Monday, 20 July 2026

প্রণয়াভিলাষী কথোপকথন [কবি: টি.এস. এলিয়ট]

CONVERSATION GALANTE

By T. S Eliot

----------------

I observe: "Our sentimental friend the moon!

Or possibly (fantastic, I confess)

It may be Prester John's balloon

Or an old battered lantern hung aloft

To light poor travellers to their distress."

 She then: "How you digress!"

And I then: "Some one frames upon the keys

That exquisite nocturne, with which we explain

The night and moonshine; music which we seize

To body forth our vacuity."

 She then: "Does this refer to me?"

 "Oh no, it is I who am inane."

"You, madam, are the eternal humorist,

The eternal enemy of the absolute,

Giving our vagrant moods the slightest twist!

With your aid indifferent and imperious

At a stroke our mad poetics to confute—"

 And—"Are we then so serious?" 

---------------- 

প্রণয়াভিলাষী কথোপকথন 

কবি: টি.এস. এলিয়ট 

অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল 


আমি লক্ষ্য করি: “আমাদের আবেগপ্রবণ বন্ধু চাঁদ!

অথবা সম্ভবত (চমৎকার, আমি স্বীকার করছি)
ওটা হতে পারে প্রেস্টার জন এর বেলুন 

কিংবা শূন্যে ঝুলে থাকা একটি পুরোনো জীর্ণ লণ্ঠন  

নিঃস্ব পথিকদের দুর্দশায় আলোকিত করে।"

তখন সে: “তুমি কিভাবে প্রসঙ্গ থেকে সরে যাচ্ছো!” 

আর আমি তখন: "কেউ একজন পিয়ানোর চাবিগুলোতে সেই অপূর্ব স্বপ্নমদির সুর তৈরি করছে,  
যা দিয়ে আমরা রাত ও চাঁদের আলোকে ব্যাখ্যা করি;  
যে সঙ্গীতকে আমরা আঁকড়ে ধরি আমাদের শূন্যতাকে মূর্ত করে তুলতে।"  
খন সে: “এটি কি আমাকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে?” 
 
“ওহ্ না, বরং আমিই অর্থহীন।” 

তুমি, মহীয়সী, চিরকালের রসিক, 
রম সত্যের চিরন্তন শত্রু, 
আমাদের ভবঘুরে মেজাজকে সামান্য বাঁক দেয়! 
তোমার ঔদাসীন্য ও কর্তৃত্বপরায়ণ প্রভাবে  
এক নিমিষেই আমাদের পাগলাটে কাব্যিকতাকে খণ্ডন করে—” 
আর— “তাহলে কি আমরা এতই গম্ভীর?”

Sunday, 19 July 2026

পৃথিবীর গান [কবি: ল্যাংস্টন হিউজ]

An Earth Song 

by Langston Hughes

 (1901-1967)

---------------------

It’s an earth song,—

And I’ve been waiting long for an earth song. 

It’s a spring song,—

And I’ve been waiting long for a spring song. 

Strong as the shoots of a new plant 

Strong as the bursting of new buds 

Strong as the coming of the first child from its mother’s womb. 

It’s an earth song, 

A body song, 

A spring song, 

I have been waiting long for this spring song.  

----------


পৃথিবীর গান

কবি: ল্যাংস্টন হিউজ 

অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল 

-----------------------------------

এটি পৃথিবীর গান,—

আর আমি বহুদিন ধরে পৃথিবীর একটি গানের জন্য অপেক্ষা করছি ।

এটি বসন্তের গান,—

আর আমি বহুদিন ধরে বসন্তের একটি গানের জন্য অপেক্ষা করছি ।

নতুন গাছের কচি ডগার মত বলিষ্ঠ

নতুন কুঁড়ি ফোটার মতই বলিষ্ঠ

মায়ের গর্ভ থেকে প্রথম সন্তানের ভূমিষ্ঠ হওয়ার মতই বলিষ্ঠ ।

এটি পৃথিবীর গান,

দেহের গান,

এক বসন্তের গান,

আমি বহুদিন ধরে এই বসন্তের গানের জন্য অপেক্ষা করছি । 

আবাবিল [কবি: আব্রাহাম কাউলি]

The Swallow

By Abraham Cowley

---------------------------

FOOLISH prater, what dost thou

So early at my window do?

Cruel bird, thou’st ta’en away

A dream out of my arms to-day;

A dream that ne’er must equall’d be

By all that waking eyes may see.

Thou this damage to repair

Nothing half so sweet and fair,

Nothing half so good, canst bring,

Tho’ men say thou bring’st the Spring.

---------

আবাবিল 

কবি: আব্রাহাম কাউলি 

অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল 

----------------------

মূর্খ বাচাল, কি করছো তুমি

এত সকালে আমার জানালায়?

নিষ্ঠুর পাখি, তুমি কেড়ে নিয়েছো  

আজ আমার কোল থেকে একটি স্বপ্ন;

এমন এক স্বপ্ন যার তুলনা কোনো কিছুই হবে না

জাগ্রত চোখে যা কিছু দেখা যায় তার কোনোটি দিয়েই ।

তোমার এই ক্ষতি পূরণ করতে 

এর অর্ধেকটা এত মিষ্টি ও সুন্দর যা কিছুই না,  

অর্ধেকটা খুব ভালো কিছু আনতে পারে না,

যদিও লোকেরা বলে তুমিই বসন্ত নিয়ে আসো ।


Friday, 17 July 2026



William Shakespeare (1564-1616)

Love’s Labour’s Lost, Act V, Scene 2 [Winter] --------------------------


When icicles hang by the wall

   And Dick the shepherd blows his nail

And Tom bears logs into the hall

   And milk comes frozen home in pail,

When blood is nipp’d and ways be foul,

Then nightly sings the staring owl,

                        Tu-whit;

Tu-who, a merry note,

While greasy Joan doth keel the pot.


When all aloud the wind doth blow

   And coughing drowns the parson’s saw

And birds sit brooding in the snow

   And Marian’s nose looks red and raw,

When roasted crabs hiss in the bowl,

Then nightly sings the staring owl,

                        Tu-whit;

Tu-who, a merry note,

While greasy Joan doth keel the pot.  

