Tuesday, 13 June 2023

এশিয়ার শীর্ষ ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় বাংলাদেশের দু'জন নারী

                                                                          Senjuti Saha


                                                    Dr. Gawsia Wahidunnessa Chowdhury


গবেষণায় অনবদ্য অবদান রাখার জন্য সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি বিষয়ক 'Asian Scientist' সাময়িকীতে এশিয়ার সেরা ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের দু'জন নারী বিজ্ঞানী । Asia's Top 100 🌏 । জলবায়ু পরিবর্তন, হিমবাহ চক্র, কাঠামোগত ভূতত্ত্ব অনুসন্ধান এবং মহাকাশ গবেষণা ইত্যাদির মতো গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা মোকাবিলায় অবদান রাখা বিশ্বের নানা গবেষক এবং উদ্ভাবকদের বেছে নেয়া হয়েছে । গত ১১ই জুন ২০২৩ খ্রিস্টাব্দে এ তালিকা প্রকাশ করা হয় । এদের মধ্যে একজন হচ্ছেন সেঁজুতি সাহা (Senjuti Saha) এবং অন্যজন অধ্যাপক ডঃ গাওসিয়া ওয়াহিদুন্নেছা চৌধুরী (Dr. Gawsia Wahidunnessa Chowdhury) । সেঁজুতি সাহা 'Life Science' এবং ডঃ গাওসিয়া ওয়াহিদুন্নেছা চৌধুরী টেকসই জলবায়ুর ‘Sustainability’ এর ক্ষেত্রে অবদানের জন্য মর্যাদাপূর্ণ এ তালিকায় স্থান পেয়েছেন । সত্যিই, বিশ্বের বুকে নারীদের অগ্রযাত্রার জয়গান । তারা দু'জনই তাদের কর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য এক বিরল সম্মান বয়ে এনেছেন । আমরা গর্বিত । তাদেরকে অভিনন্দন! তারা আমাদের অনুপ্রেরণা ।

