I don't know their destination
What their feelings
The words of their mind
I realize the eternal bond of their love
An invisible power
Heavenly relationship
I'm fascinated to their wend
But, they're on their way.
বন্য #antarctica থেকে এক রঙিন অনুপ্রেরণা নিয়ে এসেছে আপনার কাছে ৷
পৃথিবীর সর্বদক্ষিণে অবস্থিত মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকার অভ্যন্তরীণ জীবন অত্যন্ত বিরল এবং রূক্ষ ৷ কুমেরু বৃত্তের দক্ষিণে এটি দক্ষিণ মহাসাগর, দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগর, দক্ষিণ অতলান্ত মহাসাগর সংলগ্ন দক্ষিণ মেরুদেশীয় (Antarctic) সাগর এবং ভারত মহাসাগরের দক্ষিণভাগ দ্বারা পরিবেষ্টিত । এটিতে ভৌগলিক দক্ষিণ মেরু রয়েছে । মহাদেশটি পূর্ব অ্যান্টার্কটিকা যা মূলত পূর্ব-দক্ষিণ মেরুদেশীয় এক উচ্চ বরফে আচ্ছাদিত মহাসাগরীয় মালভূমি Kerguelen Plateau বা Antarctic Plateau বা ভৌগলিক দক্ষিণ মেরু দ্বারা গঠিত । যেখানে রয়েছে Coats Land, Queen Maud Land, Enderby Land, Mac. Robertson Land, Wilkes Land এবং Victoria Land ইত্যাদি । পূর্ব অ্যান্টার্কটিকার Dome Argus নামে পরিচিত বরফের গম্বুজটি ৪০৯১ মিটার (১৩৪২২ ফুট), যা দক্ষিণ মেরুদেশীয় বরফের সর্বোচ্চ বৈশিষ্ট্য । পূর্ব অ্যান্টার্কটিকা বেশিরভাগ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত এবং পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার চেয়ে বড়, যা সম্পূর্ণ পশ্চিম দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত ও এর স্থানাঙ্ক ৮০° দক্ষিণ ৯০° পূর্ব । অন্যদিকে পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকা যেটি মূলত পাহাড়ী দ্বীপকে একটি বরফের চাদর দ্বারা আবৃত রাখে ।
ইংরেজী Antarctic শব্দটি মধ্য ফরাসি Antartique / Antarctique (আর্কটিকের বিপরীতে) এবং লাতিন শব্দ Antarcticus (উত্তরের বিপরীতে) থেকে উদ্ভূত হয়েছে । Antarctica নামটি প্রকৃতপক্ষে গ্রিক যৌগিক শব্দ ‘আন্তার্কতিকে’ এর রোমান রূপ । প্রাচীন কাল থেকে বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠী অ্যান্টার্কটিকা আবিষ্কার এবং অনুসন্ধানে জড়িত ছিলেন । আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০ অব্দে প্রাচীন গ্রীসে ধ্রুপদী যুগে বিশ্ববিখ্যাত গ্রীক বিজ্ঞানী, দার্শনিক, পলিম্যাথ, প্রাণিবিজ্ঞানের জনক Aristotle আবহাওয়াবিদ্যা সংক্রান্ত গ্রন্থ Meteorologica বা Meteora তে দক্ষিণ মেরুদেশীয় (Antarctic) অঞ্চলের কথা উল্লেখ করেন । গ্রীক ভূগোলবিদ, মানচিত্রকার, গণিতবিদ, গাণিতিক ভূগোলের প্রতিষ্ঠাতা Marinus of Tyre খ্রিস্টীয় ২য় শতাব্দীতে তার বিশ্ব মানচিত্রে অ্যান্টার্কটিক নামটি ব্যবহার করেন । লাতিন লেখক, পণ্ডিত Alexander Polyhistor এর ছাত্র, Caesar Augustus এর একজন মুক্ত ব্যক্তি Gaius Julius Hyginus এবং নুমিডিয়ান ল্যাটিন ভাষার গদ্য লেখক, প্লেটোনিস্ট দার্শনিক, অলংকারশাস্ত্রের শিক্ষক Apuleius (খ্রিস্টীয় প্রথম-দ্বিতীয় শতাব্দীতে) দক্ষিণ মেরু বা দক্ষিণ মেরুদেশীয় অর্থে রোমানীকৃত গ্রীক পোলাস আন্তার্কতিকাস (লাতিন: Polus antarcticus) নামটিকে গ্রহণ করেন । ইংরেজ কবি, লেখক এবং ইংরেজি সাহিত্য বা কবিতার জনক Geoffrey Chaucer এর লেখা একটি গ্রন্থে ১২৭০ খ্রিস্টাব্দে প্রত্যয়িত পুরাতন ফরাসি Pole antartike (আধুনিক Pôle antarctique) এবং সেখান থেকে মধ্য ইংরেজি Pol antartik নামটি প্রথম পাওয়া যায় ।
এ মহাদেশটি Terra Australis নামে পরিচিত । প্রায় ৬৫০ খ্রিস্টাব্দেরও অনেক আগে মধ্যযুগ এবং রেনেসাঁ বা নবজাগরণের সময়ে ইউরোপীয় ভূগোলবিদরা সুদূর দক্ষিণে একটি পৌরাণিক ভূমি Terra Australis Incognita (অজানা দক্ষিণাঞ্চলীয় ভূমি) সম্পর্কে অনুমান করেছিলেন । Rarotongan মাওরি ভাষার মৌখিক ঐতিহ্য Ui-te-Rangiora থেকে জানা যায়, একজন পলিনেশিয়ান অভিযাত্রী Tamarereti যিনি নিউজিল্যান্ডের উত্তর দ্বীপের Aotearoa এর দক্ষিণে যাত্রা করেছিলেন এক অতি ঠাণ্ডা বরফপূর্ণ বা হিমায়িত অঞ্চলে । ইউরোপীয় অভিযাত্রীরা সম্ভবত ১৫২০ খ্রিস্টাব্দের দিকে প্রথম অ্যান্টার্কটিকার কাছে এসেছিলেন । ১৫৭৭ খ্রিস্টাব্দে স্পেনীয় অন্বেষণকারী ও সমুদ্র অভিযাত্রী Gabriel de Castilla অ্যান্টার্কটিকা পর্যবেক্ষণ করেন । পরবর্তীতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অভিযাত্রী, পর্যটক, গবেষক, ভূতত্ত্ববিদ, ভূ-পদার্থবিদ, হিমবিজ্ঞানী, জীববিজ্ঞানী এবং নানা পেশার মানুষ এখানে আসতে শুরু করেন । পর্যায়ক্রমে তারা অদম্য সাহস, শক্তিশালী প্রেরণা ও উদ্দীপনা নিয়ে বীরত্বপূর্ণ নানা প্রকার অভিযান, অন্বেষণ, আবিষ্কার, বাণিজ্য (বিশেষ করে শিকার), সমুদ্র গমনপথ সহজীকরণ, আন্তর-আকাশের (Stratosphere) ওজোন গ্যাস স্তর অধ্যয়ন, আবহাওয়া ও উচ্চ বায়ুমণ্ডলীয় তথ্য সংগ্রহ, বরফ পাত (Ice sheet) জুড়ে চিহ্নিতকরণ, চৌম্বকীয় রূপরেখা তৈরি, জৈবিক সম্ভাবনা (স্থানীয় প্রজাতিতে দরকারী রাসায়নিক যৌগ এবং জিনের অনুসন্ধান), মানচিত্রবৎ (Cartographic) এবং প্রযুক্তিগত উন্নতির পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে দুর্দান্ত অগ্রগতি সাধন করেন । তাদের বৈজ্ঞানিক প্রকল্প এবং গবেষণা প্রচেষ্টাগুলো হচ্ছে: International Antarctic Glaciological Project, Dry Valley Drilling Project, Biomass (Biological Investigations of Antarctic Systems and Stocks), IceCube (South Pole Neutrino Observatory), Southern Ocean Observing System (SOOS) ইত্যাদি । এ কার্যক্রমগুলোর অধীনে পরিচালিত গবেষণায় কার্যত সমস্ত ভৌত বিজ্ঞানের প্রতিনিধিত্ব করা