Wednesday, 13 May 2020

নীল অপরাজিতা / নীলমণি লতা



নীল অপরাজিতা, নীলমণি লতা
বৈজ্ঞানিক নাম : Clitoria ternatea
ইংরেজী নাম : Asian pigeonwings, Butterfly pea, Bluebell, Blue pea vine, Mussel-shell climber.
নীল অপরাজিতা সাধারণত গাঢ় নীল রঙের হয় । ফুলের ভেতরের দিকটা সাদা এবং কখনো একটু হলদে আভা যুক্ত হয়ে থাকে । লাল, হলুদ, নীল, সাদা ও হালকা বেগুনী রঙের অপরাজিতা ফুল দেখা যায় । তবে, কিছু প্রজাতি দেখতে অনেকটা প্রজাপতির মতোই । সাদা অপরাজিতা ফুল মহেশ্বেতা নামে পরিচিত ।
অপরাজিতা লতা জাতীয় গাছ এবং অনেক লম্বা হয় । এটি আশেপাশের উঁচু গাছ বেয়ে তরতর করে বেড়ে ওঠে । বিচ্ছিন্ন বা নিঃসঙ্গভাবে সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে নীল ফুল ফুটে তার সৌন্দর্যকে বিলিয়ে দেয় । অপরাজিতা বর্ষজীবী লতা জাতীয় উদ্ভিদ এবং গোলাকার বা ডিম্বাকৃতি সবুজ পাতা বিশিষ্ট । সারা বছরই ফুল ফুটে থাকে এবং ফুলে কোনো গন্ধ নেই । অপরাজিতার ফল দেখতে শিমের মতো । সাধারণত অপরাজিতা ফুলের বীজ মাটিতে পড়ে নিজ থেকেই চারা বের হয় । এটি বীজের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে বংশবিস্তার লাভ করে । খুব সহজেই বীজ থেকে নতুন চারা উৎপাদন করা যায় । চিরসবুজ এই শোভাবর্ধক ফুল গাছটি ঝোপঝাড়ে, বনে, আশেপাশের উঁচু গাছে, বাড়ির আঙিনা, টবে এবং বাগানে জন্ম নেয় । শীত, গ্রীষ্ম ও বর্ষা যে কোনো ঋতুতে এটি নিজ মহিমায় ফুল ফুটে । তবে, ফুল ফোটার পরিমাণ কখনো কম-বেশী হয় । এই গাছের প্রধান শত্রু হচ্ছে পানি এবং গাছের গোড়ায় পানি জমলে নিশ্চিত মৃত্যু ।
ধারণা করা হয়, মালাক্কা দ্বীপপুঞ্জের Ternate Island হচ্ছে অপরাজিতা ফুল গাছের উৎপত্তিস্থল । ফলে, এই লতা জাতীয় উদ্ভিদ প্রজাতিটির নাম রাখা হয়েছে Ternatea । অপরাজিতা Clitoria গনভুক্ত উদ্ভিদ এবং এটির ফুলের আকার ও আকৃতি মানুষের স্ত্রী যৌনাঙ্গের (Female genitals) মতো দেখতে । তাই, Clitoris শব্দ থেকে এর মহাজাতি ল্যাটিন ভাষায় নামকরণ করা হয় Clitoria (যোনীপুষ্প) । সুইডিশ উদ্ভিদ বিজ্ঞানী Carl Linnaeus https://en.wikipedia.org/wiki/Carl_Linnaeus মানুষের স্ত্রী যৌনাঙ্গের আকৃতি এবং উদ্ভিদে প্রাপ্ত রাসায়নিক উপাদানের উপর নির্ভর করে এর বংশ এবং প্রজাতির নামকরণ করেন যথাক্রমে Clitoria এবং Ternatea ।
