Friday, 15 May 2020

কোহিনূর হীরা (Kohinoor diamond)

                                                              ছবি: www.blogspot.com 
কোহিনূর পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয়, বহুল আলোচিত, বিতর্কিত এবং বড় একটি হীরার নাম । কোহিনূর শব্দটি ফারসি শব্দ কোহ-ই-নূর থেকে এসেছে । যার শাব্দিক অর্থ ''আলোর পর্বত'' (Mountain of Light) । কোহিনূরের প্রকৃত নাম সামন্তিক মণি । বিখ্যাত কোহিনূর পাথরটির রঙ হচ্ছে বর্ণহীন বা শুভ্র এবং এর ৩৩টি পার্শ্ব রয়েছে । কোহিনূর হীরার পেছনে রয়েছে অনেক পৌরাণিক কাহিনী, লোকবিশ্বাস আর মর্মান্তিক রক্তপাতের ইতিহাস । কোহিনূর আবিষ্কৃত হয় আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে । অনেক সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস কোহিনূর হীরাটি পরম পুরুষোত্তম ভগবান কৃষ্ণের (শ্রীকৃষ্ণ) কাছে 'সামন্তিকা' নামে পরিচিত ছিল । শ্রী কৃষ্ণ যখন ঘুমিয়ে ছিলেন তখন এটি চুরি হয়ে যায় । কারো কারো ধারণা, এই কোহিনূর হীরা ছিল প্রাচীন মালব রাজবংশের সম্পত্তি । এছাড়া, অনেকেই মনে করেন যে কাকাতিয়া (৯৫৬ - ১৩২৪ খ্রিস্টাব্দ) রাজবংশের দেবীমন্দিরে অধিষ্ঠিত দেবীর চোখ হিসেবে কোহিনূর হীরক ব্যবহৃত হয়েছিল । খ্রিস্টপূর্ব ৩২০০ সালে কোহিনূর প্রথম আবিষ্কৃত হয় নদীর তলদেশে । ঐতিহাসিকদের মতে, বর্তমান ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্যের হায়দ্রাবাদের গুন্টুর জেলার কৃষ্ণা নদীর দক্ষিণ তীরে পরিতলা কোল্লুর খনি থেকে এটি পাওয়া যায় । পরিতলা কোল্লুর খনি হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম হীরা উৎপাদনকারী অঞ্চল । ’কোহিনূর’, কোহিনূরের যমজ হীরা ’দরিয়া-ই-নূর’ এবং ’নূর-উল-আইন’ নামের হীরাগুলো এই খনি থেকেই আবিষ্কৃত হয় । সর্বপ্রথম কাকাতিয়া রাজবংশের (১১৬৩ - ১৩২৩ খ্রিঃ শাসনকাল) শাসকদের হাতে ছিল কোহিনূর হীরাটি । চতুর্দশ শতকের প্রথম দিকে (১৩০১ - ১৩১১ খ্রিঃ) তুর্কী মুসলিম শাসক আলাউদ্দিন খিলজির একসময় যিনি গোলাম ছিলেন কিন্তু পরবর্তীকালে তিনিই মহাবীর সেনাধ্যক্ষ মালিক কাফুর দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর অধিকাংশ হিন্দু এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করে নেন । কাকাতিয়া, হয়সালা, পাণ্ডু এবং দক্ষিণ ভারতীয় বিভিন্ন রাজপ্রাসাদ ও মন্দিরগুলোর বিপুল পরিমাণ সম্পদ, হাতি, ঘোড়া ইত্যাদি জব্দ করেন । যার মধ্যে ছিল এই কোহিনূর হীরা । তুর্কী রাজবংশের কাছেই হীরাটি কিছুদিন রক্ষিত ছিল । এরপর মুহম্মদ রাজবংশের শাসক ও দিল্লীর সুলতান মুহম্মদ বিন তুগলকের কাছ থেকে কোহিনূর হীরা হাত বদল হয়ে ভারতের পাঞ্জাবের শতদ্রু নদীর দক্ষিণের অঞ্চল মালওয়ার শাসকদের হাতে চলে যায় । এক সময় লোদি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা বাহলুল খান লোদির (১৪৫১ - ১৫২৬ খ্রিঃ শাসনকাল) হস্তগত হয় কোহিনূর হীরাটি । কিন্তু ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে তুর্কী-মুঘল যুদ্ধে তুর্কীরা পরাজিত হয় । মুসলমান সম্রাট মির্জা জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর পানিপথের প্রথম যুদ্ধে লোদি রাজবংশের শেষ সুলতান ইব্রাহিম লোদির বিরুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে ভারত উপমহাদেশে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন । মুঘল সম্রাটরা ছিলেন মধ্য এশিয়ার তুর্কী-মঙ্গোলীয় বংশদ্ভূত । এরা ছিলেন চাগতাই খান, তৈমুর লং এবং চেঙ্গিজ খানের বংশধর । ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করার ফলে এই সময় কোহিনূর হীরাটি মুঘল সম্রাট বাবরের দখলে চলে আসে । সম্রাট বাবর এবং তার সন্তান মুঘল সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় সম্রাট নাসিরুদ্দিন মুহম্মদ হুমায়ুন দুইজনেই কোহিনূরকে ‘বাবরের হীরা’ বলে আখ্যায়িত করেন । কোহিনূর হীরা দীর্ঘদিন মুঘল তোষাখানায় রক্ষিত ছিল । পরবর্তীতে দক্ষিণ ভারতের কুতুব শাহি রাজবংশের গোলকোন্ডা রাজ্যের সপ্তম শাসক সুলতান আবদুল্লা কুতুব শাহের (১৬২৬ - ১৬৭২ খ্রিঃ শাসনকাল) প্রধানমন্ত্রী ও পূর্বাঞ্চলীয় ভারত বঙ্গের সুবাদার মীর জুমলার (১৫৯১ - ১৬৬৩ খ্রিঃ শাসনকাল) মাধ্যমে পঞ্চম মুঘল সম্রাট শাহ জাহান বা শাহবুদ্দিন মুহাম্মদ খুররামের হস্তগত হয় (১৬২৮ - ১৬৫৮ খ্রিঃ শাসনকাল) । সম্রাট শাহ জাহান কোহিনূর হীরাটির পরিমাপ বা ওজন পরীক্ষা করার আদেশ দেন । প্রাথমিকভাবে এর ওজন ছিল ৭৮৭ ক্যারেট (১৫৭.৪ গ্রাম) । ইতালীর ভেনিস শহরের Hortêncio Georges নামে একজন হীরক কর্তনকারী অসাবধানতাবশত কিংবা অদক্ষ হাতে এই হীরাটি অসুন্দরভাবে কেটে ফেলেন । যদিও, কোহিনূর হীরার সৌন্দর্যহানি এবং ক্ষতি করার কারণে ঐ কর্তনকারীকে ১০০০০ ভারতীয় রুপি জরিমানা গুনতে হয়েছিল । সম্রাট শাহ জাহান কর্তৃক নির্মিত ময়ূর সিংহাসনের শোভা বর্ধন করে মহামূল্যবান এই কোহিনূর হীরাটি । মুঘল সম্রাটদের গৌরব এবং ঐতিহ্যের বিষয় ছিল কোহিনূর । ষষ্ঠ মুঘল সম্রাট আবুল মুজাফফর মুহি উদ-দিন মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব (১৬৫৮ - ১৭০৭ খ্রিঃ শাসনকাল) এবং সপ্তম মুঘল সম্রাট মুয়াজ্জেম বাহাদুর শাহ প্রথম এর নাতি মুঘল সম্রাট মুহম্মদ শাহ রঙ্গিলা বা রোশন আখতার (১৭১৯ - ১৭৪৮ খ্রিঃ শাসনকাল) কিছুকাল যাবৎ হীরাটির অধিকারী হয়েছিলেন । এদিকে মুঘল সাম্রাজ্য যখন বিক্ষিপ্ত এবং ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে তখন মুসলিম শাসনের গৌরবোজ্জ্বল দিন বিশেষ করে সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো (কেন্দ্রীভূত শাসন প্রতিষ্ঠা করতে) ও বলিষ্ঠ অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনার জন্য মুঘলদের সহায়তা করতে ইরানের আফছারিদ রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ও শক্তিশালী শাসক শাহ নাদের শাহ আফছারকে (নাদের কুলি বেগ, তাহামাস কুলি বেগ, ১৬৯৮ - ১৭৪৭ খ্রিঃ শাসনকাল) আমন্ত্রণ জানানো হয় । যদিও মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের উত্তরসূরিরা কখনো কখনো মারাঠাদের প্রতি নমনীয় ছিল । শাহ নাদের শাহ আফছার ১৭৩৯ খ্রিষ্টাব্দে ভারতের উত্তরাঞ্চল আক্রমণ করে মুঘল সম্রাট মুহম্মদ শাহ রঙ্গিলার বাহিনীকে (মারাঠা বাহিনীকে, কারনালের যুদ্ধে) পরাজিত