিটার (১২৫ ফুট) । চারিদিক পাহাড় ও সবুজে ঘেরা সম্পূর্ণ আবদ্ধ এ হ্রদ থেকে কোনো পানি বের হতে পারে না এবং এ হ্রদে কোনো পানি ঢুকতেও পারে না । সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ব্যাপার যে, এত উপরে যে বগাহ্রদ- যার আশেপাশে না আছে কোনো ঝরনা বা কোনো প্রকার পানির উৎস । তবে এ হ্রদ যে উচ্চতায় অবস্থিত সেখান থেকে ১৫৩ মিটার নিচে চিরহরিৎ প্রকৃতির মাঝে 'বগাছড়া' (জ্বালা-মুখ) নামে ছোট একটি জলপ্রপাতের উৎস রয়েছে । এ হ্রদের পানি কখনও পরিষ্কার আবার কখনওবা ভিন্ন রূপে রং বদলে যায় । জলবায়ু পরিবর্তন, আগ্নেগিরির প্রভাব কিংবা হ্রদে কোনো জলজ উদ্ভিদ নির্দিষ্ট সময়ে মরে পচে এ হ্রদের পানি ঘোলাটে হতে পারে । এছাড়া অনেকে মনে করেন হ্রদের তলদেশে একটি উষ্ণ প্রস্রবণ রয়েছে । এ প্রস্রবণ থেকে পানি বের হওয়ার সময় (প্রবাহের কারণে) বগাহ্রদের পানির রঙ ক্ষণেক্ষণে বদলে যায় । ফলে এ রহস্যময়ী বগাহ্রদ সকাল, বিকেল, সন্ধ্যা এবং রাতে অসাধারণ সুন্দর, ঐন্দ্রজালিক ও প্রাণবন্ত এক নতুন রূপ ধারণ করে । জ্যোৎস্না রাতে কিংবা নিকষ কালো অন্ধকার রাতে জোনাকি'র নিভু নিভু আলোকে ম্রিয়মাণ আর পাহাড়ের গা স্পর্শ করে এক ফালি চাঁদ নম্র আলোর ঝলক নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে বগাহ্রদের শান্তজলে । প্রকৃতির এ এক বিষ্ময়কর অপার সৌন্দর্য! শীতের সকালে বগাহ্রদে মেঘ- পাহাড়ের কোলে কুয়াশা'র ফাঁকে সূর্যের অপরূপ সুন্দর নীলাভ আলোর বিচ্ছুরণ এবং চির সবুজের মাঝে এক অপূর্ব হিমশীতল প্রশান্তিময় স্বর্গীয় অনুভূতি! পাহাড় চুড়ায় বরফ জলের আস্তরে প্রকৃতির এক অসাধারণ প্রতিচ্ছবি । কখনো হ্রদের নীল জলে স্নিগ্ধ বাতাসে ছোট ছোট ঢেউয়ের বাঁকে সূর্যকিরণ নৃত্য করে । গ্রীস্মে শান্তজলের বগাহ্রদ নীল আকাশের কাছ থেকে একমুঠো নীল রং নিয়ে সে বর্ণীল রঙে নিজের আকর্ষণীয় রূপ ধারণ করে নেয় । বরফাচ্ছন্ন পাহাড় চূড়ায় দ্যুতিময় রৌদ্র নীল আকাশে মিশে তৈরি করে এক নৈসর্গিক বিস্ময়!
এ যেন নৈঃশব্দময় সবুজ প্রকৃতি, বগাহ্রদ, নিস্তব্ধতা, নীল আকাশ, পাহাড়, জলপ্রপাত, দিগন্ত আর নীলজলের মিত্রতা ।
#বগাহ্রদ #বগাকাইন #বগালেক #Bogalake #TheLakeOfMystery #DragonLake
https://web.facebook.com/photo.php?fbid=2850384401741545&set=a.355185204594823&type=3&theater
অনেক কাল আগে বগাহ্রদের পাশে চোঙা আকৃতি পাহাড়ের কাছে বম পাড়া (বগামুখপাড়া) এবং মুরং পাড়া থেকে প্রায়ই গবাদিপশু ও ছোট শিশুরা হারিয়ে যেতো! অতিষ্ঠ ও বিপদগ্রস্ত গ্রামগুলোর অধিবাসীরা এর কারণ অনুসন্ধান করে দেখে, সে পাহাড়ের চূড়ায় এক ভয়ঙ্কর ড্রাগন বাস করে । বম ভাষায় ড্রাগনকে ''বগা'' বলে । ড্রাগন-দেবতাকে সন্তুষ্ট করতে আদিম আদিবাসীরা গবাদী পশু উৎসর্গ করতেন । কিন্তু একবার কয়েকজন মিলে এ ড্রাগন দেবতাকে হত্যা করার ফলে চূড়াটি জলমগ্ন হ্রদে পরিণত হয় এবং গ্রামগুলো ধ্বংস হয়ে যায় । অপর এক পৌরাণিক কাহিনী মতে বগাহ্রদ ছিল একটি সমৃদ্ধ ম্রো আদিবাসী গ্রাম । গ্রামের পাশে একটি সুড়ঙ্গে এক বৃহদাকার সাপের বসবাস ছিল । এক দিন ঐ সাপ গ্রামবাসী ধরে খেয়ে ফেলে । সাপ খাওয়ার ফলে নাগ রাজার প্রতিশোধের কারণে গ্রামবাসীসহ সম্পূর্ণ গ্রামটি দেবে গিয়ে বগাহ্রদের সৃষ্টি হয় । এখনো অনেক বম, ম্রো'দের দৃঢ় বিশ্বাস হ্রদের গভীরে থাকা নাগরাজ লেজ নাড়ালে হ্রদের পানি ঘোলাটে হয়ে যায় । মারমা জনগোষ্ঠীরা বগাহ্রদকে পবিত্র হিসেবে মনে করেন ।