বাংলাদেশের উজ্জ্বল নক্ষত্র, তরুণ প্রতিভাময়ী অণুজীব বিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র (WHO) একজন পরামর্শক । তিনিই প্রথম বাংলাদেশি বিজ্ঞানী হিসেবে সংস্থাটির বিশ্বব্যাপী পোলিও নির্মূল কর্মোদ্যোগ সম্পর্কিত The Polio Transition Independent Monitoring Board (TIMB) এর একজন সদস্য । উল্লেখ্য যে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র বৈশ্বিক পোলিও নির্মূল উদ্যোগ (Global Polio Eradication Initiative / GPEI) সম্পর্কিত বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে সারা পৃথিবীর খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে The Independent Monitoring Board (IMB) গঠিত ৷ এটি মূলত বিশ্বব্যাপী পোলিও রোগ বিস্তার সম্পর্কে তথ্য, পোলিওভাইরাস সনাক্তকরণ, রোগ প্রতিরোধ বা নির্মূলকরণ, স্বাধীন পর্যবেক্ষণ, অভীষ্ট লক্ষ্যপূরণ, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং পোলিও মুক্ত বিশ্ব অর্জনের জন্য সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করে থাকে ৷ এছাড়া বৈশ্বিকভাবে পোলিও মহামারীর উপর ভিত্তি করে এটি রোধকল্পে মূল মাইলফলকের দিকে অগ্রগতির মূল্যায়ন করে ৷ মাইলফলক যদি At risk, Off track বা Missed হয়েছে বলে দেখা যায় তবে সংক্রামিত স্থানকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, বাস্তবায়নকারী অংশীদার অথবা দাতা সংস্থাগুলোকে দিক নির্দেশনাসহ প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক কর্ম পরিকল্পনা (আর্থিক দিকও হতে পারে) এবং পথ প্রদর্শনের মাধ্যমে এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকে । এছাড়া অন্যান্য কার্যক্রমের উপর তথ্যের ভিত্তিতে গৃহীত বা সম্পাদিত কার্যের গুণমান মূল্যায়ন করে সঠিক পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে । ২০১৮ খ্রিস্টাব্দের মে মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিষদে (World Health Assembly) পোলিও সম্পর্কিত বিল অনুমোদনের পর থেকে ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’ পোলিও সংক্রমণ পরিস্থিতি ও বিশ্বের দেশগুলোর জনস্বাস্থ্যের অবকাঠামো ব্যবস্থা সুরক্ষিত করা বা এটিকে টিকিয়ে রাখতে বিশেষ করে অপরিহার্য টিকাদান, বৃহত্তর সংক্রামক রোগের নজরদারি, পর্যবেক্ষণ, সতর্কতা এবং জরুরি প্রতিক্রিয়ার বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে । আণবিক জিনতত্ত্বের গবেষক সেঁজুতি সাহা মনিটরিং বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের সাথে তিনি ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’কে পোলিও নির্মূল প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে মহাপরিচালক পর্যায়ে পরামর্শ দিয়ে থাকেন । এতে করে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে নানা সংক্রামক ব্যাধি রোধকল্পে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য এক তাৎপর্যপূর্ণ ফলাফল বয়ে নিয়ে আসছে, যা এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে । সেঁজুতি সাহা মূলত Microbiology, Epidemiology এবং Global Health নিয়ে গবেষণা করেন । ২০১৯ খ্রিস্টাব্দে বৈশ্বিকভাবে শ্বাসযন্ত্রের সংক্রামক রোগ করোনা ভাইরাস (Covid-19) ছড়িয়ে পড়ার পর সেঁজুতি সাহা তার বাবার সাথে যৌথভাবে বাংলাদেশে বেসরকারি শিশু স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (Child Health Research Foundation / CHRF) গবেষণাগারে প্রথমবারের মতো তীব্র শ্বাসযন্ত্রীয় রোগলক্ষণসমষ্টি সৃষ্টিকারী নভেল করোনাভাইরাসের (SARS-CoV-2) জিন-নকশা বা বিন্যাসক্রমের (Genome sequencing) কাজে গবেষকদের একটি দলকে নেতৃত্ব দিয়ে সফলভাবে শেষ করেছেন । CHRF এর এ প্রকল্পটিকে স্বাস্থ্য পরিষেবা মহাপরিদপ্তর (Directorate General of Health Services), রোগবিস্তার বা মহামারী-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান (Institute of Epidemiology), রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা (Disease Control and Research), বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন (Bill and Melinda Gates Foundation) এবং চ্যান জাকারবার্গ বায়ো হাব (Chan Zuckerberg Biohub) থেকে সহায়তা করে । সেঁজুতি সাহার বাবা অধ্যাপক ডাঃ সমীর কুমার সাহা একজন