Tuesday, 1 April 2025

মানব মস্তিষ্কের কোষ ও মহাবিশ্বের ছায়াপথ জাল কাঠামো

ছবি: Sacred Geometry (Facebook থেকে) । 


মানব মস্তিষ্ক হচ্ছে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের স্ফীত, তরলে পূর্ণ গহ্বরযুক্ত ও মেনিনজেস নামক পর্দা বা আবরণী দ্বারা আবৃত করোটির ভেতরের অংশ । মানুষের মস্তিষ্কের প্রধান তিনটি অংশ যেমন: গুরুমস্তিষ্ক, মধ্যমস্তিষ্ক এবং লঘুমস্তিষ্ক । মস্তিষ্কের দুইটি প্রধান কোষ হচ্ছে নিউরন বা স্নায়ুকোষ এবং নিউরোগ্লিয়া বা গ্লিয়াল কোষ । মস্তিষ্কের কোষগুলো মস্তিষ্কের কার্যকরী টিস্যু তৈরি করে । মস্তিষ্কের বাকি টিস্যু হচ্ছে স্ট্রাকচারাল স্ট্রোমা যেখানে মেনিনজেস, রক্তনালী এবং নালীগুলোর মতো সংযোগকারী টিস্যু অন্তর্ভুক্ত থাকে । মস্তিষ্কের সেরিব্রাল কর্টেক্স বা সেরিব্রাল ম্যান্টেল নামক অংশটি মানুষ এবং অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর মস্তিষ্কের সেরিব্রামের স্নায়ু টিস্যুর বাইরের স্তর । সেরিব্রাল কর্টেক্স কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের স্নায়ু সংহতকরণের বৃহত্তম স্থান এবং এটি মনোযোগ , উপলব্ধি , সচেতনতা , চিন্তাভাবনা , স্মৃতি , ভাষা ও চেতনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । মানুষের সেরিব্রাল কর্টেক্সে প্রায় ১৪ থেকে ১৬ বিলিয়ন নিউরন থাকে । এ নিউরন বা স্নায়ুকোষই হচ্ছে মানবমস্তিষ্কের মূল গঠন উপাদান । উত্তেজনাপূর্ণ নিউরন কোষগুলো বৈদ্যুতিক সংকেতের আকারে অনুভূতি পরিবহন করতে পারে যা নিউরাল সার্কিট এবং বৃহত্তর মস্তিষ্কের নেটওয়ার্কগুলোতে অন্যান্য নিউরন এবং ইন্টারনিউরনের সাথে (সিন্যাপ্সের মাধ্যমে) যোগাযোগ রক্ষা করে কাজ করে থাকে । নিউরোগ্লিয়া বা গ্লিয়া হচ্ছে নিউরনের সহায়ক কোষ যার অনেক কাজ রয়েছে । যদিও এর সবগুলো কাজ স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না । তবে নিউরনগুলোকে সহায়তা এবং পুষ্টি সরবরাহ করাই তার মূল কাজ । গ্লিয়াল কোষগুলো নিউরনের চেয়ে সংখ্যায় অনেক বেশি এবং নিউরনের জন্য তাদের সহায়ক ভূমিকা ছাড়াও এ কোষগুলো বিশেষ করে অ্যাস্ট্রোসাইটগুলোকে গ্লিয়াট্রান্সমিশন নামক নিউরোট্রান্সমিশনের অনুরূপ একটি সংকেত প্রক্রিয়ায় জড়িত নিউরনের সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম বলে স্বীকৃত হয়েছে । 

অপরদিকে অসংখ্য নক্ষত্র, নাক্ষত্রিক অবশেষ, গ্রহাণু, উল্কা, ধূমকেতু, আন্তঃগ্রহীয় ধূলি মেঘ, আন্তঃনাক্ষত্রিক গ্যাস, ধূলিকণা, নীহারিকা, সৌরজগৎ, কৃষ্ণগহ্বর এবং অদৃশ্য পদার্থসহ মহাজাগতিক নানা বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত হয় এক একটি ছায়াপথ । একটি ছায়াপথে গড়ে প্রায় ১০০ – ৫০০ বিলিয়ন নক্ষত্র থাকে । আকাশগঙ্গা ছায়াপথের (Milky Way Galaxy) ব্যাস ১০০০০০ আলোকবর্ষ । এ বিশাল বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে বিদ্যমান ২ ট্রিলিয়ন ছায়াপথের মধ্যে আমাদের ছায়াপথ একটি । এ রকম প্রায় অর্ধশতাধিক ছায়াপথের সমন্বয়ে গঠিত হয় এক একটি ছায়াপথ স্তবক বা গুচ্ছ (Galaxy Cluster) । ছায়াপথ স্তবকগুলোই গঠন করে একটি ছায়াপথ মহাস্তবক (Galaxy Supercluster) যেটি মহাবিশ্বে এক বিশাল মহাকর্ষীয় কাঠামো তৈরি করে যেখানে কয়েক লক্ষ ছায়াপথের আবাসস্থল । এ সকল ছায়াপথ মহাস্তবকের মাঝে বিদ্যমান একটি ছায়াপথ স্তবক থেকে অন্য এক একটি ছায়াপথের মধ্যকার দূরত্ব থাকে লক্ষ লক্ষ আলোকবর্ষ । সুতরাং একটি ছায়াপথ মহাস্তবকের আকার কতো বৃহৎ, তা নিশ্চয়ই চিন্তার বিষয়? ল্যানিয়াকিয়া ছায়পথ মহাস্তবক (Laniakea Galaxy Supercluster) হচ্ছে আমাদের নিজস্ব বাসস্থান আকাশগঙ্গা ছায়াপথসহ আশেপাশে প্রায় ১০০০০০ অন্যান্য ছায়াপথের আবাসস্থল । যেখানে ঐ আকাশগঙ্গা ছায়াপথের কেন্দ্র থেকে প্রায় ২৭০০০ আলোকবর্ষ দূরে আকাশগঙ্গা ছায়াপথের এক অতি ক্ষুদ্র অংশের সর্পিল কালপুরুষ বাহুর (The Orion Arm) এক প্রান্তে প্রায় ৪৬০ কোটি বছর পূর্বে জলন্ত অগ্নিপিণ্ড সূর্য নামক নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে একাধিক গ্রহ নিয়ে গঠিত হয়েছে আমাদের সৌরজগৎ । যদিও, আদি মহাবিশ্বের ইতিহাস খুবই হিংস্র । এক মহা দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় মহাবিশ্বের বিবর্তনের মধ্য দিয়ে সৌরজগতের সৃষ্টি । কালের আবর্তে বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে প্রচণ্ড উত্তপ্ত অবস্থা থেকে পৃথিবী গ্রহটি এক সময় ঠান্ডা, শান্ত এবং জীবন ধারণের উপযোগী হলে এখানে প্রাণের উদ্ভব হয় । এ সবুজ গ্রহটিই আমাদের বাড়ি । মায়ের কোলের মতোই নিরাপদ আশ্রয়স্থল । কিন্তু, এ মৃত্যুন্মুখ গ্রহটি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে! মানবজাতি টিকবে তো? 

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া । 

No comments:

Post a Comment

প্রত্যাখ্যান (কবি: মায়া অ্যাঞ্জেলো)

প্রত্যাখ্যান কবি: মায়া অ্যাঞ্জেলো অনুবাদ: মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল প্রিয়তম, অন্য কোনো জীবনে বা দেশে আমি কি তোমার অধরের স্পর্শ অনুভব করে...