করে আগ্রা ও দিল্লি দখল করেন এবং এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অসংখ্য লোক নিহত হয় । কিন্তু মুঘলরা যুদ্ধ বিজয়ী শাহ নাদের শাহ আফছারকে প্রতিশ্রুত অর্থ না দিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নেন । আর তখন শাহ নাদের শাহ আফছার মুঘলদেরকে রাজশক্তি ফিরিয়ে দেয়ার বিনিময়ে কৌশলে মুঘলদের কাছ থেকে ঐতিহাসিক রত্নভান্ডার, কোষাগার, ঐতিহ্যবাহী ময়ূর সিংহাসন, দরিয়া-ই-নূর ও কোহিনূর হীরাসহ একাধিক মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার করে ইরানে নিয়ে যান । তিনিই কোহিনূর হীরাটির নামকরণ করেন ''কোহিনূর'' । কথিত আছে যে, তার সহধর্মিণী বলেছিলেন: "কোন শক্তিশালী লোক যদি চারটি পাথর- একটি উত্তরে, একটি দক্ষিণে, একটি পূর্বে, একটি পশ্চিমে এবং আরো একটি (পঞ্চম) পাথর আকাশে উপর দিকে ছুঁরে মারে তাহলে তাদের মধ্যবর্তী স্থানটি সোনায় পূর্ণ করা হলেও কোহিনূরের মূল্যের সমান হবে না" । কিন্তু, আততায়ীর হাতে শাহ নাদের শাহ আফছার নিহত হওয়ার পর ১৭৪৭ খ্রিষ্টাব্দে এই কোহিনূর হীরা আফগানিস্তানের দুররানি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ও আধুনিক আফগানিস্তানের জনক আহমদ শাহ দুররানির (আহমদ খান আব্দালি, আহমদ শাহ আব্দালি) করায়ত্ত হয় । আহমদ শাহ দুররানির মৃত্যুর পর এই কোহিনূর হীরার মালিক হন তার সন্তান দুররানি সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় শাসক তিমুর শাহ দুররানি (১৭৭২ - ১৭৯৩ খ্রিঃ শাসনকাল) । এরপর পর্যায়ক্রমে জামান শাহ দুররানি (১৭৯৩ - ১৮০০ খ্রিঃ শাসনকাল) এবং বাংলার সুবাদার পঞ্চম মুঘল সম্রাট শাহ জাহানের (শাহবুদ্দিন মুহাম্মদ খুররাম) দ্বিতীয় ছেলে শাহজাদা সুজা (শাহ সুজা, ১৬৩৯ - ১৬৬০ খ্রিঃ শাসনকাল) এই সৌন্দর্যময় হীরকটির মালিকানা পায় । প্রতিদ্বন্দ্বী ভাইদের ক্ষমতার লড়াইয়ে সৎভাই মাহমুদ শাহের কাছে শাহজাদা সুজা পরাজিত হন এবং ১৮১১ খ্রিষ্টাব্দে কাশ্মীরের গভর্নর আতা মুহাম্মদ খান বারাকজাই এর কাছে বন্দী হন । পাঞ্জাবের স্বাধীন শিখ মহারাজা রণজিৎ সিংহ (শের-ই-পাঞ্জাব) শাহজাদা সুজাকে মুক্ত করে সপরিবারে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাজধানী ও প্রধান শহর লাহোরে নিরাপদে বসবাসের ব্যবস্থা করেন এবং এর বদৌলতে শাহজাদা সুজা ১৮১৩ খ্রিষ্টাব্দে কোহিনূর হীরাটি শিখ মহারাজা রণজিৎ সিংহের নিকট তুলে দেন । মহারাজা রণজিৎ সিংহ কোহিনূরের অধিকার গ্রহণ করেন এবং ১৮৩৯ খ্রিষ্টাব্দে অছিয়তনামা বা ইচ্ছাপত্রের (Will) মাধ্যমে হীরাটিকে পুরী শ্রীক্ষেত্র (নীলাচল) এর জগন্নাথ মন্দিরকে দিয়ে যান । তবে, প্রথম অ্যাংলো-শিখ যুদ্ধে শিখদের পরাজয়ের পর ব্রিটিশ রাজের অধীনে তৈরি হওয়া দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজকীয় রাজ্য জম্মু ও কাশ্মীরের প্রথম মহারাজা, ডোগরা রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্রিটিশ মিত্র গুলাব সিং (১৭৯২ - ১৮৫৭ খ্রিঃ) এর নিকট কোহিনূর হীরা অধিকৃত হয় । গুলাব সিং ১৮৪১ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত কোহিনূরকে নিজের কাছে রেখেছিলেন । পরবর্তীতে