অসাধারণ সুন্দর নীল অপরাজিতা ফুলে আছে নীলের রাজত্ব । এর রূপমাধুর্য, মাহাত্ম্য, ঐশ্বর্য এবং আভিজাত্যের কারণে সত্যিকারভাবেই ফুলটি অপরাজিতা, অপরাজেয় ও অজেয় বা অদ্বিতীয়া । বৃষ্টিস্নাত নীল অপরাজিতা ফুল সবার দৃষ্টি কেড়ে নেয় এবং মনকে উদ্বেলিত করে । এই ফুলটি পবিত্র এবং পূজনীয় । তাই, দৃষ্টিনন্দন এই ফুলকে অধিকাংশ মানুষ ভালোবাসে । অপরাজিতা কেবল শুধু চমৎকার সৌন্দর্যেই নয়, বরং এর অনেক বৈশিষ্ট্য রয়েছে । অপরাজিতার আছে এক বিশেষ ঔষধি গুণাগুণ । এই গাছের ফুল, পাপড়ি, লতা এবং মূল বা শিকড় বিভিন্ন রোগের মহৌষধ । ত্বকের রূপচর্চা, চুল পড়া রোধ, হজমশক্তি বৃদ্ধি, জোলাপ বা রেচক (কোষ্ঠকাঠিন্য হলে), মূত্রবর্ধক, বয়ঃসন্ধিকালীন অস্থিরতায় উৎকণ্ঠা ও অবসাদ হ্রাস, মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি, শোথ বা ফুলা, দৃষ্টিশক্তির দুর্বলতা, প্রসবকালীন ব্যাথানাশক, শুষ্ক কাশি, মূর্ছিত হত্তয়া বা জ্ঞান হারানো (Swoon), পাকস্থলীর কার্যকারিতা, চর্মরোগ, গলার ক্ষত (গলগন্ড রোগ), আব (Tumor), কান ব্যাথা এবং সাপ ও পোকামাকড়ের কামড়ে বিশেষভাবে কার্যকরী । এছাড়া, নীল অপরাজিতার পাপড়ী দিয়ে তৈরি চা এর স্বাদ অতুলনীয় এবং এর ক্ষতিকর দিক কম ও আশঙ্কামুক্ত ।
জানিনা, কেন কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচী অনন্য সুন্দর অপরাজিতাকে নিয়ে বলেছেন —
পরাজিতা তুই সকল ফুলের কাছে,
তবু কেন তোর অপরাজিতা নাম ?
গন্ধ কি তোর বিন্দুমাত্র আছে ?
বর্ণ- সেও তো নয় নয়নাভিরাম ।
ক্ষুদ্র সেফালি, তারও মধুর-সৌরভ;
ক্ষুদ্র অতসী, তারও কাঞ্চন-ভাতি;
গরবিণি, তোর কিসে তবে গৌরব!
রূপগুণহীন বিড়ম্বনার খ্যাতি!
কালো আঁখিপুটে শিশির-অশ্রু ঝরে—
ফুল কহে— মোর কিছু নাই কিছু নাই,
তোমরা যে নামে ডাকিয়াছ দয়া করে,
আমি শুধু ভাই, তাই— আমি শুধু তাই ।
ফুলসজ্জায় লজ্জায় যাই নাক,
পুষ্পমালায় নাহিক আমার স্থান,
প্রিয় উপহারে ভুলেও কি মোরে ডাক?
বিবাহ-বাসরে থাকি আমি ম্রিয়মাণ ।
মোর ঠাঁই শুধু দেবের চরণতলে,
পূজা-শুধু-পূজা জীবনের মোর ব্রত;
তিনিও কি মোরে ফিরাবেন আঁখিজলে—
অন্তরযামী,— তিনিও তোমারি মতো?
ছবি : নিজ ।
তথ্যসূত্র: আন্তর্জাল (The Internet), উইকিপিডিয়া ।
ছবি : নিজ ।

https://web.facebook.com/muhammadashraful.alam/posts/2259634860816505

https://en.wikipedia.org/wiki/Clitoria_ternatea?fbclid=IwAR0PybLiIv9kn3sKXB0umUdifJx0LTZ8oqVlAN69biAfLiop2fu1hl9LcOk


No comments:

Post a Comment

প্রত্যাখ্যান (কবি: মায়া অ্যাঞ্জেলো)

প্রত্যাখ্যান কবি: মায়া অ্যাঞ্জেলো অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল প্রিয়তম, অন্য কোনো জীবনে বা দেশে আমি কি তোমার অধরের স্পর্শ অনুভব করে...