হয় । উল্কাবিদ্যা ও গ্রহসংক্রান্ত ভূতত্ত্ব, মহাদেশীয় প্রবাহ, ভূপদার্থবিদ্যা, জ্যোতির্পদার্থবিদ্যা, আবহবিদ্যা ও জলবায়ু ইতিহাস, জীববিদ্যা এবং জনসংখ্যার অধ্যয়নের মতো ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রগুলোতে সরাসরি প্রভাব ফেলে । জৈবিক কার্যক্রমগুলিো দক্ষিণ মেরুদেশীয় বিষয়গুলোর অন্তর্নিহিত আগ্রহ, বাস্তুবিদ্যা এবং সংরক্ষণে বিশ্বের অন্যত্র প্রতিফলিত করে । দক্ষিণ মেরুদেশীয় তিমি শিকারের ইতিহাস বিজ্ঞানীদের কাছে জৈবিক জনসংখ্যা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তাকে স্পষ্ট করে তুলেছে এবং ৬০° সেলসিয়াসের নিচের এলাকায় দীর্ঘকাল ধরে যেখানে বৃহত্তর বা ক্ষুদ্রতর পরিমাণে প্রকৃতির মজুদ ছিল । এছাড়া সম্ভবত অন্যান্য মহাদেশের মতো এখানেও খনিজ এবং পেট্রোলিয়ামের সম্ভাবনাকে গুরুত্বপূর্ণভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে ।
উত্তর মেরু বা সুমেরু হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে উত্তরে অবস্থিত বিন্দু (৯০° অক্ষাংশ), যেটি দক্ষিণ মেরুদেশীয় মহাসাগরের (Arctic sea) মধ্যভাগে অবস্থিত । এই মহাসাগরের উত্তরাংশের জল বছরের অধিকাংশ সময়ই ধবধবে সাদা সামুদ্রিক বরফে জমাটবদ্ধ থাকে । উত্তর মেরুর সামুদ্রিক গভীরতা প্রায় ১৩৪১০ ফুট (৪০৮৭ মিটার) । গ্রীষ্ম ও শীত এখানে দুটি ঋতু । ১৮৭ দিন গ্রীষ্মকাল সময়টি সম্পূর্ণই দিন এবং ১৭৮ দিন শীতকাল সময়টি সম্পূর্ণই রাত থাকে । শীতকালে গড় তাপমাত্রা -৩৪° সেন্টিগ্রেড এবং গ্রীষ্মকালে গড় তাপমাত্রা ০° সেন্টিগ্রেড থাকে । উত্তর মেরুতে মাংসাশী হিংস্র প্রাণী শ্বেত মেরু ভাল্লুক (Polar bear) এবং ঠাণ্ডা বরফ জলে কয়েক প্রজাতির মাছ বসবাস করে । উত্তর অ্যান্টার্কটিক উপদ্বীপ এবং সাব-অ্যান্টার্কটিক দ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলসমূহে Chinstrap, Gentoo, Rockhopper, Macaroni প্রজাতির অসংখ্য পাখির আবাসস্থল । উত্তর মেরুতে সুনির্দিষ্ট কোনো ঘড়ির সময় নেই এবং এ অঞ্চলটিতে পৃথিবীর অন্যান্য অংশের মতো কোনো সময় অঞ্চলও নেই । এখানে কোনো জনবসতি নেই । উত্তরের মেরু অঞ্চল থেকে ব্যতিক্রমভাবে বরফের নিচে শুষ্ক ভূমি রয়েছে । ধারণা করা হয়, ০৬ই এপ্রিল ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে যুক্তরাষ্ট্রের নেভি'র কর্মকর্তা ও অনুসন্ধানকারী Robert Edwin Peary Sr সর্বপ্রথম উত্তর মেরুতে পদার্পণ করেন । অপরদিকে দক্ষিণ মেরু বা কুমেরু হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে দক্ষিণে, যেটি অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের কেন্দ্রভাগে অবস্থিত । দক্ষিণ মেরুর চারপাশে প্রায় এককেন্দ্রীয়ভাবে পড়ে থাকা অ্যান্টার্কটিকার নামের অর্থ হচ্ছে ''আর্কটিকের বিপরীত'' (Opposite to the Arctic) ।
অ্যান্টার্কটিকা হচ্ছে বিশ্বের দক্ষিণতম এবং পঞ্চম বৃহত্তম মহাদেশ । ইউরোপের তুলনায় শতকরা প্রায় ৪০ ভাগ বড় । এটির আয়তন অস্ট্রেলিয়ার দ্বিগুণ এবং প্রায় ১৪২০০০০০ বর্গকিলোমিটার (৫৫০০০০০ বর্গমাইল) । অ্যান্টার্কটিকার শতকরা ৯৮ ভাগ অঞ্চল যা প্রায় ৫৪ লক্ষ বর্গমাইলেরও বেশি জায়গা জুড়ে সম্পূর্ণরূপে শুভ্র বরফের এক বিশাল চাদর দ্বারা আবৃত থাকে । বরফের গড় পুরুত্ব ১.৯ কিলোমিটার (১.২ মাইল) । মহাদেশীয় বরফের পাতে প্রায় ৭ মিলিয়ন ঘন মাইল (প্রায় ২৯ মিলিয়ন কিউবিক কিলোমিটার) বরফ রয়েছে, যা বিশ্বের বরফের প্রায় ৯০ শতাংশ এবং এর ৮০ শতাংশ স্বাদু জলের প্রতিনিধিত্ব করে । বরফের গড় বেধ প্রায় ৫৯০০ ফুট (১৮০০ মিটার) । বরফের তাক বা সমুদ্রের উপর ভাসমান বরফের চাদর Ross Sea এবং Weddell Sea এর অনেক অংশ জুড়ে বিস্তৃত । এ তাকগুলো Ross Ice Shelf এবং Filchner-Ronne Ice Shelf একসাথে মহাদেশীয় কিনারার চারপাশে অন্যান্য তাকগুলোর সাথে— অ্যান্টার্কটিকার প্রায় ৪৫ শতাংশ । দক্ষিণ মেরুদেশীয় উপকূলের চারপাশে তাক, হিমবাহ এবং বরফের পাত ক্রমাগত ‘Calve’ বা ‘Discharge’, সমুদ্রের মধ্যে হিমশৈল । এখানে তরল পানির অভাব । কিন্তু এ মহাদেশেই পৃথিবীর শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ বিশুদ্ধ বা স্বাদু পানি হিমায়িত আকারে মজুত রয়েছে, যা গলে গেলে বৈশ্বিক সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ৬০ মিটার (২০০ ফুট) বৃদ্ধি পাবে । যদিও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে এখানে বরফ গলতে শুরু করেছে । বরফের স্তর গলে যাওয়ার গতি ক্রমশই দ্রুততর হচ্ছে এবং প্রতিবছর এর উচ্চতা গড়ে ২ সেন্টিমিটার করে কমে যাচ্ছে । তাই পশ্চিম এন্টার্কটিকার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিজ্ঞানীরা বেশি উদ্বিগ্ন । কারণ এখানকার হিমশৈল বা হিমবাহগুলো কয়েক শতাব্দীর মধ্যেই সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে । প্রতিটি হিমবাহের উচ্চতা প্রতি বছর ৯ মিটার করে কমে যাচ্ছে । বিজ্ঞানীরা বলছেন যে, পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বায়ু-স্রোতের মাধ্যমে মহাসাগরগুলোর উষ্ণ পানি এ অঞ্চলে প্রবেশ করে হিমবাহগুলোর সংস্পর্শে এসে বরফ গলে যাচ্ছে । ফলে পৃথিবীর নিম্নাঞ্চলের দেশগুলো তলিয়ে যাচ্ছে । বায়ুমণ্ডলে Chlorofluorocarbon এবং Halon নির্গমনের কারণে কড়া গন্ধযুক্ত হালকা নীল রঙের বিষাক্ত গ্যাস ওজনকে অন্যান্য গ্যাসে ভেঙ্গে দেয় । অ্যান্টার্কটিকার চরম ঠাণ্ডা অবস্থা মেরু Stratospheric cloud তৈরি করতে সাহায্য করে । মেঘ রাসায়নিক বিক্রিয়ার জন্য অনুঘটক হিসেবে কাজ করে, যা শেষ পর্যন্ত ওজন গ্যাসকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায় । ওজন গ্যাস হ্রাসের ফলে আন্তর-আকাশে (Stratosphere) প্রায় ৬ °C (১১ °F) শীতল হতে পারে । শীতলকরণ মেরু ঘূর্ণিকে শক্তিশালী করে এবং তাই দক্ষিণ মেরুর কাছে ঠাণ্ডা বাতাসের বহিঃপ্রবাহকে বাধা দেয় । যার ফলস্বরূপ পূর্ব-দক্ষিণ মেরুদেশীয় বরফের পাত মহাদেশীয় ভর কে শীতল করে । অ্যান্টার্কটিকার প্রান্তস্থ বা সীমান্তবর্তী এলাকা বিশেষ করে দক্ষিণ মেরুদেশীয় উপদ্বীপ তখন উচ্চ তাপমাত্রার শিকার হয়, যা বরফ গলে যাওয়াকে ত্বরান্বিত করে । ওজন গ্যাস হ্রাস এবং উন্নত মেরু ঘূর্ণির প্রভাবও সমুদ্রের বরফের পরিমাণ বৃদ্ধির সময়কালের জন্য দায়ী হতে পারে । বরফের তাক Buttressing এর ক্ষতিকে পশ্চিম-দক্ষিণ মেরুদেশীয় বরফের পাতে ক্ষতির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে । তবে পূর্ব-দক্ষিণ মেরুদেশীয় বরফের আশেপাশেও এটি পরিলক্ষিত হয় । উচ্চ উচ্চতার কারণে পূর্ব অ্যান্টার্কটিকা তার পশ্চিম অংশের তুলনায় শীতল । মহাদেশের প্রান্তে, মেরু মালভূমি থেকে শক্তিশালী Katabatic বাতাস প্রায়ই ঝড়ের শক্তিতে বয়ে যায় । গ্রীষ্মকালে নিরক্ষরেখার তুলনায় দক্ষিণ মেরুতে বেশি সৌর বিকিরণ পৌঁছায় কারণ সেখানে প্রতিদিন ২৪ ঘন্টা সূর্যালোক পাওয়া যায় । অ্যান্টার্কটিকায় বৃষ্টিপাত তুষার আকারে ঘটে, যা মহাদেশটিকে বিশাল বরফের চাদর ঢেকে দেয় । মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে বরফ উপকূলের দিকে প্রবাহিত হয় । বরফ তখন সাগরে চলে যায় । প্রায়শই বিশাল ভাসমান বরফের তাক তৈরি করে । এ তাকগুলো গলে যেতে পারে বা বরফখণ্ড তৈরি করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত সমুদ্রের উষ্ণ জলে পৌঁছানোর সময় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় । বরফের তাক উষ্ণ জলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, যার ফলে বরফের বড় তাকগুলো সমুদ্রে ভেঙে পড়ে । অ্যান্টার্কটিকাকে স্পন্দিত মহাদেশ বলা হয়, কারণ এর মাধ্যমিক বা গৌণ বরফ-সমন্বিত উপকূলরেখার বার্ষিক নির্মাণ এবং পশ্চাদপসরণ । গবেষকদের মতে প্রায় ৪৫ শতাংশ Ice shell, ৩৮ শতাংশ Ice wall, ১৩ শতাংশ Ice stream এবং ০৪ শতাংশ Rock দিয়ে অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ গঠিত । মহাদেশটি একটি ঠাণ্ডা শুষ্ক মরুভূমি, যেখানে পানির প্রবেশাধিকার জীবন বা প্রাণের প্রাচুর্য নির্ধারণ করে । যদিও স্থলজ বাস্তুতন্ত্রে ১০০০ এরও বেশি পরিচিত প্রজাতির জীব রয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগই অণুজীব । সামুদ্রিক অ্যান্টার্কটিকা, দ্বীপপুঞ্জ ও উপকূলগুলো অভ্যন্তরীণ অ্যান্টার্কটিকার চেয়ে বেশি জীবন বা প্রাণকে সমর্থন করে এবং আশেপাশের সমুদ্র জীবন সমৃদ্ধ, যেহেতু জমি অনুর্বর বা বন্ধ্যা ।
Ross Sea এবং Weddell Sea সাগরের মাঝে বিস্তীর্ণ ভূদৃশ্যময় Cape Adere থেকে Coats Land পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ২১০০ মাইল (প্রায় ৩৪০০ কিলোমিটার) এলাকা নিয়ে বিস্তৃত Transantarctic Mountains পর্বতশ্রেণী দ্বারা পূর্ব ও পশ্চিম দুটি অসমান অংশে মহাদেশটিকে বিভক্ত করেছে । অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের মূল ভূখণ্ডের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হচ্ছে পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকা এবং বাকি দুই-তৃতীয়াংশ পূর্ব অ্যান্টার্কটিকার অন্তর্ভুক্ত । এ ক্ষুদ্রতম পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকা সম্পূর্ণই বরফে আচ্ছাদিত । সাদা বরফে আবৃত সর্ববৃহৎ পর্বতশ্রেণী হচ্ছে Gamburtsev Mountain Range, যা প্রায় ৭০ মাইল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত । উচ্চতা প্রায় ০৯ হাজার ফুট । অ্যান্টার্কটিকার দু’টি সাগর হচ্ছে Ross Sea এবং Weddell Sea । এখানে রয়েছে অসংখ্য হ্রদ । প্রায় ৪০০টি পরিচিত উপ-হিমবাহ হ্রদের মধ্যে বৃহত্তম হ্রদটি হচ্ছে Lake Vostok । স্বাদু জলের এ হ্রদটি সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৪৮৮ মিটার (১১৪৪৪ ফুট) উপরে অবস্থিত । গ্রীষ্মকালে হ্রদের প্রান্তের বরফ গলে যেতে পারে এবং অস্থায়ীভাবে তরল খাই বা পরিখা তৈরি হয় । অ্যান্টার্কটিকায় লবণাক্ত এবং স্বাদুপানির উভয় ধরণের হ্রদ রয়েছে । প্রায় ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘতম নদী হচ্ছে Onyx River । অনেকগুলো পরিচিত দ্বীপ রয়েছে যেমন: Alexander Island, Berkner Island, Thurston Island, Kenny’s Island ইত্যাদি । প্রবল শৈত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে বেঁচে থাকতে সক্ষম এমন উদ্ভিদ ও প্রাণীরাই অ্যান্টার্কটিকায় টিকে থাকতে পারে । তুন্দ্রা অঞ্চলে স্থানীয় প্রজাতির মধ্যে রয়েছে Mite, Nematode, Crab, Emperor Penguin, Adélie Penguin, Seal, Tardigrade, Pelagic fish, শৈবাল, অন্যান্য ক্ষুদ্র অণুজীব এবং তুন্দ্রাঞ্চলীয় বিভিন্ন উদ্ভিদ ইত্যাদি । এ মেরু অঞ্চলের প্রতীক হচ্ছে পেঙ্গুইন । প্রায় ৩০০ প্রজাতির জলজ উদ্ভিদের বসবাস এ শৈত্যময় পরিবেশে ।