দ্বিতীয় ব্রিটিশ-শিখ যুদ্ধে শিখদেরকে পরাজিত করে ব্রিটিশরা শিখ এলাকাগুলো দখল করে নেয় । শিখদের সাথে ব্রিটিশ ভারতের ঔপনিবেশিক প্রশাসক লর্ড ডালহৌসি লাহোরে শেষ চুক্তি তৈরি করেন এবং চুক্তিতে কোহিনূর হীরাসহ মহারাজা রণজিৎ সিংহের যাবতীয় সম্পত্তি ব্রিটেনের মহারাণী ভিক্টোরিয়ার নিকট সমর্পণের কথা বলা হয় । মহারাজা রণজিৎ সিংহের মৃত্যুর পর মহারাণী জিন্দ কৌর (রাণী ঝিন্দন, ১৮৪৩ - ১৮৪৬ খ্রিঃ শাসনকাল) এবং তার ১১ বছরের সন্তান দলীপ সিংহ (Maharaja Sir Duleep Singh, Black Prince of Perthshire) কোহিনূর হীরার মালিকানা প্রাপ্ত হন । উল্লেখ্য যে, দলীপ সিংহ ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে ৫ বছর বয়সে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন এবং তার মা তার পক্ষে শাসনকার্য পরিচালনা করেন । কিন্তু ১৮৪৯ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশরা পাঞ্জাব দখলে নিলে শিখ সাম্রাজ্যের শেষ মহারাজা দলীপ সিংহ ১৮৫০ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে কোহিনূরকে হস্তান্তর করতে এক প্রকার বাধ্যই হন । ৩রা জুলাই ১৮৫০ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ রাজ পরিবারের লন্ডনের বাকিংহাম প্রাসাদে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উপ-সভাপতি কোহিনূর হীরাটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মহারাণী ভিক্টোরিয়ার হাতে তুলে দেন । মহারাজা দলীপ সিংহ হচ্ছেন সর্বশেষ ভারতীয় যার কাছে কোহিনূর হীরাটি ছিল ৷ এই কোহিনূর ভারতবর্ষের সম্পদ ৷ উপমহাদেশের অহংকার ৷ যেটি এখন বৃটেনের কাছে । কোহিনূর হীরাটি প্রথমে মহারাণী ভিক্টোরিয়া তার হাতে ব্যবহার করতেন । ফলে এটি British Crown Jewel এর অংশ হয়ে যায় । ১৮৫২ খ্রিস্টাব্দে বৃটিশ মহারাণী ভিক্টোরিয়ার স্বামী Prince Albert of Saxe-Coburg and Gotha (Albert Prince Consort, Francis Albert Augustus Charles Emmanuel ২৬শে আগস্ট ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দ – ১৪ই ডিসেম্বর ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দ ) হীরাটির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য মূল হীরা থেকে ১৮৬ ক্যারট কেটে ফেলার আদেশ দেন ৷ ১৮টি টুকরো করে সবচেয়ে বড় ১০৮.৯৩ ক্যারট ওজনের টুকরোটি স্থান দখল করে নেয় মহামান্য রাণীর রাজমুকুটে । মহারাণী ভিক্টোরিয়ার মৃত্যুর পর কোহিনূর হীরাটি এডওয়ার্ড সপ্তমের (Edward VII, Albert Edward, ৯ই নভেম্বর ১৮৪১ খ্রিঃ - ৬ই মে ১৯১০ খ্রিঃ) স্ত্রী Queen Alexandra (The daughter of Christian IX of Denmark) এর মুকুটে স্থাপন করা হয় ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে তার রাজ্যাভিষেকের সময় । এরপর হীরাটি ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে রাজা-সম্রাট জর্জ পঞ্চমের (King-Emperor George V) স্ত্রী Mary of Teck (২৬শে মে ১৮৬৭ খ্রিঃ – ২৪শে মার্চ ১৯৫৩ খ্রিঃ) এর মুকুটে স্থানান্তরিত হয়েছিল । অবশেষে ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে রাজা ষষ্ঠ জর্জের (George VI, ১৪ই