----

উইলিয়াম শেক্সপিয়ার একজন ইংরেজ নাট্যকার, কবি এবং অভিনেতা । জন্ম ১৫৬৪ খ্রিঃ এবং মৃত্যু ১৬১৬ খ্রিঃ । তিনি ব্যাপকভাবে ইংরেজি ভাষা এবং বিশ্ব সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ লেখক ও নাট্যকার হিসেবে বিবেচিত । তিনি ইংল্যান্ডের জাতীয় কবি এবং তাকে Bard of Avon নামে ডাকা হয় ।   * ছবি: ব্রিটানিকা 


প্রেমের শ্রম হারিয়ে গেছে 

উইলিয়াম শেক্সপিয়ার (১৫৬৪-১৬১৬) 

অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল 

[নাটকের পঞ্চম অঙ্গ, দ্বিতীয় দৃশ্য, শীতকাল] 


যখন দেয়ালের গায়ে বরফখণ্ড ঝুলে থাকে 

আর মেষপালক ডিক তার নখে ফুঁ দেয় 

এবং টম হলঘরে কাঠের গুঁড়ি বয়ে আনে 

আর বালতিতে করে হিমায়িত দুধ বাড়িতে আসে,

যখন রক্ত ​​জমে যায় ও পথঘাট নোংরা হয়ে ওঠে,

তখন প্রতি রাতে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকা পেঁচা গান গায়, 

টু-হুইট; 

টু-হু, এক আনন্দময় সুর,

যেই মুহূর্তে তেলচিটে জোন হাঁড়ির গরম খাবার ঠাণ্ডা করছে ।

যখন সশব্দে বাতাস বইতে থাকে 

আর কাশির শব্দে ডুবে যায় যাজকের প্রবচন 

এবং পাখিরা বরফের মধ্যে বিষন্ন মনে বসে থাকে 

আর মেরিয়ানের নাকটা লালচে ও ছাল ওঠা দেখায়,

যখন বাটিতে ভাজা কাঁকড়াগুলো হিসহিস শব্দ করে,

তখন প্রতি রাতে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকা পেঁচা গান গায়,

টু-হুইট;

টু-হু, এক আনন্দময় সুর, 

যেই মুহূর্তে তেলচিটে জোন হাঁড়ির গরম খাবার ঠাণ্ডা করছে ।

Tuesday, 14 July 2026

কবি ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক ও তার কবিতা


ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক (Friedrich Gottlieb Klopstock) ছিলেন অষ্টাদশ শতাব্দীর একজন বিখ্যাত জার্মান কবি, লেখক, গীতিকার ও ভাষাতাত্ত্বিক । তার আবেগপূর্ণ সাহিত্যকর্ম জার্মান সাহিত্যে যুক্তিবাদের আধিপত্য ভেঙে রোমান্টিক ধারার সূচনা করেছিল । প্রতিভাময়ী এই কবি ২রা জুলাই ১৭২৪ খ্রিস্টাব্দে জার্মানির কুয়েডলিনবার্গে জন্মগ্রহণ এবং ১৪ই মার্চ ১৮০৩ খ্রিস্টাব্দে জার্মানির হামবুর্গে মৃত্যুবরণ করেন । তার সৃজনশীল সাহিত্যকর্ম ফরাসি অনুকরণ থেকে বেরিয়ে এসে জার্মান সাহিত্যকে নব যুগের পথ দেখায় । ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক প্রাচীন গ্রিসের সর্বশ্রেষ্ঠ গীতিকার কবি Pindar (অন্য নাম: Pindaros বা Pindarus) দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে একটি ছন্দ ও সুর ব্যবহার করে জার্মান কবিতাকে কঠোর-ঐতিহ্যবাহী সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করেছিলেন । তার সবচেয়ে জনপ্রিয় কাজগুলোর মধ্যে অগ্রগণ্য হচ্ছে বিখ্যাত মহাকাব্য Der Messias (The Messiah বা মসিহ) এবং Die Auferstehung (The Resurrection বা পুনরুত্থান) স্তবগান বা স্তোত্র বা ছন্দোবদ্ধ আধ্যাত্মিক কবিতা । এদের মধ্যে দ্বিতীয়টি রচিত হয় ঈশ্বর, দেব-দেবী, শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের প্রতি প্রশংসা ও গুণগান করার জন্য, যেটি ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে প্রভাবশালী জার্মান পিয়ানোবাদক, সুরকার ও অর্কেস্ট্রা পরিচালক হান্স ফন বুলোর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় কবি ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টকের গাওয়া Die Auferstehung স্তোত্রটি একজন অস্ট্রো-বোহেমিয়ান কল্পনাবিলাসী সুরকার Gustav Mahler কে অনুপ্রাণিত করে এবং তিনি তার দ্বিতীয় সিম্ফনির (পশ্চিমা শাস্ত্রীয় সঙ্গীত) শেষাংশে সুরারোপিত করে স্তোত্রটিকে অমরত্ব দেন । 

ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক যিনি তার মহাকাব্যিক ধর্মীয় কবিতা Der Messias বা মসিহ এর জন্য সর্বাধিক পরিচিত । মসিহ হচ্ছে খ্রিস্টধর্মের ত্রাণকর্তা যিশু খ্রিস্টের জীবন ও মানবজাতি উদ্ধারের উপর লেখা ২০ খন্ডের একটি বিখ্যাত বাইবেলীয় মহাকাব্য । এটি গ্রিক ও ল্যাটিন ধ্রুপদী মহাকাব্যের অনুকরণে ষড়্মাত্রিক কবিতা বা চরণের ছন্দে (Hexameter verse) রচিত হয় । এর মূলভাব হচ্ছে মানুষের মুক্তি এবং যিশুখ্রিস্টের আত্মত্যাগ ও পুনরুত্থান । ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক তার এই অমর রচনায় স্বর্গের বর্ণনা, শয়তানের পরিষদ, মহাবিশ্বে দেবদূতদের যাত্রা এবং শেষ বিচারের মনোজ্ঞ ইতিহাস বর্ণনা করেছেন । উল্লেখ্য যে, বিখ্যাত ইংরেজ কবি জন মিল্টনের (John Milton) রচিত কালজয়ী মহাকাব্য হচ্ছে Paradise Lost এবং এর পরের পর্ব Paradise Regained । ১৬৬৭ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ১২ খন্ডের প্যারাডাইস লস্ট মহাকাব্যে বাইবেলের আদিপুস্তকের কাহিনী অবলম্বন করে শয়তানের প্ররোচনায় আদম ও হাওয়ার (অ্যাডাম ও ঈভ) স্বর্গ চ্যুত হওয়ার ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে । কবি জন মিল্টনের সেই প্যারাডাইস লস্ট মহাকাব্যের প্রতি ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়ে মসিহ মহাকাব্যটি রচনা করেছেন । এছাড়া, ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক তার প্রথম জীবনে মহাকাব্যিক কবি হওয়ার জন্য মনের মাঝে যে সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতেন, তা থেকেও মসিহ রচনা করতে উৎসাহ পেয়েছেন । তিনি উচ্চমার্গের আখ্যানমূলক এই মহাকাব্যে গির্জার মতবাদের গণ্ডিতে বিষয়বস্তুকে আবদ্ধ করার প্রয়াস নিয়ে খ্রিস্টান সাহিত্যিক ঐতিহ্যের আশ্রয় নিয়েছিলেন । ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টকের মসিহ মহাকাব্যটি লিখতে ২৫ বছর সময় লেগেছিল । এই শ্রেষ্ঠ মহাকাব্যের প্রথম খণ্ড ১৭৪৮ খ্রিস্টাব্দে এবং এর চূড়ান্ত ও সম্পূর্ণ খণ্ড ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় । তার এই বিস্ময়কর ও অসামান্য কাজটি শুরু হওয়ার সময় তীব্র জনউচ্ছ্বাস জাগিয়েছিল । মসিহ মহাকাব্য ১৭টি ভাষায় অনূদিত হওয়ায় অসংখ্য অনুকরণ তৈরি হয়েছে । 

ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক গ্রীক এবং ল্যাটিন ছন্দ রচনায় পারদর্শী ছিলেন । তিনি জার্মান ভাষায় বেশ কিছু প্রশংসনীয় গদ্য বা সংক্ষিপ্ত কবিতা (Idyll বা Idyl) এবং গীতিকাব্য বা গাথা (Ode) রচনা করেন । এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত গীতিকাব্য বা স্তবগান An meine Freunde (আমার বন্ধুদের প্রতি বা To My Friends) ১৭৪৭ খ্রিস্টাব্দে রচিত হয়, যা পরবর্তীতে ১৭৬৭ খ্রিস্টাব্দে তার Wingolf নামক কবিতায় রূপান্তরিত হয়েছিল (প্রাচীন নর্স পৌরাণিক শব্দ Wingolf অর্থ বন্ধুদের হল) । তিনি লিপজিগে ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়নের সময় An meine Freunde স্তবগান রচনা করেন যা গভীর, অন্তরঙ্গ ও আদর্শায়িত বন্ধুত্বের রূপান্তরকারী শক্তিকে মহিমান্বিত করে এক পবিত্র বন্ধনে উন্নীত করে । এটি এমন এক সময়ে লিখেছিলেন যখন তিনি কবিতার প্রচলিত কাব্যশৈলী বা রীতি থেকে সরে এসে তীব্র আবেগ ও ব্যাপক ছন্দের বৈশিষ্ট্যে এক অভিব্যক্তিপূর্ণ পিন্ডারীয় শৈলী গ্রহণ করছিলেন । 

১৭৫০ এর দশকে ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক সুইজারল্যান্ডের জুরিখ হ্রদে ভ্রমণের সময় Au peninsula উপদ্বীপের অনুপম সৌন্দর্য, শান্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ, সূর্যাস্ত ও ইতিহাসের প্রশংসা করে বিখ্যাত Ode an den Zürichsee (Ode to Lake Zurich বা জুরিখ হ্রদের প্রতি স্তবগান) গীতিমূলক সাহিত্যকর্ম বা কবিতাটি উৎসর্গের মাধ্যমে অমর করে রেখেছেন । 

এই গুণী প্রাণপুরুষ অনেক আবেগপূর্ণ স্তোত্র ও দেশাত্মবোধক কবিতা রচনা করেন যা জার্মান ভাষা এবং সংস্কৃতির বিশুদ্ধতা তুলে ধরে । তিনি জার্মান ষড়্মাত্রিক কবিতা বা চরণের ছন্দকে জনপ্রিয় করে তোলেন । তার লেখনীতে আবেগ, মুক্ত ছন্দ এবং জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রকাশ পায়, যা প্রবল আবেগ ও মানসিক অশান্তি হিসেবে পরিচিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক 'ঝড় ও চাপ' (Sturm und Drang বা Storm and Stress) আন্দোলনকে পরবর্তীকালে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল । 

ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক তার গীতিকাব্যগুলোতে স্বতন্ত্র প্রতিভা প্রদর্শনের অনেক সুযোগ পেয়েছিলেন ।এর মধ্যে কয়েকটি নর্ডিক পৌরাণিক অনুপ্রেরণায় রচিত হয়েছে এবং কিছু সংখ্যকে ধর্মীয় বিষয়বস্তুর ওপর জোর দিয়েছেন । তার সবচেয়ে বিখ্যাত এবং অনূদিত গীতিকাব্য বা স্তবগানগুলোর মধ্যে রয়েছে: An Fanny, Der Zürchersee, Die tote Klarissa, An Cidli, Die beiden Musen, Der Rheinwein, Die frühen Gräber, Mein Vaterland ইত্যাদি । তবে ধর্মীয় গীতিকাব্যগুলোর বেশিরভাগই স্তোত্রের আকারে রচিত, যার মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর হচ্ছে Die Frühlingsfeier (The Spring Festival বা বসন্ত উৎসব) । তিনি এই গীতিকাব্য বা কবিতায় ঝড়ের মত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে ঈশ্বরের উপস্থিতি ও মহিমান্বিত রূপ চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন । সাধারণত জার্মানিতে বসন্তকাল উদযাপনের সময় যেকোনো অনুষ্ঠান বা উৎসবে এই Frühlingsfest শব্দটি ব্যবহৃত হয় । 

ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক খ্রিস্টান বাইবেলের প্রথম ও প্রাচীনতম অংশ Old Testament এর ইতিহাস থেকে তার উপাদান গ্রহণ করে কিছু নাটক রচনা করেছেন । এগুলো তার সমগ্র কর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ । যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে রচিত বিখ্যাত ধ্রুপদী বিয়োগান্তক নাটক Der Tod Adams (The death of Adam বা আদমের মৃত্যু) । ভাবাবেগপূর্ণ এই নাটকে বাইবেলীয় চরিত্র প্রথম মানব হযরত আদম (আ.) এর পরিবার, তার সন্তান, সেই সময়ের ধর্মীয় ও নৈতিক দ্বন্দ্ব, আদম (আ.) এর জীবনের শেষ মুহূর্ত এবং তার মৃত্যুর পরের পরিস্থিতি এখানে তিনি চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন । এছাড়া, ১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দে Salomo (সলোমন) নামক ধর্মোপদেশমূলক তার আরেকটি নাটক প্রকাশিত হয় । ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক এই বিষাদময় নাটকে রাজা সলোমনের মনস্তাত্ত্বিক ও আধ্যাত্মিক দ্বিধাদ্বন্দ্বকে তুলে ধরেছেন । বিশেষত ঈশ্বরের প্রতি রাজার ভক্তি, বিশ্বাস, আবেগ, ঐশ্বরিক আইন, আধ্যাত্মিক বিশুদ্ধতা, রাজকীয় ক্ষমতা এবং রাজত্বকালের পার্থিব প্রলোভন ইত্যাদি এক জটিল অভ্যন্তরীণ সংগ্রামকে তিনি উপস্থাপন করেছেন । নাটকটিকে জার্মান Sturm und Drang (Storm and Stress বা ঝড় ও চাপ) যুগের সাহিত্যের একটি প্রধান উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয় । 

১৭৫৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টকের বিখ্যাত জার্মান ভাষার খ্রিষ্টীয় স্তোত্র বা স্তবগান Der am Kreuz ist meine Liebe (ক্রুশের উপর যিনি আছেন তিনিই আমার প্রেম বা He on the Cross is my love) । ছয়টি পদে বিভক্ত এই স্তোত্রটিতে যিশুর করুণ দুঃখভোগের প্রতি এক গভীর ভক্তিভাব তুলে ধরা হয়েছে, যার প্রথম পদটি হচ্ছে 'যিনি ক্রুশের উপর আছেন তিনিই আমার প্রেম' । এই স্তোত্রটি ছাড়াও তার আরো কিছু গীতিকাব্য এবং স্তোত্র প্রকাশিত হয়েছে, যা গত ২০১৩ খ্রিস্টাব্দের ক্যাথলিক স্তোত্রসংগ্রহ Gotteslob এর একটি সংক্ষিপ্ত ও পরিমার্জিত অংশ । 

টিউটোবার্গ বনের যুদ্ধকে (Battle of the Teutoburg Forest) কেন্দ্র করে ১৭৬৯ খ্রিস্টাব্দে ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টকের রচিত Hermanns Schlacht (হারম্যানের যুদ্ধ) হচ্ছে একটি ঐতিহাসিক জার্মান নাটক । ৯ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত এই যুদ্ধে জার্মানির চেরাস্কি (Cherusci) উপজাতির নেতা Arminius (যিনি হারম্যান নামেও পরিচিত) এর নেতৃত্বে শক্তিধর রোমান জেনারেল ভ্যারাসের (Varus) নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনীকে শোচনীয়ভাবে পরাস্ত করে প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের পতন ঘটে । 

১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত Die deutsche Gelehrtenrepublik (জার্মান পণ্ডিতদের প্রজাতন্ত্র) হচ্ছে ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টকের একটি যুগান্তকারী রচনা । এটি একটি কাল্পনিক-ব্যঙ্গাত্মক প্রবন্ধ, যেখানে তিনি জার্মান সাহিত্যের পুনরুজ্জীবন এবং স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক আদর্শ রাষ্ট্রব্যবস্থা তৈরিতে তার নিজস্ব  দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পায় । এই প্রবন্ধে ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক সাহিত্যের শৈল্পিক মানোন্নয়ন, সাহিত্যিক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা এবং লেখকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পণ্ডিত, বুদ্ধিজীবী, বিজ্ঞানী ও কবিদের নিয়ে একটি স্বাধীন প্রজাতন্ত্রের কথা প্রস্তাব করেছিলেন । 

ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক তার কয়েকটি অনন্য সৃষ্টিকর্মের জন্য ভাষাতত্ত্ব এবং জার্মান কবিতার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত আছেন । যেমন, ১৭৭৯ খ্রিস্টাব্দে Fragmente über Sprache und Dichtkunst (ভাষা এবং কবিতার খণ্ডাংশ) নামে তার একটি প্রবন্ধ ও চিন্তাসমগ্র প্রকাশিত হয় । জার্মান ভাষার বানান পদ্ধতি ও শব্দগঠন কিভাবে আরো নিখুঁত ও পরিমার্জিত করা যায় এবং কবিতা রচনার ক্ষেত্রে ভাষা ব্যবহার, ছন্দ ও ভাব প্রকাশ কতটা শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন তা এই প্রবন্ধে তুলে ধরা হয়েছে । এছাড়া, ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দে জার্মান ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে তার একটি কার্যকরী পদ্ধতি বা অনুশীলনমূলক বই Grammatische Gespräche (ব্যাকরণগত কথোপকথন) প্রকাশিত হয় । ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে রচিত হয় বিখ্যাত জার্মান ঐতিহাসিক দেশাত্মবোধক নাটক Hermann und die Fürsten (হারম্যান ও রাজপুত্ররা বা রাজন্যবর্গ) । এই নাটকে প্রাচীন জার্মানির চেরুস্কি উপজাতির একজন মহান বীর ও নেতা Hermann (যিনি Arminius নামেও পরিচিত) এর বীরত্বপূর্ণ কীর্তিগাথা রচিত হয়েছে, যিনি রোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে জার্মান উপজাতিদের একত্রিত করে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন । এটি রোমানদের বিরুদ্ধে জার্মান জাতির ঐক্যের প্রতীক হিসেবে 'হারম্যান' ও অন্যান্য জার্মান রাজাদের সংগ্রাম নিয়ে রচিত একটি পদ্য নাটক । নাটকটি জার্মান জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেম জাগিয়ে তুলতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে । 

ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টকের কাব্যিক শব্দভাণ্ডারের সমৃদ্ধি এবং ছন্দশাস্ত্রের প্রতি মনোযোগ তার পরবর্তী কবিদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হয়েছিল । ধ্রুপদী ফরাসি আলেকজান্দ্রিন থেকে উদ্ভূত স্বতন্ত্র ধরণের পদ্যের পংক্তি আলেকজান্দ্রীয় ছন্দের প্রতি একচেটিয়া আগ্রহ থেকে জার্মান কবিতাকে মুক্ত করার মাধ্যমে তিনি জার্মান সাহিত্যে একটি নতুন যুগের প্রতিষ্ঠাতা হয়েছিলেন- যার ফলে জার্মান নাট্যকার, কবি, দার্শনিক ও ঐতিহাসিক Johann Christoph Friedrich von Schiller (Friedrich Schiller) এবং আরেকজন জার্মান লেখক, কবি, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, বিজ্ঞানী, রাষ্ট্রনায়ক, নাট্য-পরিচালক ও সমালোচক Johann Wolfgang von Goethe শৈল্পিকভাবে তার কাছে ঋণী ছিলেন । এছাড়া, নরওয়েজীয়-ড্যানিশ সুরকার Sigrid Ingeborg Henriette Wienecke ইতিহাসের এই কীর্তিমান লেখক ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টকের রচনা থেকে তার সঙ্গীতধর্মী জনপ্রিয় স্তোত্র বা নাটক Fader Vor (প্রভু যিশুর প্রার্থনা বা Lord's Prayer) এর জন্য মূল পাঠ্য গ্রহণ করেছিলেন । 

কবি ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক ওক গাছকে জার্মানির প্রতীক হিসেবে জনপ্রিয় করে তোলেন এবং এটিকে প্রাচীন জার্মানিক জাতিগোষ্ঠী বা উপজাতিদের সাথে সংযুক্ত করে এক দৃঢ় সেতুবন্ধন তৈরি করেন । তার সম্মানে বেশ কয়েকটি প্রাচীন ওক গাছের নামকরণ 'Klopstock Oaks' করা হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনের ঐতিহাসিক Kongens Lyngby শহরে অবস্থিত হাঁটা ও সাইকেল চলাচলের জন্য Prinsessestien পথের উপর একটি ৮০০ বছরের পুরোনো গাছ, যেখানে তিনি সময় কাটিয়েছিলেন । 


কবিতা: তোমার নিদ্রা

কবি: ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক 

অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল 


সে ঘুমিয়ে আছে । 

ওহ তার কোমল হৃদয়ে ঢেলে দাও সুবাসিত জীবনের পক্ষল ঘুম! 

স্বর্গের আদি উৎস থেকে

স্বচ্ছ স্ফটিকের মত ফোঁটাটি তুলে নাও! 

এবং তাকে যেতে দাও, যেখানে গালের লালচে ভাব পালিয়ে গিয়েছে, 

সেখানে সুগন্ধে গলে যাক! আর তুমি, 

ওহ শ্রেষ্ঠ পুণ্য ও ভালোবাসা শান্তিতে থাকুক, 

হে অলিম্পাস, তোমার লাবণ্যের ডানা দিয়ে সিডলিকে ঢেকে দাও । 

কি গভীর ঘুমে সে মগ্ন, কি নিস্তব্ধ! 

ওহ বীণা'র নরম সুর, তুমিও নীরব হও!

তোমার লরেল চারাটি নেতিয়ে পড়ে,

যখন তুমি ঘুম থেকে তোতলিয়ে ওঠো, সিডলি!


* তথসূত্র: গুগল, উইকিপিডিয়া 

ছবি: www.nzz.ch (Jens Juel এর আঁকা ছবি) ।

Monday, 13 July 2026

তোমার নিদ্রা [কবি: ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক]

Your slumber

by Friedrich Gottlieb Klopstock


She sleeps. O pour her, slumber, winged

Balsamic life over her gentle heart!

From Eden's pristine source

Scoop the clear, crystalline drop!

And let him, where the redness of the cheek escaped,

There fragrantly thaw! And you, oh better

virtue and love rest,

Grace of thy Olympus, cover

With your Fittig Cidli. how she slumbers

How silent! Be silent, O softer string itself!

Your laurel sprout wilts,

When you lisp out of slumber, Cidli! 

তোমার নিদ্রা

কবি: ফ্রিডরিখ গটলিব ক্লোপস্টক 

অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল 


সে ঘুমিয়ে আছে । 

ওহ তার কোমল হৃদয়ে ঢেলে দাও সুবাসিত জীবনের পক্ষল ঘুম! 

স্বর্গের আদি উৎস থেকে

স্বচ্ছ স্ফটিকের মত ফোঁটাটি তুলে নাও! 

এবং তাকে যেতে দাও, যেখানে গালের লালচে ভাব পালিয়ে গিয়েছে, 

সেখানে সুগন্ধে গলে যাক! আর তুমি, 
ওহ শ্রেষ্ঠ পুণ্য ও ভালোবাসা শান্তিতে থাকুক, 

হে অলিম্পাস, তোমার লাবণ্যের ডানা দিয়ে সিডলিকে ঢেকে দাও । 

কি গভীর ঘুমে সে মগ্ন, কি নিস্তব্ধ! 

ওহ বীণা'র নরম সুর, তুমিও নীরব হও!