অণুজীব বিজ্ঞানী ৷ তিনি বাংলাদেশের শিশুরোগ চিকিৎসা সংক্রান্ত বৃহত্তম হাসপাতাল ঢাকা শিশু হাসপাতালের অনুজীববিজ্ঞান বা জীবার্ণুবিজ্ঞান (Microbiology) বিভাগের প্রধান এবং CHRF এর নির্বাহী পরিচালক । ডাঃ সমীর কুমার সাহা শিশুদের জন্য সরকারের গৃহীত টিকাদান কর্মসূচী, স্বাস্থ্যসেবায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগীতার পাশাপাশি CHRF কর্তৃক এ সকল রোগের টিকা ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিশুমৃত্যু হার কমিয়ে আনতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন । বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংক্রামক রোগ থেকে শিশুমৃত্যু হার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ডাঃ সমীর কুমার সাহা CHRF গড়ে তুলেছেন নিজ মেধা, অক্লান্ত পরিশ্রম এবং পরম মমতায় । এখানে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে RSV সংক্রমণ এবং নিউমোনিয়া (Pneumonia) রোগ সম্পর্কে নানাবিদ গবেষণা চলছে । সেঁজুতি সাহা বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানে একজন অণুজীব বিজ্ঞানী (Microbiologist) হিসেবে কাজ করছেন । Meningitis (মস্তিষ্কের সংক্রমণ) হচ্ছে মস্তিষ্কে এক ধরণের সংক্রমণ বা প্রদাহ এবং Pneumonia হচ্ছে ব্যাকটিরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাক দ্বারা মানবদেহের অতি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ফুসফুসকে সংক্রমণ করে ৷ ফলে ফুসফুসের বায়ু থলিতে (Alveoli) প্রদাহ সৃষ্টি করে এক প্রকার তরল বা পুঁজের সৃষ্টি হয় ৷ এতে করে আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাসে তীব্র কষ্ট এবং ব্যথা অনুভূত হয়, এমনকি মৃত্যুও ঘটে ৷ নিউমোনিয়া এবং মেনিনজাইটিস এ দু’টি মরণব্যাধি হচ্ছে শিশুমৃত্যুর বড় কারণ । ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশে নবজাতক ও শিশুদের মধ্যে মেনিনজাইটিস রোগ বেড়ে গেলে সেঁজুতি সাহা শিশুদের জিনগত উপাদানগুলো বিশ্লেষণ করে এর রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হন । তিনি আবিষ্কার করেন যে, মেনিনজাইটিসের প্রকোপ বৃদ্ধি পায় মশা এর দ্বারা ছড়িয়ে পড়া চিকুনগুনিয়া জ্বরের (Chikungunya fever) প্রাদুর্ভাবের কারণে । তিনি বিশ্বে প্রথম দেখান যে, চিকুনগুনিয়া ভাইরাস শিশুদের মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে ও বাংলাদেশী শিশুদের মেনিনজাইটিস রোগ সৃষ্টি করে । ভবিষ্যতে মেনিনজাইটিস এবং অন্যান্য মারাত্মক রোগের প্রাদুর্ভাব দ্রুত সমাধানের জন্য দেশকে সহায়তা করতে তিনি তখন থেকেই বাংলাদেশে একটি স্বল্প ব্যয়ে রোগ নির্ণয় সংক্রান্ত বিশেষ যন্ত্রপাতি শিশুস্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান CHRF এ স্থাপন করেন ৷ মেনিনজাইটিসের কারণে যে সমস্ত শিশুদেরকে দীর্ঘকালীন অক্ষমতা নিয়ে বাঁচতে হয়, তাদের জন্য সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি একজন সামাজিক কর্মী এবং অণুজীব বিজ্ঞানী হিসেবে ‘মেনিনজাইটিস’ নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন । সেঁজুতি সাহা Bangladesh International Tutorial থেকে তার বিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে প্রথমে BSc ডিগ্রি, John Hopkins Bloomberg School এ জনস্বাস্থ্য বিজ্ঞানী (Public Health Scientist), কানাডায় প্রাণরসায়নে (Biochemistry) স্নাতক ডিগ্রি এবং পরবর্তীতে University of Toronto https://www.utoronto.ca/ থেকে আণবিক জীনতত্ত্ব বিষয়ে (Molecular Genetics) PhD ডিগ্রি অর্জন করেন । তিনি Visiting Post Doctoral Scholar এ পড়াশোনার আগে Stanford School Of Medicine Associate Faculty তে পড়াশোনা করেন । সেজুঁতি সাহা ২৩শে এপ্রিল ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন । তার মা ডাঃ সেতারুন্নাহার সেতারা একজন অণুজীব বিজ্ঞানী । তার ছোট ভাই সুদীপ্ত কুমার সাহা University of Toronto বিশ্ববিদ্যালয়ে Microbiology and Global Health বিষয়ে পড়াশোনা করছেন । বলতে গেলে একটি বিজ্ঞানী পরিবার ৷ ব্যক্তিগত জীবনে সেজুঁতি সাহা বিবাহিত এবং তার স্বামী যোগেশ হুদা (Yogesh Hooda) একজন ভারতীয় নাগরিক । যিনি Medical Research Council Laboratory of Molecular Biology (MRC LMB) তে এবং যুক্তরাজ্যে একজন প্রাণরসায়নবিদ (Biochemist) হিসেবে কাজ করছেন । ২০১৪ খ্রিস্টাব্দে তারা বিয়ে করেন । সেজুঁতি সাহা ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে 'Bil And Melinda Gates Award' পুরস্কারে ভূষিত হন । সারাবিশ্বে যারা নিজেদের সৃষ্টিশীল প্রতিভার মাধ্যমে সমাজকে বদলে দিয়ে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করে অবদান রেখে চলেছেন, তাদেরকে নিয়ে মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস 'Heroes in the field' শিরোনাম করে Blog লিখে থাকেন । বিল গেটস (Bill Gates) বাংলাদেশের অণুজীব বিজ্ঞানী অধ্যাপক ডাঃ সমীর কুমার সাহা এবং তার মেয়ে সেঁজুতি সাহার ভূয়সী প্রশংসা করে লিখেন যে: https://www.gatesnotes.com/The-Sahas-are-battling-global-health-inequity?WT.mc_id=20200114193000_RLMForum_BG-FB&WT.tsrc=BGFB&linkId=80625611 '' বাংলাদেশি এ বাবা-মেয়ে বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্যের গতিশীল এক জুটি । এক্ষেত্রে তারা সংক্রামক ব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য তথ্য-উপাত্ত, রোগ নির্ণয়ের সর্বাধুনিক পদ্ধতি এবং সংক্রামক ব্যাধির বিরুদ্ধে টিকাদান কর্মসূচীকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বের নিম্ন আয়ের দেশগুলোর সাথে সম্পদশালী দেশগুলোর স্বাস্থ্যসেবার যে পার্থক্য রয়েছে যেখানে শিশু মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি এবং এ ধরণের পার্থক্য কমিয়ে আনতে তারা সেখানে স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহের ফাঁকগুলো বন্ধ করতে কাজ করছেন । Child Health Research Foundation (CHRF) এর কাজের বদৌলতে এবং শিশুদের জন্য বর্তমান সরকারের গৃহীত টিকাদান কর্মসূচীর পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার ফলে বর্তমানে বাংলাদেশে পাঁচ বছর বয়সের নিচে শিশুমৃত্যু হার কমেছে । ১৭ কোটি মানুষের বাংলাদেশ এখন প্রায় ৯৮ শতাংশ টিকাদান কর্মসূচীর আওতায় এসেছে । তাদের কাজের জন্য ধন্যবাদ ৷ বাংলাদেশ যদি রোগ প্রতিরোধে আরো বেশি কিছু করতে পারে তাহলে বাংলাদেশ এমন এক ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলেছে, যেখানে সংক্রামক ব্যাধি খুব কম থাকবে এবং হাসপাতালের বিছানাগুলো এক সময় ফাঁকা থাকবে ৷ CHRF বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিশুমৃত্যু হার হ্রাস করার ক্ষেত্রে সাহায্যকারী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান । তাদের এ মহৎ কর্মকাণ্ড এবং গবেষণা শুধুমাত্র বাংলাদেশের জন্যই নয় বরং একই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন দক্ষিণ এশিয়া তথাপি সারাবিশ্বে এর সুফল বয়ে নিয়ে আসবে ।'' ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ নিউইয়র্কে তৃতীয় বার্ষিক 'Gates Goalkeepers Event' এ সেঁজুতি সাহা বক্তব্য রাখেন, যেখানে ৪০০টি নীতিমালা গৃহীত হয় ৷ উক্ত অনুষ্ঠানে সরকারী প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ, সক্রিয় অংশগ্রহণকারী কর্মী, সংবাদ মাধ্যম, ব্যবসায়ী এবং এ গ্রহের সবচেয়ে ধনী ও সর্বাধিক দানশীল ব্যক্তিদের একজন বিল গেটস সহ বিভিন্ন গণ্যমান্য নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা করেন । সেঁজুতি সাহা বিশ্বাস করেন “Science by and for the many, not the few” । তার দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্বজুড়ে প্রত্যেকেরই বিজ্ঞানের অনুশীলন এবং এর সুবিধাগুলোতে সমান প্রবেশাধিকার পাওয়া উচিৎ । তিনি মনে করেন স্বাস্থ্য এবং গবেষণায় সাম্যভাব সৃষ্টি করাই তার কাজ এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি । সেঁজুতি সাহা বাংলাদেশের একজন নেতৃস্থানীয় তরুণ বিজ্ঞানী যিনি বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য গবেষণায় সাম্যভাব বা সমদর্শিতার কারণ হিসেবে কাজ করছেন । জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চিকিৎসা বিজ্ঞান গবেষণায় অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি Junior Chamber International, Webby 2020 Award, Women of Inspiration 2021 Award এবং Chan Zuckerberg Initiative ইত্যাদি পুরষ্কার অর্জন করেন । শিক্ষা, মেধা, মনন, নিষ্ঠা এবং অধ্যবসায়ের কারণে সেজুঁতি সাহা এ যোগ্যতা অর্জন করেছেন, যা আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে ।