ডিসেম্বর ১৮৯৫ খ্রিঃ - ৬ই ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ খ্রিঃ) স্ত্রী রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের (Queen Elizabeth II, Elizabeth Alexandra Mary) পর কোহিনূর হীরাটি স্থান পেয়েছে ব্রিটেনের টাওয়ার অফ লন্ডনে । তবে, এই কোহিনূর হীরা দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল । বিগত সময়ে এটির মালিকানা বা স্বত্ব দাবি করে ভারত, পাকিস্তান, ইরান এবং আফগানিস্তান বিভিন্ন সময়ে যুক্তরাজ্যের কাছে কোহিনূরকে ফেরৎ চেয়ে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে । ফলে এক জটিল সমস্যার সৃষ্টি করে নানা বিতর্কের জন্ম দেয় । সম্ভাব্য আপোষ মিমাংসার জন্য হীরাটির সঠিক বা ন্যায্য মালিকানা নিয়ে সকল পক্ষের বিরোধের কারণে এই সমস্যার অবসান ঘটাতে নানা সমঝোতার পরামর্শ দেয়া হয় । এর মধ্যে হীরাটিকে টুকরো বা ভাগ করে প্রত্যেককে একটি করে টুকরো দেয়া এবং চূড়ান্ত টুকরোটি ব্রিটিশ রাজের কাছে রাখা । এছাড়া আরেকটি পরামর্শ দেয়া হয় যে, কোহিনূর রত্নটি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে Wagah সীমান্তে একটি বিশেষ জাদুঘরে রাখা হবে । এই পরামর্শও আফগানিস্তান বা ইরানের দাবি পূরণ করে না কিংবা বর্তমান ব্রিটিশ দখলের বাস্তবতাও নয় । একপর্যায় ব্রিটিশ সরকার এই সমঝোতা বা সকল পক্ষের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে । ব্রিটিশ রাজের অবসানের পর থেকে বলা হয় যে, হীরাটির অবস্থা ''আলোচনাযোগ্য নয়'' । যাই হোক, ব্রিটিশ রাজ পরিবার বা শাসকদের যে রত্ন ভাণ্ডার রয়েছে তার মধ্যে কোহিনূরকেই শ্রেষ্ঠ বলে গণ্য করা হয় । বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতিতে এই অসাধারণ সুন্দর ও জনপ্রিয় কোহিনূর হীরাকে নানাভাবে তুলে ধরা হয়েছে । এর মধ্যে যেমন: প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক Wilkie Collins এর উপন্যাস The Moonstone (১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দে), ইংরেজ লেখক Agatha Christie (Dame Agatha Mary Clarissa Christie, Lady Mallowan) এর উপন্যাস The Secret of Chimneys (১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে), ব্রিটিশ লেখক এবং চিত্রনাট্যকার George MacDonald Fraser এর রচিত বই The Mountain of Light (১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে) ইত্যাদি । বিশ্বের সবচেয়ে বড় হীরকখণ্ড কোহিনূর । যদিও এটি অমূল্য ৷ তবে, আনুমানিকভাবে কোহিনূরের দাম প্রায় ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড । অর্থাৎ বাংলাদেশি প্রায় ১১,৪৯৫,০০০,০০০ টাকা । তথ্যসূত্র: আন্তর্জাল (The Internet) ৷

https://web.facebook.com/photo.php?fbid=1940443392735655&set=a.355185204594823&type=3&theater 

No comments:

Post a Comment

প্রত্যাখ্যান (কবি: মায়া অ্যাঞ্জেলো)

প্রত্যাখ্যান কবি: মায়া অ্যাঞ্জেলো অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল প্রিয়তম, অন্য কোনো জীবনে বা দেশে আমি কি তোমার অধরের স্পর্শ অনুভব করে...