তোমার লরেল চারাটি নেতিয়ে পড়ে,

যখন তুমি ঘুম থেকে তোতলিয়ে ওঠো, সিডলি! 

Wednesday, 8 July 2026

অনুপস্থিতি, কবি: পাবলো নেরুদা

Absence

by Pablo Neruda 


I have scarcely left you

When you go in me, crystalline,

Or trembling,

Or uneasy, wounded by me

Or overwhelmed with love, as

when your eyes

Close upon the gift of life

That without cease I give you.

My love,

We have found each other

Thirsty and we have

Drunk up all the water and the Blood,

We found each other

Hungry

And we bit each other

As fire bites,

Leaving wounds in us.

But wait for me,

Keep for me your sweetness.

I will give you too

A rose.

--------

প্রেম ও বিপ্লবের কবিতার জন্য বিশ্বখ্যাত এবং চিলির কূটনীতিক, রাজনীতিক ও নোবেলজয়ী জনপ্রিয় কবি পাবলো নেরুদার (রিকার্দো এলিসের নেফতালি রেইয়েস বাসোয়ালতো) একটি কবিতা: 

অনুপস্থিতি  

পাবলো নেরুদা 

অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল 

----------------------------------------

আমি সবেমাত্র তোমাকে ছেড়ে এসেছি

তুমি যখন আমার ভিতরে প্রবেশ করো, 

স্ফটিকের মত,

না হয় কম্পিত হয়ে, 

কিংবা অস্বস্তিতে, আমার দ্বারা আহত হয়ে 

নয়তো প্রেমে অভিভূত হয়ে, 

ঠিক যখন তোমার চোখ বন্ধ হয়  

জীবনের সেই উপহারের উপর

যা আমি তোমাকে নিরন্তর দিয়ে যাই ।

আমার ভালোবাসা,

আমরা একে অপরকে খুঁজে পেয়েছি 

তৃষ্ণার্ত হয়ে আমরা 

সমস্ত জল আর রক্ত পান করেছি, 

আমরা পরস্পরের দেখা পেয়েছি

ক্ষুধার্ত হয়ে আমরা 

একে অপরকে দংশন করেছি 

আগুনের দংশনের মত,

আমাদের মাঝে ক্ষত রেখে যাচ্ছে ।

কিন্তু আমার জন্য অপেক্ষা করো,

তোমার মাধুর্য আমার জন্য রেখে দিও ।

আমিও তোমাকে দেবো

একটি গোলাপ । 

Thursday, 25 June 2026

যে চোখগুলো শেষবার আমি অশ্রুসিক্ত দেখেছিলাম কবি: টি.এস. এলিয়ট

আমেরিকার নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সম্পাদক, সাহিত্য সমালোচক এবং বিংশ শতকের অন্যতম প্রতিভাশালী ও ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম কবি হচ্ছেন T.S. Eliot (Thomas Stearns Eliot) । তিনি ইংরেজি ভাষার আধুনিকতাবাদী কবিতার একজন অগ্রণী ব্যক্তিত্ব ছিলেন । যেখানে তিনি তার ভাষা, লেখনী শৈলী এবং শ্লোক বা পদ্য গঠনের কৌশল ব্যবহারের মাধ্যমে এই শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন । সমসাময়িক কবিতায় তার অগ্রণী ভূমিকা ও অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে তাকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয় । কবি টি.এস. এলিয়টের একটি বিখ্যাত কবিতা হচ্ছে "যে চোখগুলো শেষবার আমি অশ্রুসিক্ত দেখেছিলাম" (Eyes That Last I Saw in Tears) । এটি একটি অসামান্য আধুনিক কবিতা । কবিতাটি ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় এবং পরবর্তীতে কবি এটিকে Doris's Dream Songs এর অন্তর্ভুক্ত করেন । কবিতাটি মূলত শোক, স্মৃতি এবং মানসিক দূরত্ব নিয়ে একটি মর্মস্পর্শী রচনা । কবি তার প্রিয়জনের বিদায়ের মুহূর্তের কথা স্মরণ করেছেন, যখন তার চোখে জল ছিল । অশ্রু মুছে গেলেও, তার চোখের সেই স্থির দৃষ্টি বা অভিব্যক্তি কবির মনে গেঁথে আছে । সেই অশ্রুসিক্ত চোখগুলোর সোনালী স্মৃতি বারবার তার মনের মাঝে ফিরে আসে । মানুষ যখন কাঁদে তখন তার চোখের জল দ্রুত মুছে যায়, কিন্তু সেই কান্নারত চোখের স্মৃতি বা চাহনি মনের গভীরে আরো অনেক বেশি সময় টিকে থাকে । এই কবিতাটিতে সময় এবং স্মৃতির স্থায়িত্বকে বোঝানো হয়েছে । কবি পার্থিব জীবনের একঘেয়েমি, আবেগহীনতা, বিচ্ছিন্নতা, নিঃসঙ্গতা এবং বিবর্ণ সময়কে 'মৃত্যুর স্বপ্নের জগৎ' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন । কবির সবচেয়ে বড় কষ্ট হচ্ছে— তিনি স্মৃতিময় সেই চোখগুলো দেখতে পেলেও, চোখের জল আর দেখতে পান না । এখানে তিনি বিচ্ছেদ বা মৃত্যুর পর স্মৃতিতে থেকে যাওয়া প্রিয়জনের চোখের বেদনাবিধুর রূপ তুলে ধরেছেন । সময়ের সাথে সাথে দুঃখ-বেদনা ম্লান হয়ে গেলেও সেই চোখগুলো কবির কাছে এখনো এক গভীর অনুভূতির প্রতীক এবং এটি তাকে নিজের আত্মিক যন্ত্রণা, সিদ্ধান্তহীনতা ও আবেগের কথা মনে করিয়ে দেয় । কবির মনে হয়, একসময় এই চোখগুলোই হয়তো তাদের আবেগকে ছাপিয়ে যাবে এবং তাদের এই দীর্ঘশ্বাস ও কষ্টকে যেন একপ্রকার উপহাস করবে । 

Eyes That Last I Saw In Tears 

by T S Eliot 

Eyes that last I saw in tears
Through division
Here in death's dream kingdom
The golden vision reappears
I see the eyes but not the tears
This is my affliction
This is my affliction
Eyes I shall not see again
Eyes of decision
Eyes I shall not see unless
At the door of death's other kingdom
Where, as in this,
The eyes outlast a little while
A little while outlast the tears
And hold us in derision. 