মায়াবী প্রকৃতির এক অনন্য সৃষ্টি বগাহ্রদ বাংলাদেশের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি বান্দরবান জেলাধীন রুমা উপজেলায় কেওক্রাডং পর্বতের গা ঘেষে নাইতং মৌজায় পলিতাই পর্বতশ্রেণীর অন্তর্গত আরেকটি ছোট পাহাড়ের চুড়ায় অবস্থিত মালভূমিতে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,২৪৬ ফুট (৩৮০ মিটার) উচ্চতায় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্বাদু পানির হ্রদ । আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখের মতো দেখতে এবং ভুবন স্তরসমষ্টির (Bhuban Foundation) নরম শিলায় গঠিত এ হ্রদ পাহাড়ের উপরে প্রায় ১৫ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত । ভূতাত্ত্বিকগণের মতে বগাহ্রদ মৃত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ, মহাশূন্য থেকে উল্কাপিণ্ড পতনের ফলে কিংবা ভূমিধ্বসের কারণে সৃষ্টি হয়েছে । এ হ্রদের পানি পান করা যায় এবং হ্রদের জলে মাছ, শ্যাওলা, শাপলা, শালুক ও অন্যান্য জলজ উদ্ভিদ প্রচুর পরিমাণে রয়েছে ।
অদ্ভুত সুন্দর নীল বর্ণের পানির এ হ্রদটি তিনদিক থেকে পর্বতশৃঙ্গ দ্বারা পরিবেষ্টিত । বগাহ্রদের গভীরতা ৩৮ মিটার (১২৫ ফুট) । চারিদিক পাহাড় ও সবুজে ঘেরা সম্পূর্ণ আবদ্ধ এ হ্রদ থেকে কোনো পানি বের হতে পারে না এবং এ হ্রদে কোনো পানি ঢুকতেও পারে না । সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ব্যাপার যে, এত উপরে যে বগাহ্রদ- যার আশেপাশে না আছে কোনো ঝরনা বা কোনো প্রকার পানির উৎস । তবে এ হ্রদ যে উচ্চতায় অবস্থিত সেখান থেকে ১৫৩ মিটার নিচে চিরহরিৎ প্রকৃতির মাঝে 'বগাছড়া' (জ্বালা-মুখ) নামে ছোট একটি জলপ্রপাতের উৎস রয়েছে । এ হ্রদের পানি কখনও পরিষ্কার আবার কখনওবা ভিন্ন রূপে রং বদলে যায় । জলবায়ু পরিবর্তন, আগ্নেগিরির প্রভাব কিংবা হ্রদে কোনো জলজ উদ্ভিদ নির্দিষ্ট সময়ে মরে পচে এ হ্রদের পানি ঘোলাটে হতে পারে । এছাড়া অনেকে মনে করেন হ্রদের তলদেশে একটি উষ্ণ প্রস্রবণ রয়েছে । এ প্রস্রবণ থেকে পানি বের হওয়ার সময় (প্রবাহের কারণে) বগাহ্রদের পানির রঙ ক্ষণেক্ষণে বদলে যায় । ফলে এ রহস্যময়ী বগাহ্রদ সকাল, বিকেল, সন্ধ্যা এবং রাতে অসাধারণ সুন্দর, ঐন্দ্রজালিক ও প্রাণবন্ত এক নতুন রূপ ধারণ করে । জ্যোৎস্না রাতে কিংবা নিকষ কালো অন্ধকার রাতে জোনাকি'র নিভু নিভু আলোকে ম্রিয়মাণ আর পাহাড়ের গা স্পর্শ করে এক ফালি চাঁদ নম্র আলোর ঝলক নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে বগাহ্রদের শান্তজলে । প্রকৃতির এ এক বিষ্ময়কর অপার সৌন্দর্য! শীতের সকালে বগাহ্রদে মেঘ- পাহাড়ের কোলে কুয়াশা'র ফাঁকে সূর্যের অপরূপ সুন্দর নীলাভ আলোর বিচ্ছুরণ এবং চির সবুজের মাঝে এক অপূর্ব হিমশীতল প্রশান্তিময় স্বর্গীয় অনুভূতি! পাহাড় চুড়ায় বরফ জলের আস্তরে প্রকৃতির এক অসাধারণ প্রতিচ্ছবি । কখনো হ্রদের নীল জলে স্নিগ্ধ বাতাসে ছোট ছোট ঢেউয়ের বাঁকে সূর্যকিরণ নৃত্য করে । গ্রীস্মে শান্তজলের বগাহ্রদ নীল আকাশের কাছ থেকে একমুঠো নীল রং নিয়ে সে বর্ণীল রঙে নিজের আকর্ষণীয় রূপ ধারণ করে নেয় । বরফাচ্ছন্ন পাহাড় চূড়ায় দ্যুতিময় রৌদ্র নীল আকাশে মিশে তৈরি করে এক নৈসর্গিক বিস্ময়!
এ যেন নৈঃশব্দময় সবুজ প্রকৃতি, বগাহ্রদ, নিস্তব্ধতা, নীল আকাশ, পাহাড়, জলপ্রপাত, দিগন্ত আর নীলজলের মিত্রতা ।
#বগাহ্রদ #বগাকাইন #বগালেক #Bogalake #TheLakeOfMystery #DragonLake
https://web.facebook.com/photo.php?fbid=2850384401741545&set=a.355185204594823&type=3&theater
No comments:
Post a Comment