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডঃ গাওসিয়া ওয়াহিদুন্নেছা চৌধুরী একজন শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং লেখক । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণীবিদ্যা (জলভূমি পরিবেশবিদ্যা) বিষয়ে Ph.D করেন । প্রাণী বৈচিত্র্য, জলাভূমি বাস্তুবিদ্যা এবং প্রাণিবিদ্যায় প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে তার ১৪ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে । তিনি বাংলাদেশের নৌপথে প্লাস্টিক দূষণের ঝুঁকির দিকে মনোনিবেশ করেন । প্লাস্টিক দূষণের ফলে পরিবেশ ও মানুষের উপর যে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে তা নিয়ে তিনি একাধিক গবেষণা করেছেন । বর্তমানে বাংলাদেশে বিপন্ন প্রজাতি এবং আবাসস্থল সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করছেন । বাংলাদেশে জলজ বাস্তুতন্ত্র এবং বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী সংরক্ষণে তার অবদানের জন্য ২০২২ খ্রিস্টাব্দে তাকে 'OWSD-Elsevier Foundation Award' দেয়া হয় । তিনি বাংলাদেশের প্রাণীবিদ্যাবিষয়ক সমিতির আজীবন সদস্য এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংস্থা Wild Team এর একজন বোর্ড সদস্য । এছাড়া আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সঙ্ঘের (IUCN) দক্ষিণ এশীয় 'Invertebrate Special Group' এর সহ-সভাপতি হিসেবেও নিযুক্ত হয়েছেন । অধ্যাপক ডঃ গাওসিয়া ওয়াহিদুন্নেছা চৌধুরী দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নারীদের কর্মসংস্থান এবং ক্ষমতায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন । মাছ ধরার পরিত্যক্ত জালকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন করে কার্পেটের মতো প্রস্তুত করে (পদ্ধতি উদ্ভাবন) ব্যবহার উপযোগী পণ্যে পরিণত করার ফলে জলজ আবাসস্থল রক্ষার পাশাপাশি গ্রামীণ নারীদের জন্য আয়ের বিকল্প উৎস তৈরি করছেন । তিনি Commonwealth Academic Staff Scholarship এবং Wildlife Conservation Society Fellowship সহ অনেক পুরষ্কার এবং অনুদান পেয়েছেন । সরকারি, বেসরকারি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে কাজ করেন । এছাড়াও তিনি শিক্ষা ও যোগাযোগ কমিশন এবং প্রকৃতি সংরক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক মৈত্রীর Species Survival Commission সহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত গোষ্ঠীর সদস্য । অধ্যাপক ডঃ গাওসিয়া ওয়াহিদুন্নেছা চৌধুরী National Geographic Society এর সাগর থেকে উৎস গঙ্গা নদী অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন এবং বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন । সম্প্রতি তিনি Cambridge Prisms: প্লাস্টিক সম্পাদকীয় বোর্ড ( cambridge.org ) জার্নালের সম্পাদকীয় বোর্ডের সদস্য হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন ।

তথ্যসূত্র: https://www.asianscientist.com/ , https://du.ac.bd/ , আন্তর্জাল (Internet )। 

ছবি: Senjuti Saha

ছবি: Organization for Women in Science for the Developing World

https://www.asianscientist.com/as100/ 

No comments:

Post a Comment

প্রত্যাখ্যান (কবি: মায়া অ্যাঞ্জেলো)

প্রত্যাখ্যান কবি: মায়া অ্যাঞ্জেলো অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল প্রিয়তম, অন্য কোনো জীবনে বা দেশে আমি কি তোমার অধরের স্পর্শ অনুভব করে...