সুন্দর, শান্ত এবং মনোরম প্রকৃতি ।
ঐন্দ্রজালিক সংস্পর্শে তার মাঝে কি যেনো খুঁজে পাই ।
এক অজানা আকর্ষণে হারিয়ে যাই দূর- বহুদূর ।
এ বিশুদ্ধ সবুজ প্রকৃতি আশীর্বাদ স্বরূপ ।
তবে, কখনো হয় অভিশপ্ত ।
কারণ, প্রকৃতির কাছে মানুষ বিষম অসহায় ।
তাই, প্রায়শই এটি নিষ্ঠুর এবং বেদনাদায়ক হয়!
তবুও, প্রকৃতির বৈশিষ্ট্য ও সৌন্দর্য প্রশান্তি এনে দেয় ।
মানব আত্মাকে শান্ত রাখে ।
সেই অপরূপ প্রকৃতির গহীনে রয়েছে বৈচিত্র্যময় কতো কি...
বঙ্গোপসাগরের বিস্তৃত জলরাশির হিমশীতল তলদেশে চকচকে রূপালি ইলিশের পদচারণা ।
পরিযায়ী পাখিদের সুদীর্ঘ পথ পেরিয়ে এ নৈসর্গিক ভূমিতে ক্ষণস্থায়ী আগমন ।
সাদা তুলা মেঘগুলো সুনীল আকাশের নীলিমায় মিশে যায় ৷
বাবুই পাখি সুনিপুণ কারুকার্যে নির্মাণ করে শান্তির নীড় ।
প্রবাহিণীর তীরে বেড়ে উঠা কলমি ফুল আগন্তুককে সাদর সম্ভাষণ করে ।
কেটে আসা পরিচয়হীন ঘুড়ি দুর্বার গতিতে হারিয়ে যায় অজানা গন্তব্যে ।
কদম, হিজল, বনতুলসী ও মধুমাধবী লতার মাতাল ঘ্রাণে দিশেহারা ভ্রমর ।
ডুমুর গাছে আড়ালে থাকা ধুরন্ধর মাছরাঙার আচকা শিকার ।
পলাশ, শিমুল, সোনালু এবং মহুয়ার অবারিত রঙের ঝলক ।
রঙিন প্রজাপতি প্রিয়তমার সাথে উড়ে যায় সংকীর্ণ গিরিখাতের উপর দিয়ে ।
তালগাছের ডগায় চিলের বাসার কাছেই আটকে থাকা ঘূর্ণায়মান ঘুড়ির ব্যাকুলতা ৷
দুর্গম ঢিবির তে-মাথায় ঘন বেত ঝোপঝাড়ে ঝুলে থাকা রসালো বেত্তুইন ফলের হাতছানি ।
কুণ্ডলী পাঁকানো মৌমাছির ঝাঁকে অশান্ত শিকারী ঈগলের হিংস্র থাবা ।
নীলমনি, রাধাচূড়া, নাগলিঙ্গম, অশোক এবং কিংশুকের দুর্নিবার প্রাণচাঞ্চল্যতা ।
কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম আভা ও নরম স্পর্শে মন ছুঁয়ে যায় ।
কোকিলের সু-মধুর কুহুতানে ভালোবাসার উচ্ছ্বাস ৷
বিলের শান্ত জলে মাছ শিকারে মগ্ন চৌকষ পানকৌড়ি ৷
বৃদ্ধ গাব গাছের মগডালে ঘুঘু পাখির গোপন অভিসার ৷
স্রোতস্বিনী নদীতে অজোপাড়া গাঁয়ের দামাল ছেলেদের দুরন্তপনা ৷
পাহাড়ী অরণ্য থেকে দারুচিনির সুমিষ্ট গন্ধ ভেসে আসে নির্জন সৈকতে ।
পূবালী বাতাস মনমাতানো ঢেউ খেলে শুভ্র কাশফুল বনে ৷
দেবদারু গাছে বাঁধা কানি বকের বাসায় বিষধর শঙ্খিনী সাপের আচমকা হানা ৷
ধূর্ত খেঁকশিয়ালের ভয়ে আতঙ্কিত ডাহুক যুগল আত্মগোপন করে নলখাগড়ার বনে ৷
সাঁওতাল নারীরা টিলার বন্ধুর পথ ধরে হেঁটে যায় ছোট ছোট মাটির তৈরি ঘর অভিমুখে ।
উচ্চাকাশে ঘুরপাক খাওয়া ক্ষুধার্ত শকুন তীক্ষ্ণ চোখে তন্ন তন্ন করে খোঁজে মৃত জীবদেহ ।
ভূতুরে ছাতিম গাছ তলার আঁকাবাঁকা মেঠো পথে শৈশবের পদাঙ্ক ।
বাদুড় থেকে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের ভয় খেজুরের অমৃত রস পানের ইচ্ছাকে নিবৃত্ত করে ।
সর্ষে ক্ষেতে কাকতাড়ুয়ার মাথায় বসা ফিঙের শাণিত দৃষ্টি ।
সোনালী ফসলী জমির কাঙ্খিত ফলন দেখে উচ্ছ্বসিত রূপসী বধূ ।
শিশির ভেজা ঠোঁটে এক চিলতে সুখের হাসি ।
অপার সৌন্দর্য ও ঐশ্বর্যময় বাংলার অনাবিল সবুজ প্রান্তর ।
অপলক চেয়ে থাকি দিগন্ত জুড়ে ।
পড়ন্ত বিকেল ।
রক্তাভ সূর্যাস্ত ।
এক মায়াবী মুহূর্ত ।
বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় ।
https://www.facebook.com/ashrafulalam715/posts/1346085348838132

No comments:
Post a Comment