মূল ভূখণ্ডে বিশেষ করে Mount Melbourne, Berlin Mountain, Mount Hampton, Muhlig-Hofman Mountain পর্বতে কয়েকটি সক্রিয় বা জলন্ত আগ্নেয়গিরি রয়েছে । বরফের খুঁতেল বা দাগযুক্ত সক্রিয় আগ্নেয়গিরিগুলো Dot Western Ellsworth Land, Marie Byrd Land, অ্যান্টার্কটিক উপদ্বীপের উপকূলের অংশগুলোতে এবং Victoria Land এর উপকূলের কিছু অংশে অবস্থিত । কিন্তু Scotia Arc এর মধ্যে আগ্নেয়গিরির প্রধান কার্যকলাপ কেন্দ্রীভূত হয় । শুধুমাত্র একটি আগ্নেয়গিরি Gaussberg (৯০° E) পূর্ব অ্যান্টার্কটিকার সমগ্র উপকূলে দেখা যায় । Mount Sidley হচ্ছে সর্ববৃহৎ সুপ্ত আগ্নেয়গিরি এবং এ আগ্নেয়গিরিটি Volcanic Seven Summit এর সদস্য । এর উচ্চতা ৪১৮১–৪২৮৫ মিটার । এটি একটি বিশাল— প্রধানত তুষার আচ্ছাদিত ঢাল আগ্নেয়গিরি, যা Marie Byrd Land এর Executive Committee Range এর অন্তর্ভুক্ত পাঁচটি আগ্নেয় পর্বতের মধ্যে সর্বোচ্চ । এছাড়া Ross Island দ্বীপে বিশ্বের সবচেয়ে দক্ষিণের সক্রিয় আগ্নেয়গিরিটি হচ্ছে Mount Erebus । প্রতিদিন প্রায় ১০ বার বিস্ফোরিত হয় । অগ্ন্যুৎপাতের ছাই আগ্নেয়গিরির গর্ত থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার (১৯০ মাইল) দূরেও পাওয়া যায় । এ আগ্নেয়গিরিটি মহাদেশের ষষ্ঠ-সর্বোচ্চ আল্ট্রা পর্বত (Ultra mountain) । মহাদেশের অপর প্রান্তে Deception Island দ্বীপের আগ্নেয়গিরিকুণ্ডটি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় রয়েছে । আগ্নেয়গিরি প্রায়শঃ লাভা'র পরিবর্তে বরফের স্ফটিক (Crystal) উদগীরণ করে । এছাড়া ধারণা করা হয় Buckle Island, Penguin Island, Paulet Island এবং Lindenberg Island দ্বীপগুলো ছাড়াও বরফের নীচে প্রচুর পরিমাণে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে, যেগুলোর কার্যকলাপের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে বরফ পাতের (Ice sheet) জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে । অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের উত্তর-পশ্চিমে একটি বড় পর্বতমালা Vinson Massif এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ বা বিন্দুটি হচ্ছে ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ, ১৩ কিলোমিটার চওড়া এবং ১৬০৬৬ ফুট (৪৮৯৭ মিটার) উচ্চতা । এটি Ellsworth পর্বতমালার Sentinel Range এর মধ্যে অবস্থিত । সর্বনিম্ন বিন্দুটি The Bentley Subglacial Trench হচ্ছে পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার Marie Byrd Land এর একটি বিশাল স্থান বৃত্তান্ত ঘটিত খাদ, যেটি ৮০° S এবং ১১৫° W অবস্থিত । পরিখা বা খাদটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৫৫৫ মিটার (৮৩৮২ ফুট) নিচে । এটি (সংলগ্ন Byrd Subglacial Basin এর গভীরতম বিন্দুগুলোর সাথে) পৃথিবী পৃষ্ঠের সর্বনিম্ন বিন্দুগুলোর মধ্যে রয়েছে যা মহাসাগর দ্বারা আবৃত নয়, যদিও এটি বরফ দ্বারা আবৃত ।
Neoproterozoic যুগের শেষ থেকে Cretaceous পর্যন্ত, অ্যান্টার্কটিকা ছিল সুপারমহাদেশ Gondwana এর অংশ । আধুনিক অ্যান্টার্কটিকা গঠিত হয়েছিল যখন Gondwana ১৮৩ Ma এর দিকে ধীরে ধীরে ভেঙে যায় । Phanerozoic যুগের একটি বড় অংশের জন্য অ্যান্টার্কটিকায় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বা নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু এবং এটি বনে আচ্ছাদিত ছিল । অ্যান্টার্কটিকা উদ্ভিদ জীবনের বিস্তৃত বৈচিত্র্য দেখেছে । অ্যান্টার্কটিকার বেশিরভাগ প্রজাতি লক্ষ লক্ষ বছর আগে সেখানে বসবাসকারী প্রজাতির বংশধর বলে মনে করা হয় । যেমন, তারা অবশ্যই একাধিক হিমবাহ চক্র থেকে বেঁচে আছে । প্রজাতিগুলো বিচ্ছিন্ন উষ্ণ অঞ্চলে অত্যন্ত ঠাণ্ডা জলবায়ুর সময়কাল থেকে বেঁচে ছিল । কুমেরু বৃত্তের বাইরে অ্যান্টার্কটিক উপদ্বীপ এবং এর আশেপাশের এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা বেশি থাকায় এ পরিবেশে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা সহ্য করার ক্ষমতা আছে এমন Moss, Algae এবং বিভিন্ন ধরনের Lichen জাতীয় উদ্ভিদের বসবাস রয়েছে । যদিও এরা প্রচণ্ড শীত বা ঠাণ্ডায় সুপ্ত অবস্থায় থাকে এবং অনুকুল পরিবেশে আবার জীবন্ত হয়ে উঠে । অ্যান্টার্কটিকায় মোট প্রায় ৮০০ প্রজাতির গাছের মধ্যে প্রায় ৩৫০টি প্রজাতিই হচ্ছে ছত্রাক বা শ্যাওলা বা শৈবাল জাতীয় উদ্ভিদ (Lichen) । যদিও লাইকেন ধীর গতিতে বর্ধনশীল, বিশেষ করে অ্যান্টার্কটিকায় বেঁচে থাকার জন্য ভালোভাবে অভিযোজিত । তারা সুপ্ত অবস্থায় দীর্ঘ উচ্চ-চাপ সহ্য করতে পারে এবং অবস্থার উন্নতি হলে প্রায় সঙ্গে সঙ্গে সালোকসংশ্লেষী হয়ে উঠে । প্রায় ১০০ প্রজাতির Bryophytes (Moss এবং Liverwort) রয়েছে । উপকূলীয় এবং সামুদ্রিক অঞ্চলে এগুলো প্রাধান্য পায় । অসংখ্য প্রজাতির Mold, Yeast, Fungi, Diatom, Plankton, মিঠা পানির Algae এবং Bacteria ইত্যাদি দক্ষিণ মেরুদেশীয় উদ্ভিদ বা প্রাণী । যদিও মৃত্তিকা মূলত Humic ধরনের নয় । তবে সাধারণত জীবাণুমুক্ত হয় না । এতে ব্যাকটেরিয়া বা বিভিন্ন ধরণের নীল-সবুজ শৈবালের (Blue-green algae) মতো অণুজীব থাকতে পারে । নীল-সবুজ শৈবাল Nostoc স্থানীয়ভাবে মাটিতে ক্ষুদ্র জৈব যৌগ যোগান দেয় । দক্ষিণ মেরুদেশীয় অঞ্চলের হ্রদগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাক বাস করে । প্রায় ১১৫০ প্রজাতির ছত্রাক তালিকাভূক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৭৫০টি অ-লাইকেন (Non-lichen) গঠনকারী । কিছু প্রজাতি চরম পরিস্থিতিতে বিকশিত হয়ে ছিদ্রযুক্ত শিলাগুলোর মধ্যে কাঠামোগত গহ্বরে উপনিবেশ স্থাপন করেছে । McMurdo Dry Valley এবং পার্শ্ববর্তী পর্বত শৈলশিরাগুলোর শিলা গঠনে অবদান রেখেছে । এ ধরনের ছত্রাকের Simplified morphology তাদের অনুরূপ জৈবিক কাঠামোসহ বিপাক ব্যবস্থা খুব কম তাপমাত্রায় সক্রিয় থাকতে সক্ষম এবং জীবনচক্র হ্রাস করে ও তাদের এ ধরনের পরিবেশের জন্য উপযুক্ত করে তোলে । পুরু-প্রাচীরযুক্ত এবং দৃঢ়ভাবে Melanised কোষগুলো তাদের অতিবেগুনী বিকিরণ (UV) প্রতিরোধী করে তোলে । Algae এবং Cyanobacteria তে একই বৈশিষ্ট্যগুলো লক্ষ্য করা যায়, ধারণা করা হয় তারা অ্যান্টার্কটিকায় বিরাজমান অবস্থার সাথে অভিযোজিত । এর ফলে মঙ্গল গ্রহের প্রাণ বা জীবন হয়তো অ্যান্টার্কটিক ছত্রাকের মতোই ছিল, যেমন Cryomyces antarcticus এবং Cryomyces minteri । ছত্রাকের কিছু প্রজাতি রয়েছে যেগুলো অ্যান্টার্কটিকার স্থানীয় । পাখির গোবরে বাস করে এবং বিবর্তিত হয়েছে, তাই তারা অত্যন্ত ঠাণ্ডা গোবরের ভিতরে বৃদ্ধি পেতে পারে । তবে উষ্ণ রক্তের প্রাণীদের অন্ত্রের মধ্য দিয়েও যেতে পারে । আন্টার্কটিকার দ্বীপ বা উপ-দ্বীপগুলোতে বিভিন্ন জাতের লতা রয়েছে যেমন: Deschampia, Deschampia elegantula, Colobanthus crassifolius ইত্যাাদি এবং ঘাস জাতের মধ্যে যেমন: Poa annua পাওয়া যায় । বরফের নিচে ৮০০ মিটার (০.