সেঁজুতি সাহা Bangladesh International Tutorial থেকে তার বিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে প্রথমে BSc ডিগ্রি, John Hopkins Bloomberg School এ জনস্বাস্থ্য বিজ্ঞানী (Public Health Scientist), কানাডায় প্রাণরসায়নে (Biochemistry) স্নাতক ডিগ্রি এবং পরবর্তীতে University of Toronto https://www.utoronto.ca/ থেকে আণবিক জীনতত্ত্ব বিষয়ে (Molecular Genetics) PhD ডিগ্রি নেন । তিনি Visiting Post Doctoral Scholar এ পড়াশোনার আগে Stanford School Of Medicine Associate Faculty তে পড়াশোনা করেন । ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশে নবজাতক ও শিশুদের মধ্যে Meningitis (মস্তিষ্কের সংক্রমণ) রোগ বেড়ে গেলে সেঁজুতি সাহা শিশুদের জিনগত উপাদানগুলি বিশ্লেষণ করে এর রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হন । তিনি আবিষ্কার করেন যে, মেনিনজাইটিসের প্রকোপ বৃদ্ধি পায় মশা এর দ্বারা ছড়িয়ে পড়া চিকুনগুনিয়া জ্বরের (Chikungunya fever) https://www.who.int/news-room/fact-sheets/detail/chikungunya https://en.wikipedia.org/wiki/Chikungunya https://www.cdc.gov/chikungunya/index.html প্রাদুর্ভাবের কারণে । ভবিষ্যতে মেনিনজাইটিস এবং অন্যান্য মারাত্মক রোগের প্রাদুর্ভাব দ্রুত সমাধানে দেশকে সহায়তা করতে তিনি তখন থেকেই বাংলাদেশে একটি স্বল্প ব্যয়ে রোগ নির্ণয় সংক্রান্ত বিশেষ যন্ত্রপাতি CHRF এ স্থাপন করেন ৷ মেনিনজাইটিস এর কারণে যে সমস্ত শিশুদের দীর্ঘকালীন অক্ষমতা নিয়ে বাঁচতে হয়- তাদের জন্য সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি একজন সামাজিক কর্মী এবং Microbiologist হিসেবে ‘মেনিনজাইটিস’ নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন । সেজুঁতি সাহা ২৩শে এপ্রিল ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন । তার মা ডাঃ সেতারুন্নাহার সেতারা যিনিও একজন অণুজীব বিজ্ঞানী এবং Institute of Public Health, Bangladesh থেকে অবসর নিয়েছেন । অন্যদিকে University of Toronto বিশ্ববিদ্যালয়ে তার ছোট ভাই সুদীপ্ত কুমার সাহা Microbiology and Global Health বিষয়ে পড়াশোনা করছেন । বলতে গেলে একটি বিজ্ঞানী পরিবার ৷ ব্যক্তিগত জীবনে সেজুঁতি সাহা বিবাহিত এবং তার স্বামী Yogesh Hooda https://web.facebook.com/yogihooda88 https://www.linkedin.com/in/yogihooda/?originalSubdomain=uk https://twitter.com/yogihooda88?lang=en একজন ভারতীয় নাগরিক । যিনি Medical Research Council Laboratory of Molecular Biology (MRC LMB) তে এবং যুক্তরাজ্যে একজন Biochemist হিসেবে কাজ করছেন । ২০১৪ খ্রিস্টাব্দে তারা বিয়ে করেন । সেজুঁতি সাহা ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে ‘Bil And Melinda Gates Award’ পুরস্কারে ভূষিত হন । সারাবিশ্বে যারা নিজেদের সৃষ্টিশীল প্রতিভার মাধ্যমে সমাজকে বদলে দিয়ে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করে অবদান রেখে চলেছেন- তাদের নিয়ে মাইক্রোসফটের https://en.wikipedia.org/wiki/Microsoft https://www.linkedin.com/company/microsoft/ https://account.microsoft.com/account?lang=en-us http://news.microsoft.com/ প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস ‘Heroes in the field’ শিরোনাম করে Blog লিখে থাকেন । সম্প্রতি বিল গেটস বাংলাদেশের অণুজীব বিজ্ঞানী অধ্যাপক ডাঃ সমীর কুমার সাহা এবং তার মেয়ে সেঁজুতি সাহার ভূয়সী প্রশংসা করে লিখেন যে: https://www.gatesnotes.com/Health/The-Sahas-are-battling-global-health-inequity ”বাংলাদেশি এ বাবা-মেয়ে বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্যের গতিশীল এক জুটি । এক্ষেত্রে তারা সংক্রামক ব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য তথ্য-উপাত্ত, রোগ নির্ণয়ের সর্বাধুনিক পদ্ধতি এবং সংক্রামক ব্যাধির বিরুদ্ধে টিকাদান কর্মসূচীকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বের নিম্ন আয়ের দেশগুলির সাথে সম্পদশালী দেশগুলির স্বাস্থ্যসেবার যে পার্থক্য রয়েছে, যেখানে শিশু মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি এবং এ ধরণের পার্থক্য কমিয়ে আনতে তারা সেখানে স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহের ফাঁকগুলি বন্ধ করতে কাজ করছেন । Child Health Research Foundation (CHRF) এর কাজের বদৌলতে এবং শিশুদের জন্য বর্তমান সরকারের গৃহীত টিকাদান কর্মসূচীর পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার ফলে বর্তমানে বাংলাদেশে পাঁচ বৎসর বয়সের নিচে শিশুমৃত্যু হার কমেছে । ১৭ কোটি মানুষের বাংলাদেশ এখন প্রায় ৯৮ শতাংশ টিকাদান কর্মসূচীর আওতায় এসেছে । তাদের কাজের জন্য ধন্যবাদ ৷ বাংলাদেশ যদি রোগ প্রতিরোধে আরও বেশি কিছু করতে পারে তাহলে বাংলাদেশ এমন এক ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলেছে, যেখানে সংক্রামক ব্যাধি খুব কম থাকবে এবং হাসপাতালের বিছানাগুলি এক সময় ফাঁকা থাকবে ৷ CHRF বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে শিশুমৃত্যু হার হ্রাস করার ক্ষেত্রে সাহায্যকারী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান । তাদের এ মহৎ কর্মকাণ্ড এবং গবেষণা শুধুমাত্র বাংলাদেশেই নয় বরং একই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন দক্ষিণ এশিয়া তথাপি সারাবিশ্বে এর সুফল বয়ে নিয়ে আসবে” ।
শিক্ষা, মেধা, মনন, নিষ্ঠা এবং অধ্যবসায়ের কারণে সেজুঁতি সাহা এ যোগ্যতা অর্জন করেছেন- যা আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করেছে । প্রিয়, সেজুঁতি সাহা আপনাকে অভিনন্দন! আপনি বাংলাদেশের জন্য এক বিরল সম্মান বয়ে এনেছেন । আমরা গর্বিত । ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র IMB তে আপনার নিয়োগে বাংলাদেশ তথাপি সারাবিশ্বে নানা সংক্রামক ব্যাধি রোধকল্পে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য এক তাৎপর্যপূর্ণ ফলাফল বয়ে নিয়ে আসবে, যা এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে । প্রত্যাশা করি আপনার সুখ, শান্তি, উন্নতি এবং এক সুন্দর স্বাস্থ্যময় জীবন ৷ ভালো থাকুন ।
* তথ্যসূত্র: অন্তর্জাল (The Internet)

No comments:
Post a Comment