-------------------------------------

যে চোখগুলো শেষবার আমি অশ্রুসিক্ত দেখেছিলাম 
কবি: টি.এস. এলিয়ট 
অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল 

যে চোখগুলো শেষবার আমি অশ্রুসিক্ত দেখেছিলাম 
বিভাজনের মধ্য দিয়ে
এখানে মৃত্যুর স্বপ্নরাজ্যে 
স্বর্ণালী সুন্দর দৃশ্য পুনরায় আবির্ভূত হয় 
আমি চোখগুলো দেখি কিন্তু অশ্রু দেখি না 
এটিই আমার যন্ত্রণা 
এটিই আমার পরিতাপ 
যে চোখগুলো আমি আর কখনো দেখবো না 
সিদ্ধান্তের চোখ 
যে চোখগুলো আমি দেখবো না 
তা না হলে মৃত্যুর অন্য রাজ্যের দ্বারপ্রান্তে  
যেখানে, এই রাজ্যের মতই, 
চোখগুলো আরো কিছুটা সময় টিকে থাকে 
কিছুক্ষণের জন্য অশ্রুকেও ছাড়িয়ে যায় 
আর আমাদের উপহাস করে । 


তথ্যসূত্র: গুগল, উইকিপিডিয়া, অলপোয়েট্রি.কম 

কবিতার লিঙ্ক: https://allpoetry.com/Eyes-That-Last-I-Saw-In-Tears 

কবির ছবি: www.ndbooks.com । 


Wednesday, 3 June 2026

প্রত্যাখ্যান (কবি: মায়া অ্যাঞ্জেলো)



প্রত্যাখ্যান
কবি: মায়া অ্যাঞ্জেলো
অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল

প্রিয়তম,
অন্য কোনো জীবনে বা দেশে
আমি কি তোমার অধরের স্পর্শ অনুভব করেছি
তোমার হাত
তোমার নির্ভীক হাসি
বিদ্রূপাত্মক ।
সেই সব মধুর বাড়াবাড়ি
যা আমি খুব পছন্দ করি ।
কি নিশ্চয়তা আছে
যে আমাদের আবার দেখা হবে,
অন্য কোনো জগতে
ভবিষ্যতের কোনো অনির্ধারিত সময়ে ।
আমি আমার দেহের তাড়নাকে উপেক্ষা করি ।
আরো একটি মধুর সাক্ষাতের
প্রতিশ্রুতি ছাড়া
আমি মরতে রাজি নই ।

''প্রত্যাখ্যান'' কবিতাটি কবি মায়া অ্যাঞ্জেলোর অন্যতম জনপ্রিয় কবিতা । প্রতিভাময়ী এই আমেরিকান কবি, স্মৃতিকথা লেখক, প্রাবন্ধিক, নাগরিক অধিকার কর্মী, ইতিহাসবিদ, অভিনেত্রী, নাট্যকার, প্রযোজক এবং পরিচালক মায়া অ্যাঞ্জেলো (মার্গারিট জনসন) (জন্ম: ৪ এপ্রিল, ১৯২৮ – মৃত্যু: ২৮ মে, ২০১৪) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশৌরি রাজ্যের সেন্ট লুইস শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং বর্ণবৈষম্যপূর্ণ গ্রামীণ আরকানসাস রাজ্যে বেড়ে ওঠেন । তিনি নর্থ ক্যারোলাইনার ওয়েক ফরেস্ট ইউনিভার্সিটিতে আমেরিকান স্টাডিজের রেনল্ডস অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন । মায়া অ্যাঞ্জেলো আমেরিকার আফ্রিকান-আমেরিকান নাগরিক অধিকার আন্দোলনের অগ্রণী নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র এবং আমেরিকান নাগরিক অধিকার কর্মী ম্যালকম এক্সের সাথে কাজ করেছিলেন । তিনি দশটি সর্বাধিক বিক্রিত বই এবং অসংখ্য ম্যাগাজিনে প্রবন্ধ প্রকাশ করেন, যার জন্য পুলিৎজার পুরস্কার ও ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন লাভ করেন । আমেরিকার সাবেক রাষ্ট্রপতি বিল ক্লিনটনের অনুরোধে, তিনি ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে তার রাষ্ট্রপতি অভিষেক অনুষ্ঠানে "অন দ্য পালস অফ মর্নিং'' কবিতাটি আবৃত্তি করেন । মায়া অ্যাঞ্জেলো আফ্রিকান-আমেরিকান এবং নারীদের মুখপাত্র হিসেবে সম্মানিত ছিলেন । তার কাজগুলোকে আফ্রিকান-আমেরিকান সংস্কৃতির একটি প্রতিরক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হয় । বিশ্বজুড়ে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তার অনন্য রচনাগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় । যদিও, কিছু মার্কিন গ্রন্থাগার থেকে তার বই নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে । মায়া অ্যাঞ্জেলোর সবচেয়ে প্রশংসিত কাজগুলোকে আত্মজীবনীমূলক কল্পকাহিনী হিসেবে আখ্যায়িত করা হলেও, অনেক সমালোচক সেগুলোকে আত্মজীবনী হিসেবেই গণ্য করেন । তিনি এই ধারাটিকে সমালোচনা, পরিবর্তন এবং প্রসারিত করার মাধ্যমে আত্মজীবনীর প্রচলিত কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করার একটি সচেতন প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন । তার বইগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বর্ণবাদ, পরিচয়, পরিবার এবং ভ্রমণের মত বিষয়বস্তু । তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া ।
----------------------------------------


Refusal 

by Maya Angelou 

Translation: Muhammad Asraful Alam Sohel


Beloved,

In what other lives or lands

Have I known your lips

Your Hands

Your Laughter brave

Irreverent.

Those sweet excesses that

I do adore.