৫০ মাইল) গভীরে Bacteria পাওয়া গেছে । ধারণা করা হয় যে Lake Vostok হ্রদের ভূগর্ভস্থ জলাশয়ের মধ্যে একটি স্থানীয় Bacteria সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব রয়েছে । সেখানে প্রাণ বা জীবনের অস্তিত্ব বৃহস্পতি গ্রহের চাঁদ Europa তে প্রাণ বা জীবনের সম্ভাবনার পক্ষে যুক্তিকে শক্তিশালী করে বলে মনে করা হয়, যার জল-বরফের ভূত্বকের (Water-ice crust) নিচে পানিতে থাকতে পারে । Lake Untersee হ্রদের অত্যন্ত ক্ষারীয় জলে Extremophile bacteria এর একটি সম্প্রদায় বিদ্যমান আছে । এ ধরনের আতিথেয়তাহীন বা আতিথ্যবিমুখ এলাকায় অত্যন্ত স্থিতিস্থাপক বা স্বাভাবিক অবস্থায় প্রত্যাবর্তী বা প্রাণোচ্ছল প্রাণীর (Highly resilient creature) প্রসার আরো ঠাণ্ডা মিথেন সমৃদ্ধ পরিবেশে বহির্জাগতিক জীবনের পক্ষে যুক্তিকে আরো শক্তিশালী করতে পারে । প্রচণ্ড ঠাণ্ডা দক্ষিণ মেরুদেশীয় সমুদ্রে উদ্ভিদ-প্ল্যাংকটন (Phytoplankton) এবং প্রানী-প্ল্যাংকটনের (Zooplankton) প্রাচূর্যতা রয়েছে । ৭০০ প্রজাতির শৈবালের (Algae) মধ্যে প্রায় অর্ধেকই সামুদ্রিক Phytoplankton । বহু রঙের তুষার শৈবাল বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচুর দেখা যায় । বিভিন্ন প্রজাতির Krill, Euphausia superba, Penguin, Seal, Squid, Whale ইত্যাদি প্রাণী এখানে বসবাস করে থাকে । নিকটবর্তী অঞ্চলের সমুদ্রের তলদেশের প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে Sessile hydrozoan, Coral, Sponge এবং Bryozoan, Pycnogonid, Isopod, Annelid worm polychaeta, Echinoid, Sea star (Starfish) এবং বিভিন্ন ধরণের Crustacean, Mollusk ইত্যাদি । দক্ষিণ সমুদ্রে মাছের দ্রুত বৃদ্ধির অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে । আধুনিক মাছ প্রায় ৩০০০০ প্রজাতির এবং এদের মধ্যে অ্যান্টার্কটিক অভিসরণের দক্ষিণে সমুদ্র থেকে প্রায় ১০০টিরও বেশি পরিচিত নয় । সমুদ্রের তলদেশের ৯০ প্রজাতির প্রায় তিন-চতুর্থাংশই Antarctic Perches Superfamily Notothenioidea এর অন্তর্গত । এ গহীন সমুদ্রে Zoarcidae বা Eel-pout, Liparidae, Macrouridae, Gadidae বা Cod, Barracuda, Lantern এবং বিরল প্রজাতির Nonbony ধরনের Hagfish ও Skate মাছ রয়েছে । অ্যান্টার্কটিক মাছগুলো ঠাণ্ডা জলের সাথে ভালোভাবেই অভিযোজিত হয়ে থাকে । সাগর তলদেশের মাছগুলো অত্যন্ত স্থানীয়, শতকরা ৯০ ভাগ প্রজাতি অন্য কোথাও পাওয়া যায় না । এটি অন্যান্য জৈবিক এবং ভূতাত্ত্বিক প্রমাণকে সমর্থন করে যে, অ্যান্টার্কটিকা খুব দীর্ঘ সময় ধরে বিচ্ছিন্ন ছিল । Ross sea এবং Weddell sea এর বরফ তাকের মধ্যে ঠান্ডায় জমে যাওয়া বড় বড় মাছ পাওয়া গেছে । কার্বনের তেজষ্ক্রীয় রূপভেদ নির্ণয় বা প্রত্নবস্তুর বয়স নির্ধারণকারী Radiocarbon dating (Carbon-14 dating) করে এ মাছগুলোর বয়স প্রায় ১০০০ বছরেরও বেশি বলে জানা যায় । উল্লেখ্য যে: Radiocarbon dating হচ্ছে কার্বনের একটি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ, রেডিওকার্বনের বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে জৈব উপাদান ধারণকারী বস্তুর বয়স নির্ধারণের একটি পদ্ধতি । ধারণা করা হয়, মাছগুলো সমুদ্রের খুব গভীরে পৌঁছে এবং বরফের মধ্যে আটকা পড়েছিল । পরবর্তীতে বরফের তাকগুলো ক্ষয় হয়ে যাওয়ার কারণে মাছগুলো বরফের উপর উঠে আসে । পৃথিবীর বিরান ও হিমশীতল এ মহাদেশে সবুজের কোনো চিহ্ন নেই । মশা, পিঁপড়া ও সরীসৃপের কোনো অস্তিত্ব নেই বললেই চলে । এক প্রকার বিচিত্র Ice fish মাছ রয়েছে, যার রক্ত লাল নয় কিন্তু স্বচ্ছ জলের মতো । প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে কিছু মাছের শরীরে বিপাকক্রিয়া (Metabolism) বিলম্বে ঘটে । Dissotichus mawsani এবং Trematomus প্রজাতির মাছের মধ্যে এক অবিশ্বাস্য ক্ষমতা রয়েছে যে, প্রচণ্ড ঠান্ডায়ও এদের রক্ত জমাট বাঁধে না । এছাড়া এদের রক্তে এক ধরনের Antifreeze ক্ষমতাও রয়েছে । এখানে রয়েছে নানা ধরণের কীটপতঙ্গ বা পোকামাকড়, পরজীবী এবং এক প্রকার পাখাবিহীন মাছি । যেমন: স্থানীয় স্থলজ (Antarctic microfauna) সম্পূর্ণরূপে অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের মধ্যে Heliozoan, Rotifer, Tardigrade, Nematode, Ciliate protozoan ইত্যাদি । প্রধান Arthropod গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে রয়েছে Acarina (Mite), Mallophaga (Biting lice), Collembola (Springtail), Anoplura (Sucking lice), Diptera (Midge), Siphonaptera (Flea) ইত্যাদি । দুই প্রজাতির গুবরে পোকা রয়েছে এবং এরা সম্ভবত অস্থানিক, অ্যান্টার্কটিক উপদ্বীপের কাছাকাছি দ্বীপ থেকে পরিচিত । আজকের অনুর্বর অ্যান্টার্কটিকের প্রাকৃতিক ভূচিত্রের সাথে প্রাচীন Paleozoic এবং Mesozoic যুগের প্রাকৃতিক ভূচিত্রের পার্থক্য অনেক । Antarctic glaciation সম্ভবত ৫০ মিলিয়ন বছর আগে শুরু হয়েছিল । সমস্ত সংবহনতান্ত্রিক (Vascular) উদ্ভিদ (Fern, Conifer এবং ফুলের গাছ) উত্তর দিকে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হয়েছিল । শুধুমাত্র অ-কাঠীয় (Nonwoody) প্রজাতি উপ-দক্ষিণ মেরুদেশীয় অঞ্চলে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং খুব কমই দক্ষিণ মেরুদেশীয় অঞ্চলে অনুপ্রবেশ করেছে । অ্যান্টার্কটিকার বিপরীতে, দক্ষিণ মেরুদেশীয় অভিসরণের দক্ষিণে, উপ-দক্ষিণ মেরুদেশীয় উদ্ভিদসংক্রান্ত অঞ্চলের অভিসরণের উত্তরে অবস্থিত— South Georgia, Crozet, Kerguelen, Macquarie Island দ্বীপগুলোতে অনেক প্রজাতির সংবহনতান্ত্রিক উদ্ভিদের প্রাচুর্যতা রয়েছে । শুধুমাত্র দক্ষিণ জর্জিয়াতে অন্তত ৫০টি প্রজাতি চিহ্নিত করা হয়েছে । এখানে বীজগুটি (Spore) দ্বারা পুনরুৎপাদনকারী উদ্ভিদগুলো অ্যান্টার্কটিকার বৈশিষ্ট্য এবং বীজ উদ্ভিদগুলো প্রধানত উপ-দক্ষিণ মেরুদেশীয় অঞ্চলগুলোর বৈশিষ্ট্য । দক্ষিণ মেরুদেশীয় এবং উপ-দক্ষিণ মেরুদেশীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রকে মানুষ ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে । তিমি শিকারের ঘাঁটি বা স্থানে সংবহনতান্ত্রিক উদ্ভিদের পরক বা অস্থানিক প্রজাতির প্রবর্তন করা হয়েছে এবং নিঃসন্দেহে সমস্ত দক্ষিণ মেরুদেশীয় ঘাঁটির কাছে অনেক অস্থানিক অণুজীব বিদ্যমান । স্থানীয় নয় এমন তৃণভোজী প্রাণী প্রধানত ভেড়া এবং খরগোশ অনেক উপ-দক্ষিণ মেরুদেশীয় দ্বীপের উদ্ভিদ সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছে । এছাড়া পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা অ্যান্টার্কটিকার ভঙ্গুর বাস্তুতন্ত্রের উপর প্রভাব ফেলেছে বা ফেলবে ।
আন্টার্কটিকা ও কুমেরু বৃক্তের বাইরে দক্ষিণে মহাদেশের দ্বীপগুলোতে পরিচিত প্রায় ৪৫টি প্রজাতির পাখি বাস করে । এদের মধ্যে রয়েছে Snow petrel (Pagodroma nivea), Antarctic petrel (Thalassoica antarctica), বিপন্ন প্রজাতি ও হিংস্র শিকারী আন্টার্কটিকার বাজ বা ঈগল জাতীয় পাখি South polar skua (Stercorarius McMormic), Fulmer বা Giant Antarctic petrel (Macronectes giganteus), Cormorant (Phalacrocorax atriceps), Diving petrel, পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘতম আকাশ ভ্রমণকারী (১০ সেন্টিমিটার লম্বা এবং ৩৪ গ্রাম ওজন) ক্ষুদ্রতম পাখি Storm petrel (Oceanites oceanicus), Pintail, Gull, Tern, Sheathbill এবং Pipit ইত্যাদি । পাখিগুলো সামুদ্রিক খাবারের উপর নির্ভরশীল । বেশিরভাগ পাখি প্রতি শরৎকালে মহাদেশ ছেড়ে অন্যত্র চলে যায় এবং উত্তর দিকে বরফ গাঁটরি বা ফেটি (Ice pack) তৈরি হওয়ার সাথে সাথে অ্যান্টার্কটিকার “Secondary” উপকূলরেখা অনুসরণ করে । এক গবেষণায় দেখা যায় যে, কিছু অ্যান্টার্কটিক পাখি সারা বিশ্বে ভ্রমণ করে । মহাদেশীয় অভ্যন্তরে, এমনকি দক্ষিণ মেরু ছাড়িয়েও Skuas এবং Petrel পাখিগুলো মাঝে মাঝে মহাদেশ অতিক্রম করতে পারে । উড়ন্ত পেঙ্গুইনসহ অ্যান্টার্কটিক পাখিদের এক শক্তিশালী স্ব-গৃহে প্রত্যাবর্তনের সহজাত প্রবৃত্তি এবং চমৎকার নেভিগেশনাল ক্ষমতা রয়েছে । তাদের একটি উচ্চ বিকশিত বা বেশ উন্নত Sun-azimuth orientation system এবং জৈবিক ঘড়ি প্রক্রিয়া (Biological clock mechanism) রয়েছে যে, এটি ক্রমাগত উচ্চে থাকা সত্ত্বেও এমনকি সূর্যের সাথে কাজ করে । Adélie পেঙ্গুইনগুলো তাদের বাসা থেকে ১৯০০ মাইল পর্যন্ত পথ মুক্তভাবে উড়ে যায় এবং এক বছরের মধ্যে পুনরায় ফিরে আসে । অ্যান্টার্কটিক উপদ্বীপের উত্তর প্রান্তে সেমুর দ্বীপ এবং আরো কয়েকটি স্থানে পাওয়া জীবাশ্ম পরীক্ষা করে প্রায় ৪০ মিলিয়ন বছর আগে Eocene যুগের এ উড়ন্ত পাখিদের বিবর্তন ইতিহাস পাওয়া গেছে । এ মহাদেশের শুকনো উপত্যকা অঞ্চল হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্কতম অঞ্চল । এখানে টকটকে লাল পানির রক্ত ঝর্না বা জলপ্রপাত রয়েছে । পানির সাথে প্রচুর পরিমাণে আয়রন অক্সাইড থাকার কারণে এ পানি লাল দেখায় । বিস্ময়কর যে, প্রচণ্ড শীতল ও তুষারমণ্ডিত এ অঞ্চলে কোনো ভাল্লুক নেই । আরেকটি মজার বিষয় হচ্ছে যে, পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্তের চেয়ে এখানে নক্ষত্র পতনের দৃশ্য সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ।
The International Council for Science (ICSU) ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বরে Special Committee on Antarctic Research (SCAR) সংক্রান্ত একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে এবং পরবর্তীতে 'অ্যান্টার্কটিক চুক্তি' সম্পন্ন হয় । অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের মালিকানা কারো দখলে নেই । তবে বেশ কয়েকটি দেশ এর বিভিন্ন অংশের উপর নিজেদের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব বা মালিকানা দাবী করলে ০১লা ডিসেম্বর ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে ১২টি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ‘অ্যান্টার্কটিক চুক্তি’ স্বাক্ষর করার পর শাসিত হচ্ছে এ শীতল মহাদেশটি । ১২টি দেশ হচ্ছে: Argentina, Australia, Belgium, Chile, France, Japan, New Zealand, Norway, South Africa, Russia (The Soviet Union), The United Kingdom, The United States । অ্যান্টার্কটিক চুক্তি রাজনৈতিক কূটনীতিতে একটি অভূতপূর্ব বৈশিষ্ট্য ছিল যে: এটি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য সমগ্র মহাদেশকে সংরক্ষণ করে । এ চুক্তি দ্বারা মহাদেশটিকে বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক অস্ত্র-মুক্ত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং একটি উদ্ভাবনী পদ্ধতিতে আঞ্চলিক দাবির বিষয়টি নিয়ে কাজ করে । বর্তমানে ৪৮টি দেশ এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে । ফলে এখানে সামরিক কার্যকলাপ, খনিজ সম্পদ খনন, পারমানবিক বিস্ফোরণ এবং পারমানবিক বর্জ্য নিষ্পত্তি ইত্যাদি নিষিদ্ধ করা হয়েছে । আন্তর্জাতিক বিরোধের বিষয়বস্তুতে পরিণত না করা, মানবজাতির কল্যাণের জন্য শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে সহায়তা, অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ-সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্র সুরক্ষিত করা হয়েছে । অধিকন্তু দূরপাল্লার বিমান, রকেট, স্যাটেলাইট নজরদারি এবং যুদ্ধের পরিবর্তিত প্রকৃতির ক্রমবর্ধমান সামর্থ্যের কারণে ২১ শতকে কৌশলগত সামরিক অবস্থান হিসেবে অ্যান্টার্কটিকার গুরুত্ব হ্রাস পেয়েছে । ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে অ্যান্টার্কটিকার জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য প্রথম আন্তর্জাতিক চুক্তি হয় । অতিরিক্ত Krill মাছ (ইহা একটি প্রাণী যেটি অ্যান্টার্কটিক বাস্তুতন্ত্রে এক বড় ভূমিকা পালন করে) ধরার ফলে এর উপর একটি প্রবিধান প্রণয়ন করে । মৎস্য চাষ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশগত বা বাস্তুসংস্থানগত সম্পর্ক রক্ষা করার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে The Convention for the Conservation of Antarctic Marine Living Resources (CCAMLR) আন্তর্জাতিক চুক্তিটি কার্যকর হয় । অ্যান্টার্কটিকের খনিজ সম্পদ নিয়ন্ত্রণের জন্যেও ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে একটি প্রবিধান গৃহীত হয়, যেটি ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দে কার্যকর করে । এ মহাদেশটিকে একটি 'বিশ্ব উদ্যান' হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য Greenpeace ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত Ross Island দ্বীপে একটি ঘাঁটি স্থাপন এবং ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করে । ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে আন্তর্জাতিক তিমি কমিশন দ্বারা 'দক্ষিণ মহাসাগর তিমি অভয়ারণ্য' প্রতিষ্ঠিত হয় । এটি ৫০ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার (১৯ মিলিয়ন বর্গ মাইল) জুড়ে এবং সম্পূর্ণরূপে দক্ষিণ মেরুদেশীয় (Antarctic) মহাদেশকে ঘিরে রয়েছে । অঞ্চলটিতে সমস্ত বাণিজ্যিক তিমি শিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যদিও জাপান গবেষণার উদ্দেশ্যে এই এলাকায় তিমি শিকার অব্যাহত রেখেছে । এই সুরক্ষা সত্ত্বেও, অ্যান্টার্কটিকার জীববৈচিত্র্য এখনও মানুষের কার্যকলাপ থেকে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে । বিশেষভাবে সুরক্ষিত এলাকা শতকরা ২ ভাগ এর কম এলাকা প্রাবরণ করে এবং কম দৃশ্যমান প্রাণীর তুলনায় জনপ্রিয় আবেদনসহ প্রাণীদের জন্য ভাল সুরক্ষা প্রদান করে । সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকার চেয়ে বেশি ভূ-সংরক্ষিত এলাকা রয়েছে । বাস্তুতন্ত্র স্থানীয় এবং বৈশ্বিক হুমকি দ্বারা প্রভাবিত হয় । বিশেষ করে দূষণ, অ-স্থানীয় প্রজাতির আক্রমণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিভিন্ন প্রভাবে ।
পৃথিবীর হিমঘর অ্যান্টার্কটিকা হচ্ছে একটি মনোরম স্থান । ১৯ শতকের শেষের দিকে এ অঞ্চলে পর্যটন লক্ষ্য করা যায় । বেশিরভাগ ভ্রমণ পরিচালনাকারীরা ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত International Association of Antarctica Tour Operators (IAATO) এর সদস্য । IAATO হচ্ছে একটি স্ব-নিয়ন্ত্রক শিল্প সংস্থা এবং অ্যান্টার্কটিক চুক্তি ব্যবস্থার সাথে যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু বা সম্পর্কযুক্ত । এখানে প্রায় ৮০টি স্থায়ী গবেষণাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে । বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অসংখ্য বিজ্ঞানী-গবেষক নানা গবেষণা কাজে এখানে নিয়োজিত রয়েছেন । এখানে কোনো স্থায়ী অধিবাসী নেই । তবে গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে গ্রীষ্মকালে প্রায় ৫০০০ লোকের বসবাস রয়েছে, যা শীতকালে প্রায় ১০০০ লোকসংখ্যায় নেমে আসে । দূরবর্তীতা সত্ত্বেও মানুষের নানাবিদ কার্যকলাপের ফলে দূষণ, ওজোন হ্রাস বা নিঃশেষকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মাধ্যমে এ মহাদেশটিতে একটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে । যদিও এখানে ভ্রমণ নিয়ন্ত্রিত, ব্যয়বহুল এবং অত্যন্ত কঠিন । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিখ্যাত হেভি মেটাল রক ব্যান্ড ‘Metallica’ এর জনপ্রিয় গান ”Freeze ‘Em All”এর চিত্রায়ন করা হয় এ সফেদ তুষার দেশে । ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে 'মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অ্যান্টার্কটিক গবেষণা কেন্দ্র' বা পরিবেশ বান্ধব পারমাণবিক চুল্লি ‘McMurdo Station’ এর কার্যক্রম শুরু হয় । এ শীতলতম মহাদেশে ০৭টি গির্জা, ০১টি ATM যেটি ১০১৩২৫ bar বা ১০১৩২৫ pascal এবং ০১টি পানশালা রয়েছে । এছাড়া এখানে রয়েছে British Base Camp বা সংগ্রহশালা যেটি সর্ব দক্ষিণের একটি ডাকঘর (Penguin post office) হিসেবে পরিচিত । ইন্টারনেট জগতে অ্যান্টার্কটিকার নিজস্ব ওয়েব ডোমেইন হচ্ছে .aq । নরওয়ের অধিবাসী Roald Amundsen হচ্ছেন প্রথম মানুষ যিনি ১৯১১ খ্রিস্টাব্দের ১৪ই ডিসেম্বর অ্যান্টার্কটিকার দক্ষিণ মেরুতে পৌঁছেন । এখানে শীত এবং গ্রীষ্ম দু’টি ঋতু । গ্রীষ্মকালে সূর্য কিরণ থাকলেও শীতকালে প্রায় চার থেকে ছয় মাস সূর্যের মুখ দেখা যায় না । অঞ্চলটির বৈশিষ্ট্য এমনই যে, ঝকঝকে দিনের আলোয় ক্ষণিকেই তুষার ঝড়ের তাণ্ডবে প্রকৃতি তার বৈচিত্র্যময় রূপের আত্মপ্রকাশ করে । শৈত্য প্রবাহ, তুষার ঝড়, আদ্র বাতাস, ঘূর্ণিঝড়, মেঘলা এবং কুয়াশাপূর্ণ আবহাওয়া বিদ্যমান । বৃষ্টি প্রায় অচেনা । মেরু মালভূমিতে প্রতি বছর প্রায় ২ ইঞ্চি (৫০ মিলি মিটার) গড় বৃষ্টিপাত হয় । যদিও উপকূলীয় অঞ্চলে ১০ গুণ বেশি বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে । এছাড়া মেরু ঘূর্ণি (Polar vortex) মেঘের সৃষ্টি হয় । এ গ্রহের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে এখানে সবচেয়ে বেশি বাতাস প্রবাহিত হয় । তীব্র ঝড়ো বাতাসের গতিবেগ প্রতি ঘন্টায় প্রায় ২০০ মাইল । অ্যান্টার্কটিকায় শীতকালীন তাপমাত্রা −১২৮.৬ °F (−৮৯.২ °C), যা বিশ্বের সর্বনিম্ন নথিভুক্ত তাপমাত্রা । সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি −৭৬ °F (−৬০ °C) । তবে তাপমাত্রা স্থানভেদে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয় । শীতলতম মাসের গড় তাপমাত্রা হচ্ছে উপকূলে −৪ °F থেকে −২২ °F (−২০ °C থেকে −৩০ °C) এবং অভ্যন্তরীণ অংশে −৪০ °F থেকে −৯৪ °F (−৪০ °C থেকে −৭০ °C) । অ্যান্টার্কটিক উপদ্বীপে গ্রীষ্মের মাঝামাঝি তাপমাত্রা ৫৯ °F (১৫ °C) পর্যন্ত পৌঁছতে পারে । পৃথিবীর সকল মহাদেশের মধ্যে অ্যান্টার্কটিকা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭২০০ ফুট (২২০০ মিটার) গড় উচ্চতায় মহাদেশটি সামগ্রিকভাবে সবচেয়ে শীতল, শুষ্ক এবং সর্বাধিক ঝটিকাপূর্ণ । বেঁচে থাকার জন্য অ্যান্টার্কটিকা কঠিন জায়গা ৷
Snow petrel (Pagodroma nivea) #snowpetrels পাখি হচ্ছে Pagodroma গোত্রের একমাত্র সদস্য । এটি প্রায় একটি কবুতরের আকার, খাঁটি বা সম্পূর্ণ সাদা, কয়লা কালো চোখ, একটি ছোট ঠোঁট এবং নীলাভ ধূসর চরণযুগল রয়েছে । প্রাচীন গ্রীক শব্দ Pagos হচ্ছে এর বংশ নাম, যার অর্থ ‘তুষার’ বা ‘সমুদ্র-বরফ’ । Dromos শব্দের সাথে একত্রিত হয়ে যার অর্থ হচ্ছে ‘দৌড়বাজ’ (Racer বা Runner) । নির্দিষ্টভাবে বিশেষণটি লাতিন শব্দ Niveus থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘তুষার-সাদা’ । ‘Petrel’ শব্দটি Peter the Apostle এবং তার জলের উপর হাঁটার গল্প থেকে উদ্ভূত হয়েছে । Snow petrel পাখির দু’টি উপ-প্রজাতি রয়েছে যেমন: P. n. nivea (Forster, G, 1777) এবং P. n. major (Schlegel, 1863) । এ পাখিটি ঘন ঘন দিক পরিবর্তনের সাথে অস্থিরগতিতে উড়ে । প্রায় সম্পূর্ণরূপে ঠাণ্ডা অ্যান্টার্কটিক জলে সীমাবদ্ধ থাকে । ঝাঁকে ঝাঁকে— বিশেষভাবে হিমশৈলের উপর এদেরকে বসে থাকতে দেখা যায় । প্রধানত মাছ, কিছু Cephalopod, Mollusk, Krill, মৃত/মৃতজাত সীল, সীল এর গর্ভফুলের গলিত মাংস, তিমি'র মৃতদেহ এবং মৃত পেঙ্গুইন ছানা খেয়ে থাকে । শীতকালে পাখিগুলো বরফ রাশি, ভাসমান তুষারস্তর এবং খোলা সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ে । অ্যান্টার্কটিক মহাদেশ এবং এর বিভিন্ন দ্বীপে বসতি বা উপনিবেশগুলোতে প্রজনন ঘটায় । বাসা বাঁধার মৌসুমে Snow petrel পাখিগুলো দূরবর্তী উঁচু Queen Maude Land পাহাড়ের উপরে বাসা বাঁধতে কয়েকশ মাইল পথ উড়ে যায় ৷ এদের অংশীদাররা (Partners) সারা জীবনের জন্য বিশ্বস্ত (প্রায় ২০ বছর) । খাদ্যের জন্য তাদেরকে কয়েক দিন পর পর সমুদ্রে কঠিন যাত্রা করতে হয় এবং এক সময় ছানাগুলোর জন্য খাদ্য নিয়ে ফিরে আসে ৷ যাই হোক, এ রকম ককর্শ বা কঠোর পরিস্থিতিতে জন্মগ্রহণ কেমন হবে তা কল্পনা করা খুবই কঠিন ৷ সহনশীলতা এখানে বেঁচে থাকার পূর্বশর্ত ৷
২০১২ খ্রিস্টাব্দে @natgeo এর জন্য আন্তর্জাতিক চিত্রগ্রাহক @ladzinski সুদূর অ্যান্টার্কটিকা থেকে Snow petrel পাখির এ চমৎকার ছবিটি ধারণ করেন এবং এখানে তার ৫০ দিনের আরোহণ ও অনুসন্ধান অ্যাসাইনমেন্টের সময় ৷ অ্যান্টার্কটিকা হচ্ছে পৃথিবীর বৃহত্তম মরুভূমি এবং বিশ্বের নথিবদ্ধ ইতিহাসে সর্বশেষ আবিষ্কৃত অঞ্চল ৷ এটি এমন একটি জায়গা যা আপনাকে সমস্ত কিছুর জন্য কাজ করতে তৈরি করে তোলে । এ Snow petrel পাখি’রা কিভাবে বংশ বৃদ্ধির মধ্যদিয়ে যায়— তা দেখে মুগ্ধ করার কোনো কমতি ছিল না ৷ এ রকম একটি রূঢ় ও দুর্গম জায়গায় তার (এবং সাথে অন্যরা) একমাত্র সঙ্গী ছিল এ পাখিগুলো এবং পৃথিবীর অচেনা অংশে এটি পেয়ে সে কৃতজ্ঞ ৷ আমিও মুগ্ধ নয়নে চেয়ে থাকি ছবির পাখিগুলোর দিকে ৷ অনুভব করি তাদের জীবন, চলার পথ, স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য, খাদ্য অন্বেষণ, আবাস, বংশবৃদ্ধি, সহনশীলতা (অভিযোজন ক্ষমতা) এবং #Antarctica কে ৷ এটি আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে । সত্যিকার অর্থেই, অজানা রহস্যেঘেরা প্রকৃতির এ এক অনুপম সৌন্দর্য ৷ পৃথিবীর ঐ অচেনা-অজানা অংশে যাওয়া আমার পক্ষে হয়তো কখনোই সম্ভব হবে না! তাই আমিও আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ চিত্রগ্রাহক @ladzinski এর কাছে । কারণ, তার মাধ্যমে অসাধারণ সুন্দর ছবিটি দেখতে পেয়েছি ৷ তা না হলে, এ ক্ষণস্থায়ী জীবনে বৈচিত্র্যময় পৃথিবীর অনেক অজানা-অদেখা’র মাঝে এটিও অপূর্ণ রয়ে যেতো ৷
তথ্যসূত্র: আন্তর্জাল (The Internet) ।
ছবি: Keith Ladzinski
https://www.instagram.com/p/B_PwFMkBx-h/?fbclid=IwAR0a9Zz_t-oqMMY75cjbnK4HYTfZ7vtOt2_P738heZ2G6ZpGHY0kEWFzoMg https://www.instagram.com/p/BZzuIXkAa1d/

No comments:
Post a Comment