What surety is there

That we will meet again,

On other worlds some

Future time undated.

I defy my body's haste.

Without the promise 

Of one more sweet encounter

I will not deign to die. 

-------------------------------------

https://new.allpoetry.com/Refusal

https://www.poetryfoundation.org/poets/maya-angelou 

ছবি: https://britishonlinearchives.com/



Tuesday, 2 June 2026

ওর্ট মেঘ (The Oort Cloud)


ওর্ট মেঘ হচ্ছে আমাদের সৌরজগতের একেবারে বাইরের প্রান্তে অবস্থিত এক বিশাল, অদৃশ্য এবং গোলাকার মেঘ, যা কোটি কোটি বরফময় বস্তু বা ধ্বংসাবশেষ এবং ধুমকেতু দিয়ে তৈরি । এটি মূলত সৌরজগতের দূরবর্তী সীমানা হিসেবে চিহ্নিত হয় । ওর্ট ক্লাউড মেঘ সূর্য থেকে প্রায় ২০০০-১০০০০০ AU (Astronomical unit) (প্রায় ১-২ আলোকবর্ষ) দূরে অবস্থান করছে । ধারণা করা হয়, সৌরজগত সৃষ্টির শুরুর দিকে (প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন বছর আগে) বৃহস্পতি ও অন্যান্য গ্রহের মহাকর্ষীয় টানে এই বরফখণ্ড বা বস্তগুলো সৌরজগতের ভেতরের অংশ থেকে বাইরের দিকে নিক্ষিপ্ত হয়েছিল । যেসব ধূমকেতু সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে ২০০ বছরেরও বেশি সময় লাগে (যেমন: হ্যালির ধূমকেতু) তাদের বেশিরভাগই এই ওর্ট মেঘ থেকে আসে । এটি এখনো সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যায়নি । কারণ, ওর্ট মেঘ অত্যন্ত দূরে অন্ধকারময় অঞ্চলে অবস্থিত এবং ঠান্ডা বস্তুগুলো অনেক ছোট । ডাচ জ্যোতির্বিজ্ঞানী Jan Oort ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে প্রথম এই মেঘের অস্তিত্বের তাত্ত্বিক ধারণা দেন । ওর্ট মেঘ আমাদের সৌরজগতের প্রকৃত সীমানার প্রতিনিধিত্ব করে । সৌরজগতের ভেতরের অংশটি পরিচিত মনে হলেও— যেখানে নেপচুন গ্রহ গড়ে প‍্রায় ৩০ AU এবং বামন গ্রহ প্লুটো প্রায় ৪০ AU দূরে অবস্থিত । ওর্ট মেঘ কয়েক হাজার AU দূর থেকে শুরু হয়ে ১০০০০০ AU বা তারও বেশি দূরত্ব পর্যন্ত বিস্তৃত । ১ AU হচ্ছে পৃথিবী থেকে সূর্যের গড় দূরত্ব, যা প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটারের সমান । প্রতি সেকেন্ডে আলো ৩০০০০০ কিলোমিটার বেগে ছুটে চলে এবং প্রায় আট মিনিটে ১ AU দূরত্ব অতিক্রম করে । কিন্তু এই আলো ওর্ট মেঘের ভেতরের প্রান্তে পৌঁছাতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগে এবং এর বাইরের প্রান্ত ১ আলোকবর্ষেরও বেশি দূরে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে আলো পৌঁছাতে এক বছরেরও বেশি সময় প্রয়োজন হয় । এই বিশালতা আমাদের দৈনন্দিন ধারণাকে ম্লান করে দেয় । ভয়েজার-১ হচ্ছে পৃথিবী থেকে পাঠানো মানবসৃষ্ট রোবোটিক মহাকাশযান বা বিস্ময়কর বস্তু, যেটি ৬৪০০০ কিঃমিঃ/ঘন্টা বা ৪০০০০ মাইল/ঘন্টা গতিতে ভ্রমণরত সবচেয়ে দূরবর্তী আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাশূন্যে তার অনন্য কার্যক্রম পরিচালনা করছে । পৃথিবী থেকে এটি প্রায় ২৫.৪ বিলিয়ন কিলোমিটার (১৫.৮ বিলিয়ন মাইল) বা ১৭০ AU দূরে অবস্থান করছে । ভয়েজার-১ এমন গতিতে চললে ওর্ট ক্লাউডে প্রবেশ করতে এর ৩০০ বছর এবং এটি অতিক্রম করতে ৩০০০০ বছর সময় লাগবে । এখানে সূর্যের মহাকর্ষীয় প্রভাব নাটকীয়ভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে, যা এই হিমায়িত বস্তুগুলোকে চলমান নক্ষত্র এবং ছায়াপথীয় জোয়ারের বিপরীতে কোনোমতে বেঁধে রেখেছে । আমরা আকাশে যে ধূমকেতুগুলোকে ছুটে যেতে দেখি, সেগুলো প্রায়শই এই দূরবর্তী আধার থেকেই উৎপন্ন হয়, যা লক্ষ লক্ষ বছর ধরে আলোড়িত হয়ে ভেতরের দিকে ধাবিত হয়েছে । সুতরাং, ওর্ট মেঘ কেবল দূরত্বই নয়, বরং একটি ধারণাগত সীমানাও চিহ্নিত করে । এটি আমাদের সৌরজগতের প্রান্ত গ্রহগুলোকে ছাড়িয়ে আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাশূন্যে বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত, যা প্রকাশ করে যে আকাশগঙ্গা ছায়াপথের মধ্যে আমরা কতটা বিচ্ছিন্ন অথচ সংযুক্ত । ওর্ট মেঘের চরম দূরবর্তীতা সৌরজগতের শ্বাসরুদ্ধকর, প্রায় অকল্পনীয় বিশালতাকেই তুলে ধরে । 

তথ্যসূত্র: Google, Science Acumen 

ছবি: Science Acumen । 

আমার প্রণয়িনীর চোখ সূর্যের মত নয়

 My mistress’ eyes are nothing like the sun (Sonnet 130)  --------  William Shakespeare , 1564 –1616 My mistress’ eyes are nothing like the ...